রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

১৩৯৭ ফারসি সালের আগমন উপলক্ষে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে মহামান্য রাহবার হযরত আয়াতুল্লাহ আল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর বাণী

পোস্ট হয়েছে: মে ১৬, ২০১৮ 

بسم‌الله‌الرّحمن‌الرّحیم
یا مقلّب القلوب و الابصار، یا مدبّر اللّیل و النّهار، یا محوّل الحول و الاحوال، حوّل حالنا الی احسن الحال. اللّهُمَّ اهدِنا هُدَی المُهتَدین وَارزُقنَا اجتِهادَ المُجتَهِدین.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। হে অন্তরসমূহ ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী! হে রাত ও দিনের সর্বব্যবস্থাপক! হে বছর ও অবস্থাসমূহের বিবর্তন সাধনকারী! আমাদের অবস্থাকে সর্বোত্তম অবস্থার দিকে পরিবর্তিত কর। ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের মতো করে হেদায়াত দান কর এবং চেষ্টা সাধনাকারীদের মতো করে সাধনা করার তাওফীক আমাদেরকে দান করো। (পবিত্র রজব মাসের দোয়া হতে সংকলিত)
আমি প্রিয় দেশবাসী সকলের প্রতি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, যাঁরা দেশের আনাচে-কানাচে এবং সমগ্র বিশে^ ছড়িয়ে আছেন। একইভাবে ঐসব জাতির প্রতিও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, যাঁরা নওরোয পালন করে থাকেন। বিশেষ করে সম্মানিত শহীদ পরিবার, প্রিয় যুদ্ধাহত ও তাঁদের পরিবারবর্গের প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এর সাথে দেশের অরুণ প্রজন্ম, যারা জাতির সামনে আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক এবং জাতির গতিপথকে ত্বরান্বিত করার কারিগর, আশা করি সবার জন্য নওরোজ হবে আনন্দময় ও মধুময়। আশা করি এই নতুন বছর জাতির জন্য বরকতময় ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হবে। এ বছর বিশ্ব প্রকৃতির যে বসন্তকাল তা আধ্যাত্মিক বসন্তকালের একই সময়ে হয়েছে। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাস ফারভারদিন, ওর্দিবেহেশত ও খোরদাদ মাস রজব, শাবান ও রমজানের একই সময়ে হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, প্রকৃতির সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক প্রবৃদ্ধি উভয়কে এ বছর আমরা দেশ ও জাতির জন্য একত্রে লাভ করতে সক্ষম হব। এই আশা আমাদের মনে সঞ্চারিত হচ্ছে যে, ইনশাআল্লাহ বস্তুগত পদ্ধতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াগুলো এই দেশ ও এই জাতির আগামী দিনগুলোর জন্য সঞ্চয় হয়ে থাকবে। আমি সালাম আরজ করছি, হযরত বাকিয়াতুল্লাহ ইমাম মাহদী (আ.) -(তাঁর জন্য আমাদের প্রাণ উৎসর্গিত)-এর খেদমতে। আর আমাদের মরহুম ইমাম (খোমেইনী র.)-এর রূহের উদ্দেশ্যে দোয়া ও সালাম আরজ করছি।
দু’একটি বাক্য বিগত ১৯৯৬ সাল সম্পর্কে আরজ করব, আর দু’একটি বাক্য নতুন বছর সম্পর্কে বলতে চাই। ৯৬ সাল ছিল অন্যান্য সব বছরের মতো চড়াই-উৎরাইপূর্ণ, তিক্ততা ও মধুরতায় বিশিষ্ট। জীবনের অন্য সব অধ্যায়ের মতোই। ৯৬ সালের মিষ্টিমধুরতা ছিল জাতির পক্ষ হতে শক্তিমত্তার প্রদর্শনী এবং বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে ময়দানে জাতির শক্তিশালী উপস্থিতি।
বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনগুলোতে জাতির বিশাল উপস্থিতি ছিল চোখধাঁধাঁনো। চার কোটির বেশি মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুন্দরতম। কুদ্স দিবসের মিছিল ছিল পবিত্র রমজান মাসে, আর বছরের শেষভাগে ছিল ৯ই দেই মাসের মিছিল। সবচেয়ে বড় ও দর্শনীয় ছিল এ বছরের ২২ বাহমানের বিপ্লব বার্ষিকীর মিছিল। গত বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মিষ্টিমধুর বিষয় ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আঞ্চলিক হুমকিসমূহ- যেসব হুমকির লক্ষ্য, অন্ততপক্ষে একটি হুমকির লক্ষ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র এর ওপর আঘাত হানা। এই হুমকিকে ইরান একটি সুযোগে রূপান্তরিত করতে পেরেছে। যে কারণে তা শুধু যে দেশের ওপর কোনো আঘাত করতে পারে নি, তা নয়; বরং তা একটি সুযোগে রূপান্তরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত যে কোনো লোকই বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন।
আরেকটি ইতিবাচক দিক ছিল, গত বছরের স্লোগান অর্থাৎ ‘প্রতিরোধের অর্থনীতি’-এর ছায়াতলে জাতীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান শিরোনামের স্লোগানটি জীবন্ত করা ও তার বাস্তবায়ন। দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর দ্বারা বেশ ভালো কাজ হয়েছে। অবশ্য আরো অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে, যা বাস্তবায়িত হতে হবে। এই স্লোগানটি দেশে অনেকাংশে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আরো কাজ করতে হবে। যাতে ইনশাআল্লাহ এই স্লোগানটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবে রূপায়িত হয়।
১৩৯৬ ফারসি সালে কিছু তিক্ততাও আমাদের জন্য ছিল। ভূমিকম্প, বন্যা, বিমান দুর্ঘটনা, জাহাজ দুর্ঘটনা প্রভৃতির মতো বিষয়, যাতে আমাদের অনেক প্রিয়জন প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা ছিল আমদের জন্য তিক্ততাপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এ ছাড়াও দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে খরা ছিল, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আশা করি আল্লাহ পাকের দয়ায় এবছরের বসন্তে তা পুষিয়ে যাবে। বিভিন্ন শ্রেণির লোকদের মাঝে জীবন যাত্রার কিছু কিছু সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এখনো অব্যাহত রয়েছে। এগুলো দূর করার জন্য চেষ্টা করতে হবে, সবাইকে এই চেষ্টায় অংশীদার হতে হবে। এ সম্পর্কে কিছু কথা আমি উল্লেখ করব। আশা করি ইনশাআল্লাহ এসব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। অবশ্য বছরের শেষের মাসগুলোতে ইরানি জাতির শত্রুদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও নীলনকশামাফিক দেশে বেশ কিছু গোলযোগ হয়েছে। তাতে ইরানি জাতি মাঠে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। অবশ্য এই যে দুর্ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে ইরানি জাতির মাহাত্ম্যের প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে।
১৩৯৭ সাল সম্পর্কে, যে নতুন সালটি এখন থেকে শুরু হচ্ছে তাতে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমি বিভিন্ন বছরকেন্দ্রিক স্লোগানগুলোতে সাধারণত রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সামনে রেখে কথা বলি। এ বছর আমার বক্তব্যের সম্বোধিত শ্রেণি জাতির বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। তার মধ্যে রাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। ভূমিকাস্বরূপ আরজ করতে চাই যে, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সব বিষয় এই স্লোগানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বছর আমাদের আসল বিষয় হচ্ছে, জনগণের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার সমস্যা। সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। এই চেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুও হবে জাতীয় উৎপাদন। অর্থাৎ যদি সবাই মিলে জাতীয় উৎপাদনকে ইনশাআল্লাহ আমার বক্তৃতায় যে সম্পর্কে আরজ করব, যদি সবাই মিলে এই লক্ষের পেছনে কাজ করেন, তাহলে অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবন যাত্রার সমস্যা, যেমন কর্মসংস্থানের বিষয়, পুঁজি বিনিয়োগের বিষয় এবং আরো অন্যান্য বিষয়ের সমস্যার অনেকাংশে সমাধান ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে। সামাজিক ক্ষতগুলো বিরাট পরিমাণে হ্রাস পাবে। অর্থাৎ মূল বিষয় হচ্ছে জাতীয় উৎপাদন। কাজেই জাতীয় উৎপাদন যদি গতিশীল হয় তাহলে এমনিতেই বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি এটিকেই এ বছরের স্লোগানরূপে নির্ধারণ করেছি। এ বছরের স্লোগান হবে ‘ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন’ এর স্লোগান। নতুন বছর হবে ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন যোগানোর বছর। এই স্লোগান ও লক্ষমাত্রা কেবল রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য নয়; বরং জাতির সর্বস্তরের সবাইকে এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে হবে। প্রকৃতপ্রস্তাবে তারা সবাই ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। অবশ্য এই যে সমর্থন যোগানোর কথা বললাম, পাঁচ ছয় দিক থেকে এর বিভিন্ন আঙ্গিক রয়েছে। ইনশাআল্লাহ এই আঙ্গিকের বিষয়টি আমি আমার বক্তৃতায় তুলে ধরব, ব্যাখ্যা করব। তাতে বৃহত্তর জনগণের বিভিন্ন শ্রেণি এবং দেশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের যা আঞ্জাম দিতে হবে তা ইনশাআল্লাহ ব্যাখ্যা করব।
আশাকরি আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সাহায্য করবেন। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের সাহায্য করবেন, জনসাধারণকেও সাহায্য করবেন, যাতে সবাই তাঁদের নিজ নিজ দায়িত্ব সর্বোত্তম পন্থায় আঞ্জাম দিতে পারেন। আর এ বছর এই স্লোগান অর্থাৎ নতুন বছর ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন যোগানোর বছর, প্রকৃত অর্থে তা বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হবে।
ওয়াস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্।
টীকা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মাননীয় রাহবার নববর্ষের অপর এক ভাষণের (২১ মার্চ, মাশাদ) শুরুতে সমালোচকদের একটি দৃষ্টিকোণ নাকচ করে দেন যে, বছরের জন্য স্লোগান নির্ধারণ করে দেয়ার বিষয়টি দায়িত্বশীলবর্গ তা বাস্তবায়ন না করার কারণে একটি নিষ্ফল প্রয়াসমাত্র। তার জবাবে রাহবার বলেন, দুটি লক্ষকে সামনে রেখে বছরের স্লোগান নির্ধারণ করে দেয়া হয়। একটি হলো দেশের নির্বাহী নীতিমালার সামনে এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের জন্য একটি দিকনির্দেশনার ছক এঁকে দেয়া। আরেকটি হলো, দেশের আপামর জনসাধারণকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি এবং প্রকৃত চাহিদা সম্পর্র্কে অবহিত করা।
হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী উল্লেখ করেন যে, অবশ্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারাও তাঁদের সাধ্য ও সামর্থ্যরে আওতায় চেষ্টা ও পরিশ্রম করেন। তবে এসব চেষ্টা যদি আরো বেশি করেন, তার ফলাফলও নিশ্চয়ই অনেক বেশি ও উত্তম হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাহবার বলেন, ইরানি উৎপাদিত পণ্যসমূহ এদিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এগুলো সুষ্ঠু পরিকল্পনা, পুঁজি বিনিয়োগ, বিভিন্ন শ্রেণির জনগণ ও কর্মকতাদের উদ্যোগ ও গৃহীত পদক্ষেপের চূড়ান্ত অর্জন। মাননীয় রাহবার বলেন, অর্থনৈতিক অঙ্গনের কর্মীবৃন্দ, উৎপাদনকারীরা পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে, কর্মকর্তারা পরিকল্পনা গ্রহণের আওতায়, যুবকরা উদ্ভাবনী শক্তি ও পরিকল্পনা আর শ্রমিকরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী সমাজের সামনে উপস্থাপন করেন। জনসাধারণের উচিত উৎপাদনে যথাযথ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আত্মমর্যাদাবোধ ও জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ইরানি পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিশ্রম ও চেষ্টার এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়া ও সমর্থন যোগানো।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মাননীয় রাহবার ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন যোগানোর কার্যকর কিছু পন্থা সম্বন্ধে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, পণ্যের মানোন্নয়ন, যুগের চাহিদা ও জনগণের রুচির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া, বিদেশী পণ্যের সাথে দামে ও মানে প্রতিযোগিতায় উতরে যাওয়ার মতো হওয়া প্রভৃতি হচ্ছে এই সমর্থন যোগানোর কয়েকটি দিক।
তিনি রফতানি পণ্যের বাজার খুঁজে বের করাকে ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন দানের অন্যতম কর্মপন্থা বলে অভিহিত করেন। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও অর্থনৈতিক কর্মীদের গুরুদায়িত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা যদি ইরানের ১৫টি প্রতিবেশীর চাহিদার শতকরা ২০ ভাগ আকর্ষণীয় ইরানি পণ্যের মাধ্যমে পূরণ করতে পারি তাহলে তা কর্মসংস্থান ও জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধিতে আমাদের বিরাট পদক্ষেপ বলে গণ্য হবে।
ইসলামি ইরানের রাহবার আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন দানের বিভিন্ন কর্মপন্থা ও এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বছরের স্লোগান বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, ক্ষেত্র ও বাধ্যবাধকতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আমদানি পণ্যের ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব রয়েছে, এই আমদানি সরকারি ক্ষেত্রে হোক বা বেসরকারি খাতের হোক তাতে সরকারকে দৃঢ়তার সাথে পদক্ষেপ নিতে হবে। অনুরূপভাবে যেসব পণ্য দেশের ভেতরে উৎপাদিত হয় বা উৎপাদিত হওয়া সম্ভব তা আমদানি হতে বিরত থাকতে হবে। মাননীয় রাহবার তাঁর ভাষণে এ ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, দেশীয় উৎপাদনের ওপর আমদানি পণ্যের প্রভাব মৌলিক ও অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, আমরা যখন দেশে ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় এমন পন্য আমদানি করি আর বেকার সমস্যার সমালোচনা করি, তখন বিষয়টি অর্থহীন হয়ে য্য়া। হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন দানের দ্বিতীয় পদক্ষেপ বলে মূল্যায়ন করেন। রাহবার বলেন, জনগণেরও উচিত পুরোপুরি আত্মমর্যাদাবোধে উজ্জীবিত হয়ে চোরাচালানে আমদানিকৃত পণ্যের ভোগ-ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। যাতে চোরাচালান কারো জন্য লাভজনক না হয়।
অর্থনৈতিক কর্মীদের পক্ষ হতে উৎপাদন খাতে পুঁজি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাননীয় রাহবার বলেন, এই পূঁজিবিনিয়োগে মুনাফা যেমন অর্জিত হবে তেমনি এর দ্বারা দেশের উন্নয়নও সাধিত হবে। কাজেই বিষয়টির প্রতি যত্নবান হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বছরের স্লোগান সম্পর্কে ইসলামি বিপ্লবের রাহবারের উপসংহার ছিল, আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলরা, অর্থনৈতিক কর্মীরা, বিক্রেতারা ও ভোক্তারা সবাই আত্মমর্যাদাবোধ ও জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ইরানি পণ্যের প্রতি সমর্থন দানে এগিয়ে যাব।