সোমবার, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ১০, ২০১৭ 

মহানবী (সা.) বলেন : দুনিয়ার সংযমশীলতা হলো আশাকে খাটো করা এবং প্রতিটি নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আর আল্লাহ্ যা নিষিদ্ধ করেছেন তার সবকিছু থেকে বিরত থাকা।

মহানবী (সা.) বলেন : এমন যেন না হয় যে, মুনাফিকের ন্যায় বিনয় প্রদর্শন করবে। আর সেটা হলো যখন শরীর বিনয়ী হয়, কিন্তু অন্তরে বিনয় নেই।মহানবী (সা.) হযরত আলী (আ.)-কে বলেন : হে আলী! নিশ্চয় মুমিনের তিনটি চি‎হ্ন রয়েছে : রোযা, নামায ও যাকাত। আর আত্মকেন্দ্রিক মানুষের তিনটি চি‎‎হ্ন রয়েছে : সামনে তোষামোদী করে, পেছনে বদনাম করে আর বিপদে গালি-গালাজ করে।

মহানবী (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে রাগান্বিত করার মাধ্যমে শাসককে সন্তুষ্ট করে সে আল্লাহর দীনের বহির্ভূত।

মহানবী (সা.) বলেন : মানুষের জন্য এমন এক সময় আসবে যখন তার দীনে কতটা ক্ষতি হলো এ বিষয়ে সে কোনো পরোয়া করবে না যদি তার দুনিয়া ঠিক থাকে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : দুনিয়া চারটি জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত : সেই আলেমের ওপর, যে তার ইল্ম ব্যবহার করে। সেই সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর, যে পরোপকার করে। সেই মূর্খের ওপর, যে শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে অহংকারী হয় না। আর সেই অভাবীর ওপর, যে তার পরকালকে অন্যের দুনিয়ার লাভের জন্য বিক্রয় করে না। আর যখন আলেম তার ইল্ম কাজে লাগায় না এবং সামর্থ্যবান পরোপকার করে না আর মূর্খ শিক্ষা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় আর অভাবী তার পরকালকে অন্যের দুনিয়ার লাভের জন্য বিক্রয় করে দেয়, তখন সর্বনাশ সবার জন্য!ইমাম

আলী (আ.) বলেন : যার মধ্যে কোনো একটি ভালো গুণ শক্তিশালী হয় তখন তার অন্য ভালো গুণ থেকে ছাড় দেওয়া যায়। কিন্তু বুদ্ধিহীনতা ও দীনহীনতাকে ছাড় দেওয়া যায় না। কারণ, দীনহীনতা হলো নিরাপত্তাহীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতার ভয় নিয়ে জীবন হয় না। আর বুদ্ধিহীনতাও মৃত্যুর নামান্তর। যাকে মৃতদের মধ্যে ছাড়া গণ্য করা হয় না।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : বন্ধু বন্ধু নয় যতক্ষণ না নিজের বন্ধুকে রক্ষা করে কষ্টের সময়ে, তার অনুপস্থিতিতে এবং তার মৃত্যুর পরে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : আল্লাহ ছয় জনকে ছয় কারণে শাস্তি দেবেন : আরবকে সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামির কারণে, জমিদার ও মাতবরদেরকে অহংকারের কারণে, রাষ্ট্রনেতাদেরকে স্বেচ্ছাচারের কারণে, আলেম ও ফকীহদেরকে হিংসার কারণে, বণিকদেরকে খেয়ানতের কারণে আর গ্রাম্য লোকদেরকে মূর্খতার কারণে।

ইমাম হাসান (আ.) বলেন : হে লোকসকল! নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে এবং তাঁর বাণীকে নিজের পথনির্দেশক হিসাবে গ্রহণ করবে সে সঠিক পন্থায় পরিচালিত হবে। আর আল্লাহ তার উৎকর্ষের পথে সহায় হবেন এবং সুপরিণতি লাভে সাহায্য করবেন। কারণ, আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণকারী নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকে। আর তার শত্রু ভীত ও সহায়হীন থাকে। কাজেই আল্লাহর প্রহরার আওতায় চলে এস তার বেশি বেশি যিকিরের মাধ্যমে।

ইমাম ইবনুল হোসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : তিনটি জিনিস যে কোনো মুমিনের মধ্যে থাকলে সে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে এবং কিয়ামতের দিনে আল্লাহর আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তাকে সেই বড় ভয়ের দিনে নিরাপদ রাখবেন। যে ব্যক্তি মানুষকে সেটাই দেয় যা সে তাদের থেকে প্রত্যাশা করে, যে ব্যক্তি কোনো পদক্ষেপেই অগ্রসর হয় না কিংবা পশ্চাতে আসে না যতক্ষণ না জানবে যে, তার এ পদক্ষেপ আল্লাহর আনুগত্যে নাকি তার অবাধ্যতায়, আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে কোনো দোষে অভিযুক্ত করে না যতক্ষণ না নিজেকে সে দোষ থেকে মুক্ত করে। আর ব্যক্তির জন্য এটাই যথেষ্ট যে, নিজের দোষত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং অন্যের দোষত্রুটি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিবে।

(তুহাফুল উকূল থেকে সংকলিত)অনুবাদ : আব্দুল কুদ্দুস বাদশা