মঙ্গলবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, ৯ই মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

১ দাম্ভিক শক্তিগুলো মুসলিম ঐক্যকে প্রচ- ভয় পায় : সর্বোচ্চ নেতা

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০১৮ 

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক প্রতিষ্ঠাকে বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সব সমস্যার সমাধান করতে পারে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত ৮ সেপ্টেম্বর তেহরান সফররত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্বের দাম্ভিক শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক চায় না এবং তারা একটি সম্ভাব্য মুসলিম শক্তিকে প্রচ- ভয় পায়।
তিনি বলেন, ঠিক এ কারণে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র বৈরী আচরণ শুরু করেছে ওয়াশিংটন। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরান ও তুরস্ক এ অঞ্চলের দুটি শক্তিশালী ও সম্ভ্রান্ত রাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের ব্যাপারে তারা একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। কাজেই পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ইরান ও তুরস্কের উচিত নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা অতীতের চেয়ে শক্তিশালী করা।
তুরস্কে ইসলামপন্থিরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে তেহরান ও আঙ্কারার স¤পর্কের উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার ঐক্যের জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে জোরদার করতে হবে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মিয়ানমার ইস্যুতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও তুর্কি সরকারকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন সংকটের ব্যাপারে মুসলিম বিশ্ব এক মুহূর্ত উদাসীন থাকতে পারে না।
সাক্ষাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিম বিশ্বের সব সংকটের মূলে রয়েছে এসব দেশের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির অভাব। পাশ্চাত্যের অসদাচরণ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এ কারণে তিনি ইরান ও তুরস্কের মধ্যে স¤পর্ক আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

২ ‘ইরান ও রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতা একটি অনুকরণীয় আদর্শ’- রাহবার
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমির পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে গত ৮ সেপ্টেম্বর বলেন, সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় স¤পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য সংকট নিরসনের ক্ষেত্রেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন।
তেহরানে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সিরিয়া বিষয়ক বৈঠক শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরো বলেন, ইরান ও রাশিয়া যৌথভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে পারে তার অন্যতম হচ্ছে আমেরিকার বলদর্পিতা প্রতিহত করা। কারণ, ওয়াশিংটন বিশ্ব মানবতার জন্য একটি বিপদ এবং তাকে প্রতিহত করা সম্ভব।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মার্কিনীরা সিরিয়ায় সত্যিকার অর্থে পরাজিত হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি। ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে এই তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ওয়াদা রক্ষা করে নি। এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকা গত ৪০ বছর ধরে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই ৪০ বছরে ইরান অন্তত ৪০ গুণ শক্তিশালী হয়েছে।
সাক্ষাতে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী কোনো কোনো দেশের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনে দুঃখ প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমির পুতিন। তিনি বলেন, মার্কিন সরকার অনুপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পুতিন বলেন, ইউরোপীয়রা মুখে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার কথা বললেও তারা আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল বলে ওয়াশিংটনের কথা মেনে চলতে বাধ্য।

৩ মুসলিম শক্তির উত্থান ঠেকানো আমেরিকা ও ইসরাইলের প্রধান উদ্দেশ্য : সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী নৌবাহিনীর ক্যাডেটদের ¯œাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার জন্য পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নানা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে গৃহযুদ্ধ বাঁধানো, সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটানো এবং ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। আরো দুঃখজনক হচ্ছে এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ তাদেরকে সহযোগিতা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম শক্তির উত্থান ঠেকানো আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের প্রধান উদ্দেশ্য- এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, শত্রুরা ভালো করেই জানে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হচ্ছে বঞ্চিত ও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো। এ কারণেই তারা মুসলিম শক্তির উত্থানে ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইসলামি ইরানের সরকার ও জনগণ ¯পষ্ট ভাষায় এবং কোনো গোপনীয়তা বজায় না রেখে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আর এটাই ইরানের বিরুদ্ধে জুলুমবাজ সরকারগুলোর শত্রুতার প্রধান কারণ।
যাই হোক, ইরানের নৌবাহিনী বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরসহ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় নিজেদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। যেখানেই নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজন হবে সেখানেই ইরান তার উপস্থিতি বজায় রাখবে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি নৌবাহিনী দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় বলেন, আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট ইরানের পানিসীমাসহ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।
গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, সামরিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও জাতিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাঁধানো আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে তারা কৌশলগত এ অঞ্চলের ওপর প্রভাব বিস্তার করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা, কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি এবং এ অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর প্রতিরোধ শক্তিগুলোর তৎপরতাকে আরো জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রমাণ করেছে ইরানসহ এ অঞ্চলে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, ইরানের সরকার ও জনগণ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে, ‘জাতিগুলো যদি বলদর্পী বৃহৎ শক্তিগুলোকে ভয় না পেয়ে এবং নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাহলে শত্রুরা পিছু হটতে বাধ্য হবে এবং পরাজিত হবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননের কথা উল্লেখ করেন যেখানে মার্কিন সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়েছে।
যাইহোক, ইসলামি ইরানের সেনাবাহিনীর নৌ ইউনিট ইরানসহ আন্তর্জাতিক পানি সীমায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে সক্ষম হয়েছে যা এ অঞ্চলের সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

৪ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আহওয়াজে সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে পদক অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক বৈঠকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সর্বোচ্চ নেতা এ কথা বলেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর আহওয়াজে সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন শহীদ ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। শহীদদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
তিনি বলেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ইরানের শত্রুর সংখ্যা অনেক।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ইরানিদের না খেলার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের প্রথম থেকেই ইরান ইহুদিবাদী ইসরাইল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বর্ণবাদী সরকারের বিরোধিতা করেছে। ওই দুই সরকারকে ইসলামি ইরান স্বীকৃতি দেয় নি। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের পতন হয়েছে। মিথ্যাবাদী, দখলদার ও বর্ণবাদী ইহুদিবাদী ইসরাইলেরও পতন হবে।
তিনি বলেন, ইসলামি ইরান, দখলদার ইসরাইলের ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও খেলবে না এবং গত বছর ইরানি ক্রীড়াবিদ আলী রেজা কারিমি ইসরাইলি প্রতিনিধির সঙ্গে খেলায় অংশ নেন নি। তিনি একজন প্রকৃত চ্যা¤িপয়ন।
এশিয়ান গেমসে ইরানি ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইরানিরা যে অঙ্গনেই সাফল্য অর্জন করুক না কেন, তাতে ক্ষুব্ধ হয় সাম্রাজ্যবাদীরা। কাজেই ইরানি ক্রীড়াবিদদের বিজয় মানেই হলো ইরানের শত্রুদের পরাজয়। গোটা ইরানি জাতির বিজয়।

৫ আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির বিজয় অবশ্যম্ভাবী : আয়াতুল্লাহ কাশানি
ইরানি জাতি বিশ্ব আধিপত্যবাদ ও ইসলাম বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র ও সকল নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিজয়ী হবেই। তেহরানের জুমার নামাজের অন্যতম খতিব আয়াতুল্লাহ ইমামি কাশানি গত ১২ অক্টোবর ইরানের সক্ষমতা ও সামর্থ্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে আরও বলেন, বিজয় ও সাফল্য ইরানি জাতির জন্য অপেক্ষা করছে।
অপরদিকে ইরানের শত্রুদের স্বপ্ন ও ষড়যন্ত্র কোনোদিনই বাস্তবায়িত হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর শত্রুদের আধিপত্যের স্বপ্নসাধের কবর রচিত হবে।
শত্রুরা চাচ্ছে ইরানের সরকার ও জনগণের মাঝে অসন্তোষ ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে। কিন্তু ইরানি জাতি সচেতনভাবে শত্রুদের ওই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শত্রুদের ষড়যন্ত্র তারা ব্যর্থ করে দেবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশিষ্ট এই আলেম।
জুমার খতিব আরও বলেন, আমেরিকা আজকের মতো কখনোই এত নিঃসঙ্গ আর কোণঠাসা হয় নি। আমেরিকাসহ বিশ্ব আধিপত্যবাদ ও ইহুদিবাদের জেনে রাখা উচিত সত্যের জয় সুনিশ্চয়।

৬ ত্রিদেশীয় শীর্ষ বৈঠকে ড. হাসান রুহানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, সিরিয়া সংকট নিরসনে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া সমনিন্বত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সিরিয়া বিষয়ক ত্রিদেশীয় শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী ভাষণে তিনি একথা বলেন।
ড. রুহানি আরও বলেন, যারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দেয় তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে না। তবে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আর তা হলো সিরিয়া ও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এর আগে বৈঠকের শুরুতে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন রুহানি। সে সময় তিনি ছয়টি বিষয়ের ওপর কথা বলেন।
তিনি বলেন, সিরিয়া সংকট সমাধানের জন্য যেকোনো রাজনৈতিক আলোচনায় অবশ্যই সিরিয়ার ভৌগোলিক অখ-তা ও স্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে। সিরিয়ায় বিশেষ করে ইদলিবে সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সমাজের কর্মসূচিতে শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দেশ পুনর্গঠনে সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সিরিয়ায় আমেরিকার অবৈধ উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে
হবে। কারণ, অবৈধ উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ সিরিয়ায় অনিরাপত্তা বজায় রেখেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সিরিয়ার জনগণ ও সরকারের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের তৎপরতা ও দখলদারিত্ব প্রতিদিনই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্ব হলো তা মোকাবেলা করা। একই সঙ্গে তিনি সিরিয়া সংকট সমাধানে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার চেষ্টা ও অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেশটিতে পরিপূর্ণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

৭ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীকে ইউএনএইচসিআর এর অভিনন্দন জ্ঞাপন
জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আফগান অভিবাসী শিশুদেরকে ইরানে পড়ালেখা করার অনুমতি ও নির্দেশ দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তেহরানের একটি অভিবাসনকেন্দ্র পরিদর্শনকালে গ্রান্ডি বলেন, আমার মতে আফগান শিশুদের ইরানে পড়ালেখা করার সুযোগ দেয়ার জন্য ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর নির্দেশ অভিবাসী ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।
তিনি অভিবাসীদের সেবা প্রদানে ইরানের বিশেষ ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ইরানের শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় বিশেষ রকমের পরিকল্পনা রয়েছে এবং অন্যান্য দেশের জন্য তারা রোল মডেলের ভূমিকা রাখতে পারে।
গত মার্চ মাসে ইরানের একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা জানান যে, নয় লক্ষাধিক আফগান শরণার্থী ইরানে বসবাস করছে।
ইরানের অভিবাসীবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী সালেহী নাজাফাবাদি আফগানিস্তানকে মুসলমান বিশ্বের অংশ এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী আফগান শিশুদেরকে বাকি ইরানি শিশুদের সাথে একই শিক্ষায় শিক্ষিত করার আদেশ দিয়েছেন।
সালেহী নাজাফাবাদি আরো বলেন, প্রতিবেশীর নিরাপত্তা যত বেশি নিশ্চিত করা যাবে, ইরানের জন্য সেটা ততই উত্তম। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইরান চেষ্টা করছে আফগানদের এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে যারা নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, একটা সময় ইরানে প্রায় চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ইরাকি শরণার্থী ছিল, কিন্তু ইরাকের নিরাপত্তা ফিরে আসার পর তাদের অধিকাংশই নিজেদের দেশে ফিরে গিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় চল্লিশ হাজার ইরাকি ইরানে বসবাস করছে।

৮ পার¯পরিক বাণিজ্যে ডলার পরিহার করবে ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া
ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক পার¯পরিক বাণিজ্যে ডলার পরিহার করাসহ আরো কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করতে সম্মত হয়েছে। তিন দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে তেহরান, মস্কো ও আঙ্কারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর দিয়েছেন ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুররেজা হেম্মাতি।
তিনি শনিবার তেহরানে বলেছেন, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার তেহরানে সিরিয়া বিষয়ক যে শীর্ষ বৈঠক হয়েছে তার অবকাশে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। হেম্মাতি বলেন, শুক্রবারের শীর্ষ বৈঠকের সময় আমি ও ইরানের তেলমন্ত্রী তিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে রাশিয়া ও তুরস্কের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।
এসব আলোচনায় তেল ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, মৌলিক পণ্য বিনিময়, ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ডলার বাদ দিয়ে পার¯পরিক আর্থিক লেনদেনে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তেহরানে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করতে আব্দুররেজা হেম্মাতি অচিরেই মস্কো সফরে যাবেন বলে জানান।
ইরান সরকার এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে, দেশটির বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তেহরান বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

৯ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র আশুরা পালন
কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে গত ২০ সেপ্টেম্বর ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হয়। এর আগের দিন পালন করা হয়েছে আশুরার পূর্বদিন তথা তাসুয়া। মহররমের চাঁদ একদিন দেরিতে ওঠায় বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের সব দেশে ২০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় তাসুয়া। এসব দেশে শুক্রবার আশুরার শোক পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
রাজধানী তেহরানসহ সারা ইরানের বিভিন্ন শহরে লাখো কোটি জনতা আশুরার শোকমিছিলে যোগ দেন। ইরানের পাশাপাশি বেশিরভাগ আরব দেশে বৃহ¯পতিবার আশুরা উদযাপিত হয়। তাসুয়ার শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ মহররম খোদাদ্রোহী জালিম শাসক ইয়াযীদের শাসন মেনে নিতে অস্বীকার করায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাতি হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর কারবালা ময়দানে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল এক অসম যুদ্ধ। ইমাম ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী বীরত্বপূর্ণ এবং নীতি-নির্ধারণী ওই লড়াইয়ে শহীদ হয়ে অন্যায় ও
অবিচারের মোকাবেলায় সর্বোচ্চ ত্যাগ বা শাহাদাতের অমর আদর্শ শিখিয়ে গেছেন বিশ্বমানবতাকে।
মহান আশুরার দিনে ইরাকের পবিত্র কারবালা শহরে অন্তত ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান শোক পালন করেছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান আশুরার শোক পালন করতে পবিত্র কারবালা শহরে আসেন যেখানে রয়েছে আশুরা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র মাযার। ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্য-এশিয়া এবং আরব বিশ্বের নানা অঞ্চল থেকেও বিশ্বনবী (সা.)-এর আহলে-বাইত প্রেমিকরা কারবালায় জড়ো হন।
বিশ্বের নানা মহাদেশে, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আশুরার শোক-মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিয়ে শহীদ সম্রাট ইমাম হোসাইন ও তাঁর মহান সঙ্গীদের আত্মত্যাগের আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অঙ্গীকার ও অনুরাগ প্রদর্শন করেন।

১০ আদালতের রায় ইরানের পক্ষে; কোণঠাসা আমেরিকা
হেগের আন্তর্জাতিক আদালত গত ৩ অক্টোবর ২০১৮ এক ঐতিহাসিক রায়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের বিচারক আব্দুল কাভি আহমাদ ইউসুফ রায় ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘এই আদালত সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ওয়াশিংটন গত ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষিপণ্য ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা অবশ্যই উঠিয়ে নিতে হবে।’
আদালতের রায়ে ১৯৫৫ সালে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ওই চুক্তিতে দু’দেশই বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষা করা এবং কূটনীতিকদের অধিকার বিঘিœত হয় এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেন। এর প্রতিবাদে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালতও ইরানের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত চালায় এবং শেষ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রা¤প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার আগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আমেরিকাকে একঘরে হয়ে পড়ার ব্যাপারে ট্রা¤পকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এমন এক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান যার প্রতি ইউরোপসহ বিশ্বের অন্য প্রভাবশালী দেশ এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও সমর্থন রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হেগের আন্তর্জাতিক আদালত আমেরিকার বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছে তা ইরানের জন্য একটি বিশাল বিজয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি গত ৩ অক্টোবর এক সমাবেশে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের বিশাল রাজনৈতিক ও আইনি বিজয়। তিনি আরো বলেন, তার দেশের বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষী মনোভাব পোষণকারী কিছু লোক বর্তমানে আমেরিকা শাসন করছে। তারা ইরানকে নতজানু করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে কিন্তু এ কাজে সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
যাইহোক, হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের রায় নিঃসন্দেহে প্রমাণ করেছে ইরান সঠিক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র পরিদর্শকরাও ১২টি প্রতিবেদনে স্বীকার করেছেন ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রা¤েপর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও অন্যান্য দেশ ইরানের প্রতি সমর্থন জানায় এবং পরমাণু সমঝোতা থেকে ওয়াশিংটনের বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে।

১১ ইরান এবং চীনের মাঝে নতুন রেলপথ চালু
একটি নতুন সিল্করোডের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান এবং চীন নয় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চালু করেছে।
নতুন ইরান-চীন রেলপথটি চীনের মধ্য মঙ্গোলিয়াকে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বাম শহরের সাথে যুক্ত করেছে। এ পথ ব্যবহার করছে কার্গো এবং সেবাপ্রদানকারী রেল।
এই রেলপথের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র মধ্য মঙ্গোলিয়া থেকে আগত একটি কার্গো ট্রেন ইরানের বাম শহরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এটি পনের দিন পর ইরানের বাম শহরে প্রবেশ করবে। ট্রেনটি ৪১টি কন্টেইনার বহন করছে যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি এবং গাড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ যেগুলোর মূল্যমান এক মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে মধ্য মঙ্গোলিয়ার পশ্চিমের বায়ানুর শহর থেকে ছেড়ে আসা একটি কার্গো ট্রেন ইরানের রাজধানী তেহরান অভিমুখে রওয়ানা দেয়।
এই দুটি রেলপথ আরো বৃহৎ একটি পরিকল্পনার অংশবিশেষ, যার মাধ্যমে চীনকে ইরানের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সাথে যুক্ত করা হবে।

১১ (খ) ইরানের সঙ্গে লেনদেন করবে ৭ ইউরোপীয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তাঁর দেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতে এখন পর্যন্ত সাত ইউরোপীয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজি হয়েছে। ইরান যাতে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আমেরিকা ছাড়া ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়। সে কাজের অগ্রগতি স¤পর্কে জানাতে গিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ নিউ ইয়র্কে জাওয়াদ জারিফ এ তথ্য জানান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ইউরোপীয় দেশগুলো নয়; বরং বিশ্বের যেকোনো দেশ ইরানের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানিকারকরা যেমন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তেহরানকে অর্থ সরবরাহ করতে পারবেন তেমনি ইরানে পণ্য রপ্তানিকারকরাও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে তেহরানের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।

১১ (গ) ইরান ও কিরগিজিস্তানের মধ্যে ১২ শতাংশ বাণিজ্য বৃদ্ধি
ইরানে কিরগিজিস্তানের রাষ্ট্রদূত আভাজবেক আব্দুরজাকোভ বলেছেন, চলতি বছরে তাঁর দেশের সঙ্গে তেহরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ১২ শতাংশ। গত ১ অক্টোবর বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাণিজ্যের এ পরিমাণ ৬ কোটি ডলার। আব্দুরজাকোভ বলেন, দুটি দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চালু হলে বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি ইরানের বিনিয়োগকারীদের তাঁর দেশে আরো বিনিয়োগের আহ্বান জানান। কিরগিজিস্তানের কৃষি, শিল্প ও সংস্কৃতিতে এধরনের বিনিয়োগের সুযোগ বেশ রয়েছে বলে জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, তাঁর দেশ ইরানের জন্যে সব ধরনের সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়।

১২ গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোক্যামিকাল প্রকল্পের উদ্বোধন করলো ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি দক্ষিণ ইরানে অবস্থিত আশালুয়ে অঞ্চলে তিনটি পেট্রোক্যামিকাল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এগুলোর নাম মারযান পেট্রোক্যামিকাল প্লান্ট, পারদিস পেট্রোক্যামিকাল প্লান্টের তৃতীয় ধাপ এবং দামাভান্দ পেট্রোক্যামিকাল প্লান্টের প্রথম ধাপ।
এই প্রকল্পের আওতায় দেশের মোট বার্ষিক পেট্রোক্যামিকাল উৎপাদন ক্ষমতার ৩.৪ মিলিয়ন টন উৎপন্ন করা হবে। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী বিজান জাঙ্গানেহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পারদিস পেট্রোক্যামিকাল প্লান্টের তৃতীয় ধাপের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে এবং এর বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১৭ লক্ষ ম্যাট্রিক টন ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম।
উল্লেখ্য, এটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পটি মধ্যপ্রাচ্য এবং সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হলো যার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৫২৬৫ মিলিয়ন টন। এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ৩০০টি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে ৫৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
মারযান পেট্রোক্যামিকাল প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে, যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল বার্ষিক ১.৬৫ মিলিয়ন টন মিথানল উৎপাদন।
উল্লেখ্য, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ২৫০টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
দামাভান্দ প্রকল্পের প্রথম ধাপটি গড়ে তোলা হয়েছে পার্শ্ববর্তী ২৪টি পেট্রক্যামিকাল প্লান্টের জন্য বিদ্যুৎ এবং গরম বা®প উৎপাদনের লক্ষ্যে। এটি থেকে ৬৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে এবং চারটি গ্যাস টারবাইনের মাধ্যমে চলবে। এই প্রকল্পটি তৈরিতে ৩৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে যেখানে ১৬৬ জন মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

১২ (খ) সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণে ইরানের সাফল্য
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যারিন ইন্ডাস্ট্রিস অর্গানাইজেশনের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আমির রাস্তেগারি বলেন, তাঁর দেশ সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণে বিশেষ সাফল্য অর্জনের পর এধরনের প্রযুক্তিগত সফলতা উপভোগ করছে। গত ১৪ অক্টোবর তেহরানে তৃতীয় ইন্টারন্যাশনাল ফিশারিজ এক্সিবিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। এসময় তিনি এ শিল্পে ইরানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। রিয়ার অ্যাডমিরাল আমির রাস্তেগারি বলেন, প্রতিরোধের অর্থনীতির অংশ হিসেবেই ইরান জাহাজ শিল্পে বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৭৬টি জাহাজ তৈরি করা হয়েছে। চারটি শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব জাহাজ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরো ৮০টি জাহাজ তৈরি করা য়েছে। নৌ বাহিনীর উদ্যোগে বেসামরিকভাবে ব্যবহারের জন্যে আরো ১৮০টি নৌযান তৈরি করা হয়েছে।

১৩ আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরান এখন একটি বড় শক্তি : জে. হাতামি
আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান এখন একটি বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে মিলে প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক গবেষণা কো¤পানি প্রতিরক্ষা শিল্পে একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের সমন্বয়ের ফলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা খাত এখন অনেক শক্তিশালী হয়েছে।
জেনারেল আমির হাতামি জানান, শিগগিরি দেশীয় প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি হবে কোসার-৮৮ প্রশিক্ষণ বিমান যার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, বিমান শক্তি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জয়পরাজয় নির্ধারণকারী শক্তি। এ ক্ষেত্রে গত ৪০ বছরে ইরান অনেক উন্নতি করেছে এবং নানা রকমের রাডার, ড্রোন, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী গড়ে তুলেছে।
ইরান এরই মধ্যে মহাকাশে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। এছাড়া, আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যে বাব্্র্্ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে তা রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা।

১৪ সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করল ইরান
বিভিন্ন ধরনের সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটির আণবিক শক্তি কমিশন বা এইওআই-এর বিশেষ উপদেষ্টা আলি আসগার জারিন এ কথা জানিয়েছেন।
পরমাণু কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যন্ত্রের নাম সেন্ট্রিফিউজ। ওই উপদেষ্টা বলেন, ইরান অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনে স্বয়ংস¤পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই যন্ত্র অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করার আর কোনো প্রয়োজন নেই।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইরানের কোম প্রদেশে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন এইওআই-এর বিশেষ উপদেষ্টা। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ওই বক্তৃতা দেন।
এসময় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ইরানের অত্যাধুনিক পরমাণু প্রযুক্তি অর্জনের যে সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা তুলে ধরেন জারিন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের বিরতিহীন ও অদম্য প্রচেষ্টায় অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজের বিভিন্ন প্রজন্ম আজ দেশীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে।
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, আরাকের আধুনিক ভারী পানি চুল্লির জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হবে।

১৫ বৈশ্বিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছাড়িয়েছে ইরান
বৈশ্বিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছাড়িয়ে উপরে অবস্থান করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে দেশটি ১২৪টি দেশের মধ্যে ৫৮তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে দেশটি ১০৭তম অবস্থানে রয়েছে।
ইন্টারনেট গতি মাপার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওকলারের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একটি দেশে মোবাইল ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কেমন, তা নির্ধারণে প্রতি মাসে ‘¯িপডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিবেদনের সর্বশেষ সংস্করণে ইরানের ইন্টারনেট গতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোড এখন প্রতি সেকেন্ডে ২৩ দশমিক ৭৯ মেগাবাইট, আপলোড ৯ দশমিক ৩৪ মেগাবাইট। অন্যদিকে, বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেটে ডাউনলোডের গড় গতি প্রতি সেকেন্ড ২২ দশমিক ৮১ মেগাবাইট ও আপলোড ৯ দশমিক ১৩ মেগাবাইট। অর্থাৎ বৈশ্বিক গড় গতির চেয়ে বেশি গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে ইরানে।
তবে মোবাইল ফোনের চেয়ে ইরানের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বেশ কম। ফাইবার অপটিক তারের মাধ্যমে ব্যবহৃত ইন্টারনেটকেই ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বলা হয়। এখানে ১৩৩টি দেশের মধ্যে দেশটি আছে ১০৭ নম্বরে।
এবার মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে কাতার। তাদের ডাউনলোড গতি সেকেন্ডে ৬২ দশমিক ৬৩ মেগাবাইট। ব্রডব্যান্ডে প্রথম অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তাদের গড় ডাউনলোড গতি সেকেন্ডে ১৮১ দশমিক ৪৭ মেগাবাইট। এছাড়া মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে নরওয়ে ও আরব আমিরাত। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হংকং ও আইসল্যান্ড। বাংলাদেশ মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে ১১২তম ও ব্রডব্যান্ডে ৮১তম অবস্থানে রয়েছে।

১৫ (ক) ইরানে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৯৭ ভাগ
ইরানের শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মাদ বাতহায়ি জানিয়েছেন, দেশটির ১০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নাগরকিদের মধ্যে এখন সাক্ষরতার হার ৯৬ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২৯ বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে এই হার ৯৭ শতাংশের ওপরে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বাতহায়ির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানায় ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা।
তিনি আরও জানান, তাঁর দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বেড়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে ঠেকেছে। এই হার শতভাগে গিয়ে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাতায়ি জানান, দায়বদ্ধ সব সংস্থাগুলোর সব ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত শিক্ষাবর্ষে (সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে জুন ২০১৮) দেশটির ১ লাখ ৪২ হাজার শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। এবছর ঝরে পড়ার হার বাড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।
‘একই সময়ে আমরা স্কুল থেকে ঝরে পড়া ৩১ হাজার ৯১০ জন শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়েছি’, বলছিলেন বাতহায়ি।
উল্লেখ্য, মাঠ পর্যায়ে সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য এবছর ইরানের লিটারেসি মুভমেন্ট অরগানাইজেশন ইউনেস্কো কনফুসিয়াস লিটারেসি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। এ প্রসঙ্গে বাতহায়ি জানান, সংগঠনটির ‘কনসলিডেটেড টিচিং অব লিটারেসি অ্যান্ড আইসিডিএল বেসিক ক¤িপউটার স্কিলস’ শীর্ষক কর্মসূচির জন্য ২০১৮ ইউনেস্কো পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

১৫ (খ) বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রকাশে ১৫তম অবস্থানে ফারসি ভাষা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘স্কোপাস ডাটাবেইজ’ এর তথ্যমতে, বিগত ২০ বছরে ফারসি ভাষায় বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রকাশের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ গুণ। যার ফলে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার সংখ্যায় বিশ্বে ১৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ভাষাটি।
ইসলামিক ওয়ার্ল্ড সাইন্স সিটেশন সেন্টারের (আইএসসি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ জাভাদ দেহগানি এই তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের শিরাজে চলমান ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক ১৩তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবকাশে গত ১৪ অক্টোবর তিনি এই তথ্য জানান।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ সিটেশন ডাটাবেজ স্কোপাসের তথ্যমতে, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৭ সালের শেষ অবধি ফারসি ভাষায় বৈজ্ঞানিক সাময়িকী প্রকাশের সংখ্যা বেড়েছে ৪০ গুণ। এই অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার সংখ্যায় বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে দেশটির। ৩০তম অবস্থান হতে অগ্রগতি হয়ে বর্তমানে ১৫তম অবস্থানে রয়েছে ইরান।
দেহগানি জানান, ২০১৭ সালে ফারসি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৪টিতে। গত ২০ বছরে ফারসি বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশে ফারসির বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশ।
৫৮টি ভাষার বিজ্ঞান সাময়িকী বিশ্লেষণ করে এই সূচক প্রকাশ করেছে স্কোপাস। এতে দেখা যায়, এসব প্রকাশনার প্রায় ৯০ ভাগই ইংরেজি ভাষার। ইংরেজির পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন, জার্মান, ফরাসি ও ¯েপনিশ ভাষা।

১৫ (গ) অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অবদান : অ্যাওয়ার্ড পেল ইরান
অসংক্রামক রোগ তথা এনসিডি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতিসংঘ আন্তসংস্থা টাস্ক ফোর্স (ইউএনআইএটিএফ) অ্যাওয়ার্ড লাভ করল ইরান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এনসিডি কমিটি এই সম্মাননা লাভ করে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদান রাখায় কমিটিকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রোগ্রাম উপ-মহাপরিচালক সোমিয়া স্বামিনাতান ইরানের এনসিডি কমিটির প্রতিনিধির হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এনসিডি বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রেন্ডস অব দ্যা টাস্ক ফোর্স’ মিটিংয়ে এই সম্মাননা প্রদান করে হু।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েনায় ইউএনআইএটিএফের দশম বৈঠকে ইউএনআইএটিএফ অ্যাওয়ার্ড দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। যারা অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদান রাখবে তাদের সেই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ অ্যাওয়ার্ডটি চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
সোমিয়া বলেন, বিগত ৪০ থেকে ৫০ বছর যাবৎ স্বচ্ছ পানি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যার ফলে ইরান এখন চোখের সংক্রামক রোগ নির্মূল হওয়া দেশগুলোর অন্যতম।
উল্লেখ্য, হু এর এনসিডি নির্মূল কার্যক্রমের আওতায় ২০১৫ সালে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান কাজিযাদেহ হাশেমিকে প্রধান করে গঠিত কমিটির নাম দেয়া হয় ন্যাশনাল নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কমিটি।

১৬ দেশীয় তৈরি সাবমেরিন উন্মোচন করছে ইরান
চলতি ইরানি বছরের শেষ নাগাদ (২১ মার্চ ২০১৯) স¤পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি সাবমেরিন উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান। নবনির্মিত ফাতেহ শ্রেণির এই সাবমেরিনটি স¤পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। সাবমেরিনের পাশাপাশি সামুদ্রিক জাহাজের নবনির্মিত সরঞ্জামও উন্মোচন করবে দেশটি।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যারিন ইন্ডাস্ট্রিজ অরগানাইজেশনের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আমির রাসতেগারি এই তথ্য জানিয়েছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি নিউজ নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই তথ্য জানান।
আমির রাসতেগারি বলেন, ইরানের ভাড়া করা জাহাজে পণ্যপরিবহনের পরিবর্তে নিজস্ব জাহাজ নির্মাণের যে নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশীয়ভাবে সামুদ্রিক পণ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছর দেশটির মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রির হাই কাউন্সিলে এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। এ পরিকল্পনা মোতাবেক দেশের চারটি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানে দেড় মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে ১৭৬টি নতুন জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে।
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেরিন ইন্ডাস্ট্রিজ অরগাইনাইজেশন ৭০টি জাহাজ নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এসব জাহাজের নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান আমির রাসতেগারি।

১৭ বছরে বিদ্যুৎ রফতানিতে ইরানের আয় ৪ বিলিয়ন ডলার
ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে গত ৫ বছরে ৪২ হাজার ৯২৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রফতানি করেছে। এক্ষেত্রে দেশটির আয় ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আগামীতে দেশগুলোর সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ রফতানি চুক্তি করেছে ইরান। এ চুক্তি থেকে ইরান তার প্রযুক্তি ও কারিগরি আয়ের ৭০ভাগ অর্জন করতে সমর্থ হবে। আযারবাইজান, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও ইরাকে বিদ্যুৎ রফতানি করছে ইরান।
নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী শীতকালে আর্মেনিয়া ও আযারবাইজানে বিদ্যুৎ রফতানি করবে ইরান এবং গ্রীষ্মকালে এ দুটি দেশ থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ আমদানি করবে। একই সঙ্গে ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আর্মেনিয়ায় ইরান থেকে তৃতীয় একটি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্যে খরচ হবে ১০৭ মিলিয়ন ডলার।
আগামী বছরে ইরান রাশিয়া, আর্মেনিয়া ও জর্জিয়ায় আরেকটি বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন নির্মাণ শেষ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান রফতানি ছাড়াও বিদ্যুৎ আমদানিতেও শীর্ষস্থানে। ৮০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ইরানের। বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৪তম স্থানে রয়েছে দেশটি। ২০২৫ সালে ইরান বিদ্যুৎ খাত থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আগাচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ শিল্প ৪০টি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও কারিগরি সেবা রপ্তানি করছে। ইরাক ও সিরিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের কাজ শুরু করেছে দেশটি। এছাড়া তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, আযারবাইজান,আর্মেনিয়া, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, শ্রীলংকা, উগান্ডা, নাইজেরিয়া, ইথিউপিয়া, ওমান ও ভারতে ৫৮টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইরান।

১৮ ইরানের হাতে ৩০টি মহাকাশীয় উপগ্রহের স্লট (ড়ৎনরঃধষ ংষড়ঃ)
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের হাতে ৩০টি জিওস্টেশনারী অরবিটাল স্লট রয়েছে এবং এই ফাঁকা স্লটগুলো ইরান নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় স্থাপনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ করবে।
ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান মোরতাযা বারারি মেহের নিউজকে জানান যে, ৩০-এর অধিক অরবিটাল স্লট ইরানের জন্য নিবন্ধিত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, এই মহাকাশীয় ফাঁকা স্থানগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত ইরানের হাতে থাকবে। আবেদনের পর থেকে পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে যদি ইরান সেগুলো পূর্ণ করতে না পারে তবে সেগুলো অন্য দেশকে দিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বৃহদাকার মহাকাশীয় স্থাপনা স্থাপনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির ব্যাপ্তি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন যাতে সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত কক্ষপথগুলোতে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করতে পারে।
তিনি আরো জানান যে, মার্কিন অবরোধ মহাকাশের ওপর ইরানের অধিকারের ওপর কোন রকম প্রভাব ফেলতে পারবে না।
বর্তমানে চুল্লিটির পুনঃনকশা ও আধুনিকীকরণের কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে আরাক পানি চুল্লির জন্য সংশ্লিষ্ট সব পার্টস ও সরঞ্জাম নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

১৯ এবার ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস পুরস্কার গেল ইরানে
গ্রাম পর্যায়ে সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর ‘ইউনেস্কো কনফুসিয়াস লিটারেসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ পেল ইরানের সাক্ষরতা আন্দোলন সংস্থা (লিটারেসি মুভমেন্ট অরগানাইজেশন)। ‘কনসলিডেটেড টিচিং অব লিটারেসি’ ও ‘আইসিডিএল’ শীর্ষক দুই কর্মসূচির জন্য এই পুরস্কার লাভ করল সংস্থাটি। প্রতি বছর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসের একদিন আগে প্যারিসে ইউনেস্কো’র সদর দফতরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ইউনেস্কোর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২শ অংশগ্রহণকারী যোগ দেয়। যারা বিশ্বব্যাপী সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা বিকাশ নিয়ে কাজ করে চলেছেন।
এ বছর সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় ইরান,আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, ¯েপন ও উরুগুয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো এই পুরস্কার লাভ করল। পাঁচ দেশের পাঁচ বিজয়ীর প্রত্যেকেই অ্যাওয়ার্ড হিসেবে একটি ক্রেস্ট,সার্টিফিকেট ও ২০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছে।
চীন সরকারের সহায়তায় ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০০৫ সালে চালু হয়। এর উদ্দেশ্য হলো নিরক্ষরতা দূরীকরণে লক্ষ্যণীয় কৃতিত্ব অর্জনকারী ব্যক্তি,সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রশংসা করা।

২০ হেগ শহরে ইরানের হস্তশিল্পের প্রদর্শনী
গত ৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের মিউনিসিপ্যাল জাদুঘরে ইরানের ১০০টি হস্তনির্মিত সামগ্রী প্রদর্শিত হয়েছে। ‘ঐশ্বর্য এবং নান্দনিকতা- ইসলামি বিশ্বের শিল্প’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি গত ৮ সেপ্টেম্বর হেগ শহরে শুরু হয় যেখানে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেযা জাহাঙ্গীরী এবং হেগের মেয়র পাউলিনা ক্রিকে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ প্রদর্শনীটি শেষ হবে।
৯০০-১৯০০ খ্রিস্টীয় সময়কালের ৩০০টি বস্তুসামগ্রী এখানে প্রদর্শিত হয় যার মধ্যে ১০০টি ছিল ইরানের।
হেগের পৌর জাদুঘরটি একটি শিল্প জাদুঘর, যেটা তৈরি করেন ডাচ স্থাপত্যশিল্পী বারলার্জ। এখানে রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম মন্ড্রিয়ান আর্ট (সড়হফৎরধহ) এর সংগ্রহ।
জাদুঘরটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘ঐশ্বর্য এবং নান্দনিকতা’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পবস্তুকে এক জায়গায় করেছে। প্রদর্শনীটি অত্যন্ত জাঁকজমকের মাঝে নজর দিচ্ছে মুসলিম শিল্প ধারার আলঙ্কারিক সৌন্দর্য এবং এগুলোর পেছনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং কারুশিল্পের দিকে।
ইসলামি জগতের শিল্পে আলঙ্কারিক সৌন্দর্য খুব বিস্তারিতভাবে ফুটে উঠেছে। এ সমৃদ্ধ শিল্পে একটি ধর্মীয় চেতনাবোধ বিদ্যমান; বিশ্বাসিগণকে মৃত্যুর পরে তাদের জন্য অপেক্ষারত জগতের সৌন্দর্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। ইসলামি জগতের মৌলিক এবং ইতিবাচক প্রতীকগুলোর জট খুলে দেয়। এভাবে প্রদর্শনীটি ইসলামি জগতের কারিগরদের একটি গীতিকাব্যে পরিণত হয়। প্রাচীন শিল্প যেমন কাচ-এর গোলক বানিয়ে সেটাকে অলংকৃত করা, কাঠ খোদাই, ক্যালিগ্রাফি, গালিচার ওপর ডিজাইন ইত্যাদি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং এগুলোর পেছনের পৃষ্ঠপোষকতার ইতিহাস উন্মোচিত করে।
প্রায় ২০০টি ইরানি এন্টিক সামগ্রী ইরানের জাতীয় জাদুঘর থেকে নিয়ে নেদারল্যান্ডের ড্রেন্টস মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনীটির নাম দেয়া হয়েছে ‘সভ্যতার জন্মভূমি’। শুরু হয়েছে জুনের সাত তারিখ থেকে এবং চলবে নভেম্বরের ১৮ তারিখ পর্যন্ত।
ইরানের সাস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং পর্যটন বিষয়ক সংস্থার প্রধান আলি আজগার মৌনিসান জানান ৩০০টি ডাচ এন্টিক সামগ্রী নিয়ে তেহরানভিত্তিক জাতীয় জাদুঘরে শীঘ্রই একটি প্রদর্শনী হবে।

২০ (খ) ভিয়েনার আলবার্টিনা জাদুঘরে ইরানের ছবি
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আলবার্টিনা জাদুঘরে ইরানের বেশ কয়েকটি ছবি প্রদর্শিত হয়। এ প্রদর্শনী ২ অক্টোবর শুরু হয়ে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলে। অন্তত ৮০টি ইরানি ছবি দর্শকদের নজর কাড়ে। ইরানের বর্তমান জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে তোলা হয়েছে এসব ছবি। ২০১৭ সালে ইরানে বেড়াতে এসেছিলেন ৬৬ বছর বয়স্ক প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার আলফ্রেড সেইল্যান্ড। তাঁরই হাতে তোলা এসব ছবি। ইরানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবিও তোলেন তিনি।
ইরানের কেরমান প্রদেশের বাম শহরে আরগ-ই বাম ভবনের ছবি তোলেন আলফ্রেড সেইল্যান্ড। ২০০৩ সালে ভবনটি ভূমিক¤েপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউনেস্কো আরগ-এ বামকে আগেই বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে।
আলফ্রেড সেইল্যান্ড এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন শহরের ছবি তুলে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হন। সেসব ছবিও ভিয়েনার এ প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

২১ ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াড : ৪ মেডেল জিতল ইরানি শিক্ষার্থীরা
জাপানে ক¤িপউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াডে (আইওআই) অংশ নিয়ে ৪টি মেডেল জয় করে ইরানের তরুণ ক¤িপউটার বিজ্ঞানীরা। আইওআই এর এবারের ৩০তম আসর থেকে এসব পদক লাভ করে দেশটির চার শিক্ষার্থী। ২০১৮ আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াড জাপানের সুকুবায় ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে ৯ শতাধিক ক¤িপউটার বিজ্ঞানী অংশ নেয়।
চার সদস্যবিশিষ্ট ইরানি টিম ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চারটি মেডেল জয় লাভ করতে সক্ষম হয়। ইভেন্টে দেশটির পক্ষে স্বর্ণপদক জিতেছে মোহাম্মাদ মাহদাবি। রৌপ্যপদক জিতেছে কেইভান রেজায়ি ও মেহরদাদ সাবেরি। ব্রোঞ্জপদক ঘরে তুলেছে সৈয়দ মাহদি সাদেঘ শোবেইরি।
আন্তর্জাতিক গণিত অলি¤িপয়াডের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অলি¤িপয়াড হিসেবে বিবেচনা করা হয় আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াডকে (আইওআই)। প্রতি বছর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে এই ক¤িপউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইনফরমেটিক্স অলি¤িপয়াডের আগের আসরের আয়োজক ছিল ইরান। ওই আসরে ১টি স্বর্ণ ও তিনটি রৌপ্যপদক জয় লাভ করে জাপান, চীন ও রাশিয়ার পর চতুর্থ অবস্থান দখল করে দেশটি। আইওআই এর
আগামী আসর বসবে আযারবাইজানে।

২২ বিশ্ব জুনিয়র দাবা প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়লো ইরানের মাঘসুদলু
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইরানি গ্রান্ডমাস্টার পারহাম মাঘসুদলু ফিদে বিশ্ব জুনিয়র দাবা চ্যা¤িপয়নশিপ ২০১৮-তে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন। প্রতিযোগিতার দশম রাউন্ডে রাশিয়ার ম্যাক্সিম ভাভুলিনকে হারিয়ে দুই রাউন্ড বাকি থাকতেই ট্রফি নিজের করে নেন মাঘসুদলু। তবে তিনি যদি উক্ত রাউন্ডে ড্রও করতেন তারপরেও তা পদক জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোন ইরানি এ সম্মানজনক পদক অর্জন করলেন।
১৮ বছর বয়সী এই দাবাড়– ১০ এর মধ্যে ৯.৫ পয়েন্ট লাভ করেন যা ছিল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দু’পয়েন্ট বেশি। ইরানি এই দাবাড়–কে ‘পারস্যের জাদুকর’ আখ্যা দিয়ে প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লেখা হয়, নিঃসন্দেহে আমরা একজন বিরাট প্রতিভাধারীর সম্মুখীন হয়েছি এবং নিশ্চিতভাবে আসন্ন দিনগুলোতে দাবার অভিজাত বৃত্তে সে জায়গা করে নেবে।
ফিদে বিশ্ব জুনিয়র দাবা প্রতিযোগিতা ২০১৮ সেপ্টেম্বরের চার তারিখ তুরস্কের কোকায়েলী প্রদেশের গেবযে শহরে শুরু হয়।

২৩ ইরানের রোলার হকি স্কেটারদের এশিয়া সেরার মর্যাদা অর্জন
গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাপানকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ইরানের জাতীয় রোলার ইনলাইন হকি দল ১৮তম এশীয়ান ইনলাইন রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর শিরোপা অর্জন করেছে। ইরানি পুরুষ ইনলাইন হকি দল তাদের জাপানি প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে প্রথমবারের মত স্বর্ণপদক অর্জন করে।
১৮তম এশীয়ান রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতা দক্ষিণ কোরিয়ার নামওন শহরে গত ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এবং ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।
ফাইনালের আগে ইরানি দল দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর দলকে পরাজিত এবং চাইনিজ তাইপের সাথে ড্র করে। ইরানি মহিলা দল ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে।
১৯টি দেশ থেকে প্রায় এক হাজার স্কেটার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

২৪ (ক) এশিয়ান গেমসের ভলিবলে স্বর্ণ জিতল ইরান
ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের ভলিবলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে স্বর্ণপদক লাভ করে ইরানের পুরুষ ভলিবল দল। এশিয়ান গেমসে ইরান ২০টি স্বর্ণ, ২০টি রৌপ্য এবং ২২টি ব্রোঞ্জ জিতে পদক তালিকার ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার জিবিকে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ভলিবলের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হয় ইরান। ফাইনাল ম্যাচে প্রতিপক্ষকে পরপর তিন সেটে পরাজিত করে স্বর্ণপদক ঘরে তোলে দেশটির ভলিবল খেলোয়াড়রা।
জাকার্তায় ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরর্ম করে ইরানি স্কোয়াড। পরপর তিন সেটে যথাক্রমে ২৫-১৭, ২৫-২২ ও ২৫-২১ পয়েন্টের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়াকে মাঠ ছাড়া করে। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমস ভলিবল প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় স্বর্ণপদক ঘরে তোলে ইরান।
এরআগে এশিয়ান গেমসের ভলিবলের সেমি ফাইনালে কাতারকে পরাজিত করে ইরান। ভলিবলে প্রথম তিন ম্যাচে পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ঘরে তোলে ইরানি দিল।

২৪ (খ) এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস গড়ল ইরান
২০১৮ এশিয়ান প্যারা গেমসে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ৫১টি স্বর্ণপদক জেতেন ইরানি অ্যাথলেটরা। এসব পদক জয়ের মধ্য দিয়ে প্যারা গেমসে এই প্রথম তৃতীয় স্থান অর্জন করল দেশটি। ‘উই ক্যান ডু ইট উইথ ট্রাস্ট অ্যান্ড ইফোর্ট’ (আস্থা ও প্রচেষ্টায় এটা করতে পারি আমরা) ¯ে¬াগানে ৬ অক্টোবর শুরু হওয়া গেমসটির পর্দা নামে ১৪ অক্টোবর।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যারা গেমসে ইরান থেকে ২০৯ জন প্যারা-অ্যাথলেট অংশ নেন। ৫১টি স্বর্ণ, ৪২টি রৌপ্য ও ৪৩টি ব্রোঞ্জপদকসহ তাঁরা মোট ১৩৬টি মেডেল জেতেন। এসব পদক জয়ের মধ্য দিয়ে ইরানি অ্যাথলেটরা জাপান, উজবেকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে পদক তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে।
ইরানের জন্য সবচেয়ে বেশি পদক এনে দিয়েছেন দেশটির প্যারা-অ্যাথলেটরা। তাঁরা জিতেছেন ২৭টি স্বর্ণ, ২৫টি রৌপ্য ও ২৯টি ব্রোঞ্জ মেডেল। টিমের সামগ্রিক পারফরমেন্সে যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
এবারের প্যারা গেমসের আসর থেকে ইরানের পক্ষে সর্বোচ্চ পদক জিতেছেন সাঁতারু শাহিন ইজাদাইর। তিনি একাই ছয়টি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্যপদক জয় করেন। ইভেন্টের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে বরাবরের মতো এবারও এশিয়া প্যারা গেমসের শিরোপা ঘরে তুলেছে চীন। দেশটি ১৭১টি স্বর্ণ, ৮৮টি রৌপ্য ও ৫৯টি ব্রোঞ্জপদক সহ মোট ৩১৯টি পদক জয় লাভ করে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া মোট ১৪৫টি পদক জিতে রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

২৫ দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়ন ইরান
জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়নশিপের শিরোপা জিতল ইরান। ৪টি স্বর্ণ ও ২টি ব্রোঞ্জপদক এবং সর্বমোট ১৩৬ পয়েন্ট সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল দেশটির গ্রেকো-রোমান টিম। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দেশটি।
চ্যা¤িপয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচে ৭২ কেজি ওজন শ্রেণিতে জর্জিয়ার প্রতিপক্ষ নিকোলোজ শিকাইদজেকে পরাজিত করেন ইরানের আমিন ইয়াভার কাভিয়ানিনেজাদ। দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মাধ্যমে সোনার মেডেল ঘরে তোলেন তিনি। ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জপদকের লড়াইয়ে ইউক্রেনের ইহোর কুরোচকিনকে পরাজিত করেন ইরানের আলিরেজা নেজাতি। অন্যদিকে, ভারতের বিজয়কে হারিয়ে স্বর্ণপদক ঘরে তোলেন তুরস্কের কেরেম কামাল।
ইরানের পক্ষে দ্বিতীয় ব্রোঞ্জপদক জয় করেন ইউসেফ হোসেইনভান্দ। তিনি মিশরীয় প্রতিপক্ষ মোহামেদ এলসায়েদকে পরাজিত করে এই পদক জিতেন। এই বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেন আরমেনিয়ার মালখাস আমোয়ান। তিনি উজবেকিস্তানের মাখমুদকে পরাজিত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার দেশের জন্য তিন-তিনটি স্বর্ণপদক এনে দেন ইরানের পুয়া নাসেরপুর, মোহাম্মাদ সারাভি ও আমিন মিরজাজাদেহ। ফারসি স্কোয়াড মোট ১৩৬ পয়েন্ট সংগ্রহের মধ্য দিয়ে জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়নশিপের গ্রেকো-রোমান ইভেন্টে চ্যা¤িপয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। চ্যা¤িপয়নশিপে রাশিয়া ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ও আরমেনিয়া ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
¯ে¬াভাকিয়ার ত্রানাভায় ১৭ সেপ্টেম্বর জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়নশিপের পর্দা ওঠে। টুর্নামেন্টের পর্দা নামে ২৩ সেপ্টেম্বর।

২৬ ইরান থেকে অস্কারে যাচ্ছে ‘নো ডেট, নো সিগনেচার’
২০১৯ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড তথা অস্কারের ৯১তম আসরে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবে ‘নো ডেট, নো সিগনেচার’। ভাহিদ জলিলভান্দ পরিচালিত চলচ্চিত্রটি অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে লড়বে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য ছবিটিকে নির্বাচিত করেছে ইরানের ফারাবি সিনেমা ফাউন্ডেশন। চলচ্চিত্রটি নিয়ে এবারের অস্কার জয়ের বিষয়ে আশাবাদী দেশটির সিনেমা কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে ২০১৯ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল ফারাবি ফাউন্ডেশন। তা সত্ত্বেও ফাউন্ডেশন কেন এতে অংশ নিচ্ছে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘অ্যাকাডেমিটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এটি আমেরিকার সিনেমাজগতের সাথে সংশ্লিষ্ট।’
অস্কারের ৯১তম আসরের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে ইরানের পাঠানো ছবিটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০তম ইরান সিনেমা সেলেব্রেশনে অংশ নেয়। চলচ্চিত্রটি এই উৎসবে একাধিক পুরস্কার লাভ করে চমক লাগাতে সক্ষম হয়। ছবিটি একাধারে সেরা পরিচালক, সেরা চলচ্চিত্র, সেরা স্ক্রিপ্ট এবং সেরা সহ-অভিনেত্রী ও সেরা অভিনেতা অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।
চলচ্চিত্রটির গল্প এগিয়ে গেছে নারিমান নামের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে যার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল আরোহীর আট বছর বয়সী সন্তান আহত হয়। নারিমান তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে চাইলেও শিশুটির পিতা নারিমানের কোন ধরনের সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরদিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে নারিমান আবিষ্কার করেন, সন্দেহজনকভাবে মৃত্যুর পর আগের দিনের দুর্ঘটনায় শিশুটির লাশ আনা হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।
এর আগে ইরান অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে ২০১৭ সালে ‘দ্যা সেলসম্যান’ এবং ২০১২ সালে ‘এ সেপারেশন’ ছবির জন্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। অস্কারজয়ী দুটি ছবিই পরিচালনা করেছেন প্রশংসিত ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগার ফারহাদি।

২৭ ঢাকায় ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ৩ নভেম্বর শুরু
রাজধানী ঢাকায় আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় আগামী ৩ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৪ টায় এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রদর্শনী শুরু হবে এবং এই প্রদর্শনী চলবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি চলচ্চিত্র দেখানো হলেও ৪ নভেম্বর থেকে ৬
নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে ১ টা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত দুটি করে চলচ্চিত্র দেখানো হবে। এই চলচ্চিত্র দেখার জন্য কোন টিকিটের প্রয়োজন হবে না।
এদিকে, ৯ নভেম্বর থেকে দেশের ৩টি বিভাগীয় শহরে শুরু হতে যাচ্ছে ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৫ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। ১৩ই নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে।