রবিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১২, ২০১৭ 

মহানবী (সা.) বলেন : আল্লাহর প্রতি ঈমানের পর সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তার কাজ হলো মানুষের সাথে মানিয়ে চলা যতক্ষণ না কোনো অধিকার ত্যাগ করা হয়।

মহানবী (সা.) বলেন : আমি মূর্তিপূজা থেকে বিরত থাকার নির্দেশের পরে মানুষের সাথে বিবাদ থেকে দূরে থাকার মতো আর কোন বিষয়ে এত অধিক নির্দেশিত হই নি।

মহানবী (সা.) বলেন : যে ব্যক্তি মুসলমানকে ফাঁকি দেয় কিংবা তার ক্ষতি করে অথবা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে সে আমাদের থেকে নয়।

মহানবী (সা.) বলেন : …তিনটি জিনিস রয়েছে যেগুলোর বিষয়ে কোনো মুসলমানের অন্তরে বিদ্বেষ থাকতে পারে না : আল্লাহর জন্য কাজে একনিষ্ঠতা, মুসলমানদের নেতৃবর্গের জন্য কল্যাণকামিতা এবং তাদের একতাবদ্ধের অপরিহার্যতা। সকল মুমিনই ভাই ভাই। তাদের রক্ত (মর্যাদার দিক থেকে) পরস্পর সমান। অন্যদের বিপরীতে তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবে আর তাদের অঙ্গীকার পালনে প্রচেষ্টা চালাবে, এমনকি যদি তাদের নিম্ন শ্রেণির কোনো লোকও (তাদের ভিন্ন অন্যের সাথে) কোনো বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : নিজে রাগান্বিত হয়ো না এবং কাউকে রাগান্বিত কর না। প্রকাশ্যে সালাম প্রদান করবে এবং মিষ্টি ভাষায় কথা বলবে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : নিছক সন্দেহের বশে তোমার ভাইয়ের সাথে সম্পর্কোচ্ছেদ কর না। আর বিনা অভিযোগে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : (পৃথিবীতে) তোমরা এমন এক অবকাশ লাভ করেছ যার পশ্চাতে আছে মৃত্যু। আর তোমাদের সাথে রয়েছে মনোবাসনা যা পরকালের কাজের পথে বাধা। তাই এই অবকাশকে গনীমত গণ্য কর এবং মৃত্যুর দিকে ধাবিত হও। আর মনোবাসনাকে দূরে ঠেলে দাও এবং পরকালের কাজে প্রবৃত্ত হও। মৃত্যুর থেকে কি কোনো নিস্তার রয়েছে? কোনো আশ্রয় কি রয়েছে? কিংবা পলায়নের কি কোনো পথ রয়েছে? কিংবা কোনো পারাপার, কোনো অজুহাত কি আছে? আর কত মিথ্যাচার করবে?!

ইমাম আলী (আ.) বলেন : বিবেক হলো মুমিনের বন্ধু আর সহিষ্ণুতা হলো তার উপদেষ্টা আর নমনীয়তা হলো তার পিতা আর সুস্বভাব তার ভাই। বিবেকবানের জন্য তিনটি জিনিস আবশ্যক : তার নিজের মূল্য বুঝবে, তার জিহ্বাকে সংযত রাখবে আর তার যুগকে চিনবে। সাবধান! অভাব হলো একটি বিপদ এবং এর চেয়ে কঠিন বিপদ আর নেই। আর দেহের রোগের চেয়ে মনের রোগ বেশি কঠিন। জেনে রেখ, সম্পদের প্রাচুর্য হলো একটি নেয়ামত। আর এর চেয়ে উত্তম হলো শারীরিক সুস্থতা। আর শারীরিক সুস্থতার চেয়ে উত্তম হলো অন্তরের তাকওয়া।

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন : আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে (বনি ইসরাইলকে) এ কারণে ভর্ৎসনা করেছেন যে, তারা তাদের মধ্যে যারা যালিম ছিল তাদের নোংরা ও জঘন্য কাজ প্রত্যক্ষ করত, কিন্তু তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করত না- তাদের হাতে যা ছিল তার লোভে এবং কোণঠাসা হয়ে পড়ার ভয়ে।

ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন : আল্লাহ সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে তাঁর একটি ফরয কাজ হিসাবে কথার সূত্রপাত করেছেন। কারণ, তিনি জানতেন, যদি এই ফরযটি পালন করা হয় অথবা প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সহজ-কঠিন সব ফরযই পালন করা হবে। আর এটা এজন্য যে, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ হলো অন্যায়ভাবে হৃত অধিকার প্রত্যার্পণ, জালিমের বিরোধিতা, বাইতুল মাল ও গনীমত বণ্টন, যাকাতের জায়গা থেকে যাকাত গ্রহণ এবং যথার্থ খাতে তা ব্যয় করা সহকারে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানানো।

ইমাম আলী ইবনুল হোসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : আল্লাহর নিকট তাঁর মারেফাত অর্জনের পরে পেট ও লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষার চেয়ে প্রিয়তর আর কিছু নেই। আর আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার চেয়ে তাঁর নিকট প্রিয়তর আর কিছুই নেই।

ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : নিশ্চয় দুনিয়া প্রস্থান করেছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে আর পরকাল রওয়ানা হয়েছে এবং এগিয়ে আসছে। প্রত্যেকেরই সন্তানাদি রয়েছে। তোমরা পরকালের সন্তান হও। দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। দুনিয়া থেকে আত্মসংযমী হবে এবং পরকাল অভিমুখী হবে। কারণ, পরহেযগাররা আল্লাহর পৃথিবীকে জীবনের ময়দান আর মাটিকে বিছানা বানায়। আর মাটির ঢিলাকে মাথার বালিশ এবং পানিকে সুগন্ধী হিসাবে গ্রহণ করেছে। আর পৃথিবীতে নির্বিঘ্ন জীবন কাটানোর চিন্তা ত্যাগ করেছে।

(তুহাফুল উকূল থেকে সংকলিত)
অনুবাদ : আব্দুল কুদ্দুস বাদশা