সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে ইরান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সংলাপ

পোস্ট হয়েছে: মে ২৪, ২০১৭ 

news-image

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড.হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ফরাসি  প্রেসিডেন্ট গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় জনাব হাসান রুহানির বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন অভিহিত করে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের আহবান জানিয়েছেন। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা ও পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ভূমিকা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বর্তমানে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কিন্তু তারপরও দুই বছর আগে প্রেসিডেন্ট রুহানির প্যারিস সফর থেকে ফ্রান্স ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। ইরান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের টেলিফোন সংলাপেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।

আমেরিকা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় পরমাণু সমঝোতার পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখনো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইরানের অর্থ ব্যবস্থা ও ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনো আটকে আছে এবং এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় বাস্তবায়নযোগ্য বহু প্রকল্প হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে ফ্রান্সের বড় বড় কোম্পানি ইরানের রেল যোগাযোগ, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, খাদ্যপণ্য উৎপাদন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি প্রকল্পে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কারণে পরমাণু সমঝোতার মতো আন্তর্জাতিক বৃহৎ চুক্তির বাস্তবায়ন ফ্রান্সের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা বিস্তারের জন্য ওই সমঝোতা বাস্তবায়নে সবারই এগিয়ে আসা উচিত। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা এবং সিরিয়া সংকট সমাধানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সবারই উচিত এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা চালানো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের নয়া অধ্যায় সূচিত হয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে, অন্য দেশের সহযোগিতায় সিরিয়া সংকট সমাধান ও সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার করার ক্ষমতা বা আন্তরিকতা তেহরানের রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতা উদাহরণ হয়ে আছে এবং চাইলে ফ্রান্সও শামিল হতে পারে। এর আগে ইসলামী ইরান দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছিল।

এমানুয়েল ম্যাক্রন হচ্ছেন, ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট। তিনি ইরানকে ফ্রান্সের জন্য ভালো অর্থনৈতিক শরীক হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারে তার দেশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তারে তিনি খুবই আগ্রহী এবং আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এ দুই দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে সক্ষম হবে।

এমানুয়েল ম্যাক্রন ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও  তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। ওই শুভেচ্ছা বাণীতে তিনিও সব ক্ষেত্রে তেহরান ও প্যারিসের মধ্যে সহযোগিতা বিস্তারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এবার দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে টেলিফোন সংলাপে দু’জনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।সূত্র: পার্সটুডে।