ইরানে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতেও টিকে থাকবে ইসলামি শাসন
পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
দেশজুড়ে টানা বিক্ষোভ, কঠোর দমননীতি ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতাকাঠামোয় এখনো বড় ধরনের ভাঙনের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দুজন সরকারি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।
সরকারি সূত্র ও বিশ্লেষক রয়টার্সকে বলেছেন, রাস্তার আন্দোলন ও বিদেশি চাপ যদি ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত বিভক্তি তৈরি না করতে পারে, তাহলে দুর্বল হলেও শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইরান-আমেরিকান গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভালি নাসর বলেছেন, ইরানের বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা কাঠামো রয়েছে। যার কেন্দ্রে রয়েছে বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী, এই সরকারকে ভেঙে ফেলাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। এই দুই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ। তিনি আরও বলেছেন, এ ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে জনসমাগম থাকতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীতে, ভাঙন ও দলত্যাগ ঘটতে হবে।
সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আইয়ার বলেছেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে বিক্ষোভকারীদের এমন গতি তৈরি করতে হবে, যা রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, ধর্মীয় শাসনের প্রতি অনুগত এবং ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার বিশাল ভূগোল ও বৈচিত্র্যকে অতিক্রম করতে পারে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পল সালেম বলেছেন, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অতীতের বেশ কয়েকটি অস্থিরতার ঢেউ কাটিয়ে উঠেছেন। ২০০৯ সালের পর এটি পঞ্চম বড় অভ্যুত্থান, সরকার যখন গভীর, অমীমাংসিত অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তখনও স্থিতিস্থাপকতা এবং সংহতির প্রমাণ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইরানের শাসকদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি। বিক্ষোভ দমনে ইরানে কঠোর অভিযান নিয়ে একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের বিকল্প রয়েছে। এদিকে, চলমান বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহতের শঙ্কা করা হচ্ছে। যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্যদের মৃত্যু ঘটিয়েছে যাদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যা করা হচ্ছে। যদিও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগে প্রায় ৬০০ মৃত্যুর হিসাব দিয়েছিল।
সূত্র: ইনকিলাব