সোমবার, ১৬ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

শত্রুরা চেষ্টা করতেই থাকবে তবে ব্যর্থ হবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

পোস্ট হয়েছে: জুন ১৮, ২০১৮ 

news-image

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের খোতবায় এবারের বিশ্ব কুদস দিবসে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যাওয়াসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ বছরের বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিলে ইরানসহ বিভিন্ন দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, শত্রুদের ব্যাপক প্রচারণা সত্বেও ইরানের জনগণের সঙ্গে অন্যান্য মুসলিম জাতির ঘনিষ্ঠতা, ঐক্য ও সংহতি আগের চেয়ে বহুগুণে বেড়েছে। ইসলামি ইরান অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় এবং স্বাধীনচেতা নীতি অনুসরণ করায় বৃহৎ শয়তানি শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকার প্রধান কারণ এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহিল খামেনেয়ী বলেন, শত্রুরা চেষ্টা করতেই থাকবে তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হবে।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তারা সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এ স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “বৃহৎ শয়তানি শক্তিগুলোর ব্যর্থতার কথা স্বীকার করা থেকে বোঝা যায়, ব্যাপক চেষ্টা করেও তারা কিছুই হাসিল করতে পারেনি এবং এরপর থেকে তারা যতই অর্থ ব্যয় করুক না কেন কিছুই করতে পারবে না।”

ফিলিস্তিন সংকটের প্রতি বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এটিকে মুসলমানদের প্রধান সমস্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেইনী(র.) প্রতি রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস পালনের ডাক দিয়েছিলেন। বিশ্ব কুদস দিবস আজ স্বাধীনতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু ফিলিস্তিন নয় বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। ইমাম খোমেইনীর ওই ঘোষণার পর প্রতি বছর ইরানসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা কুদস দিবস পালন করে আসছে। এ বছরও ইরানের বিপুল সংখ্যক মানুষ কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নিয়ে মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞেরও নিন্দা জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব কুদস দিবস মুসলিম উম্মার ঐক্যের জন্য বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। শত্রুর মোকাবেলায় সচেতনতা সৃষ্টিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। শত্রুর মোকাবেলায় ইরানের জনগণের অগ্রণী ভূমিকা অন্য মুসলিম জাতিগুলোর জন্যও মডেল বা আদর্শ হয়ে আছে। বিপ্লবের পরপরই শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ইরানের প্রতিরোধের প্রতি মুসলিম জাতিগুলোর সমর্থন রয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে প্রতিরোধকামীদের বিজয় এবং ইয়েমেনেও শত্রুরা তেমন সাফল্য অর্জন করতে না পারায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সব পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আমেরিকা এ পর্যন্ত সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

ইরান আজ সারা বিশ্বের মুসলমানদের আদর্শে পরিণত হওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় আমেরিকা এখন ইরানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন,  শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যাতে দেশটির জনগণ ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু পাশ্চাত্য এ ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হবে। -সূত্র: পার্সটুডে