মঙ্গলবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশী সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০১৬ 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাক্ষাৎ
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মার্কিন ষড়যন্ত্র স¤পর্কে সতর্ক থাকতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্লাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে যা এ অঞ্চলের সব দেশ বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার স্বার্থের পরিপন্থি।
ইরানে অনুষ্ঠিত গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম জিইসিএফ’র তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন গত ২৩ নভেম্বর ২০১৫ তেহরান পৌঁছেই সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মার্কিন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হলে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে হবে।
প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী এ সাক্ষাতে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, পুরো পশ্চিম এশিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার এবং এ জন্য তারা সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরপর মার্কিনিরা পুরো পশ্চিম এশিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। এ ষড়যন্ত্র আঞ্চলিক সব দেশ বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।
আঞ্চলিক ইস্যুতে বিশেষ করে সিরিয়ার চলমান দ্বন্দ্বে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর তথা প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থান অনেক উন্নত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিরিয়ার যেকোনো সমাধান হতে হবে দেশটির জনগণ ও কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে।
রাহবার তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার স¤পর্ককে স্বাগত জানিয়ে তা আরো উন্নত করার কথা বলেন। পরমাণু ইস্যুতে তিনি বলেন, বিষয়টির যদিও এক ধরনের সমাপ্তি এসেছে তবে এ বিষয়ে তেহরান চোখ-কান খোলা রেখেছে। ইরানের বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, সিরিয়া ইস্যুতে তেহরান ও মস্কো খুবই ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর দেশ মনে করে সিরিয়া সমস্যার সমাধান হবে শুধু রাজনৈতিক উপায়ে এবং দেশটির জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে।
তিনি পরিষ্কার করে বলেন, সিরিয়া ইস্যুতে নিজের ইচ্ছা দামেস্কের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অধিকার কোনো দেশের নেই। এছাড়া, সিরিয়ার সরকারের কাঠামো এবং কে প্রেসিডেন্ট হবেন তা ঠিক করে দেয়ারও এখতিয়ার কারো নেই। এ সময় পুতিন বলেন সিরিয়া সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে তেহরান-মস্কো সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতার বিষয়ে পুতিন তাঁর দেশের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।
আলোচনা শেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে একখানা কুরআন শরীফ উপহার দেন। এটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো কুরআনগুলোর একটি।একটি চমৎকার বাক্সে করে রাশিয়া থেকে কুরআনটি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সর্বোচ্চ নেতা কুরআন শরিফটি পড়ে দেখেন এবং মূলব্যান এ উপহারের জন্য পুতিনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

নিষেধাজ্ঞায় স্বয়ংস¤পূর্ণ হয়েছেন ইরানী বিজ্ঞানীরা : রাহবার
গত ১১ নভেম্বর ২০১৫ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাহবার বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানকে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ করতে গড়িমসি করায় ইরানের তরুণ বিজ্ঞানীরা নিজেদের মাটিতে এই জ্বালানি উৎপাদন করেছেন। ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও শিক্ষকদের এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।
তিনি বলেন, ‘ইরানকে ২০ মাত্রায় সমৃদ্ধ পরমাণু জ্বালানি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানকে অবমাননাকর শর্ত দিয়েছিল। তবে এতে লাভ হয়েছে আমাদের এবং আমাদের তরুণরা দেশের ভেতরেই তা উৎপাদন করতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ইরানি তরুণ বিজ্ঞানীদের এ সাফল্য পশ্চিমা দেশগুলোর পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেয় এবং তারা তেহরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চেয়ে ১৪০ বছর আগে বৈজ্ঞানিক উন্নতি শুরু করেছে উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দিক দিয়ে আমাদের দ্রুতগতিতে বিশ্ব হতবাক হয়ে গেছে। তারা বলছে, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দিক দিয়ে ইরান অন্যান্য দেশের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি গতিতে এগুচ্ছে।’ তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দিক দিয়ে ইরান এখনও দুই ধাপ নিচে অবস্থান করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সর্বোচ্চ নেতা।

আত্মোৎসর্গকারী সেনা পরিবারের সঙ্গে বড়দিনে সর্বোচ্চ নেতার সাক্ষাৎ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আত্মোৎসর্গকারী ইরানী খ্রিস্টান সেনা পরিবারগুলোর সঙ্গে বড়দিনে সাক্ষাৎ করেন। এ জন্য গত ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ আত্মোৎসর্গকারী সেনা পারিবারগুলোর বাড়ি যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এসব সেনা আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।
টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আত্মোৎসর্গকারী এক খ্রিস্টান সেনার মায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরো ছবি প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, বড়দিনে সর্বোচ্চ নেতার টুইটার বার্তায় বলা হয়, পুরো খ্রিস্টানজগতের চোখে হযরত ঈসা (আ.)-এর যে অবস্থান রয়েছে মুসলমানরা তাঁকে তার চেয়ে কম শ্রদ্ধা করেন না।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও মুসলমানদের ঐক্য চায় : প্রেসিডেন্ট রুহানি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনয়নে ও উন্নয়নে অবদান রাখতে এবং মুসলিম জাহানে ঐক্য ও সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গত ৫ই ডিসেম্বর (২০১৫) তেহরানে সেনেগাল, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, বেলজিয়াম, পাকিস্তান, ডেনমার্ক, গ্রীস, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ায় নব নিযুক্ত ইরানী রাষ্ট্রদূতগণের সাথে এক বৈঠকে এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি এ বৈঠকে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈদেশিক নীতিতে মুসলিম জাহানে ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান সরকার মুসলিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে।
গত জুলাই মাসে (২০১৫) ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ছয়টি বৈশ্বিক শক্তির মধ্যে যে চুক্তি সম্পাদিত হয়Ñ যা যৌথ সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা (জেসিপিওএ) হিসেবে পরিচিতÑ তার ফলে ইরান যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবে প্রেসিডেন্ট রুহানি দেশের স্বার্থে অন্যান্য দেশের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সেসব সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অন্যান্য দেশের সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের অধিকারী হতে সক্ষম। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ইরানী কূটনীতিকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন যে, যৌথ সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা (জেসিপিওএ) ইরান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে পতাকাবাহী হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ই জুলাই (২০১৫) তারিখে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং ৫+১ জাতি হিসেবে পরিচিত ছয়টি বৈশ্বিক শক্তিÑ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানিÑ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সক্ষম হয়। ইতিপূর্বে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেসব অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং আরো কতগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইরান সরকার স্বীয় পারমাণবিক কর্মসূচিতে কতক সীমাবদ্ধতা মেনে নেয়ায় তার বিনিময়ে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

২৯তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ পালিত হয়।
ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে গত ২৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলন। ২৯তম এ সম্মেলনে বিশ্বের ৭০টি দেশের ৩০০জন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম যোগ দেন। এতে ইরানেরও ৩০০ জন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের ধরে এই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইমাম খোমেইনী (রহ.) ঘোষিত ঐক্য সপ্তাহ উদযাপন বিশ্ব মুসলমানের ঐক্য জোরদারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

‘সর্বোচ্চ নেতার চিঠি দায়েশের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে : তিজিয়ানা চিভারদিনি
গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ইতালির বিশিষ্ট সাংবাদিক তিজিয়ানা চিভারদিনি বলেন, ‘তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশ ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর আঘাত হানার জন্য ইসলামের নামেই নানা সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে, কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চিঠি তাদের এ ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।’
পশ্চিমা যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর দ্বিতীয় চিঠিতে লেখেন, তাকফিরি সন্ত্রাসবাদের প্রকাশ্য ও নিশ্চিত পৃষ্ঠপোষকরা সবচেয়ে পশ্চাৎপদ রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধিকারী হওয়ার পরও সব সময় পাশ্চাত্যের মিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছে। তাঁর এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতালির সাংবাদিক চিভারদিনি আরও বলেন, ইউরোপ ও ইতালির জনগণ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল এবং ইসলামের মধ্যে পার্থক্য কী তা বোঝে না। তাঁর মতে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে পাশ্চাত্যের আসল ভূমিকা এ চিঠিতে উঠে এসেছে বলেই পশ্চিমা মিডিয়াগুলো এই চিঠি প্রচারের ক্ষেত্রে হাস্যকর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই চিঠি এতই আন্তরিক যেন একজন পিতা তাঁর সন্তানের সঙ্গে কথা বলছেন। সাংবাদিক চিভারদিনি মনে করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পশ্চিমা যুব সমাজকে দেয়া বার্তায় পশ্চিমা সমাজের চলমান আতঙ্কের কারণ খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন। এই চিঠি পড়লে ইউরোপের বর্তমান সংকটগুলোর কারণ জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইতালির আরেক সাংবাদিক লুকা পিনাসকো বলেন, পশ্চিমা যুবসমাজের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বাণী অত্যন্ত সময়োচিত ও সচেতন পদক্ষেপ। কারণ, পশ্চিমারা মুসলিম ও আরব বিশ্বের ঘটনাবলিকে উপেক্ষা করছে; অন্যদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে নানা সহিংসতায় মুসলমানদেরকেই অপব্যবহার করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞকেও তুলে ধরেছেন বলে লুকা পিনাসকো মন্তব্য করেন।

ইরানে সংসদ নির্বাচন, প্রার্থী বাছাই শুরু
ইরানের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাড়ে ১১ হাজারের বেশি প্রার্থী নাম নিবন্ধন করিয়েছেন। এদের মধ্যে ১১ শতাংশই নারী। ২০১২ সালের সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রার্থীর সংখ্যা ৭০ ভাগ বেড়েছে।
১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার পর এবারই ইরানে নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নাম নিবন্ধন করেছেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতার বিষয়টি যাচাই করবে অভিভাবক পরিষদ। আগামী ৯ ফেরুয়ারি চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে এ পরিষদ।
২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের সংসদ মজলিশে শূরার ২৯০টি আসনের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা।
এদিকে, একইদিনে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৫ম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পরিষদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। প্রতি আট বছর অন্তর বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং চলতি বছরেই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনের দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসলামী জাহানে আন্তঃক্রিয়ার সন্ধানরত মুহম্মদ মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সমাজে স্থান করে নেবে
জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর তেহরানস্থ ক্লার্স্টা অফিসের পরিচালক ও প্রতিনিধি এর্স্থা কুনিসেহ্ লারোচে বলেছেন, যেহেতু মুহম্মদ মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার ইসলামী জাহানে বৈজ্ঞানিক আন্তঃক্রিয়ার সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে সেহেতু এ পুরস্কার আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সমাজে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে। গত ৬ই ডিসেম্বর (২০১৫) তেহরানে মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার-এর গণসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রদান করা হয়।
উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, এর্স্থা কুনিসেহ্ লারোচে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে মুসলিম দেশ সমূহে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সীমিত উন্নতি হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫৭ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা তার মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিএনপি) মাত্র ০.৮১ শতাংশ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উৎপাদনের কাজে বিনিয়োগ করে থাকে যা অন্যান্য দেশে এ খাতে বাজেট বরাদ্দের শতকরা হারের তুলনায় মাত্র এক তৃতীয়াংশ।
এর্স্থা কুনিসেহ্ লারোচে বলেন, তবে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক মনে করেন যে, মুসলিম জাহানে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব দেশে অত্যন্ত উঁচু মানের প্রচুর বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বর্তমানে বিজ্ঞান গবেষণায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বিজ্ঞানের প্রধান প্রধান ক্ষেত্রে গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনার দিক থেকে ইরান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, উদাহরণ স্বরূপ, ইরান বিজ্ঞান ক্ষেত্রে, বিশেষত অঙ্কশাস্ত্রে যেসব গবেষণামূলক প্রবন্ধ উৎপাদন করেছে প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর মান এ ক্ষেত্রে গড় আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি।
এর্স্থা কুনিসেহ্ লারোচে আরো বলেন, ন্যানোটেকনোলোজি বা বায়োটেকনোলোজি সহ কয়েকটি প্রধান বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বাধিক উন্নত দেশ সমূহের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এ কারণে আমি আশা করি যে, ইরান ও মুসলিম জাহান অতীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে স্বর্ণ যুগের অধিকারী ছিল পুনরায় সে গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
তিনি মুসলিম জাহানে মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার-এর ইতিবাচক ও প্রভাবশালী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুনামের অধিকারী পুরস্কার হিসেবে পরিগণিত মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার অবশ্যই যথাযথ মূল্যায়ন ও অবস্থানের অধিকারী হবে। এ পুরস্কারটি প্রদানের জন্য বিজ্ঞানের ছয়টি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং চার জন বিজ্ঞানীকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। এছাড়া বিজয়ী বিজ্ঞানীদেরকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার পরিমাণ নগদ অর্থও প্রদান করা হবেÑ যা বিজ্ঞানী ও গবেষকগণকে তাঁদের কাজে উৎসাহিত করার জন্য একটি খুবই ভালো উদ্যোগ।
এর্স্থা কুনিসেহ্ লারোচে মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেন এবং এ পুরস্কারটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে, তবে এগুলোর মধ্যে খুব কম সংখ্যক পুরস্কারই বিশেষভাবে বিজ্ঞানের বিষয়ের ওপরে অথবা স্কুল ছাত্র-ছাত্রী গ্রুপ বা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী গ্রুপের ন্যায় বিশেষ গ্রুপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার বিশেষভাবে আকর্ষণীয় একটি পুরস্কার।
উল্লেখ্য, ২৪ থেকে ২৯ ডিসেম্বর (২০১৫) তেহরানে অনুষ্ঠিত এক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মত মুহম্মদ মুস্তাফা (সা.) বিজ্ঞান পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ভিয়েনায় বিদেশি শিক্ষাবিদদের কাছে ইরানী শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয় উপস্থাপন
অস্ট্রিয়াস্থ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক অ্যাটাচের দফতরের পক্ষ থেকে দেশটির রাজধানী ভিয়েনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদেশি শিক্ষাবিদদের কাছে ইরানের শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হয়। গত ১৯শে নভেম্বর (২০১৫) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক ও ছাত্র অংশগ্রহণ করেন।
এতে অংশগ্রহণকারীদেরকে বিশেষভাবে ইরানের উদ্যান পরিকল্পনা এবং বিশ্ববিশ্রুত স্বনামখ্যাত কবি, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিশারদ ওমার খাইয়ামের রুবাঈ‘আতের সাথে অধিকতর পরিচিত করার লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে ওমার খাইয়ামের বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকলাসমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম ‘রুবা‘ঈয়াত্’ উপস্থাপন করা হয় ও তার পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং সেই সাথে এ গ্রন্থের ইংরেজি, জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও আরবি অনুবাদও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এ অনুষ্ঠানে ইরানী ক্যালিগ্রাফি ও মিনিয়েচার প্রদর্শন করা হয় এবং সেগুলোর পরিচিতি তুলে ধরা হয়।
এ অনুষ্ঠানে ইরানের উদ্যান পরিকল্পনার পরিচিতি উপস্থাপন প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় যে, সুপ্রাচীন কাল থেকেই ইরানে বিশেষভাবে আবহাওয়া বৈচিত্র্যের সাথে খাপ খাইয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বাগান গড়ে তোলা হয় এবং এ কারণে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) তার বৈশ্বিক উত্তরাধিকার তালিকায় ডিজাইন বৈচিত্র্যের দৃষ্টিকোণ থেকে অনন্য হিসেবে ইরানী উদ্যানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
উল্লেখ্য যে, প্রাচীন কাল থেকেই ইরানে উদ্যান পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেহেশতের বাগান কেমন সে সম্পর্কিত ধারণা ও কল্পনার অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাগানসমূহে আকাশ, মাটি, পানি ও গাছপালার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে। আর তাদের এ ধারণা বিশ্বের সর্বত্র উদ্যান পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে, আর তা পরবর্তীকালে মুসলমানদের উদ্যান পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করেছে এবং আরো পরবর্তীকালে ইউরোপীয় উদ্যান ঐতিহ্যের মূল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ইরানী উদ্যান পরিকল্পনা অনুসরণের অনেক দৃষ্টান্ত ভারত উপমহাদেশে দেখা যায়, বিশেষ করে বিখ্যাত তাজমহল এ উদ্যান পরিকল্পনার ভিত্তিতেই নির্মিত হয়েছে।
আর ওমর খাইয়াম্ নেইশাবূরী (বাংলায় উচ্চারণ ‘নিশাপুরী’) হচ্ছেন বিশ্ববিশ্রুত শ্রেষ্ঠতম ইরানী কবিগণের অন্যতম। একই সাথে তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, বিশেষত জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে সুপরিচিত। স্বনামখ্যাত ব্রিটিশ কবি ও লেখক এড্ওয়ার্ড ফিট্যেরাল্ড্ (১৮০৯ – ১৮৮৩) ওমর খাইয়ামের রুবা‘ঈয়াত্-এর যে ইংরেজি অনুবাদ করেন তার মাধ্যমে খাইয়াম পাশ্চাত্য জগতে ব্যাপক খ্যাতির অধিকারী হন এবং এরপর বিশ্বের সর্বত্র তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানে জালাল আলে আহ্মাদ সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার- জালাল আলে আহ্মাদ্ সাহিত্য পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যকার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। স্বনামখ্যাত ফারসি সাহিত্যিক, ছোট গল্পকার ও লেখক মরহূম জালাল আলে আহ্মাদ-এর নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণকারী গ্রন্থাবলির মধ্যে উপন্যাস বিভাগের প্রতিযোগিতায় দু’টি উপন্যাসকে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
গত ২১শে নভেম্বর (২০১৫) তেহরানের ওয়াহ্দাত্ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ সাহিত্য প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিচারকম-লী তাঁদের রায় ঘোষণা করেন।
বিচারক ম-লীর রায়ে নাসীম র্মা‘আশী-র লিখিত ‘শরৎ হচ্ছে বছরের শেষ ঋতু’ এবং শাহ্রিয়ার আব্বাসীর লেখা ‘মহানুভব বালিকা’ যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ উপন্যাসের পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া আরো কয়েকটি গ্রন্থকে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতার জন্য প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।
এ প্রতিযোগিতায় ছোটগল্প সংকলন বিভাগে মাহ্দী আসাদ্যদেহ্র ‘ধনভাণ্ডারের শিশুরা কি সফলকাম হয়?’ এবং মাজীদ ক্বেইছ¡ারী-র ‘অন্ধকারের প্রহরী’ প্রশংসাপত্র লাভ করে। অন্যদিকে সাহিত্য সমালোচনা বিভাগে আলী আব্বাসীর ‘ফলিত বর্ণনা পরিচিতি’ ও আবূল্ ফায্ল্ হোরীর ‘কল্পনার ভেলা’ প্রশংসা পত্র লাভ করে।
এছাড়া প্রামাণ্য রচনার ক্ষেত্রে বিচারক মণ্ডলীর রায়ে হামীদ্ হেস্সাম্-এর ‘পানি কখনো মরে না’ এবং শিল্পকলা ও ফুটবল বিষয়ক জনপ্রিয় ইরানী টিভি আলোচক হামীদ্ রেযা ছ¡াদ্র্-এর ‘তুমি ক্বায়রোতে মারা যাবে’ প্রশংসা পত্র লাভ করে।
উল্লেখ্য, মরহূম জালাল আলে আহ্মাদ (১৯২৩ – ১৯৬৯)-এর নামে ২০০৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এবারের জালাল আলে আহ্মাদ সাহিত্য পুরস্কার প্রতিযোগিতা ছিল এ পর্যায়ের অষ্টম সাহিত্য পুরস্কার প্রতিযোগিতা। এতে বিজয়ীদেরকে ৩০ হাজার ডলার নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হয়।

ইরান পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পসমূহে ব্যপক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে : উড্ ম্যাকেঞ্জি
বৈশ্বিক এনার্জি, ধাতব পদার্থ ও খনিজ দ্রব্য সংক্রান্ত গবেষণা ও কন্সালট্যান্সি গ্রুপ উড্ ম্যাকেঞ্জি মন্তব্য করেছে যে, বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্বীয় পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পসমূহে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম।
ব্রিটেনের স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গভিত্তিক এ গবেষণা ও কন্সালট্যান্সি গ্রুপটি- বিশ্বের আরো পঁচিশটি জায়গায় যার শাখা রয়েছেÑগত ৬ই ডিসেম্বর (২০১৫) ইস্যুকৃত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। উড্ ম্যাকেঞ্জির মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান স্বীয় পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পসমূহের আরো উন্নয়ন করতে চায় এবং সে লক্ষ্যে দেশটির কয়েকটি প্রধান পরিকল্পনা রয়েছে- যাতে দেশটি তার পেট্রো-রসায়ন খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
উড্ ম্যাকেঞ্জি-র ইএমইএআরসি রিফাইনিং অ্যান্ড কেমিক্যাল্স্ রিসার্চ টীম্- যা ওলেফিন্স্ ও পলিওলেফিন্স্ স্পেশালাইজেশনের ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে, তার অন্যতম বিশেষজ্ঞ জনাব আফসার হুসাইন বার্তা সংস্থা ট্রেন্ড-এর কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, স্বীয় পেট্রো-রসায়ন শিল্পের সম্প্রসারণের ব্যাপারে ইরানীদের খুবই উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন ফেস্-এর অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে।
আফসার হুসাইন আরো বলেন যে, কম ব্যয়সাপেক্ষ গ্যাস জ্বালানিভিত্তিক পেট্রো-রসায়ন ফীড্স্টক্ হিসেবে সুস্পষ্টতঃই ইরান একটি টেকসই লোকেশন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো-রসায়ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আরব দেশসমূহের মধ্যে একমাত্র কাতার বাদে অন্যান্য দেশে কম ব্যয়সাপেক্ষ ইথেন্ সরবরাহের পরিমাণ খুবই সীমিত।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ও ১৪ই ডিসেম্বর (২০১৫) তেহরানে ইরানের পেট্রো-রসায়ন শিল্পে বিনিয়োগ সম্পর্কে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৩৭টি খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক কোম্পানি এ সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণ করে অংশগ্রহণ করে। বার্তা সংস্থা সিন্হুয়ার প্রতিবেদন অনুায়ী, এ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইরান সরকারের তেলমন্ত্রী জনাব বিজন্ নামর্দা যাঙ্গানে বলেন যে, তাঁর দেশ আগামী বছরগুলোতে বার্ষিক পেট্রো-রসায়ন উৎপাদনের পরিমাণ ৭০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে উপনীত হবার জন্য ইরানের এ খাতে ব্যাপকভিত্তিক বিনিয়োগ, এ দেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিপণনের প্রয়োজন।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে (২০১৫) ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পেট্রো-রসায়ন শিল্প সংস্থাসমূহের সমিতির সেক্রেটারি জনাব আহ্মাদ মাহ্দাভী আব্হারী বলেন যে, তাঁর দেশের পেট্রো-রসায়ন শিল্প ৭০ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম। তিনি আরো জানান যে, বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পেট্রো-রসায়ন খাতে যেসব অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর মূল্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারÑ যা প্রমাণ করে যে, ইরানের এ খাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর বিসিজি ভ্যাকসিন রফতানি সার্টিফিকেট লাভের সম্ভাবনা
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আগামী বছর (২০১৬ সাল)-এর শেষ নাগাদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর কাছ থেকে বিসিজি ভ্যাকসিন রফতানির সার্টিফিকেট লাভ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাস্তুর ইন্স্টিটিউট অব ইরান (আইপিআই)-এর প্রধান জনাব হুমান কগাযীয়ান গত ১ ডিসেম্বর (২০১৫) এ কথা বলেন।
জনাব হুমান কগাযীয়ান বার্তা সংস্থা মেহ্র্ নিউজ-এর প্রতিনিধিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, পাস্তুর ইন্স্টিটিউট অব ইরান (আইপিআই) বিগত বহু বছর যাবত যক্ষার প্রতিষেধক বিসিজি ভ্যাকসিন উৎপাদন করে আসছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বিসিজি ভ্যাকসিন উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ইরানের বিসিজি ভ্যাকসিন সম্বন্ধে পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ইরানকে বিসিজি ভ্যাকসিন রফতানির সার্টিফিকেট দেয়া হলে ইরান তার এ ওষুধটি বিশ্বের যে কোনো দেশে রফতানি করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের বিসিজি ভ্যাকসিন উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যাবলি সম্বলিত ফাইল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পেশ করেছি এবং বর্তমানে হু কর্তৃক এতদসংক্রান্ত পর্যালোচনা সমাপ্ত করার অপেক্ষায় আছি।
জনাব হুমান কগাযীয়ান জানান, পাস্তুর ইন্স্টিটিউট অব ইরান (আইপিআই) বিগত অর্ধ শতাব্দী কাল যাবত বিসিজি ভ্যাকসিন উৎপাদন করে আসছে এবং অতি সম্প্রতি এর মান অধিকতর উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করবে
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ উদ্যোগে উভয় দেশেই জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করবে। গত ৫ই ডিসেম্বর (২০১৫) ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইরান শীপ বিল্ডিং অ্যান্ড অফর্শো ইন্ডাস্ট্রিজ কমপ্লেক্স কোম্পানি (আইএসওআইসিও) ও দক্ষিণ কোরিয়ার হাইইয়ুন্দাই কোম্পানি যৌথভাবে উভয় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করবে।
বার্তা সংস্থা র্ইনা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসওআইসিও-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব হামীদ রেযায়ীয়ান জানিয়েছেন যে, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় কন্সাল্টেশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সমূহ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জনাব রেযায়ীয়ান্ বলেন যে, তাঁর কোম্পানি সপ্তম প্রজন্মের জাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে হাইইয়ুন্দাই কোম্পানির সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি আরো জানান যে, এ ক্ষেত্রে বিপণন ও যৌথ বাজার সুবিধা কাজে লাগানোই উভয় কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, যেহেতু আইএসওআইসিও হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি সেহেতু এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আইএসওআইসিও হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে হাইইয়ুন্দাই-র যথোপযুক্ত বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি আরো বলেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপরে আরোপিত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসমূহ পুরোপুরি উঠে যাওয়ার পর উভয় কোম্পানিই বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ সুবিধা আকর্ষণে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সুসমৃদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় সকল উপকরণে সুসজ্জিত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অধিকারী। ইরানী জাহাজ নির্মাণ শিল্পসমূহ প্রধানত তেলবহনকারী ট্যাঙ্কার ও কন্টেইনার শীপ নির্মাণ করে থাকে, এছাড়া অন্যান্য অর্ফ্শো স্ট্রাকচারও নির্মাণ করে থাকে।
আরো উল্লেখ্য যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বের বৃহত্তম তেলবহনকারী সুপারট্যাঙ্কার বহরের অধিকারীÑ যার রয়েছে ৪২টি ভিএলসিসি সুপারট্যাঙ্কার; এগুলোর প্রতিটির তেল বহন ক্ষমতা হচ্ছে বিশ লক্ষ ব্যারেল।

ইরানের সাম্প্রতিক রোবট মানব সুরেনা-৩ এর আবরণ উন্মোচন
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে তৈরি সাম্প্রতিক রোবট মানব সুরেনা-৩ মানুষের মতোই হাঁটাচলা করতে ও কথা বলতে পারে এবং বিশেষভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং মার্বেল পাথর চিহ্নিতকরণের কাজ সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিতে পারে। গত ১৭ই নভেম্বর (২০১৫) তারিখে তেহরানে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ রোবট মানবের আবরণ উন্মোচন করা হয় এবং উপস্থিত মেহমানদের সামনে এর কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখ্য, এটি তৈরির আগেই রোবট মানব তৈরির ক্ষেত্রে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিশ্বের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে; ইন্স্টিটিউট্ অব ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (আই.ই.ই.ই.) এ তথ্য প্রদান করেছে।
উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে তৃতীয় প্রজন্মের এ মানব রোবট তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ কর্তৃক তৈরি ও প্রদর্শন করা হয়। ১৯০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এ মানব রোবটটি বিল্ট্-ইন্ অডিটরি ও ভিসুয়াল সেন্সরসমূহের সহায়তায় স্বীয় পারিপার্শ্বিকতার সাথে আন্তঃক্রিয়া করতে সক্ষম। এছাড়া এটি চেহারা ও বাহ্যিক দৃশ্য দেখে ব্যক্তি ও বস্তু নিচয়কে চিনতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক হস্তক্ষেপের মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে।
মানব রোবট সুরেনা-৩ ঘণ্টায় ০.৭ কিলোমিটার গতিতে হাঁটাচলা করতে পারে। এটির এ গতি ইতিপূর্বে ২০১০ সালে তৈরি ইরানী রোবটের চলাফেরার গতির তুলনায় সাত গুণ। এছাড়া সুরেনা-৩ সিঁড়ি দিয়ে অত্যন্ত ভালোভাবে ওঠানামা করতে পারে এবং অমসৃণ জায়গায় অধিকতর দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে চলাফেরা করতে পারে।

ইরানী গবেষকদের দ্রুত পানি দূষণ পরিমাপক ব্যয় সাশ্রয়ী সেন্সর তৈরি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের গবেষকগণ সহজে ও দ্রুত পানি দূষণ পরিমাপণের উপযোগী ব্যয়সাশ্রয়ী সেন্সর তৈরি করেছেন। এটির সাহায্যে শিল্পজাত পানি দূষণকারী আর্সেনিক আয়োন-এর ঘনত্ব পরিমাপ করা যাবে।
ইরান ন্যানোটেকনোলোজী ইনিশিয়েটিভ কাউন্সিল (আইএনআইসি) জানায়, এ সেন্সরটি ব্যবহার করা হলে স্যাম্পল পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন দ্রব্যের দূষণ, বিশেষত আর্সেনিক, কম খরচে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও এ সেন্সরটি বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রচলিত পদ্ধতিসমূহের তুলনায় অধিকতর দ্রুত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
এ পটেনশিওমেট্রিক সেন্সরটি তৈরিতে আর্সেনিক আয়োন-এর সাথে কাস্ট্কৃত পলিমার ব্যবহার করা হয়েছেÑ যার ফলে হাই সিলেক্টিভিটি সম্বলিত সেন্সর উৎপাদন করা এবং আর্সেনিক চিহ্নিত করণের লক্ষ্যে তাতে যথাযথ ডিটেকশন লিমিট সংযোগ করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এ ক্ষেত্রে প্রচলিত সেন্সরগুলো ব্যবহারের সময় সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি মোকাবিলা করতে হয় তা হচ্ছে, এগুলোর মেম্ব্রেন স্ট্রাকচার-এর মধ্য দিয়ে সবেগে পানি প্রবেশ করানোর ফলে মেম্ব্রেন স্ট্রাক্্চার সহজেই বিনষ্ট হয়ে যায়, ফলে মেম্ব্রেন ইলেকট্রোড্-এর আয়ুষ্কাল হয় খুবই অল্প। এ কারণে নব উদ্ভাবিত এ সেন্সর তৈরি সম্পর্কে গবেষণা কালে উক্ত সমস্যাটি মোকাবিলা করার চেষ্টা চালানো হয়।
এ ক্ষেত্রে মেম্ব্রেন ইলেকট্রোড্-এর আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্সেনিক আয়োন্-এর জন্য কাস্টিং পলিমারকে ন্যানোমেট্রিক ডাইমেনশনসমূহে সংবেদনশীল করা হয়েছে। ফলে, ন্যানোপার্টিক্ল্সমূহের সারফেস-এর অ্যালকাইল চেইন্স্ সংযোগ করে এগুলোর হাইড্রোফিলিক প্রপার্টিস হ্রাস করা হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ের সেন্সর-এর কার্যক্ষমতা প্রকৃত স্যাম্পলসমূহে আরসেনিক আয়োনসমূহের সেন্সিং-এর মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এর ফলে দেখা যায় যে, চূড়ান্ত সেন্সর ডিটেকশন লিমিটকে নামিয়ে এনেছে, কিন্তু ইতিপূর্বে ব্যবহৃত সেন্সরসমূহের তুলনায় লাইনিয়ার রেস্পন্স্ রেঞ্জকে প্রশস্ততর করেছে। এছাড়াও, কাস্টিং পলিমারিক ন্যানোপার্টিক্ল্ ব্যবহারের ফলে উচ্চতর মানসম্পন্ন অধিকতর সামঞ্জস্যশীল মেম্ব্রেন ইলেকট্রোড উৎপাদন করা সম্ভবপর হয়েছেÑ যা সন্দেহাতীতভাবে চূড়ান্ত সেন্সরের কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।
এ গবেষণার ফলাফল ঊষবপঃৎড়পযরসরপধ অপঃধ-এর ১৭৮তম ভলিউমে (২০১৫, পৃ. ৮৭৭ – ৮৮৫) প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানে সোলার সিস্টেমের জন্য ন্যানোস্ট্রাকচারড্ লাইট সর্পশন্ সারফেস উৎপাদন
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইসফাহান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ সোলার থার্মাল সিস্টেমসমূহে ব্যবহারের উপযোগী ন্যানোস্ট্রাকচারড্ লাইট সর্পশন্ সারফেস নিজস্ব গবেষণাগারে উৎপাদনে সাফল্যের অধিকারী হয়েছেন। ইরান ন্যানোটেকনোলজি ইনিশিয়েটিভ কাউন্সিল (আইএনআইসি)-র পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাধারণভাবে ব্যবহৃত অন্যান্য সর্পশন সারফেসসমূহের তুলনায় এ সারফেসগুলোর সর্পশন সক্ষমতা অনেক বেশি এবং ডিচ্প্যাচ্-এর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। এর ফলে সোলার সিস্টেমসমূহে এ সারফেসসমূহের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি।
এতদসংক্রান্ত গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল সোলার কালেক্টরসমূহে ব্যবহারের লক্ষ্যে কাম্য প্রপার্টিজ ব্যবহার করে একটি ব্ল্যাক্ সর্পশন উৎপাদন করা। এ গবেষণার ফলে ধাতব তল সমূহের ওপর ন্যানোস্ট্রাকচারড্ ফিল্ম স্থাপনের মাধ্যমে সারফেসটি উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
ইতিপূর্বেকার গবেষণা সমূহ থেকে যে ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল তার ভিত্তিতে ইলেকট্রোলেস্ নিকেল ব্লাক ফর্স্ফ কোটিং থেকে কাক্সিক্ষত অপটিক্যাল প্রপার্টিজ পাওয়া যায় এবং অপটিক্যাল কালেক্টরসমূহে সেগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, বর্তমান গবেষণার লক্ষ্য ছিল এসব কোটিং-এর মানকে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীতকরণ। সর্পশন-এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ডিস্প্যাচ্-এর পরিমাণ কমিয়ে সোলার সিস্টেমসমূহের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ন্যানোস্ট্রার্ক্চাড্ সারফেসসমূহকে সিন্থেসাইজ করা হয়। এ ক্ষেত্রে কালেক্টরসমূহের কার্য ক্ষমতা কাক্সিক্ষত মানে উন্নীত করার জন্য সর্পশন শীটসমূহের স্পেকট্রাম সিলেক্টেড্ হওয়া প্রয়োজন। তাই অত্র গবেষণায় কাক্সিক্ষত প্রপার্টিজ লাভ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের পর ইলেকট্রোলেস্ নিকেল ব্লাক ফর্স্ফ কোটিং ও ব্লাক অ্যাডোনাইয্ড্ কোটিংকে অ্যালুমিনিয়াম সারফেস-এর ওপর স্থাপন করা হয়। অতঃপর অ্যাডোনাইযিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যালুমিনা ও নিকেল্ ফর্স্ফ-এর ন্যানোস্ট্রাকচারড্ লেয়ার-এর কোটিংকে কাক্সিক্ষত মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে স্যাম্পলসমূহের সারফেস-এর ওপরে বিভিন্ন মাত্রার পুরুত্ব সহকারে অ্যালুমিনা ন্যানোপোরাস্ লের্য়া তৈরি করা হয়।
উক্ত গবেষণার ফলাফলসমূহ ঞযরহ ঝড়ষরফ ঋরষসং-এ (ভলিউম নং ৫৯২, পার্ট এ, ২০১৫, পৃ. ৮৮ – ৯৩) প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানী কোম্পানি কর্তৃক দেশীয় প্রযুক্তিতে কম ব্যয় সাপেক্ষ প্রোফাইলার কিট্ তৈরি
বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণাদি উৎপাদনকারী একটি ইরানী কোম্পানি সম্পূর্ণরূপে দেশীয় প্রযুক্তির ভিত্তিতে একটি হিউম্যান আইডেনটিফিকেশন কিট্-এর ডিজাইনিং ও উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে যা এ পণ্যের বৈদেশিক মডেলসমূহের তুলনায় কম ব্যয় সাপেক্ষ।
উক্ত বিজ্ঞান কোম্পানির অন্যতম গবেষক মোহাম্মাদ এহ্সান্ আমীনী বার্তা সংস্থা মেহ্র্ নিউজ-এর সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন যে, তাঁদের কোম্পানিটি আইডেনটিফিকেশন কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে নিজস্ব প্রযুক্তিতে হিউম্যান প্রোফাইলার কিট্-এর ডিজাইনিং ও উৎপাদনের কাজে সফল হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে তৈরি এ কিট্-এর দ্বারা খুব সহজেই এর বৈদেশিক মডেলগুলোর প্রতিস্থাপন করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে প্রাপ্ত ফলাফল সমূহ বিশ্লেষণে কোনো পরিবর্তন সাধিত হবে না।
দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের কিট্ উৎপাদনের কারণ সম্পর্কে জনাব আমীনী বলেন যে, ইতিপূর্বে ইরানীয়ান লিগ্যাল মেডিসিন্ অর্গানাইজেশনের আওতাভুক্ত জেনেটিক গবেষণাগারসমূহ ও পুলিশ বাহিনী কর্তৃক বিদেশে তৈরি ১৬ ধরনের হিউম্যান প্রোফাইলার কিট্ ব্যবহার করা হতো। তিনি বলেন, দেশের মেডিক্যাল কোয়ালিটির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের কিট্ উৎপাদনের উদ্যাগ নেয়া হয়েছে, আর এ কিট্গুলো পুরোপুরিভাবেই এ ইরানী কোম্পানির নিজস্ব গবেষকগণ কর্তৃক তৈরি হয়েছে।
জনাব আমীনী জানান, কোম্পানিটি এ ব্যপারে দুই বছরব্যাপী গবেষণা পরিচালনা করে এ কিট্ তৈরিতে সক্ষম হয় এবং গত এপ্রিল মাস (২০১৫) থেকে তা উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি জানান, ইরানী গবেষকগণ কর্তৃক তৈরিকৃত এ প্রোফাইলার কিট্ ১৭টি লোকেশনে নির্ভুলভাবে ও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ব্যক্তিদের প্রোফাইল তৈরি করতে এবং দুই ব্যক্তির মধ্যে পিতা-পুত্র, পিতা-কন্যা, মাতা-পুত্র বা মাতা-কন্যা সম্পর্ক থাকলে তা চিহ্নিত করতে সক্ষম।
এ কিট্ রক্ত, চুল, থুথু ও অন্যান্য জৈবিক স্যাম্পলের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। এতে সঞ্চিত প্রোফাইল অপরাধীদেরকে শনাক্ত করণে, দুর্ঘটনা বা অপরাধের শিকার হয়ে চেহারা শনাক্ত করণের অনুপযোগী হয়ে পড়া লোকদের শনাক্ত করণে এবং পারিবারিক সম্পর্ক শনাক্ত করণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করবে শেল কোম্পানি
অ্যাংলো-ডাচ জ্বালানি কো¤পানি শেল শিগগিরি ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানের সংবাদ মাধ্যম এ কথা জানায়।
খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় শেল কো¤পানির ঋণের বিষয়টি তুলেছিলেন ইরানের উপ অর্থমন্ত্রী এবং ইরানের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ খাজায়ি। তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে ফারসি ভাষার সংবাদপত্র ইরান জানিয়েছে, ব্রিটিশ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের জের ধরে শেল দ্রুত ইরানের এ ঋণ পরিশোধ করবে।
ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরই এ ঋণ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের কথাও ভাবছে শেল। কো¤পানিটি ইরানের কাছ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়েছিল এবং সেই বাবদ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০০ কোটি ডলার। পরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে শেলের পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয় নি।