কাওসারে আপনাকে স্বাগতম Kawser

সম্পাদকীয়

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বয়ে আনুক মুসলিম উম্মাহ্র ঐক্য ও সংহতি
রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্কে, বিশেষ করে নিউজ লেটারের পাঠক-পাঠিকাগণকে জানাচ্ছি অভিনন্দন ও মোবারকবাদ।
হযরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ্ তা‘আলার প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর মাধ্যমে মানব জাতির উদ্দেশে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর পরিপূর্ণ বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং এ বাণীকে যে কোনো বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষিত রেখেছেন। কোরআন মজীদ সম্পর্কে সঠিক ধারণার অধিকারী যে কেউ জানেন যে, এ মহাগ্রন্থ হচ্ছে মানব জাতির মুুক্তির পথপ্রদর্শক। তাই এ মহাগ্রন্থ ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানব জাতির জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার শ্রেষ্ঠতম নে‘আমত। আর রাসূলুল্লাহ্ (সা.) স্বীয় চরিত্র, আচরণ, শিক্ষা, বিচার ও শাসন ইত্যাদি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআন মজীদের শিক্ষা ও পথনির্দেশের বাস্তব প্রদর্শনী করেছেনÑ যা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, কোরআন মজীদ কোনো বাস্তবে কার্যকর-অযোগ্য কাল্পনিক (ইউটোপিয়ান) আদর্শ উপস্থাপন করে নি, বরং মানুষের জন্য তা পুরোপুরি অনুসরণ ও বাস্তবায়নযোগ্য। এ কারণে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে ‘রাহ্মাতুল্লিল ‘আলামীন’ (সমগ্র জগৎবাসীর জন্য অনুগ্রহস্বরূপ) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাসূলে আকরাম (সা.)-এর জীবনাদর্শ ইসলাম সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে এসেছে বিধায় তা ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিচারের পতাকাবাহী। তাই এ দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে জবরদস্তির কোনো স্থান নেই। এর বিস্তারের পন্থা সুস্থ বিচারবুদ্ধির কাছে আবেদন এবং এর প্রতিষ্ঠার পথ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ইসলামের দুশমনরা এ দ্বীনের ওপরে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের কলঙ্ক লেপনের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে, আর তা সম্ভব হচ্ছে এ দ্বীন ও রাসূলে আকরাম (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষার সাথে সঠিক পরিচিতির অভাবে। তাই এ পরিচিতি অর্জন অপরিহার্য।
আল্লাহ্ তা‘আলা যেসব উদ্দেশ্যে দ্বীন ইসলামকে পাঠিয়েছেন সেসবের অন্যতম হচ্ছে মানবতার ঐক্য গড়ে তোলা এবং এ লক্ষ্যে ইসলামী উম্মাহ্র ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। কোরআন মজীদে ন্যূনতম অভিন্ন ‘আক্বায়েদী সূত্র তাওহীদ ও আখেরাতের ভিত্তিতে নাজাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে আহ্লে কিতাবের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইসলামের দুশমনদের ও মুসলিম নামধারী মুনাফিক্বদের ষড়যন্ত্রের ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য ও হানাহানি চলে আসছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর এ বিপ্লবের মহান নায়ক হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.) ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-কে ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার চালিকাশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যেহেতু রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মতারিখ নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য আছে এবং বেশির ভাগ মুসলমানই ১২ বা ১৭ই রাবী‘উল্ আউয়াল্কে তাঁর জন্মবার্ষিকী হিসেবে গণ্য করে থাকে সেহেতু ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াসকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি উভয় তারিখকে সমন্বিত করে ১২ থেকে ১৭ই রাবী‘উল্ আউয়াল্কে ‘ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ্’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ মর্যাদায় এ সপ্তাহ্ উদ্যাপনের জন্য সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্র প্রতি আহ্বান জানান। তখন থেকে সারা বিশ্বের মুসলমানগণ, বিশেষ করে ইরানী মুসলমানগণ প্রতি বছর যথাযথ মর্যাদায় এ সপ্তাহ্টি উদ্যাপন করে আসছে।
ইসলামের সুমহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাশ্চাত্য জগতের জনগণের মধ্যে যখন ইসলামী আদর্শের সাথে সঠিকভাবে পরিচিত হওয়ার প্রবণতা ও ইসলাম গ্রহণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে তখন ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে সেখানকার অনেক তরুণ মুসলমান বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলে যোগদান করায় এবং মাঝে মাঝে পাশ্চাত্য জগতে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকা- সংঘটিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই পাশ্চাত্যে মুসলমানদের প্রতি সন্দেহ ও চাপ সৃষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সেখানে ইসলামের প্রচার-প্রসারের বিরুদ্ধে চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি ফ্রান্সে এক সন্ত্রাসী ঘটনায় বহু বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাশ্চাত্যে ইসলামবিদ্বেষ তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান রার্হ্বা হযরত আয়াতুল্লাহ্ ‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী পাশ্চাত্যের যুবসমাজের উদ্দেশে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তাদেরকে ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদী ও তাকফীরী গোষ্ঠীসমূহের উত্থানের পিছনে নিহিত ষড়যন্ত্রের ওপর থেকে আবরণ উন্মোচন করে দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ইসলামের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সব শেষে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ্ ইসলামী উম্মাহ্র ঐক্য ও সংহতির চালিকা শক্তিতে পরিণত হোকÑ আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে এ কামনা করছি।


স্মরণীয় বাণী

মহানবী (সা.) বলেন : দয়া কর সেই সম্মানিতের ওপর যে লাঞ্ছিত হয়েছে, আর সেই ধনীর ওপর যে নিঃস্ব হয়েছে আর ঐ জ্ঞানীর ওপর যে মূর্খদের কবলে পড়েছে।

মহানবী (সা.) বলেন : যখন তোমাদের নেতারা হয় তোমাদের উত্তম লোকেরা আর তোমাদের সামর্থ্যবানরা হয় তোমাদের দানশীল লোকেরা, আর তোমাদের কাজকর্ম হয় তোমাদের সকলের পরামর্শ সহকারে তখন তোমাদের জন্য মাটির উপরিভাগই মাটির অভ্যন্তরের চেয়ে উত্তম হবে। আর যখন তোমাদের নেতারা হয় তোমাদের নিকৃষ্টরা আর তোমাদের সামর্থ্যবানরা হয় তোমাদের কৃপণরা আর তোমাদের কাজকর্ম ন্যস্ত হয় তোমাদের নারীদের ওপর তখন তোমাদের জন্য মাটির ওপরের চেয়ে নিচে থাকাই শ্রেয়।

মহানবী (সা.) বলেন : সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত যে নিজের রুজির ভার অন্যের ওপর ন্যস্ত করেছে।

রাসূলুল্লাহ্্ (সা.) বলেন : অন্তরসমূহ ঐ সকল লোকের বন্ধুত্বে বাধা পড়ে যারা তাদের প্রতি সদাচার করেছে আর ঐ সকল লোকের শত্রু হয় যারা তাদের প্রতি অনিষ্ট করেছে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : বন্ধু বন্ধু নয় যতক্ষণ না নিজের বন্ধুকে রক্ষা করে কষ্টের সময়ে, তার অনুপস্থিতিতে এবং তার মৃত্যুর পরে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : যে ব্যক্তি দীনকে রুজি রোজগারের মাধ্যম করে তার জন্য দীন থেকে অর্জন হলো সেটুকুই যা সে ভক্ষণ করে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : ঈমান হলো পছন্দনীয় কথা, কৃত কাজ আর অন্তর দ্বারা মারেফাত অর্জন।

ইমাম হাসান (আ.) বলেন : নিশ্চয় পূর্ণ দৃষ্টিবান চোখ হলো সেই চোখ যা কল্যাণের মধ্যে প্রবেশ করে। আর সবচেয়ে শ্রবণক্ষম কান হলো সেই কান যা সতর্কবার্তা শোনে এবং তা থেকে লাভবান হয়। আর নিখুঁততম অন্তÍর হলো সেই অন্তর যা দ্বিধা-সংশয় থেকে মুক্ত থাকে।

ইমাম হাসান (আ.)-কে পৌরুষ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। উত্তরে তিনি বলেন : পৌরুষ হলো দীনের বিষয়ে অকার্পণ্য, সম্পদের শুদ্ধি আর অধিকার রক্ষা।

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন : যে লোক আল্লাহ্্র অবাধ্যতার মাধ্যমে কারো নৈকট্য লাভ বা কিছু অর্জন করে সে যা আশা করে অতি দ্রুত তা হারায় আর যা কিছু থেকে সতর্ক হয়ে চলে অধিক দ্রুত তাতে আক্রান্তÍ হয়।

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন : স্বনামধন্য ও সর্বমান্য হওয়ার চিহ্নাবলির নির্দেশকসমূহের মধ্যে একটি হলো বুদ্ধিমানদের সাথে ওঠাবসা। আর মূর্খতার কারণসমূহের একটি চিহ্ন হলো মুসলমানদের সাথে বিবাদ করা। আর বিজ্ঞতার একটি চিহ্ন হলো নিজের বক্তব্যের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা এবং তত্ত্ববিদ্যাসমূহের (চিন্তার বিভিন্ন পদ্ধতির) সারসত্য জানা।

ইমাম আলী ইবনুল হোসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : তিনটি জিনিস রয়েছে (যেগুলো) মুমিনদের নাজাত দেয় : মানুষের ওপর অপবাদ আরোপ, নিন্দা ও গীবত করা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখা, নিজেকে দুনিয়া ও আখেরাতে যা তার জন্য উপকারী সেকাজে প্রবৃত্ত করা আর তার গোনাহর জন্য অধিক ক্রন্দন করা।

ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) তদীয় পুত্র মুহাম্মাদ (আ.)-কে বলেন : যে কেউ তোমার কাছে ভালো কিছু চায় তার জন্য কাজ কর। যদি সে তার উপযুক্ত হয় তাহলে যথাযথ কাজ করলে, আর যদি সে তার উপযুক্ত না-ও হয় তাহলে তুমি নিজে তার উপযুক্ত। আর যদি কোনো লোক তোমার ডান পাশ থেকে তোমাকে গালমন্দ করে অতঃপর তোমার বাম পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তোমার কাছে ক্ষমা চায় তাহলে তাকে ক্ষমা করবে।

ইমাম আলী ইবনে মূসা আর-রেযা বলেন : নীরবতা হলো প্রজ্ঞার দরজাসমূহের মধ্যে একটি দরজা। নিশ্চয় নীরবতা বন্ধুত্ব আনে এবং নিশ্চয় তা সকল কল্যাণের নির্দেশক।

ইমাম রেযা (আ.) বলেন : আল্লাহ্্্ বেশি কথা বলা, সম্পদ বিনষ্ট করা ও বেশি কামনা করাকে ঘৃণা করেন।


স্মরণীয় দিবস

২ সেপ্টেম্বর : ইরানে মুদ্রণশিল্প দিবস।

৪ সেপ্টেম্বর : বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আবু রায়হান বিরুনী স্মরণে দিবস।

৫ সেপ্টেম্বর : আয়াতুল্লাহ কুদ্দুসীর শাহাদাত।

৮ সেপ্টেম্বর : ১৭ই শাহরিভারের গণজাগরণ ও পাহলভী সরকারের নির্দেশে গণহত্যা।

১০ সেপ্টেম্বর : ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানের প্রথম জুমআ ইমাম আয়াতুল্লাহ তালেকানীর ইন্তেকাল।

১১ সেপ্টেম্বর : মুনাফেকদের হাতে আয়াতুল্লাহ মাদানীর শাহাদাত। *ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

১২ সেপ্টেম্বর : ইরানে সিনেমা দিবস।

১৪ সেপ্টেম্বর : নবীবংশের নবম ইমাম তাকী (আ.)-এর শাহাদাত দিবস।

১৫ সেপ্টেম্বর : আহলে বাইতের প্রথম ইমাম আলী (আ.) এবং নবীকন্যা হযরত ফাতিমা (আ.)-এর বিবাহ বার্ষিকী। ইরানে দিবসটি বিবাহ দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়।

১৮ সেপ্টেম্বর : ইরানে কবিতা ও ফারসি সাহিত্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। কবি সাইদ মুহাম্মাদ হোসাইন শাহরিয়ার স্মরণে দিবস।

২০ সেপ্টেম্বর : বাংলা ভাষার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল খায়ের মুসলেহ উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী।

২১ সেপ্টেম্বর : নবীবংশের পঞ্চম ইমাম বাকের (আ.)-এর শাহাদাত দিবস।

২২ সেপ্টেম্বর : ইরাকের সাদ্দাম সরকার এদিনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ইরানের পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের শুরু।

২৩ সেপ্টেম্বর : আরাফাত দিবস (৯ যিলহজ)।

২৪ সেপ্টেম্বর : ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ।

২৭ সেপ্টেম্বর : নবীবংশের অষ্টম ইমাম মূসা কাযেম (আ.)-এর জন্মদিবস। *বিশ্ব পর্যটন দিবস।

২৯ সেপ্টেম্বর : নবীবংশের দশম ইমাম আলী নাকী (আ.)-এর জন্মদিবস।

৩০ সেপ্টেম্বর : বিশ্ববিখ্যাত মরমি কবি মওলানা জালালউদ্দিন রুমির (মৌলভী রুমি) জন্মবার্ষিকী। *বিশ্ব বধির দিবস।

১ অক্টোবর : ফিলিস্তিনের শিশু-কিশোরদের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য দিবসটি পালিত হয়। *বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ.)-এর মৃত্যুবার্ষিকী।

৫ অক্টোবর : হযরত ইমাম খোমেইনী ইরাক থেকে ফ্রান্সে হিজরত করেন (১৯৭৮)।

৮ অক্টোবর : মহানবী (সা.)-এর সাথে খ্রিস্টান পাদ্রিদের মুবাহিলা দিবস। *বিশ্ব শিশু দিবস।

১২ অক্টোবর : বিশ্ব বিখ্যাত কবি হাফিজ স্মরণে দিবস।

১৪ অক্টোবর : ঈদ-ই গাদীর দিবস। বিদায় হজ থেকে ফেরার সময় মহানবী (সা.) ১৮ যিলহজ হাজীদের সমাবেশে ইমাম আলীকে মহানবীর ওফাত পরবর্তীকালে উম্মতের মাওলা ঘোষণা করেন।

১৫ অক্টোবর : হিজরি ১৪৩৭ সাল শুরু। *ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর মুনাফিকদের হাতে আয়াতুল্লাহ আশরাফী ইসফাহানীর শাহাদাত দিবস। *বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস (অন্ধদের কল্যাণে)।

১৭ অক্টোবর : বাংলাদেশের মরমি বাউল সংগীতের জনক লালন শাহের মৃত্যুবার্ষিকী।

১৮ অক্টোবর : ইরানে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯ অক্টোবর : বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী।

২৩ অক্টোবর : ইমাম খোমেইনীর সুযোগ্য পুত্র আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুস্তাফা খোমেইনীর শাহাদাত দিবস। *মুহররম মাসের নবম দিবস।

২৪ অক্টোবর : পবিত্র আশুরা। ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাত দিবস। *উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম, সাহিত্যিক, সাংবাদিক মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর মৃত্যুবার্ষিকী।

২৬ অক্টোবর : নবীবংশের চতুর্থ ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.)-এর শাহাদাত দিবস। *অবিভক্ত বাংলার নেতা প্রজাতিহৈষী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মবার্ষিকী।

২৯ অক্টোবর : কবি বেনজীর আহমদের জন্মবার্ষিকী। *কবি তালিম হোসেনের জন্মবার্ষিকী।

৩০ অক্টোবর : কিশোর (১৩ বছর) মুহাম্মাদ হুসাইন ফাহমিদেহ এর শাহাদাত দিবস। ইরানে এটি কিশোর স্বেচ্ছাসেবী দিবস হিসেবে পালিত হয়।


ইরানী প্রবাদ

বাংলা ভাষায় ফারসি শব্দের ব্যবহার

ফারসি রূপ আধুনিক ফারসি উচ্চারণ
হাসেল/হাছিল (অর্জন/কাজ উদ্ধার) حاصل হ-ছেল
হাজির حاضر হ-যের
হাকিম (বিচারক) حاكم হ-কেম
হাল (অবস্থা) حال হ-ল্
হালত (অবস্থা) حالت হ-লাত্
হরফ (অক্ষর) حرف র্হাফ
হিসাব حساب হেস-ব
হেফাযত حفاظت হেফ-যাত
হক (সঠিক) حق হাক্ব
হুকুম حكم হোক্ম
হলফনামা حلف نامه হালাফনমে
হালুয়া حلوا হালভা
হামলা حمله হাম্লে
হুর حور র্হু
হাউজ حوض হাউজ্
হায়া (লজ্জা) حياء হাইয়া
হয়রানি حيرانى হেইর-নী
খাদেম خادم খ-দেম
খারিজ خارج খ-রেজ
খাস خاص খ-স
খাতির خاطر খ-তের
খাকী (রং) خاكى খ-কী
খালেস (খাঁটি) خالص খ-লেস্
খালু خالو খ-লু
খালা خاله খ-লে
খালি خالى খ-লী
খামখেয়ালী خام خيالى খ-ম খিয়া-লী
খান্দান خاندان খ-নদ-ন
খানকাহ্ خانقاه খ-নকা
খানা (ঘর) خانه খ-নে
খানাতল্লাশী خانه تلاشى খ-নে তাল-শী
খবরদার خبردار খাবারদ-র
খবরদারী خبردارى খাবার দ-রী
খবীস خبيث খাবীছ্
খতম ختم খাত্ম
খতনা ختنه খাতনে
খেদমত خدمت খেদমাত্
খারাপ خراب খার-ব
খরগোশ خرگوش র্খাগুশ্
খোরমা خرما খোরম-
খরিদ خريد খারীদ
খদ্দের خريدار খারীদ-র

 

ইরানী প্রবাদ বাক্য
روزه شک دار گرفتن.
উচ্চারণ : রোযে শাকদা’র গেরেফতান
অর্থ: সন্দেহজনক রোযা রাখা।
মর্ম : ব্যর্থতা বা পরাজয়ের সম্ভাবনা রয়েছেÑ এমন কাজ বা বিষয়ে তৎপর হওয়া বুঝাতে প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়।
روغن ریخته جمع نمی شود.
উচ্চারণ : রওগান রীখতে জাম্ নেমী শাওয়াদ
অর্থ : পড়ে যাওয়া তেল জমা হবে না।
মর্ম : এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয় অন্য একটি প্রবাদের সমান অর্থে। অর্থাৎ বলা হয়ে থাকে: প্রেম করতে গিয়ে খরচ হওয়া টাকা ঝুলিতে ফিরে আসে না।
رو نیست سنگ پا است.
উচ্চারণ : রো নিস্ত সাঙ্গে পা’ আস্ত
অর্থ : চেহারা নয়, পায়ের পাথর।
মর্ম : অত্যন্ত বেহায়া, বেয়াড়া লোকের সাথে কথা বলা বুঝাতে প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়।
روی سر و کله کسی خراب شدن.
উচ্চারণ : রূয়ে সারো কাল্লে কাসী খারাব শোদান
অর্থ : কারো মাথা ও কল্লা খারাপ হওয়া।
মর্ম : অনাহুত কারো মেহমান হওয়া, হঠাৎ করে কারো ঘরে মেহমান হওয়া এবং তার জন্য ঝামেলার কারণ হওয়া।
ریشش را در آسیاب سفید کرده است.
উচ্চারণ : রীশাশ রা’ দার আ’সিয়া’ব সাফিদ কারদে আস্ত
অর্থ : তার দাড়ি যাঁতাকলে সাদা করেছে ।
মর্ম : খুব ঝানু, দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক বুঝাতে প্রবাদটির প্রচলন ব্যাপক।
روغن شد و به زمین رفت
উচ্চারণ : রওগান শুদ ও বে যমীন রাফ্্ত
অর্থ : তেল হল আর মাটিতে চলে গেল।
মর্ম : সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল এবং আর কখনো পাওয়া যায় নিÑ একথা বুঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
روی پای خود بند نبودن
উচ্চারণ : রূয়ে পা’য়ে খোদ বন্দ নাবূদান
অর্থ : নিজের পায়ের উপর বন্ধন নাথাকা।
মর্ম : আনন্দের কারণে এক স্থানে স্থির না হওয়া, তাড়াহুড়া করা ও অস্থিরচিত্ত হওয়া।
ریخت و پاش کردن
উচ্চারণ : রীখ্ত ও পা’শ কারদান
অর্থ : ফেলা আর ছড়িয়ে দেয়া।
মর্ম : দান-খয়রাত করা, বেহিসাব খরচ করা।
ریش چیزی در آمدن
উচ্চারণ : রীশে চীযী দার অ’মাদান
অর্থ : কোন কিছুর দাড়ি গজানো।
মর্ম : কোন কিছুর মূল্যমান ও ঔজ্জ্বল্য কমে যাওয়া বা ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়া অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়।


বই পরিচিতি

কুরআন ও হাদীসে মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইত (আ.) [নবী পরিবার]
সংকলন: আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদি রেইশাহরি
বাংলা অনুবাদ: এ. কে. এম. রাশিদুজ্জামান
সম্পাদনা: মো. হারুনুর রশিদ, মুহাম্মাদ ইরফানুল হক ও মো. আলমগীর হোসেন
প্রকাশক: ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস
প্রকাশকাল: ৩ অক্টোবর, ২০১৫
মূল্য: ৬৮০ টাকা

মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ রাসূল, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আ.) হলেন তাঁর পরিবারের ঐসব সম্মানিত সদস্য যাঁদেরকে বাছাই করা হয়েছে রাসূলের ইন্তেকালের পর মুসলিম উম্মাহ্্র নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন ও সামগ্রিক বিষয়াবলিতে নেতৃত্বের জন্য। আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ রেইশাহরি সংকলিত ‘কুরআন ও হাদীসে মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইত (আ.)’ শিরোনামের এ গ্রন্থে মহানবীর আহলে বাইতের পরিচয় এবং তাদের প্রতি মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে হাদীসের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ রেইশাহরি ১৯৪৬ সালে ইরানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর জ্ঞানচর্চার একটি বড় সময় কাটিয়েছেন ইরানের কোম ও ইরাকের নাজাফ শহরে। তিনি হাদীসশাস্ত্রের বিজ্ঞ প-িতগণের একজন যিনি শত শত গ্রন্থের হাজার হাজার হাদীস গবেষণা করে বিষয়ভিত্তিক সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হাদীস গ্রন্থ ‘মীজান আল-হিকমাহ’ [১৫ খ-] সংকলন করেন যা পাঠকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমান গ্রন্থটিও এমনই আরেকটি গভীর গবেষণালব্ধ উপস্থাপনা যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আহলে বাইতের সামগ্রিক পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।