শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশী সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ১৭, ২০১৬ 

নতুন বছরে আরো ভালো অর্থনীতি উপহারের ঘোষণা দিলেন রুহানি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি নতুন ফারসি বছরে আরো ভালো অর্থনীতি উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চলতি নতুন বছরে দেশে টেকসই উন্নয়ন, নতুন চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং তেলবহির্ভূত খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
২১ মার্চ ফারসি নতুন বছর শুরুর দিন সকালে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক বাণীতে প্রেসিডেন্ট রুহানি এ কথা বলেন। প্রতিরোধমূলক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি জনগণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতো না।
ড. রুহানি তাঁর বাণীতে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার পরমাণু আলোচনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় প্রতিরোধমূলক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ফলে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আলোচনায় বিজয় অর্জনের পথ খুলে গেছে। তিনি আরও বলেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীসহ বড় বড় দেশ বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তেহরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্য ও সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইরান এ সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে নীতির আওতায় ইরান জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর কর্মসূচি হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘ইরানের জাতীয় ও বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নযোগ্য’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইসলামী এই দেশটির সার্বিক উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। গত ২১ মার্চ নওরোজ বা ফারসি নতুন বছর (১৩৯৪) শুরু হওয়া উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি সরকার ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি নতুন এই বছরের জন্য ‘সরকার ও জাতি, সহমর্মিতা ও একই সুর’- শীর্ষক সেøাগান নির্ধারণ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যদি (সরকার ও জনগণ) উভয় পক্ষই পরস্পরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে তাহলে আমাদের তথা সরকার ও জনগণের আশাগুলো অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, তাদের পারস্পরিক আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাগুলো যতই বাড়বে ততই কাজের অগ্রগতিও বাড়বে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, সরকারকে অবশ্যই জাতির সেবক হতে হবে এবং জনগণই সরকারকে নিয়োগ দিয়েছে। তাই সরকারের উচিত প্রকৃত অর্থেই জাতির মূল্যবোধ, গুরুত্ব ও ক্ষমতাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া এবং জনগণেরও উচিত প্রকৃত অর্থেই সরকারের ওপর আস্থা রাখা।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রিয় কন্যা হযরত ফাতেমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর শাহাদাত (৩ জমাদিউস সানি, ২৪ মার্চ) বার্ষিকী উপলক্ষে শোক প্রকাশ করে বলেন, এই মহীয়সী নারীর উসিলায় নতুন বছরটি সবার জন্য অফুরন্ত বরকত বা প্রাচুর্য বয়ে আনবে এবং তাঁর (পুণ্য) স্মৃতি চলতি বছর আমাদের জনগণের জীবনে গভীর ও স্থায়ী প্রভাব রাখবে বলে আশা করছি।
তিনি নতুন ফারসি বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তিমত্তা ও সম্মান, জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রকৃত অর্থেই বড় ধরনের অগ্রযাত্রা, বিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার এবং সর্বোপরি ঈমান ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নকে জনগণের কয়েকটি বড় ও বাস্তবায়নযোগ্য স্বপ্ন হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিগত বছরে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় বার্ষিকীর শোভাযাত্রাসহ বিশ্ব কুদ্স দিবসের মিছিলে এবং হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের চল্লিশার শোক-মিছিলে ব্যাপক হারে অংশ নেয়ার জন্য জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন, এতে ইরানী জাতির দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।

ফ্রান্সের পেজো গাড়ি কোম্পানি ইরানে কাজ শুরু করতে রাজি; চুক্তি সই
ফ্রান্সের বিখ্যাত গাড়ি কোম্পানি পিএসএ পেজো-সিতরোন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে আবার কাজ শুরু করতে রাজি হয়েছে। এই লক্ষ্যে ইরানের গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরান খোদরো’র সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে পেজো।
চুক্তির আওতায় ফরাসি কোম্পানি ইরানে একটি যৌথ কারখানা প্রতিষ্ঠা করবে যেখানে তাদের থাকবে শতকরা ৫০ ভাগ বিনিয়োগ আর ইরান খোদরোর থাকবে বাকি ৫০ ভাগ পুঁজি।
ইরানের মেহের নিউজের বরাত দিয়ে প্রেস টিভি জানায়, যৌথ কারখানায় উৎপাদিত গাড়ির শতকরা ৩০ ভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হবে। আর এরপর থেকে ইরান খোদরো কোনো গাড়ি দেশে অ্যাসেম্বল করবে না।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আমেরিকা ও ইউরোপ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীনা গাড়ি কোম্পানি ইরানের বাজারে প্রবেশ করে। সেই থেকে চীন মাঝারি ও ভারী ধরনের ট্রাক এবং যাত্রীবাহী গাড়ি সরবরাহ করে আসছে।

হামাসের বিরুদ্ধে দেয়া মিশরের আদালতের রায়ের কঠোর প্রতিবাদ জানালো ইরান
মিশরের একটি আদালত অধিকৃত গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করায় ইরান কঠোর ভাষায় তার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কায়রোর আদালতের এ রায়কে নিন্দা জানিয়ে ইরানের আরব এবং আফ্রিকা বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান গত ১ মার্চ বলেন, হামাস কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়।
তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হামাস এবং আরেকটি ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদ’ এর মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে তেল আবিব।
এ ছাড়া, মিশরের ইখওয়ানুল মুসলেমিন সম্পর্কে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, মিশরের বিরাজমান বাস্তবতার অংশই হলো ইখওয়ানুল মুসলেমিন। মিশর সরকারের রাজনৈতিক বিরোধী দল এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ সন্ত্রাসের আশ্রয় নিলে সমগ্র বিশ্ব তার নিন্দা জানাবে।
এ ছাড়া, একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানও পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেন আবদুল্লাহিয়ান। তিনি বলেন, মিশর, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফ্রিকা এবং এশিয়াসহ সব জায়গার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে কঠোর ভাবে নিন্দা করে ইরান।
এদিকে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এরই মধ্যে মিশরের আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যা কেবল দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে।

রাশিয়ায় ক্যান্সারের ওষুধ রফতানি করবে ইরান
ইরান এই প্রথমবারের মতো ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রাশিয়ায় রফতানি করবে। চলতি বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে উচ্চ মূল্যমানের এসব ওষুধ রফতানি করা হবে। ইরানের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ নির্মাণকারী কোম্পানি তৌফিক দারু’র বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান রুহুল্লাহ হায়দারি গত ১৫ মার্চ এ কথা জানান।
তিনি বলেন, রাশিয়ায় যেসব ওষুধ রফতানির পরিকল্পনা করা হয়েছে তার মধ্যে মাল্টিপল স্কেলেরোসিস বা এমএস এবং নানা ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে। লাতিন আমেরিকা, তুরস্ক ও পাকিস্তানের বাজারেও এ জাতীয় ওষুধ রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। বর্তমানে ইরান বছরে ২২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ওষুধ রফতানি করছে।

এক বছরে ১০০ কোটি ঘন মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করেছে ইরান
ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান গ্যাস কোম্পানি বা এনআইজিসি’র প্রধান হামিদ রেযা আরাকি বলেছেন, গত ফারসি বছরে আগের বছরের তুলনায় ইরানের গ্যাস রপ্তানির পরিমাণ আট শতাংশ বেড়েছে। তিনি গত ১০ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরে ইরান ১০০ কোটি ঘন মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করেছে। উল্লেখ্য, মার্চ মাসের ২০ তারিখে গত ফারসি বছর শেষ হয়েছে।
বর্তমানে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার কাছে গ্যাস রপ্তানি করছে ইরান এবং ইরাকের কাছে গ্যাস রপ্তানি চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ইরানী গ্যাস আমদানি শুরু করেছে তুরস্ক।

ইরানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস পালন
গত ১ এপ্রিল ইরানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৩৬তম ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয়। ১৯৭৯ সালে হযরত ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মাত্র দুই মাস পর গণভোটের মাধ্যমে ইরানের জনগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। জনগণ ইসলামী প্রজাতন্ত্র চায় কিনা জানতে চেয়ে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়। এতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ৩৬ বছর পরও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি ইরানী জনগণের সেই আনুগত্য অব্যাহত রয়েছে।

ইয়েমেন সংকট নিরসনে ইরানের ৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা
গত ১৪ এপ্রিল স্পেন সফরের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ ইয়েমেন সংকট নিরসনে তেহরানের চার দফা শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এই পরিকল্পনা উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে ইয়েমেনের জনগণকে তাদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।
অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরী করা, ইয়েমেনের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ, আন্ত-ইয়েমেনি সংলাপ শুরু করা এবং ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় সরকার গঠনের কথা প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিবিদ আবারো ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন বন্ধে আলে সৌদ কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আরব উপদ্বীপের এ দেশটির বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা সেখানে চলমান সংঘর্ষের কোনো জবাব এনে দেবে না।
আমেরিকাকে হারিয়ে কুস্তিতে চ্যাম্পিয়ন হলো ইরান
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক আমেরিকাকে পরাজিত করে টানা চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইরান। গত ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ফাইনাল রাউন্ডে আমেরিকার কুস্তি দলকে ৫-৩ পয়েন্টে পরাজিত করে এ গৌরব অর্জন করে ইরান। আগের কয়েকটি রাউন্ডে বেলারুশিয়াকে ৮-০ পয়েন্টে, তুরস্ককে ৭-১ পয়েন্টে এবং আযারবাইজানকে ৭-১ পয়েন্টে পরাজিত করে ইরানী কুস্তি দল। বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে ছয় বার চ্যাম্পিয়ন হলো ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এক বার্তায় দেশের কুস্তিগীর ও কুস্তি-প্রশিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, ইরানের সন্তানেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও জাতির জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। এজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

আইআরজিসি দক্ষিণ- পূর্ব ইরানের সন্ত্রাসী চক্রকে নির্মূল করেছে
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) দক্ষিণ- পূর্ব ইরানে তৎপরতা পরিচালনাকারী একটি সন্ত্রাসী চক্রকে পুরোপুরি নির্মূল করে দিয়েছে। আইআরজিসি-র কুদ্স্ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী এ সন্ত্রাসী চক্রটি একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা গড়ে তোলা হয়েছিল।
আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের নিক্শাহ্র্ এলাকায় তৎপরতা পরিচালনাকারী এ সন্ত্রাসী চক্রটির নাম ক্বাস্রে ক্বান্দ্ (মিছরির প্রাসাদ); আইআরজিসি এ চক্রটির সদস্যদেরকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসি-র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয় যে, আইআরজিসি এ অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রটিকে ধ্বংস করা ছাড়াও তাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র, গোলা-বারুদ, যুদ্ধে ব্যবহারোপযোগী যানবাহন এবং যোগাযোগ কার্যে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি ও উপকরণ উদ্ধার করেছে।
(৩) রাহ্বার কর্তৃক কয়েদীদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন (মেহের ৫)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ দ্বীনী ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ ‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কয়েকশ’ দ-প্রাপ্ত কয়েদির দ- ক্ষমা বা হ্রাস করেছেন। ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এ উপলক্ষে গত ৩১শে মার্চ (২০১৫) তিনি এ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ইরানী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১২ই র্ফার্ভাদীন্ (পয়লা এপ্রিল) ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্যাপিত হয়। এ উপলক্ষে রাহ্বার আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ৮০৯ জন দ-প্রাপ্ত কয়েদির অবশিষ্ট শাস্তি মওকূফ করে দেন বা শাস্তির মেয়াদ হ্রাস করে দেন। এ সব কয়েদি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিভিন্ন সাধারণ, বিপ্লবী ও সামরিক আদালত কর্তৃক দ-প্রাপ্ত হয়েছিল। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হযরত আয়াতুল্লাহ্ সাদেক অমোলীর সুপারিশক্রমে শাস্তি ভোগ কালে উত্তম ও সুশৃঙ্খল আচরণ ও নৈতিক মানোন্নয়নের পরিচয় প্রদানকারী এ সব কয়েদির শাস্তি মওকূফ বা হ্রাস করা হয়।
উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধানের ১১ নং অধ্যায়ের ১১০ নং ধারায় রাহ্বারকে যথোপযুক্ত কয়েদিদের শাস্তির মেয়াদ মওকূফ বা হ্রাস করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে শাস্তি মওকূফ ও হ্রাসের এ ধারা সব ধরনের অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে সব ধরনের অপরাধীদের জন্য এ ধারা প্রযোজ্য নয় তাদের মধ্যে রয়েছে বিশেষভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হবার অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং সশস্ত্র ও সংঘবদ্ধ মাদক দ্রব্য চোরাচালান, ধর্ষণ, সশস্ত্র ডাকাতি, সশস্ত্র চোরাচালান, গুম করণ, উৎকোচ প্রদান ও গ্রহণ বা অগ্নি সংযোগের অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
(৬) সরকার রাহ্বারের কাছে কৃতজ্ঞ : প্রেসিডেন্ট রুহানি (মেহের ৭)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ ‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বরাবরে লিখিত এক পত্রে সরকারকে তার কর্মকা-ে এককভাবে সহায়তা ও সমর্থন প্রদানের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট রুহানি রাহ্বারের নির্দেশ ও পথনির্দেশনাসমূহ পুরোপুরি ও যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাহ্বার যে সরকারের প্রতি পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে দৃষ্টি রাখেন এবং সরকারকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা ও সমর্থন প্রদান করেন সে জন্য তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ দেশের সকল জনগণের প্রতি রাহ্বারের উপদেশ মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়ে এ মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণ যে মধ্যমপন্থী সরকারকে নির্বাচিত করেছেন সকল ক্ষেত্রের কর্মকা-ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সে সরকারকে সহায়তা করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নিশ্চিত করবেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি আরো বলেন, সরকার জনগণের খেদমত করাকে স্বীয় প্রাথমিক দায়িত্ব বলে মনে করে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, সরকার সব সময়ই সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং দেশ শাসনের ক্ষেত্রে সকল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য ও পরামর্শ চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, চূড়ান্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হলে সরকারের সকল সংস্থাকে যথোপযুক্ত হতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যেতে হবে।
রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী জাতীয় অর্থনীতিকে সুসংহতকরণ এবং মানব সম্পদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ ব্যবহারের ভিত্তিতে পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধনের জন্য যে পরামর্শ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতার ক্ষেত্রে আরো বেশি প্রচেষ্টা চালানো ও আস্থা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি রাহ্বারের সমর্থন ও সহায়তা একটি মূল্যবান সম্পদস্বরূপ এবং তা সরকারকে কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ইউনিটগুলোকে ও বিজ্ঞানভিত্তিক ফার্মগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং সেই সাথে দুর্নীতি ও চোরাচালান দমনে প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সরকারকে উৎসাহিত করছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সংক্রান্ত আলোচনায় রাহ্বারের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রদত্ত নিঃশর্ত সমর্থনে প্রেসিডেন্ট রুহানি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, এ পর্যন্ত পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনায় যে সব সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, বিশ্ব সম্প্রদায় এ ব্যাপারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে যোগাযোগ করতে ও আন্তঃক্রিয়া সম্পাদনে সম্মত হয়েছে এবং বৃহৎ শক্তিগুলো ইরানের পারমাণবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের এবং সকল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের হেফাযতকারী। তাই সরকার বরাবরের মতোই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মর্যাদা ও গৌরবের পরিপূর্ণ প্রতিরক্ষা করে যাবে।
প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে রাহ্বারের কল্যাণ এবং ইরানী জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য দো‘আ করেন।
(২) নিষেধাজ্ঞার ভিতরেও ইরান পরিপূর্ণরূপে বিকাশ লাভ করছে : রাহ্বার (মেহের ৮)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ দ্বীনী ও রাজনৈতিক নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ ‘উয্মা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বলেন, নিষেধাজ্ঞার ভিতরেও ইরান সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণরূপে বিকাশ লাভ করছে। তিনি ইরানী বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন নওরোয্ উপলক্ষে গত ২১শে মার্চ দেশের অন্যতম ধর্মীয় নগরী মাশ্হাদে হযরত ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার প্রাঙ্গনে এক বিশাল জনসমাবেশে জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
রাহ্বার বলেন, নওরোয উদ্যাপন ইসলামী মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি বলেন, ইরানী জনগণ নওরোযকে ইসলামী মূল্যবোধসমূহকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ব্যবহার করে থাকে।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামের অন্যতম মূলনীতি ‘আম্র্ বিল-মা‘রূফ ওয়া নাহি ‘আনিল্ মুন্কার’ (ভালো কাজের আদেশ দান ও মন্দ কাজে নিষেধ)-এর প্রকৃত তাৎপর্যের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সমস্ত রকমের ভালো কাজের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভালো কাজ।
ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, ইসলাম জনগণের মধ্যে সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সংহতি আশা করে। তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারকে জনগণ কর্তৃক অনুমোদিত ও সমর্থিত হতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের দেশে ইসলামী সংহতির নির্যাস।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সম্পর্কিত আলোচনা প্রসঙ্গে হযরত আয়াতুুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, বেআইনি ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য স্বীয় অর্থনীতিকে একটি স্বাধীন অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শত্রুদের হাতে একমাত্র যে অস্ত্রটি আছে তা হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তারা ইরানের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে দিতে অক্ষম হয়েছে, কারণ, তাদের সে অস্ত্র নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় একমাত্র পথ হচ্ছে স্বনির্ভরতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সংক্রান্ত যে কোনো চুক্তি সম্পাদন নিষেধাজ্ঞা পরিপূর্ণরূপে প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে অন্য কোনো শর্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকার সাথে আলোচনা একমাত্র এবং একমাত্র পারমাণবিক প্রকল্প সম্পর্কে হবে এবং ইরান কখনোই আমেরিকার সাথে কোনো আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনা করবে না। কারণ, আমেরিকার নীতি হচ্ছে ইরানের নীতির বিপরীত এবং তা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্বার্থেরও বিরোধী।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নওরোয উপলক্ষে ইরানী জনগণের উদ্দেশে প্রদত্ত বাণীতে যে প্রস্তাব দিয়েছেন ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেন। উল্লেখ্য, বারাক ওবামা তাঁর বাণীতে বলেন যে, ইরানের জাতীয় অর্থনীতিকে মুক্তি দিতে হলে ইরানীদেরকে অবশ্যই আমেরিকান দিকনির্দেশনা গ্রহণ করে নিতে হবে।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইরানী জনগণের প্রতি প্রতিরোধের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিরোধের অর্থনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই সম্ভব সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
ইসলামী বিপ্লবের রাহ্বার জোর দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বাণীতে যে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানে কিছুসংখ্যক লোক পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের বিরোধী, তাঁর এ দাবি পুরোপুরি ভুল এবং একটি বিরাট মিথ্যাচার। তিনি বলেন, ইরানে কেউই দেশের পারমাণবিক প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের বিরোধী নন।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণের সমাপ্তি টানতে গিয়ে বলেন, বিশেষ করে দেশ যখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তখন সকলকেই মতৈক্য প্রদর্শন করতে হবে এবং সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে হবে।

ইরানে আর্থিক সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি তৈরি (মেহের ১০)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে স্থানীয় প্রযুক্তিতে ‘দোনিরু’ নামে এক ধরনের আর্থিক সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি নির্মিত হয়েছে। গত ৪ঠা মার্চ (২০১৫) প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির উপস্থিতিতে নব নির্মিত এ গাড়ির আবরণ উন্মোচন করা হয়।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ম্যাক্রো-স্কেল ন্যাশনাল প্লান্স শাখার প্রধান ড. পেইমন সালেহী এ পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়িটির আবরণ উন্মোচন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বেশ কয়েক জন কেবিনেট মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে ড. পেইমন সালেহী বলেন, দোনিরু হচ্ছে এক ধরনের হাইব্রিড কারÑ যা বিদ্যুতের সাহায্যে চলে এবং এর ব্যাটারি একবার চার্জ করা হলে এটি ৮৫ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। তিনি বলেন, এ গাড়িটির গ্যাসোলিন ইঞ্জিনে পরিবর্তন সাধন করে ইঞ্জিনটিকে ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ব্যবহার করা হয়; ইঞ্জিনটি সরাসরি গাড়ি চালাতে ব্যবহৃত হয় না।
এ গাড়িটি নির্মাণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে ড. সালেহী বলেন, দোনিরু একটি মানসম্পন্ন ও আর্থিক সাশ্রয়ী গাড়ি যার ডিজাইন করা হয়েছে দূষণ হ্রাস করে পরিবেশের হেফাযতের উদ্দেশ্যে।
ড. সালেহী বলেন, প্রেসিডেন্টের দফতরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং রিনোভেশন অর্গানাইযেশন অব্ ইরান-এর যৌথ অংশীদারিত্বে এ প্রকল্পটির জন্য তিরিশ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হয়েছে।

ইরানে নির্মিত ‘সূর্মা’ ক্রুজ মিসাইলের আবরণ উন্মোচন (মেহের ১১)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘সূর্মা’ নামে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য এক ধরনের ক্রুজ মিসাইল নির্মাণ করেছে। ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিসাইলের আবরণ উন্মোচন করা হয়েছে এবং মিসাইলটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এয়ারোস্পেস ফোর্স-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সময় আইআরজিসি-র কাছে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ‘ক্বাদ্র’ ও ‘ক্বিয়াম’ নামক দু’ধরনের দূর পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইলও হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ৭ই মার্চ (২০১৫) তেহরানে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘সূমার’ ক্রুজ মিসাইলের আবরণ উন্মোচন করা হয় এবং এতদসহ বিপুল সংখ্যায় উৎপাদিত ‘ক্বাদার’ ও ‘ক্বিয়াম’ ব্যালেস্টিক মিসাইল আইআরজিসি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ অনুষ্ঠানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসাইন দেহ্কান ও আইআরজিসি-র এয়ারোস্পেস ফোর্স-এর প্রধান জেনারেল আমীর আলী হাজীযাদে সহ ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেনারেল দেহ্কান বলেন, ইরান সরকারের এয়ারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইযেশন (এআইও)-এর বিশেষজ্ঞগণ সূমার ক্রুজ মিসাইলের ডিজাইন করেন এবং এ সংস্থাটি এটি উৎপাদন করে। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে নির্মিত মিসাইলসমূহের তুলনায় এ মিসাইলটির পাল্লা যেমন বেশি তেমনি এটির লক্ষ্যভেদ অধিকতর নিখুঁত এবং এছাড়াও এটির আরো কতোগুলো ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
জেনারেল দেহ্কান আরো বলেন, এ সব গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরোধক শক্তি বৃদ্ধির পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট বিরাট সাফল্যের অধিকারী হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতায় উপনীত হয়েছে।
আরো উল্লেখ্য যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান অন্যান্য দেশকে এ মর্মে বার বার নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, ইরানের সামরিক শক্তি অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় এবং এ দেশের প্রতিরক্ষা নীতি পুরোপুরি নিরোধের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।

ইরানে গাড়ি পরিষ্কার করার অ্যালকোহল মুক্ত ন্যানো ক্লিনার উৎপাদন (মেহের ১২)
ইরানী গবেষকগণ গাড়ি পরিষ্কার করার জন্য অ্যালকোহলমুক্ত একটি ন্যানো ক্লিনার উৎপাদন করেছেন। এটির দ্বারা পানির সাহায্য ছাড়াই গাড়ি পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট গবেষক ও আবিষ্কারক গ্রুপের সদস্য জনাব মেহ্র্তাশ হেদায়াতী বলেন, এ পণ্যটিতে উপরি ভাগের ধুলা-ময়লা অপসারণে সক্ষম উচ্চ পরিষ্কারক ক্ষমতার একটি নতুন ফরমুলেশন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ন্যানো ক্লিনারটিতে একটি হারবাল এন্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ব্যাসিস রয়েছে এবং এটি ব্যবহার করে গাড়ি পরিষ্কার করার সময় পানি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না।
জনাব মেহ্র্তাশ হেদায়াতী বলেন, এ পণ্যটিতে প্রাকৃতিক অ্যালকোহলমুক্ত মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি গ্লাস, ফ্রেম, ইঞ্জিন ও টায়ার সহ গাড়ির সকল উপরি তল পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
তিনি আরো বলেন, গাড়ি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে পানির ব্যবহার ও শুকানো সমস্যা বটে। এ ন্যানো ক্লিনারটি ব্যবহার করলে পানির খরচ বেঁচে যাবে এবং এটি পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

ইরানী নৌবাহিনীতে দামাভান্দ ডেস্ট্রয়ার যোগ (মেহের ১৩)
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীতে ‘দামাভান্দ’ নামক নতুন নির্মিত একটি ডেস্ট্রয়ার যোগ করা হয়েছে। অ্যাড্ভান্স্ড সী-লঞ্চ্ড্ ড্রোন বিমান ও ক্রুজ মিসাইলে সজ্জিত এ ডেস্ট্রয়ারটি গত ৯ই মার্চ (২০১৫) তারিখে কাস্পিয়ান সাগরস্থ ইরানী নৌবাহিনীতে যোগ করা হয়।
এ উপলক্ষে কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী বন্দর নগরী বান্দারে আন্যালীতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ছিলেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শাম্খনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসাইন দেহ্কান ও নৌবাহিনীর অধিনায়ক রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবীবুল্লাহ্ সাইয়ারী।
উল্লেখ্য, দামাভান্দ হচ্ছে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী জামারান শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় পানি সীমার হেফাযতের জন্য দেশের নৌবাহিনীর প্রয়োজন পূরণে সক্ষম। এটি জামারান-এর চেয়ে লম্বা, কিন্তু অপেক্ষাকৃত হাল্কা। এটি যুগপতভাবে সমুদ্র, আকাশ ও ভূমিতে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে ও তাতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম, টর্পেডো লঞ্চার, ৪০ মিলিমিটার ও ৭৬ মিলিমিটার কামান, রাডার প্রসেসিং সিস্টেম এবং তদসহ ভূমিতে ও আকাশে ব্যবহার্য ট্যাকটিক্যাল রাডার দ্বারা সুসজ্জিত।
উল্লেখ্য, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের অভ্যন্তরে তৈরি প্রথম ডেস্ট্রয়ার ‘জামারান’ পারস্য উপসাগরস্থ স্বীয় নৌবাহিনীতে যোগ করে। ১ হাজার ৪২০ টন ওযনের এ ডেস্ট্রয়ারটি অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যুদ্ধসরঞ্জামে সুসজ্জিত। ঘণ্টায় ৩০ নটিক্যাল মাইল গতিসম্পন্ন এ ডেস্ট্রয়ারটিতে একটি হেলিপ্যাড্ রয়েছে।

ইরানী মহিলা বিজ্ঞানী ‘ভবিষ্যৎ আইনস্টাইন’ হিসিবে চিহ্নিত (মেহের ১৪)
ইরানী মহিলা বিজ্ঞানী যাহ্রা হাক্কানী বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণকারী আইটি ইঞ্জিন ‘র্স্প্যাহো’ কর্তৃক অন্যতম ‘ভবিষ্যৎ আইনস্টাইন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ‘র্স্প্যাহো’ হচ্ছে বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণকারী এমন একটি আইটি ইঞ্জিন যা প্রিপ্যারেটরি ম্যাচিন লার্নিং অ্যালগোরিদ্ম্ ব্যবহার করে পারসোনালাইয্ড্ সায়েন্টিফিক নিউজ-ফীড সরবরাহ করে এবং স্বীয় বিশ্লেষণকৃত তথ্যাদির ভিত্তিতে মতামত ব্যক্ত করে। র্স্প্যাহো প্রতিদিন দশ হাজারেরও বেশি তথ্যসূত্র পরীক্ষা করে ড্যাটাবেস-এ ১৩ লাখেরও বেশি ডকুমেন্ট বিন্যস্ত করেÑ যার মধ্যে থাকে অধুনাতম প্রবন্ধ-নিবন্ধসমূহ, প্যাটেন্ট, ভিডিও ইত্যাদি। ব্রিটিশ লাইব্রেরির সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে র্স্প্যাহো খ্রিস্টীয় ১৮৯০-এর দশক থেকে শুরু করে তদপরবর্তীকালীন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করেছে। এটি আইনস্টাইনের রচনাবলি বিশ্লেষণ করার পর আর যাঁরা অনুরূপ বিষয়াদি নিয়ে লিখেছেন তাঁদেরকে খুঁজে বের করেছে।
২৭ বছর বয়স্কা যাহ্রা হাক্কানী দম্গ¦ন্ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উক্ত অনুসন্ধানের ফলে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, বিশ্বে যে স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির আইনস্টাইনের সাথে সর্বাধিক মিল রয়েছে তিনি তাঁদের অন্যতম।
যাহ্রা হাক্কানী যে সব বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন সেগুলোর অন্যতম হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণ, তার বিবর্তন এবং মহাবিশ্ব তত্ত্ব (পড়ংসড়ষড়মু)। তিনি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত গ্রাভিটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং এতে তিনি তাঁর গধঃঃবৎ সধু গধঃঃবৎ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
যাঁরা আইনস্টাইন কর্তৃক লিখিত বিষয়াদির অনুরূপ বিষয়াদি নিয়ে লিখেছেন তাঁদের মধ্যে যাহ্রা হাক্কানী ছাড়াও আরো যাঁদেরকে ‘সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আইনস্টাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁরা হলেন : নিউ হ্যাভেন্ ইউনিভিার্সিটির তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী নিকোদেন্ পোপ্লাভস্কি, জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল্ অব্জারভেটরির প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হাজিমে সোতানী, টোকিও ইউনিভার্সিটি অব্ সায়েন্স্-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শিন্জি সুজিকাওয়া ও ইউনিভার্সিটি অব্ ক্যাম্ব্রিজ্-এর জে. ব্রিয়ান পিট্স্।

ইরানী আবিষ্কারক কর্তৃক বিমানের হাল্কা পাখা তৈরি (মেহের ১৫)
ইরানী আবিষ্কারক কভেহ্ কোলার্হ্গা আযারী বিমানের জন্য নতুন ধরনের পাখা তৈরি করেছেন যা মূল মেক্যানিক্যাল ও ডায়নামিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বজায় রাখার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত সহজ ও হাল্কা।
কভেহ্ কোলার্হ্গা আযারী বার্তা সংস্থা মেহ্র্ নিউজ্-কে বলেন, বর্তমানে বিমানে যে সব পাখা ব্যবহার করা হয় সেগুলো স্টীলের তৈরি যার ওজন অনেক বেশি। কিন্তু তার বিপরীতে তাঁর উদ্ভাবিত এ নতুন ধরনের পাখার ওজন যেমন অপেক্ষাকৃত কম, তেমনি তা তৈরিতে ব্যয়ও হবে অপেক্ষাকৃত কম।
কভেহ্ কোলার্হ্গা আযারী আরো বলেন, এ নতুন পাখা তৈরিতে পলিমার ও ধাতবের কম্পোজিট ব্যবহার করা হয়েছে যা স্টীল ও অ্যালুমিনিয়ামের মতোই টেকসই। তিনি বলেন, এ নতুন পাখার মেক্যানিক্যাল শক্তি যে কোনো ধাতব উপাদানে তৈরি পাখার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি। অন্যদিকে ক্রুচালিত ও চালকবিহীন উভয় ধরনের বিমানেই এ ধরনের পাখা ব্যবহার করা যাবে।
তিনি আরো জানান যে, তাঁর নির্মিত পাখা বিমানের অতিরিক্ত ভাইব্রেশনেও ঠিক মতো কাজ করবে, অন্যদিকে তা বিমানের অভ্যন্তরে ভাইব্রেশন রোধ করবে।

ইরানী গবেষক কর্তৃক এইচআইভি নির্ণয়ক ফোন অ্যাপ্লিকেশন উদ্ভাবন (মেহের ১৬)
আমেরিকার হার্ভার্ডে কর্মরত একজন ইরানী গবেষকের নেতৃত্বে একদল গবেষক স্মার্ট ফোনের জন্য এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন উদ্ভাবন করেছেন যার সাহায্যে এইচআইভি সহ রক্তের যে কোনো ব্যাকটেরিয়া ও রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
ব্রিগ্হামের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের পরিচালনাধীন মহিলা হাসপাতালের মেডিসিন ইন্স্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ইরানী নাগরিক ড. হাদী শাফিয়ী ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভিার্সিটি ও স্ট্যান্ফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের সাথে যৌথভাবে গবেষণা চালিয়ে উক্ত অ্যাপ্লিকেশনটি উদ্ভাবন করেন। এ সম্পর্কে তাঁরা ন্যাচার সায়েন্টিফিক্ রিপোর্টস্ সাময়িকীতে লিখিত একটি প্রবন্ধে বিস্তারিত উল্লেখ করেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম : “চধঢ়বৎ ধহফ ঋষবীরনষব ঝঁনংঃৎধঃবং ধং গধঃবৎরধষং ভড়ৎ ইরড়ংবহংরহম চষধঃভড়ৎসং ঃড় উবঃবপঃ গঁষঃরঢ়ষব ইরড়ঃধৎমবঃং”
এ প্রবন্ধে তাঁরা উল্লেখ করেন যে, তাঁরা একটি নতুন বায়োসেন্সিং প্লাট্ফর্ম উদ্ভাবন করেছেন যার সাহায্যে এইচআইভি, ই-কোলি, স্ট্যাফাইলোকোক্কাস্ অরিয়াস্ ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত করা যাবে। কেবল আঙ্গুলের ডগা থেকে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে এ বায়োসেন্সিং প্লাট্ফর্মে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরের সমস্ত রক্তে ও প্লাসমায় বিদ্যমান চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট স্পেসিফিটি ও সেন্সিটিভিটি পাওয়া যাবে এবং প্যাথোজেন্স্ চিহ্নিত করা যাবে।
এ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে তাঁরা একটি স্মার্ট ফোন অ্যাপ্লিকেশনও উদ্ভাবন করেছেন যা একটি সেলফোনের ইমেজ ব্যবহার করে রক্তের ভিতরকার ব্যাকটেরিয়া ও রোগব্যাধি নির্ণয় করতে সক্ষম হবে এবং তা বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকেই নেয়া হোক না কেন খুব সহজেই বিশ্লেষণ করা যাবে।
কাগজ ও ফ্লেক্সিব্ল্ সাব্স্ট্রেট্স-কে বায়োসেন্সরের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে হাদী শাফিয়ী ও তাঁর সহকর্মিগণ রোগব্যাধি নির্ণয় এবং পয়েন্ট-অব্-কেয়ার সেটিংস্-এর সাহায্যে তার চিকিৎসা নির্দেশের জন্য একটি নতুন দ্রুত কর্মক্ষম ও কম ব্যয়সাপেক্ষ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা এটা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, কীভাবে তাঁদের উদ্ভাবিত নতুন প্লাটফর্মসমূহ এন্টিবডি ব্যবহার করে বহুমুখী বায়োলজিক্যাল মিডিয়ামসমূহ থেকে নজিরবিহীনভাবে বহুমুখী বায়োটার্গেটকে সেলেক্টিভ্ভাবে, সেন্সিটিভ্ভাবে ও পুনঃপুনঃ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে ও চিহ্নিত করতে সক্ষম।
উক্ত প্লাটফর্ম কর্তৃক চিহ্নিত ফলাফলসমূহ সেলফোন ও সেগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রত্যন্ত প্রান্তে প্রেরণ করা সম্ভব হবে।
ড. শাফিয়ী ও তাঁর সহকর্মিগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁদের উদ্ভাবিত এ নতুন প্রযুক্তিটি অচিরেই সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে।

ইরানী গবেষক কর্তৃক থ্রি-ডি ইমেজিং-এর বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধন (মেহের ১৭)
ইরানী ইলেক্ট্রিক্যাল্ ইঞ্জিনিয়ার আলী হাজীমীরী-র অধীনে কর্মরত ক্যাল্-টেক্ গবেষকগণ একটি নতুন ন্যানোফোটোনিক্ কোহেরেন্ট্ ইমের্জা (এনসিআই) নিয়ে কাজ করছেন যা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদেরকে থ্রি-ডি ইমেজ স্ক্যান্ করার সুবিধা দেবে।
উল্লেখ্য, একটি থ্রি-ডি প্রিন্টারের সাহায্যে কোনো কিছুর হুবহু কপি করার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে থ্রি-ডি ক্যামেরার সাহায্যে সংশ্লিষ্ট বস্তুটির উচ্চ রেজ্যুলেশন স্ক্যানিং করা যা বস্তুটির উচ্চতা, প্রশস্ততা ও গভীরতাকে হুবহু ও নির্ভুলভাবে পরিমাপ করবে। বিগত কয়েক দশক যাবৎ এ ধরনের থ্রি-ডি ইমেজিং-এর কাজ চলে এলেও এ সর্বাধিক সংবেদনশীল সিস্টেমটি সাধারণত অনেক বড় এবং কন্জ্যুর্মা অ্যাপ্লিকেশনে তার ব্যবহার খুবই ব্যয়বহুল। তবে ইরানী ইলেক্ট্রিক্যাল্ ইঞ্জিনিয়ার আলী হাজীমীরী ও তাঁর অধীনে কর্মরত ক্যাল্-টেক্ গবেষকগণ যে নতুন ন্যানোফোটোনিক্ কোহেরেন্ট্ ইমের্জা (এনসিআই) তৈরি করেছেন তা যেমন সস্তা, তেমনি অত্যন্ত উঁচু মানে নিখুঁতভাবে কর্ম সম্পাদনকারী এবং এ ডিভাইসটি আবিষ্কৃত হবার ফলে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ক্রমান্বয়েই অধিকতর সাশ্রয়ী হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ নতুন ন্যানোফোটোনিক্ কোহেরেন্ট্ ইমের্জা (এনসিআই) লাইট্ ডিটেক্শন্ অ্যান্ড্ রেঞ্জিং (এলআইডিএর্আ) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আর এলআইডিএর্আ-এর সাহায্যে একটি বস্তুর ওপর লেজার রশ্মি প্রক্ষেপণ করে বস্তুটি থেকে প্রতিফলিত আলো বিশ্লেষণ করা হয়। অতি ক্ষুদ্রাকৃতিক এন্সিআই চিপ্-টি এক বর্গ মিলিমিটারেরও কম আয়তন পরিমাপ করতে পারে। ড্যাটা বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতে এ সের্ন্সটি যে কোনো বস্তুর উচ্চতা, প্রশস্ততা ও গভীরতা সংক্রান্ত তথ্য শটের প্রতি পিক্সেলের জন্য সরবরাহ করতে সক্ষম।
জনাব হাজীমীরী বলেন, এ নতুন চিপ-বেস্ড্ ইমেজারটি আয়তনে যেমন খুবই ছোট তেমনি এটির মান খুবই উঁচু। এর ফলে এটির ব্যবহার খুবই কম ব্যয়সাপেক্ষ। ফলে হাজার হাজার নতুন ব্যবহারকারী তাঁদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে, যেমন : স্মার্টফোনে, এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

ইরানী নাটকের আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ (মেহের ২০)
ইরানী পরিচালিকা র্নাগেস্ অবির্য়া পরিচালিত শর্ট ফিল্ম ড্রামা ঞযরহমং অৎব ঈষড়ংবৎ ঞযধহ ঞযবু অঢ়ঢ়বধৎ রহ ঃযব গরৎৎড়ৎ সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। অতঃপর এটি ইউরোপে অনুষ্ঠিতব্য আরো একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে।
এ ড্রামা চলচ্চিত্রটি গত ১৩ই থেকে ২৭শে মার্চ প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৩৭তম ঞযব ঈৎল্কঃবরষ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ডড়সবহ’ং ঋরষস ঋবংঃরাধষ (ঋবংঃরাধষ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ফব ঋরষসং ফব ঋবসসবং)-এ অংশগ্রহণ করে দু’টি পুরস্কার লাভ করেছে। উল্লেখ্য, মহিলা চলচ্চিত্র পরিচালকদের প্রতিভাকে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যে জ্যাকি বুয়েট্ কর্তৃক ১৯৭৮ সালে এ উৎসবটি প্রবর্তিত হয়।
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০১৫ ১৬:৪২
(৫) ‘ইরানের আলোচকরা পাশ্চাত্যের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে মাথা নত করবে না’

২০ মার্চ (রেডিও তেহরান): ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মাদ আলি মোভাহেদি কেরমানি বলেছে, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে চলমান পরমাণু আলোচনায় ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক। তাই পাশ্চাত্যেরও উচিত তেহরানের যৌক্তিক অবস্থানকে মেনে নেয়া। আজ রাজধানী তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় এসব কথা বলেন তিনি।
পরমাণু আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এটা মেনে নিয়েছে যে ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ কেরমানি আরো বলেছেন, পরমাণু ইস্যুটি তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির মিথ্যা অজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামী বি-বী সরকারের প্রতি বিদ্বেষের কারণেই পাশ্চাত্য নানা অজুহাতে দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
জুমার নামাজের খতিব বলেন, ইরানের পরমাণু আলোচক দল কখনোই পাশ্চাত্যের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে মাথা নত করবে না এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখবে। আয়াতুল্লাহ কেরমানি আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ইরাকের জনগণ ও সেনাবাহিনীর সফলতার কথা তুল ধরে বলেছেন, বিদেশিদের অনুচর এসব সন্ত্রাসীরা পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি। তিনি সিরিয়ায় পাশ্চাত্যের নীতি বা কৌশল ব্যর্থ হওয়ার ব্যাপারে মার্কিন কোনো কোনো কর্মকর্তার স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এরপরও তারা এ থেকে শিক্ষা নেয়নি এবং এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
তেহরানের জুমার নামাজের খতিব আরো বলেন, আমেরিকার প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের ক্ষোভ ও ঘৃণা ক্রমেই বাড়ছে। তাই আধিপত্যকামী সরকারগুলোর এটা জেনে রাখা উচিত আগ্রাসন, জুলুম-নির্যাতন ও রক্তপাত ঘটিয়ে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে তারা এ অঞ্চলে লুটতরাজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে না। #
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০১৫ ১৬:০৮
(৮) একনজরে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর যৌথ বিবৃতি
মোহাম্মদ জাওয়াদ-ফেডেরিকা মোগেরিনি
৩ এপ্রিল (রেডিও তেহরান): ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তির রূপরেখায় তেহরানের পরমাণু তৎপরতার প্রতি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। রূপরেখা অনুযায়ী- নাতাঞ্জ, ফোরদো, ইস্পাহান এবং আরাকসহ ইরানের কোনো পরমাণু স্থাপনা বা পরমাণু তৎপরতা বন্ধ বা স্থগিত করা হবে না। বরং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরান ও ছয়জাতিগোষ্ঠীর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরমাণু সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এতে, নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় পাঁচ হাজারের বেশি সেন্টিফিউজ ৩.৬৭ মাত্রা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরির তৎপরতা অব্যাহত রাখবে ইরান। এ কেন্দ্রের বাড়তি যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সংগ্রহ করবে। এর বদলে ইরানকে বরাদ্দকৃত মাত্রায় সৃমদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।
ইরানের বর্তমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের বিনিময়ে পরমাণু জ্বালানি চক্র তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান উৎপাদন করতে দেয়া হবে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইউরেনিয়াম বদলে নিতে পারবে ইরান। এ ছাড়া, এতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চক্রের শিল্পখাতে উৎপাদনও নিশ্চিত করা হয়।
সমঝোতা চুক্তিতে বলা হয়, ইরান অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখবে। ১০ বছরের জন্য আইআর-৪, আইআর-৫, আইআর-৬ এবং আইআর-৮ যন্ত্র নিয়ে এ গবেষণা অব্যাহত রাখা হবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফোরদো পরমাণু স্থাপনাকে পরমাণু বিজ্ঞান ও পদার্থবিদ্যার গবেষণাগারে পরিণত করা হবে। এ কেন্দ্রে এক হাজার সেন্টিফিউজ রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। ফোরদো’র দু’সারি সেন্ট্রিফিউজ তৎপরতা বজায় রাখবে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সহায়তায় ফোরদোর অর্ধেককে অত্যাধুনিক পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া, এ কেন্দ্রে স্থিতিশীল আইসোটোপ উৎপাদন করা হবে। শিল্প, কৃষি এবং ওষুধখাতে এ আইসোটোপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এ ছাড়া, আরাকের ভারি পানির পরমাণু চুল্লিও থাকবে। তবে তার আধুনিকায়ন এবং নতুন করে নকশা করা হবে। নতুন করে নকশা প্রণয়ন করার মাধ্যমে এ কেন্দ্রে কর্মতৎপরতা বাড়বে তবে -ুটোনিয়াম উৎপাদনের মাত্রা কমবে।
কিছু সম্পূরক প্রোটোকলও বাস্তবায়িত করবে ইরান। এটি একান্তভাবেই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই করবে ইরান। ইরানের সরকার ও সংসদ সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রোটোকল বাস্তাবায়িত করবে।
সমঝোতায় বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সকল ইশতেহার প্রত্যাহার এবং আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধগুলো তুলে নেওয়া হবে। পাশাপাশি আর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে না।
সুইজারল্যান্ডের লোজেন শহরে টানা আট দিনব্যাপী আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
পরে এক সংসবাদ সম্মেলেন যৌথ বিবৃতি পাঠ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।#