শনিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

হজ : ভালোবাসার সফর

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ৩০, ২০১৮ 

‘এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা করে দাও, যেন তারা তোমার নিকট পায়ে হেঁটে এবং সব রকমের শীর্ণকায় বাহনে করে দূর-দূরান্ত হতে (গভীর উপত্যকা অতিক্রম করে) আসে।’- সূরা হজ : ২৭
সেই মহিমান্বিত মৌসুম আরো একবার ফিরে এসেছে। চান্দ্রবর্ষের শেষের দিকে এসে ঐশ্বর্যম-মণ্ডিত দস্তরখান খোলা হয়েছে। হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ঐশী আহ্বান-যা কেবল জড় পাহাড়গুলো শুনেছিল-হাজার বছর পর সেই ঊষর উপত্যকায় লাখো-কোটি মানুষকে টেনে এনেছে।
আমরা এবছর হজ পালন করি বা না-করি, আসুন হজ থেকে আমাদের যা কিছু শিক্ষা লাভ করা উচিত তা থেকে কয়েকটি বিষয়ের দিকে আমরা মনোযোগ নিবদ্ধ করি।
১. পবিত্র কাবার চারিদিকে তাওয়াফ
তাওয়াফ হলো এ বিষয়টির স্মরণ যে, প্রত্যেক মানুষের সমস্ত অস্তিত্ব কেবল আল্লাহকেন্দ্রিক হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে : ‘তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের উপাস্য করেছে?’- সূরা যাসিয়া : ২৩
ইসলাম ধর্মে মানুষের ইচ্ছা বা চাওয়াকে পবিত্র বলে বিবেচনা করা হয়েছে। আর হজের বাণী কুফ্রের সংস্কৃতির পুরোপুরি বিপরীত- আমাদের সময়কালে যা আধিপত্য বিস্তার করে আছে।
২. সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানো
সাঈ বা সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানো হলো শিশুসন্তানের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য হযরত হাজেরার প্রাণপন চেষ্টার স্মরণ। নীরব পাহাড়গুলো ছাড়া প্রকৃতিগতভাবে মাতৃসুলভ এই আত্মত্যাগের অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। কিন্তু মাতৃসুলভ এই প্রবল ভালোবাসা মহান আল্লাহকে এতটাই সন্তুষ্ট করে যে, তিনি মানুষকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সেই মহীয়সী নারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দৌড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। কোথায় সেই মিথ্যুকরা যারা নারীবাদী স্লোগানের যিকির তুলে নারীকে অশালীন করে উপস্থাপন করে নারীকে সম্মান প্রদর্শনের দাবি তোলে? তারা এই মহান বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করুক যে, ইসলাম একজন নিঃসঙ্গ নারীকে কেবল মা হওয়ার কারণে এবং মাতৃসুলভ ভালোবাসা প্রদর্শনের কারণে কীভাবে পুরস্কৃত করেছে!
হাদিস শরীফে বলা হয়েছে : ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’
৩. মাকামে ইবরাহীমে নামায আদায়
মাকামে ইবরাহীম বা যেখানে ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্ন রয়েছে সেখানে নামায আদায় হলো পার্থিব জগতে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার স্মরণিকা। কাবা শরীফের তাওয়াফ শেষে হাজীদেরকে ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্নের পেছনে দুই রাকআত নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোরআন মজীদে এরশাদ হয়েছে : ‘… ইবরাহীমের দাঁড়ানোর (এ) স্থানকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ কর…।’- সূরা বাকারা : ১২৫
কেন একজন মুসলমান তার ইচ্ছামতো যে কোন দিক ফিরে নামায পড়তে পারে না, যতক্ষণ না সে কাবার দিকে মুখ করে? হজ পালনকারী এবং তার প্রভুর ঘরের মধ্যে ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্নকে-যিনি মানবজাতির জন্য একজন মনোনীত ইমাম [‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা (ইমাম) মনোনীত করলাম’- সূরা বাকারা : ১২৪]-রেখে হাজীকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় যে, তার রবের নিকট পৌঁছানোর একমাত্র পথ-যা সৃষ্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-হলো তাঁদেরকে অনুসরণ করা যাঁদেরকে আল্লাহ মানবজাতির নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। কোন যুগই উম্মতের অনুসরণের জন্য ঐশী মনোনীত নেতাবিহীন ছিল না। তাই আমাদের ওপর অবশ্য কর্তব্য হলো আমাদের জন্য মনোনীত নেতাকে খুঁজে বের করা ও তাঁকে অনুসরণ করা।
৪. উম্মাহর এককেন্দ্রিক চিন্তা
হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর স্বর্গীয় কণ্ঠস্বর বর্ণ, ভাষা ও ভৌগোলিক সীমাকে অতিক্রম করে অন্তরসমূহকে আলোড়িত করে। নারী-পুরুষ, যুব-বৃদ্ধ, সাদা-কালো সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে হাজার হাজার ছাউনিতে অবস্থানকারী সকলেই একক স্রষ্টার অনুগত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়, একটি দিকে মুখ করে ও একই ধর্মীয় আচার পালন করে।
‘নিশ্চয় এটা (একত্ববাদী ধর্ম) তোমাদেরও ধর্ম যা একই ধর্ম এবং আমি তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং আমারই উপাসনা কর।’- সূরা আম্বিয়া : ৯২
চিন্তা করুন, যাঁরা হজে এসেছেন তাঁরা সকলে যদি একই বাণী শুনতেন এবং এরপর যে লক্ষ্যকে অনুধাবন করা উচিত সেই লক্ষ্যমাফিক একটিমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁদের ভূখ-সমূহে প্রত্যাবর্তন করতেন! কল্পনা করুন, যদি কাবার হাজীরা বিশ্বের নানা অংশ থেকে আগত তাঁদের ভাই-বোনদের সাথে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা করার এই অনন্য সুযোগ গ্রহণ করেন এবং তাঁদের বিষয়াদিতে সচেতন হন, তাঁদের সমস্যাগুলো নিয়ে মত বিনিময় করেন এবং একে অপরকে নিশ্চয়তা দেন যে, ‘আমরা সকলেই মহান আল্লাহর দুশমনদের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি’, তাহলে অবস্থা কিরূপ হতে পারত!
কিন্তু আফসোস! এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়া বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভব নয়। ঐশী বাণী নাযিলের স্থানে এমন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যার ফলে হাজীরা মহিমান্বিত হজের সময়কালে কেবল একথাগুলো শোনে যে, মৃত মানুষের কবরে কান্নাকাটি করা যায়েজ নয়, মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাদের কবরে গিয়ে যে কোন আহ্বান করা হলো ধর্মহীন বিশ্বাস এবং এ কাজের মাধ্যমে তাদেরকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর অংশী বলে বিবেচনা করা হয় যা কুফ্রের নামান্তর; এগুলো এমন সব বিষয় যেগুলোর সাথে মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থার কোন সম্পর্কই নেই এবং যেগুলো আমাদেরকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে মোটেও সাহায্য করে না।
অবশ্য সত্য পথ প্রদর্শনের কণ্ঠকে নিস্তব্ধ করার যত চেষ্টাই করা হোক না কেন আল্লাহর অশেষ রহমতে সবসময় তা বিরাজমান।
‘তারা আল্লাহর জ্যোতিকে ফুৎকারে নির্বাপিত করতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর জ্যোতি পূর্ণ করবেনই যদিও অবিশ্বাসীরা তা অপছন্দ করে।’-সূরা সফ : ৮
৫. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান
মক্কায় ওমরা পালনের পর হাজীরা তাদের প্রতিপালকের সেই পবিত্র স্থান ত্যাগ করে হারামের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান থেকে হজের আচার শুরু করে। ‘আরাফ’ নামে পরিচিত মরুময় জায়গায় অবস্থান (উকুফ) হলো হজের প্রথম আচার। পর্যায়ক্রমে হাজীদেরকে আবার মহাপ্রভুর পবিত্র স্থানের নিকটে আনা হয়। অর্থাৎ আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফা, মুজদালিফা থেকে মীনা; এর পরে হাজীরা আরো একবার পবিত্র স্থানে প্রবেশ করতে পারেন। এই সফর যেন মানুষের অস্তিত্বের সফরের মতোই যেখানে সে তার প্রভুর নৈকট্যজনক অবস্থা থেকে সফর শুরু করে, এরপর নিম্নতম স্থানে বা জগতের সবচেয়ে দূরতম স্থানে (অর্থাৎ দুনিয়ায়) উপস্থিত হয়, এরপর সে আবার ধীরে ধীরে ঐশী নৈকট্যের দিকে ফিরে যায়। যেমনটি কোরআন মজীদে এরশাদ হয়েছে : ‘… এবং (সকলের) প্রত্যাগমন তো আল্লাহর দিকেই।’- সূরা ফাতির : ১৮
যা হোক, এই সফর মহামূল্যবান। এই সফরে পার্থিব সাগরের অন্ধকারে মানুষ তার হৃদয়ের গুহায় সংরক্ষণ করার জন্য মণি-মুক্তা আহরণ করে যাতে মহাসাক্ষাতের দিনে উপস্থাপন করতে পারে। আরাফাতের ময়দানই হলো সেই স্থান যেখানে মানুষ মারেফাত (অন্তর্জ্ঞান ও পরিচিতি) অর্জন করে; এই মারেফাতই হলো সেই গুপ্তধন যা তাকে ঐশী খলিফার মর্যাদায় অধিষ্টিত করে। একটি হাদিসে বলা হয়েছে : ‘যে নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে।’
এটি হলো সেই মারেফাত যার মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে যে, সে সৃষ্ট হয়েছে। আর এটিও বুঝতে পারে যে, যদিও পৃথিবী হলো সর্বনিম্ন জগৎ, তারপরও এর সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এটিই হলো সেই জগৎ যেখানে মানুষ তার অস্তিত্বের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে পারে। দুনিয়া হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। পরবর্তী জগতে সে কেবল সেই ফসলই তুলবে দুনিয়ার জীবনে সে যেমন বীজ বপন করেছিল।
মনে করি, দুনিয়া হলো আমাদের ‘আরাফাত’। এটি ঐশী নৈকট্যের অবস্থান থেকে অনেক দূরে। মহানবী (সা.)-কে অনুসরণের মাধ্যমে আমাদেরকে আবিষ্কার করতে হবে যে, প্রকৃতপক্ষে আমরা কারা এবং আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য কী। আর যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে আমরা এই দুনিয়ায় আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। এই দুনিয়া আমাদের জন্য সর্বশক্তিমান ও প্রশংসিত আল্লাহর নৈকট্যে অর্জনের একটি উপায় বা মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (উকুফ) হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার, এমনকি বর্ণনা করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আরাফাতই (আরাফাতে অবস্থান) হজ।’
৬. শয়তানরূপ স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ
যে তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করা হয় সেগুলো শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে- যা শত্রুর উপস্থিতির প্রগাঢ় স্মরণিকা। মানুষ এই দুনিয়াতে আসার আগে থেকেই তার শত্রু তাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিল। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে :
‘হে আদম-সন্তানরা! (সাবধান!) শয়তান যেন তোমাদের প্রতারিত না করে যেমনভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে…।- সূরা আরাফ : ২৭
তিনটি স্তম্ভ সম্ভবত মানুষের তিনটি শত্রুর প্রতিনিধিত্ব করে। সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তার নিজের সত্তা, দ্বিতীয় শত্রু হলো জিনদের মধ্য থেকে শয়তানরা এবং সবশেষে হলো মানুষের মধ্য থেকে শয়তানরা। শত্রুর হাতে অন্যতম প্রধান যে হাতিয়ার রয়েছে সেটা হলো উদাসীনতা। এটি যেন একটি তন্দ্রাযুক্ত অবস্থা যেখানে মানুষ তার প্রবল শত্রুর উপস্থিতি সম্পর্কে উদাসীন। কোরআন মজীদ প্রতিনিয়ত চায় যেন আমরা তাদের মতো হই যারা সবসময় বাস্তবতাকে স্মরণে রাখে। কেবল স্মরণের (যিকির) আলোই আমাদেরকে অন্ধকার (উদাসীনতা) থেকে রক্ষা করতে পারে। এরশাদ হয়েছে : ‘এবং তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে বিস্মৃত হয়েছে; ফলে আল্লাহ তাদের আত্মবিস্মৃত করেছেন…।’- সূরা হাশর : ১৯
৭. পশু কোরবানি
ঈদের দিন পশু কোরবানি হলো মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার কারণে ইবরাহীম (আ.)-এর প্রিয়পাত্রের কোরবানি করার ইচ্ছার প্রতিচ্ছবি। মহান আল্লাহর হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর রক্তের কোন প্রয়োজন ছিল না; বরং যা কাক্সিক্ষত ছিল তা হলো এই ঐশী পরীক্ষার মাধ্যমে ইবরাহীম (আ.)-এর মর্যাদার উন্নতি এবং ইবাদতের যোগ্য একক ও অদ্বিতীয় সত্তার প্রতি তাঁর পরম আনুগত্য ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। আমরা ঈদুল আযহায় এ বিষয়টিকেই স্মরণ করি।
কোরআনের বক্তব্য অনুসারে ইবরাহীম (আ.) আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ। এরশাদ হয়েছে : ‘নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথিদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে…’- সূরা মুমতাহিনা : ৪
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য কোন্ জিনিসটি উৎসর্গ করব?
পশু কোরবানি আমাদেরকে নিন্ম পাশবিক প্রবৃত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়; এই প্রবৃত্তিকে কোরবানি করার পরই কেউ চুল কামিয়ে ফেলতে বা ছোট করতে পারে, সে ইহরামের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে এবং আরো একবার মহাপ্রভুর পবিত্র স্থানে প্রত্যাবর্তন করে। কেবল নিম্ন পাশবিক সত্তাকে জয় করার মাধ্যমেই মানুষ তার প্রিয়তমের নৈকট্যের মাকাম অর্জন করতে পারে।
একজন মানুষের নিকট নিজের সত্তার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কিছু নেই। আর এটাই হলো তার ‘ইসমাঈল’- যা তার ভালোবাসার পবিত্র সংগ্রামে অবশ্যই তাকে উৎসর্গ করতে হবে। মহান আধ্যাত্মিক শিক্ষক আয়াতুল্লাহ আল-উযমা সাইয়্যেদ আলী আল-কাযী বলেন : ‘তোমার ও বেহেশতের মধ্যে একটি মাত্র ধাপ ব্যতীত কোন দূরত্ব নেই, আর সেই ধাপ হলো তোমার নিজের (নিম্ন) সত্তা।’
হজের আধ্যাত্মিক, দৈহিক, সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি দিক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করলে কেউ ইসলাম সম্পর্কে বিস্মিত না হয়ে পারে না। অন্যান্য ধর্ম পথনির্দেশের বিষয়টিকে মানুষের সত্তার একটি দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে, পক্ষান্তরে ইসলাম মানুষকে সবদিক থেকে পথনির্দেশনা দিতে চায়। ইসলাম আধ্যাত্মিকতাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াদি থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে না; বরং অবিচ্ছেদ্য মনে করে। উপরন্তু ইসলামের বক্তব্য হচ্ছে, এই দুনিয়ার মাধ্যমেই বেহেশতের পথ অর্জিত হয়। হজ পালনকারী যেন হজের যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই তাঁর প্রভুকে অন্বেষণ করেন। এই বিক্ষিপ্ত ও উন্মত্ত দুনিয়াতেই মানুষকে তার প্রেমাস্পদকে খুঁজে নিতে হবে।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন : ‘কল্ব (অন্তর) হলো আল্লাহর আরশ, আল্লাহর আরশে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সমাসীন করো না।’
অনুবাদ : মো. আশিফুর রহমান