মঙ্গলবার, ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ 

আমেরিকা ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানকে চায় : সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের শাহ সরকার আমেরিকার সঙ্গে যে নতজানু আচরণ করত ওয়াশিংটন এখনও সেইরকম ইরানকে চায়। এর ব্যতিক্রম আমেরিকার পছন্দ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একদল কর্মকর্তা, বিদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সদের একটি দল গত ২১ জুলাই ২০১৮ তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরানের পরমাণু সক্ষমতা, উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের সেনা উপস্থিতির ব্যাপারে আমেরিকার বিরোধিতা প্রমাণ করে ইসলামি শাসনব্যবস্থার শক্তিমত্তার প্রতি ওয়াশিংটনের গভীর বিদ্বেষ রয়েছে।
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদেরকে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য ও যোগ্যতা উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ দিতে গিয়ে সাবেক উপনিবেশগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অপরাধযজ্ঞ, পাশ্চাত্যে গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা, আমেরিকায় বড় দুই রাজনৈতিক দলের স্বৈরাচারী আচরণ এবং ইয়েমেনে সৌদি সরকারের চলমান গণহত্যার প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার কথা উল্লেখ করেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, পশ্চিমারা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে গেলেও তারা নির্লজ্জভাবে এ ব্যাপারে ইরানকে দোষারোপ করছে।
আমেরিকাকে বিশ্বাস করা যায় না বলে ইরানের কর্মকর্তারা এখন যে বক্তব্য দিচ্ছেন সেকথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমি অনেক আগে থেকে একথা বলে এসেছি যে, মার্কিনীদের কথায়, এমনকি তাদের স্বাক্ষরিত চুক্তিতেও আস্থা রাখা যায় না। কাজেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফল আসবে না।

ফিলিস্তিন নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না : সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে ট্রাম্প শয়তানি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং তা কখনই বাস্তবায়িত হবে না। গত ১৬ জুলাই ইরানের হজ বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, মার্কিনিরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিষয়ে যে শয়তানি পরিকল্পনা নিয়েছে সেটাকে ‘ডিল অব সেঞ্চুরি’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের জেনে রাখা উচিত আল্লাহর রহমতে এই শয়তানি পরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়িত হবে না। মার্কিন ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ইস্যু মানুষের মন থেকে মুছে যাবে না এবং বায়তুল মুকাদ্দাসই ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে থাকবে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ফিলিস্তিনি জাতি মার্কিন ষড়যন্ত্র রুখে দেবে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি মুসলমানদের সমর্থন থাকবে। তিনি বলেন, কোনো কোনো মুসলিম নামধারী সরকার যারা বাস্তবে ইসলাম ধর্ম মানে না তারা নিজেদের মূর্খতা, অজ্ঞতা ও লোভের কারণে আমেরিকার জন্য বলিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিম উম্মাহ ও ফিলিস্তিনি জাতিই বিজয় লাভ করবে। একদিন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে অবৈধ ইহুদিবাদী সরকারের শেকড় উপড়ে যাবে।
ইসরাইলের গোয়েন্দা ওয়েব সাইট দেবকাফাইল জানিয়েছে, ট্রাম্প যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তাতে পশ্চিম তীরের অর্ধেক ভূমি এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হবে সীমিত পর্যায়ের। এছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফিরে আসা বা অধিকৃত ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিগুলোকে আর কখনই গুরুত্ব দেওয়া হবে না।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়া সফর

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টদের আমন্ত্রণে গত ২ জুলাই ওই দুই ইউরোপীয় দেশ সফরে যান। প্রেসিডেন্ট রুহানি প্রথমে দু’দিনের সফরে বার্ন যান। সফরে তাঁর ছিলেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল।
সুইজারল্যান্ড সফরে প্রেসিডেন্ট রুহানি দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রবাসী ইরানি নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেইসঙ্গে এ সফরে ইউরোপীয় দেশটির সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সুইজারল্যান্ড সফর শেষে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি ভিয়েনা যান। সেখানে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলরের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ করেন। দেশটির সঙ্গে ইরানের বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বার্নে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ রেজা জাব্বারি বলেন, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির দু’টি ইউরোপীয় দেশ সফর প্রমাণ করে, বিশ্বব্যাপী তেহরানকে কোণঠাসা করার যে নীতি মার্কিন সরকার নিয়েছে তা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান অতীতের মতোই নিজের সগৌরব উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পুতিনের গুরুত্বারোপ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে গঠনমূলক উল্লেখ করে বলেন, আঞ্চলিক নানা বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্ট পুতিন একমত হয়েছেন। গত ১৪ জুলাই ২০১৮ তিনি রাশিয়া সফর শেষে তেহরানে ফিরে একথা জানান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিরিয়াসহ আঞ্চলিক নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে রুশ প্রেসিডেন্টের আগ্রহ প্রকাশ ইরান-রাশিয়া সুসম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ইরান ও রাশিয়ার সাফল্য এ সহযোগিতার গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সা ফল্যের কারণেই সিরিয়া ও এর আশেপাশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি ১২ জুলাই মস্কো সফরকালে দু’দেশের সহযোগিতার নানা দিক তুলে ধরেন। সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেদেশে ইরান ও রাশিয়ার উপস্থিতি জরুরি এ কথা উল্লেখ করে আলী আকবর বেলায়েতি বলেন, এই দুই দেশ যদি সিরিয়া থেকে সরে আসে তাহলে সন্ত্রাসীরা আবারো ওই দেশটি দখল করে নেবে।
তেহরান ও মস্কো এ অঞ্চলে আমেরিকা, ন্যাটো কিংবা বাইরের অন্য কোনো পক্ষের উপস্থিতির ঘোর বিরোধী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত নভেম্বরে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানকে রাশিয়ার কৌশলগত মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার সুযোগ রয়েছে।
এ অঞ্চলে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ প্রসংগে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিরাজমান হুমকি বিশেষ করে এ অঞ্চলে পাশ্চাত্যের সামরিক হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা যায়। সিরিয়ায় উপস্থিতির ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, ‘ইরাক ও সিরিয়া সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ইরান সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে এবং সেসব দেশে ইরানের উপস্থিতি বৈধ।’ তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইসরাইলের হুমকি সত্ত্বেও ইরান সিরিয়া ত্যাগ করবে না।’
ইসরাইল ও পাশ্চাত্য মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করার যে চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান তার তীব্র বিরোধিতা করার পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিরাজমান নানা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান মনে করে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো অভিন্ন হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব। মার্কিন সাময়িকী ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গত নভেম্বর এক প্রতিবেদনে তেহরানের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের বিদ্বেষী নীতির সমালোচনা করে লেখে, ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মার্কিন নীতি নির্ধারকদের মধ্যে দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে।
যাইহোক, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে। এই দুই দেশ প্রমাণ করেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন হুমকির মুখে পিছিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ইরানের তেল খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে রাশিয়া : বেলায়েতি

রাশিয়া ইরানের তেল খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর বার্তা নিয়ে গত ১৪ জুলাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। ইরানের সরকারি টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বেলায়েতি তাঁর দেশের তেল খাতে রাশিয়ার বিনিয়োগের কথা জানান।
এদিকে রাশিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। এ বৈঠককে বেলায়েতি খুবই গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বছরের প্রথম চার মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৬ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ইরান থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিলেও এসব বিনিয়োগের সুযোগ চীন ও রাশিয়া নিচেছ বলে মন্তব্য করেন বেলায়েতি।
এদিকে জ্বালানি খাত ছাড়াও রেল খাত ও চবাহার বন্দর উন্নয়নে রাশিয়া ইরানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া।

ইসরাইলি সংসদে পাস হওয়া আইনের তীব্র নিন্দা জানাল ইরান

ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ‘ইহুদি জাতির রাষ্ট্র’ ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলি সংসদ যে আইন পাস করেছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, ফিলিস্তিনি জাতির প্রতিরোধ আন্দোলন ও প্রচেষ্টায় একদিন তাদের মাতৃভূমির ওপর ইহুদিবাদীদের দখলদারিত্বের অবসান হবে।
দখলদার ইসরাইলের সংসদ ‘নেসেট’ গত ১৯ জুলাই, ২০১৮ গোটা অধিকৃত ফিলিস্তিনকে ‘ইহুদি জাতির রাষ্ট্র’ ঘোষণা দিয়ে এ ঘোষণাকে আইন হিসেবে অনুমোদন করে। চরম বর্ণবাদী এ আইন অনুযায়ী গোটা ফিলিস্তিন কেবল ইহুদিবাদীদের দেশ হওয়ায় সেখানে ফিলিস্তিনিদের কোনো নাগরিক ও মানবিক অধিকার থাকবে না। এ ছাড়া হিব্রু ভাষাই হবে সেখানকার একমাত্র রাষ্ট্র-ভাষা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি নেসেটের এই বর্ণবাদী আইনের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ফিলিস্তিনি জাতির ওপর গণহত্যা চালিয়ে এবং তাদেরকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি যে একটি দখলদার ও বর্ণবাদী রাষ্ট্র তা নেসেটে এই আইন পাসের মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।
কাসেমি বলেন, ইহুদিবাদী সরকারের সব অন্যায় ও অপরাধের প্রতি মার্কিন সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার লক্ষ্যে কিছু আরব দেশের প্রচেষ্টা এই দখলদার শক্তিকে আগের চেয়ে বেশি উদ্ধত ও ধৃষ্ট করে তুলেছে। এর ফলে ইসরাইল এখন আগের চেয়ে আরো বেশি নৃশংসভাবে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর সাহস পাবে যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে।
ইসরাইলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইনে মুসলমানদের প্রথম কিবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদীদের জন্য নতুন নতুন অবৈধ বসতি গড়ে তোলাকে ‘জাতীয় মূল্যবোধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইনে পুরনো অবৈধ ইসরাইলি-বসতিগুলোর বিস্তার ও উন্নয়নের পাশাপাশি কথিত নতুন ‘ইহুদি-বসতি’ গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের এই নতুন বর্ণবাদী তা-ব ও উপনিবেশবাদী দাম্ভিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব সংস্থা ইসরাইলের এ পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

ইউরোপীয়রা ভালো রাজনৈতিক সংকল্প দেখিয়েছে : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়া ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় ধরে রাখার জন্য ব্যাপক রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছে।
গত ৬ জুলাই পরমাণু সমঝোতার অবশিষ্ট পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমেরিকা ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর এটির অবশিষ্ট পক্ষগুলো তেহরানকে এ সমঝোতা অক্ষুণ্ণ রাখার আশ্বাস দেয়। সে আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সমঝোতার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানকে কতটুকু সুবিধা দিতে পারবে তা জানার জন্য শুক্রবার ভিয়েনায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি অংশগ্রহণ করেন।

বাহরাম কাসেমি গত ১০ জুলাই আইআরআইবি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিয়েনা বৈঠককে পরমাণু সমঝোতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় ‘একধাপ অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকের সমাপনী ইশতেহারে পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে ইরান আন্তর্জাতিক সমাজকে দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি তেহরানকে এ সমঝোতায় থেকে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কাসেমি আরো বলেন, আমেরিকাকে ছাড়াই পরমাণু সমঝোতা থেকে ইরান যাতে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সমঝোতার বাকি পাঁচ দেশ। কী প্রক্রিয়ায় এ সুবিধা ইরানকে দেয়া যাবে তা নিয়ে ওই পাঁচ দেশের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

মার্কিন আমদানি বন্ধ করে ইরান থেকে তেল নিচ্ছে চীন

আমেরিকা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে নেয়া শুরু করছে চীনের স্বতন্ত্র রিফাইনারি কোম্পানি ডঙমিঙ পেট্রোক্যামিক্যাল গ্রুপ। কো¤পানিটির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত ১১ জুলাই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, চীনা রিফাইনারি কোম্পানিটি তাদের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম উৎস হিসেবে ইরানকে গ্রহণ করেছে।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি চীনের ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যসামগ্রীর ওপর সর্বশেষ আরেক ধাপ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর প্রতিবাদে আমেরিকার ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ৫৪৫টি পণ্যসামগ্রীর ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে বিইজিং। পাশাপাশি আমেরিকা থেকে তেল না কিনে ইরানসহ পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করেছে দেশটি। ইতোমধ্যে চীন জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা তারা মেনে চলবে না। বর্তমানে একমাত্র রাষ্ট্র চীন, যে দেশটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের এখন ধারণা, অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রদবদল এনে এশিয়ার দিকে ঝুঁকবে চীন। আর অপরিশোধিত তেলের জন্য দেশটি ইরানের দিকে ঝুঁকলে এশিয়ার আরেক শীর্ষস্থানীয় তেল আমদানিকারক দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানির দিকে নজর দেবে আমেরিকা।
কোরিয়া এনার্জি ইকোনোমিক ইনস্টিটিউট এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, চীন আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে ওয়াশিংটন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল আমদানির পরিমাণ বাড়বে। কেননা, আমেরিকার প্রয়োজন হবে এমন একটি মার্কেট যেখানে তারা ওই পরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারবে।
এদিকে, আমেরিকার চাপের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান থেকে তেল ক্রয় স্থগিত করে দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে চলতি সপ্তাহে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরানে অবস্থিত কোরীয় দূতাবাস। এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেলের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ইরান থেকে দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশটি।

ভারতে ‘পাসারগাদ’ ব্যাংকের শাখা খুলবে ইরান

ভারত সরকার দেশটিতে ইরানের একটি ব্যাংকের শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত ১৫ জুলাই এ খবর জানায়।
খবরে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থমন্ত্রী পিযুষ গয়াল তাঁর দেশে ইরানের একটি ব্যাংকের শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভারতের মুম্বাই শহরে ইরানের ‘পাসারগাদ’ ব্যাংকের শাখা খোলা হবে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া কিছুদিন আগে জানিয়েছিল, তারা ইরানের তিনটি ব্যাংকের কাছ থেকে শাখা খোলার আবেদন পেয়েছেন। এসব ব্যাংক হচ্ছে- পাসারগাদ, পারসিয়ান ও সামান ব্যাংক।
ভারতে ইরানি ব্যাংকের শাখা খোলার ফলে দু’দেশের আর্থিক লেনদেন সহজতর হবে। ভারত ও ইরানের মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেনের ব্যবস্থা না থাকায় গত কয়েক বছরে কাক্সিক্ষত মাত্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিনিময় করা সম্ভব হয় নি। ভারত ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা। পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার আগে ইরানকে তেলের বিনিময়ে বিভিন্ন পণ্য দিয়েছে নয়াদিল্লি। ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধা থাকলে ভারত থেকে ইরানে সরাসরি অর্থ আনা সম্ভব হবে।

চীন ও ইতালি ইরানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করবে

চীন ও ইতালি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ইয়ায্দ্-এ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এ লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই (২০১৮) তারিখে ইরান ও ঐ দু’টি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উক্ত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী চীনের সিনোস্টীল্ কর্পোরেশন ও ইতালির ডেনিকোন্ কোম্পানি ইরানের ইয়ায্দে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করবে- যার মধ্যে প্রতিটি ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২০ হাজার ক্ষুদ্রায়তন গার্হস্থ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট ও একটি সোলার প্যানেল উৎপাদন কারখানা অন্তর্ভূুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে তেহরানে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে অনুরূপ একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। গত মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত উক্ত চুক্তি অনুযায়ী ফ্রান্স তেহরানে মোট ১৭ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি নতুন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজে সহযোগিতা করেছে। তেহরান পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রধান হাজী রেযা তেইমুরী জানান, উক্ত কোম্পানি ও একটি ফরাসি কোম্পানির মধ্যে সহযোগিতার ফলে তেহরানের শাম্সাবাদে ১০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এবং দামাভান্দে ৭ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। তিনি জানান যে, অচিরেই ইরান সরকারের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র দু’টির উৎপাদন কার্য উদ্বোধন করা হবে।
এছাড়া, এর আগে গত জানুয়ারি মাসে পশ্চিম ইরানের হামেদান্ প্রদেশের অর্থনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক নাসের মাহ্মূদী জানান যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করার লক্ষ্যে জার্মানির এটিইউএস্ কোম্পানি হামেদান প্রদেশে পাঁচটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। এগুলোর মধ্যে চারটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে এবং পঞ্চম কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। তিনি আরো জানান যে, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মাণের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন বিদেশী বিনিয়োগকারী পূঁজি বিনিয়োগ করেছে।
উল্লেখ্য, জার্মানির এটিইউএস্ কোম্পানি হচ্ছে বিশ্বের সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম নির্মাণকারী ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।

চা-এর সাহায্যে ইরানকে তেলের বকেয়া পাওনা পরিশোধে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চা রফতানি করে ইরান থেকে ইতিপূর্বে তার আমদানিকৃত তেলের বকেয়া মূল্য পরিশোধে স্বীয় প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। শ্রীলঙ্কা টী বোর্ডের চেয়ারম্যান লুসিলে ভিজেওয়ার্দেনা গত ২২ জুলাই (২০১৮) এ কথা ঘোষণা করেন।
লুসিলে ভিজেওয়ার্দেনা উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে সিলোন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (সিপিসি) ইরান থেকে যে তেল আমদানি করেছিল তার মূল্যের ২৫ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে; ইরানে সমমূল্যের চা রফতানি করে এক বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সিপিসি যদি টী বোর্ডকে উক্ত মূল্য পরিশোধ করে দেয় তাহলে এক বছর চা রফতানির মাধ্যমে টী বোর্ড ইরানকে সে মূল্য পরিশোধ করতে পারে।
মি. দিস্সানায়াকে বলেন, ইরান আমাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে চা ক্রয় করে থাকে; আমেরিকানরা তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, এর মানে এ নয় যে, কেবল এ কারণেই তারা আমাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তিনি বলেন, ঠিক এ মুহূর্তেও আমাদের চা ইরানে যাচ্ছে; সমস্যাটা কেবল মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া ও শর্তাবলি নির্ধারণ নিয়ে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা ২০১৭ সালে ইরানে ২ কোটি ৭৪ লক্ষ কিলোগ্রাম শ্রীলঙ্কান চা (সিলোন্ টী) রফতানি করেছিল। উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হচ্ছে সিলোন্ টী-র চতুর্থ বৃহত্তম বাজার। শ্রীলঙ্কার মোট চা রফতানির শতকরা ৯.৫ ভাগ ইরানে রফতানি করা হয়।

ওআইসির পুরস্কার পেল ইরানের পর্যটন

ইসলামি পর্যটন বিকাশের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছে ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অধীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি (সিওএমসিইসি)। পুরস্কার হিসেবে দেশটিকে ৯৭ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছে। ‘টেকসই মুসলিম বান্ধব পর্যটনে স্থানীয় সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্তিকরণ’ শীর্ষক পর্যটন প্রকল্পের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করল মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ জোট ওআইসি। গত ১৫ জুলাই বার্তা সংস্থা সিএইচটিএনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কিমটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রাথমিকভাবে ইরান, তুরস্ক ও কিরগিজিস্তানে বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তীকালে তা অন্য মুসলিম দেশগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পটি জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বাস্তবায়ন করা হবে।
পর্যটন বিষয়ক প্রকল্পটির কৌশলগত যেসব লক্ষ্য উদ্দেশ্য রয়েছে তার মধ্যে কর্মসংস্থান তৈরি করা, পল্লি অর্থনীতির পুনর্নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম।
প্রসঙ্গত, সিওএমসিইসি প্রকল্পের আওতায় সেরা পর্যটনের স্বীকৃতি লাভের উদ্দেশ্যে ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাবিত শীর্ষ পর্যটন প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।
ইরান গত জানুয়ারিতে হস্তনির্মিত শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান, ইকোট্যুরিজম ও আতিথিয়েতা শিল্প সংশ্লিষ্ট পল্লি অঞ্চল ও ছোট্ট শহরগুলোর ক্ষমতায়নে ২৪ ট্রিলিয়ন রিয়াল (৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেয়।
উল্লেখ্য, ইরানের রয়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যসমৃদ্ধ পর্যটন। বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আহ্বান জানিয়ে থাকে দেশটি। ইরানগামী এসব পর্যটকের জন্য রয়েছে দেশটির যাযাবর বা পল্লি পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ। গ্রাম্য কার্যক্রম, ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতি স¤পর্কে জানতে এসব পল্লি পরিবারের সাথে স্বাধীনভাবে অবস্থান করার সুযোগ পাবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

ইরানের তেলবহির্ভূত রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ

ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন মতে, চলতি ইরানি বছরের প্রথম দুই মাসে (২১ মার্চ থেকে ২১ মে) ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তেল-বহির্ভূত পণ্যসামগ্রী রপ্তানি করেছে দেশটি। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ওজনের দিক দিয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও মূল্যের দিক দিয়ে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রি পরিষদের সবশেষ বৈঠকে গত ৪ জুলাই শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তুলনামূলক রপ্তানি চিত্রের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। এতে চলতি ফারসি বছরের (১৩৯৭) প্রথম দুই মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নেয়া পদক্ষেপগুলো ও বাণিজ্য সূচক তুলে ধরা হয়।
যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির তেল-বহির্ভূত রপ্তানি বৃদ্ধির এই চিত্র।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ইরানের ব্যাংক, আর্থিক ও ঋণদান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিল্প ও খনি খাতে লেনদেনের পরিমাণ ২ লাখ ১০ হাজার বিলিয়ন রিয়াল ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা ১৩ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় পর্যায়েই মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কার্গো পরিবহনের দিক দিয়ে অবকাঠামোর র‌্যাঙ্কিংয়ে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে ইরান।

উদ্ভাবনী সূচকে ১০ ধাপ আগাল ইরান

জুলাই ২০১৮ ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন এর সর্বশেষ উদ্ভাবনী সূচকে ইরান আরো ১০ ধাপ এগিয়ে এ বছর ৬৫তম স্থানে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে এ সূচকে ইরানের অবস্থান ছিল ১০৬ তম স্থানে। প্রতিবছর এ সূচক প্রকাশ করা হয়। জ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তি ও অর্থনীতির উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এধরনের সূচক তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবনী পরিবেশ, উদ্যোক্তা বিকাশের ধরন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্য রেখেই এধরনের সূচক নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ইরান বিশ্বের ৩৪টি উচ্চ মধ্যবিত্ত দেশের মধ্যে ১৬তম স্থানে অবস্থান করছে।

ইস্তান্বুলে ইরান-তুরস্ক যৌথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও তুরস্কের শিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে ইস্তাম্বুলে যৌথ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইস্তাম্বুলের আদাহান হোটেলের আর্ট গ্যালারিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ইংরেজিতে প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয় ‘ইমমোরালিটি’। ২ জুলাই ডেইলি সাবাহ এই খবর দেয়।
ইরানি শিল্পী ও কিউরেটর তিমা জামের প্রচেষ্টা এবং টার্কিশ কনটেমপোরারি অ্যান্ড মডার্ন আর্ট ও ব্রুরিনো আর্ট এর সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তিমা জাম ডেইলি সাবাহকে জানান, তিনি ও অন্যান্য ইরানি শিল্পী ও তাদের তুর্কি পক্ষরা সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সংহতি প্রকাশ করতে এই যৌথ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।
জামের তথ্যমতে, প্রদর্শনীতে ১১ তুর্কি ও ১১ ইরানি শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া ইরানি শিল্পীদের ১০ জন ইরানে তাঁদের শিল্পকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে ১১ জনের মধ্যে মাত্র একজন বাস করেন তুরস্কে।
যৌথ প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু ‘ইমমোরালিটি’ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রদর্শনীর বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে শিল্পকর্মগুলো বাছাই করা হয়েছে। কিছু শিল্পী কেবল এই প্রদর্শনীর জন্য নতুন শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন বলে জানান তিমা।

ইরানের জাতীয় গ্রন্থাগারের গ্রীন লাইব্রেরি অ্যাওয়ার্ড লাভ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় গ্রন্থাগার আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রীন লাইব্রেরি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন্স অ্যান্ড ইন্স্টিটিউশন্স (আইএফ্এল্এ) কর্তৃক প্রদত্ত ২০১৮ সালের গ্রীন অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারের জন্য ইরানি জাতীয় গ্রন্থাগার বিশ্বের অপর চারটি গ্রন্থাগারের সাথে যৌথভাবে রানার্স আপ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। গত ২১ জুলাই (২০১৮) এ পুরস্কার বিজয়ী গ্রন্থাগারগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়।
আইএফ্এল্এ-র অঙ্গ সংগঠন এন্ভায়রন্মেন্ট্যাল সাস্টেইনাবিলিটি অ্যান্ড লাইব্রেরিস স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (ইএন্এস্ইউএল্আইবি) কর্তৃক ২০১৬ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তনের পিছনে দু’টি উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে : পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বিধানের লক্ষ্যে প্রদত্ত স্বীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বাধিক প্রচেষ্টা চালানো গ্রন্থাগারকে গ্রীন লাইব্রেরি পুরস্কার প্রদান এবং পরিবেশগত শিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার সমূহের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
এবারের গ্রীন লাইব্রেরি অ্যাওয়ার্ডের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩২টি গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে সাবমিশন পাঠানো হয়। প্রতিযোগিতার আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসব গ্রন্থাগারের মধ্য হতে চীনের ফোশান গ্রন্থাগারকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং পাঁচটি গ্রন্থাগারকে রানার্স আপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এ পাঁচটি গ্রন্থাগার হচ্ছে : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভ্স্, হাঙ্গেরীর যোসেফ্ আত্তিলা কাউন্টি অ্যান্ড সিটি লাইব্রেরি, রোমানিয়ার বিব্লিওতেকা কমিউনালা র্সিনা, ক্রোয়াশিয়ার ন্যাশনাল অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি এবং কেনিয়ার ইউএস্আইইউ-আফ্রিকা লাইব্রেরি।
দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন্স অ্যান্ড ইন্স্টিটিউশন্স্ তার ওয়েবসাইটে মন্তব্য করেছে, তেহরানস্থ ন্যাশনাল লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভ্স্ অব ইরান সমস্ত গ্রন্থাগারের জন্য ব্যবহার্য একটি নতুন জিনিস তৈরি করেছে; তা হচ্ছে একটি গ্রীন লাইব্রেরিকে মূল্যায়নের জন্য চেক্লিস্ট্। আইএফ্এল্এ তার মন্তব্যে বলে, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেবা ও কাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে এই যে, প্রকল্পটি একাধিক ভবনে সাধারণ দিকনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে। এতে নির্দেশক (ইন্ডিকেটর)-এর ব্যবস্থা আছে, ফলে অধ্যয়ন ও গবেষণা করার সময় এর সাহায্যে বিরাজমান অবস্থা ও প্রধান প্রধান সাফল্যসমূহ তুলে ধরা ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছে। এটা গ্রন্থাগার সমূহকে গ্রীন লাইব্রেরিতে পরিণত হওয়ার পথে একটি রোড্ম্যাপ্ হিসেবে সেবা প্রদান করতে সক্ষম।

ফার্মাসিউটিক্যাল্ ক্ষেত্রে ইরানের ১৩টি নতুন প্রযুক্তি উৎপাদন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ওষুধবিজ্ঞান (ফার্মাসিউটিক্যাল্) ক্ষেত্রে ১৩টি নতুন প্রযুক্তি উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। ইরানের বায়োটেকনোলজি উদ্ভাবন হেডকোয়ার্র্টাস-এর সেক্রেটারি জনাব মোস্তাফা ক্বানে‘ঈ গত ২৪ জুলাই (২০১৮) সাংবাদিকদের নিকট এ তথ্য প্রকাশ করেন।
জনাব ক্বানে‘ঈ বলেন যে, ওষুধ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে এ ক্ষেত্রে কর্মরত বিশেষজ্ঞগণ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাঁরা গত এক বছরেরও কম সময়ে ১৩টি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন- যা এ ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করছে।
তিনি জানান যে, বর্তমানে ৪০ জনেরও বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁরা এ অঙ্গনে অনেকগুলো সাফল্যের অধিকারী হয়েছেন।
বায়োটেক মেডিসিন ও ড্রাগ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনটি ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কিউব্স্যাট্ তৈরি করছে
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি কিউবস্যাট্ তৈরির জন্য যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সী (আইএস্এ)-এর ডিরেক্টর র্মোতাযা বারারী গত ২৪ জুলাই (২০১৮) এ তথ্য প্রকাশ করেন।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও মহাশূন্য বিষয়ক শিল্পের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্পর্কে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, গত তিন মাসে ইরানিয়ান স্পেস এজেন্সী (আইএস্এ) তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্য এসিয়া-প্যাসিফিক স্পেস কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এপিএস্সিও)-এর সহযোগিতায় একটি স্মল স্টুডেন্ট্ স্যাটেলাইট (এস্এস্এস) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া আইএস্এ একটি কিউব্স্যাট্ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের তিনটি বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে।
জনাব র্মোতাযা বারারী আরো বলেন, আইএস্এ কর্তৃক উৎপাদিত মহাশূন্য বিষয়ক সামগ্রী বাজারজাতকরণ ও এতদসংক্রান্ত ব্যবসায়ের লক্ষ্যে আইএস্এ-র উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ^বিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি সম্মেলন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া বিষয়ক গবেষণা ও রাডার স্যাটেলাইটসমূহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এ ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে সেগুলো অবশ্যই দেশের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত সামর্থ্যরে ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে এবং তাতে দেশ যেসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে সেগুলোর সমাধানের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

এনহ্যানস্ড অয়েল্ রিকভারী (ইওআর) ল্যাবরেটরি যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ইরানের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এনহ্যানস্ড অয়েল্ রিকভারী (ইওআর) ল্যাবরেটরী ইকুইপ্মেন্ট্ উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অধিকারী হয়েছে। তেহরানের শারীফ্ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-র অধিভুক্ত শারীফ আপস্ট্রিম পেট্রোলিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এস্ইউপিআরআই)-এর প্রধান সাইয়্যেদ শাহাবুদ্দীন আয়াতুল্লাহী গত ৮ জুলাই (২০১৮) এ তথ্য প্রকাশ করেন।
জনাব আয়াতুল্লাহী বলেন, আমরা ইওআর ল্যাবরেটরী ইকুইপ্মেন্ট্ এবং কতক রাসায়নিক উপাদান উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি যেগুলো তেল রিজার্ভগুলোতে ইন্জেক্ট করে তেল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে; সেই সাথে আমরা এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সফ্ট্ওয়্যার উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।
উল্লেখ্য, এন্হ্যান্স্ড্ অয়েল্ রিকভারী হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে ভূগর্ভস্থ কোনো তেল রিজার্ভ থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণ তেল উৎপাদন করা যেতে পারে। এতে সাধারণত বিরাজমান তেলকূপগুলোতে এক বিশেষ ধরনের রাসায়নিক উপাদান ইন্জেক্ট্ করা হয়Ñ যা তাতে চাপের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং তার ঘনত্ব ও আঠালো অবস্থা হ্রাস করে।

ইরানি বিজ্ঞানিগণের ইঁদুরের মেরুরজ্জুর ক্ষত চিকিৎসায় সফলতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞানিগণ স্টেম সেল টেকনোলজি ব্যবহার করে ইঁদুরের মেরুরজ্জুর ক্ষত চিকিৎসায় সফল হয়েছেন। স্টেম সেল বায়োলজি ও টেকনোলজি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রায়ান ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানীদের অন্যতম ড. সাহার কিয়ানী গত ৭ জুলাই (২০১৮) এ তথ্য প্রকাশ করেন।
ড. সার্হা কিয়ানী বলেন, ট্রমা থেকে মেরুরজ্জুতে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় রায়ান ইনস্টিটিউটের এ গবেষণা প্রকল্পের প্রথম স্তরে স্টেম সেলের সাহায্যে তার চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং ইনস্টিটিউটের গবেষকগণ ইঁদুরের মেরুরজ্জুর ক্ষত নিরাময় করে এ প্রকল্পে পুরোপুরি সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বানরের ওপরে গবেষণা ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে বাঞ্ছিত ফলাফল পাওয়া গেলে তা চিকিৎসালয়ে মানুষের ওপরে পরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে দেবে।
ড. সার্হা কিয়ানী ধারণা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে মানুষের ওপরে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ওষুধবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা উপকরণ বিভাগের মহাপরিচালক রেযা মাসাএলী সম্প্রতি জানান যে, বর্তমানে ইরানে কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহার্য ডায়ালাইসিস মেশিন ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ডায়ালাইসিস মেশিন এ ক্ষেত্রে কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনই পূরণ করবে না, বরং দেশের প্রয়োজন পূরণের পর তা বিদেশে রফতানি করাও সম্ভবপর হবে।

ড্রোন-এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ইরানের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বিভিন্ন ধরনের পাইলটবিহীন বিমান (ড্রোন) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। গত ১৮ জুলাই (২০১৮) ইরান সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্টের দফতরের অধীনস্থ ডেভেলপমেন্ট অব নলেজ-বেইস্ড্ অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড এয়ারোনটিক্স্ টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র হেডকোয়ার্র্টাস্-এর প্রধান মানুচেহ্র্ মান্তেক্বী এ তথ্য প্রকাশ করেন।
জনাব মান্ত্বেক্বী বলেন, বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে যেসব ড্রোন ব্যবহার করতে হয় সেগুলোর ডিজাইনিং ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের কাজ বর্তমানে পুরোপুরিভাবে ইরানের বিজ্ঞানভিত্তিক কোম্পানিগুলো কর্তৃক দেশের অভ্যন্তরেই তাদের শিল্প-কারখানাগুলোতে আঞ্জাম দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের ভিতরে ড্রোনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ উৎপাদন নিঃসন্দেহে দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি বিরাট সাফল্য।
জনাব মান্ত্বেক্বী উল্লেখ করেন যে, বিশে^র যেসব দেশ ড্রোন উৎপাদন করে থাকে সেসব দেশের অনেকগুলোই প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করতে সক্ষম নয় এবং এ কারণে তারা বৈদেশিক সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হামেদ সা‘ঈদী গত বছর ঘোষণা করেন যে, ইরান বিশে^র মধ্যে ব্যাপকভাবে ড্রোন উৎপাদনকারী শীর্ষ দশটি দেশের অন্যতম। তিনি বলেন যে, বিভিন্ন ধরনের ড্রোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইরান দ্রুত অগ্রগতি সাধন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে ইরান ভবিষ্যতে আরো উন্নততর অবস্থানের অধিকারী হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ট্রাক ও কার্গো এক্স্-রে স্ক্যানিং সিস্টেম তৈরি করেছে

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ট্রাক ও কার্গোতে বোঝাইকৃত মালামাল স্ক্যানিং-এর কাজে ব্যবহার্য দেশের প্রথম ড্রাইভ্-থ্রো এক্স-রে সিস্টেম তৈরি করেছে। গত ২৪ জুলাই (২০১৮) এ সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়। এদিন বাযারগান সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাগণ স্ক্যানিং-এর কাজে এ সিস্টেমটি ব্যবহার করেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেযা মোযাফ্ফারীনীয়া বলেন, এ নতুন স্ক্যানিং সিস্টেমটি যে কোনো বোঝাকে এক মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা করে দেখতে সক্ষম। এ সিস্টেমের এক্স-রে রশ্মি মালের কোনো ক্ষতি সাধন না করেই তার ভিতর দিয়ে অতিক্রম করে এবং খুব সহজেই বোঝার ভিতরকার মালামালের ইমেজের খুবই উচ্চ মানের প্রক্রিয়াজাত করণের কাজ আঞ্জাম দেয়।
উল্লেখ্য, এ এক্স্-রে সিস্টেমের ব্যবহার করে বোঝা স্ক্যানিং করে বাইরে থেকে দেশের ভিতরে নিষিদ্ধ দ্রব্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটানো রোধ করা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য যে, ইরানের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বিভিন্ন ধরনের নেশাকর দ্রব্য উৎপাদন করা হয় এবং চোরাচালানীরা এসব দ্রব্য মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশসমূহে এবং ঐ সব দেশ হয়ে অন্যান্য অঞ্চলে নিয়ে যায়, আর এ ক্ষেত্রে তারা ইরানের ভূখণ্ডকে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে। তাই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের মাদকদ্রব্য নিরোধ স্কোয়াডসমূহ শুরু থেকেই মাদক দ্রব্য চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে দেশব্যাপী সিস্টেম্যাটিক অভিযান তীব্রতর করেছে। তবে উন্নততর ও সিস্টেমেটিক তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তিশীল সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন, বিশেষ করে জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য নিরোধ অভিযানের রিপোর্ট মোতাবেক, ইরানের মাদকদ্রব্য নিরোধক পুলিশ বিশে^র সবচেয়ে অগ্রসর, নিষ্ঠাবান ও আত্মত্যাগী যারা বিশেষ করে গত পাঁচ বছর মাদকদ্রব্য চোরাচালানী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর দমনাভিযান চালিয়ে আসছে।

ইরানে দুধ, মুরগি ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি

গত এক দশকে ইরানে দুধ, মুরগি ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এসময়ে দুধ ২৫, মুরগি ৫২ ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৯ শতাংশ। তবে একই সময়ে লাল মাংসের উৎপাদন কমেছে ১ ভাগ মাত্র। ইরানের পরিসংখ্যান বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের নাগরিকদের মধ্যে মাথাপিছু দুধ ১১০, মুরগি ১৯, ডিম ১০ কেজি থেকে গত এক দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে যথাক্রমে ১২১, ২৬ ও ১২ কেজিতে। তবে এসময় মাংসের উৎপাদন মাথাপিছু কমেছে ২ কেজি।

তেহরানে প্রাচীন পান্থশালা উন্মুক্ত

জনসাধারণের জন্য তেহরানে প্রাচীন এক পান্থশালা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ পান্থশালা বিদেশি পর্যটকদের জন্যে বিশেষ আকর্ষণীয়। ইরানের খারাজে আলবোর্জ প্রদেশে পান্থশালাটি ঐতিহাসিক শাহ আব্বাসি পান্থশালা হিসেবে সুপরিচিত। ইরান সরকার পর্যটন খাতে যে বিশেষ নজর দিয়েছে তারই অংশ হিসেবে এ প্রাচীন পান্থশালাটি খুলে দেওয়া হয়। সেখানে একটি পর্যটক ও অটোমোবাইল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এতে ব্যয় করা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ইরানি রিয়াল।
পর্যটন কর্মকর্তা রামিন আফসারি গত ১৮ জুলাই ২০১৮ এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, প্রাচীন এ পান্থশালাটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। শতাধিক লোক এখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় ইরানি শিক্ষার্থীদের সাফল্য

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় বিরাট সাফল্যের অধিকারী হয়েছে। তারা গত ১২ জুলাই (২০১৮) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে সমাপ্ত ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড ম্যাথ্মেটিক্স্ ইন্ভাইটেশনাল্ (ডব্লিউএম্আই)-এ অংশগ্রহণ করে ৪০টি পদক লাভ করেছে এবং সামগ্রিকভাবে এ প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়েছে।
এ প্রতিযোগিতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে মোট ৫৪ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে এবং তারা ৮টি স্বর্ণপদক, ১৮টি রৌপ্যপদক ও ১৭টি ব্রোঞ্জপদক জয় করে। এছাড়া তারা ১৪টি সম্মান সূচক ডিপ্লোমাও লাভ করে। বিশে^র ২০টি দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
ডব্লিউএম্আই-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়, বিশ^ব্যাপী যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা গণিত শাস্ত্রের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছে ডব্লিউএম্আই সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পরস্পরের সাথে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি বছর অংশগ্রহণকারী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের তাদের বিশ^দৃষ্টিকে সম্প্রসারিত করতে ও বিভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ম্যাথ্মেটিক্স্ ইন্ভাইটেশনাল্ (ডব্লিউএম্আই) হচ্ছে একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক প্রতিযোগিতা যাতে কিন্ডারগার্টেন পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে থাকে।

ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ জয় করেছে বাংলাদেশ
ইরানে অনুষ্ঠিত ২৯তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বা আইবিও ২০১৮ এবারে একটি ব্রোঞ্চ জয় করেছে বাংলাদেশের প্রতিযোগী অদ্বিতীয় নাগ।
এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আর যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁরা হলেন বায়োজিদ মিয়া, তামজিদ হোসাইন তানিম, প্রকৃতি প্রজুতি তুষ্টি। এবারে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী প্রতিযোগীদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে সর্বকনিষ্ঠ অদ্বিতীয়। তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২২ জুলাই অলিম্পিয়াডের ফলাফল ঘোষণা এবং পদক বিতরণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে এই প্রথমবারের মতো কোনো পদক পেলো বাংলাদেশ।
এদিকে, ইরানে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ ৭১টি দেশ অংশগ্রহণ করে। প্রতি দেশ থেকে চার জন প্রতিযোগী এবং দুইজন লিডার অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো থেকে কয়েকজন জুরিও অংশগ্রহণ করেন। আইবিও’র ৭৮ সদস্য দেশের মধ্যে ৭১ জন প্রতিযোগী ১৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সাত দিনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
ওয়াশিংটনের সৃষ্ট সমস্যার কারণে ইরানের চলমান আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বা আইবিও ২০১৮ এ অংশ নিতে পারে নি আমেরিকার প্রতিযোগিতারা। তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ আগা মিরি রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ইরানের স্বর্ণসহ ৫ পদক ও বাংলাদেশের ১টি স্বর্ণপদকসহ ৪ পদক জয়
রোমানিয়ার ক্লুজ-নাপোকা শহরে অনুষ্ঠিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণসহ পাঁচটি পদক ও একটি অনারেবল মেনশন পেয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
ইরানের পক্ষে স্বর্ণপদকটি জিতেছেন মোহাম্মদ শারিফি কিয়াসারি। এছাড়া, ইরানি দল তিনটি রৌপ্য, একটি ব্রোঞ্জপদক ও একটি অনারেবল মেনশন পেয়েছে। রৌপ্যপদক প্রাপ্তরা হলেন, ইরফান মঈনি, আহমদ রামজানপুর এবং মোহাম্মদ শাহভেরদি কোনদোরি। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন মোহাম্মদ আমিন শারিফি চারুরি। আর অনারেবল মেনশন পান আবুলফাজল শিরমাহাল্লেহেই।
স্বর্ণপদক পাওয়া ১৮ বছর বয়সী কিয়াসারি ৪২ নম্বরের মধ্যে ৩২ নম্বর পান। আর দলগতভাবে ১৫০ নম্বর পেয়ে ১০৭টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৯তম। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ইরানের অবস্থান তৃতীয়, প্রথম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, দ্বিতীয় স্থানে কাজাখস্তান।
ইরান ২০১৭ সালের অলিম্পিয়াডে দুটি স্বর্ণ, তিনটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে সারাবিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল।
বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদক জয়
এদিকে, এবারের আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনার পদকটি জিতেছেন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী আহমাদ জাওয়াদ চৌধুরী।
এ ছাড়া বাংলাদেশ দল তিনটি ব্রোঞ্জ পদক ও দুটি অনারেবল মেনশন পেয়েছে। ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া তিনজনই নটরডেম কলেজের ছাত্র। তারা হলেন জয়দীপ সাহা, তামজিদ মোর্শেদ রুবাব ও তাহনিক নূর সামিন। আর অনারেবল মেনশন পান ঢাকা কলেজের রাহুল সাহা ও ফরিদপুর পুলিশ লাইনস হাইস্কুলের সৌমিত্র দাস।

ইরানি টীমের প্যারা-ভলি সিটিং ভলিবল ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পুরুষদের জাতীয় সিটিং ভলিবল টীম ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড প্যারা-ভলি সিটিং ভলিবল ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছে। গত ১৫ থেকে ২২ জুলাই (২০১৮) নেদারল্যান্ড্সে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং ইরানি টীম বসনিয়া ও হার্যেগোভিনার টীমকে পরাজিত করে এ শিরোপা জয় করে।
ইরানি টীম উপর্যুপরি তিনটি স্ট্রেইট সেট-এর এ প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে ২৫-১৮, ২৫-১৩ ও ২৫-২০ ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং সপ্তম বারের মতো এ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের প্যারালিম্পিক চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতাসমূহে ইরানি টীম রাশিয়া, জার্মানি ও জাপানের টীমের সাথে এ প্রতিযোগিতার পুল্ ‘বি’তে স্থানলাভ করেছিল যাতে তারা তাদের সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এভাবে তারা পরবর্তী রাউন্ডের দিকে এগিয়ে যায় এবং এবারে কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ব্রোঞ্জপদক বিজয়ী মিসরকে ৩-১ (২৫-১৯, ২৫-২২, ২২-২৫ ও ২৫-১৫) ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ের অধিকারী হয়। এরপর ইরানি টীম সেমি-ফাইনালে ইউক্রেনের টীমের বিরুদ্ধে ৩-০ (২৫-১৩, ২৫-১৯ ও ২৫-১৩) ব্যবধানে জয়লাভ করে আগামী ২০২০ সালে টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য প্যারালিম্পিক্স্-এ অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করল।
উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নারীদের ন্যাশনাল সিটিং ভলিবল টীম-ও ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড প্যারা-ভলি সিটিং ভলিবল ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং ৯ম স্থান অধিকার করে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি পাওয়ার লিফ্টিং প্রতিযোগিতায় ইরানি প্রতিযোগীর নতুন রেকর্ড

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পাওয়ার লির্ফ্টা মোহাম্মাদ রাঈসী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি পাওয়ার লিফ্টিং কাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৮৪ কেজি গ্রুপে দুইটি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক জয়ের মাধ্যমে ইতিপূর্বেকার রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রের পিল্সেন্-এ গত ৮ থেকে ১৪ জুলাই (২০১৮) এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
মোহাম্মাদ রাঈসী তার স্কোয়াট্ অ্যাটেম্প্ট্-এ ২২৭.৫ কেজি ওজন উত্তোলন করে এ ক্যাটেগরিতে স্বর্ণপদক জয় করে এবং রাশিয়া ও পোল্যান্ডের প্রতিযোগীদ্বয় তার পরবর্তী র‌্যাঙ্কে স্থান লাভ করেন। অন্যদিকে ডেড্লিফ্ট্ ক্যাটেগরিতে ২৯২.৫ কেজি ওজন উত্তোলন করে রাঈসী রৌপ্যপদক লাভ করে। অবশ্য রাঈসী প্রেস্ বেঞ্চ্-এ ১৪৭.৫ কেজি ওজন উত্তোলন করে, কিন্তু তা একটি পদক পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এ ক্যাটেগরিতে স্বাগতিক দেশস্থ তার প্রতিযোগী স্বর্ণপদক লাভ করে। তবে মোহাম্মাদ রাঈসী মোট ৭১৭.৫ কেজি ভরোত্তোলন করে সামগ্রিকভাবে ওয়ার্ল্ড স্টুডেন্ট্স্ রেকর্ড ভঙ্গ করে স্বর্ণপদক জয় করে। রাঈসী ইতিপূর্বেকার ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তুলনায় ১৭.৫ কেজি ওজন বেশি উত্তোলন করে।
উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ রাঈসী ছাড়াও আরেক জন ইরানি প্রতিযোগী নাভীদ্ আয়ায্দানী এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একটি রৌপ্যপদক জয় করেছে।

ক্যাডেট রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল ইরান
ক্রোয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ ক্যাডেট রেসলিং ওয়ার্ল্ডচ্যাম্পিয়ননশিপের শিরোপা জিতেছে ইরানের ফ্রিস্টাইল কুস্তি দল। টুর্নামেন্টে সর্বমোট ১৫২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টিম র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার শীর্ষ স্থান দখল করে দলটি। ঘরে তোলে ২০১৮ সালের ক্যাডেট বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা।
বুধবার রাতে টুর্নামেন্টের পুরুষদের ফ্রিস্টাইল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচে শিরোপা নিশ্চিত করে ইরান। এর আগে ৩ জুলাই ২০১৮ ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুস্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে ১১০ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নেয় ইরানের আমির হোসেইন জেইর। তিনি আমেরিকান প্রতিপক্ষ ড্যানিয়েল কারকভিলিয়েতের মুখোমুখি হন। ৭-৪ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করে ঘরে তোলেন সোনার মেডেল।
অন্যদিকে, ৮০ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়ে রুশ প্রতিপক্ষ দিমিত্রি এলকানোভের মুখোমুখি হন ইরানের মোহাম্মাদ রেজা গিয়াসি। প্রতিপক্ষের কাছে কাছে ৬-৯ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে রুপা জেতেন তিনি। এছাড়া ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে আর্মেনিয়ার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১০-৫ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে ব্রোঞ্জ মেডেল জেতেন মোহাম্মাদ কারিমিসেইফাবাদ। এই বিভাগে রুপা জেতেন আর্মেনিয়ার নারেক হারৌতুনিয়ান।
বুধবার ক্রোয়েশিয়ার ইভেন্টে ইরানি স্কোয়াড থেকে দ্বিতীয় সোনার মেডেল জিতেন রহমান মুসা আমুজাদ। এ পদক জয়ের মধ্য দিয়ে ইরানের জন্য ২০১৮ ক্যাডেট রেসলিং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি।
২ জুলাই ক্যাডেট কুস্তি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়ে চলে ৮ জুলাই। টুর্নামেন্টের দলীয় প্রতিযোগিতায় ১৩২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে আমেরিকা। দেশটি ইভেন্টের ৫১ কেজি ওজন শ্রেণিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে, ১১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে রাশিয়া।