সোমবার, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

হযরত যায়নাব বিনতে আলী (আ.)

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮ 

হযরত যায়নাব বিনতে আলী (আ.)
মো. আশিফুর রহমান
হযরত যায়নাব (আ.) ৫ম (মতান্তরে ৬ষ্ঠ) হিজরির ৫ই জমাদিউল আউয়াল পবিত্র মদিনা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হযরত আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা (আ.)-এর তৃতীয় সন্তান। তাঁর জন্মের সময় তাঁর নানা মহানবী (সা.) মদিনার বাইরে অবস্থান করছিলেন। এজন্য হযরত ফাতিমা (আ.) হযরত আলীকে এই শিশুসন্তানের নাম রাখার জন্য অনুরোধ করেন। হযরত আলী (আ.) তাঁর প্রথম দুই সন্তান ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের নামকরণের মতোই তাঁর নামকরণের বিষয়টি মহানবী (সা.)-এর জন্য রেখে দেন। মহানবী (সা.) তিন দিন পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলে হযরত আলী (আ.) তাঁকে কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সুসংবাদ দান করেন এবং তাঁর নাম রাখার জন্য অনুরোধ করেন। মহানবী (সা.) তাঁর নামকরণের ব্যাপারে ওহীর অপেক্ষা করতে থাকেন। হযরত জীবরাইল (আ.) অবতীর্ণ হয়ে বলেন : ‘হে আল্লাহর রাসূল! মহান প্রভু আপনাকে সালাম জানিয়ে বলেছেন : এ শিশুর নাম রাখুন ‘যায়নাব’, কেননা, এ নামকে লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করেছি।’ মহান আল্লাহর কাছে এ নামটি এত সম্মানিত কেন তা হযরত যায়নাবের জীবন ও কর্মের দিকে লক্ষ্য করলেই আমরা বুঝতে পারব।
মহানবী (সা.) তাঁর নাতনিকে তাঁর নিকট আনতে বললেন। নবজাতক এ শিশুকে মহানবীর কোলে দিলে তিনি তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন ‘যায়নাব’ যার অর্থ হলো ‘পিতার সৌন্দর্য’।
কুনিয়াত ও উপাধি
হযরত যায়নাব (আ.)-এর কুনিয়াত হচ্ছে উম্মুল হাসান, উম্মু কুলসুম। হযরত যায়নাব (আ.)-এর জ্ঞান, ধার্মিকতা ও চরিত্রের বিভিন্ন দিক এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছিল যে, মুসলমানরা তাঁকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধিগুলো হচ্ছে : সিদ্দিকাহ আস-সোগরা, ওয়ালিয়াতুল্লাহিল উজমা, নামুসুল কোবরা, শারিকাতুল হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম), আলেমাহ গায়রু মুয়াল্লিমাহ, ফাদ্বিলাহ, কামিলাহ ইত্যাদি।
শৈশবকাল
হযরত যায়নাবের শৈশবকাল মহানবী (সা.), হযরত আলী, হযরত ফাতেমা ও তাঁর দুই ভাইয়ের সান্নিধ্যে অতিবাহিত হয়। ইমাম হোসাইন (আ.)-এর সাথে তাঁর ছোট বোন হযরত যায়নাবের অন্যরকম সম্পর্ক ছিল। হয়তো ভবিষ্যতে ইমাম হোসাইনের ওপর যে বিপদ নেমে আসবে সেই বিপদের সাথি হতেই মহান আল্লাহ তাঁদের মধ্যে এই সম্পর্ক তৈরি করে দিয়েছিলেন। বর্ণিত হয়েছে যে, যখন হযরত যায়নাব শিশু অবস্থায় ক্রন্দন করতেন তখন ইমাম হোসাইনের কোলে দেয়া হলেই তিনি শান্ত হয়ে যেতেন। ইমাম হোসাইনের সান্নিধ্যেই যেন তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি লাভ করতেন। আর একারণেই যখন বয়োপ্রাপ্তির পর হযরত যায়নাবের বিবাহের সম্বন্ধ আসতে থাকে তখন তিনি এ শর্তে বিবাহে রাজি হন যে, প্রতিদিন তাঁকে ইমাম হোসাইনের সাথে দেখা করতে যেতে দিতে হবে এবং ইমাম হোসাইন যেখানেই সফর করবেন তাঁকেও সেই সফরে তাঁর সাথে যেতে দিতে হবে। হযরত জাফর তাইয়্যারের সন্তান হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর এ শর্তে রাজি হলে তাঁদের মধ্যে বিবাহ সম্পাদিত হয়। বিয়ের পর প্রতিদিন তিনি সকাল-বিকাল ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আসতেন।
মাত্র ছয় বছর বয়সে হযরত যায়নাব তাঁর নানা ও পরম মমতাময়ী মাতাকে হারান। এরপর হযরত আলী তাঁকে সযতেœ প্রতিপালন করেন।
শিক্ষা
হযরত যায়নাব (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের সদস্যদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পুণ্যময় জীবন যাপন, ইবাদতে নিষ্ঠা, সাহসী ও নির্ভীকচিত্ত হওয়া, অত্যাচারের মোকাবেলা, ধৈর্যধারণ ইত্যাদি শিক্ষা লাভ করেন নিজ পরিবার হতে। মায়ের ইন্তেকালের পর হযরত আলী (আ.) তাঁকে সকল বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেন। হযরত যায়নাবের শিশুকাল থেকেই হযরত আলী (আ.) তাঁর সাথে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতেন। তিনি এমনভাবে তাঁকে শিক্ষা দেন যে, খুব অল্প বয়সেই হযরত যায়নাব (আ.) পা-িত্য অর্জন করেন। ইমাম হোসাইনের সাথে সকাল-বিকাল দেখা করার বিষয়টি কি কেবলই সাক্ষাৎ ছিল? আমরা জানি না, হয়তো তাঁরা ধর্মের কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতেন, হয়তো নানা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসলাম প্রচার, তাঁর জীবনী ও তাঁর শিক্ষা, নানীর আত্মত্যাগ, বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ, ধর্মের গভীর বিষয়, কোরআনের তাফসীর, হাদিসের আলোচনা, ইসলামের খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা করতেন।
যাই হোক একথাটিও বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত যায়নাব (আ.) অন্তর্জ্ঞানের অধিকারিণীও ছিলেন। এজন্য তাঁর অন্যতম উপাধি হলো ‘আলেমাহ গায়রু মুয়াল্লিমাহ’ অর্থাৎ শিক্ষক ব্যতীতই শিক্ষিতা।
হযরত যায়নাব (আ.) মদীনায় তাঁর গৃহে নিয়মিত ধর্মীয় ক্লাস চালু করেন। ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি নারীদেরকে তাঁর ক্লাসে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাতেন। তিনি বলতেন : ‘তোমাদের মধ্যে কারা কোরআনের সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী?’ একদিন তাফসীর, একদিন তাজভীদ, একদিন আকীদা-বিশ্বাস, একদিন আহকাম এভাবে সপ্তাহের দিনগুলোকে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেয়ার জন্য নির্ধারণ করেন। যখন তিনি তাঁর পিতার সাথে কুফায় চলে যান তখন সেখানেও তিনি একইভাবে ধর্মীয় ক্লাস চালু করেন।
তিনি যেমন অন্যদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন তেমনি নিজের সন্তানদেরও একই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁদেরকে ইসলামের পথে আত্মোৎসর্গী করে গড়ে তুলেছিলেন।
দানশীলতা
হযরত যায়নাব ছিলেন একজন দানশীলা নারী। তাঁর এ দানশীলতার বৈশিষ্ট্য শিশুকাল থেকেই দেখা যায়। একবার হযরত আলী (আ.) ঘরে একজন মেহমান সাথে নিয়ে আসেন। মেহমানকে দেয়ার মতো কোন খাবার ঘরে আছে কিনা তা তিনি হযরত ফাতিমার কাছে জানতে চান। হযরত ফাতিমা বলেন, শুধু একটি রুটি হযরত যায়নাবের জন্য রয়েছে। হযরত যায়নাব একথা শুনে তাঁর মাকে বলেন যেন তিনি মেহমানকে সেই রুটিই খাওয়ার জন্য দিয়ে দেন। তাঁর এ আত্মত্যাগ চরম কষ্টের মধ্যেও দেখা গেছে। যখন দামেশকে ইয়াযীদের কারাগারে তাঁরা বন্দি ছিলেন সে সময় একদিন হযরত যায়নুল আবেদীন (আ.) তাঁর ফুফু হযরত যায়নাবকে বসে ইবাদত করতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন : ‘হে ফুফু! আপনাকে সবসময় দাঁড়িয়ে ইবাদতে রত দেখেছি, কিন্তু আজকে আপনি বসে ইবাদত করছেন কেন?’ হযরত যায়নাব জবাবে বলেছিলেন যে তিন দিন ধরে তাঁর জন্য বরাদ্দ রুটিগুলো তিনি বাচ্চাদেরকে দিয়ে দিয়েছেন। আর তাই তাঁর শরীরে দাঁড়িয়ে ইবাদত করার মতো শক্তি ছিল না।
হযরত যায়নাবের কাছে যখনই কেউ কোন কিছু চেয়েছে সে খালি হাতে ফেরে নি। এমনই ছিল হযরত যায়নাবের দানশীলতা।
ইবাদত-বন্দেগি
হযরত যায়নাব ছিলেন ইবাদতে একনিষ্ঠ। তিনি ইবাদতের এই একাগ্রতা শিক্ষা লাভ করেছিলেন তাঁর মা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা (আ.)-এর কাছ থেকে। হযরত ফাতিমা সারারাত জেগে জেগে ইবাদত করতেন। হযরত যায়নাব পাশে থেকে তা দেখতেন এবং সেভাবে চেষ্টা করতেন। কোন প্রতিকূলতাই হযরত যায়নাবকে ইবাদত থেকে বিরত রাখতে পারে নি। এমনকি আশুরার রাতেও আমরা তাঁর ইবাদতে একাগ্রচিত্ততার প্রমাণ পাই। ইমাম হোসাইনের মেয়ে ফাতিমা আশুরা রাতে হযরত যায়নাবের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, আশুরার আগের রাতেও হযরত যায়নাব তাঁর ইবাদতের স্থানে দাঁড়ান এবং আল্লাহর কাছে দোয়ায় মশগুল হন। অথচ সেটি ছিল এমন রাত যে রাতে তাঁদের কেউ ঘুমান নি এবং তাঁদের কান্নার আওয়াজও কখনো থামে নি।
ইবাদত কেবল নামায পড়া ও রোযা রাখা বা তাসবীহ পাঠের মধ্যে সীমিত নয়। বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যে কোন কর্মকা-ই ইবাদত বলে পরিগণিত। আর এটি হযরত যায়নাবের চরিত্রে দেখা যায়। তিনি সকল কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করেছেন। দুটি সন্তানকে কোরআন ও আহলে বাইতের জন্য উৎসর্গ করেছেন। নিজে বন্দ্বিত্ব বরণ করেছেন। ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.)-কে রক্ষা করেছেন, ইমাম হোসাইনের বিপ্লবকে বয়ে নিয়ে গেছেন। ইসলামের শিক্ষা প্রচার করেছেন। এভাবে আমৃত্যু তিনি ইবাদতপূর্ণ একটি মহান জীবন অতিবাহিত করেছেন।
ধৈর্যশীলতা
ধৈর্যশীলতা তাঁর রক্তে মিশে ছিল। ৬ বছর বয়সের সময় নানার ওফাত-পরবর্তী বেদনাদায়ক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন, তাঁর মা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা যাহরার কষ্টকর জীবনকে প্রত্যক্ষ করেছেন। বাবা আলী (আ.)-এর সাথে উম্মতের আচরণে ব্যথিত হয়েছেন। নিজের চোখের সামনে পিতা আসাদুল্লাহকে শহীদ হতে দেখেছেন। বড় ভাই ইমাম হাসানের শরীর বিষে নীল হতে দেখেছেন। কিন্তু ধৈর্যের পরীক্ষার অনেকটাই বাকি ছিল- যে ঘটনার ভবিষদ্বাণী তিনি তাঁর পিতার মুখেই শুনেছিলেন। হযরত আলী (আ.) তাঁকে বলেছিলেন : ‘…আর আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তুমি এবং তোমার পরিবারের নারীরা বন্দি অবস্থায় আছ এই শহরে, অসহায় ও ভয়াবহ অবস্থায়, আর আমি ভয় পাচ্ছি- না জানি লোকেরা তোমাদের আঘাত করে। সহ্য কর, সহ্য কর, তাঁর শপথ যিনি বীজ ভেঙ্গে দু’ভাগ করেন এবং মানুষ সৃষ্টি করেন, ঐদিন এ পৃথিবীর ওপর আল্লাহর আর কোন বন্ধু থাকবে না শুধু তোমরা সবাই, তোমাদের বন্ধুরা এবং তোমাদের অনুসারীরা ছাড়া।’
হযরত যায়নাব নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করেছিলেন সেই কষ্টের দিনগুলোকে পার করার জন্য। শুধু মুসলমান নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির সামনে হযরত যায়নাব ধৈর্যশীলতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিপদে-আপদে ও জীবনের প্রতিটি চড়াই-উৎরাইয়ে নিজেকে কিভাবে স্থির রাখতে হয় তার উজ্জ্বল নমুনা হযরত যায়নাব। কারবালার শহীদদের ক্ষুধা-তৃষ্ণা ছিল তিন দিন। তাঁদের কষ্ট ছিল। কিন্তু হযরত যায়নাব এরপর শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সয়েছেন আমৃত্যু। কীভাবে তিনি খাবার মুখে দিতেন, কীভাবে তিনি পানি পান করতেন, যে ভাইকে না দেখে একটি দিনও থাকতে পারতেন না কীভাবে তিনি সেই ভাইয়ের বিরহ সহ্য করতেন, কীভাবে সন্তানদের হারানোর বেদনা সহ্য করতেন- দুটি সন্তান যে ঘরে থাকত সে ঘরে তিনি কী করে প্রবেশ করতেন? কীভাবে নিজেকে সামলে নিতেন?
মহান আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ
হযরত যায়নাব ছিলেন মহান আল্লাহর প্রতি উৎসর্গিতপ্রাণ। তিনি ছিলেন সেই মহীয়সী নারী যিনি তাঁর শহীদ ভাইদের, সন্তানদের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীর কারবালার ময়দানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেও বলেন, ‘আমি সৌন্দর্য ছাড়া আর কিছুই দেখি না।’
দামেশকের রাজপ্রাসাদে হয়তো ইয়াযীদ চেয়েছিল মহানবীর পরিবারের দুর্দশার বর্ণনা শুনতে, কারবালার ঘটনার করুণ বর্ণনা শুনতে। তাই সে হযরত যায়নাবকে জিজ্ঞেস করে যে তিনি কারবালায় কী দেখেছেন। কিন্তু হযরত যায়নাব ইয়াযীদকে চমকে দিয়ে জবাব দেন : ‘আমি সৌন্দর্য ছাড়া কিছুই দেখি নি।’
তিনি ইয়াযীদকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে কাজের জন্য আহলে বাইতের সদস্যরা দায়িত্বপ্রাপ্ত সে দায়িত্ব তাঁরা এত সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন যার সাথে কোন কিছুর তুলনা হয় না। এমন নিষ্ঠার সাথে আল্লাহর আনুগত্যই তো সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বসুন্দর।
মহান আল্লাহর প্রতি কতটুকু নিবেদিতপ্রাণ ও আস্থাবান হলে এ কথা বলা যায় তা আমাদের পক্ষে বোঝা প্রায় অসম্ভব। তাঁর কথা যেন ইমাম হোসাইন (আ.)-এর এ কথারই প্রতিধ্বনি- ‘(হে আল্লাহ) আপনার ফায়সালায় আমি সন্তুষ্ট।’
বাগ্মী হযরত যায়নাব
হযরত যায়নাব ছিলেন অত্যন্ত বাগ্মী। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার পর কুফা ও শামের পথে এবং ইয়াযীদের দরবারে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এটি হঠাৎ করেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে নয়। তিনি বাগ্মিতার শিক্ষা নিয়েছিলেন তাঁর বাবা আলী মুর্তার্যা থেকে, তাঁর মা হযরত ফাতিমা থেকে। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি খেলাফত ও ফাদাক ফলের বাগান সম্পর্কিত হযরত ফাতিমার দুটি প্রসিদ্ধ বক্তব্য হুবহু বর্ণনা করেছেন। শুধু বর্ণনা নয়, হযরত ফাতিমা যে ভঙ্গিতে ও ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন হযরত যায়নাব সেভাবেই তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বাগ্মিতা শিখেছিলেন ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন থেকে।
কুফার বাজারে হযরত যায়নাব যখন ভাষণ দেন তখন সেখানে উবায়দুল্øাহ ইবনে যিয়াদের নিয়োগ করা হাজারেরও বেশি লোক হৈচৈ করছিল যাতে তাঁর কথা কেউ শুনতে না পায়। হযরত যায়নাব ভাষণ দেয়ার আগে শুধু হাত দিয়ে ইশারা করেন। তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্বে প্রতিটি মানুষ নিশ্চুপ হয়ে যায়। বলা হয়েছে, তাঁর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত যে শক্তি ছিল তা দিয়ে তিনি তাঁর শত্রুদেরকে পরাভূত করেন।
হযরত যায়নাব কুফাবাসীকে প্রচ-ভাবে তিরস্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘… হে কুফাবাসী! হে অহংকারী ব্যক্তিরা! হে প্রতারক ব্যক্তিরা! হে পেছনে পলায়নকারীরা! শুনে রাখ, তোমাদের কান্না যেন কখনো না থামে এবং তোমাদের বিলাপ যেন কখনো শেস না হয়। নিশ্চয়ই তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে সেই নারীর মতো যে নিজেই তার সুতার প্যাঁচ খুলে ফেলে তা প্যাঁচানোর পর।’
ইমাম হোসাইনকে হত্যার জন্য তিনি কুফাবাসীকে দায়ী করেন, যদিও প্রত্যক্ষভাবে হত্যা করেছিল শিমার। তিনি বলেন, ‘…দুর্ভোগ হোক তোমাদের, তোমরা কি জান তোমরা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রিয় সন্তানের মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করেছ? এবং কী অঙ্গীকার তোমরা তার সাথে ভঙ্গ করেছ? এবং তার কত প্রিয় পরিবারকে তোমরা রাস্তায় বের করে এনেছ? এবং তাদের মর্যাদার কোন আবরণ তোমরা তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছ? এবং কোন রক্ত তোমরা তার কাছ থেকে ঝরিয়েছ?…’
তিনি আরো বলেন, ‘কী উত্তর দিবে যখন নবী জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা ছিলে শেষ উম্মত, কেমন আচরণ করেছ তোমরা আমার বংশ ও আমার সন্তানদের সাথে, যারা ছিল সম্মানিত, যাদের কতককে বন্দি করেছিলে এবং তাদের কতককে রক্তে ভিজিয়েছ?…’
একইভাবে তিনি বাগ্মীতার স্বাক্ষর রাখেন ইয়াযীদের দরবারে। ইয়াযীদ তাঁকে পরিহাস করতে চাচ্ছিল, চাচ্ছিল হযরত যায়নাবকে ব্যথায় জর্জরিত করতে, চাচ্ছিল তাঁর মনোবল ধসিয়ে দিতে। কিন্তু হযরত যায়নাব এত সাহসী প্রতিক্রিয়া দেখান যে, ইয়াযীদ হতভম্ব হয়ে যায়।
সাহসিকতা
যায়নাব কেবল সুবক্তাই ছিলেন না; তিনি প্রভূত মানসিক শক্তির অধিকারী ও সাহসী ছিলেন। তিনি অত্যাচারীদের ভয়ে ভীত হন নি। কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার পর কুফায় উবাযদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের প্রাসাদে হযরত যায়নাব অতুলনীয় সাহসিকতা প্রদর্শন করেন। যখন ইবনে যিয়াদ যায়নাবের পরিচয় পায় তখন তাঁকে বলে : ‘সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাদেরকে অপমানিত করেছেন, হত্যা করেছেন এবং তোমাদের মিথ্যাকে প্রকাশ করে দিয়েছেন।’ উত্তরে হযরত যায়নাব বলেন যে, তখন এমন কারণে মৃত্যু অসম্মানের নয়; বরং অসম্মান তাদের ভাগ্যে যারা পাপী।
তিনি বলেন : ‘প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য যিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাদেরকে ভালোবেসেছেন এবং আমাদের কাছ থেকে সব অপবিত্রতা দূর করেছেন। নিশ্চয়ই উদ্ধত ব্যক্তি অপমানিত হয় এবং বিকৃতমনা মিথ্যা বলছে, আর এগুলো আমাদের কাছ থেকে বহু দূরে এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।’ ইবনে যিয়াদ বলল : ‘আল্লাহ তোমাদের পরিবারকে কী করেছেন।’ তিনি বললেন : ‘তিনি তাঁদের জন্য শাহাদাত পছন্দ করেছেন এবং তাঁরা দ্রুত তাদের বিশ্রামের জায়গার দিকে এগিয়ে গেছেন, এরপর আল্লাহ তোমাকে মুখোমুখি একত্র করবেন এবং তাঁরা তোমার বিচার করবেন এবং তাঁর সামনে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন।’
ইবনে যিয়াদ হযরত যায়নুল আবেদীন (আ.)-কে হত্যা করতে চাইলে তিনি বলেন : ‘হে যিয়াদের সন্তান! তুমি আমাদের যথেষ্ট রক্ত ঝরিয়েছ।’ তিনি ইমাম যায়নুল আবেদীনকে আগলে নিয়ে বললেন : ‘আল্লাহর শপথ, আমি তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হব না। যদি তুমি তাকে হত্যা করতে চাও, তাহলে তার সাথে আমাকেও হত্যা কর।’ (শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস, ২য় খ-, পৃ. ৩৪) ইবনে যিয়াদ তার অসদুদ্দেশ্য ত্যাগে বাধ্য হয়।
হযরত যায়নাব একই ভূমিকা পালন করেন। হযরত যায়নাব ইয়াযীদের দরবারে তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় বলেন : ‘তুমি বলপূর্বক শাসক হয়েছ এবং জনগণকে অত্যাচার করতে তুমি তোমার ক্ষমতার অপব্যবহার করছ।’
তিনি আরো বলেন : ‘হে ইয়াযীদ! তুমি এ মহাঅপরাধ করার পর নিজেকে পাপী ও অপরাধী না ভেবে এবং এ অপরাধ কত বড় তা চিন্তা না করে বলছ : ‘হায়! আমার পিতারা যদি এখানে উপস্থিত থাকত!’ তুমি কি মনে কর তারা এ কথা শুনে আনন্দে অভিভূত হয়ে তোমাকে বলত : ‘হে ইয়াযীদ! তোমার হাত পঙ্গু না হোক!’ তুমি এ ধরনের ঔদ্ধত্যমূলক কথা বলছ এবং বেহেশতের যুবকদের সর্দারের দাঁতে আঘাত করছ! তুমি কতটা নির্লজ্জ! হ্যাঁ, এরূপ উদ্ভট ও অসংগত কথা তোমার জন্যই সাজে। কারণ, তুমি হচ্ছ ঐ ব্যক্তি যে পূর্বের ক্ষতকে উন্মুক্ত করেছ এবং যার হাত মুহাম্মাদ (সা.)-এর বংশধরদের রক্তে রঞ্জিত। তুমি আবদুল মুত্তালিবের বংশের তারকাদের হত্যা করেছ এবং আমাদের মূলকে কর্তন করেছ। আর এখন আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে পূর্বপুরুষদের ডাকছ, আর ভাবছ তারা তোমার আহ্বান শুনতে পাচ্ছে। শীঘ্রই তুমিও তাদের সাথে মিলিত হবে এবং এমন শাস্তির সম্মুখীন হবে যে, তখন আকাক্সক্ষা করবে, যদি পূর্বেই তোমার হাতগুলো পঙ্গু আর তোমার জিহ্বা মূক হয়ে যেত।’- ইবনে তাইফুর, বালাগাতুন্নিসা, পৃ. ৩৪।
কারবালার ঘটনা প্রচার ও জনসাধারণকে জাগ্রত করা
যদি প্রশ্ন করা হয়, কে কারবালার ঘটনাকে অমর করেছেন? ইয়াযীদের সেনাবাহিনী কারবালার মাটিতে যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তা মানুষের কাছে সবিস্তারে পৌঁছে দিয়েছেন কে? কে কারবালার বিপ্লবের কারণ ও মর্মবাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? এর উত্তর হলো হযরত যায়নাব (আ.)- ইমাম হোসাইন (আ.)-এর বোন। যিনি তাঁর সাথি হয়েছিলেন মদীনা থেকে মক্কায়, অতঃপর মক্কা থেকে কারবালায় এবং যিনি নিজের কাঁধে এ ঘোষণা প্রচারের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন যে, কোন নীতি ও আদর্শ সমুন্নত রাখতে ইমাম হোসাইন (আ.) জীবন দিয়েছেন!
ইয়াযীদ ইমাম হোসাইন (আ.) সহ কারবালার শহীদদেরকে ‘বিদ্রোহী’ বলে অপপ্রচার চালানোর ও বন্দিদেরকে জিম্মি হিসেবে প্রদর্শন করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল তা নস্যাৎ করে দেন হযরত যায়নাব। ইয়াযীদ শহীদদের মাথাগুলো প্রকাশ্যে প্রদর্শন ও পরিবারের সদস্যদেরকে জনসাধারণের সমাগম স্থল দিয়ে হেঁটে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। হযরত যায়নাব এটাকেই সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।
হযরত যায়নাব কুফা ও শামের পথে পথে জ্বালামীয় বক্তব্য প্রদান এবং অজ্ঞ মানুষজনকে জাগ্রত করেছেন- যারা ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়ার বিষাক্ত অপপ্রচার দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল। হযরত যায়নাব (আ.) মহানবীর আহলে বাইতকে মানুষের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আহলে বাইতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের যে স্রােত বয়ে যাচ্ছিল তা তিনি প্রতিহত করেছেন, বরং তিনি স্রােতকে বিপরীত দিকে প্রবাহিত করেছেন। যে মুসলমানরা হযরত আলীর মসজিদে শহীদ হবার ঘটনায় আশ্চর্যান্বিত হয়েছিল সে মুসলমানদের সামনে আহলে বাইতের পরিচয় এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে তারা চমকে উঠেছিল। তিনি তাদের সামনে বনু উমাইয়্যার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছিলেন।
তিনিই সকলের সামনে তুলে ধরেন যে, কারবালার ঘটনা কোন ক্ষমতা দখলের লড়াই ছিল না। এটি ছিল ইসলামের প্রতিরক্ষার সংগ্রাম, মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদার নীতিকে সমুন্নত করার জন্য একটি বীরত্বগাথা- সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঘটনা। তিনি প্রচার করেছেন যে, ইমাম হোসাইন (আ.) স্বৈরাচারী ও উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের আনুগত্য করাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন- যা খেলাফতের মুখোশ পরিধান করেছিল এবং এভাবে তিনি ইসলামের আত্মাকে রক্ষা করেছিলেন।
হযরত যায়নাব কেবল ঘটনা বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হন নি। তিনি জনগণকে তিরস্কার করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য কুফা ও শামে ইয়াযীদের বাদশাহীর ভিতে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল। এমনকি ইয়াযীদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাদশা হতে অস্বীকার করে। সে অত্যাচারী উমাইয়্যা রাজবংশকে তিরস্কার করে শাসনক্ষমতা ছেড়ে দেয়।
নবুওয়াতি মিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
আল্লাহর দ্বীন প্রচার করাই ছিল সকল নবী-রাসূলের মিশন। মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন পরিপূর্ণভাবে প্রচারিত হয়। সেই দ্বীন রক্ষার দায়িত্ব বর্তেছিল ইমাম হোসাইন (আ.)-এর ওপর। তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন এ কাজে এবং এর দায়িত্ব অর্পণ করে যান হযরত যায়নাবের ওপর। হযরত যায়নাব ছাড়া এ মিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব ছিল না। আর হযরত যায়নাবও তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.)-কে সান্ত¡না দান
যখন ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) কারবালার শহীদদের জন্য ভীষণভাবে শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েন সে সময় হযরত যায়নাব তাঁকে বলেন : ‘হে আমার নানা, বাবা ও ভাইয়ের প্রতিচ্ছবি! কেন তুমি তোমার জীবনকে বিপদাপন্ন করছ?’ ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) জবাবে বলেন : ‘কেন আমি অস্থির হব না, কেন আমি আমার জীবন বিপদাপন্ন করব না, যখন আমি দেখছি আমার মাওলা, আমার ভাইয়েরা, চাচারা, ভাইয়েরা এবং আমার পরিবার রক্ত আর ধুলায় মেখে মাটিতে গড়িয়ে পড়েছে আবরণহীন ও বস্ত্রহীন অবস্থায়, মরুভূমিতে? তাদের কাফনও পড়ানো হয় নি, দাফনও করা হয় নি, কেউ তাদের পাশে নেই, না কোন মানুষ তাদের চারপাশে ঘুরছে, যেন তারা তুর্কি অথবা দায়লামি বংশ।’ তখন হযরত যায়নাব তাঁকে সান্ত¡না দিয়ে বলেন : ‘তুমি যা দেখেছ তার কারণে স্থিরতা হারিও না, আল্লাহর শপথ, তোমার বাবা ও তোমার দাদা, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে উপদেশ লাভ করেছেন যেন এ মারাত্মক দুর্যোগের তাপ সহ্য করেন। আর আল্লাহ এ উম্মতের একদলের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছেন যাদেরকে এ পৃথিবীর ফিরআউনের মতো ব্যক্তিরা চেনে না, কিন্তু তারা আকাশে বাসিন্দাদের মাঝে সুপরিচিত যে, তারা এ দেহগুলোকে জড়ো করবে এবং দাফন করবে। আর তারা তোমার বাবার কবরের মাথার দিকে একটি নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করবে কারবালার ভূমিতে, যা চিরদিন থাকবে এবং কখনোই মুছে ফেলা হবে না। আর যদি কুফরের নেতারা এবং পথভ্রষ্টদের সমর্থকরা তা মুছে ফেলতে চায়, এর নিদর্শন না কমে বরং প্রচুর সংখ্যায় বাড়তেই থাকবে এবং এর বিষয়টি দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে।’- শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস, ২য় খ-, পৃ. ১৪
শোক মজলিশের প্রচলনকারী
হযরত যায়নাব (আ.) ইমাম হোসাইনের জন্য শোক মজলিশের প্রচলনকারী। ইয়াযীদের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পাবার পর হযরত যায়নাব ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) এর মাধ্যমে ইয়াযীদকে একটি বাড়ি খালি করে দিতে এবং শহীদদের কর্তিত মাথাগুলো সহ তাঁদের জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিতে বলেন। তিনি সেই বাড়িতে সাতদিন অবস্থান করেন। সকল বন্দি ও দামেশকের নারীদের নিয়ে তিনি শোকানুষ্ঠান করেন। মদীনায় ফিরে হযরত যায়নাব একইভাবে শোকানুষ্ঠান করতে থাকেন।
ইন্তেকাল
হযরত যায়নাব কারবালার ঘটনার পর প্রায় দু’বছর বেঁচেছিলেন। ৬২ হিজরিতে ৫৭ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাযার বর্তমান সিরিয়ায় যায়নাবিয়াতে অবস্থিত।