মঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

English

থমকে গেছে মধ্যপ্রাাচ্যের অর্থনীতি/ আরবদের অর্থনীতি ধ্বসে পড়া পর্যন্ত কি যুদ্ধ চলবে?

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৩, ২০২৬ 

news-image

ইসরায়েল-মার্কিন চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই আরব দেশগুলো কতক্ষণ পর্যন্ত অর্থনীতিতে এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সহ্য করতে পারবে?

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অন্যায় আগ্রাসন শুরুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালানো শুরু করায় যুদ্ধ এখন আর দুই বা তিন পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করায় যুদ্ধ এখন সব আরব দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

যুদ্ধ শুরুর প্রথম এক ঘন্টার মধ্যেই বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ইরাক, জর্দান ও  কুর্দিস্তান এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে যে বিষয়টি সবার নজরে খুব একটা আসছে না তা হলো এই দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেমে আসা বিপর্যয়। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্য অঞ্চল হাব এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম:

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরপর তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে এবং এ অবস্থা চলতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য অঞ্চল হাব এর কার্যক্রম বন্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

ইরাকের কুর্দিস্তানের তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে:      

ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকার শেইখন তেল কেন্দ্রের তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের হামলার আশঙ্কায় কোম্পানির কর্মীদের নিরাপত্তার তারা সেখান থেকে সরে পড়েছে। স্মরন করা যেতে পারে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সৌদি আরবের বৃহত্তর আরামকো তেল কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে/এটা বন্ধ মানেই দেশটির অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাওয়া:

দৈনিক ইকোনোমিক পত্রিকা লিখেছে, আজ সোমবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরামকো তেল কোম্পানির সকল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। তবে যুদ্ধের কারণে কোম্পানির কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা বা কার্যক্রমে ব্যঘাত ঘটেছে কিনা তা জানা না গেলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পারস্য উপসাগরের যে কোনো তেল ক্ষেত্রের অবকাঠামোতে হামলা হলে কিংবা তেল বিক্রি ব্যহত হলে সারা বিশ্বের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে।

বিশ্বের বেশিরভাগ স্টক এক্সেঞ্জে ধ্বস   

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে একের পর এক স্টক এক্সচেঞ্জের দর পতন ঘটছে। ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন হামলার পর জাপান থেকে শুরু করে হংকং, অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের দর পতন ঘটছে। আরব দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার দাম বিশ্বের খাতে বিপর্যয় ডেকে আনবে:

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ শতাংশ বেড়ে ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। #

পার্সটুডে