শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সম্পাদকীয়

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ 

হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.)-এর ওফাত বার্ষিকী
চৌঠা জুন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.)-এর ছাব্বিশতম ওফাত বার্ষিকী। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জনগণ, বিদেশস্থ ইরানী কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মিশনসমূহ এবং বিশ্বব্যাপী হযরত ইমামের ভক্ত ও অনুরক্তগণ এ দিনে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও লেখালেখির মাধ্যমে এ মহান ইমামকে স্মরণ করেন এবং তাঁর শিক্ষা অনুসরণের জন্য স্বীয় অঙ্গীকার নবায়ন করেন।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান স্থপতি ও নেতা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.) ছিলেন ইরানী জাতির শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁর সুমহান নেতৃত্বে ইরানী জাতি আড়াই হাজার বছরের পুরনো রাজতান্ত্রিক ত্বাগূতী শাসন ব্যবস্থা ও বিজাতীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দাসত্ব হতে মুক্তি লাভ করে মানবিক আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন জাতির গৌরবের অধিকারী হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ মহান নেতার দিকনির্দেশনা অনুসরণের ফলেই ইসলামী ইরান বৈশ্বিক আধিপত্যবাদীদের প্রভাবের বাইরে থেকে ও তাদের বয়কট মোকাবিলা করে বিশ্বের অন্যান্য জাতির সামনে এক অনন্য সফল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
একটি বিপ্লবের নেতা হিসেবে হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.)-এর অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ও সাফল্য এখানে যে, তিনি বৈপ্লবিক আন্দোলন পরিচালনা কালেই এমন অনেক সুযোগ্য অনুসারী গড়ে তোলেন যাঁরা তাঁর বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন কালে তাঁর পক্ষ থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পরেও তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ইরানী জাতিকে তাঁর প্রদর্শিত পথে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.) একদল সুযোগ্য উত্তরসূরির পাশাপাশি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি নিখুঁত কার্যোপযোগী সংবিধান রেখে গিয়েছিলেন। ফলে তাঁর ইন্তেকালের পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত একজন সুযোগ্য রাহ্বার নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামী ইরানের অগ্রযাত্রা আগের মতোই অব্যাহত থাকে এবং এখনো রয়েছে। ইমামের বিরাট সাফল্য এখানে যে, তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে যে ধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত রেখে গিয়েছেন তাঁর ওফাতের সিকি শতাব্দীর বেশিকাল পরেও আজ দেশটি সে ধারার ওপরেই অগ্রসর হচ্ছে এবং সে ধারা থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত হয় নি।
হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.)-এর এ অনন্য সাফল্যের কারণ এই যে, তিনি নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ববর্তী জীবনে যেমন, তেমনি পরবর্তীকালে জনগণকে ও বিপ্লবকে নেতৃত্ব প্রদানকালে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনকালেও তথা তাঁর গোটা জীবনে সত্যের অন্বেষণ ও অনুসরণ এবং একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কোনো লক্ষ্যই পোষণ করেন নি। সর্বাবস্থায়ই তাঁর নিঃশর্ত সম্পর্ক ছিল একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার সাথে এবং অন্য সকলের ও সব কিছুর সাথে তাঁর সম্পর্ক নির্ধারিত হতো আল্লাহ্র সাথে সম্পর্কের মানদ-ের বিচারে। তাই সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ তা‘আলাই তাঁকে পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ্ যাকে পথ দেখান তাঁর জন্য সাফল্য ছাড়া আর কিছু থাকতে পারে না।
হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.) ছিলেন যথাযথ মাত্রায় প্রয়োজনীয় সার্বিক গুণাবলির অধিকারী একজন ওয়ারেছে নবী (সা.) তথা একজন পূর্ণাঙ্গ দ্বীনী নেতা। তাঁর ‘ইল্ম্, আমল ও দূরদর্শিতা সবই ছিল কাক্সিক্ষত মাত্রায়। এ কারণেই তিনি কেবল ইরানী জনগণের নেতা ছিলেন না; বরং তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্কে সঠিক দ্বীনী দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছেন। আজকের দিনে মুসলিম উম্মাহ্র সবচেয়ে বড় সমস্যা ও বিপদ হচ্ছে তাদের বহুধাবিভক্তি যে জন্য তিনি যথার্থভাবেই ইসলামের দুশমনদের ষড়যন্ত্রকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এ ব্যাপারে উম্মাহ্কে সতর্ক করে দেন ও তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য পথনির্দেশ দেন। তিনি তাঁর অন্তিম বাণীতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা অঙ্গনে মুসলমানদের মধ্যে শত্রু শিবিরের চরদের অনুপ্রবেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বিভেদের প্রবক্তাদের নিন্দা করেন। তিনি বলেন যে, যারা শিয়া-সুন্নি বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা শিয়াও নয়, সুন্নিও নয়, বরং তারা সাম্রাজ্যবাদীদের চর। তিনি মাযহাব ও ফিরকা নির্বিশেষে সকল মুসলমানের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উদ্যাপনের কর্মসূচি প্রদান করেন এবং তা এখনো সমগ্র মুসলিম জাহানে প্রতি বছর উদ্যাপিত হচ্ছে।
হযরত ইমামের (রহ্.) নেতৃত্ব ও ইরানের ইসলামী বিপ্লব সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্কে ইসলামী জাগরণ ও উত্থানের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, ইসলামী আন্দোলনসমূহ সহ বিশ্বের মুসলিম জাতি ও গোষ্ঠীগুলো যদি হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ্.)-এর নেতৃত্বের গুণাবলি ও তাঁর অনুসৃত কর্মপদ্ধতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও তা অনুসরণ করে তাহলে তারাও ইসলামের দুশমনদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে ইরানের ইসলামী জাতির ন্যায় সকল অঙ্গনে সর্বাত্মক সাফল্যের অধিকারী হতে সক্ষম হবে।