শনিবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ২৫, ২০১৯ 

স্মরণীয় বাণী
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন : ‘মনে রেখ, তোমাদের সকলেই দায়িত্বের অধিকারী এবং তোমাদের সকলেই স্বীয় দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, শাসক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি লোকদের ওপরে যে দায়িত্বের অধিকারী সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন : ‘যে কেউ কোনো জনগোষ্ঠীর ওপরে নেতৃত্বের অধিকারী, কিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার হস্তদ্বয় তার ঘাড়ের সাথে বাঁধা থাকবে। এমতাবস্থায়, সে যদি লোকদের মধ্যে মহান ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী আচরণ করে থাকে তাহলে আল্লাহ্ তাকে মুক্ত করে দেবেন, আর সে যদি যালেম হয়ে থাকে তাহলে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে, আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!’
হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) এরশাদ করেন : ‘সুবিচারক ইমামের একটি মুহূর্ত (অন্যদের) সত্তর বছরের (নফল) ইবাদতের চেয়ে উত্তম।’
আমীরুল্ মু‘মিনীন হযরত আলী (আ.) রাসূলে আকরাম (সা.)-এর গুণ-বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে এরশাদ করেন : ‘…আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহকে প্রেরণের মাধ্যমে লোকদেরকে মূর্খতা, গোমরাহী ও দিশাহারা অবস্থা থেকে মুক্তি দান করেছেন।’
তিনি আরো এরশাদ করেন : ‘…তিনি ছিলেন এমন একজন চিকিৎসক (সমতুল্য) যিনি সবসময় লোকদের নিরাময়ের জন্য ঘুরে বেড়াতেন। তাঁর মলম শক্তিসৃষ্টিকারক ছিল এবং তাঁর চিকিৎসা উপকরণ সবসময় প্রস্তুত ছিল যাতে যেখানেই প্রয়োজন তা ব্যবহার করতে পারেন-দিশাহারা ও গাফলাতের মুহূর্তগুলোতে অন্ধ চক্ষুগুলোকে দৃষ্টি’ দান করতে পারেন, বধির কর্ণগুলোকে শ্রবণশক্তি দিতে পারেন এবং বোবাদেরকে কথা বলার শক্তি দান করতে পারেন।’
ইমাম আলী (আ.) এরশাদ করেন : ‘তিনটি বিষয়ে শৈথিল্য দেখানো শাসকদের জন্য কোনোভাবেই উচিত নয়, তা হচ্ছে : সীমান্ত প্রহরা, বিনষ্ট হয়ে যাওয়া অধিকারগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন দায়িত্বে যথোপযুক্ত লোকদেরকে নিয়োগ দান।’
ইমাম আলী (আ.) বলেন : ‘শ্রেষ্ঠতম শাসক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল হচ্ছে তারা যাদের মধ্যে তিনটি গুণ-বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা হচ্ছে : মেহেরবানী, দানশীলতা ও সুবিচার।’
ইমাম আলী (আ.) এরশাদ করেন : ‘যে কেউ জনগণের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে সে যেন অন্যদেরকে শিক্ষাদানের আগে নিজের শিক্ষার জন্য চেষ্টাসাধনা করে। আর তার মৌখিক শিক্ষার (অন্যদেরকে শিক্ষাদানের) আগে তার আমলের শিক্ষা হতে হবে (তার আমল শিক্ষার দৃষ্টান্ত হতে হবে)। যে ব্যক্তি তার নিজের শিক্ষক ও শাসক সে অন্যদের শিক্ষক ও শাসকের তুলনায় অধিকতর সম্মানার্হ হওয়ার উপযুক্ত।’
ইমাম সাজ্জাদ্ (আ.) শাসকের দায়িত্ব¡-কর্তব্য সম্বন্ধে এরশাদ করেন : ‘জনগণের প্রতি তোমার কর্তব্য হচ্ছে এই যে, জনগণের মধ্যে সুবিচারের ভিত্তিতে আচরণ করবে এবং তাদের সাথে মেহেরবান পিতার মতো হবে, অজ্ঞদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করবে, তাদেরকে শাস্তিদানের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবে না এবং আল্লাহ্ তোমাকে যে নে‘আমত দিয়েছেন ও তোমাকে যে তাদের ওপর শাসনকর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত করেছেন সেজন্য শোকরগুযারী করবে (আর উভয় গোষ্ঠীই সুবিচার লাভের ও যুলুম থেকে বেঁচে থাকার হকদার)।’
ইমাম জা‘ফর সাদেক (আ.) এরশাদ করেন : ‘…লোকদের জন্য শহরে তিনটি জিনিসের অপরিহার্য প্রয়োজন যার কাছে তারা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে আশ্রয় নিতে পারে। এ তিনটি জিনিস না থাকলে তাদের যিন্দেগীতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। এগুলো হচ্ছে : পরহেযগার জ্ঞানী ফকীহ্, এমন নেককার শাসক- জনগণ যার অনুসরণ করবে এবং নির্ভরযোগ্য সুবিজ্ঞ চিকিৎসক।’

(মাফাতীহুল্ হায়াত্ গ্রন্থ থেকে সংকলিত)
অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী