সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

হাদীস ও মনীষীদের দৃষ্টিতে ইমাম মাহ্দী (আ.)

পোস্ট হয়েছে: মে ১১, ২০১৭ 

news-image

‘‘ আর সে হচ্ছে কিয়ামতের একটি নিদর্শন।’’ (সূরা যুখরূফ : ৬১)

আহ্লে সুন্নাতের নিকট সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হাদীস সংকলন ছয়টি যা ‘সিহাহ্ সিত্তাহ্’ নামে পরিচিত। হাদীসের প্রামাণ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার জন্য আহ্লে সুন্নাতের হাদীস সংকলকগণ যেসব মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন এ ছ’টি সংকলন সেসব মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ছ’টি গ্রন্থ হচ্ছে : সহীহ্ আল-বুখারী, সহীহ্ আল-মুসলিম, সহীহ্ আত্-তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ্, সুনানে আবু দাউদ ও সহীহ্ আন্-নাসাঈ। ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে সিহাহ্ সিত্তাহ্ ও আহ্লে সুন্নাতের অন্যান্য সূত্রে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এখানে উদ্ধৃত নিম্নোক্ত হাদীস ও বর্ণনাগুলো এমন যেগুলোর সত্যতা ও প্রামাণ্যতার ব্যাপারে আহ্লে সুন্নাতের হাদীস বিশারদগণ একমত।

১. মহানবী (সা.) বলেছেন : “এমনকি সমগ্র বিশ্বের আয়ু যদি শেষ হয়ে গিয়ে থাকে এবং কিয়ামত হতে একদিনও অবশিষ্ট থাকে তাহলেও মহান আল্লাহ্ ঐ দিবসকে এতটা দীর্ঘায়িত করবেন যাতে তিনি ঐ দিবসেই আমার আহ্লে বাইতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির শাসনকর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারেন যাকে আমার নামেই ডাকা হবে। পৃথিবী অন্যায়-অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর সে তা শান্তি ও ন্যায়ে পূর্ণ করে দেবে।” (তিরমিযী ২য় খ-, পৃ. ৮৬, ৯ম খ-, পৃ. ৭৪ ও ৭৫; আবু দাউদ, ২য় খ-, পৃ. ৭; মুসনাদে আ‏‏‏হমদ ইবনে হাম্বল, ১ম খ-, পৃ. ৩৭৬, ৩য় খ-, পৃ. ৬৩; মুস্তাদরাকুস্ সাহীহাইন (হাকেম), ৪র্থ খ-, পৃ. ৫৫৭; আল-মাজমা (তাবারানী), পৃ. ২১৭; তাহযীবুস্ সাবিত (ইবনে হাজার আসকালানী), ৯ম খ-, পৃ. ১৪৪; আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্ (ইবনে হাজার হাইসামী), ১১শ অধ্যায়, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৪৯; কানযুল উম্মাল, ৭ম খ-, পৃ. ১৮৬; ইকদুদ দুরার ফী আখবারিল মাহ্দী আল মুনতাযার, ১২শ খ-, ১ম অধ্যায়; আল বায়ান ফী আখবারি সাহিবিয যামান (গাঞ্জী শাফিয়ী), ১২শ অধ্যায়; ফাতহুল বারী (ইবনে হাজার আসকালানী), ৭ম খ-, পৃ. ৩০৫; আল-তাযকিরাহ্ (কুরতুবী), পৃ. ৬১৭; আল-হাভী (সুয়ূতী), ২য় খ-, পৃ. ১৬৫-১৬৬; শারহুল মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়াহ্ (যুরকানী), ৫ম খ-, পৃ. ৩৪৮; ফাতহুল মুগীস (সাখাভী), ৩য় খ-, পৃ. ৪১; আরজাহুল মাতালিব (উবায়দুল্লাহ্ হিন্দী), পৃ. ৩৮০; আল-মুকাদ্দিমাহ্ (ইবনে খালদুন), পৃ. ২৬৬; জামিউস সাগীর (সুয়ূতী), পৃ. ১৬০; আল-উরফুল ওয়ারদী (সুয়ূতী), পৃ. ২।

আশ-শাফিয়ী (ওফাত ৩৬৩/৯৭৪) বলেছেন  যে, এ হাদীস বিপুলসংখ্যক সূত্রে বর্ণিত এবং বহু বর্ণনাকারী কর্তৃক তা মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র বর্ণিত ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া হাদীসটি ইবনে হিব্বান, আবু না’ঈম, ইবনে আসাকির প্রমুখ কর্তৃক লিখিত গ্রন্থাদিতেও উদ্ধৃত হয়েছে।

২. মহানবী (সা.) বলেছেন : “মাহ্দী আমাদের অর্থাৎ আহ্লে বাইতের সদস্যদের একজন।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, হাদীস নং ৪০৮৫)

হাদীসে যেমন আমরা দেখতে পাই, ইমাম মাহ্দী (আ.) মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আহ্লে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। তাই তিনি হযরত ঈসা মসীহ্ (আ.) হতে পারেন না। ইমাম মাহ্দী (আ.) এবং ঈসা (আ.) ভিন্ন দুই ব্যক্তি, তবে তাঁরা দু’জন একই সময় আগমন করবেন। নিম্নোক্ত হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে যে, ইমাম মাহ্দী (আ.) হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধর হবেন।

৩. রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : “মাহ্দী ফাতিমার বংশধর।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, হাদীস নং ৪০৮৬; নাসাঈ; বাইহাকী; আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৪৯-এর বর্ণনানুসারে অন্যান্য হাদীস সংকলকগণ)।

৪. মহানবী (সা.) বলেছেন : “আমরা আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ বেহেশতবাসীদের নেতা : স¦য়ং আমি, হামযাহ্, আলী, জাফর, হাসান, হুসাইন ও মাহ্দী।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, হাদীস নং ৪০৮৭; মুস্তাদরাকে হাকেম (আনাস ইবনে মালিক-এর সূত্রে বর্ণিত); দাইলামী; আস-সাওয়ায়িকুল মুহরিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৪৫)

৫. মহানবী (সা.) বলেছেন : “মাহ্দী আমার উম্মাহ্র মাঝে আবির্ভূত হবে। সর্বনিম্ন ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ ৯ বছরের জন্য আবির্ভূত হবে।১ এ সময় আমার উম্মাহ্ অফুরন্ত আশীর্বাদ ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে যা তারা আগে কখনো প্রত্যক্ষ করে নি। উম্মাহ্ তখন বিপুল পরিমাণ খাদ্যের অধিকারী হবে যার ফলে তাদের (খাদ্য) সঞ্চয় করে রাখার প্রয়োজন হবে না। সে সময় ধন-সম্পদের প্রাচুর্য এত বেশি হবে যে, তখন কোন ব্যক্তি মাহ্দীর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করলে সে বলবে : এখানে আছে, নিয়ে যাও।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, হাদীস নং ৫০৮৩)

৬. মহানবী (সা.) বলেছেন : “আমার ও আমার আহ্লে বাইতের সদস্যদের জন্য আল্লাহ্ পারলৌকিক জীবনকে ইহলৌকিক জীবনের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন ও মনোনীত করেছেন। আমার (ওফাতের) পরে আমার আহ্লে বাইতের সদস্যরা অনেক কষ্ট ভোগ করবে এবং তাদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে। তখন প্রাচ্য থেকে একদল লোক কালো পতাকাসহ আগমন করবে এবং তাদেরকে কিছু ভালো জিনিস (অধিকার) প্রদান করার জন্য তারা আবেদন করবে। কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যাত হবে অর্থাৎ তাদেরকে সেই অধিকার দেয়া হবে না। এ কারণে তারা যুদ্ধ শুরু করবে। সে যুদ্ধে তারা বিজয়ী হবে এবং তারা যা প্রথমে চেয়েছিল তা-ই তাদেরকে দেয়া হবে। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে যতক্ষণ না আমার আহ্লে বাইত থেকে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হবে এবং যেভাবে পৃথিবী অন্যায়-অবিচারে পূর্ণ হয়ে যাবে ঠিক সেভাবে তা ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবে। তাই যে ব্যক্তি ঐ যুগ প্রত্যক্ষ করবে তার উচিত হবে বরফের ওপর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাদের সাথে মিলিত হওয়া।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, হাদীস নং ৪০৮২; তারিখে তাবারী; আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫০ ও ২৫১)

৭. আবু নাদ্রা বর্ণনা করেছেন : আমরা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্র সাথে ছিলাম। … জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : “আমার উম্মতের সর্বশেষ যুগে একজন খলীফা হবে যে গণনা না করেই জনগণকে হাত ভরে ধন-সম্পদ দান করবে।” (বর্ণনাকারী বলেন:) আমি আবু নাদ্রা ও আবুল আ’লাকে জিজ্ঞাসা করলাম : “আপনারা কি উমর ইবনে আবদুল আযীযকে বুঝাতে চাচ্ছেন?” তাঁরা বললেন : “না।” (অর্থাৎ তিনি হবেন ইমাম মাহ্দী।)২ (মুসলিম, কিতাবুল ফিতান, ৪র্থ খ-, পৃ. ২২৩৪, হাদীস নং ৬৭)

৮. মহানবী (সা.) বলেছেন : “সর্বশেষ যুগে আমার উম্মত অত্যন্ত কঠিন দুঃখ ও যাতনা ভোগ করবে যেরূপ তারা আগে কখনো ভোগ করে নি; তখন মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে পাবে না। তখন আল্লাহ্ আমার বংশধারা থেকে এক ব্যক্তিকে আবির্ভূত করবেন যে অন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়া পৃথিবীকে ন্যায় দ্বারা পূর্ণ করে  দেবে। পৃথিবীবাসী ও আসমানবাসী তাকে ভালোবাসবে। আকাশ থেকে পৃথিবীর সকল স্থানের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং পৃথিবীও যা কিছু দিতে পারে তার সবকিছু উজাড় করে দেবে। আর সমগ্র পৃথিবী সবুজ-শ্যামল হয়ে যাবে।’’ (আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫০, হাকেম প্রণীত আস-সাহীহ্ ফীল হাদীস)

৯. রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : “আরবদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবী ধ্বংস হবে না যার নাম হবে আমার নামের অনুরূপ।” (তিরমিযী, ৯ম খ-, পৃ. ৭৪)

১০. রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : “মাহ্দী আমার আহ্লে বাইত থেকে আবির্ভূত হয়ে একটি বিপ্লব ঘটাবে এবং পৃথিবী অন্যায়-অবিচার ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তাকে ন্যায় ও সাম্য দ্বারা পূর্ণ করে দেবে।” (মুসনাদে আহমাদ, ১ম খ-, পৃ. ৮৪; জামিউস সাগীর, পৃ. ২ ও ১৬০; আল-উরফুল ওয়ার্দী, পৃ. ২; কানযুল উম্মাল, ৭ম খ-, পৃ. ১৮৬; ইকদুদ দুরার, ১২শ খ-, অধ্যায় ১; আল-বায়ান ফী আখবারি সাহিবিয যামান, ১২শ অধ্যায়; আল-ফুসুসুল মুহিম্মাহ্, ১২শ অধ্যায়; আরজাহুল মাতালিব, পৃ. ৩৮০; আল-মুকাদ্দিমাহ্, পৃ. ২৬৬)

১১. মহানবী (সা.) বলেছেন : “আল্লাহ্ শেষ বিচার দিবসের আগে, এমনকি এ পৃথিবীর আয়ুষ্কাল যদি একদিনও অবশিষ্ট থাকে, আমার আহ্লে বাইতের মধ্য থেকে মাহ্দীকে অন্তর্ধান থেকে আবির্ভূত করবেন। সে এ পৃথিবীতে ন্যায় ও সুবিচারের প্রসার ঘটাবে এবং সব ধরনের অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের মূলোৎপাটন করবে।” (মুসনাদে আহ্মাদ, ১ম খ-, পৃ. ৯৯)

সুনানে আবু দাউদেও উপরিউক্ত হাদীসের অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ইংরেজি অনুবাদ, অধ্যায় ৩৬, হাদীস নং ৪২৭০)

১২. মহানবী (সা.) বলেছেন : “মাহ্দী আমার আহ্লে বাইতের অন্তর্ভুক্ত; নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ এক রাতের মধ্যেই তাকে আবির্ভূত করবেন (অর্থাৎ তিনি কখন আবির্ভূত হবেন সে ব্যাপারে পূর্ব হতে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং তাঁর আবির্ভাব হবে আকস্মিক)।” (ইবনে মাজাহ্, ২য় খ-, পৃ. ২৬৯; মুসনাদে আহমাদ; আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫০)

১৩. হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (আ.) বলেছেন : “যখন মহানবী (সা.)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে কায়েম (আল-মাহ্দী) আবির্ভূত হবে তখন আল্লাহ্ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাসীকে একত্র করবেন।” (আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫২)।

১৪. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ আল-আনসারী (রা.) বলেছেন : “আমি রাসূলুল্লাহ্কে বলতে শুনেছি : আমার উম্মাহ্র একদল ব্যক্তি শেষ বিচার দিবসের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত সত্যের জন্য যুদ্ধ করতে থাকবে। তখন ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তাদের নেতা (মাহ্দী) তাঁকে নামায পড়ানোর জন্য অনুরোধ করবে; কিন্তু ঈসা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে বলবেন : না, আপনাদেরকে মহান আল্লাহ্ অন্যদের (সমগ্র মানবজাতির) জন্য নেতা মনোনীত করেছেন।” (মুসলিম, ২য় খ-, পৃ. ১৯৩; মুসনাদে আহমাদ, ৩য় খ-, পৃ. ৪৫ ও ৩৮৪; আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫১; সুয়ূতী প্রণীত নুযূল ঈসা ইবনে মারইয়াম আখিরায যামান)

১৫. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ বলেছেন : “রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন : আমার উম্মতের মধ্য থেকে একদল লোক ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ পর্যন্ত সত্যের জন্য যুদ্ধ করতে থাকবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করলে তাদের ইমাম (মাহ্দী) তাঁকে নামায পড়ানোর জন্য অনুরোধ করবে। কিন্তু ঈসা বলবেন : এ কাজ করার জন্য আপনি অধিক হকদার। আর মহান আল্লাহ্ এ উম্মতে আপনাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে অন্যদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন।” (মুসনাদে আবু ইয়ালা; সহীহ্ ইবনে হিব্বান)

ইবনে আবী শাইবাহ্ (আহ্লে সুন্নাতের প্রসিদ্ধ হাদীসশাস্ত্রবিদ এবং সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার) ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে বলা হয়েছে যে, ইমাম- যিনি নামাযে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়ামেরও ইমাম হবেন তিনি মাহ্দী (আ.)।

সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন : “হযরত ঈসা (আ.) যখন অবতরণ করবেন তখন ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পিছনে নামায পড়বেন- এতৎসংক্রান্ত হাদীসসমূহ যেসব ব্যক্তি অস্বীকার করেছে তাদের মধ্য থেকে কতিপয় ব্যক্তিকে আমি সত্য অস্বীকার করে বলতে শুনেছি : এমন ব্যক্তি যিনি নবী নন, তাঁর পিছনে নামায পড়া অপেক্ষা ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা উচ্চতর।” কিন্তু পরম সত্যবাদী মহানবী (সা.) থেকে বহু সংখ্যক সহীহ্ হাদীসের মাধ্যমে ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পিছনে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়ামের নামায পড়ার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি একটি অদ্ভুত অভিমত।”

আল্লামা সুয়ূতী এ ব্যাপারে বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (নুযূলু ঈসা ইবনে মারইয়াম আখিরায যামান)

ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন : “মাহ্দী এ উম্মতেরই একজন। হযরত ঈসা অবতরণ করে তাঁর পিছনে নামায পড়বেন।” (ফাতহুল বারী, ৫ম খ-, পৃ. ৩৬২)

আহ্লে সুন্নাতের আরেক বিখ্যাত আলেম ইবনে হাজার হাইসামীও একই কথা উল্লেখ করে বলেছেন:  “আহ্লে বাইত আকাশের তারকারাজির ন্যায় যাদের মাধ্যমে আমরা সঠিক দিকে পরিচালিত হই এবং তারকারাজি যদি অস্ত যায় (ঢাকা পড়ে যায়) তাহলে আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কিয়ামত দিবসের নিদর্শনাদির মুখোমুখি হবো। আর হাদীস অনুযায়ী এটি তখনই ঘটবে যখন ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আগমন হবে, নবী হযরত ঈসা (আ.) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করা হবে। আর তখনই সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহ একের পর এক প্রকাশ পেতে থাকবে।” (আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৩৪)

আবুল হুসাইন আল-আজীরীর উদ্ধৃতি দিয়ে ইবনে হাজার বলেছেন : “ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আর্বিভাব ও উত্থান সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর হাদীসসমূহ বিপুল সংখ্যক সনদসহ বর্ণিত হয়েছে এবং তা মুতাওয়াতির হওয়ার পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। এসব হাদীসে মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মাহ্দী তাঁর (রাসূলুল্লাহ্র) আহ্লে বাইতভুক্ত হবেন, তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন এবং হযরত ঈসা মসীহ্ (আ.)ও ঐ একই সময় আগমন করবেন। মাহ্দী ফিলিস্তিনে দাজ্জালকে বধ করার ব্যাপারে ঈসা (আ.)-কে সাহায্য করবেন। তিনি এ উম্মতের নেতৃত্ব দেবেন এবং হযরত ঈসা (আ.) তাঁর পিছনে নামায পড়বেন।” (আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৫৪)

ইবনে আলী আশ শাওকানী (ওফাত ১২৫০/১৮৩৪) ‘আত-তাওদীহ ফী তাওয়াতুরি মা জাআ ফীল মুনতার্যা ওয়াদ দাজ্জাল ওয়াল মাসীহ্’ (প্রতীক্ষিত ইমাম মাহ্দী, দাজ্জাল ও মসীহ্ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা) নামক গ্রন্থে ইমাম সম্পর্কে লিখেছেন : “মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বহু নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এ কারণেই এসব হাদীস নিঃসন্দেহে নির্ভরযোগ্য; কারণ, ফিকাহ্শাস্ত্রে ঐ সব হাদীসের ক্ষেত্রেও মুতাওয়াতির হওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য যেগুলো ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সংখ্যার চেয়েও অল্প সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে। মহানবীর সাহাবীদের প্রচুর বাণী আছ যেগুলোতে স্পষ্টভাবে ও বিশদভাবে মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত আলোচনা বিদ্যমান। এসব বাণী মাহনবী (সা.)-এর নিকট থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের সমপর্যায়ভুক্ত। কারণ, ইজতিহাদের মাধ্যমে এসব বাণী প্রতিষ্ঠিত করায় কোন সমস্যা নেই।” লেখক ‘আল ফাতহুর রাব্বানী’ নামক তাঁর অপর এক গ্রন্থেও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। (এতৎসংক্রান্ত বিষয়ে দেখুন মাওযূআতুল ইমাম আল মাহ্দী, ১ম খ-, পৃ. ৩৯১-৩৯২, ৪১৩-৪১৪ ও ৪৩৪ এবং তুহাফুল আহ্ওয়াযী, ৬ষ্ঠ খ-, পৃ. ৪৮৫)

আস-সাবান তাঁর ইসআফুর রাগিবীন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন : “ইমাম মাহ্দীর আবির্ভাব সংক্রান্ত হাদীসসমূহ যে মহানবী (সা.) কর্তৃক বর্ণিত তা বোঝা যায়। তিনি (মাহ্দী) মহানবীর আহ্লে বাইতের সদস্য এবং তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।”

সুয়ূতী তাঁর সাবাইকুয যাহাব গ্রন্থে বলেছেন : “আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন যে, মাহ্দী শেষ যুগে আবির্ভূত হয়ে সমগ্র বিশ্বকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন। তাঁর আবির্ভাব সংক্রান্ত হাদীস বিপুল সংখ্যক।”

হাফেয আবুল হাসান সিজিস্তানী (ওফাত ৩৬৩ হি./ ৯৭৪ খ্রি.) বলেছেন : “মহানবী (সা.)-এর নিকট থেকে ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত হাদীসসমূহ বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মাহ্দী (আ.) মহানবী (সা.)-এর আহ্লে বাইতভুক্ত হবেন এবং সমগ্র বিশ্বকে ন্যায় ও সুবিচার দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।”

পরবর্তী যেসব খ্যাতনামা আলেম এ বক্তব্য মেনে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন ইবনে হাজার আসকালানী (তাহ্যীবুত তাহ্যীব, ৯ম খ-, পৃ. ১৪৪, ফাতহুল বারী, ৭ম খ-, পৃ. ৩০৫, কুরতুবী (আত-তাযকিরাহ্, পৃ. ৬১৭), সুয়ূতী (আল-হাভী, ২য় খ-, পৃ. ১৬৫-১৬৬), মুত্তাকী হিন্দী (আল বুরহান ফী আলামাতি মাহ্দীয়ে আখিরিয যামান, পৃ. ১৭৫-১৭৬), ইবনে হাজার হাইসামী (আস-সাওয়ায়িকুল মুহ্রিকাহ্, অধ্যায় ১১, উপাধ্যায় ১, পৃ. ২৪৯), যুরকানী (শারহুল মাওয়াহিবুল লাদুন্নীয়াহ্, ৫ম খ-, পৃ. ৩৪৮), সাখাভী (ফাতহুল মুগীস, ৩য় খ-, পৃ. ৪১)

ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্র আকীদার সর্বোৎকৃষ্ট চিত্র এমন এক ব্যক্তি কর্তৃক চিত্রিত হয়েছে যিনি নিজে ইমাম মাহ্দীর আগমনে বিশ্বাসী ছিলেন না এবং এতৎসংক্রান্ত হাদীসসমূহের সত্যতা অস্বীকার করেছিলেন। তিনি হলেন প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন (ওফাত ৮০৮ হি./ ১৪০৬ খ্রি.)। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মুকাদ্দিমায় লিখেছেন : “এটি একটি প্রসিদ্ধ ও জ্ঞাত বিষয় যে, সকল মুসলিম কর্তৃক সকল যুগে বর্ণিত হয়েছে সর্বশেষ যুগে মহানবী (সা.)-এর আহ্লে বাইতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে আবির্ভূত হবেন। তিনি ইসলাম ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবেন। আর মুসলমানগণ তাঁর অনুসরণ করবে এবং তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন। তাঁকে ‘আল-মাহ্দী’ বলা হবে।” (আল-মুকাদ্দিমা, ইতিহাস সংক্রান্ত ভূমিকা, ইংরেজি অনুবাদ, লন্ডন, ১৯৬৭, পৃ. ২৫৭-২৫৮)

উপরিউক্ত উদ্ধৃতি থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত আকীদা ইসলামের বিশেষ কোন সম্প্রদায়ের নয়; বরং এ হচ্ছে সকল মুসলমানের মধ্যে প্রচলিত একটি সর্বজনীন আকীদা।

সমকালীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস ও তাফসীরশাস্ত্র বিশারদ শেখ আহমদ মুহাম্মাদ শাকের (ওফাত  ১৩৭৭ হি./ ১৯৫৮ খ্রি.) লিখেছেন : “মাহ্দীর আগমনে বিশ্বাস কেবল শিয়াদের সাথেই সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ, এ আকীদা মহানবী (সা.)-এর অনেক সাহাবীর বর্ণনা থেকে এমনভাবে এসেছে যে, কেউই এর সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হতে পারে না।”

এরপর তিনি ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত হাদীসসমূহ ইবনে খালদুন কর্তৃক দুর্বল বলে আখ্যায়িত করার কঠোর সমালোচনা করেন। [আহমদ মুহাম্মাদ শাকের প্রণীত (ব্যাখ্যাসহ) মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল, দারুল মাআরেফ, মিশর থেকে প্রকাশিত, ৫ম খ-, পৃ. ১৯৬-১৯৮, ১৪শ খ-, পৃ. ২৮৮)

ইখওয়ানুল মুসলিমীন সংগঠনের মুফতী সাইয়্যেদ সাবেক তাঁর গ্রন্থ আল আকাইদুল ইসলামীয়াহ্ গ্রন্থে লিখেছেন : “মাহ্দী সংক্রান্ত আকীদা আসলেই সত্য যা ঐ সব ইসলামী আকীদা ও মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত যেগুলো অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে।”

দু’জন বিখ্যাত শাফেয়ী আলেম আল্লামা গাঞ্জী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আল-বায়ান’-এ এবং শাবলানজী তাঁর গ্রন্থ ‘নুরুল আবসার’-এ ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি তা সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করে দেন’-কোরআন মজীদের এ আয়াতের ব্যাপারে সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মহানবী (সা.)-এর প্রতি মহান আল্লাহ্র এ প্রতিশ্রুতি আল মাহ্দীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে যিনি হযরত ফাতিমার বংশধর।

ইবনে তাইমীয়াহ্ (ওফাত ৭২৮ হি./১৩২৮ খ্রি.) তাঁর গ্রন্থ ‘মিনহাজুস সুন্নাহ্’য় (৪র্থ খ-, পৃ. ২১১-২১২) লিখেছেন যে, ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ অবশ্যই নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর শিষ্য যাহাবী তাঁর শিক্ষকের এ গ্রন্থের সার সংক্ষেপে এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। (মুখতাসার মিনহাজুস সুন্নাহ্, পৃ. ৫৩৩-৫৩৪)

রাবেতায়ে আলমে ইসলামী কর্তৃক ১১ অক্টোবর ১৯৭৬ তারিখে প্রদত্ত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে যে, ২০ জনেরও অধিক সাহাবী ইমাম মাহ্দী (আ.) সংক্রান্ত এসব হাদীস বর্ণনা করেছেন। এছাড়া যে হাদীসশাস্ত্রবিদগণ এসব হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং যাঁরা ইমাম মাহ্দীর ওপর বই-পুস্তক লিখেছেন তাঁদের একটি তালিকাও এ ফতোয়ার সাথে প্রদান করা হয়েছে। এ ফতোয়ায় বলা হয়েছে : হাদীসের হাফেজ এবং হাদীসশাস্ত্র বিশারদগণ প্রত্যয়ন করেছেন যে, ইমাম মাহ্দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহের মধ্যে অনেক সহীহ এবং হাসান হাদীস বিদ্যমান। এর অধিকাংশ হাদীসই বিপুল সংখ্যক সূত্রে বর্ণিত (অর্থাৎ মুতাওয়াতির বা অকাট্য)। তাঁরা আরো প্রত্যয়ন করেছেন যে, মাহ্দীর আগমনে বিশ্বাস স্থাপন ফরয এবং এটি হচ্ছে আহ্লে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদার অন্যতম। সুন্নী মাজহাবের কেবল অজ্ঞ ব্যক্তিরা ও বিদআতপন্থীরা মাহ্দী সংক্রান্ত আকীদা অস্বীকার করেছেন। (এ ফতোয়ার পূর্ণ পাঠের জন্য আল-বায়ান গ্রন্থে লেখক আল-গাঞ্জী আশ-শাফেয়ীর ভূমিকা দেখুন, বৈরুত ১৩৯৯ হি./ ১৯৭৯ খ্রি., পৃ. ৭৬-৭৯)

আহ্লে সুন্নাতের বিশিষ্ট আলেম শেখ খাজা মুহাম্মাদ পার্সা নাকশবন্দীর বক্তব্য : “আবু মুহাম্মাদ হাসান আসকারী (আ.) আহ্লে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৬ রবিউল আওয়াল ২৬০ হি. শুক্রবার ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে তাঁর পিতার সমাধির কাছে সমাহিত করা হয়। তিনি তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর ৬ বছর জীবিত ছিলেন এবং (মৃত্যুকালে) কেবল এক পুত্রসন্তান রেখে যান যিনি হচ্ছেন আবুল কাসেম মুহাম্মাদ (আ.)। তিনিই (আবুল কাসেম মুহাম্মাদ) প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা। প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা ২৫৫ হিজরীর ১৫ শাবান জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর মায়ের নাম ছিল নারজিস (রা.)। যখন তাঁর বয়স ৫ বছর তখন তাঁর পিতা ইমাম হাসান আসকারী (আ.) ইন্তেকাল করেন।”

সাইয়্যেদাহ্ হাকীমাহ্ (রা.) বিনেত আবী জাফর মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ (আ.) যিনি ছিলেন ইমাম হাসান আল-আসকারীর ফুপু, তিনি বলেছেন : “২৫৫ হিজরীর ১৫ শাবান আমি ইমাম হাসান আসকারীর বাড়িতে ছিলাম এবং তিনি আমাকে তাঁর বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করেন। ফজরের ওয়াক্ত হলে আমি দেখতে পেলাম যে, নারজিসের প্রসববেদনা শুরু হয়েছে এবং আমি সদ্যপ্রসূত একটি পরিচ্ছন্ন শিশুকেও দেখলাম। ইমাম হাসান আসকারী তাকে দু’হাতে তুলে নিয়ে তার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামাত দিলেন। এরপর তিনি আমাকে বললেন : ফুপু! এ সদ্যপ্রসূত শিশুই হচ্ছে প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা।” (ফাসলুল খেতাব, পৃ. ৪৪৩ ও ৪৪৭, তাশখন্দ থেকে মুদ্রিত গ্রন্থটির মূল নাম হচ্ছে ‘লামাহ্ আলামাতুল আউলিয়া’; আহ্লে সুন্নাতের অন্যতম মনীষী ভারতের মাদ্রাসায়ে দেওবন্দের বিখ্যাত আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানভী এ গ্রন্থের উর্দু অনুবাদ করেছেন।

শেখ ওয়াহাব ইবনে আহমাদ ইবনে আলীর বক্তব্য : “কিয়ামতের শর্তাবলীর অন্যতম ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পুনরাবির্ভাব, দাজ্জালের আবির্ভাব, আকস্মিক নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব, পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয়, কোরআন উধাও হয়ে যাওয়া, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব ও বিজয়।” এরপর তিনি বলেন : “এসব ঘটনা ঘটবে এবং ঐ সময় ঘটবে যখন ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর পুনরাবির্ভাবের প্রত্যাশা করা হবে যিনি হবেন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর পুত্র এবং ২৫৫ হিজরীর ১৫ শাবান জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি এখনো জীবিত আছেন এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হবে।” (আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াল জাওয়াহির ফী আকাইদুল আকবার, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃ. ১২৭)

আহ্লে সুন্নাতের বিশিষ্ট মনীষী ইমাম হুসাইন দিয়ার বাকরীর বক্তব্য : “ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আ.) হচ্ছেন দ্বাদশ ইমাম। আবুল কাসেম তাঁর উপাধি এবং বারো ইমামী শিয়াদের আকীদা অনুসারে তাঁর উপাধিসমূহের অন্যতম হচ্ছে আল-কায়েম (বিপ্লবকারী), আল-মাহ্দী (সুপথপ্রাপ্ত), আল-মুনতাযার (প্রতীক্ষিত), সাহেবুল আসর ওয়ায যামান (যুগের অধিপতি)। তাদের মতানুযায়ী তিনি দ্বাদশ ও সর্বশেষ ইমাম। তারা আরো বিশ্বাস করে যে, তিনি সামাররায় তাঁর মায়ের সামনে একটি কুয়ার ভেতর প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে তিনি আর বের হন নি। এ ঘটনাটি ২৬৫ অথবা ২৬৬ হিজরীতে ঘটেছিল। আর এ ঘটনাটি সত্য। তাঁর মা ছিলেন উম্মে ওয়ালাদ (ঐ দাসীকে উম্মে ওয়ালাদ বলা হয় যে তার নিজ মালিকের সন্তান গর্ভে ধারণ করে জন্ম দেয়)। তাঁর বেশ কিছু নাম, যেমন সাকীল, সুসান ও নারজিস উল্লেখ করা হয়েছে।” (তারিখুল খামিস, ২য় সংস্করণ, পৃ. ২৮৮, বৈরুত থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত)

আহলে সুন্নাতের বিশিষ্ট মনীষী ইমাম ইবনে জাওযীর বক্তব্য : মুহাম্মাদ ইবনে হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মূসা বিন জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবী তালিব (আ.)। আবুল কাসিম আপনার উপাধি এবং আপনি খলিফা ও সকল যুগের ইমাম। আপনার মায়ের নাম সাকীল। (তাযকিরাতুল খাওয়াস, পৃ. ২০৪, মিশর থেকে প্রকাশিত)

শেখ ইবনে হাজার আল-হাইসামী ইমাম হাসান আসকারী (আ.) প্রসঙ্গে লিখে গিয়ে বলেছেন : “কথিত আছে যে, তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল এবং আবুল কাসেম মুহাম্মাদ (আ.) ব্যতীত তাঁর আর কোন পুত্রসন্তান ছিল না। আবুল কাসেম মুহাম্মাদ (আ.)-এর বয়স যখন ৫ বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। কিন্তু মহান আল্লাহ্ তাঁকে (ঐ অল্প বয়সেই) জ্ঞান প্রদান করেন এবং তিনি প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা হিসাবে প্রসিদ্ধ। তিনি আত্মগোপন করে আছেন এবং কেউ জানে না তিনি কোথায় আছেন।” (আস-সাওয়ায়েকুল মুহরিকাহ্, পৃ. ২০৮, মূলতান, পাকিস্তান থেকে মুদ্রিত)

‘গ্র্যান্ড মুফতিয়ে দিয়ার’ (দেশের সর্বপ্রধান মুফতি) নামে খ্যাত আল-হাযারমা আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন ইবনে উমর আল-মসহুর আলাভীর বক্তব্য : “ শেখ ইরাকীর মতে, ইমাম মাহ্দী (আ.) ২৫৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ আলী আল-খাওয়াসের জীবদ্দশায় অর্থাৎ ৯৫৮ হিজরীতে ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর বয়স ৭০৩ বছর হয়ে থাকবে। আহমদ রামলীও বলেছেন যে, ইমাম মাহ্দী (আ.) সত্য (বাস্তবে বিদ্যমান); আর ঠিক একই কথা ইমাম আবদুল ওয়াহাব শারানীও বলেছেন।” (বাকীয়াতুল মুস্তারশিদীন, পৃ. ২৯৪, বৈরুত থেকে প্রকাশিত)

ইমাম কিরমানী নামে প্রসিদ্ধ আহমদ ইবনে ইউসুফ ওয়া মুশকীর বক্তব্য : “পিতার মৃত্যুর সময় ইমাম আবুল কাসেম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আসকারীর বয়স ছিল ৫ বছর। মহান আল্লাহ্ যেমন নবী হযরত ইয়াহ্ইয়া (আ.)-কে ঐ বয়সে জ্ঞান দিয়েছিলেন যখন তিনি ছিলেন অতি অল্পবয়স্ক শিশু, ঠিক তেমনি তিনি তাঁকে ঐ অল্প বয়সেই ঐশী ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়েছিলেন। তিনি সুন্দর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর পবিত্র বদনম-ল ছিল আলোকিত (নূরানী)।” (এসব বৈশিষ্ট্যই ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর বিবরণ প্রদানকালে হাদীসের গ্রন্থাবলীতেও উল্লিখিত হয়েছে। তারিখে আখবারুদ দুওয়াল ফী আছারিল আউয়াল, পৃ. ১১৮, বাগদাদ, ইরাক থেকে প্রকাশিত)।

আহলে সুন্নাতের আরেক মনীষী ইমাম আল্লামা শেখ আবদুল্লাহ্ বিন মুহাম্মাদ বিন আমীর আশ-শিবরাভীর বক্তব্য : “প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা ইমাম মাহ্দী ইবনে হাসান আল-খালিস (আ.) ২৫৫ হিজরীতে ১৫ শাবান সামাররায় জন্মগ্রহণ করেন। আব্বাসী শাসনকর্তার অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে ইমাম হাসান আসকারী মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর জন্মগ্রহণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। ইমাম মুহাম্মদের উপাধিগুলো হচ্ছে মাহ্দী (হেদায়েতপ্রাপ্ত), কায়েম, মুনতাযার (প্রতীক্ষিত), খালাফে সালেহ্ (পুণ্যবান উত্তরাধিকারী এবং সাহেবুয যামান; এসব উপাধির মধ্যে আল-মাহ্দী সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। (ইলা তাহাফি বেহুবিল আশরাফ, পৃ. ১৭৯-১৮০, মিশর থেকে প্রকাশিত)।

আহলে সুন্নাতের আরেক মনীষী ইমাম আল্লামা আল-হাফেয মুহাম্মাদ বিন মুতামাদ খান আল-বাদাখশানী। “নিশ্চয়ই আপনার শত্রু হবে নির্বংশ”-এ আয়াতের আবতার শব্দের ব্যাখ্যা করে বলেন : আবতার ঐ ব্যক্তি যার কোন ভবিষ্যতে আশা-আকাক্সক্ষা বা ভবিষ্যৎ বংশধারা নেই। অতঃপর তিনি বলেন: ইমাম হুসাইনের পুত্র আবুল হাসান আলী বিন হুসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.), তাঁর পুত্র আবু জাফর মুহাম্মাদ আল-বাকের (আ.), তাঁর সন্তান আবু আবদিল্লাহ্ জাফর আস-সাদেক (আ.), তাঁর সন্তান আবু ইসমাঈল মূসা আল-কাযেম (আ.), তাঁর সন্তান আবুল হাসান আলী আর-রেযা (আ.), তাঁর সন্তান আবু জাফর মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ (আ.), তাঁর সন্তান ছিলেন আবুল হাসান আলী আল-হাদী (আ.), এবং তাঁর সন্তান ছিলেন আবু মুহাম্মাদ আয-যাকী (আ.); আর তাঁর সন্তান হচ্ছেন আল-মুনতাযার আবুল কাসেম মুহাম্মাদ আল-মাহ্দী (আ.)। (নাযালুল আবরার, পৃ. ১৭৪-১৭৫; ইরাক থেকে মুদ্রিত)

আহলে সুন্নাতের বিশিষ্ট মনীষী ইমাম শেখ মুমিন বিন হাসান মুমিন আশ-শিবলানজীর বক্তব্য : “মুহাম্মাদ বিন হাসান হচ্ছেন দ্বাদশ (ইমাম)। তিনি আবুল কাসেম মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন আলী আল-হাদী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওয়াদ বিন আলী আর-রেযা বিন মূসা আল-কাযেম বিন জাফর আস-সাদেক বিন মুহাম্মাদ আল-বাকের বিন আলী যায়নুল আবেদীন বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবী তালিব (আ.)। তাঁর মায়ের নাম নারজিস এবং কেউ কেউ তাঁকে সুসান ও সাকীল বলেও উল্লেখ করেছেন। আবুল কাসেম তাঁর কুনিয়াহ্ এবং তাঁর উপাধিসমূহ হচ্ছে আল-হুজ্জাত (খোদায়ী প্রমাণ), মাহ্দী, খালাফে সালেহ্, আল-কায়েম, আল-মুনতাযার এবং সাহেবুয যামান। আল ফুসুলুল মুহিম্মাহ্র বিবরণ অনুসারে তিনিই বারো ইমামী শিয়াদের দ্বাদশ ইমাম। ইবনুল ওয়ার্দীর ইতিহাস অনুযায়ী তিনি ২৫৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন।” (নুরুল আবসার)

আহলে সুন্নাতের বিশিষ্ট মনীষী আল্লামা কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন তালহা শাফিয়ীর বক্তব্য : “আবুল কাসেম মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-খালিস বিন আলী আল-মুতাওয়াক্কিল বিন মুহাম্মাদ আল-কামিয়াহ্ বিন আলী আর-রেযা বিন মূসা আল-কাযেম বিন জাফর আস-সাদেক বিন মুহাম্মাদ আল-বাকের বিন আলী যায়নুল আবেদীন বিন হুসাইন আয-যাকী বিন আলী বিন আবী তালিব (আ.); তিনি প্রতীক্ষিত ত্রাণকর্তা। তাঁর মায়ের নাম ছিল সাকীলাহ্ এবং তিনি হাকীমাহ্ নামেও পরিচিতা ছিলেন। তাঁর নাম মুহাম্মাদ; তাঁর কুনিয়াত আবুল কাসেম; তাঁর উপাধিসমূহের মধ্যে আল-হুজ্জাত, খালাফে সালেহ্ ও আল-মুনতাযার প্রসিদ্ধ।” (মাতালিবুস সুউল ফী মানাকিবে আলে রাসূল, পৃ. ৮৯; মিশর থেকে প্রকাশিত।

তিনি উক্ত গ্রন্থে আরো লিখেছেন যে, ইমাম মাহ্দী (আ.) ইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান আল-আসকারীর পুত্র। তিনি সামাররায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি (গ্রন্থকার) তাঁর আদ দুরারুল মুনাযযাম গ্রন্থেও একই কথা উল্লেখ করেছেন।

আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম শেখ আসলাহুদ্দীন তাঁর শারহে দায়িরাহ্ গ্রন্থে লিখেছেন যে, হযরত মাহ্দী (আ.) আহলে বাইতের ইমামদের মধ্যে দ্বাদশ ইমাম। ইমাম আলী ছিলেন প্রথম ইমাম এবং ইমাম মাহ্দী হচ্ছেন সর্বশেষ ইমাম।

আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম মেখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল হামুয়ানী আশ-শাফিয়ী ‘ফারায়িদুস সিমতাইন’ গ্রন্থে আবালা খাযাঈ থেকে লিখেছেন যে, তিনি বর্ণনা করেছেন : ইমাম আলী আর-রেযা বিন মূসা (আ.) বলেছেন : আমার পরে আমার পুত্র জাওয়াদ তাকী ইমাম হবে; তার পরে তার পুত্র আলী আল-হাদী আন-নাকী ইমাম হবে। তার পরবর্তী ইমাম হবে তার পুত্র আল-হাসান আল-আসকারী; আর তার পরে ইমাম হবে তার পুত্র মুহাম্মাদ আল-মাহ্দী। তার অবর্তমানে অর্থাৎ অন্তর্ধানকালে জনগণ তার পুনরাবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। তার পুনরাবির্ভাবের পর যারা তার আনুগত্য করবে তারাই হবে মুমিন।”

আহলে সুন্নাতের অন্তত পঁয়ত্রিশ জন বিখ্যাত আলেম ইমাম মাহ্দী (আ.) সম্পর্কে ৪৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :

১.    কিতাবুল মাহ্দী : আবু দাউদ

২.    আলামাতুল মাহ্দী : জালালুদ্দীন সুয়ূতী।

৩.    আল-কাওলুল মুখতাসার ফী আলামাতিল মাহ্দী আল-মুনতাযার : ইবনে হাজার।

৪.    আল-বায়ান ফী আখবারি সাহিবিয যামান : আল্লামা আবু আবদিল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ইউসুফ আদ দামেশকী।

৫.    মাহ্দী আলে রাসূল : আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মাদ আল-হিরাভী আল-হানাফী।

৬.    মানাকেবুল মাহ্দী : আল-হাফেয আবু নাঈম আল-ইসফাহানী

৭.    আল-বুরহান ফী আলামাতিল মাহ্দী আখিরায যামান : মুত্তাকী আল-হিন্দী।

৮.   আরবাউনা হাদীসান ফীল মাহ্দী : আবদুল আলা আল-হামাদানী।

৯.    আখবারুল মাহ্দী : আল-হাফেয আবু নুআইস।

পাদটীকা

১.    হাদীস ও বর্ণনাসমূহ অনুযায়ী শান্তি ও সাম্যের সরকার ও রাষ্ট্র- যা ইমাম মাহ্দী (আ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হবে তা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শত শত বছর টিকে থাকবে। আর তারপরই শেষ বিচার দিবসের আগমন হবে। উপরিউক্ত হাদীসসমূহে যা কিছু ৭ অথবা ৯ বছর হিসাবে উল্লিখিত হয়েছে তা আসলে যখন থেকে ইমাম মাহ্দী (আ.) তাঁর মিশন শুরু করবেন তখন থেকে তাঁর দ্বারা সমগ্র বিশ্ব বিজয় করার সময়কাল।

২.    এ হাদীসে বন্ধনীর মধ্যকার এ কথাটি সহীহ্ মুসলিমের ইংরেজি অনুবাদক আবদুল হামীদ সিদ্দীকীর বক্তব্য।

৩.    আহলে সুন্নাতের একজন ইমাম শেখ ইউসুফ বিন ইসমাঈল নিবহানী তাঁর ‘জামালুল আউলিয়া’ গ্রন্থের ১৫১-১৫২ পৃষ্ঠায় (থানা ভবন, ভারত থেকে প্রকাশিত) লিখেছেন যে, মুহাম্মাদ পার্সা বুখারার অধিবাসী। তিনি নকশবন্দী সিলসিলাার ইমাম এবং একজন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক।

সূত্র : তেহরান থেকে প্রকাশিত আল-তাওহীদ, তেহরান, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০০৩ সংখ্যা। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ‘আসরে জুহুর’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসাবে সন্নিবেশিত অংশ থেকে সংগৃহীত।