শনিবার, ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশী সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ১০, ২০১৬ 

খাঁটি ইসলাম ঠেকাতে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে : সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামভীতি ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী। গত ১৭ নভেম্বর তেহরানে ইমাম আলী (আ.) মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, খাঁটি ইসলামের বার্তা যাতে বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছতে না পারে সে লক্ষ্যে বলদর্পী শক্তিগুলো শিল্প, রাজনীতি ও সামরিক উপায়সহ সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করছে। কিন্তু এরপরও খাঁটি ইসলামের বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একটি প্রমাণ হলো আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
তিনি বলেন, শত্রুরা ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি করছে যারা আল্লাহর নামে বেসামরিক লোকদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা এখন ইসলামের শক্তির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ কারণে তারা বিশ্বব্যাপী ইসলামভীতি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
তিনি আরো বলেন, ইসলাম ধর্ম মানবজাতির মর্যাদা, কল্যাণ ও শান্তির কথা বলে। ইসলামের এ প্রকৃত বার্তা যাতে অন্য জাতির কাছে পৌঁছতে না পারে সেজন্যই শত্রুরা নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল যখন ইসলামের নামে ইরাক ও সিরিয়ায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনি এসব মন্তব্য করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলোই ইসলাম ধর্মের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে আইএসআইএল-এর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চাপের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না : রুহানি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেন, তাঁর দেশের জনগণ নিষেধাজ্ঞা ও কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। এছাড়া, যেকোনো চুক্তিই হোক না কেন ইরান তার পরমাণু স্থাপনা চালু রাখবে।
ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু আলোচনার মেয়াদ আরো সাত মাসের জন্য বাড়ানোর পর গত ২৫ নভেম্বর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট রুহানির ওই সাক্ষাৎকার ইরানী টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ড. রুহানি বলেন, আলোচনার বিপরীত পক্ষ এটা বুঝে গেছে যে, চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল বয়ে আনবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনো তার পরমাণু অধিকার ছাড়বে না। এছাড়া, দেশের পরমাণু স্থাপনাগুলো অবশ্যই চালু থাকবে এবং ইরান কখনো তার সেন্ট্রিফিউজও বন্ধ করবে না।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইরান দু’টি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলোচনা করছে আর তা হলো পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, এমুহূর্তে বিশ্বের কারো কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরানের কাছে অবশ্যই পরমাণু প্রযুক্তি রয়েছে এবং ইরানের অভ্যন্তরেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এ নিয়েও কারো কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আশা করেন, পরমাণু ইস্যুতে ইরানের জনগণই চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সব পক্ষ আলোচনা চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছে উল্লেখ করে ড. রুহানি বলেন, আলোচনার পথ ধরেই একটি চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সই হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দু’পক্ষই আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং পরিস্থিতি তিন বা ছয় মাস আগের মতো নেই। যুক্তিগুলো কাছাকাছি এসে গেছে এবং মতপার্থক্যও সম্ভবত কমে আসছে। দু’পক্ষ সমঝোতা ও চুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু একটি লিখিত ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছার জন্য সময়ের প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি।

মার্কিন সরকারের ওপর আস্থা রাখা যায় না : আহমাদ খাতামি
গত ৭ নভেম্বর তেহরানের জুমআর নামাযের খুতবায় ইরানের বিশিষ্ট আলেম সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বক্তব্যের জবাবে বলেন, পরমাণু বিষয়ে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে ইরানের আলোচনা প্রমাণ করে মার্কিন সরকারের ওপর কোনোরকম আস্থা রাখা যায় না। সম্প্রতি বারাক ওবামা বলেছিলেন, অবরোধের কারণেই নাকি ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, পরমাণু সমস্যার সমাধান হলেও আমেরিকার সাথে ইরানের মতপার্থক্যের অবসান হবে না। বিশ্ববাসী ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কথা, আইএসআইএল সৃষ্টির কথা এবং সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার কথা কখনোই ভুলবে না বলেও মন্তব্য করেন এই বিশিষ্ট আলেম।
আয়াতুল্লাহ খাতামি মাসজিদুল আকসায় ইসরাইলি হামলার ঘটনায় এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশের নীরবতার নিন্দা জানান। তিনি ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধী কর্মকাণ্ড মোকাবেলার একমাত্র উপায় হলো মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্যান্সারকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আলআহসায় মুহররমের শোক মিছিলে হামলার নিন্দা করে জনাব খাতামি বলেন, এই হামলার ঘটনা সেই ওয়াহাবি মতাদর্শে বিশ্বাসীদের কাজ যারা মানুষ হত্যা করে আর সন্ত্রাসীদের লালন করে। বাহরাইনেও মুহররমের শোক পালনকারীদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে জনাব খাতামি বলেন, বাহরাইনে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর জন্য শোক পালনের রীতি অনেক পুরোনো। আলে খলিফা সরকারের কর্মকর্তাদের প্রতি ইয়েমেনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাহরাইনের মুসলিম জনতার ওপর চাপ প্রয়োগের ঘটনা অব্যাহত রাখলে তাদের পতন ত্বরান্বিত হবে।

সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেন ইরানের সংসদ সদস্যরা
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। ইরানী সংসদের বেশিরভাগ সদস্য এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেহরানের ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
গত ৯ নভেম্বর প্রকাশিত এ বিবৃতিতে ২০০ এর বেশি সংসদ সদস্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কোনো ধরনের বাধা এবং জ্বালানি চক্র সম্পর্কিত কোনো সীমাবদ্ধতা না মানতে ইরানী পরমাণু আলোচকদের প্রতি আহ্বান জানান। ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে যে রক্ষাকবচ ঘোষণা করা হয়েছে তার বাইরে কোনো ধরনের পরিদর্শনের বিষয়ে রাজি না হতে ইরানী আলোচকদের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্যরা।
তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, তেহরান গবেষণা চুল্লির জন্য আরাক ও ফোরদো স্থাপনার পরমাণু কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে; এ নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ মানা যাবে না।

‘শান্তিপূর্ণ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি’- আইএইএ
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি বলে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে। আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেযা নাজাফি গত ৮ নভেম্বর এ তথ্য জানান।
তিনি আরো বলেন, নাতাঞ্জ, ফোরদো, আরাক, ইসফাহান, তেহরান ও বুশেহরসহ ইরানের সব পরমাণু কেন্দ্রের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে আইএইএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তবর্তীকালীন পরমাণু চুক্তির ভিত্তিতে সব পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। নাজাফি আরো বলেন, আইএইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গোপন কোনো লক্ষ্য নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বরে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্তর্বর্তী পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এ অন্তর্বর্তী পরমাণু চুক্তির বর্ধিত মেয়াদ ২৪ নভেম্বর শেষ হয়। বর্তমানে একটি চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করতে দু’পক্ষই চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছতে ইরানের আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। গত ১৭ নভেম্বর ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। পরমাণু আলোচনায় ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠী মিলে একটি আশাব্যঞ্জক ফলাফল বের করে আনতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ  করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরমাণু চুক্তির বিষয়ে ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং চীনের সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ফিলিস্তিনীদের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। গত ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিনীদের সাথে বৈশ্বিক সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইরান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় জোর দিয়ে বলে যে, ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক সরকার ফিলিস্তিনী জাতির প্রতি স্বীয় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
ইরানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ নভেম্বর হচ্ছে এমন একটি দিন প্রতি বছর যে দিনটিতে সারা বিশ্ব নির্যাতিত ফিলিস্তিনী জাতির প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে থাকে। যায়নবাদী সরকার কর্তৃক ফিলিস্তিনে জবর দখল প্রতিষ্ঠা এবং এ পবিত্র ভূখণ্ডের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অমানবিক ও পৈশাচিক অপরাধ সংঘটন অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট সৃষ্টি ও অব্যাহত রাখার জন্য দায়ী বলে এ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিন সঙ্কট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ও ইসলামী জাহানে আরো বহু সমস্যা ও সঙ্কটের মূল। তেমনি এটি বৈশ্বিক অঙ্গনে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতারও উৎস।
ইরানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনী জনগণের মানবিক ও স্বাধীনতাকামী লক্ষ্যসমূহের প্রতি স্বীয় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং ইসরাঈলী দখলদারীর বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় প্রতিরোধের প্রশংসা করে।
এছাড়াও এ বিবৃৃতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের পক্ষ হতে দীর্ঘস্থায়ী ফিলিস্তিনী সঙ্কটের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার এবং সেখানে দখলদারীর অবসান ঘটানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের ওপর থেকে যায়নবাদী সরকারের অবৈধ দখলের এবং সেখানকার অধিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অনস্বীকার্য অধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটানো ও স্বীয় ভিটামাটি থেকে উৎখাতকৃত ফিলিস্তিনীদেরকে স্বীয় ভূখণ্ডে প্রত্যাবর্তনের অধিকার প্রত্যর্পণই হচ্ছে উক্ত সঙ্কটের একমাত্র সমাধান।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার উক্ত বিবৃতিতে অবিলম্বে গাযার নির্মম অবরোধের নিঃশর্ত অবসানে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মুসলিম সংখ্যাগুরু দেশসমূহের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানায়।

সৌদি আরবসহ সব প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে চায় ইরান
সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা ইরানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একথা জানিয়েছেন  সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হোসেইন সাদেকি। গত ২৮ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদ প্রদেশের আমির প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ আলে সৌদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে তিনি একথা জানান।
সাদেকি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দু’দেশকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রসহ সব খাতে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
সাক্ষাতে প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দেশও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের জনগণ উপকৃত হবে বলে তিনি জানান। চলতি বছরের গোড়ার দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছিলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক জরুরি।

আইএসএইএল’র সমর্থকদের খুঁজে বের করুন : জাতিসংঘকে ইরান
গত ১ ডিসেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসএইএল’র সমর্থক কারা তা খুঁজে বের করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি।
ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি নিকোলা ম্লাদেনভের সঙ্গে তেহরানে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ইরাকের ঘটনাবলি নিয়ে বিশ্বসংস্থাকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। ড. বেলায়েতি বলেন, আইএসআইএল’র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কারা সমর্থন করছে তা খুঁজে বের করা জাতিসংঘের দায়িত্ব; কারণ, এ গোষ্ঠীকে বাইরে থেকে যদি সমর্থন না দেয়া হতো তাহলে ইরাকের সেনা ও জনগণই তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হতো।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কিছু দেশ আইএসআইএল-সহ আরো কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তৈরি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতিসংঘকে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইরানের এ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইএসআইএলসহ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারোরই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

কোমে ‘তাকফিরি চিন্তাধারার বিপদ’ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
গত ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে ‘মুসলিম চিন্তাবিদদের দৃষ্টিতে তাকফিরি চিন্তাধারার বিপদ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ নভেম্বর ইরানের প্রখ্যাত আলেম আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ সম্মেলন শুরু হয়।
ইরাক ও সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৎপর উগ্র তাকফিরি জঙ্গিদের স্বরূপ উন্মোচন এবং তাদের ইসলাম ও মানবতাবিরোধী অপরাধযজ্ঞ সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বকে সচেতন করার লক্ষ্যে ইরানের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বিশ্বের ৮৩টি দেশ থেকে ৩১৮ জন মুসলিম চিন্তাবিদ, আলেম ও রাজনীতিবিদ অংশগ্রহণ করেন।

‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রয়েছে’
মধ্যপ্রাচ্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।
আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান তেহরানে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তিসুকাসা উইমুরার সঙ্গে গত ২ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওই আহ্বান জানান।
আবদুল্লাহিয়ান বলেন, সিরিয়া সংকট ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের বিষয়ে আমেরিকা ও তার মিত্রদের নীতির সঙ্গে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া সংকট নিরসনে সহায়তার জন্য ইরানের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। তবে সিরিয়া সংকট নিরসনে দেশটির বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। বৈঠকে ইরাক ইস্যু নিয়েও দুই কর্মকর্তা আলোচনা করেন।
তিসুকাসা উইমুরা ইরাক সম্পর্কে বলেন, ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে। তিনি জানান, সিরিয়ায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে জাপান সরকার প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন জাপানের এ কর্মকর্তা।

আইআরআইবি’র প্রধান হলেন ড. মোহাম্মাদ সারাফরাজ
বিশ্ব কার্যক্রমের প্রধান ড. মোহাম্মাদ সারাফরাজকে ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা- আইআরআইবি’র প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী। গত ৮ নভেম্বর এক ডিক্রি জারি করে তিনি এ নিয়োগ দেন। গত ১০ বছর আইআরআইবি’র প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ইজ্জাতুল্লাহ জারগামি।
আইআরআইবি’র প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার আগে মোহাম্মাদ সারাফরাজ গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এ সংস্থার বিশ্ব কার্যক্রমের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগসহ প্রায় ৪০টি ভাষায় রেডিও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় এই বিশ্ব কার্যক্রম থেকে।
এ ছাড়া, ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি, আরবি ভাষার নিউজ চ্যানেল আল-আলম এবং স্প্যানিশ ভাষার টিভি চ্যানেল হিস্পান টিভি চালু হয় ড. সারাফরাজেরই তত্ত্বাবধানে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলে দেয়া এই তিন টিভি চ্যানেলকে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। পাশ্চাত্যের প্রথম সারির নিউজ চ্যানেলগুলোতে সাধারণত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী খবর গুরুত্ব পায় না। কিন্তু আরবি, ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষার ইরানী তিনটি চ্যানেল পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর সেই একচ্ছত্র আধিপত্যের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ড. সারাফরাজের তত্ত্বাবধানে আইআরআইবি’র ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হচ্ছে ‘আইফিল্ম’ চ্যানেল। এ চ্যানেল থেকে ফারসি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষায় ইরানী সিনেমা ও বিখ্যাত টিভি সিরিয়াল প্রচারিত হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইরান : জান্নাতি
ইরানের ইসলামী দিকনির্দেশনা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আলী জান্নাতি বলেছেন, বিরোধ মিটিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গত ৩ ডিসেম্বর তেহরানে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
ইরানী মন্ত্রী আরো বলেন, উগ্র গোষ্ঠীগুলোর অপরাধযজ্ঞ ফাঁস করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানী সংস্কৃতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সিনেমা, থিয়েটার, মিউজিক, ভাস্কর্য শিল্প, সাহিত্য, বই এবং গণমাধ্যমসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
এ সময় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মোকাবেলায় অভিন্ন অবস্থান গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে এসব গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ, ইসলাম কখনোই নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষ  হত্যাকে সমর্থন করে না; বরং এটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ইরানের রাজধানী তেহরানে গত ২-৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র তথ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অংশ নেন।

ঘনিষ্ঠ মিডিয়া সহযোগিতার আহ্বান জানালেন ওআইসি’র তথ্যমন্ত্রীরা
গত ৩ ডিসেম্বর ঘনিষ্ঠ মিডিয়া সহযোগিতার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে তেহরানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসির তথ্যমন্ত্রীদের তিনদিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়। বিশ্বব্যাপী ইসলামের সঠিক ভাবমর্যাদা তুলে ধরার লক্ষ্যে ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
ওআইসি’র তথ্যমন্ত্রীদের সংগঠন আইসিআইএম-এর ১০ম সম্মেলন গত ১ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হয়। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
ওআইসি’র তথ্যমন্ত্রীরা তাঁদের সমাপনী প্রস্তাবে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, মুসলমানদের প্রথম কিবলাসমৃদ্ধ নগরী বাইতুল মোকাদ্দাসকে ইহুদিকরণের চেষ্টা এবং নির্যাতিত ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার খবর মুসলিম দেশগুলোর গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করতে হবে।
ওআইসি’র তথ্যমন্ত্রীরা মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, সব ধরনের সহিংসতা, উগ্রবাদ ও বর্ণবাদ রুখতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মন্ত্রীরা ইরাক ও সিরিয়ায় তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল-র বর্বরতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিন্দা জানান। তাঁরা বলেন, মুসলিম নামধারী সন্ত্রাসীরা যেসব অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে তার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।

আইএসআইএল-বিরোধী লড়াইয়ে ইরাকের পাশেই থাকবে ইরান
তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরাকের জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।
গত ৮ ডিসেম্বর তেহরানে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইবরাহীম আল-জাফারির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরাকের জনগণ একটি অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
জাওয়াদ জারিফ বলেন, তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিপদ সম্পর্কে ইরান শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছে এবং তখন হতে ইরাকের জনগণের পাশে রয়েছে; চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে এ লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ইরাকের শিয়া, সুন্নি, কুর্দি ও আরব জনগোষ্ঠীর পাশেই থাকবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার বিষয়ে ইরান আহ্বান জানিয়ে আসছে; একই সঙ্গে ইরান বিশ্বাস করে যে, চরমপন্থি ও উগ্রবাদী আইএসআইএল গোষ্ঠী পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য হুমকি।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইএসআইএল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরো সহায়তা দেয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া, তাকফিরি এ গোষ্ঠীর ছড়িয়ে পড়ার বিপদ থেকে সতর্ক থাকার জন্যও তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
চরমপন্থা ও সহিংসতাবিরোধী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ইবরাহীম আল-জাফারি একটি প্রতিনিধিদল সহ গত ৭ ডিসেম্বর তেহরান সফর করেন।

পর্যটকদের অভিমত : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বাস্তবতার সাথে পশ্চিমা অপপ্রচারের কোনোই মিল নেই
বিদেশী পর্যটকগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ভ্রমণ করার পর অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ইসলামী ইরানের বাস্তবতা ও ইরান সম্পর্কে পশ্চিমা অপপ্রচারের মধ্যে আদৌ কোনো মিল নেই; বরং এখানকার বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পশ্চিমা বার্তাসংস্থা এএফপি সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রচীন নিদর্শনাদির অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পার্সেপোলিস পরিদর্শনকারী পোলিশ পর্যটক পিওতর চওল্বা-র অভিমত উদ্ধৃত করে এ কথা জানায়। চওল্বা বলেন, ইরানের মতো একটি জায়গার দু’টি চিত্র রয়েছে; এর একটি চিত্র হচ্ছে পশ্চিমা প্রচারমাধ্যম কর্তৃক অঙ্কিত চিত্র, অপরটি হচ্ছে সত্য- যে চিত্রে দেখা যাবে যে, আপনি ইরান ভ্রমণে গেলে সেখানে প্রত্যেকেই আপনাকে সাহায্য করছে এবং হাসিমুখে আপনাকে বরণ করছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরান হচ্ছে সর্বাধিক প্রাণচঞ্চল ও পর্যটন আকর্ষণের দেশ যা ইতিহাস-প্রেমিকদেরকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে থাকে।
জার্মানীর স্টুটগার্দ থেকে ইরান ভ্রমণে আগত ইঞ্জিনিয়ার টমাস বলেন যে, তিনি তাঁর নিজের দেশে থাকাকালে ইরান সম্বন্ধে একমাত্র যা শুনেছেন তা হচ্ছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের পারমাণবিক প্রকল্প এবং এ বিষয়ে পাশ্চাত্যের ও এ দেশটির মধ্যকার বিরোধ। তিনি বলেন, কিন্তু এখানে আমি যা দেখতে পাচ্ছি তা ইরানের বাইরে থেকে ইরান সম্পর্কে যা কিছু শুনেছি তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরো বলেন, ইরানীরা খুবই অতিথিপরায়ণ এবং তাদের মধ্যে সমস্ত বিষয়ে জানার আগ্রহ খুবই প্রবল।
২৯ বছর বয়স্ক এ জার্মান নাগরিক বলেন, এ দেশটি খুবই নিরাপদ; সম্ভবত কতক ইউরোপীয় দেশের তুলনায় এ দেশটিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মতে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আকাশসীমা সর্বাধিক নিরাপদ। সম্প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে এর আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং যুক্তিসঙ্গত সেবার কারণে বিশ্বের সর্বাধিক পর্যটক আকর্ষণকারী দশটি দেশের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

ছয় হাজার আমেরিকান নাগরিক ইরান ভ্রমণে আগ্রহী
আগামী ২০১৫ সালে গোল্ডেন ঈগল দাম্বু এক্সপ্রেসেস-এর ট্রেনের নয়টি ট্রিপে ইরান ভ্রমণে আসার জন্য ছয় হাজার আমেরিকান নাগরিক অপেক্ষা করছেন। উল্লেখ্য, পর্যটক বহনকারী উক্ত ট্রেনটি ইতিমধ্যেই দুই বার ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে ট্রিপ দিয়েছে এবং আরো নয় বার ইরানে ট্রিপ দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। গোল্ডেন ঈগল কোম্পানির ম্যানেজার বলেন যে, ট্রেনটির ইরানগামী যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত সবগুলো টিকেট বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং এর প্যাসেঞ্জারদের মধ্যে শতকরা ৪৫ ভাগই হচ্ছেন আমেরিকান নাগরিক।
উক্ত ট্রেনটি হাঙ্গেরীর বুদাপেস্ট নগরী থেকে ১৪ দিনব্যাপী যাত্রা শুরু করবে এবং এরপর রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও তুরস্ক হয়ে ইরানে প্রবেশ করবে। ইরানে প্রবেশ করার পর পর্যটকবাহী এ ট্রেনটি এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যান্জন, ইয়ায্দ, শীরায, কেরমান ও মাশহাদ সফর করবে।
১৯৫০-এর দশকের ডিজাইনে নির্মিত এ ট্রেনটিতে বাথরুম ও গরম পানির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করবে। উল্লেখ্য, ট্রেনযোগে ইরান ভ্রমণে একেক জন পর্যটকের ৯ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
উক্ত ট্রেনটিতে বর্তমানে নয়টি ওয়াগন আছে এবং এটি ১০২ জন লোক বহনে সক্ষম। এদের মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী ও ৩৫ জন ক্রু থাকবে।

ইরানী চলচ্চিত্রে সামী ইউসুফের যন্ত্রসংগীত
বিশ্ববিখ্যাত যন্ত্রসংগীত তারকা সামী ইসলাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে নির্মিত ইসলামী চলচ্চিত্র ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা.)’-এ যন্ত্রসংগীতে অবদান রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ইরানে জন্মগ্রহণকারী সামী ইউসুফ একাধারে সংগীত ও যন্ত্রসংগীত শিল্পী। তিনি বিশেষভাবে আরব জাহানে ব্যাপক জনপ্রিয়। ব্রিটিশ নাগরিক এ শিল্পী তাঁর একান্ত নিজস্ব যন্ত্রসংগীত রীতির জন্য বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে খ্যাতির অধিকারী। তিনি তাঁর যন্ত্রীসংগীতকে আধ্যাত্মিক বোধে উদ্দীপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত ইরানী চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজীদ মাজীদী কর্তৃক পরিচালিত ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ্ (সা.)’ শীর্ষক চলচ্চিত্রটি একটি বিরাট সিনেম্যাটিক প্রকল্প। এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণে সময় লেগেছে চার বছর। এতে রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর শৈশবকাল থেকে শুরু করে নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনে অভিষিক্ত হওয়া পর্যন্ত জীবনকাল প্রতিফলিত হয়েছে। এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিক দলিলপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইরান, মরোক্কো, তিউনিসিয়া, লেবানন, ইরাক ও আলজেরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের পণ্ডিত ব্যক্তিগণ, ইতিহাসবিদগণ ও ইসলামী মনীষিগণের কাছ থেকে সাহায্য নেয়া হয় এবং কেবল এ কাজেই এক বছর সময় ব্যয়িত হয়। এভাবে সংগৃহীত দলিলপত্রাদির ভিত্তিতে এ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়।
মোহাম্মাদ হায়দারীয়ান কর্তৃক নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি একই সাথে ফারসি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় (২০১৫ সালে মুক্তি পাবার কথা।

বিশ্বে প্রথম বারের মতো ইরান ন্যানো-টেক্ সফ্ট্ ন্যাচারাল ডিটারজেন্ট উৎপাদন করছে
বিশ্বে প্রথম বারের মতো ইরানী বিজ্ঞানিগণ ন্যানো-টেকনোলজি ব্যবহার করে সফ্ট ন্যাচারাল ডিটারজেন্ট তৈরি করেছেন। এটি উৎপাদনকারী কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মের্হতাশ হেদায়াতী-মানেশ বলেন, এ নতুন ডিটারজেন্ট কম্পোজিশনটি হচ্ছে বিশ্বের বুকে ইনিসিয়েটিভ ফরমুলেশন্স ও মেথোড প্রয়োগ করে উৎপাদিত প্রথম সফ্ট ডিটারজেন্ট।
এটি অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিষ্কারক এবং এর দ্বারা এলসিডি, এলইডি, কাচ, বস্ত্র, সিরামিক ও সমস্ত ধরনের বাহ্যিক ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের দ্বারা তৈরি এ ডিটারজেন্ট ব্যবহারে কোনো ধরনের এলার্জি হয় না এবং যেসব জিনিস পরিষ্কার করা হবে এ ডিটারজেনের দ্বারা তার বা পরিবেশের কোনোরূপ ক্ষতি হয় না।
উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ন্যানো-টেকনোলোজিতে দৃষ্টিগ্রাহ্য উন্নতি সাধন করেছে এবং বর্তমানে বহু রকমের ন্যানো দ্রব্য উৎপাদন করছে।
আরো উল্লেখ্য যে, ন্যানো-টেকনোলোজি ব্যাপকভাবে ব্যবহারযোগ্য অনেক নতুন নতুন দ্রব্য ও ডিভাইস তৈরি করতে সক্ষম বলে মনে করা হয়- যা ব্যাপক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এসব দ্রব্যের মধ্যে ওষুধ, ইলেকট্রনিক দ্রব্যাদি ও এনার্জি সামগ্রী অন্যতম।

ইরান পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য অর্গানিক মেডিসিন উৎপাদন করছে
দক্ষিণ ইরানের হোরমোযগান প্রদেশের মেডিক্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির একটি হেল্থ সেন্টারের গবেষকগণ পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার জন্য ভেষজ ওষুধ তৈরি করেছেন।
এ ভেষজ ওষুধটি কয়েকটি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ক্যাপসুল আকারে তৈরি করা হয়েছে। এসব ক্যাপসুলে ঐ এলাকায় সহজলভ্য এমন কয়েক ধরনের উদ্ভিদ থেকে তৈরিকৃত বিভিন্ন ওষুধ একত্রে ব্যবহার করা হয়।
উক্ত ওষুধ তৈরির প্রকল্প পরিচালক ড. সোগরা ফাল্লাহী বলেন, এ ভেষজ ওষুধটি একাধারে ৭২ দিন সেবন করা হলে পুরুষদের বীর্যে শুক্রকীটের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি সেগুলোর গতিও বৃদ্ধি পায়। তিনি জানান, দক্ষিণ ইরানের বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের একটি মলিক্যুলার মেডিসিন ল্যাবরেটরিতে এ ওষুধটির প্রাথমিক পর্যায়ের ও মলিক্যুলার গবেষণা অব্যাহত আছে। গবেষকগণ ওষুধটির ড্রাগ ইম্প্যাক্টসমূহের মেকানিজ্ম ও পারফরম্যান্স মেকানিজ্ম চিহ্নিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ড. ফাল্লাহী জানান, ওষুধটি ব্যাপক ভিত্তিতে উৎপাদন করা হবে এবং এর উচ্চ মানের কারণে এটি বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী রেযা মালেকযাদেহ্ জানান, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইসলামী ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মধ্যে প্রথম অবস্থানে এবং বিশ্বের মধ্যে ১৬তম বা ১৭তম স্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে রাজধানী তেহরানে রয়্যান মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট ও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যৌথ উদ্যোগে অধুনাতম প্রযুক্তি সজ্জিত একটি উচ্চ মানসম্পন্ন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ক্লিনিকটি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইযেশন (আইভিএফ)-এর সর্বাধিক উন্নত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে এবং বন্ধ্যাত্ব রোগীদেরকে এসিস্টেড রিপ্রোডাকটিভ টেকনোলোজী (এআরটি) ব্যবহার করতে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এআরটি হচ্ছে কৃত্রিমভাবে বা অংশত কৃত্রিমভাবে গর্ভসঞ্চারের পদ্ধতি।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী এখানে যেসব দম্পতি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য আসছে তাদের মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগের বেলায় স্বামী, শতকরা ৪০ ভাগের বেলায় স্ত্রী ও শতকরা ২০ ভাগের ক্ষেত্রে উভয়ই বন্ধ্যাত্বে ভুগছে।

ইরানী বিজ্ঞানী মস্তিষ্কের সুরক্ষাকারী জীবাণু আবিষ্কার করেছেন
সুইডিশ ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ইরানী বিজ্ঞানী আফরূয আব্বাসপুর তাঁর সহকর্মীদের সাথে নিয়ে গবেষণা করে মানবদেহে এমন এক ধরনের জীবাণু আবিষ্কার করেছেন যা রোগ প্রতিষেধক থেকে শুরু করে খাদ্য হজম করা পর্যন্ত মানবদেহের সব কিছুর সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করে এবং দেহের সকল কাজে সহায়তা করে। এটা বিশেষ করে মানুষের মস্তিষ্ককে ক্ষতিকর প্যাথোজিন থেকে রক্ষা করে। এ জীবাণুগুলো ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার নামে কথিত এক ধরনের জীবাণু-বেড়া তৈরি করে মস্তিষ্ককে প্যাথোজিন সহ অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু থেকে রক্ষা করে।
এর আগে এক গবেষণায় আবিষ্কৃত হয় যে, মানবদেহের অভ্যন্তরে জীবাণু চলাচলের পথসমূহে এক ধরনের জিন তৈরি হয়ে থাকে যা ক্যাপ জাঙ্কশন প্রোটিন নামে অভিহিত কোডিং তৈরি করে- যা এক ধরনের দেয়াল তৈরি করে-যা রক্তের ভিতরে প্যাথোজিন প্রবেশে ও সম্ভাব্য রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিতে বাধা দেয়।
সুইডেনের ক্যারোলিন্স্কা ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানিগণ তাঁদের এ নতুন গবেষণায় ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার নিয়ে-যাতে প্রোটিনও পাওয়া যায়-গবেষণা করেন। এ গবেষণায় তাঁরা গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। তাঁরা কিছু সংখ্যক এমন ইঁদুরকে রাখেন যেগুলোর প্রজনন ক্ষমতা ছিল এবং সেগুলোর শরীরে কোনো রোগজীবাণু চিহ্নিত করা যায় নি এবং অপর কতগুলো ইঁদুরের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই রোগজীবাণু ছিল। গবেষকগণ এই শেষোক্ত ইঁদুরগুলোর শরীরে এন্টিবডি ইনজেক্ট করে দেন যাতে সেগুলোর মধ্যকার ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার ভেঙে যায় এবং রোগজীবাণুমুক্ত সাধারণ মাদী ইঁদুরের গর্ভে ভ্রুণের সৃষ্টি হয়।
স্বাভাবিকভাবে মোটামুটি ১৭ দিনের মধ্যে ব্যারিয়ার বন্ধ হয়ে যায় ও ভ্রুণের সৃষ্টি করে, অন্যদিকে ইনজেক্টকৃত এন্টিবডি ১৭ দিনের কম সময় পার হয়ে যাওয়া সবগুলো ভ্রুণের মস্তিষ্কে কাক্সিক্ষতভাবে ক্রিয়া করে এবং তা জীবাণুমুক্ত মা-ইঁদুরগুলোর গর্ভস্থ ভ্রুণগুলোর মস্তিষ্কে ১৭ দিনের পরেও প্রবেশ অব্যাহত রাখে। সায়েন্স ট্রান্সলেশন্যাল মেডিসিন সাময়িকীতে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ইরানী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার লাভ
সম্প্রতি রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ১৫ জন ইরানী শিশু-কিশোর পুরস্কার লাভ করেছে।
‘রংধনু’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতায় ইরানী শিশু-কিশোররা মোট ৮৫৭টি চিত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করে। এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের মোট ২৭টি দেশের সর্বমোট ৩ হাজার ২৯৪টি চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইরানী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১০ বছর বয়স্ক সেপিদেহ্ তাহেরী ও ১২ বছর বয়স্ক মেইসাম্ আবদুল্লাহী যৌথভাবে প্রথম পুরস্কারের পদক লাভ করে এবং দ্বিতীয় পুরস্কারের পদক অর্জন করে ১২ বছর বয়সী আমীর হোসাইন ওয়ালীযাদেহ্, আর তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী হয় ৯ বছরের বিনইয়ামীন কেরামাতিনীয়া।
এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইরানী শিশু-কিশোরদের সকলেই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শিশু-কিশোর মনন বিকাশ ইনস্টিটিউটের সদস্য।
এ বছরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদেরকে তাদের চিত্রে ‘পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা’ তাৎপর্য প্রতিফলিত করতে বলা হয়।

আন্তর্জাতিক পানি সীমায় ১,৮০০ জাহাজের নিরাপত্তা দিয়েছে ইরানী নৌবহর
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩২তম নৌবহর ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগরে প্রায় এক হাজার আটশ’ জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়েছে। এ নৌবহরের কমান্ডার সাইয়্যেদ হোসেইন শারিফি নাস্ব ১৫ নভেম্বর বার্তাসংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পানি সীমায় ইরানী নৌবহর তৎপরতা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ৭৪৫টি জাহাজকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০৭টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও ৯৩৮টি তেল ট্যাঙ্কার রয়েছে। এসব জাহাজকে সরাসরি স্কর্ট করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে তারা। নৌ কমান্ডার শারিফি আরো বলেন, ইরানী নৌবহর এডেন উপসাগর, লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে জলদস্যুদের সঙ্গে এ পর্যন্ত দেড়শ’র মতো সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান আন্তর্জাতিক পানি সীমায় নিজের উপস্থিতি জোরদার করেছে। ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে এডেন উপসাগরে টহল দিতে শুরু করে ইরানী নৌবাহিনী। বর্তমানে ইরানের ৩২তম নৌবহর এডেন উপসাগরে টহল দিচ্ছে।
এদিকে ইরানের সংসদ মজলিশে শুরার স্পিকার আলী লারিজানি গত ২২ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ জিবুতির একটি বন্দরে নোঙ্গর করে থাকা ইরানী ডেস্ট্রয়ার জামারান এবং যোগাযোগ যান বুশেহর পরিদর্শনকালে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে এ অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান।
লারিজানি বলেন, জলদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এডেন উপসাগর এবং আঞ্চলিক পানিসীমায় ইরানের নৌ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে; এতে ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা দেখা গেছে যা বিভিন্ন দেশের ক্ষতি করেছে। কিন্তু ইরানের নৌ বাহিনীর উপস্থিতি এ অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ইরান এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে নীতি গ্রহণ করেছে এসব তৎপরতার মাধ্যমে তাই ফুটে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

ইরাকে চালু হলো ইরানের তৈরি ১৬২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ইরাকের নাজাফের অদূরে হেইদারিয়া এলাকায় ইরানের তৈরি একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ১৬২ মেগাওয়াট।
গত ১৩ নভেম্বর ইরাক ও ইরানের জ্বালানিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এটি উদ্বোধন করা হয়। এ কেন্দ্র থেকে নাজাফে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ইরানের ‘মাপনা’ গ্রুপ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে এবং এটি নির্মাণে সময় লেগেছে তিন বছর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী হামিদ চিতচিয়ান বলেন, বাগদাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে সম্পর্ক জোরদারে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। ইরাকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে দেয়ার পাশাপাশি দেশটিতে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে ইরান। ইরাক ছাড়াও লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছে ইরান।

ইরাকে বছরে রপ্তানি হচ্ছে অন্তত ৫০ হাজার ইরানী গাড়ি
ইরান থেকে প্রতি বছর অন্তত ৫০ হাজার গাড়ি ইরাকে রপ্তানি করা হচ্ছে। ইরানের অন্যতম প্রধান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ‘ইরানখোদরু’-র মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কর্মকর্তা গোলাম রেযা মাহদিযাদে গত ২৫ নভেম্বর এ কথা জানান।
তিনি আরো বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মেহরান সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী ইরাকে এসব গাড়ি রপ্তানি করা হচ্ছে। মেহদিযাদে বলেন, ‘সামান্দ’ ও ‘রানা’সহ বিভিন্ন মডেলের গাড়ি সেখানে যাচ্ছে। ইরাকীদের কাছে এসব গাড়ি সমাদৃত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘সাইপা’ কোম্পানিও ইরাকে গাড়ি রপ্তানি করছে। তারা প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি ইরাকে পাঠাচ্ছে।
ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার পর দেশটি অন্যান্য অঙ্গনের পাশাপাশি গাড়ি নির্মাণ শিল্পেও ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে।

আকাশে উড়ল মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের ইরানী ভার্শন
মার্কিন আরকিউ-১৭০’র অনুকরণে তৈরি ইরানী ড্রোন প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদেহ গত ১০ নভেম্বর এ কথা জানান। তিনি বলেন, মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান আরকিউ-১৭০’র ইরানী ভার্শনের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে।
২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ইরানী সেনাবাহিনীর ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ইরানের আকাশে ঢোকার পর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোন সফলভাবে নামিয়ে আনে। মার্কিন লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি ড্রোনটি আফগান সীমান্ত দিয়ে ইরানের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।
এরপরই ইরানী বিশেষজ্ঞরা মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের কারিগরি বিষয়ক নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন। ওই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই ইরান আরকিউ-১৭০’র স্থানীয় ভার্শন তৈরি করল। আটক মার্কিন ড্রোনটির হুবহু তৈরি করেছে ইরানী বিশেষজ্ঞরা। এটি প্রযুক্তিগত দিকের পাশাপাশি কার্যকারিতায়ও মার্কিন ড্রোনটির অনুরূপ।

‘আমেরিকা অবাক দৃষ্টিতে দেখছে আরকিউ-১৭০’র ইরানী ভার্শন’
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রভাবশালী আলেম আয়াতুল্লাহ আলী মোভাহেদি কেরমানি বলেন, মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের ইরানী ভার্শন আমেরিকার সম্মান ও মর্যাদার জন্য একটা বড় আঘাত। গত ১৪ নভেম্বর রাজধানী তেহরানে জুমআর নামাযের খুতবায় তিনি এ কথা বলেন।
জুমার নামাজের খতিব বলেন, অত্যাধুনিক আরকিউ-১৭০ ড্রোনকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করার ক্ষমতা ইরানীদের নেই বলে আমেরিকা দাবি করে আসছিল। কিন্তু ইরান রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তারা এখন অবাক দৃষ্টিতে আরকিউ-১৭০’র ইরানী ভার্শন দেখছে। আয়াতুল্লাহ কেরমানি বলেন, মার্কিন আরকিউ-১৭০ ড্রোনের রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তিতে কিছু ত্রুটি ছিল, ইরানী ভার্শন সেই ত্রুটি থেকেও মুক্ত। আগামী বছরই ড্রোনটি ব্যাপক সংখ্যায় তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।

দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা করল ইরান
ইরান দূরপাল্লার ‘সেপেয়ার’ রাডার ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এ রাডার ব্যবস্থা ২,৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যে কোনো লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে।
গত ১১ নভেম্বর এ রাডার ব্যবস্থার প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরে এ নতুন এ রাডার ব্যবস্থাকে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারজাদ ইসমাইলি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ব্যালিস্টিক, সেমি ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নির্ণয় করতে পারে নতুন এ রাডার ব্যবস্থা। ইরান সীমান্তের বাইরে অনেক দূরে অবস্থিত সম্ভাব্য হুমকিও শনাক্ত করতে সক্ষম এ ব্যবস্থা।

ইরানে রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তি অকার্যকর
রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন স্টিল্থ জঙ্গি বিমানগুলোকেও শনাক্ত করতে পারবে ইরান। জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি’র সঙ্গে গত ১২ নভেম্বর এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিযাদেহ।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের হাতে এ সংক্রান্ত যেসব প্রযুক্তি রয়েছে তা দিয়ে ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম মার্কিন এফ-টুয়েন্টি টু জঙ্গি বিমানকে সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
ইরানী কমান্ডার বলেন, আড়াই মাস আগে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম হারমেস ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় আইআরজিসি। আর এ থেকেই প্রমাণ হয় আইআরজিসি’র পদক্ষেপ কতটা নিখুঁত! তিনি আরো বলেন, ইরানের হাতে মার্কিন ড্রোন আরকিউ-১৭০ আটক হওয়ার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে এ বাস্তবতাই ফুটে উঠেছে যে, ইরান বি-টু এবং এফ-থার্টি ফাইভসহ রাডার ফাঁকি দেয়ার প্রযুক্তিসম্পন্ন সব ধরনের বিমান শনাক্ত করতে পারে।