শনিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮ 

‘জনগণের এই বিশাল উপস্থিতি শত্রুদের জন্য কঠোর জবাব’ : রাহবার

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বিজয় বার্ষিকীর সমাবেশে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ বিদেশি শত্রুদের জন্য চরম জবাব।
বিপ্লব বার্ষিকীর সমাবেশে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ও অংশগ্রহণকে মহান এবং চোখ ধাঁধাঁনো ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই বিশাল মহিমান্বিত উপস্থিতি যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি তা বিদেশি শত্রু ও যারা দুর্বল বিশ্বাস নিয়ে ছিল তাদের জন্য কঠোর এবং নিশ্চিত জবাব।’
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘আপনারা এই বিশাল উপস্থিতির মাধ্যমে শত্রুদেরকে বাস্তবেই বিপ্লবের উজ্জ্বলতা ও গতিশীলতা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং আপনারা নানা স্লোগানের মাধ্যমে মরহুম ইমামের আদর্শের ওপর অটল থাকার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন।’
ইরানের জনগণের এই অনন্য বিষয়টিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি সর্বোচ্চ নেতা আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পূর্ণ দৃঢ়তা ও বিপ্লবী চেতনা নিয়ে ইরানের জনগণের সেবা দিতে হবে। পাশাপাশি বিপ্লবের আদর্শকে রক্ষা করতে হবে। সর্বোচ্চ নেতা  সুস্পষ্ট করে বলেন, ‘সতর্কতা ও দূরদৃষ্টিতার ওপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ।’

ইরানের সহযোগিতায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে : ড. রুহানি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ইরানের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জাতিও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসলামি বিপ্লব বার্ষিকীর বিশাল সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ড. রুহানি আরও বলেন, ইরান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে। আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে সন্ত্রাসীরা যেখানে ইচ্ছা প্রবেশ করে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু তারা ইরানের সীমান্তে এসে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের লোকজন এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি’র কাছে ধরাশায়ী হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার মানুষের প্রতি ইরানিরা সহযোগিতার যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তা সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরা সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
বিপ্লব বার্ষিকীর সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে এটা জানিয়ে দিয়েছি যে, আমরা শক্তিশালী। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি এবং সঠিক পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি।’
ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দাসের বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব আমেরিকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু মুসলিম দেশ নয়, জাতিসংঘের গুটি কয়েক দেশ ছাড়া আর সবাই সাধারণ পরিষদে ওই ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড- করতে চায়। ইরাকি জাতির সচেতনতা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহযোগিতার কারণে ইরানের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অখ-তা নিশ্চিত হয়েছে। লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা ও মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতার কারণে লেবাননেও আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বহুপক্ষীয় আলোচনায় ইরানের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার সমাধান করতে হবে রাজনৈতিক উপায়ে এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়। কিন্তু ইরানের জনগণ ঐক্য, সংহতি ও দৃঢ়তার মাধ্যমে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু সমঝোতার বিরুদ্ধে মার্কিন ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকা এ পর্যন্ত কয়েক বার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক এ সমঝোতাকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সফল হয় নি।
তারা যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে চায় তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতির শিকার হবে।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বার্ষিকী উদযাপিত

ইসলামি বিপ্লবের ৩৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানের ঐতিহাসিক আজাদি চত্বরে জনসমাবেশ এবং শোভাযাত্রা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এতে ব্যাপক জনসমাগম হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শত্রুদের বিরুদ্ধে এখান থেকে বজ্র কণ্ঠে স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে।
এ চত্বরে ভাষণ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তাঁর ভাষণের আগে আজাদি চত্বরে হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ করেন ইরানি প্যারাট্রুপারের একটি দল। নামার সময় এক ছত্রী সেনার সাথে ছিল অতি বিশাল এক ইরানি পতাকা। কেউ কেউ নেমে আসতে আসতে উড়িয়েছেন রঙ্গিন ধূম্রজাল। ছত্রী সেনারা নিপুণ দক্ষতায় অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রাণঢালা করতালি দিয়ে তাঁদেরকে বরণ করেন। এ ছাড়া, তাঁদের সাথে সেলফি তুলতে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। মানুষের এ ভালবাসার আবদারে হাসিমুখেই সাড়া দিয়েছেন ছত্রীসেনারা।
ইরানের জনগণ আবারো জানিয়ে দিল ৩৯ বছর পরেও বিপ্লবের চেতনা এখনো সতেজ আছে। মানুষ এখনো বিপ্লবের পথেই হাঁটছে।

পশ্চিমা বিপজ্জনক অপপ্রচার রুখে দিন : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইহুদিবাদীদের নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তিগুলো বিপজ্জনক প্রচারণাযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তাদের এই অপপ্রচারকে রুখে দিতে তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ১৩তম আন্তঃসংসদীয় সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সর্বোচ্চ নেতা গত ১৬ জানুয়ারি একথা বলেন। এ সম্মেলনে বিশ্বের বহু মুসলিম দেশের স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের সংসদ সদস্য যোগ দেন।
সর্বোচ্চ নেতা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘চুপ থাকার ষড়যন্ত্র’ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, নীরবতার আরেক নাম হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা ফিলিস্তিন ইস্যু চেপে রাখা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সমাজ প্রায় একেবারেই উপেক্ষা করছে।
ইয়েমেন ও বাহরাইন সমস্যা সমাধানের জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের জন্য এ দুটি ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ। মৌলিক ইস্যুগুলোতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন : ওআইসি’র সংসদীয় সম্মেলনের আহ্বান
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র ১৩তম আন্তঃসংসদীয় সম্মেলন গত ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ শেষ হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ৪০ মুসলিম দেশের স্পিকার ও শীর্ষ পর্যায়ের আইনপ্রণেতারা অংশ নেন।
সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সবার কল্যাণ সাধনের মতো উচ্চতর মূল্যবোধের ভিত্তিতে মুসলমান এবং সমস্ত মানবজাতির অভিন্ন ইস্যুগুলোকে সমাধানের প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। চূড়ান্ত ঘোষণা পড়ে শোনান ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান আলাউদ্দিন বোরুজেরদি।
ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে, একদিকে ন্যায়বিচার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে টেকসই উন্নয়ন- এগুলো পর¯পরের খুঁটি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত এ দুটি বিষয়কে এজেন্ডার শীর্ষে রাখা।
চূড়ান্ত ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়ে এ সমস্যা দূর করার জন্য সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতনকে স্বাগত জানানো হয়। দায়েশবিরোধী লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী মুসলিম দেশগুলো বিশেষ করে ইরানের প্রশংসা করা হয়েছে।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই, ইসলাম স¤পর্কে সত্যিকার ধারণা সৃষ্টি এবং সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করারও আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় যেসব বর্ণবাদী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন তারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এ সম্মেলন।
ফিলিস্তিনের পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন ঘোষণারও প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। মার্কিন এ পদেক্ষপকে আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছে এ সম্মেলন।

তেহরানে প্রথম এশীয় সাংস্কৃতিক সংলাপ সম্মেলনের অভিমত : সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষিত

এশিয়া মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধসমূহ গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষিত। গত ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি (২০১৮) তেহরানের আল্-যাহ্রা হোসেনীয়ায় ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য : আন্তঃক্রিয়া, সমচিন্তা ও সহযোগিতার অবকাশ ও ধারক’ স্লোগান সহকারে অনুষ্ঠিত প্রথম এশীয় সাংস্কৃতিক সংলাপ সম্মেলনে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইসলামি সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থা (আইসিআরও)-এর প্রধান আবূ ইবরাহীমী র্তোকামানের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে সূচিত ‘এশীয় সাংস্কৃতিক সংলাপ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সহযোগিতা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় ইরানি কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ্ যারীফ্, সংস্কৃতি ও ইসলামি নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস ছালেহী এবং বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মানছূর গোলামী।
এশিয়া মহাদেশের বিশটিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিগণ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এতে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট বিদেশি মেহমানদের অন্যতম ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা দ্বীন্ শামসুদ্দীন- যিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এছাড়া ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান মুস্তাফা আয়দীন্, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মাহ্মূদ নীলী, ঢাকার সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর মেশকাত উদ্দিন প্রমুখ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।
ইসলামি সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থা (আইসিআরও)-এর উদ্যোগে এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, মাশ্হাদের ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়, বাবুলর্সা-এর মাযেন্দারান বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগ সংস্থা (ইসিও)-র কালচারাল ইনস্টিটিউট ও এশিয়ান কোঅপারেশন ডায়লগ সেন্টার-এর সহযোগিতায় এ সম্মেলন আয়োজিত ও পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর মালয়েশিয়া, ভারত ও কাযাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে পূর্ব এশিয়া, ভারত উপমহাদেশ এবং মধ্য এশিয়া ও ককেসাস অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংলাপ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ঐ সব সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তেহরানে এ তিন দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট তিনটি কমিশন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, মাশহাদ বিশ্ববিদ্যালয় ও মাযেন্দারান বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠকে মিলিত হয়।
এ সম্মেলনে অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, এশিয়া মহাদেশের দেশসমূহের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এ মহাদেশে শান্তি ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করে দেবে এবং সেই সাথে জাতিসমূহের মধ্যে একটি শান্তি ও বন্ধুত্বের সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্যও ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। এতে আরো অভিমত ব্যক্ত করা হয় যে, সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ও চিন্তাবিদগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপের জন্য অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো সন্দেহাতীতভাবেই অভিন্ন সমঝোতা গড়ে তোলার ও আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরাজমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার ক্ষেত্রে সঠিক পন্থা উদ্ভাবনের অন্যতম উপায়।
সম্মেলনের কমিশনসমূহের এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদগণের পক্ষ থেকে আরো যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় তার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অন্যতম : শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের (cultural elites) মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংযোগ ও অভিন্ন উত্তরাধিকার অন্যতম ভিত্তি। এশিয়া মহাদেশে বিরাজমান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে আন্তঃক্রিয়া ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিহিত। নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধসমূহ যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি যথোপযোগী ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক বন্ধন শক্তিশালীকরণে ভাষার ক্ষেত্রে অভিন্ন উপাদানসমূহের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সহিংসতা ও চরম পন্থা মোকাবিলার ক্ষেত্রে অভিন্ন মূল্যবোধসমূহ, আধ্যাত্মিকতা ও মরমীবাদের প্রতি মনোযোগ একটি যথোপযোগী পন্থা হতে পারে। সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করণে ও উন্নয়নে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানাদির সামর্থ্যকে কাজে লাগানো জরুরি।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০১১ সালে ‘এশিয়া মহাদেশের ধর্মসমূহ ও সংস্কৃতিসমূর্হে মধ্যে সংলাপ’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার পর এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন অংশে এতদসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সভা ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল মালয়েশিয়া, ভারত, কাযাকিস্তÍান, চীন ও তুরস্কে অনুষ্ঠিত সংলাপ সম্মেলন। এসব সভা ও সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নই ছিল এবার তেহরানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে হামাসের চিঠি

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ফিলিস্তিনের পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে ইরানের অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি এ চিঠি লেখেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা গত ১৮ জানুয়ারি জানায়।
বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে ‘দৃঢ় ও মূল্যবান’ অবস্থান নেয়ার কারণে ইসমাইল হানিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি হামাসের প্রতি ইরানি জনগণের সমর্থন ও সর্বোচ্চ নেতার দিক নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
বায়তুল মুকাদ্দাসের বিরুদ্ধে বলদর্পী শক্তিগুলোর বড় রকমের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে ইসমাইল হানিয়া বলেন, গাজা উপত্যকাকে যুদ্ধে জড়িয়ে দেয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয় যাতে ইহুদিবাদী ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তেল আবিবের সঙ্গে আঞ্চলিক পুতুল সরকারগুলোর স¤পর্ক স্বাভাবিক হয়।
রিয়াদ সম্মেলনে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানকে শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার উল্লেখ করে ইসমাইল হানিয়া বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের অসদুদ্দেশ্য আরো পরিষ্কার হয়ে গেছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দিন। তিনি বলেছেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা উচিত।
ড. মেশকাত উদ্দিন সাংবাদিকদের আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতামূলক স¤পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইরানের স¤পর্ক সন্তোষজনক পর্যায়ে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস ও কালচারাল সেন্টার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক ও সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। সেখানে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ চালু রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ চালু রয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১৪ সদস্যের চিকিৎসক টিম পাঠাল ইরান

ইরানের ইসফাহান প্রদেশের রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিকিৎসা সুবিধা দিতে ১৪ সদস্যের একটি চিকিৎসক টিমকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। ইসফাহান রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসেন মোমেনি গত ১৫ জানুয়ারি এ তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন, ইরানের এ টিমে চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
মোমেনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রস যে আহ্বান জানিয়েছে তাতে সাড়া দিয়ে ১৪ সদস্যের এ টিম পাঠিয়েছে ইরান। এই টিম ৪৫ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে বলেও তিনি জানান।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশবিক গণহত্যা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ইরান এ পর্যন্ত ১৩০ টন সাহায্যসামগ্রী পাঠিয়েছে।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের ভয়াবহ দমন অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত ও আট লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব শরণার্থীর বেশিরভাগ অপুষ্টিতে ভোগার পাশাপাশি বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

ইরানের জলবিদ্যুত খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ৮.২ বিলিয়ন ডলার

ইরানের জলবিদ্যুত খাত ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে। ইরানের ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নের ফলশ্রুতিতে দেশটির জলবিদ্যুত খাতে এই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশটির ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যা ইরানের অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের পথ প্রশস্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পানি ও বিদ্যুত খাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের অধিক বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে।
ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, গত গ্রীষ্মকালের শেষে মন্ত্রণালয়ের ১১তম প্রশাসনের শুরু থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের অধিক মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্প কর্মক্ষম হয়েছে। এতে ৫ হাজার ১৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত দেশটির জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে।
এছাড়াও এ খাতে ১৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আলোচনা চলছে এবং এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশটির বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ৩ হাজারের অধিক মেগাওয়াট বিদ্যুত যুক্ত হবে।

খনিজ সম্পদে বিশ্বের দশ শীর্ষস্থানীয় দেশের অন্যতম ইরান

ইরানের খনিজ শিল্প এবং খনি নবায়ন ও উন্নয়ন সংস্থার প্রধান মাহদি কারবাসিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ খনিজ সম্পদের রিজার্ভের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দশটি দেশের অন্যতম। ইরানের ইস্পাহানে খনি ও খনিজ শিল্প বিভাগের এক সমাবেশে তিনি গত ২৫ জানুয়ারি এ তথ্য জানান।
তামা, সোনা, ক্রোমাইট ও পাথুরে কয়লাসহ নানা ধরনের খনিজ সম্পদের ইরানি রিজার্ভ বা মজুদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সমান বলে কারবাসিয়ান জানান।
ইরানে ৬৮ ধরনের খনিজ সম্পদ রয়েছে এবং ইসলামী এই দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কোটি টন পরিমাণের খনিজ সম্পদ চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সাত শতাংশ খনিজ সসম্পদ রয়েছে ইরানে।

ইরানের নয়নাভিরাম কেশম দ্বীপে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুযগান প্রদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশমে এখন থেকে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারবেন বিশ্বের ১৮০ দেশের পর্যটকরা। বিদেশি কোনো পর্যটক নীলাভ সাগরের কোলে জেগে ওঠা দ্বীপটিতে ঘুরতে চাইলে ভ্রমণের আগে ভিসার আবেদন করার প্রয়োজন নেই। ইরানের উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান ঘাশঘাভি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কেশম এয়ারপোর্টে ইলেকট্রিক ভিসা ইস্যুর অফিস খোলা হয়েছে। বিশ্বের ১৮০ দেশের নাগরিকরা ইরানে পৌঁছার পর কেশম এয়ারপোর্টে তাঁরা তাঁদের পাসপোর্ট জমা দেবেন। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই তাঁদের ভিসা দেওয়া হবে।
গত ১০ জানুয়ারি ২০১৮ বিমানবন্দরে ভিসা ইস্যু অফিস উদ্বোনের অনুষ্ঠানে ইরানের সিনিয়র এই কূটনীতিক এই তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, বিদেশি পর্যটকরা ভিসার অতিরিক্ত সময় ইরানে অবস্থান করতে চাইলে একই অফিসে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাঁদের দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিস যাওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না।
তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকরা ইরানি মিশনে সশরীরে উপস্থিত হওয়া ছাড়াই ইন্টারনেটে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর তাঁদের নিজ নিজ সেল ফোনে কোড পাঠানো হবে।
কেশম দ্বীপটি কেবল হরমুযগান প্রদেশেরই নয়, বরং সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় দ্বীপগুলোর অন্যতম বিশাল দ্বীপ। হরমুয প্রণালীর উৎসমুখে এই দ্বীপটির অবস্থান। দ্বীপের আয়তন দেড় হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি। এই দ্বীপের প্রস্তরময় উপকূল প্রায় দুইশ’ দুই কিলোমিটার দীর্ঘ। কেশম দ্বীপের আয়তন সিঙ্গাপুর বা বাহরাইনের তুলনায় আড়াই গুণ বড়। দৈর্ঘ্যে ১২০ কিলোমিটার আর প্রস্থে স্থানবিশেষে ১০ থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার। এই দ্বীপে বেশ কয়েটি টিলাও আছে। তবে এসব টিলার উচ্চতা বেশি নয়। সবচেয়ে উঁচু টিলাটির উচ্চতা হলো সাড়ে তিনশ’ মিটার। এখানে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার মানুষ বসবাস করে। তারা ফারসি ভাষার পাশাপাশি তাদের আঞ্চলিক ভাষাতেও কথা বলে।
গত বছরের মে মাসে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব জিওপার্ক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে দ্বীপটি। চার বছর মেয়াদের জন্য দ্বীপটিকে ইউনেস্কো গ্লোবাল জিওপার্ক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছর ইরানে এসেছে ৬০ লাখ বিদেশি : মূল আকর্ষণ ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার

গত ফারসি বছরে ৬০ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ইরান ভ্রমণে এসেছেন এবং তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইতের অষ্টম ইমাম হযরত ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার যিয়ারতকারী।
গত ১ ফেব্রুয়ারি পবিত্র মাশহাদ শহরে এই তথ্য দিয়েছেন ইরানের পর্যটন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুহিব্বে খোদায়ি। ফারসি নতুন বছর শুরু হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে।
মোহাম্মাদ মুহিব্বে খোদায়ি জানান, ইরানের প্রদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক সফর করেছেন বৃহত্তর মাশহাদের খোরাসানে রাজাভি প্রদেশ। এ প্রদেশের মাশহাদ শহরে ইমাম রেযা (আ.)-এর পবিত্র মাযার থাকার কারণে ইরানের অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় প্রতি বছর এখানেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকরা আসেন বলে তিনি জানান।
ইসলামি ইরানে ধর্মীয় পবিত্র স্থান ও স্থাপনাগুলো ছাড়াও হাজার হাজার প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান এবং নিদর্শন রয়েছে। এছাড়াও ইরান চিকিৎসা ক্ষেত্রেও উন্নত দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য ইসলামি এই দেশটিতে সফর করেন।

নয় মাসে ৫ লাখ বিদেশি পর্যটক টেনেছে ইসফাহান

অনেকে বলে থাকেন, ইরানের ইসফাহান শহর দেখলেই যেন পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য দেখা হয়ে যায়। ফারসিতে যাকে বলা হয়ে থাকে ‘শাহরে ইসফাহান, নেসফে জাহান’। প্রাকৃতিক মহুয়া বন, জনশূন্য বিরান মরুভূমি আর এবড়ো-থেবড়ো সুউচ্চ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থান করছে ইরানের এই প্রদেশটি। প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের কারণে প্রতিনিয়তই মধ্য অঞ্চলীয় এই প্রদেশটিতে বেড়েই চলেছে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা।
এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে ইসফাহান প্রদেশ ভ্রমণ করেছেন অন্তত পাঁচ লাখ বিদেশি পর্যটক। ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও পর্যটন সংস্থার (আইসিএইচএইচটিও) প্রাদেশিক কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
এতে দেখা যায়, ইসফাহান প্রদেশের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমাম মসজিদ (মাসজিদ-ই-জামে নামে পরিচত), আলি কাপু প্যালেস ও শেখ লুতফুল্লাহ মসজিদ। এছাড়াও বেশি ভ্রমণ করা হয়েছে চেহেল সোতুন ও ফিন গার্ডেনে।
আইসিএইচএইচটিও এর ইসফাহান অফিসের প্রধান ফেরেইদুন আল্লাহায়ারি বলেন, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর ফ্রান্সের পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ইসফাহান ভ্রমণ করেছেন। গত বছর একই সময়ে এ প্রদেশে জার্মানি থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন। এই প্রতিবেদন মতে, ফ্রান্স ও জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন ইতালি,  স্পেন ও চীন থেকে।
ইসফাহান প্রদেশে ২২ হাজার ঐতিহাসিক এলাকা ও স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়ভাবে নিবন্ধনপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক এলাকা রয়েছে ৮৫০টি আর জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোতে নিবন্ধন পেয়েছে চারটি এলাকা। ইউনেসকোর ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পাওয়া জায়গাগুলো হলো নাকশ-ই জাহান স্কোয়ার, ইমাম মসজিদ, চেহেল সোতুন ও ফিন গার্ডেন। এসব ঐতিহ্যবাহী এলাকা ঘিরে রয়েছে ৯০টি হোটেল ও ৬৫টি গেস্ট হাউজ।
ইসফাহানের উঁচু পাহাড়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদকান এবং সিমানসাফে। সাফাভি শাসনামলের ইরানের রাজধানী ইসফাহানের সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি আর ইমাম স্কয়ারে ইমাম মসজিদের কারুকার্যময় দেয়ালচিত্র ও চোখধাঁধানো রং-বেরঙের হাজারও বাতির আলোর নাচন কিংবা ‘নাকশে জাহান’-এর স্ফটিকশুভ্র আলোগুলো যেকোন পর্যটককে মুগ্ধ করবে।

মহাকাশ বিজ্ঞানে মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষে ইরান

ইরানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞানে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ইরান। এছাড়া এক্ষেত্রে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১তম স্থান অর্জন করেছে দেশটি।
ইরানের উপ আইসিটি মন্ত্রী মোরতেজা বারারি গত ১৪ জানুয়ারি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে মহাকাশ বিজ্ঞানে ইরান প্রথম স্থানে রয়েছে। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান নবম।
মহাকাশ অর্থনীতির বিকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপ আইসিটি মন্ত্রী বলেন, নিজ মহাকাশ কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা একটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ। যদিও বর্তমানে মহাকাশ অর্থনীতিতে আমাদের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা গবেষণা উপগ্রহের নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন ও তা উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আমরা এসবের সঠিক ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হই নি। আমরা বর্তমানে এ অঞ্চলে মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রথম স্থানে রয়েছি। তবে যখন মহাকাশ প্রযুক্তি কর্মক্ষম হবে তখন আমাদের রূপান্তর ও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হবে। কেননা, মহাকাশ বিজ্ঞান কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।

ভবনের জন্য শব্দ নিরোধক আবরণ উৎপাদন করছে ইরান

ইরানের একটি জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানির গবেষকরা শব্দ নিরোধক ইনসুলেশন তথা আবরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ভবনের মধ্যে শব্দের প্রতিফলন প্রতিরোধে এই আবরণ মেঝেতে বা দেয়ালে স্থাপন করা হবে। ফলে কমবে শব্দের প্রতিফলন।
জ্ঞানভিত্তিক ওই কো¤পানিটির মহাপরিচালক মোহাম্মাদ রেযা মোন্তাজেরি বলেন, তাঁদের কো¤পানি শব্দের প্রতিধ্বনি প্রতিরোধের আবরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই আবরণ ভবনের বিভিন্ন লেভেলের মধ্যে উৎপাদিত শব্দের ট্রান্সমিশন কমাতে ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, তাদের উৎপাদিত এই ইনসুলেশনটি নমনীয় এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী স¤পন্ন ও অতি প্রতিরোধ সহায়ক। মেঝেগুলোর মাঝে উৎপাদিত অতিরিক্ত শব্দের গতি প্রতিরোধে সহায়ক এই পদার্থটি।
মোন্তাজেরি বলেন, কো¤পানিটি ভবনে শব্দ দূষণের সমাধান খুঁজতে গবেষণা পরিচালনা করে। এলক্ষ্যে তারা শব্দ নিরোধক আবরণটি তৈরি করেছেন। যা তৈরির পর প্রাচীর, মেঝে, দরজা, জানালাসহ ভবনের বিভিন্ন স্তরে স্থাপন করে পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

হিমোডায়ালাইসিস মেশিন উৎপাদনে বিশ্বে ৫ম ইরান

রোগীর কিডনির হিমোডায়ালাইসিস করার মেশিনের নকশা ও উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন ইরানের বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে বিশ্বে এসব মেশিন উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইরান। গত ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ সালাম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এই তথ্য জানান।
ইরানের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, সুইডেন, ইতালি ও জাপানের পরেই পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইরান। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশীয় জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে ইরানি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারগুলোতে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ার সকল ধাপ পরিচালনা করা যাবে।
তিনি ইরানের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ডায়ালাইসিস মেশিনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইতোমধ্যে পশ্চিম ইরানের হাসপাতালগুলোতে এসব মেশিন পাঠানো হয়েছে।
ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানি এই ডায়ালাইসিস মেশিনটির মূল্য বিদেশি মেশিনের চেয়ে অন্তত ২০ শতাংশ কম। বিদেশি ডায়ালাইসিস মেশিনের চেয়ে এই মেশিনটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক কম বলে জানান তিনি।

সিঁড়িতে ওঠার বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার বানালো ইরান

সিঁড়িতে ওঠার বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার ও হাতে বহনযোগ্য বৈদ্যুতিক সাইকেল উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন ইরানের একদল প্রকৌশলী। প্রতিবন্ধী মানুষদের দৈনন্দিন কাজ স¤পন্নে সহায়তায় এই বিশেষ হুইলচেয়ার ও সাইকেলটি তৈরি করেছেন তাঁরা।
ফারসি সংবাদ সংস্থা ইসনার প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই তথ্য জানানো হয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপক ফারহাদ ফোতুরেহচি বলেন, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ-সুবিধা করে দিতে এই প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এসব বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার ও সাইকেল রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি ও সিট বেল্ট দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। সিঁড়িতে ওঠার বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ারটির ১০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
গুণাগুণ স¤পর্কে ফোতুরেহচি জানান, পরিপূর্ণভাবে চার্জ দেওয়া একটি বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ার দিয়ে সিঁড়ির ৭২০টি ধাপ আরোহণ করা যাবে, এতে গড়ে ৭৫ কেজি ওজন বহন করা যাবে। এ হুইলচেয়ারটি ইরানের মেডিকেল সরঞ্জাম দপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদ- পূরণ করেছে বলেও জানান তিনি।
সদ্যনির্মিত এই পাওয়ার হুইলচেয়ার দিয়ে সর্বোচ্চ ২২ সেন্টিমিটার উচ্চতাস¤পন্ন সিঁড়িতে ওঠা-নামা করা যাবে। মিনিটে অতিক্রম করা যাবে সিঁড়ির ১৫টি ধাপ।
বৈদ্যুতিক হুইলচেয়ারের সঙ্গে বৈদ্যুতিক হ্যান্ড-সাইকেলের তুলনা করে তিনি বলেন, হ্যান্ড-সাইকেলটির ওজন খুবই হালকা। এটা ভাঁজ করে ম্যানুয়াল হুইলচেয়ারের মতো করা যাবে। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারবে। খুব সহজেই এই সাইকেল কারে করেও বহন করা যাবে।

বিকল্প উপায়ে নয়া কৃত্রিম পা বানাল ইরান

হাঁটুর নিচের অংশে জটিলতা বা সমস্যায় ভোগা মানুষদের সহায়তায় নতুন এক কৃত্রিম পা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। দেশটির ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকরা অঙ্গটি তৈরি করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প উপায়ে পাটি তৈরি করতে হয়েছে ইরানি গবেষকদের।
ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনুষদ সদস্য ও গবেষণা দলটির নেতা নিমা জমশিদি এই সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। মেহর নিউজ এজেন্সিকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর গবেষণা দল নতুন কৃত্রিম পা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম পা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হয় এবং এটা তৈরি করা হয় কার্বন দিয়ে।
এই গবেষক আরও জানান, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মতে ইরানে সামরিকভাবে কার্বন ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এই পদার্থটি ইরানে আমদানি করা যায় না। তাই আমাদের তৈরিকৃত কৃত্রিম পায়ে অন্যান্য পদার্থ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা সমস্যার কারণে আমরা ফাইবার পদার্থ ব্যবহার করেছি। যা সাধারণত কৃত্রিম পা তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় না। তবে তিনি জানান, তাদের তৈরিকৃত কৃত্রিম পা গুণাগুণের দিক দিয়ে আমেরিকার তৈরি পায়ের মতোই।
নিমা জমশিদি আরও জানান, অমেরিকার তৈরি যন্ত্রটির আয়ুষ্কাল ৩ বছরের চেয়ে কম। অন্যদিকে তাদের তৈরিকৃত পণ্যটির আয়ুষ্কাল ৫ বছরের ওপরে। প্রতিদিন এই পা দিয়ে ৬ হাজার ধাপ হাঁটা যাবে। তিনি জানান, তারা ৪০ জন ব্যক্তির ওপর কৃত্রিম পায়ের পরীক্ষা চালিয়েছেন। ইরানের বাজারে এর দাম কমবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঢাকায় ১৮তম আন্তর্জাতিক কিরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক ক্বারী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিস¤পন্ন আলেমরা অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি জুমআ নামাযের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে এই কিরাত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের আয়োজক ছিল আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত সংস্থা (ইক্বরা)।
মুহাম্মদ ইউসুফ হাফিজাহুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ মিসর, ইরান, সিরিয়া, আলজেরিয়া, ভারত, ফিলিস্তিন ও ব্রুনাইয়ের শীর্ষস্থানীয় ক্বারীরা অংশ নেন। ইক্বরার সহসভাপতি মা’হাদুল কিরাত বাংলাদেশের পরিচালক শাইখ ক্বারী আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারীসহ দেশবরেণ্য ক্বারীরা এতে কিরাত পরিবেশন করবেন।

ফজর আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

ইরানের রাজধানী তেহরানে দশ দিনব্যাপী ফজর আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন ভেন্যুতে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইরানের সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ এই সংগীত উৎসব শুরু হয় গত ১০ জানুয়ারি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগীত শিল্পী ও ব্যান্ডের অংশগ্রহণে উৎসবের এবারের ৩৩তম আসর চলে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সংগীত উৎসবের প্রথম রাতে ভাহদাত হলে অনুষ্ঠানের আয়োজকরা সংগীত উপভোগ করেন। এসময় চাকাভাক অরকেস্ট্রা ও সঙ্গীতজ্ঞ আব্দোলহোসেইন মোখতাবাদ তার নোবাং ইনসেম্বল নিয়ে পারফরম করেন। এছাড়া আজাদি টাওয়ারে মাজান্দারান প্রদেশের নিমা ইনসেম্বল ও কোরদেস্তান প্রদেশ থেকে জি ইনসেম্বল পারফরমেন্স করে। অন্যদিকে, মিলাদ টাওয়ারে তরুণ গায়ক আলি জান্দ ভাকিলি তাঁর কিছু হিট গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
তেহরানের ছয়টি ভেন্যুতে ৯০টি সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভেন্যুগুলো হলো আজাদি ও মিলাদ টাওয়ার্স, নিয়াভারান কালচারাল সেন্টার, ইরানিয়ান হল, রোদাকি হল ও ভাহদাত হল। সর্বশেষ ভাহদাত হলে সংগীত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাৎসরিক দশ দিনের এই জাতীয় সংগীত উৎসবে গান পরিবেশন করেন গায়ক মেহদি ইয়ারাহি, হামেদ হোমায়ুন,মোহাম্মাদ আলিজাদেহ, জ্যানিয়ার ও সিরভান খোসরাভি, বেহনাম বানি, আলিরেজা তালিসচি, ওমিদ হাজিলি ও আলি জান্দ-ভাকিল।
৩৩তম ফাজর আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসবে তুরস্ক, পর্তুগাল, আফগানিস্তান, ফ্রান্স, ইতালি, ভারত, মঙ্গোলিয়া,সারবিয়া, অস্ট্রিয়া, সেনেগাল,  স্লোভেনিয়া, জার্মানি, জাপান এবং স্পেন থেকে বিদেশি শিল্পীরা অংশ নেন।

তেহরানে আন্তর্জাতিক গল্পবলার উৎসব

ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক গল্প বলার উৎসব। এবার উৎসবটির ২০তম পর্ব ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক এই গল্প বলার উৎসব আয়োজন করা হয় তেহরানের ইনস্টিটিউট ফর ইনটেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ং অ্যাডাল্টসে (আইআইডিসিওয়াইএ)।
আইআইডিসিওয়াইএ এর উপপ্রধান রেজা গামারজাদেহর তথ্য মতে, বাৎসরিক আন্তর্জাতিক এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ হাজার অংশগ্রহণকারী যোগ দেন।
তিনি জানান, প্রাদেশিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে সর্বমোট ৬ হাজার ৭৩৭টি গল্প পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্য থেকে সবচেয়ে মানসম্মত গল্পটি অনুষ্ঠানে পাঠ করে শোনানো হয়।
রেজা গামারজাদেহ বলেন, উৎসবের লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গল্প বলার ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং ইরানের এই সংস্কৃতি ও প্রাচীন রীতি সর্বদা জীবিত রাখা।
২২ তেহরানে বাংলাদেশী শিল্পীর জলরং চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
গত ৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি (২০১৮) তেহরানে বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী হাসান মোরশেদের জলরং চিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তেহরানের হেপ্তা গ্যালারিতে ‘বাস্তবতাই কৃত্রিম এবং কৃত্রিমই বাস্তবতা’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে হাতে তৈরি কাগজে অঙ্কিত হাসান মোরশেদের চৌদ্দটি জলরং চিত্র প্রদর্শিত হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে তেহরানের মোহ্সেন্ গ্যালারিতে আয়োজিত ওপেন স্টুডিও অব্ ইরান-বাংলাদেশ এক্স্চেঞ্জ-এ হাসান মোরশেদের অঙ্কিত কয়েকটি চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, পুরস্কার প্রদান ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি শেষ হয়েছে নয় দিনব্যাপী ‘ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৮’। ‘ভালো ছবি, ভালো দর্শক, সমৃদ্ধ সমাজ’- প্রতিপাদ্যে এ উৎসবের আয়োজন করে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি। নয় দিনের এ উৎসবে বাংলাদেশসহ ৬৪ দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠানের। এতে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে কাছে টানতে পারে, ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ধর্মের নামে, রাজনীতির নামে আজ সারাবিশ্বে চলছে হত্যাযজ্ঞ, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি আর রাহাজানি। আমরা নিজেদের দাবি করছি সভ্য হিসেবে। আসলে কি আমরা সভ্য? চলচ্চিত্র এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। চলচ্চিত্র পারে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।’
তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্রকাররা মানবিক বিশ্ব নির্মাণের শপথ নেন।
এবারের উৎসবে শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে বাদল রহমান পুরস্কার পেয়েছে ইরানের ‘হোয়াইট ব্রিজ’, দর্শক বিবেচনায় সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ভারতের ‘টোপি’।
নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার ‘সোফিস্কা’, স্বল্পদৈর্ঘ্যে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘থ্যাঙ্ক ইউ ফর দ্য রেইন’।
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আফগানিস্তানের ‘পারলিকা’, কাহিনীচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ফ্রান্সের ‘লেস বিগোরনিয়াক্স’ শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র চেক প্রজাতন্ত্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘আনা’।
শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বিভাগে কাহিনীচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘পুনঃপৌনিক’, শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র হয়েছে ইরাকের ‘দ্য ভায়োলেট’, প্রামাণ্যচিত্রে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে নেপালের ‘এ সঙ ফর বারপাক’ ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র হয়েছে যুক্তরাজ্যের ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট’।
বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগে চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন ফিপরেসির সৌজন্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হয়েছে লতা আহমেদের ‘সোহাগীর গয়না’ ও তৌকির আহমেদ ‘হালদা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া-এশিয়া  কম্পিটিশন বিভাগে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হয়েছে তুরস্কের ‘জার’। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হয়েছেন তুরস্কের অনুর সায়লাক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন ফিলিপাইনের অ্যানের ডিজোন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন ইরানের পারিনাস ইজাডায়ার ও মিনা সাদাতি, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হয়েছেন ইরানের মাসুদ সালামি ও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হয়েছেন তুরস্কের অনুর সায়লাক, ডগু ইয়াসার আকাল ও হাকান গান্ডে।
স্পিরিচুয়াল ফিল্মস বিভাগে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হয়েছে রাশিয়ার ‘আমুন’, পূর্ণদৈর্ঘ্যে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে তাজিকস্তানের ‘ব্রেক থ্রু’, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘এখ : বিয়োন্ড দ্য সুনামি’ এবং সেরা কাহিনীচিত্র ইরানের ‘স্টিল ইয়েট’।
নয় দিনের এ উৎসবে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় এশিয়ান ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাসেম্বলি কনফারেন্স, যাতে এশীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চলচ্চিত্রকাররা অংশ নেন।
এছাড়াও উৎসবের অংশ হিসেবে রাজধানীর পাঠশালায় ছিল অষ্টম ঢাকা আন্তর্জাতিক সিনে ওয়ার্কশপ। ফরাসি নারী নির্মাতা জুলি বার্টুসেলি এবং সিলিনি সিএমার ৭টি ছবি দিয়ে সাজানো ছিল রেটোস্পেকটিভ বিভাগটি। এই বিভাগের সবগুলো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানের ৪টি ছায়াছবি প্রদর্শিত

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ‘১১তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব’ এ চারটি ইরানি ছবি প্রদর্শিত হয়। এ উৎসবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ বিশ্বের ৫৮টি দেশের শিশুদের জমা দেয়া ১০০০টি চলচ্চিত্র থেকে প্রদর্শিত হয় প্রায় ২২০টি। ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে উৎসব চলে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’  স্লোগান নিয়ে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার।
এবারের উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে মারিয়া নভারো পরিচালিত মেক্সিকান চলচ্চিত্র ‘টেসোরস’ দেখানো হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি প্রদর্শিত হয় ১৯টি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে ছিল ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইট্স রেইন্স স্লোলি’।
২৯ জানুয়ারি প্রদর্শিত হয় ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্কুল মাস্টার’। ৩০, ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত হয় ইরানি চলচ্চিত্র ‘দ্য চকোলেট’। উৎসবের শেষ দিন দেখানো হবে ইরানি চলচ্চিত্র ‘গ্লাসেস’।
এবার উৎসবে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ২১টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে ৫টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। পুরস্কার হিসেবে ছিল ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা। এ বছরও ‘ইয়ং বাংলাদেশি ফিল্ম মেকার সেকশন’ শীর্ষক বিভাগটি ছিল যেখানে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন। উৎসবের মূল ভেন্যু ছিল পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তন। এছাড়াও ব্রিটিশ কাউন্সিল, গ্যাটে ইনস্টিটিউট, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ডেফোডিল স্কুলে প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্রগুলো।
শিল্পের শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্রকে শিশুদের শিক্ষা ও বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে গড়ে তুলতে ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটিজ বাংলাদেশ। সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতিবছর শিশু চলচ্চিত্রের এ মিলনমেলা বসে।

আবারও এএফসি ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল ইরান

এএফসি ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে ইরান ৪-০ গোলে জাপানকে হারায়। এ নিয়ে ইরান ১২ বার এএফসি ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল। ২০১৮ এএফসি ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপে এশিয়ার ১৬টি টিম অংশ নেয়।
১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত এ নিয়ে ১৫ বার এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইরান। অন্য তিনটি আসরের শিরোপা জিতেছে জাপান।
আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন বা ফিফা’র সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী ফুটসলে বিশ্বে ৫ম সেরা দল হচ্ছে ইরানের জাতীয় ফুটসল টিম। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরেই এশিয়ায় প্রথম স্থান ধরে রেখেছে দেশটির জাতীয় টিম। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। তারপরেই রয়েছে  স্পেন, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা। তালিকায় ইরানের পরে ষষ্ঠ ও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ইতালি ও পর্তুগাল।