বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

স্মরণীয় বাণী

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭ 

মহানবী (সা.) বলেন : মানুষের সাথে মানিয়ে চলা ঈমানের অর্ধাংশ। আর তাদের প্রতি নরম ব্যবহার হলো সুখী জীবনের অর্ধাংশ।

মহানবী (সা.) বলেন : হে আলী! কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চোখই ক্রন্দনরত থাকবে তিনটি চোখ ব্যতীত : যে চোখ আল্লাহ্র রাস্তায় বিনিদ্র রাত কাটায়, যে চোখ আল্লাহর নিষিদ্ধ হারাম থেকে অবনত থাকে, আর যে চোখ আল্লাহর ভয়ে অশ্রু ঝরায়।

মহানবী (সা.) বলেন : হে আলী! ধন্য সেই মুখমণ্ডল যার দিকে আল্লাহ্ তাকিয়ে দেখেন যে, এমন পাপের জন্য সে ক্রন্দনরত যে সম্পর্কে আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না।

মহানবী (সা.) বলেন : …আর ফরয নামাযকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ কর না। কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফরয নামাযকে ত্যাগ করে সে আল্লাহর আশ্রয় থেকে বিতাড়িত। আর মদ ও অন্য কোনো নেশাদ্রব্য পান কর না, কারণ, এ দু’টি হলো সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : বুদ্ধির মতো কোনো সম্পদ নেই আর অজ্ঞতার চেয়ে কোনো দারিদ্র্য নেই।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : ভীতি নিরাশা নিয়ে আসে আর লজ্জা বঞ্চনা নিয়ে আসে। প্রজ্ঞা হলো মুসলমানদের হারানো সম্পদ। তাকে খুঁজে ফের যদিও তা দুষ্টদের হাতে থাকে।

ইমাম আলী (আ.) বলেন : যদি জ্ঞানের বাহকরা সঠিকভাবে তা বহন করে তাহলে আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁর আনুগত্যকারীরা তাকে ভালবাসে। কিন্তু তারা জ্ঞানকে দুনিয়া লাভের আশায় চেয়েছে। তাই আল্লাহ্ তাদেরকে শত্রু গণ্য করেছেন এবং মানুষের সামনে তারা হীন হয়েছে।

ইমাম আলী ইবনুল হোসাইন যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : নিশ্চয় মুসলমান ব্যক্তির জ্ঞান ও দীনের পূর্ণতা হলো যে বিষয়ে তার কোনো উপকার নেই সে ব্যাপারে কথা না বলা, ঝগড়া কম করা, ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেওয়া এবং সদাচারী হওয়া।

ইমাম যায়নুল আবেদীন (আ.) বলেন : নিশ্চয় মুমিনের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো আর্থিক সংকটে আয়ের স্বল্পতার পরিমাণে দান করে আর আয়ের বিস্তৃতির সময় সে অনুপাতে দান করে। আর মানুষের সাথে ন্যায্য আচরণ করা এবং তাদের সালাম দেওয়া।

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) যে কবরের নিকটে ছিলেন তা দেখিয়ে বললেন : যার শেষ পরিণতি এটা, তার শুরু থেকেই পরহেযগার হওয়া উচিত। আর যার শুরু এটা, তার শেষ পরিণতি থেকে ভয় করা উচিত।

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেন : কিয়ামতের দিন একজন চিৎকারকারী চিৎকার করে বলবে : যদি আল্লাহর কাছে কারো কোনো পারিশ্রমিক প্রাপ্য থাকে তাহলে উঠে দাঁড়াও। তখন কেউ উঠে দাঁড়াবে না কেবল যে ক্ষমা করেছে এবং সংশোধিত হয়েছে সে ব্যতীত। তার পুরস্কার আল্লাহর ওপরে।

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেন : দানশীল সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে। আল্লাহ্ তাকে ত্যাগ করেন না যতক্ষণ না তাকে বেহেশতে প্রবেশ করান। আল্লাহ্ কোনো নবীকেই প্রেরণ করেননি উদারতা ও দানশীলতার বৈশিষ্ট্য ব্যতীত। আর আমার পিতা সর্বদা আমাকে উদারতা ও সচ্চরিত্রের উপদেশ দিতেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) তাঁর এক অনুসারীকে বললেন : হে অমুক! আল্লাহ্কে ভয় কর এবং সত্য বলবে, এতে যদি তোমার মৃত্যুও হয়। কারণ, তোমার মুক্তি তার মধ্যেই। হে অমুক! আল্লাহ্কে ভয় কর এবং বাতিলকে ত্যাগ কর যদিও (তোমার কাছে মনে হয়) তার মধ্যেই তোমার মুক্তি থাকে। কেননা, নিশ্চয় তোমার ধ্বংস তার মধ্যে।

(তুহাফুল উকূল থেকে সংকলিত)
অনুবাদ : আব্দুল কুদ্দুস বাদশা