শনিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৫, ২০১৮ 

১ আরেকটি ইসরাইল সৃষ্টি করতে চায় আমেরিকা : সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আমেরিকাসহ আরো কিছু বিদেশি শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের মতো আরেকটি অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই সম্প্রতি ইরাকের কুর্দিস্তানে বিচ্ছিন্নতাকামী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরান সফররত তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমেরিকাসহ পশ্চিমা সরকারগুলোকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি ইসরাইল সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।”
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, কুর্দিস্তানে গণভোট অনুষ্ঠান ছিল গোটা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা এবং এটি এ অঞ্চলের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই গণভোটের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করে দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ইরাক থেকে কুর্দিস্তানের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ঠেকাতে ইরান ও তুরস্কের উচিত সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়া। সেইসঙ্গে ইরাক সরকারকেও এ ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি সিরিয়া বিষয়ক আস্তানা বৈঠকে তেহরান-আঙ্কারা সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওই সহযোগিতার কারণে সিরিয়ার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাতে তেহরান ও আঙ্কারাকে নিয়ে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেন রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেন, ইরাক থেকে কুর্দিস্তানের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ঠেকাতে তেহরান, আঙ্কারা ও বাগদাদকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানি গণভোটের আয়োজন করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন।

২ মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন : মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকারের বর্বর গণহত্যা ও ভয়াবহ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বলেন, গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, মিয়ানমার সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে তিনি বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ বলতে সেনা মোতায়েনের কথা বলেন নি।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে মুসলিম সরকারগুলোকে মিয়ানমার সরকারের অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বঘোষিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংকটে যদিও ধর্মীয় রূপ থেকে থাকে তবে তাকে কোনোভাবেই বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যকার ধর্মীয় দ্বন্দ্ব বলা যাবে না; বরং এটি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যারা এই বর্বর হত্যাকা- ও নির্যাতন চালাচ্ছে তারা হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার যার শীর্ষে রয়েছেন একজন নিষ্ঠুর নারী যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই বর্বর ঘটনার মধ্য দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারেরও মৃত্যু ঘটেছে বলে সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসিতে আলোচনা হওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি ইরান সরকারকে এ ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আজকের বিশ্ব হচ্ছে নির্যাতনের বিশ্ব, কিন্তু ইরানকে নিপীড়িনের বিরুদ্ধে কথা বলার সম্মান ধরে রাখতে হবে এবং বিশ্বের যেখানে অন্যায় ও নিপীড়ন চলুক না কেন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

৩ ‘বিপ্লবী আদর্শের প্রতি বিপুল সংখ্যক ইরানি যুবকের গভীর অনুরাগ মহাবিস্ময়কর’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইরানি জাতি ও এর যুব সমাজের মধ্যে জিহাদ আর শাহাদাতের আদর্শ ভুলিয়ে দেয়ার জন্য শত্রুদের ব্যাপক চেষ্টা সত্ত্বেও বিপ্লবী আদর্শের প্রতি বিপুল সংখ্যক ইরানি যুবকের গভীর অনুরাগ মহাবিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি ৩ অক্টোবর ২০১৭ দুপুরে শহীদ মোহসেন হুজাজির পরিবারকে দেয়া এক সাক্ষাতে এই মন্তব্য করেন।
২৬ বছর বয়স্ক ইরানি যুবক মোহসেন হুজাজি সিরিয়ায় ইমাম হোসাইন (আ.) এর বোন হযরত যায়নাব সালামুল্লাহি আলাইহার পবিত্র মাযার রক্ষাকারী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একজন সিনিয়র কমান্ডার হিসেবে গত ৯ আগস্ট সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল-বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ হুজাজির প্রশংসা করে তাঁকে মহান আল্লাহর নিদর্শন ও সন্ত্রাসীদের হাতে মস্তক-বিচ্ছিন্ন হওয়া মজলুম শহীদদের মুখপাত্র বলে মন্তব্য করেছেন।
শহীদ হুজাজির দাফন ও শোক অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মহান আল্লাহ শহীদ হুজাজির সংগ্রামের উসিলায় ইরানি জাতিকে গৌরবান্বিত করেছেন এবং তাকে বিপ্লবী যুব প্রজন্মের আদর্শ ও ইসলামি বিপ্লবের চলমান মু’জিজা বা অলৌকিক খোদায়ী নিদর্শনে পরিণত করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সারা ইরানে শহীদ হুজাজির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আরও বলেছেন, সব শহীদই মজলুম ও হুজাজি ছাড়াও অন্য অনেককেও দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে শহীদ করা হয়েছে, তারা সবাইই মহান আল্লাহর কাছে প্রিয়, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর হেকমত বা প্রজ্ঞার মাধ্যমে হুজাজি ও তার নানা বৈশিষ্ট্যকে এই শহীদদের প্রতিনিধি ও মুখপাত্র করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, ইরান, আফগানিস্তান, ইরাক ও অন্য অনেক অঞ্চল থেকে যারা দুর্বৃত্তদের মোকাবেলায় যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের সবাইকেই দেখা যায় শহীদ হুজাজির মধ্যে এবং হুজাজি তাদের সবারই সারাংশ বা সংক্ষিপ্ত রূপ; আর মহান আল্লাহ তাকে সাহসী ও মজলুম শহীদের প্রতীকে পরিণত করেছেন।

৪ ৬৪ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কারবালায় পবিত্র আশুরা পালিত
৬৪ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কারবালায় পালিত হলো পবিত্র আশুরা। আল ফুরাত আলআওসাত অভিযানের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার কাইস আল মুহাম্মাদাওয়ি গত ১ অক্টোবর ২০১৭ এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আশুরার দিনে ৬০ লাখ ইরাকি ও চার লাখ বিদেশী নাগরিক কারবালায় হাজির হন।আশুরার শোক অনুষ্ঠান পরিপূর্ণ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
বিভিন্ন আরব দেশ ও ইরান থেকে বিপুল সংখ্যক ইমাম-অনুরাগী কারবালায় আশুরার শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বলে ব্রিগেডিয়ার কাইস আল মুহাম্মাদাওয়ি জানান।
বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসলমান আশুরার শোক পালন করতে পবিত্র কারবালা শহরে এসেছেন যেখানে রয়েছে আশুরা বিপ্লবের মহানায়ক হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর সৎ ভাই হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাযার।

৫ মুসলিম দেশ সমূহের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য প্রেসিডেন্ট রুহানির আহ্বান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. হাসান রুহানি মুসলিম-প্রধান দেশ সমূহের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অঙ্গনে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর (২০১৭) কাযাকিস্তানের আস্তানা শহরে অনুষ্ঠিত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক এক বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণে এ আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর ভাষণে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতাকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের ক্ষেত্রে যে সক্রিয় নীতি গ্রহণ করেছে তার ফলে নতুন নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হাজার হাজার সহযোগিতা গড়ে উঠেছে ও বিস্তার লাভ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান থেকে উচ্চ ও মধ্যম স্তরের প্রযুক্তি পণ্য রফতানির পরিমাণ দেড়শ’ কোটি ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১২১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছেÑ যা ইরানের ইতিবাচক বাণিজ্যিক ভারসাম্যের ওপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, গত জুলাই মাসে (২০১৭) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যে নতুন স্যাটেলাইট ক্যারিয়ারের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে প্রেসিডেন্ট রুহানি তার উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সাফল্য সমূহ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গৌরবময় অর্জন এবং এগুলো ইরানের শক্তি ও ক্ষমতারই প্রমাণ বহন করে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর ইন্্স্ট্যাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখিত এক বাণীতে বলেন, আজকের দিনে আমাদের জন্য মহাশূন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিরাট গুরুত্বের অধিকারী এবং এ ক্ষেত্রে ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা যত বেশি সামনে এগিয়ে যাব ততই আমরা অধিকতর শক্তিশালী ও অধিকতর মর্যাদার অধিকারী হব।
উল্লেখ্য, মহাশূন্য যানের অধুনাতম মানের প্রতি দৃষ্টি রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার সর্বসাম্প্রতিক মহাশূন্য রকেট ‘সির্মোগ্’-এর ডিজাইন করে ও তা নির্মাণ করেÑ যা ২৫০ কেজি ওজনের কৃত্রিম উপগ্রহকে লো আর্থ অরবিট (এলইও)-এর ভিতরে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে নিয়ে যেতে সক্ষম। এটি হচ্ছে ইরানে তৈরি এ পর্যন্তকার সবচেয়ে বড় রকেট। অদূর ভবিষ্যতে এটি ইরানের অভ্যন্তরে নির্মিত আর্থ অবজারভেশন কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ত্বূলু’ (উদয়)-কে কক্ষপথে স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হবে।
স্মর্তব্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অভ্যন্তরে নির্মিত প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ওমিদ্’ (আশা) ২০০৯ সালে কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা হয়। এছাড়া ইরান তার ‘কভের্শ্গা-৩’ (উদ্ভাবক-৩) নামক ক্যারিয়ার ব্যবহার করে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জীবন্ত প্রাণিবাহী তার প্রথম বায়ো-ক্যাপসুল্ মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করে। এরপর ২০১৫ সালে ইরানের অভ্যন্তরে প্রস্তুত কৃত্রিম উপগ্রহ ‘ফাজ্র্’ (ঊষা)-কে কক্ষপথে প্রেরণ করে। এ কৃত্রিম উপগ্রহটি অত্যন্ত নিখুঁত ও উঁচু মানের চিত্র গ্রহণ করে এবং ভূপৃষ্ঠস্থ স্টেশনে প্রেরণ করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, ইরানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যে নিবেদিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায়ই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার সর্বসাম্প্রতিক মহাশূন্য রকেট ‘সির্মোগ্’ উৎক্ষেপণ করে। মার্কিন কংগ্রেসের একই বিলে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত নিষেধাজ্ঞার বিলটি অত্র সংবাদ লিপিবদ্ধ করার সময় পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় ছিল।
জনাব সালেহী আরো জানান যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে বর্তমানে চার শতাধিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র রয়েছে যেগুলোতে মাছ টিনজাতকরণ, মাছের পাউডার তৈরিকরণ ও প্যাকেজিং-এর কাজ করা হয়। এসব কেন্দ্রে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত আছে।
৬ ইরান সফরে এলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান একটি উচ্চ প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন। সফরে তিনি ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। গত ৪ অক্টোবর ২০১৭, ইরান সফররত প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে তেহরানের সা’তাদাবাদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্বাগত জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। এরদোগানের সঙ্গে তুরস্কের অর্থ, জ্বালানি এবং
সাংস্কৃতিক বিষয়ে চার মন্ত্রীর পাশাপাশি বহু তুর্কি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী রয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এরইমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক লেনদেন ৩,০০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে তেহরান-আঙ্কারার পরিকল্পণা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে তেহরান-আঙ্কারার মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক স¤পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সফরের পর ইরান ও তুরস্কের মধ্যে যেসব সমঝোতা স্মারকে সই হয়েছে সে স¤পর্কেও বৈঠকে আলোচনা করা হবে। ইরাকের কুর্দিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার গণভোট স¤পর্কে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রেসিডেন্ট এরদোগান বৈঠক করবেন।
সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের সুপ্রিম কাউন্সিল বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।

৭ ইরান-তুরস্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্তম্ভ : প্রেসিডেন্ট রুহানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তেহরান সফররত তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল হুলুসি অকার। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, এ অঞ্চলের সীমানায় যেকোনো পরিবর্তন নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।
বৈঠকে তিনি ইরাক ও সিরিয়ার ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষার জন্য দেশ দুটির কেন্দ্রীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। সোমবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ এবং এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ঠেকানোর জন্য দেশ দুটির সরকারকে শক্তিশালী করা দরকার বলে প্রেসিডেন্ট রুহানি জোর দেন।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াই ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক সীমান্ত রক্ষা করা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি লক্ষ্য এবং দ্বিপক্ষীয় স¤পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ইরান ও তুরস্ক সে লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরান ও তুরস্ক হচ্ছে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং দুই দেশ পর¯পরের পাশে দাঁড়ালে এ অঞ্চলের সংকট সমাধানে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, দু দেশের মধ্যে সর্বাÍক স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।
বৈঠকে তুর্কি সেনাপ্রধান বলেন, তার দেশ ইরাক ও সিরিয়াসহ আঞ্চলিক প্রতিটি দেশের ভৌগোলিক অখ-তার প্রতি সম্মান দেখায়। তিনি বলেন, সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে স¤পর্ক বাড়াতে আংকারা প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানি সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরির আমন্ত্রণে তুর্কি সেনাপ্রধান রোববার শেষ বেলায় ইরান সফরে আসেন।

৮ পরমাণু সমঝোতার প্রতি বিশ্বের ১৩৪ দেশের জোরালো সমর্থন
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে বিশ্বের ১৩৪টি দেশ। এসব দেশ ইসলামি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানায়।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অবকাশে ৭৭ জাতি গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ এক বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতি ক্রমে একটি বিবৃতি পাস হয়। ওই বিবৃতিতে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া ইরানের পরমাণু সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে গঠনমূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম আলী খুশরো বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤েপর লজ্জাজনক বক্তব্যের পর বিশ্বের ১৩৪টি দেশ উচ্চ কণ্ঠে পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন ঘোষণার পাশাপাশি অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প তাঁর ভাষণে পরমাণু সমঝোতাকে ভয়ানক সমঝোতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় যেসব দেশ সই করেছে তার অন্যতম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা সরকার এই সমঝোতায় সই করলেও ট্রা¤প প্রথম থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন। তবে ট্রা¤েপর এ অবস্থানকে মেনে নেয় নি আন্তর্জাতিক সমাজ।

৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ইরানি ত্রাণ
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হাতে নির্যাতিত অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম রহিমপুরের নেতৃত্বে সেদেশের একটি প্রতিনিধি দল গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশে আসেন। ইরানের প্রতিনিধিরা শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নেন।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পাঠানো প্রথম ত্রাণবাহী কার্গো বিমানও ৫০ টন ত্রাণ নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল তাঁবু, কম্বল, চা, চিনি, তেল, কাপড়চোপড়, ওষুধসহ ৯ ধরনের পণ্য সামগ্রী।
ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইবরাহীম রাহিমপুর এসব ত্রাণ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলও উপস্থিত ছিলেন।
ত্রাণ হস্তান্তরের সময় ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করি ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিছু ত্রাণ সামগ্রী দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা অমানবিক, নিষ্ঠুর এ হত্যাকা- বন্ধ করা উচিত। অতীতেও আমরা নির্যাতিত মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব।”
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ত্রাণ সংস্থার প্রধান মোর্তেজা সালিমি এর আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতার আশ্বাস দেয় নি। ত্রাণগুলো বাংলাদেশে জরুরি আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা নির্যাতন শুরুর পর এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ হতাহত এবং চার লাখের বেশি মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।

১০ বিশ্বে বিজ্ঞান শিক্ষায় পঞ্চম ইরান
সর্বোচ্চ বিজ্ঞান শিক্ষিত দেশের তালিকায় পঞ্চম অবস্থান অর্জন করেছে মুসলিম দেশ ইরান। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। এরপরে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। ফোর্বস এর ২০১৬ সালের পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। এ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬ সালে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ইরানি ¯œাতক ডিগ্রি স¤পন্ন করেছেন।
একই সময়ে চীনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি স¤পন্ন করেছেন ৪৭ লাখ। এ সংখ্যা নিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান শিক্ষিত দেশ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে দেশটি। অন্যদিকে, ভারত গত বছর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে ২৬ লাখ নতুন ¯œাতকধারী তৈরি করে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নতুন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ¯œাতকধারী নিয়ে বিশ্বে তৃতীয় ও ৫ লাখ ৬১ হাজার ¯œাতকধারী নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।
বিজ্ঞান শিক্ষিত দেশের তালিকায় ইরানের পরেই রয়েছে মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। তারপরে রয়েছে জাপান। দেশ দুটি যথাক্রমে ২ লাখ ৬ হাজার ও ১ লাক ৯৫ হাজার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত বিষয়ে ¯œাতকধারী নিয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

১১ বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ ইরান
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬ সালে বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ ছিল ইরান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার পরিস্থিতির ওপর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে আইইএ।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, গত বছর ইরান ১৯০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম) গ্যাস উৎপাদন করেছে। অর্থাৎ বৈশ্বিকভাবে মোট উৎপাদিত গ্যাসের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে দেশটিতে।
আইইএ এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরে শীর্ষ গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। ২০১৬ সালে দেশ দুটি যথাক্রমে ৭৪৯ বিসিএম (মোট গ্যাসের ২০.৭ ভাগ) ও ৬৪৪ বিসিএম (১৭.৭ ভাগ) গ্যাস উৎপাদন করেছে।
ইরানের পরে চতুর্থ ও পঞ্চম গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ কানাডা ও কাতার। দেশ দুটি ১৭৪ বিসিএম ও ১৬৫ বিসিএম গ্যাস উৎপাদন করেছে।
আইইএ এর প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০১৬ সালে বিশ্বে অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে পঞ্চম ছিল ইরান। এই ক্যাটাগরিতে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। তারপরেই দ্বিতীয় রাশিয়া, তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্র ও চতুর্থ কানাডা।

১২ ইরানের পর্যটন শিল্পের রমরমা অবস্থা
আমেরিকার একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম বলছে, পশ্চিমা পর্যটন সংস্থাগুলো যখন এই আশঙ্কায় করছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প পারমাণিবক চুক্তি বানচাল করে দিতে পারেন। ঠিক সে সময় আকস্মিকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে ইরানের পর্যটন শিল্প। সরকারি তথ্যমতে, গত ইরানি বছরের শেষ নাগাদ ৬০ লক্ষাধিক পর্যটক ইরান ভ্রমণ করেছেন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় গত বছর পর্যটক বেড়েছে অর্ধেক এবং ২০০৯ সালের তুলনায় বেড়েছে তিন গুণ।
সম্প্রতি সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে তেহরান ও বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি স¤পাদনের প্রেক্ষিতে পরের বছর ইরানের ওপর থেকে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ফলে দেশটিতে আকস্মিকভাবে পর্যটক প্রবাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। অবরোধ প্রত্যাহারের পর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও লুফথানসা (ডিএলএকেওয়াই) এর মতো ইউরোপীয় এয়ারলাইন্সগুলো ইরানে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তপক্ষও ভিসা পদ্ধতিতে শিথিলতা নিয়ে আসেন। ফলে ব্যাপক পর্যটক আসতে শুরু করে দেশটিতে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য আবাসিক হোটেলের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে।
অপরদিকে, ইরানের পর্যটন শিল্পের চাঙ্গাভাব স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
যদিও পশ্চিমা কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট ট্রা¤প পারমাণবিক চুক্তি বানচাল করে দিতে পারেন- এই আশঙ্কায় ইরানে বিনিয়োগে অনাগ্রহী। তবে আন্তর্জাতিক হোটেল ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের অধিক পরিমাণের কক্ষের চাহিদা পূরণে দ্রুত এগিয়ে আসছে।
ফ্রান্সের হোটেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অ্যাকোর (এসিসিওয়াইওয়াই) প্রথম ২০১৫ সালে ইরানে তাদের শাখা চালু করে। বর্তমানে কো¤পানিটি সেখানে দুটি হোটেল পরিচালনা করছে। ¯েপনের মেলিয়া (এসএমআইজেডএফ) আগামী বছর ইরানে তাদের প্রথম হোটেল চালু করবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের রোটানা’র আগামী বছরের শুরুতে একটি হোটেল এবং ২০২০ সালের মধ্যে আরও তিনটি হোটেল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় পর্যটন সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটির ২ কোটি পর্যটক গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

১৩ নানা আয়োজনে ইরানে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন
গত ১২ সেপ্টেম্বর নানা আয়োজনে ইরানে পালিত হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এ উপলক্ষে ইরানের বিশাল চলচ্চিত্র পরিবারের প্রতি অভিনন্দন বার্তা দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাশেমি। এ বার্তায় কাশেমি বলেন, ‘পথচলার একশ’ বছরে ইরানি সিনেমা নজীরবিহীন, প্রশংসনীয় ও সদা চিরস্থায়ী চলচ্চিত্র কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যারা এই ভূখ-ের সংস্কৃতি ও শিল্পের জন্য আবেগ-অনুভূতি ভাগাভাগি করে তাদের স্মৃতিতে দিনটি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, অসংখ্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি সিনেমার হৃদয়¯পর্ষী ও প্রভাবশালী উপস্থিতি বিশ্বে ইরানি সংস্কৃতি ও শিল্পের স্বচ্ছ ও অগাধ ভাবমূর্তিকে তুলে ধরেছে। ইরানি সিনেমা পরিবারের কঠোর পরিশ্রমী সব সদস্যর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেনে কাশেমি।
উল্লেখ্য, ইরান ২০০০ সাল থেকে ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। এ বছর ইরানি চলচ্চিত্রের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়।
১৯০০ সালে শুরু হয় ইরানি চলচ্চিত্রের পথচলা।

১৪। ২১ দেশে ন্যানো পণ্য রপ্তানি করে ইরান
বর্তমানে বিশ্বের ২১টি দেশে ন্যানো পণ্য রপ্তানি করে ইরান। এ থেকে দেশটির আয় ৩০০ বিলিয়ন তুমান (ইরানি মুদ্রা) ছাড়িয়েছে। ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি উন্নয়ন দপ্তরের শিল্প উন্নয়ন গ্রুপের পরিচালক আলী তাহারি গত ৯ সেপ্টেম্বর এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি বাজারের আকার ৩০০ বিলিয়ন তুমান ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরান বিশ্বের ২১টি দেশে ন্যানো পণ্য রপ্তানি করছে।
তাহারি বলেন, ‘ন্যানো-ফ্যাব্রিক শিল্প উৎপাদন লাইনে তৎপরতা জোরদারের পর আমরা এই প্রযুক্তি দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছি। একইসাথে চীনে রপ্তানির লক্ষ্যে আমরা একটি চুক্তি সই করেছি।’
ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে দেশটি অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া,তুরস্ক, রাশিয়া ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ন্যানো পণ্য রপ্তানি করছে।

১৫ হারবাল ওষুধ রপ্তানি থেকে ইরানের আয় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার
ইরান থেকে বছরে বুটি গোলাপ, জাফরান, সুগন্ধি লতাবিশেষ ও বিভিন্ন ধরনের হারবাল ওষুধ রপ্তানি হয় সাড়ে তিনশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের হারবাল ওষুধ দপ্তরের পরিচালক পেইমান ইউসেফি আজার গত ৭ সেপ্টেম্বর এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইরানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতি সমূহের মধ্যে হারবাল ওষুধ সেবনের পরিমাণ বৃদ্ধি, এর চাষাবাদের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাতের আধুনিকায়ন করা অন্যতম।
ইরানে চলমান পানি সঙ্কটের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় হারবাল ওষুধ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা। বলেন, ওষুধি গাছের জন্য পানি স¤পদ কম প্রয়োজন হয়। তাই ওষুধি গাছ চাষাবাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা।
আজার জানান, ওষুধি গাছের চাষাবাদ বিশ্বে একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ। দ্রুত অগ্রগতির কারণে নিকট ভবিষ্যতে কৃষি ক্ষেত্রে ওষুধি গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

১৬ ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ইরানের সেমনানে অনুষ্ঠিত অর্থনীতি বিষয়ক এক বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর তেহরানের পূর্বে অবস্থিত সেমনান শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত, চীনের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল, সেমনানের গভর্নর ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ইরানের সঙ্গে তার দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের এ সংক্রান্ত সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সফর ও সংলাপ বাড়াতে হবে। দুই দেশের দূতাবাসগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে সেমনানের গর্ভনর মোহাম্মাদ রেজা খাব্বাজ তার প্রদেশে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিশ্বের বহু দেশ সেমনান প্রদেশে পুঁজি বিনিয়োগের লক্ষ্যে চুক্তি সই করেছে। এ ছাড়া, নতুন যেকোনো পুঁজি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলেও তিনি বিদেশি প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেন।

১৭ ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ
সম্প্রতি হাঙ্গেরীর রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ক চতুর্থ গোল টেবিল বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর (২০১৭) তারিখে অনুষ্ঠিত এ গোল টেবিল বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষা কেন্দ্র (সিআইআরএফ)-এর প্রধান মোহাম্মাদ কাযেম সাজ্জাদপুর ও হাঙ্গেরীর ফরেন রিলেশন্স অ্যান্ড ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান মারটোন স্কোবেরল অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া হাঙ্গেরীর উপপ্রধানমন্ত্রী যল্ট সেমজেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং বুদাপেস্টে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত গোলামরেযা রাযাভী ইয়ায্দী, দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞগণ এবং সেøাভেনিয়া, পোল্যান্ড ও আর্মেনিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞগণ এ গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এ গোল টেবিল বৈঠকে হাঙ্গেরী ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে হাঙ্গেরীর দৃষ্টিভঙ্গি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও বাণিজ্য সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
হাঙ্গেরীর উপপ্রধানমন্ত্রী যল্ট সেমজেন বৈঠকের শুরুতে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্যে এ মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইরান ও হাঙ্গেরীর ব্যাঙ্ক সমূহের মধ্যকার সম্পর্ক দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এছাড়া তিনি ইরান ও হাঙ্গেরীর শহরগুলোর মধ্যে সিস্টারহুড কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যও আহ্বান জানান।
বৈঠকে বুদাপেস্টে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত গোলামরেযা রাযাভী ইয়ায্দী বলেন যে, দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ ঘটানো বুদাপেস্টস্থ ইরান দূতাবাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। তিনি জানান যে, তেহরান ও বুদাপেস্টের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার এবং দু’দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

১৮ ইরানের মৎস্য সম্পদ রফতানি শতকরা ৬০ ভাগ বৃদ্ধি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মৎস্য সম্পদ রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের ফিশারিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হাসান সালেহী গত ১১ সেপ্টেম্বর (২০১৭) তারিখে ঘোষণা করেন যে, পূর্ববর্তী চার মাসের ব্যবধানে ইরানের মৎস্য সম্পদ রফতানির পরিমাণ শতকরা ৬০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনাব সালেহী উল্লেখ করেন যে, উক্ত সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৪১ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের মৎস্য সম্পদ রফতানি করেছে। তিনি আরো জানান যে, একই সময় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ইরানের সামুদ্রিক সামগ্রী আমদানির পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ হ্রাস পায়।
জনাব সালেহী আরো বলেন যে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শতকরা এক ভাগ জনসংখ্যা ইরানে বসবাস করে, কিন্তু এ দেশে বর্তমানে বছরে ১৯ লক্ষ টন মৎস্য ও অন্যান্য জলজ সম্পদ উৎপাদিত হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান যে, স্যামন মাছ ও খাভিয়ার (বিশেষ ধরনের বড় আকারের মাছর ডিম) উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইরান বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থানের অধিকারী।
জনাব সালেহী উল্লেখ করেন যে, গত ২০ মার্চ ২০১৭ তারিখে সমাপ্ত ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মৎস্য উৎপাদন খাতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার ফলে ঐ বছরে ইরানে প্রায় ১১ লক্ষ টন মৎস্য সম্পদ উৎপাদিত হয়। তিনি বলেন, গত ইরানি বছরে দেশে মৎস্য শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয় এবং এর ফলে দেশ থেকে মোট এক লাখ ২০ হাজার টন মৎস্য সামগ্রী রফতানি করে এ খাত থেকে মোট ৪১ কোটি ২০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হয়।

১৯ খোলা সাগরে টহল অভিযানে ইরানের ৪৮তম নৌবহর
গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, খোলা সাগরে টহল দেয়ার জন্য ইরানের ৪৮তম নৌবহর বন্দর আব্বাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে। এ নৌবহরে আলভান্দ ডেস্ট্রয়ার এবং সহায়তাকারী যুদ্ধজাহাজ লাভান রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়াল অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ্ সাইয়্যেরি।
এদিকে, আলবোর্জ ডেস্ট্রয়ার এবং সহায়তাকারী যুদ্ধজাহাজ বুশেহর সমন্বয়ে গঠিত ৪৭তম নৌবহর একইদিনে বন্দর আব্বাসে ফিরে এসেছে। নৌবহরটি খোলা সাগরে ৭৬ দিনের অভিযান শেষে ফিরে আসে।
অনুষ্ঠানে ইরানি নৌকমান্ডার হাবিবুল্লাহ্ সাইয়্যেরি বলেন, সাগরে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ইরান একটি কার্যকর শক্তি হয়ে উঠেছে। এডেন উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনী অব্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলদস্যুর হুমকির বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক এবং তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময়ে ৪৭তম নৌবহরের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় নৌকমান্ডার। তিনি জানান, ইরানের ৪৭তম নৌবহর ৪২০০ জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে। খোলা সাগরে ইরানের নৌবহরের উপস্থিতি দেশটির বৈজ্ঞানিক এবং শিল্পখাতের সক্ষমতারই পরিচয় দিচ্ছে।

২০ তেহরানে ৩য় আন্তর্জাতিক ইরান ফার্মা রফতানি মেলা অনুষ্ঠিত
গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর (২০১৭) তেহরানের বিখ্যাত ঈদগাহ্ মোসাল্লায়ে বোযোর্গে ৩য় আন্তর্জাতিক ইরান ফার্মা রফতানি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় ১৬৪টি গুরত্বপূর্ণ বিদেশি কোম্পানিসহ মোট ৫০২টি ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানি অংশগ্রহণ করে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হাসান গাযীযাদে হাশেমী, ইরান সরকারের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান গোলামরেযা আসগারী, ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানে নিয়োজিত ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রদূতদ্বয়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মেলার ভেন্যুতে মেলার পাশাপাশি আরো কতোগুলো গরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়; এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল দ্বিতীয় চিকিৎসা ও ওষুধবিষয়ক গ্রন্থমেলা, ১ম স্বাস্থ্যবিষয়ক গণমাধ্যম প্রদর্শনী এবং প্যাকেজিং, বিপণন ও রফতানিবিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা।
ইরান ফার্মা রফতানি মেলায় বিপুল পরিমাণে ওষুধপত্র, এপিআই, প্যাকেজিং শিল্পের উপকরণাদি, হারবাল ওষুধ ও উপকরণাদি, ওষুধ শিল্পে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, হাতিয়ারপত্র ও উপকরণাদি, ওষুধ শিল্পের সাপ্লিমেন্টারি উপকরণাদি ও উপজাত, কসমেটিকস, ওষুধ বহির্ভূত স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি ইত্যাদি প্রদর্শিত হয় এবং এর পাশাপাশি হোমকেয়ার ও কন্ট্র্যাক্ট সার্ভিসেস-এরও ব্যবস্থা রাখা হয়।
বস্তুত পরিপূর্ণ সাফল্যের কারণে ৩য় আন্তর্জাতিক ইরান ফার্মা রফতানি মেলা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ওষুধ বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য নতুন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পরিণত হয়।

২১ রাশিয়ায় ইরানি বায়োটেক্ ওষুধ আমেরিকান বায়োটেক্ ওষুধের স্থান দখল করলো
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে উৎপাদিত বেশ কয়েকটি বায়োটেক্ ওষুধ রাশিয়ায় ঐসব ওষুধের বাজার শতকরা একশ’ ভাগ দখল করতে এবং রাশিয়ান বাজার থেকে ঐসব ক্যাটেগরির আমেরিকান বায়োটেক্ ওষুধকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে রাশিয়ায় বায়োটেক ওষুধের বাজার পুরোপুরিভাবে আমেরিকায় উৎপাদিত ওষুধের দখলে ছিল। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যাশনাল ট্যালেন্ট্স্ ফাউন্ডেশন গত ১০ সেপ্টেম্বর (২০১৭) এ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রকাশিত তথ্যে আরো জানা যায় যে, বিজ্ঞান ভিত্তিক ও উদ্ভাবনমূলক অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে ২০১৪ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান যেখানে ছিল বিশ্বের মধ্যে ১২০তম সেখানে তা দ্রুত ঊর্ধ্বারোহী হয়ে ২০১৬ সালে ৪২তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে এই প্রথম বারের মতো দু’টি ইরানি বায়োটেক্ ওষুধ ইউরোপে নিবন্ধিত হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যদিও রাশিয়ায় ইতিমধ্যেই পাঁচটি ইরানি বায়োটেক্ ওষুধ নিবন্ধিত হয়েছে এবং সে দেশের বাজারে ঐসব ওষুধের ক্ষেত্রে আমেরিকান ওষুধের পুরোপুরি স্থলাভিষিক্ত হতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ায় রফতানিকৃত এসব ইরানি ওষুধের মধ্যে একটি ওষুধ মাল্টিপ্ল্ সেলেরোসিস্ (এম্এস্) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ এন্টি-ক্যান্সার ওষুধটি রাশিয়া কর্তৃক অতি সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে ও বর্তমানে সে দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সমাপ্তির পর বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইরানি ওষুধ ইরাকে ও তুরস্কে রফতানি হতে যাচ্ছে।

২২ ইরানি চিকিৎসা গবেষক কম্বিনেশন ক্যান্সার থেরাপির নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একজন চিকিৎসা গবেষক কম্বিনেশন ক্যান্সার থেরাপির একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। ইরানের ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গবেষণা শাখার এ গবেষক কর্তৃক উদ্ভাবিত ও ব্যবহৃত এ পদ্ধতিতে ফটোডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি) ও কোল্ড অ্যাটমোসফিয়ারিক প্লাসমা (সিএপি)-র কম্বিনেশন ঘটানো হয়েছে।
এ পদ্ধতির উদ্ভাবক ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গবেষণা শাখার রেডিওলোজি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পিএইচডি-র ছাত্রী ও গবেষক লায়লা কারীমী গত ৫ সেপ্টেম্বর (২০১৭) সাংবাদিকদের প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে জানান যে, তিনি মানুষের ফুসফুসের ক্যান্সার সেল্-এর ওপর গবেষণা চালিয়ে এ নতুন পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন এবং তিনি তাঁর প্রকল্পটি নিয়ে তিন বছর কাজ করার পর তাঁর থিসিসের হাইপোথেসিস-এর যথার্থতা প্রমাণ করতে সক্ষম হন।
লায়লা কারীমী বলেন, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চামড়ার ক্যান্সারের চিকিৎসায় ফটোডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি) একটি কার্যকর পন্থা হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু এ পদ্ধতিটি অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়সাপেক্ষ ও কম কষ্টদায়ক হলেও এর কার্যকরিতা রেডিওথেরাপির তুলনায় কম।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিশ্বেÑএবং ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গবেষণা শাখার ফিজিক্স্ রিসার্চ সেন্টারেওÑএ বিষয়ে অপক্ষোকৃত নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে যেটিকে কোল্ড অ্যাটমোসফিয়ারিক প্লাসমা (সিএপি) বলা হয় এবং এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায়, বিশেষ করে চামড়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
লায়লা কারীমী বলেন, বিশ্বের বিজ্ঞানী সমাজ কর্তৃক প্রথম বারের মতো পরিচালিত এ গবেষণায় আমরা ফটোডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি) ও কোল্ড অ্যাটমোসফিয়ারিক প্লাসমা (সিএপি)-র কম্বিনেশন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিÑ ক্যান্সার চিকিৎসায়, বিশেষত চামড়ার ক্যান্সারের চিকিৎসায় যার কার্যকরিতা ফটোডাইনামিক থেরাপি (পিডিটি)-র তুলনায় শতকরা ৩৭ ভাগ ও কোল্ড অ্যাটমোসফিয়ারিক প্লাসমা (সিএপি)-র তুলনায় শতকরা ৪১ ভাগ বেশি।
তিনি আরো জানান যে, এ প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে চিকিৎসা নৈতিকতার মান রক্ষা করেই এটি সরাসরি মানব দেহে প্রয়োগ করা হবে।

২৩ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং-এ ইরানি জুনিয়র বাইসাইকেল চালকের দ্বিতীয় স্থান অধিকার
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জুনিয়র বাইসাইকেল চালক আমীর হোসাইন জামশিদিয়ান বাইসাইকেল চালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ইউনিয়ন সাইক্লিস্ট্ ইন্টারন্যাশ্নেল্ (ইউসিআই) কর্তৃক ঘোষিত ‘মেন্ জুনিয়র পয়েন্টস্ রেস্ র‌্যাঙ্কিং’-এর তালিকায় তার এ অবস্থানের কথা ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ইউসিআই হচ্ছে সারা বিশ্বের স্পোর্টস্ সাইক্লিং-এর গভর্নিং বডি। জামিশিদিয়ান ইউসিআই জুনিয়র ট্র্যাক সাইক্লিং ওয়ার্লড্ চ্যাম্পিয়নশীপ্স্-এ ছেলেদের বিভাগে প্রতিযোগিতা করে বিস্ময়কর সাফল্যের অধিকারী হবার ফলে এ অবস্থানের অধিকারী হতে সক্ষম হয়।
ইউসিআই জুনিয়র ট্র্যাক সাইক্লিং ওয়ার্লড্ চ্যাম্পিয়নশীপ্স্ গত ২৩ থেকে ২৭ আগস্ট (২০১৭) ইতালির মন্টিচিয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিশ্বের ৪২টি দেশ থেকে মেয়েদের বিভাগে একশ’ জনেরও বেশি প্রতিযোগী ও ছেলেদের বিভাগে প্রায় দু’শ’ জন প্রতিযোগী ব্যক্তিগতভাবে ও গ্রুপ ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করে। স্প্রিন্ট ও অ্যান্ডুর‌্যান্স রেসিং পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
জামশিদিয়ান উপরিউক্ত অবস্থানের অধিকারী হওয়া ছাড়াও ছেলেদের বিভাগে ‘জুনিয়র অম্নিয়াম র‌্যাঙ্কিং’-এ নবম স্থান লাভ করে। এ ক্ষেত্রে একই বিভাগে সুইজারল্যান্ডের অ্যালেক্স ভোগেল মোট ১৩৯০ পয়েন্ট পেয়ে সর্বোচ্চ স্থান দখল করতে সক্ষম হয় এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আয়ারল্যান্ডের জেনো ইয়ং। এছাড়া এ প্রতিযোগিতায় ছেলেদের জুনিয়র স্ক্র্যাচ র‌্যাঙ্কিং তালিকায় ইরানি টীম ১২১০ পয়েন্ট পেয়ে সপ্তম স্থান অধিকার করে।
উল্লেখ্য, ইউসিআই জুনিয়র ট্র্যাক সাইক্লিং ওয়ার্লড্ চ্যাম্পিয়নশীপ্স্ হচ্ছে জুনিয়র বাইসাইকেল চালকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন দূরত্বের ট্র্যাক সাইক্লিং-এর ক্ষেত্রে কতগুলো ওয়ার্লড্ চ্যাম্পিয়নশীপ ইভেন্টের সমন্বিত প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতাগুলো ইউনিয়ন সাইক্লিস্ট ইন্টারন্যাশনাল (ইউসিআই) কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে।

২৪ ভারোত্তোলনে ১৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মোরাদি
ভারোত্তোলনে দীর্ঘ ১৮ বছরের পুরনো বিশ্ব রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন ইরানের অলি¤িপক চ্যা¤িপয়ন সোহরাব মোরাদি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ইনডোর অ্যান্ড মার্শাল আর্ট্স গেমসে স্বর্ণ জয়ের পাশাপাশি এই নতুন রেকর্ড গড়েন ২৯ বছর বয়সী এই ভারোত্তোলক।
এশিয়ান ইনডোর গেমসে সমন্বিতভাবে ৪১৩ কেজি ওজন তুলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ইরানি এই ভারোত্তোলক।।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছি, ভারোত্তোলনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। দিনে তিনবার টানা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি আমার সময় শুধুমাত্র ভারোত্তোলনের জন্য বরাদ্দ রেখেছি, অন্যকিছুর জন্য নয়। এটাই আমার সফলতার রহস্য।’
মোরাদি বলেন, ‘বিশ্ব রেকর্ড আমার এসব প্রচেষ্টার ফসল। একদিন আমার স্বপ্ন ছিল অলি¤িপকে সোনা জেতার, তা করেছি। কারণ এটা সব অ্যাথলেটের কাছেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্ন। আমার আরেকটি লক্ষ্য ছিল বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার, সেটিও করেছি।’
এর আগে ১৯৯৯ সালে এথেনসের ওয়ার্ল্ড চ্যা¤িপয়নশিপে সমন্বিতভাবে ৪১২ কেজি ওজন তুলে বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন গ্রিসের আকাকিওস কাকিয়াসভিলিস।

২৫ এশিয়ান স্টুডেন্টস্ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইরানি টীমের শিরোপা বিজয়
সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শীরায নগরীতে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান স্টুডেন্টস্ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০১৭’-তে ইরানি টীম শিরোপা অর্জন করেছে। এ প্রতিযোগিতায় ফাইন্যাল ম্যাচে ইরানি টীম ইন্দোনেশীয় টীমকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে এ গৌরব অর্জন করে।
‘এশিয়ান স্টুডেন্টস্ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০১৭’ ইরানসহ বিশ্বের আটটি দেশের ৯টি টীমের ২৭০ জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। ৬ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর (২০১৭) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দুইটি ইরানি টীম এবং দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত, মালয়েশিয়া আফগানিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় টীম অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে যোগ করা যেতে পারে যে, চলতি সেপ্টেম্বর (২০১৭)-এর শুরুর দিকে ইরানের ন্যাশন্যাল বীচ সকার টীম প্রথম বারের মতো বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং-এ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। ‘বীচ সকার ওয়ার্লড্ কাপ বাহামাস্ ২০১৭’-তে ইরানি টীম তৃতীয় স্থান অধিকার করলে তার অবস্থান বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং-এ দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়। বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং-এর প্রথম পাঁচটি টীম হচ্ছে থাক্রমে : ব্রাজিল (৪,৫৬৩ পয়েন্ট), ইরান (৩,০৮১ পয়েন্ট), পর্তুগাল (৩,০৬৩ পয়েন্ট), তাহিতি (২,৬৩১ পয়েন্ট) ও রাশিয়া (২,৫৩৮ পয়েন্ট)।