বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৮, ২০১৬ 

শায়খুল আজহার : শিয়া ও সুন্নী ইসলামেরন দুটি ডানা : আল- আজহারের আলেমগণ ও শিয়া আলেমগণ পরস্পর সাক্ষাত করুন
ইসলামী জাহানে অনৈক্য সৃষ্টিকারী ফিতনা তীব্রতর হওয়া এবং তাকফিরী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষ হতে নিরপরাধ মুসলমানদের হত্যাকান্ড ও ধ্বংসাত্মক নীতি অব্যাহত থাকার একই সময়ে শায়খুল আযহার গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, শিয়া ও সুন্নী ইসলামের দুটি ডানা আর উভয়ের মধ্যে নৈকট্য গড়ে তোলা একান্ত জরুরী।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তাসনীম আল আহাদ সংবাদ ইউনিটের বরাত দিয়ে জানায়। মিশরের আল আজহারের শায়খ আহমদ আত তাইয়েব বলেন, শিয়া ও সুন্নী ইসলামের দুটি ডানা আর এ কারণে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক নৈকট্য ও ঘনিষ্টতা গড়ে তোলা একান্ত জরুরী। তিনি শিয়া ও সুন্নীদেরকে পরস্পরের ভাই বলে সম্বোধন করেন।
তিনি শিয়া বা সুন্নী নির্বিশেষে যে কোন মুসলমানকে হত্যা করা হারাম এ কথার উপর পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সবইকে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রাণসত্তার দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা, উদারতা এবং যেকোন ধরনের বাড়াবাড়ি উগ্রপন্থা ও সাম্প্রদায়িকতা পরিহার করা একান্ত জরুরি।
ইন্দোনেশীয় মুসলিম পরিষদেও সদস্যদের সাথে সাক্ষাত শেষে আলাপকালে শায়খুল আজহার ইসলামী জাহানের আলেমদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ইসলাম এমন এক ধর্ম যে ধর্মের মধ্যে সব মাযহাবকে পক্ষপাতিত্ব বা উগ্রপন্থা ব্যতিরেকে আত্মস্থ করা হয়েছে।
শায়খ আহমদ আত তৈয়ব অনুরূপভাবে মুসলমানদের কাফের ফতোয়া দেয়া হারাম ঘোষণা করে বলেন, কাফের আখ্যা দেয়া বড়ই বিপজ্জনক প্রবণতা। কারো অধিকার নাই যে, অন্যদেরকে কাফের আখ্যায়িত করবে। এ বিষয়টি একমাত্র উলুল আমর এর হাতেই ন্যস্ত।
তিনি ইসলামী ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ঐতিহ্য হচ্ছে পারস্পরিক দয়া, ভালোবসা, উদারতা এবং উগ্রপন্থা বর্জন করা। তিনি ইসলামী উম্মাহর আলেমদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসা বর্জিত একটি দ্বীন।
আল আজহারের শায়খ স্মরণ করিয়ে দেন যে, ঐক্য কোন চিন্তাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক মত পার্থক্য কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়; বরং তা হতে পারে। কিন্তু তার অর্থ অনৈক্য ও মতভেদ সৃষ্টি করা নয়। কেননা মতপার্থক্যকে ইসলামও সমর্থন করে। তবে সর্বাবস্থায় আমাদেরকে মতবিরোধ পরিহার করে চলতে হবে।

‘আলীঅফ’ এর সাক্ষাতে ইসলামী বিপ্লবের নেতা রাহবার বলেন :
শিয়া মতাদর্র্শের প্রসার সমস্যাদির মোকাবিলায় আল্লাহর সাহায্য লাভের কারণ হবে
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট এর সাক্ষাতে বলেন, ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক ও দুই দেশের অভিন্ন সূত্রসমূহ প্রচুর বিশেষত উভয় দেশের ধর্মীয় অভিন্নতাসমূূহ খুবই চমৎকার। তিনি বলেন, ইসলামী আদর্শ ও শিক্ষাদীক্ষার বিস্তার এবং ইসলামী আদর্শেও সৌন্দর্য ও নিদর্শনগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হলে সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাবে এবং বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলায় জনগণের সাহায্য ও সমর্থন লাভ করা সহজতর হবে।
ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা রাহবার সৈয়দ আলী খামনেয়ী আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতে বলেন, আজারবাইজান ও ইরানের মধ্যে চমৎকার রাজতৈক সম্পর্ক বিদ্যমান এবং উভয় দেশের জনগণের মাঝে প্রচুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিন্ন সূত্র রয়েছে। রাহবার এ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন যে, ধর্মীয় নিদর্শন ও ঐতিহ্যগুলোর প্রতি যদি সম্মান প্রদর্শন করা হয় তাহলে দেশের জনগণ তা স্বাগত জানাবে এবং বিভিন্ন হুমকির মোকাবিলায় জনগণের সাহায্য ও সমর্থন পাওয়া সহজতর হবে।
সংবাদ সংস্থা ‘ইন্তিখাব’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী মহামান্য রাহবার সৈয়দ আলী খামনেয়ী সম্প্রতি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলীবফকে দেয়া সাক্ষাতে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজারবাইজানের জনগণের প্রতি বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশিত্বেও চাইতেও ভ্রাতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে তাকায়। রাহবার বলেন, আজারবাইজানের জনগণের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও জনকল্যাণ আমাদের কাছে সবিশেষ গুরুত্ব রাখে। তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন যে, দুই দেশের মানুষের মাঝে আত্মিক সমঝোতা ও একাত্মতা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক লেনদেন ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়া জরুরী।
ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইরান ও আজারবাইজানের জনগণের ধর্মীয় অভিন্নতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আজারবাইজানের জনগণের ইসলামী ও শিয়া আকিদা বিশ্বাস মহামূল্যবান সম্পদ। আর সরকার জনসাধারণের এই ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি যত অধিক সম্মান ও আগ্রহ দেখাবে সে পরিমাণে সরকারের প্রতি জনগণের সমখর্থন ও কোন কোন বৃহৎশক্তির মোকাবিলায় তাদের প্রতিরোধ তত শক্তিশালী হবে।
ওাহবার বলেন, বিভিন্ন দেশ ও জাতির মাঝে তাকফিরী গোষ্ঠীসমূহ যে সব ফিতনা ছড়াচ্ছে তার মোকাবিলার একমাত্র পন্থা হচ্ছে, ইসলামী তৎপরতা বৃদ্ধি করা। রাহবার বলেন, আজারবাইজান এলাকা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক ঐতিহ্যবাহী এবং বড় বড় আলেমের জন্মস্থান। আর সেখানকার জনগণও খুবই সজাগ ও সতর্ক জাতি। কাজেই তাদের ধর্মীয় কর্মকান্ডে সহযোগিতা করা হলে তাদেও আবেগ ও সংবেদনশীলতা আকৃষ্ট র্কও ক্ষে্েরত্র তা অত্যন্ত প্রভাবশালী হবে।
ওাহবার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যকে স্বগত জানান যে, উভয় দেশের বিরুদ্ধে যে সব হুমকি দেয়া হচ্ছে, তার অধিকাংশের উৎস অভিন্ন। তিনি বলেন যে, ইসলাম ও শিয়া মাযহাবের প্রসার ঘটানো হলে তা সমস্যা ও সংকট এবং হুমকিসমূহের মোকাবিলায় আল্লাহর রহমত ও পবিত ইমামগণের সুদৃষ্টি আকর্ষণের কারণ হবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মাননীয় প্রেসিডেন্ট ড. রূহানীও উপস্থিততে রাহবরের সাথে এই সাক্ষাতকালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলীভফ বলেন, বাকু ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক অতিশয় ঘনিষ্ট। তিনি ইরানে তার আলোচনাসমূহ অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেন, অভিন্ন ধর্ম, ইতিহাস ও সংস্কৃতি ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।
তিনি বাকু ও তেহরানের মধ্যে ১০টির অধিক সহযোগিতা সনদ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তেহরান ও বাকুর সম্পর্ক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দপূর্ণ এবং অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ব্যবসা, পরিবহন, এনার্জি ও শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতার বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহল করা হয়েছে। তিনি বলেন. আমরা অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা সম্প্রসারিত করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখব।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বাকু ও তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে একই চিন্তাধারার অনুসারী বলে উল্লেখ করে বলেন, ইরান বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বলবৎ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমরা ইরানের নিরাপত্তাকে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা হিসেবে মূল্যায়ণ করি।
ইলহাম আলীভফ আরো বলেন, উভয় দেশের বিরুদ্ধে যে হুমকি তা একই জায়গা থেকে উৎসারিত হয়। তিনি আরো বলেন যে, এ সফরে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছে যে, আমরা ইরানের সহায়তায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব। যাতে এতদাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বলবৎ হয়।
তিনি ইসলামী মূল্যবোধ সমূহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজারবাইজান সরকারের ধর্মীয় সেবামূলক পদক্ষেপসমূহের বর্ণনা দেন এবং বলেন, আজারবাইজানের স্বাধীনতার সময়কালে দুই হাজার মসজিদ নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক নির্মিত হয়েছে আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইসলাম বিরুধী তৎপরতাসমূহের নিন্দা করে সে দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতার কারণ জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজারবাইজানে ইসলাম ও শিয়া মজহাবকে জনগণ অত্যন্ত ভালোবাসে। আর এতদ এলাকায় আপনার মত বিরাট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি আমাদেরকে বিরাট শক্তি ও মনোবল যোগায়।

পরমাণু আলোচনায় সফলতার স্বীকৃতি : পদক পেলেন ইরানী আলোচক দল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফকে সম্মানসূচক পদকে ভূষিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। ইরানর সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতায় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ গত ৯ ফেব্রুয়ারী জারিফসহ পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সম্মানসূচক পদকে ভূষিত করা হয়।
ইরানের শহীদ পরমাণু বিজ্ঞানীদের পরিবারের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জারিফকে ‘মেডেল অব মেরিট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘মেডাল অব কারেজ’ দেয়া হয় ইরানরর আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহী এবং ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকানকে।
এছাড়া, যৌথ সমল্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ-র সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কূটনীতিবিদ, কারিগরি এবং আইন সংক্রান্ত কর্মকর্তাকেও সম্মাননা দেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।
অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে রুহানি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞা পরমাণু আলোচক দলেল প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে উঠে গেছে। তিনিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উষমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর দিকনির্দেশনা এবং জনগণের জাতীয় ঐক্য ছাড়া ইরানের পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব ছিল না।

ইরানে ৩৭তম বিপ্লব বার্ষিকী উদ্যাপন
গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৭তম বিপ্লব বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ইরানের কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে বিপ্লব বার্ষিকীর মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামী বিপ্লব চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হয়। সে দিনের স্মরণে ইরানের সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে বিজয় উদ্যাপন করেন। ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতান্ত্রিক পাহলভি সরকারের পতন হয়।
রাজধানী তেহরানে বিজয় বার্ষিকীর শোভাযাত্রায় প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, সংসদ ¯িপকার ড. আলী লারিজানি ও বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ অমুলি লারিজানিসহ দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সেখানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদ্স ইউনিটের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সুলাইমানিও ছিলেন।
বিজয় শোভাযাত্রা চলাকালে প্রেসিডেন্ট রুহানি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তার দিক থেকে ইসলামী ইরান এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আদর্শ স্থাপন করেছে। ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঁচ হাজার ২০০ সাংবাদিক দেশব্যাপী বিজয় বার্ষিকীর নানা আয়োজনের খবর সংগ্রহ ও সরবরাহ করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানির ইতালি সফর
ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের পর তিন ইউরোপীয় দেশ সফরের প্রথম পর্যায়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছেন। এ সফরে যান প্রেসিডেন্ট রুহানি। রোমের সিয়ামপিনো এয়ারপোর্টে ড. রুহানিকে স্বাগত জানান ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো গেনটিলোনি।
এ সফরে একটি উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গী ছিলেন। প্রতিনিধি দলটিতে সরকারি কর্মকর্তা, ইরানী পুঁজি বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ীরা ছিলেন।
রোম সফরকালে ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্গেই মাত্তারেলা এবং প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির সঙ্গে রুহানি সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া, তিনি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের পবিত্র নগরী ভ্যাটিকান সফর করেন এবং পোপ ফ্রান্সিস এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
রোম সফর শেষে ড. রুহানি গত ২৭ জানুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে রওয়ানা হন এবং সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইউরোপের উদ্দেশে তেহরান ত্যাগ করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় রুহানি বলেন, ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর পরমাণু সমঝোতার পর একটি ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইরান-ইতালি বিশাল অর্থের বাণিজ্য চুক্তি সই
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির ইতালি সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে সাড়ে ১৮শ’ কোটি ডলারের চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। রাজধানী রোমে গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রুহানি ও ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্গিও মাত্তারেলা উপস্থিত ছিলেন।
বিশাল এ অর্থের চুক্তির আওতায় স্বাস্থ্য, পরিবহন, কৃষি ও জ্বালানি খাত রয়েছে। এর মধ্যে তেল খাতে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে। এছাড়া চুক্তির আগে ইতালির ই¯পাত কো¤পানি ড্যানিয়েলি জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে ৬১০ কোটি ডলার মূল্যের চুক্তি করবে। অবকাঠামো নির্মাণবিষয়ক কো¤পানি কনদোত্তে ডি’আকুয়া বলেছে, তারা ৪৩০ কোটি ডলারের চুক্তি করবে।
ইউরোপের তিনটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গত ২৫ জানুয়ারি ইতালি যান। ইতালি থেকে তাঁর ফ্রান্সে যান। ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতা হওয়ার পর তিনি ইউরোপ সফর গেলেন।

রুহানির সঙ্গে বৈঠক উপলক্ষে রোম জাদুঘরের নগ্ন মূর্তিগুলো ঢেকে দেয়া হলো

গত ২৬ জানুয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজির বৈঠক উপলক্ষে রোমের ক্যাপিটোলাইন জাদুঘরের নগ্ন মূর্তিগুলো সাদা কাঠের বাক্স দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।
রোমের এক মুখপাত্র বলেন, এ বৈঠককে কেন্দ্র করে সব সিদ্ধান্ত রেনজির দফতর থেকে নেয়া হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রোমক সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের অশ্বারোহী মূর্তির পাশে কথা বলছেন রুহানি-রেনজি।
ইতালির সংবাদ সংস্থা এনএনএসএ’র খবরে বলা হয়, সফররত ইরানী প্রেসিডেন্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে নগ্ন মূর্তিগুলো ঢেকে দেয়া হয়। এ ছাড়া, রুহানির সম্মানে দেয়া ইতালির রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় মদও পরিবেশন করা হয় নি। সফররত মুসলিম ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান জানানোর কূটনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে : ইতালি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তো রেনজি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন, ইরান বহু বছর ধরে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
ইতালির রাজধানী রোমে সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গত ২৬ জানুয়ারি এসব কথা বলেন তিনি।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বর্বরতা ও দুষ্টুচক্রের নানা তৎপরতা যৌথভাবে মোকাবেলায় ইরানের প্রেসিডেন্টের এ সফর বিশেষভাবে কার্যকরী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরান সবসময় সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের অগ্রভাগে ছিল। তবে সামরিক উপায়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না; বরং রাজনৈতিক উপায়ে সমাধান খোঁজা দরকার।
পরমাণু সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরমাণু বাজারে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা করার পরিকল্পনা করেছে ইরান : সালেহি

ইরান বলেছে, ভারি পানিসহ পরমাণু জ্বালানি সংক্রান্ত পণ্য বিপণন করতে শুরু করেছে তেহরান। পরমাণু পণ্য নিয়ে বাজারে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা করার পরিকল্পনা করেছে বলেও জানিয়েছে ইরান।
ইরানের আণবিক শক্তিসংস্থা বা এইওআই’এর প্রধান আলী আকবর সালেহি ১৫ ফেব্রুয়ারি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে এইওআই’এর সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা অর্জনের জন্য এরই মধ্যে এইওআইভুক্ত সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া, এ সব সংস্থাকে এইওআই থেকে স্বতন্ত্র করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং তারা স্বাধীন সংস্থা হিসেবে বিদেশের সঙ্গে ব্যবসাও করতে পারবে বলে জানান সালেহি।

চীনা প্রেসিডেন্টের ইরান সফরÑ ইরানের সঙ্গে স¤পর্কে ‘নতুন অধ্যায়’ চান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দিনের সরকারি সফরে গত ২২ জানুয়ারি ২০১৬ ইরানে পৌঁছেন। ১৪ বছর পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট এই প্রথম ইরান সফর। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরান সফরে আসা প্রথম রাষ্ট্রপ্রধানও তিনি। মেহরাবাদ বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। সফরকালে জিনপিং ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
২৩ জানুয়ারি তেহরানের সা’দাবাদ প্রাসাদে ড. রুহানির সাথে সাক্ষাৎ করেন জিনপিং। সাক্ষাতে তিনি ইরানের সঙ্গে চীনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক স¤পর্ক শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করেন। কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে স¤পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে অর্থনীতি, শিল্প, সংস্কৃতি ও বিচার বিভাগীয় খাতে দু’দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। এমনকি পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর পাশ্চাত্যের কঠোর নিষেধাজ্ঞার সময়ও তেল আমদানি বন্ধ করেনি চীন।
২০১৪ সালে তেহরান ও বেইজিং-এর মধ্যে বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ ছিল ৫,২০০ কোটি ডলার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় ২০১৫ সালে ওই পরিমাণ কমে গিয়েছিল। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় চলতি বছর ইরান ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ আবার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উভয় দেশ ও বিশ্বকে লাভবান করবে : হলান্দে
তেহরান-প্যারিস অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যাপকতর হবে : ড. রুহানি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তাঁর প্যারিস সফরের ফলে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যাপকতর হবে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হলান্দে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যকার সম্পর্ক উভয় জাতি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ও বিশ্বকে লাভবান করবে। প্রেসিডেন্ট রুহানির সাম্প্রতিক প্যারিস সফরের সমাপ্তিতে গত ২৮ জানুয়ারি (২০১৬) দুই দেশের প্রেসিডেন্টের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানির এ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে যে ২০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ এ আভাসই দেয় যে, তেহরান ও প্যারিস পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হলান্দের সাথে ও শীর্ষস্থানীয় ফরাসি কোম্পানিগুলোর সাথে তাঁর যে আলোচনা হয়েছে তা ফলপ্রসূ ও লাভজনক হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যকার সহযোগিতা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অঙ্গনে উভয় দেশের মধ্যে একশ’ বছরেরও বেশিকাল যাবত যে পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে সে সহযোগিতাকেও গভীরতর করা হবে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় পরিবেশ বিষয়ক বৈশ্বিক শীর্ষ সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরান এ শীর্ষ সম্মেলনে ফ্রান্স ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে থাকবে। তিনি বলেন, আমরা এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা (ঔঈচঙঅ) ও এর সংযোজনীসমূহে প্রদত্ত স্বীয় অঙ্গীকারসমূহ অপর পক্ষ যতদিন পালন করে চলবে ততদিন ইরান সরকারও এতে প্রদত্ত স্বীয় সমস্ত অঙ্গীকার আন্তরিকতার সাথে পালন করে যাবে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা এ অঞ্চলের উত্তেজনা নিরসনের জন্য কূটনীতিকে অগ্রাধিকার প্রদান করি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সিরীয় জনগণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের জন্য মানবাধিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমরা সকলের জন্য সমান অধিকার সমর্থন করি, তা তারা শরণার্থীই হোক বা নাগরিকই হোক। তিনি বলেন, সিরিয়ার মূল সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ এবং তারা যারা আইএ্সআইএস-এর কাছ থেকে তেল ক্রয় করে, তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করে ও রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে সমর্থন দেয়।
প্রেসডেন্ট রুহানি বলেন, বিশ্বের সকল দেশেরই মানবাধিকার সমস্যার প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত, কিন্তু এ ব্যাপারে পশ্চিমা দেশ সমূহ যে নিজেদেরকে ত্রুটিহীন মনে করে এটা ভুল।
এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হলান্দে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্যারিস সফরে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তেহরান ও প্যারিসের মধ্যকার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করা হরে এবং তা উভয় জাতিকে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে ও বিশ্বেকে লাভবান করতে সক্ষম।
প্রেসিডেন্ট হলান্দে জোর দিয়ে বলেন যে, প্যারিস তেহরানের সাথে স্বীয় সম্পর্ককে পুনরায় সৃদৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রুহানির প্যারিস সফরকালে দুই সরকারের মধ্যে ও দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কতগুলো ভালো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রান্স এসব চুক্তির সবগুলোই কার্যকরকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সন্ত্রাসবাদকে একটি সর্বাত্মক হুমকি হিসেবে অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট হলান্দে বলেন, সন্ত্রাসবাদ কেবল আমাদের শত্রুই নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ কোনোরূপ ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে বিশ্বের অন্য সকল জাতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়। তিনি বলেন, ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতা বিশ্বশান্তি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য লাভজনক হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট হলান্দে আরো বলেন, গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যে সঙ্কট চলছে তা নিরসনে ইরান ও ফ্রান্স সিদ্ধান্তকর ভূমিকা পালনে সক্ষম এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় দুই দেশ পরস্পরের পাশে দাঁড়াতে পারে।
ইরান ও ফ্রান্সকে দু’টি মহান দেশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট হলান্দে বলেন, ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে বহু ক্ষেত্রে গভীরভাবে অভিন্নতা রয়েছে, আর এ কারণে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ২০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্যারিস সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা স্বাক্ষর পরবর্তী নতুন পরিস্থিতিতে তেহরান ও প্যারিসের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করণের লক্ষ্যে এ সব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি ভবন এলিসি প্যালেসে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হলান্দের উপস্থিতিতে এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। ‘ইরান ও ফ্রান্স পারস্পরিক সহযোগিতা উন্নয়ন বিষয়ক পথ পরিকল্পনা’ বিষয়ক প্রথম দলিলটি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়। আরেকটি দলিলে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের অর্থমন্ত্রীদ্বয়।
দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইরান ও ফ্রান্সের শিল্পমন্ত্রীদ্বয় একটি সমঝোতা স্মারকে (গঙট) স্বাক্ষর করেন। এছাড়া দুই দেশের যোগাযোগ মন্ত্রী একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আরেকটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরিবেশ সংস্থার প্রধান এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া ইরানের পর্যটন সংস্থার প্রধান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যটন সম্পর্কিত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদ্বয় স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানির প্যারিস সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্যান্য চুক্তির মধ্যে রয়েছে কৃষি গবেষণা, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা, পরিবহন, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, বিমান পরিবহন, আইকেআইএ বিমান বন্দর উন্নয়ন, মাশহাদ ও ইস্ফাহান বিমান বন্দরের জন্য নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, জাহায টার্মিনাল, তেল, তেহরানের পানি এবং গ্রীনহাউজ শাকসব্জি উৎপাদন বিষয়ক চুক্তি।

গ্রিক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসের ইরান সফর

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস সরকারি সফরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ইরান সফর করেন। শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিপ্রাস। প্রতিনিধিদলে ছিলেন গ্রিসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস কোটাজিয়াস, পরিবেশ ও জ্বালানিমন্ত্রী পানাগিওটিস স্কাউরলেটিস, অর্থ, উন্নয়ন এবং পর্যটনমন্ত্রী জর্জিয়াস স্টাথাকিস এবং উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রিস মারডাসসহ ৫০ সদস্য। এ দলে গ্রিসের শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীরাও ছিলেন।
তেহরানে অবস্থানকালে দ্বিপাক্ষিক স¤পর্কোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। তাঁর এ সফরকালে ইরান ও গ্রিস বাণিজ্য, অর্থ, পর্যটন, সংস্কৃতি, গৃহায়ন, সড়ক নির্মাণ, কৃষি এবং ওষুধ শিল্পখাতে চুক্তি সই করে।

ইরানের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর আমন্ত্রণে সম্প্রতি ইরানের ১৫ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেন। ইরানের ট্রেড প্রমোশন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রীর উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেযা মওদুদির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি পাঁচ দিনের সফরে গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছেন। ঢাকা অবস্থানকালে ইরানের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা এবং এফবিসিসিআই ও ঢাকা চেম্বারের সদস্যরা মতবিনিময় করেন। এছাড়া ইরানী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী, বিনিয়োগ বোর্ড এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক স¤পর্ক জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সদস্যদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সিমেন্ট, ক্লিংকার, রেলপথ যোগাযোগ, পলিমার, পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক শিল্প, এলপিজি, এলএনজিসহ প্রভৃতি খাতে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ইরানের বাজারে কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও দেশটির ট্রেড প্রমোশন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট রেযা মওদুদিও উপস্থিত ছিলেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য স¤পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইরান। এখানে সিলিন্ডার তৈরির কারখানা স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনাকেও ইরান কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজস¤পদ মন্ত্রীর আসন্ন ইরান সফরের সময় এসব নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে মানস¤পন্ন ওষুধ আমদানি করতে তাঁর দেশ আগ্রহী বলে তিনি জানান।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান থেকে শিগগিরই তরল পেট্রলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করবে বাংলাদেশ। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সফররত ইরানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এসময় ইরানী প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ রেযা মওদুদি বলেন, ১২ বছর ধরে আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এখন ইরানের ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, মিথ্যা অপবাদ ছিল আমাদের বিরুদ্ধে। এখন সারা বিশ্বে ইরানকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ব্যবসায়ী মহল ইরান সফর করছেন। এখন তাঁরা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে আরও বড় পরিসরে ব্যবসায় যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান ও সৌদি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান টানাপড়েন নিরসনে ইসলামাবাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান এবং রিয়াদ। তাঁর এ উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশা করেছেন।
নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘উত্তেজনা কমাতে দু’দেশের নেতারাই পাকিস্তানের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি এবং তাতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসেইন দেহকানের সঙ্গে তেহরানে বৈঠকের পর সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের গত ২০ জানুয়ারি তিনি এসব কথা বলেন। নওয়াজ শরীফ জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিকে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা চালানোর দায়িত্ব দেবেন। তাঁরা পূর্ণ সময় এ বিষয়ে কাজ করবেন। এ ইস্যুতে সৌদি আরবকে একজন ব্যক্তির নাম দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করবেন বলেও জানান পাক প্রধানমন্ত্রী।
এ সফরে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ আলাদাভাবে ইরানের জাতীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হোসেইন দেহকানের সাথে বৈঠক করেন।

হাঙ্গেরিকে পারমাণবিক সহায়তা দেবে ইরান
হাঙ্গেরিকে ২৫ মেগাওয়াট শক্তিস¤পন্ন পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনে প্রকল্প সহায়তা দেবে ইরান। পরবর্তীকালে এ রিঅ্যাক্টরের শক্তি ১শ’ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আকবর সালেহি বলেন, শুধু হাঙ্গেরি নয়, এশিয়া ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশকেও এধরনের পারমাণবিক সহায়তা দেবে তাঁর দেশ।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, এধরনের ছোট আকৃতির পারমাণবিক চুল্লি অপেক্ষাকৃত কম খরচে স্থাপন করা যায় এবং তা বিদ্যুৎ তৈরিসহ শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এধরনের চুল্লিতে কম ভারী পানি প্রয়োজন হয়। যা এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ ব্যবহার করতে পারে।
আলী আকবর সালেহী বলেন, হাঙ্গেরির সঙ্গে ইরানের সহযোগিতায় এধরনের ছোট আকৃতির পারমাণবিক চুল্লি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে অন্যান্য দেশেও একই ধরনের সহায়তা দেবে ইরান। তবে এজন্য বেশ কয়েক বছর কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। সালেহী ইরানের পারমাণবিক সংস্থারও পরিচালক। তিনি হাঙ্গেরি ছাড়াও আগ্রহী বিভিন্ন দেশকে ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লি প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ছাড়াও কারগরি সহায়তা দেবার আশ্বাস দেন।
বৈঠকের পর হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো বলেন, ইরানের কাছ থেকে তাঁর দেশ পারমাণবিক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেবে। এছাড়া ইরানের জ্বালানি খাতেও হাঙ্গেরি বেশ আগ্রহী বলে জানান পিটার।
হাঙ্গেরিতে বর্তমানে ১১শ’ ইরানী ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে এবং এ সুযোগ আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান পিটার সিজার্তো।

বিমান পরিবহনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হতে পারে ইরান
গত ২৬ জানুয়ারি আমেরিকার হেইকো অ্যারো¯েপস পার্টস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট জিম ও সুলিভ্যান বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আঞ্চলিক বিমান পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে সক্ষম। বিশাল এলাকার কেন্দ্রস্থলে ইরানের অবস্থান হওয়ায় তেহরানের হাতে এ সুযোগ রয়েছে।
রাজধানী তেহরানে ‘সিএপিএ ইরান অ্যাভিয়েশন সামিট-২০১৬’র অবকাশে তিনি এ কথা বলেন।
২৪ ও ২৫ জানুয়ারি তেহরানে এ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। সিএপিএ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বিমান সেবার ক্ষেত্রে একটি সংস্থা যা স্বতন্ত্র বিমান মার্কেটে বুদ্ধি-পরামর্শ, বিশ্লেষণ ও তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
আমেরিকার ওই ব্যবসায়িক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের বিমান পরিবহন ক্ষমতা অক্ষত রয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম। তিনি বলেন, বিদেশি কো¤পানির আগমন ইরানের বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। ইরানের বাজারে সবার জন্য সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জিম ও সুলিভ্যান বলেন, তাঁর কো¤পানি ইরানের বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে।
তেহরানে অনুষ্ঠিত সিএপিএ সম্মেলনে বিশ্বের ৩৫টি দেশের ৮৫টি বিমান প্রস্তুতকারক কো¤পানির ১৬০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ইরানের সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী আব্বাস আখুন্দি বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের বিমান কো¤পানির কাছ থেকে তেহরান সহযোগিতা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করল মিশর
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করেছে মিশর। ইরানের মেহের নিউজের বরাত দিয়ে প্রেস টিভি জানায়, গত কয়েক বছরের মধ্যে ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ প্রথবারের মতো পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য নিয়ে ইরানের একটি কার্গো জাহাজ মিশরের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।
বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক স¤পর্ক নেই। এর পাশাপাশি ২০১২ সালে ইরানের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হওয়ার পর ইরান ও মিশরের মধ্যে যোগাযোগের সর্বশেষ মাধ্যমটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত কয়েক মাস ধরে দু’দেশের কর্মকর্তারাই আশা করছিলেন, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আবার বাণিজ্য স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা হবে। এর পাশাপাশি কূটনৈতিক স¤পর্কও প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করেন তাঁরা।
ইরানের জাতীয় তেল কো¤পানির মহা ব্যবস্থাপক রোকনুদ্দিন জাভাদি জানান, মিশরের কাছে তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি করতে তেহরানের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা নেই; বরং তারা যখনই সরকারিভাবে কোনো অনুরোধ করবে তখন তা বিবেচনা করে দেখবে ইরান।

ইরান প্রতিদিনই নিজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবেÑ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি
ইরান প্রতিদিনই নিজ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটানো অব্যাহত রাখবে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি গত ২৪ জানুয়ারি এ ঘোষণা দেন। তিনি আরো বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যে কোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।
ইরানী টেলিভিশনে প্রচারিত সরাসরি সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ভৌগোলিক অখ-তা এবং জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পানিসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে ১০ মার্কিন মেরিন সেনাকে ইরান সম্প্রতি আটক করেছিল। এ ঘটনা তুলে ধরে জেনারেল সালামি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ইরানী নৌবাহিনীর শক্তির প্রমাণ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ইরানের পরিষ্কার বিজয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পারস্য উপসাগরীয় এলাকার ঘটনাবলির ওপর ১০ মেরিন সেনা আটকের বিষয়টি সিদ্ধান্তমূলক প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এতে বিদেশি সেনারা নতুন এক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে পেরেছে। এ ছাড়া, এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষায় ইরানের শক্তিমত্তা স¤পর্কে বিদেশিদের মূল্যায়নেরও পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি আরো ঘোষণা করেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখ-তা রক্ষায় প্রচলিত অস্ত্রের উন্নয়ন করার অধিকার ইরানের রয়েছে।

বিদেশি কো¤পানির কাছে এলএনজি শেয়ার বিক্রি করা হবে না : ইরান
বিদেশি কো¤পানিগুলোর কাছে ইরানের এলএনজি প্রকল্পের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে যে খবর বের হয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের ন্যাশনাল গ্যাস কো¤পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীরেযা কামেলি গত ২০ জানুয়ারি তেহরানে এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান।
এর আগে একই কো¤পানির অন্য এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে কতিপয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছিল, এই কো¤পানির এলএনজি প্রকল্পের অন্তত ২০% শেয়ার বিদেশি কো¤পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা হবে।
আলীরেযা কামেলি এ স¤পর্কে বার্তা সংস্থা মেহেরকে জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও তেল কো¤পানিগুলোর কাছে এলএনজি উৎপাদন প্রকল্পের শেয়ার বিক্রির কোনো পরিকল্পনা ইরানের জাতীয় গ্যাস কো¤পানির নেই।
ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের তিনটি প্রকল্পের একটি হচ্ছে এলএনজি। হল্যান্ডের শেল এবং ফ্রান্সের টোটাল কো¤পানির সহযোগিতায় এই প্রকল্পের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তেহরান। শেয়ার বিক্রির পরিবর্তে এসব কো¤পানির কারিগর সহযোগিতা নেবে ইরান।
২০১২ সালে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর পার্স এলএনজি ও পার্সিয়ান এলএনজি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ স¤পর্কে কামেলি বলেন, এখন পুঁজি বিনিয়োগ করার পর এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হতে যাচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের অধিকারী দেশ ইরানের ভূগর্ভে রয়েছে ৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস। অথচ আন্তর্জাতিক গ্যাসের বাজারে ইরানের অংশগ্রহণ শতকরা মাত্র এক ভাগ। তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর এই খাতে ৪,০০০ কোটি ডলারের বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ হবে বলে আশা করছে ইরান। দেশটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস উত্তোলন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে ইরানে উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ ৮০ কোটি ঘনমিটার।

৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ইউরোপে ইরানি ট্যাংকার

৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে ইরানের কয়েকটি ট্যাংকার ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এসব ট্যাংকার থেকে ফ্রান্স, ¯েপন ও রাশিয়ার চারটি তেল কো¤পানিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হবে। ইরানের জাতীয় তেল কো¤পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকনুদ্দিন জাওয়াদি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ ঘোষণা দেন। তিনি ইরানের জ্বালানি নিউজ নেটওয়ার্ক ‘শানা’কে জানান, মোট তেলের মধ্যে ২০ লাখ ব্যারেল কিনেছে ফ্রান্সের টোটাল কো¤পানি এবং বাকি ২০ লাখ ব্যারেল কিনেছে ¯েপন ও রাশিয়ার দুটি কো¤পানি। এসব তেল ইউরোপে শোধন করা হবে।
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি দেশটি প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ক্রেতাদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দাম ঘোষণা করে। সৌদি আরবের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে এক ডলার কম দাম ধরা হয়েছে।
গত ১৮ জানুয়ারি রোকনুদ্দিন জাওয়াদি জানিয়েছিলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইরানের তেল মন্ত্রণালয় প্রতিদিন পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ইরান প্রতিদিন দশ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

মার্কিন বাজারে প্রবেশ করল ইরানী কার্পেটের প্রথম চালান
ইরানী কার্পেটের প্রথম চালান মার্কিন বাজারে প্রবেশ করেছে। পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের পর এ কার্পেটের চালান লস অ্যাঞ্জেলসের বাজারে প্রবেশ করেছে বলে জানায় দৈনিক লস অ্যাঞ্জেলস টাইম্স গত ৬ ফেব্রুয়ারি। ইরানী কার্পেটের এ চালান গত সপ্তাহে মার্কিন শুল্ক বিভাগ থেকে ছাড়া পায়। আর এর মাধ্যমে ইরানী কার্পেটের জন্য মার্কিন ব্যবসায়ীদের অনেক বছরের আগ্রহের অবসান ঘটে।
লস অ্যাঞ্জেলসের ওয়েস্টউডের ইরানী কার্পেট ব্যবসায়ী আলেক্স হেলমি বেশ আবেগী হয়ে পড়েন। দৈনিকটিকে তিনি বলেন, ইরানী কার্পেট এসেছে শুনে আনন্দে আমার কান্না পাচ্ছিল। হাতে বোনা ৪০টি কার্পেট সংগ্রহের জন্য দ্রুত নিজ কর্মীদের লস অ্যাঞ্জেলস বিমান বন্দরে পাঠান তিনি।
হেলমির এ চালানে ১৩টি বড় কার্পেটও ছিল। এগুলোর কোনো কোনোটি একশ’ বছরের বেশি পুরানো। এসব কার্পেটের বেশির ভাগ খাঁটি রেশম তন্তুতে বোনা। আর কোনো কোনোটিতে রেশম এবং স্বর্ণ তন্তু মেশানো আছে। বড় কার্পেটগুলো এক লাখ এবং ছোটগুলো ১০ হাজার ডলারে বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
বেলগ্রেডে দেওয়ানে হাফিজ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ
পারস্যের মহাকবি হাফিজের কবিতা (দেওয়ানে হাফিয) সার্বিয় ভাষায় প্রকাশিত হল বেলগ্রেডে। এটি অনুবাদ করেছেন সার্বিয় অনুবাদক স্লোবোদান ডিজুরোভিক।
২০ ফেব্রুয়ারী বেলগ্রেডের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এই কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বেলগ্রেডে ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছাড়াও দুটি দেশের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সার্বিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরির পরিচালক লাসলো ব্লাস্কোভিস অনুষ্ঠানে বলেন, হাফিজের কাব্যগ্রন্থ (দেওয়ানে হাফিয) প্রকাশনার আয়োজন লাইব্রেরির জন্যে একটি বিশেষ দিনের মধুর স্মৃতি হয়ে থাকবে।এ কাব্যগ্রন্থ লাইব্রেরির সংগ্রহকে আরো সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে সার্বিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ ফাহিম বলেন, পারস্য কবিতায় মহাকবি হাফিজের কবিতার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাফিজের মরমী চিন্তা ও সাধনা বিশ্বসাহিত্যে রঙ্গীন পালক হয়ে আছে।
মারকোভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি প্রধান অধ্যাপক আলেক্সান্ডার জারকভ অনুষ্ঠানে বলেন, তার লাইব্রেরিতে দেওয়ানে হাফিজের দুটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও ৬৮০টি প্রাচ্য পাণ্ডুলিপি রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপ ও প্রাচ্যের সাহিত্য সম্পর্ক নিয়েও আলোকপাত করেন। সূত্র: তেহরান টাইমস

চালু হলো প্রাচীন সিল্ক রোড : চীনা মালবাহী ট্রেন ইরানে
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ প্রাচীন আমলের সিল্ক রোড দিয়ে শেষ পর্যন্ত চীনের একটি পণ্যবাহী ট্রেন ইরানে এসে পৌঁছেছে। চীন থেকে ইরানে আসতে ট্রেনটির ১৪ দিনের বেশি সময় লাগে এবং ট্রেনটি ১০,৩৯৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। গত ২৯ জানুয়ারি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের বাণিজ্য কেন্দ্র ই ওয়াং শহর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিল এ মালবাহী ট্রেন।
ইরানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রেনটিতে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ৩২টি কন্টেইনার রয়েছে। নতুন সিল্ক রোড দিয়ে চীন থেকে কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে ট্রেনটি ইরানের রাজধানী তেহরানে এসে পৌঁছে। ইরানের রেল বিভাগের প্রধান মোহসেন পুরসাইয়্যেদ আকায়ি বলেন, ১৪ দিনে ১০,৩৯৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীনা ট্রেনের ইরানে পৌঁছানো নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় এত পথ পাড়ি দিতে ৩০ দিন লাগার কথা। সিল্ক রোড চালু করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের এ কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে একটি করে ট্রেন আসবে, তবে প্রয়োজন হলে তা বাড়ানো হবে। ইরানের এ কর্মকর্তা আরো জানান, চীনের সাংহাই সমুদ্রবন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজ ইরানের বন্দর আব্বাসে ভিড়তে যে সময় লাগে তার চেয়ে এ ট্রেনের তেহরান এসে পৌঁছাতে ৩০ দিন কম সময় লেগেছে। মোহসেন পুরসাইয়্যেদ জানান, এ রোড তেহরান এসে থেমে যাবে না; বরং তা ইউরোপ পর্যন্ত যাবে।
সিল্ক রোডে আসা চীনা ট্রেনকে স্বাগত জানাতে তেহরানের রেলরোড স্টেশনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মোহসেন পুরসাইয়্যেদ আকায়িসহ ইরানে নিযুক্ত চীন, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের রাষ্ট্রদূতগণ এতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রাচীনকালে সিল্ক রোড ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা এশিয়া থেকে ইউরোপে মালামাল আমদানি-রপ্তানি করতেন। চীন সেই পথকে আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন ‘সিল্ক রোড ইকনোমিক বেল্ট এবং ২১তম সমুদ্র সিল্ক রোড’ উদ্বোধন করেন যাতে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ব্যবস্থা হয়। এর অংশ হিসেবে মহাসড়ক, রেলপথ ও বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পসহ এশিয়ায় যোগাযোগের অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য চীন এরই মধ্যে ১৪ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইরানের অবস্থান এবং এ দেশের সঙ্গে ১৫টি দেশের স্থল ও পানিসীমা রয়েছে। চীন মনে করে, নতুন সিল্ক রোড প্রকল্পে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়ার সঙ্গে চীনের যোগাযোগ স্থাপন করিয়ে দিতে পারে। আগামী ছয় বছরে ইরান নতুন সিল্ক রোডে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তেহরানে রাশিয়ার পর্যটন অফিস
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ইরানের রাজধানী তেহরানে রাশিয়ার প্রথম পর্যটন অফিস খোলা হয়েছে। তেহরানে নবম আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্মেলনকে সামনে রেখে রাশিয়া এ অফিস চালু করল। রাশিয়ার টুরিজ্ম ফেডারেল এজেন্সির পরিচালক ওলেগ স্যাফোনভ তেহরানে ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে এক প্রতিনিধি দল। ইরানের পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাণিজ্য নিয়ে পরামর্শ করেছেন।
পর্যটন নিয়ে এর আগে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তি অনুসারে বিভিন্ন কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও পর্যটন শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাশিয়ার পর্যটন পরিচালক ওলেগ স্যাফোনভ ইরানের কালচারাল হেরিটেজ, টুরিজ্ম ও হ্যান্ডিক্রাফ্টস অর্গানাইজেশনের উপ পরিচালক মোরতেজা রাহমানি মোভাহেদ-এর সঙ্গে দুদেশের মধ্যে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য পরিচালনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। দু’টি দেশের নাগরিকরা সহজে কিভাবে ভিসা পেতে পারে সে বিষয়টি এ বৈঠকে প্রাধান্য পায়।
স্যাফোনভ তেহরানে আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্মেলনকে তাঁর দেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের সঙ্গে পর্যটন ব্যবসার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হিসেবে কাজ করবে বলে অভিমত ব্যক্তি করেন। রাশিয়ার অনেক বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান ইরানে ব্যবসা করতে আগ্রহী এ কথা জানিয়ে স্যাফোনভ বলেন, এজন্যই আমরা তেহরানে অফিস খুলেছি। ১৬ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে রাশিয়া ছাড়াও আরো ষোলটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।

ইরানে শাখা খুলছে ওমানের মাস্কাট ব্যাংক

ইরানের রাজধানী তেহরানে শাখা খুলতে যাচ্ছে ওমানের সর্ববৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাস্কাট ব্যাংক। গত মাসে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার পর এই প্রথম তেহরানে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ওমান।
ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কাজ বেড়ে যাবে এবং এ লক্ষ্যেই ওমানের মাস্কাট ব্যাংক তেহরানে শাখা খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। অবশ্য অবরোধ চলাকালেও বিদেশি ব্যাংকগুলো তেহরানে তাদের কার্যক্রম চালু রাখে। কিন্তু ৬ জাতির সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে চুক্তি হবার পর এই প্রথম নতুন কোনো বিদেশি ব্যাংকের শাখা তেহরানে চালু হতে যাচ্ছে। সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউন

বায়ু দূষণ কমিয়ে আনতে তেহরানে নামছে হাইব্রিড ট্যাক্সি
ইরানের রাজধানী তেহরানের পরিবহন বহরে আগামী ৩ বছরে আরো ১০ হাজার হাইব্রিড ট্যাক্সি যুক্ত হবে। তেহরান সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা মেইসাম মোজাফফার গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ অনুষ্ঠানে ৫০টি হাইব্রিড ট্যাক্সি তেহরান শহরে চলাচলের জন্য চালু করা হয়। মেইসাম জানান, আগামী ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে আরো আড়াই হাজার ট্যাক্সি তেহরানে চলাচল শুরু করবে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বেসরকারি খাত।
যানজট ও বায়ু দূষণের দিকটি বিবেচনা করে এধরনের হাজার হাজার হাইব্রিড ট্যাক্সি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, তেহরান শহরে চলাচলকারী একটি মাইক্রোবাস যে পরিমাণ বায়ু দূষণ করে, ৬৬টি হাইব্রিড ট্যাক্সি চলাচল করলে একই পরিমাণ বায়ু দূষণ ঘটে। তাই হাইব্রিড ট্যাক্সি বৃদ্ধি করে তেহরান শহরে বায়ু দূষণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাইব্রিড ট্যাক্সির জ্বালানির খরচ অনেক কম।