বৃহস্পতিবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

হযরত আসমা- ইসলামের ইতিহাসের একজন আত্মত্যাগী মহিলা

পোস্ট হয়েছে: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৩ 

news-image

ইসলামের শুরুতে মহানবী (সা.) যখন তাঁর নিকট আত্মীয়দের সত্যধর্ম ইসলামের দিকে আহ্বানের জন্য আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হন তখন তাঁর আত্মীয়দের মধ্যে অনেকে এই দাওয়াত গ্রহণ করেন। তবে প্রকাশ্যভাবে রাসূলের অনুসারী হওয়া তখন ছিল বিপজ্জনক। কারণ, কেউ এ নতুন বিপ্লবী মতাদর্শ গ্রহণ করলে মক্কার প্রবীণ লোকেরা তাঁর প্রতি যে নির্দয় আচরণ করবে এটা ছিল পরিষ্কার ব্যাপার। কিন্তু এতদসত্ত্বেও বলা যায় যে, হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর অনুসারিগণ এ বাধা অতিক্রম করেছিলেন।

প্রথম পর্যায়ে যাঁরা তাঁর অনুসারী হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেক সাহসী মহিলাও ছিলেন যাঁরা মূর্তিপূজা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে আমরা আসমা বিনতে আমিসের নাম গভীর শ্রদ্ধার সংগে স্মরণ করতে পারি। আসমা ইসলাম গ্রহণের প্রারম্ভ থেকেই একজন সম্মানিতা মহিলা হিসেবে সমাদৃত হয়ে এসেছেন। ইসলামের আদর্শ বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি কৃতিত্বের পরিচয় প্রদান করেন। তাঁর এই নিরলস এবং বিরামহীন কর্মতৎপরতা বিশ্বাসীদের অন্তর জয় করেছিল এবং তিনি বিপুল শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হন।

তাঁর স্বামী ছিলেন আবু তালিবের পুত্র জাফর। আর তিনি হযরত (সা.)-এর একজন অকৃত্রিম এবং আত্মত্যাগী অনুসারী ছিলেন। ইসলামের প্রথম যুগে তিনি অন্য মুমিনদের সংগে ইথিওপিয়ায় হিজরত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন। মক্কায় যেহেতু মুসলমানদের ওপর নির্মম অত্যাচার চলছিল তাই ইথিওপিয়ার খ্রিস্টান বাদশার নিকট সেখানে বসবাসের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছিল। আসমা তাঁর স্বামীকে সাথে করে অন্যান্য বিশ্বাসী মুসলমানের সংগে বিদেশের পথে যাত্রা করেন। আসমা জন্মভূমি ত্যাগের এই কঠিন দুঃখ-কষ্ট সহজেই গ্রহণ করে নেন। এই ছোট্ট কাফেলাটি আবু সুফিয়ানের লোকদের আসন্ন হামলার কথা চিন্তা করে শংকিত। কাফেলাটি অবশ্য নিরাপদেই ইথিওপিয়া পৌঁছতে সক্ষম হয় এবং ইথিওপিয়ার রাজার সংগে আলাপ আলোচনার পর তাঁরা সেখানে অবস্থানের অনুমতি লাভ করেন এবং এতদসত্ত্বেও ইসলাম প্রচারে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

কয়েক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মহানবী (সা.)-এর নির্দেশে তিনি সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। তাদের প্রত্যাবর্তনের কিছুদিনের মধ্যেই আসমার স্বামী শাহাদাত বরণ করেন।

মহানবী (সা.) জাফরকে অত্যাধিক স্নেহ করতেন। তাই তিনি এ ঘটনার পর আসমার গৃহে আগমন করেন। তিনি শিশুসন্তানদের তাঁর নিকট হাজির করতেন বলেন। অতঃপর তিনি কাঁদতে আরম্ভ করেন। আসমা বলেন যে, ক্রন্দনে নবী করিম (সা.)-এর গ-দেশ বেয়ে যে অশ্রু বর্ষিত হয়েছিল তা ছিল শুভ্র মুক্তা কণার মতো। আসমা মহানবীকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাঁর স্বামীর কোন সংবাদ আছে কিনা। মহানবী (সা.)

(নিউজলেটার, মার্চ ১৯৯১)