রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

English

ইরানি জাতির বিজয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি দাপটের অবসান হয়েছে: স্পিকার কলিবফ

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ৫, ২০২৬ 

news-image

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ইরান কখনো কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি। তিনি বলেন,সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের জনগণ দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই পরাজিত করেছে এবং তাদের আধিপত্যের ভাবমূর্তি ভেঙে দিয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেছেন।

বৈঠকে তিনি ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ প্রসঙ্গে বলেন, ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রধান কৌশল ছিল মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বব্যাপী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, শান্তি, ন্যায়বিচার এবং জাতিগুলোর স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও বলেন, শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীও একই পথ অনুসরণ করেছেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় মুসলিম উম্মাহর প্রতিরক্ষা বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে সব সময় সোচ্চার রয়েছে।

কলিবফ বলেন, ইরানি জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা দীর্ঘদিনের। তাঁর ভাষায়, ইসলামি বিপ্লবের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ইরানের ওপর প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু ইরানের জনগণ তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে। এরপর তারা অভ্যুত্থান, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নানা চাপ সৃষ্টি করলেও এসবের কোনোটিই ইরানি জনগণকে তাদের বিপ্লবের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুদ্ধের সূচনা করেনি। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসন ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আলোচনার টেবিলকেই বোমাবর্ষণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এরপরও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব ও অসম যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করে আগ্রাসীদের একটি অবিস্মরণীয় শিক্ষা দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। আজ মুসলিম দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি ও চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, বিপ্লবের শহীদ নেতা এবং অন্যান্য শহীদদের রক্তের ফল হবে পবিত্র কুদসের মুক্তি এবং প্রতিরোধের ফ্রন্টই ভবিষ্যতে বিজয় অর্জন করবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ ইসলামি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ইরানের নেতার শাহাদাত শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্যই একটি বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। তারা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং ইরানি জনগণের প্রতিরোধের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা পোষণ করে।

তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর এবং বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশ সংসদীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী।#

পার্সটুডে