সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

English

ইরানের হালাল পর্যটন: ভ্রমণ শিল্পের জন্য যেভাবে গেম-চেঞ্জার হতে পারে

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০২৩ 

news-image

সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, চমৎকার রন্ধনপ্রণালী, বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিস্তৃত ইসলামি আকর্ষণের কারণে হালাল পর্যটনের অন্যতম শীর্ষস্থানে পরিণত হয়েছে ইরান।দেশটির হালাল পর্যটনের অন্যতম প্রধান সম্ভাবনা হল- সব জায়গায় খুব সহজেই হালাল খাবার পাওয়া যায়। ছুটির সময় মুসলিম পর্যটকরা ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলেন। তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে  সব রেস্তোরাঁ এবং হোটেলে মুসলিম ভ্রমণকারীদের জন্য হালাল খাদ্য সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

ভ্রমণকারীরা খাঁটি ইরানি খাবার উপভোগ করতে পারেন। ইসলামের নির্দেশিকা মাথায় রেখেই এসব খাবার প্রস্তুত করা হয়। যা মুসলিম পরিবারগুলিকে আকৃষ্ট করে। কারণ ভ্রমণকালে হালাল খাবারের বিকল্প কোনো কিছু নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হয় না।

ইরান সমৃদ্ধ ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ। দেশটিতে অনেক ইসলামি আকর্ষণ রয়েছে। মুসলিম ভ্রমণকারীদের জন্য এসব দর্শনীয় স্থান অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থান, মসজিদ, মাজার এবং জাদুঘর, যেখানে ইসলামি শিল্প ও স্থাপত্য প্রদর্শন করা হয়।

ইরানের মাশহাদ শহরটি ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার সহ অনেকগুলি মাজারের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত। শিয়া মুসলমানদের জন্য এটি অন্যতম পবিত্র স্থান।

ইরানে হালাল পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনা হল- সব জায়গায় নামাজ পড়ার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। ভ্রমণকারীরা যেখানেই থাকুক না কেন, নামাজের জন্য সহজেই একটি পরিষ্কার এবং শান্ত জায়গা খুঁজে পান। এছাড়া অনেক হোটেলে অতিথিদের জন্য নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে।

হালাল হোটেলের সহজ প্রাপ্যতা থেকে ইরানের হালাল পর্যটন ব্যাপক উপকৃত হচ্ছে। ইরানের অনেক হোটেল হালাল পর্যটন সেবা এবং পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমন, হোটেলগুলিতে পুরুষ এবং নারীদের জন্য পৃথক সুইমিং পুল বা সমুদ্র সৈকত এলাকা রাখা আছে। এতে পরিবারগুলি নিশ্চিতভাবে ইসলামি নির্দেশনা মেনে ছুটি উপভোগ করতে পারেন৷

দেশটিতে পর্যটকদের জন্য নারী-বান্ধব বিমানবন্দর ও হাসপাতাল রয়েছে। পার্কগুলিতেও এই সুবিধা রয়েছে। ফলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রে হালাল পর্যটনের সামগ্রিক সুযোগকে বাড়িয়ে তুলেছে।

উপসংহারে বলা যায়, ইরানে হালাল পর্যটনের বিকাশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য, ইসলামিক আকর্ষণ এবং মুসলিম ভ্রমণকারীদের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেশটিকে হালাল পর্যটনের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য করে তুলেছে।

তাই বলা যায়, ইরান হালাল পর্যটনের প্রচার-প্রসারে পর্যটন শিল্পের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এসব সুযোগ-সুবিধা কেবল প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন মুসলিম ও আরব দেশ থেকেও অসংখ্য মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী হালাল পর্যটন বাজার ২০২২ সালে ২৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ায় এবং ২০৩২ সালের শেষ নাগাদ ৩৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: তেহরান টাইমস।