ইরান ও ইরাকে শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর জানাজার শোকানুষ্ঠান হবে ৬দিন ধরে
পোস্ট হয়েছে: জুন ২২, ২০২৬
ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরান-জুড়ে এবং ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
এই কর্মসূচি পাঁচটি শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। ৪ জুলাই তেহরানে দুই দিনের বিদায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি শুরু হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে।
কমিটির মুখপাত্রের মতে, জানাজার কর্মসূচি শুরু হবে ৪ জুলাই (শনিবার) এবং ৫ জুলাই (রবিবার) তেহরানের ইমাম খোমেনী মোসাল্লায় (Imam Khomeini Grand Mosalla) অনুষ্ঠিত বিদায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই (সোমবার)। এ সময় শহীদ নেতার পবিত্র লাশের পাশাপাশি আরও চারজন শহীদের লাশ বহন করা হবে। তারা হলেন:
ড. মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি (শহীদ সর্বোচ্চ নেতার জামাতা)
সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনেয়ি (শহীদ সর্বোচ্চ নেতার কন্যা)
জাহরা হাদ্দাদ আদেল (শহীদ সর্বোচ্চ নেতার পুত্রবধু ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী)
জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি (শহীদ সর্বোচ্চ নেতার নাতনি)
৭ জুলাই (মঙ্গলবার) পবিত্র কোম শহরে জানাজার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শহীদ নেতার লাশের জানাজার নামাজ আদায় করা হবে।
এরপর ৮ জুলাই (বুধবার) তাঁর পবিত্র লাশ ইরাকে নেওয়া হবে। ইরাকের বিভিন্ন গোত্র, আলেম, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের বারবার অনুরোধের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরাকে পবিত্র নাজাফ এবং কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান ইরাক সরকার পরে ঘোষণা করবে।
আয়োজকরা নাজাফ ও কারবালার পবিত্র মাজারগুলোতে শোকযাত্রা আয়োজনের জন্য ইরাকের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সরকার এবং জনগণের অব্যাহত অনুরোধের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দাফন অনুষ্ঠিত হবে ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার), যা ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শাহাদাতের রজনী-র সঙ্গে মিলে গেছে। শহীদ নেতাকে মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)’র পবিত্র মাজারে দাফন করা হবে।
কমিটির মুখপাত্র আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্টজনরা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এসব অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করবে।
সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয় ও বিপ্লবী ব্যক্তিত্বদের জন্য শোক ও স্মরণানুষ্ঠানের সময়সূচিও আগামী দিনগুলোতে ঘোষণা করা হবে।
এইসব স্মরণানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে “উত্থিত হও” (Must Rise), যার প্রতীক হবে মুষ্টিবদ্ধ হাত। আরব দেশগুলোতে একই অনুষ্ঠানের সরকারি স্লোগান হবে “কূমু লিল্লাহ” (আল্লাহর জন্য দাঁড়াও)।
উল্লেখ্য আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ২৮ ফেব্রুয়ারি তথা গত ৯ রমজান ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সময় শহীদ হন। #
পার্স টুডে