বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

Development of Muslim Art and Architecture in Bangladesh

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০১৮ 

বই পরিচিতি

Development of Muslim Art and Architecture in Bangladesh

রচনা : মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ নুরুল ইসলাম মজুমদার
সম্পাদনা : ড সৈয়দ মাহমুদুল হাসান
পর্যালোচনা : অধ্যাপক ড কে এম মোহসিন (অব), ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
: অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ভুইয়া, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক : বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি)
বাড়ি নং- ৪, রোড- ২, সেক্টর- ০৯, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা
প্রকাশকাল : জানুয়ারি ২০১৪
মূল্য : ৩৫০ টাকা

বিশিষ্ট ইতিহাস-গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ও মোঃ নুরুল ইসলম মজুমদার-এর যৌথ প্রচেষ্টায় রচিত আলোচ্য গ্রন্থটি মুসলিম শিল্পকলা, চিত্রকলা, লিপিকলা (ক্যালিগ্রাফি), ঐতিহাসিক ও পুরাকীর্তি বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং স্থাপত্যশিল্পের ওপর ইংরেজিতে লেখা একটি সমৃদ্ধ তাত্ত্বিক গবেষণা গ্রন্থ। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। রয়েছে ধর্মবিশ্বাস ও জাতীয় বোধ। সেইসব বোধ-বিশ্বাসের ছাপ ফুটে ওঠে একদিকে তাদের সাহিত্যে, সংগীতে, তেমনি ফুটে ওঠে তাদের চিত্রকলায় ও নানারকম শিল্পের মাধ্যমে। ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থাপত্য শিল্পে সেই সব বোধ-বিশ্বাসের ছাপ বিরাজমান থাকে। এসব নিদর্শন হচ্ছে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সম্পদ। পৃথিবীর মানবসভ্যতার অমূল্য সম্পদÑ যা অতীত ইতিহাসের তত্ত্ব-উপাত্ত বহন করে চলে। সেটি হতে পারে পুরোনো বাড়ি-ঘর, প্রাসাদ, সৌধ, নানা রকম বস্তুসামগ্রী, শিল্পনিদর্শন, মসজিদ, মন্দির, মাযার, সমাধি, গির্জা, প্যাগোডা, মনুমেন্ট, এপিটাফ, মূর্তি, ভাস্কর্য, মুদ্রা, তৈজসপত্র, শিলালিপি, খোদাইকার্য, ক্যালিগ্রাফি ইত্যাদি নানা নিদর্শন সংরক্ষণ করা হচ্ছে সভ্য জাতির পরিচায়ক। কোন সভ্য জাতি এসব নিদর্শন তার পূর্ব ধর্মবিশ্বাসের হলেও সেগুলো ধ্বংস করে না। কারণ, এসব নিদর্শন ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করে। কোন ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের দিক যদি আমরা বিবেচনায় নাও আনি তবু নিরেট ইতিহাস-গবেষণার জন্য হলেও এসব নিদর্শন মহামূল্যবান। কোন জাতি, দল, গোষ্ঠী যদি খোঁড়া যুক্তি দিয়ে, নিজস্ব সীমাবদ্ধ চিন্তা-চেতনায় আবদ্ধ থেকে ধর্মের নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করে অথবা বাদ-মতবাদের ও দলান্ধ শত্রুতায় আচ্ছন্ন হয়ে প্রতিপক্ষের বোধ-বিশ্বাসের এসব নিদর্শন ধুলায় মিশিয়ে দেয় তবে তারা গ-মূর্খ, অসভ্য ছাড়া আর কি?
বইটি আলোচনা করতে গিয়ে উপরিউক্ত কথাগুলো অনায়াসে বলতে হলো। কারণ, তা বলা জরুরি। আলোচ্য গ্রন্থটিতে মোঘল, পাঠান ও সুলতানি আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের মুসলিম শিল্পকলা, চিত্রকলা, লিপিকলা, স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে এসব শিল্পের বৈশিষ্টসমূহ। বাংলাদেশে মোঘল আমলের মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনসমূহে রয়েছে পারস্য বা ইরানি স্থাপত্যরীতি ও আরব স্থাপত্য রীতির মিশ্রণ। অথবা কোথাও সরাসরি পারস্য স্থাপত্যরীতিই প্রয়োগ করা হয়েছে। কারণ, এদেশে ইসলাম এসেছে আরব থেকে ইরানের ভেতর দিয়ে সূফি, দরবেশ, অলি-আওলিয়াদের মাধ্যমে।
বইটিতে প্রাসঙ্গিক ও আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ের সংযোজন ঘটানো হয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম শিল্পকলা ও স্থাপত্যের প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্থাপনাগুলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটি ইতিহাসপ্রেমিক পাঠক, গবেষক, পর্যটক, প্রতœবিদ, শিল্পী সবার কাছেই সমাদৃত হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্বের ছাত্রছাত্রীদের রেফারেন্স বই হিসেবেও এই বই সমাদৃত হবে বলে আশা রাখি। বইটিকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় গ্রন্থাগারে প্রেরণ করা হবে বলেও বইটির লেখক সূত্রে জানা গেছে।

□ আমিন আল ্আসাদ