রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশী সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: মে ২১, ২০১৭ 

নওরোজ উপলক্ষে প্রতিবেশী দেশ সমূহের জনগণের প্রতি প্রেসিডেন্ট রুহানির অভিনন্দন
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. হাসান রুহানি ইরানি বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন নওরোজ উপলক্ষে ইরানি জনগণ এবং আফগানিস্তান, আযারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তিান, কাজাকিস্তান, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও আর্মেনিয়ার ফারসিভাষী জাতি সমূহের প্রতি এবং সেই সাথে ভারতের ফারসিভাষী জনগণের প্রতিও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি ফারসিভাষী দেশ সমূহের প্রেসিডেন্টগণের উদ্দেশে প্রেরিত এক বাণীতে শান্তি ও ঐক্যকে নওরোজ উদ্যাপনকারী জনগণের সুদৃঢ় লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর এ বাণীতে বলেন, অন্য দেশ সমূহকে সংঘাতের পরিবর্তে আন্তঃক্রিয়ার জন্য আহ্বান জানানোর লক্ষ্যে আজকের দিনে ইতিপূর্বেকার অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বিশ্বের জন্য প্রেম-ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা ও আন্তরিকতার আলোকে আশাবাদের প্রয়োজন অনেক বেশি।
তিনি আরো বলেন, পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ার আলোকে আশা, শান্তি ও ঐক্যের আশ্রয় নিয়ে জাতিসমূহের পক্ষে আজ গোষ্ঠীবাদী চরমপন্থা থেকে উৎসারিত সন্ত্রাসবাদকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তাঁর বাণীতে নওরোজ উৎসব উদ্যাপনকারী জাতি সমূহের জন্য নবসূচিত ইরানি বছরটি সুখ, সমৃদ্ধি ও আনন্দে পরিপূর্ণ একটি বছর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক দিবস নওরোজ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের অভিনন্দন
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস্ ইরানি নতুন বছরের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক দিবস নওরোজ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বিশ্ববাসীর প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বাণীতে নওরোযকে বিশ্ববাসীর অভিন্ন বিষয়াদির অন্যতম হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি নওরোজ উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে প্রদত্ত এ বাণীতে বলেন, যে এক ডজন দেশ নওরোজ উদ্যাপন করছে এখানে আমাদেরকে একত্রিত করার জন্য সেসব দেশের রাষ্ট্রদূতগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতগণের উদ্দেশে বলেন, স্মরণাতীত কাল থেকে চলে আসা এ উদ্যাপনীতে জাতিসংঘকে অংশীদার হবার সুযোগ দানের জন্য আমি আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মি. আন্তোনিও গুতেরেস্ আরো বলেন, নওরোজ হচ্ছে একটি নতুন সূচনা। এটি হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা-সাক্ষাতের একটি সুযোগ। আর জাতিসংঘ পরিবার এ কারণে নওরোজ উৎসব উদ্যাপন করে যে, এ ছুটির দিনটিতে সারা বিশ্বের মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নওরোজ আমাদেরকে এটাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একদিকে যেমন আমাদের সকলের মধ্যে অভিন্ন বিষয়াদি রয়েছে তেমনি আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে সমৃদ্ধি রয়েছে।
স্মর্তব্য, হিজরি সৌরবর্ষ ইরানি নতুন বছরের প্রথম দিন নওরোজ একই সাথে বসন্ত ঋতুর প্রথম দিনও বটে। এ দিনটি প্রধানত ইরান, আফগানিস্তান, আযারবাইজান, ভারত, কিরগিজিস্তিান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও উযবেকিস্তানে ব্যাপক ধুমধামের সাথে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ২১শে মার্চ আন্তর্জাতিক দিবস নওরোজকে ইউনেস্কো কর্তৃক মানবজাতির অবিস্মরণীয় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ইরান-রাশিয়া : রুহানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় রাশিয়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ক্রেমলিনে গত ২৮ মার্চ ২০১৭ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরান ও রাশিয়ার স¤পর্কের লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বলেও জানান তিনি।
তেহরান-মস্কো সম্পর্ক কখনোই তৃতীয় কোনো দেশের স্বার্থবিরোধী নয় বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর ইরান গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার¯পরিক স¤পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক উন্নয়নের জন্য দুই দেশই গত সাড়ে তিন বছর ধরে পদক্ষেপ নিয়েছে।
পার¯পারিক সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নতুন এ পর্যায়ে ইরান এবং রাশিয়া টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি স¤পর্কের বিষয়ে কথা বলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, ইরান সুপ্রতিবেশী এবং রাশিয়ার আস্থাভাজন অংশীদার। মস্কো এবং তেহরান বেশ কার্যকর ভাবে সব ক্ষেত্রে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে বৈশ্বিক ইস্যু এবং খুবই মারাত্মক আন্তর্জাতিক সমস্যা নিরসনের বিষয়ও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে অর্থনৈতিক খাতে সাফল্য অর্জন করেছে তা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ২০১৬ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ পূর্বের বছরের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে ইরান এবং রাশিয়া সহযোগিতা বিষয়ক ১৪ দলিল সই করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈচারিক, আইনি, বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এ সব দলিল সই করা হয়।

ক্রীড়ার ওপর প্রেসিডেন্ট রুহানির গুরুত্ব আরোপ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড হাসান রুহানি ক্রীড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি ক্রীড়ার প্রশংসা করে বলেন, ক্রীড়ায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমূহে অংশগ্রহণ হচ্ছে জাতীয় গৌরবের মানদ- সমূহের অন্যতম।
প্রেসিডেন্ট রুহানি ২০১৬ রিও অলিম্পিকস ও প্যারালিম্পিকস্-এ অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, ক্রীড়া কোনো ব্যক্তি, গোত্র বা ধর্ম বিশেষের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়, বরং এ ক্ষেত্রে ইরানিদের বিজয়ের দ্বারা সকল ইরানিই প্রভাবিত হন। তিনি বলেন যে, তাঁর সরকার ক্রীড়াকে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি জোর দিয়ে বলেন, একটি জাতির জন্য অগ্রগতির পথে অভিযাত্রার ও এক গুচ্ছ আশা-আকাক্সক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। আর আপনাদের শিল্পকলা, চলচ্চিত্র, যন্ত্রসংগীত ও ক্রীড়া যখন বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে তখন তা এ আশা-আকাক্সক্ষাগুচ্ছেরই অংশ বৈ নয়।
তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানি নারীদের অগ্রগতি এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্যের অধিকারী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানি নারিগণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ক্রীড়া ইভেন্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অধিকারী হয়েছেন অর্থাৎ নারীদের ক্রীড়া অধিকতর সাফল্যের অধিকারী হওয়ার লক্ষ্যে সঠিক পথের সন্ধান লাভ করেছে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানি সংস্কৃতিতে নারী অ্যাথলেটগণ অতীত কাল থেকেই একই সাথে ক্রীড়া উদ্যোক্তা হিসেবে এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে শক্তি ও সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, ক্রীড়ার সাথে ঐক্যও অর্জিত হয় এবং এটি আমাদের জন্য জাতীয় গৌরবের ও জাতীয় ঐক্যের একটি উৎস বটে। তিনি বলেন, ক্রীড়া আমাদের জন্য ক্রীড়া পর্যটন নিয়ে আসে এবং তা ইরান-ভীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম, সেই সাথে তা বিশ্বের সাথে সংলাপ ও আন্তঃক্রিয়া তৈরি করে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. রুহানি নারীদেরকে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে বলেন, নারীদের গৃহকোণে আবদ্ধ হয়ে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের মেয়েরা অলিম্পিকসে ও অন্যান্য ইভেন্টে চমৎকার কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে এবং স্বীয় ইসলামি পরিচিতি ও সংস্কৃতিকে সমুন্নত রেখেই পদক নিয়ে আসছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে দেশের জনগণের জন্য প্রশংসা অর্জনকারী নারী অ্যাথলেটদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং তারা ক্রীড়া ক্ষেত্রে যথাযথ মনোযোগ ও স্বীকৃতির অধিকারী হবে।

তিনটি পরমাণু প্রকল্প উন্মোচন করল ইরান
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা বা এইওআই’র প্রধান আলী আকবর সালেহি বলেন, ৯ এপ্রিল ইরানের তিন পরমাণু প্রকল্প উন্মোচন করা হয়েছে। পরমাণু ক্ষেত্রে ইরান ৫০ শতাংশ বেশি সফলতা অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
এ তিন প্রকল্প উন্মোচনের অনুষ্ঠান ইরানের গাজভিন, আলবোর্জ এবং ইয়াজদ প্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়। ৯ এপ্রিল পরমাণু প্রযুক্তি দিবস পালন করে ইরান এবং এ উপলক্ষে এ তিন প্রকল্প উন্মোচন করা হয়। মার্চে শেষ হওয়া গত ফারসি বছরে পরমাণু ক্ষেত্রে ইরানের সফলতা তুলে ধরে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
তিনি আরো জানান, পূর্বেকার বছরের তুলনায় গত বছর ইরান পরমাণু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বেশি সফলতা অর্জন করেছে।

সিরিয়ায় ইরানের ভূমিকাকে স্বাগত জানাল জি-সেভেন
গম ১০ ও ১১ এপ্রিল ২০১৭ শিল্পোন্নত সাত জাতিগোষ্ঠী বা ‘জি-সেভেন’-এর সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ইরান যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইতালির লুক্কা শহরে জি-সেভেনের সম্মেলন থেকে ইরানের পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংকট সমাধানে ইরানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়।
সেই সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং এসব দেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ বিরোধী যুদ্ধে ইরানের আরো সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এদিকে লুক্কা শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরো কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্রিটেনের দেয়া প্রস্তাব জি-সেভেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নাকচ করে দিয়েছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের কাছ থেকে রাশিয়াকে দূরে সরিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে ব্রিটেন এই প্রস্তাব দিয়েছিল।
কিন্তু শিল্পোন্নত সাত জাতিগোষ্ঠীর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়াকে কোণঠাসা করার পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে সংলাপের ওপরেই বেশি জোর দিয়েছেন।

ইরান ও পাকিস্তান ব্যাংকিং লেনদেন চুক্তি
ইরান ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং লেনদেন সহজ করতে দুটি দেশ গত ১৪ এপ্রিল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পরমাণু চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও এখনও দেশটির সঙ্গে অনেক দেশের ব্যাংকিং লেনদেন সহজ হয়ে ওঠে নি। বিষয়টি সহজ করতেই দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এধরনের চুক্তি করল।
চুক্তির ফলে ইরান ও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে লেনদেনকে সহজ করে তুলতে তদারকি ও সহায়তা করবে। এরফলে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে তেহরান ও ইসলামাবাদ। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দুটি দেশ নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। দুটি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের জন্য ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি সম্পাদন
চিকিৎসাসেবা প্রদানের উপযোগী হেলিকপ্টার (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) উৎপাদনের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও রুশ ফেডারেশনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইরানিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপ্মেন্ট অ্যান্ড্ রিনোভেশন অর্গানাইজেশন (এইচডিআরও) এবং রাশিয়ান হেলিকর্প্টাস্ কোম্পানি (র্আএইচ্সি)-এর মধ্যকার এ চুক্তিতে এইচডিআরও-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানসূর মোয়াযযামী ও র্আএইচ্সি-র প্রধান আন্দ্রে বোগিন্স্কি স্বাক্ষর করেন।
গত ২৭ মার্চ (২০১৭) ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে দু’দেশের মধ্যে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতি উৎপাদন সংক্রান্ত সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া একই দিনে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে রেল র্কা উৎপাদন সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অন্যদিকে রশিয়ায় নিয়োজিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব মেহ্দী সানায়ী জানিয়েছেন যে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, ২০১৬ সালে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় শতকরা ৮০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান ও হাঙ্গেরীর কৃষি ক্ষেত্রে কারিগরি সহযোগিতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট সোরেনা সাত্তারী বলেছেন, ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে কৃষি কারিগরিসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। তিনি হাঙ্গেরীর ন্যাশনাল রিসার্চ, ডেভেলপন্টে অ্যান্ড্ ইনোভেশন অফিস-এর প্রেসিডেন্ট জোযেফ্ পলিঙ্কাস্-এর সাথে আলোচনাকালে এ কথা বলেন।
সোরেনা সাত্তারী উল্লেখ করেন যে, ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিরাট সম্ভাবনা নিহিত রয়েছেÑ যা দুদেশের মধ্যে কারিগরি ক্ষেত্রে বিরাট সমন্বয় ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
সোরেনা সাত্তারী আরো জানান যে, ইরান ও হাঙ্গেরীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিরাট ক্ষেত্র রয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রের মধ্যে পানি, মরু, কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ইরানের সাথে পর্যটন সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে
দক্ষিণ আফ্রিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে পর্যটন সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে। দেশটির পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী ডেরেক হ্যানেকম্ বলেন যে, তাঁর দেশ ইরানে আরো বেশি পর্যটক প্রেরণের পরিকল্পনা করেছে। তিনি সম্প্রতি ১০ম তেহরান আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকালে সাংবাদিকদের নিকট এ কথা বলেন।
তিনি বলেন যে, ইরান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান দিক হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইরানের মধ্যে শিল্প ক্ষেত্রে, বিশেষ করে পর্যটনের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলা।
মি. ডেরেক হ্যানেকম্ জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর দেশ ইরানে আরো বেশি সংখ্যক পর্যটক প্রেরণ করতে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আগ্রহী ইরানি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ইচ্ছুক।
দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী আরো বলেন যে, তেহরান ও কেপ্ টাউনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু করার জন্য পুরেপুারি ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে।

তেহরানে ৩৪তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশসহ ৮৩টি দেশের অংশগ্রহণে ইরানের রাজধানী তেহরানে ১৯ এপ্রিল ২০১৭ থেকে শুরু হয়েছে ৩৪তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। ইরানের স্টেট এনডোমেন্ট অ্যান্ড চ্যারিটি অ্যাফেয়ার্স অর্গানাইজেশন পরিচালক হোজ্জাতুল ইসলাম আলি মোহাম্মদী গত ১৬ এপ্রিল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, তেহরানের ইমাম খোমেইনী মোসাল্লায় আয়োজিত এ কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৮৩টি দেশের ২৭৬ জন ক্বারী অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে ২৩ এপ্রিল থেকে আরেকটি কোরআন তেলাওয়াত সম্মেলন শুরু হয় যেখানে ৫৩ জন আলেম অংশ নেন। ২৪ এপ্রিল কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে কোমে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার জুরি প্যানেলে ছিলেন ২৪ জন ইরানি ও ১৬ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ আলেম।

ভারতে ৭শ’ বছরের পুরোনো দিওয়ান ই হাফিজের পা-ুলিপি
ভারতের কোলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটির এক দল গবেষক ইরানের বিখ্যাত কবি হাফিজের ৭শ’ বছরের পুরোনো ‘দিওয়ান-ই হাফিজ’-এর একটি পা-ুলিপি খুঁজে পেয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত পা-ুলিপিটি পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলের, যিনি ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ সাল পর্যন্ত ভারত শাসন করেছিলেন। পা-ুলিপিতে কবি হাফিজের একটি অপ্রকাশিত গজল রয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের স্বাক্ষর রয়েছে এতে। রয়েছে স্বর্ণের কারুকাজ।
ভারতের গবেষকরা বলছেন, ইরানের কবি হাফিজ মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলের অনেক আগেই বিখ্যাত ছিলেন এবং তাঁর কবিতার পা-ুলিপি মুঘল সম্রাটের আমলেও যে ভারতে সমাদৃত ছিল, উদ্ধারকৃত পা-ুলিপিটি তারই স্বাক্ষর বহন করছে। অপ্রকাশিত গজলের একটি লাইনে ফারসি ভাষায় বলা হয়েছে, ‘বেহাম দেল্লাহ কে বজাম দিদানে রুয়াত মোয়াসসের শোদ’ অর্থাৎ ‘আবারো তোমার চেহারা মোবারকের দর্শনে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি, খোদা তোমায় ধন্যবাদ।’
কোলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির যাদুঘরে উদ্ধারকৃত কবি হাফিজের স্বহস্তে লিখিত এ পা-ুলিপিটি অনেকে দেখতে আসছেন। এধরনের একটি পা-ুলিপি ভারতের পাটনায় খোদাবখশ লাইব্রেরিতে রক্ষিত রয়েছে বলে জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হুসেন জানান।
এশিয়াটিক সোসাইটির ইতিহাসবিদ রামকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ফারসি প-িতরা এ পা-ুলিপিটি দেখে মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি অধ্যাপক আহমাদ কারিমিহাককাক বলেন, কবি হাফিজের স্বহস্তে লেখা পা-ুলিপিতে সম্রাট শাহজাহানের স্বাক্ষর পা-ুলিপিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। কবি হাফিজ তার জীবদ্দশায় অন্তত ৫শ’ গজল নিজের হাতে লিখে গেছেন। সর্বশেষ উদ্ধারকৃত পা-ুলিপিতে তাঁর হাতে লেখা গজলের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তানে পর্যটকদের ঢল
ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তানে পর্যটক বেড়ে গেছে। এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে সেখানে ৬ লাখ ৯৩ হাজার পর্যটক প্লেন ও ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন। বন্দর শহর চবাহার,মাটির আগ্নেগিরি, ঐতিহাসিক প্রাসাদ, বাগান সব মিলিয়ে সিস্তান-বালুচিস্তান ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে টানে। এজন্যই দেশি ও বিদেশি পর্যটক মিলে তাদের ভ্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ ভাগেরও বেশি। হিসেবে ২ লাখ পর্যটক সেখানে গেলে তাতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১ শতাংশ।
পর্যটকদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সড়কের ধারে বিশ্রামাগারের সংখ্যঅ বৃদ্ধি করা হয়েছে ১১টি থেকে ২৫টিতে। ১৯টি
মোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে। চারটি বিমান বন্দর থাকলেও তৈরি হচ্ছে আরেকটি বিমান বন্দর। ওমান সাগরের উপকূলে চবাহারের ভৌগোলিক অবস্থান অসাধারণ। রয়েছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। ফ্লামিঙ্গো, সারস ও নানা সামুদ্রিক পাখ-পাখালির ঝাঁক সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জাতিসংঘ দপ্তরে ইরানের চার মনীষীর ভাস্কর্য স্থাপন
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জাতিসংঘ দফতরের সামনে ইরানের চার জন কবি ও মনীষীর ভাস্কর্য প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
ওই চার জন হচ্ছেন, আবু আলী সিনা, ওমর খৈয়াম, আবু রেইহান বিরুনি এবং যাকারিয়া রাজি। জাতিসংঘ অনেক আগে থেকেই ইরানের কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আসছে। অনেক আগে থেকেই ইরানের বিখ্যাত কবি শেখ সাদী শিরাযির কবিতা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ দপ্তরের সদর দরজায় শোভা পাচ্ছে।

প্যারিস চিত্র প্রদর্শনীতে ইরানের যাযাবর
প্যারিসে চিত্র প্রদর্শনীতে ইরানের যাযাবরদের জীবনযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন ছবি প্রদর্শনী দর্শকদের নজর কেড়েছে। চারদিনের এ চিত্রপ্রদর্শনী যাযাবরদের জীবন, সভ্যতা ছাড়াও বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হয়।
প্রদর্শনীটি শুরু হয় ২৮ মার্চ। প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল ‘আশায়ের’, যেখানে যাযাবরদের জীবনযাত্রার থিম নিয়েই আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনী ছাড়াও এ আয়োজনে সম্মেলন, বিতর্ক, তথ্যচিত্র উপস্থাপনা, শৈল্পিক প্রদর্শনী ও জীবন্ত উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশন।

ফনিক্স্ উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্র ‘মার্যা শরীফ’-এর সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ
সম্প্রতি মেল্বোর্নে অনুষ্ঠিত ফনিক্স্ চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করে ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা হাসান র্বাযিদেহ্র ‘মার্যা শরীফ্’ চলচ্চিত্র সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরস্কৃৃত হয়েছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ (২০১৭) পর্যন্ত এ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ইরানি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছিল অ১৫৭, ঊহঃৎ’ধপঃব, ঐড়সব এবং খরশব ধ ইধষষড়ড়হ.
‘মাযার শরীফ’ চলচ্চিত্রে ইতিপূর্বে আফগানিস্তানের মাযার শরীফ শহরস্থ ইরানি কনস্যুলেটে কর্মরত যে দশ জন ইরানি কূটনীতিক ও একজন সাংবাদিক তালেবানের হাতে নিহত হন তাঁদের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মেল্বোর্নের ফনিক্স্ চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ফিচার ফিল্ম ও তার নির্মাতাদেরকে সম্মানিত করা হয়। এ উৎসবের লক্ষ্য হচ্ছে সান্ড্যান্স, কান্ ও অন্যান্য প্রধান চলচ্চিত্র উৎসবের সম মানে একটি চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কাহিনী লেখকদেরকে উৎসাহিত করা। এ উৎসবে বিশ্বের যে কোনো দেশে নির্মিত ফিচার ফিল্ম ও শর্ট ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।

ডব্লিউআইএনডি উৎসবে আলী আত্শানী সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পুরস্কৃত
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডে অনুষ্ঠিত ডব্লিউআইএনডি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক জনাব আলী আত্শানী সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি তাঁর পরিচালিত ‘উইশ্বোন্’ চলচ্চিত্রের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ‘উইশ্বোন্’ চলচ্চিত্র এ উৎসবের সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা সম্পাদনা, সেরা সহকারী অভিনেতা ও সেরা সিনেমাটোগ্রাফি পুরস্কারের জন্যও নির্বাচিত হয়।
‘উইশ্বোন্’ চলচ্চিত্রের গল্পে একজন বহিষ্কৃত কোচ- যাঁর ইতিপূর্বে বেশ কয়েক বছর আগে একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল তাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং এ ক্ষেত্রে তিনি যে চড়াই-উৎরাই-এর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তা তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানি চলচ্চিত্র ‘উইশ্বোন্’ ইতিপূর্বে আরো অনেকগুলো পুরস্কার লাভ করে; এ সব পুরস্কারের মধ্যে তৃতীয় লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট্ ফিল্মমের্কাস্ অ্যাসোসিয়েশন ফেস্টিভ্যাল্-এ অংশগ্রহণ করে বেস্ট্ সিনেম্যাটিক ফিল্ম হিসেবে প্রাপ্ত পুরস্কার এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে অনুষ্ঠিত ৩৫তম ফাজ্র্ চলচ্চিত্র ইৎসবের র্পাস্পেক্টিভ্ সেক্শনে প্রাপ্ত পুরস্কার অন্যতম।
উল্লেখ্য, ডব্লিউআইএনডি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব গত ২১ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি (২০১৭) অনুষ্ঠিত হয়।

এশিয়ান বিচ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হলো ইরান
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বিচ সকারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান চ্যা¤িপয়ন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-২ গোলে পরাজিত করে ইরান এ গৌরব অর্জন করে। মালয়েশিয়ার উত্তর-পূর্বে বাটু বুরুক বিচে গত ১১ মার্চ ২০১৭ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের শুরুতেই আরব আমিরাতের খেলোয়াড়েরা বেশ চাপ সৃষ্টি করেন এবং ইরানি গোলপোস্টে একের পর এক হামলা চালান। তবে ইরানের গোলরক্ষক সাইয়্যেদ পেইমান হোসেইনি তা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করেন। এর পরেই ইরানি খেলোয়াড়রা ঘুরে দাঁড়ান এবং খেলায় নেতৃত্ব নিয়ে নেন। শুরুটা হয় মোসলেম মেসিগারের মাধ্যমে। তিনি প্রথম গোল করে ইরানি দলকে এগিয়ে নেন।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে হোসেইনি আবারো গোল করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানি দলের অধিনায়ক তীব্র একটি শর্ট নেন তবে তা সামান্যর জন্য লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়। অবশ্য, ইরানের খেলোয়াড়রা এখানেই থেমে থাকেন নি। আরব আমিরাত দলের বিরুদ্ধে পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে আরো একটি গোল করেন ইরানের মোহাম্মাদ আলী মোখতারি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলার শুরুতে আমিরাতের কামাল আলী সুলায়মানি গোল করার চেষ্টা করেন কিন্তু তা সফল হয় নি বরং অল্প সময়ের ব্যবধানে ইরানি খেলোয়াড়রা চতুর্থ গোল করে ব্যবধান আরো বাড়ান।
পরে ইরান আরো তিনটি গোল করে। এর জবাবে আরব আমিরাতের খেলোয়াড়রা মাত্র দুটি গোল সক্ষম হন।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্কি টুর্নামেন্টে ইরানি অ্যাথলেটদের ৬টি পদক লাভ
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত চতুর্থ গ্যাংওন্ প্রেভিন্সিয়াল্ গভর্নর কাপ কোরিয়া স্কি মাউন্টেনীয়ারিং চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্কি মাউন্টেনীয়ারগণ একটি স্বর্ণপদক সহ মোট ছয়টি পদক জয় করেছেন।
ইরানি প্রতিযোগী আবদুর রহমান ক্বায্যাক্ দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়-পর্ববতময় ও বন-জঙ্গলপূর্ণ গ্যাংওন্ এলাকায় পুরুষদের জুনিয়র গ্রুপে একক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তার প্রতিযোগীদেরকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জয় করে।
এছাড়া পুরুষদের একক রেস্ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ইরানি প্রতিযোগী আবূল ফায্ল্ সভেহী একটি ব্রোঞ্জপদক লাভ করেন। অন্যদিকে নারীদের একক রেস্ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ইরানি প্রতিযোগী তারানা রেযায়ী তাঁর দেশের জন্য আরো একটি ব্রোঞ্জপদক জয় করেন।
এ টুর্নামেন্টে ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত ভার্টিক্যাল্ রেস্ প্রতিযোগিতায় ইরানি টীমের সদস্যরা একটি রৌপ্যপদক ও দু’টি ব্রোঞ্জপদক জয় করেন।
দু’দিনব্যাপী চতুর্থ গ্যাংওন্ প্রোভিন্সিয়াল্ গভর্নর কাপ কোরিয়া স্কি মাউন্টেনীয়ারিং চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা গত ১১ মার্চ (২০১৭) শুরু হয় এবং ১২ মার্চ সমাপ্ত হয়। এতে স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাথলেটগণ ছাড়াও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, চীন, জাপান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রতিযোগিগণ অংশগ্রহণ করেন।

২০১৭ এশিয়া কাপ তীরন্দায প্রতিযোগিতায় ইরানের পুরুষ টীম রানার্স-আপ্
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত ২০১৭ এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড্ র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-২ এবং ওয়ার্লড্ গেম্স্ ২০১৭ ওরোক্লো আর্চারী কোয়ালিফিকেশন প্রতিযোগিতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সম্মিলিত পুরুষ তীরন্দায টীম রানার্স্-আপ্ হয়েছে।
ইরানের সম্মিলিত পুরুষ তীরন্দায টীম্ ফাইন্যাল রাউন্ডে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে ভারতের কাছে হেরে যায়। প্রতিযোগিতায় ভারতীয় টীম পেয়েছে ২৩১ পয়েন্ট এবং ইরানি টীম পেয়েছে ২৩০ পয়েন্ট।
এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ইরানের সম্মিলিত পুরুষ তীরন্দায টীমের সদস্যগণ ছিলেন মাজীদ গে¦ইদী, ইসমাঈল ‘আবেদী ও ওমিদ্ ত্বাহেরী। ইরানি টীম মিয়ানমার ও সিঙ্গাপুরের টীমকে হারিয়ে ভারতের সাথে প্রতিযোগিতার জন্য ফাইনালে উত্তীর্ণ হয় এবং ফাইনাল প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ্ হয়।
অন্যদিকে এ প্রতিযোগিতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মহিলা তীরন্দায টীম চতুর্থ স্থানের অধিকারী হয়।
২০১৭ এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড্ র‌্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-২ এবং ওয়ার্লড্ গেম্স্ ২০১৭ ওরোক্লো আর্চারী কোয়ালিফিকেশন প্রতিযোগিতা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে গত ১৯ মার্চ (২০১৭) শুরু হয় এবং ২৬ মার্চ সমাপ্ত হয়।

বিশ্বে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সারিতে ইরানের রয়েছে ১৩টি; বিদেশি শিক্ষার্থী ৫২ হাজার
ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করছেন ৫২ হাজার বিদেশি ছাত্র। ইসলামি এই দেশটির বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী হুসাইন স’লার অমোলি এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ৫২ হাজার বিদেশি ছাত্রের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ছাত্র ইরানের বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের আওতায় রয়েছেন; আর অবশিষ্ট বিদেশি ছাত্ররা আল মুস্তাফা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়াশুনা করছেন।
হুসাইন স’লার অমোলি আরও জানিয়েছেন, রয়টার্সের সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী ইরানের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হয়। অথচ আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী ২০১৩ সালে ইরানের কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চমানের বা উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ধরা হতো। গত বছরে অর্থাৎ ২০১৬ সালে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।
কয়েকদিন আগে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মাদ ফারহাদি বলেছিলেন, স্কুপাস ও আইএসআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিজ্ঞান গবেষণার দিক থেকে ইরানের অবস্থান বিশ্বে ১৬তম এবং এক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ও মুসলিম বিশ্বে ইরানের অবস্থান প্রথম।

স্থানীয়ভাবে তৈরি বহুমুখী নতুন হেলিকপ্টার উন্মোচন করল ইরান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান স্থানীয়ভাবে তৈরি নতুন একটি হেলিকপ্টার উন্মোচন করেছে। সামরিক এবং বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই এ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে।
গত ৭ মার্চ ২০১৭ ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকানের উপস্থিতিতে সাবা-২৪৮ হেলিকপ্টার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। ইরান’স হেলিকপ্টার রেনোভেশন অ্যান্ড লজিস্টিকস কো¤পানি বা (পিএএনএইচএ)-এর সহযোগিতায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হেলিকপ্টারের নকশা তৈরি এবং নির্মাণ করেছে।
দেহকান মাঝারি ওজনের দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট আট যাত্রী বহনে সক্ষম নতুন এ হেলিকপ্টার সকলের কাছে উন্মুক্ত করেন। তিনি বলেন, এটি মালামাল ও যাত্রী পরিবহন এবং কল্পিত শত্রুর অবস্থান পরিদর্শন ও নিরীক্ষণ কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া, সাবা-২৪৮ হেলিকপ্টার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি উদ্ধার এবং ত্রাণ কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
দেহকান আরো বলেন, হেলিকপ্টারের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এটিতে আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, এটি মাত্র একটি ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে কার্যক্ষমতা চালাতে পারবে, মসৃণ অ্যারোডায়নামিক নকসা ব্যবহার করার কারণে এটি উচ্চ নিরাপত্তা এবং গতিস¤পন্ন, কম শব্দ ও ক¤পনবিশিষ্ট এবং সর্বোচ্চ ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য-ক্ষমতাস¤পন্ন।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে এ হেলিকপ্টার অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিক্রি করা হবে বলেও জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেহকান।

বিগত ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে
গত ২১ মার্চ (২০১৭) সমাপ্ত বিগত ১৩৯৫ ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ পূর্ববর্তী ইরানি বছরের তুলনায় শতকরা ৪ দশমিক ৩৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৩৯৫ ইরানি বছরে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৬১ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার। এর মধ্যে রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩৯৩ কোটি ডলার এবং আমদানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩৬৮ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার। ফলে ঐ বছরে দেশের বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী ১৩৯৪ ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৩৯৬ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার। অর্থাৎ ১৩৯৫ ইরানি বছরে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বৈদেশিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ৩৪৩ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল-বহির্ভূত পণ্য রফতানির পরিমাণ উপর্যুপরি বিগত দুই বছরে আমদানির তুলনায় বেশি হয়েছে।
গত ইরানি বছরে (১৩৯৫) ইরানি পণ্যের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ছিল চীন; চীন ঐ বছর ইরান থেকে ৮৩৭ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। এর পরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমীরাত (ইউএই); এ দেশটি গত ইরানি বছরে মোট ৭৪৩ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার মূল্যের ইরানি পণ্য আমদানি করে। গত ইরানি বছরে ইরানি পণ্যের অন্যান্য বড় আমদানিকারক ছিল : ইরাক (৬১১ কোটি ১০ লক্ষ ডলার), তুরস্ক (৩২৪ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার) ও দক্ষিণ কোরিয়া (২৮৭ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার)। ঐ বছর চীন, সংযুক্ত আরব আমীরাত (ইউএই), ইরাক ও দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক ইরানের তেল-বহির্ভূত পণ্য আমদানির পরিমাণ পূর্ববর্তী ইরানি বছরের তুলনায় যথাক্রমে শতকরা ৯ ভাগ, ৩ ভাগ, ২ ভাগ ও ৩.৫ ভাগ বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে গত ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে সেসব দেশের মধ্যে সর্বপ্রধান দেশও ছিল চীন; চীন ঐ বছর ইরানে এক হাজার ৭৫ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে। এর পরবর্তী অবস্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমীরাত (ইউএই); এ দেশটি গত ইরানি বছরে ইরানে ৬৪০ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করে। এর পরবর্তী অবস্থানের দেশগুলো ছিল যথাক্রমে : দক্ষিণ কোরিয়া (৩৪৬ কোটি ডলার), তুরস্ক (২৭৩ কোটি ৯০ লক্ষ ডলার) এবং জার্মানি (২৫৩ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার)। ঐ বছরে চীন, সংযুক্ত আরব আমীরাত (ইউএই), দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও জার্মানি থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ শতকরা হারের বিচারে যথাক্রমে ২.৬ ভাগ, ১৭.৫ ভাগ, ৬ ভাগ, ৮.৩ ভাগ ও ২৯.২ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি
বিগত ১৩৯৫ ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সমূহের উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাশন্যাল্ ইরানিয়ান পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি (এনআইপিসি)-এর ডিরেক্টর জনাব আলী মোহাম্মাদ বোসাক্ব্যাদে জানান, ঐ বছরে দেশে পেট্রোক্যোমিক্যাল পণ্য সামগ্রীর মোট উৎপাদন ছিল পাঁচ কোটি টন- যা ওজনের বিচারে এ যাবতকালের মধ্যে দেশে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সামগ্রীর সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন এবং তা পূর্ববর্তী ইরানি বছরের তুলনায় শতকরা ৮ ভাগ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। তিনি আরো জানান যে, একই বছরে দেশে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যসামগ্রীর অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের পরিমাণ পূর্ববর্তী ইরানি বছরের তুলনায় শতকরা ১০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ন্যাশন্যাল্ ইরানিয়ান পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি (এনআইপিসি)-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) র্মাযিয়াহ্ শাহ্-দায়ী বলেন যে, বিগত ইরানি বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সামগ্রীর উৎপাদন সূক্ষ্মভাবে হিসাব করলে এর প্রকৃত পরিমাণ পাঁচ কোটি দশ লক্ষ টনে দাঁড়াবে। তিনি আরো জানান যে, ইরানি বছর ১৩৯৫ শেষ হবার এক সপ্তাহ আগে গত মার্চ মাসের (২০১৭) মাঝামাঝি সময়ের হিসাব অনুযায়ী ঐ বছরে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সামগ্রী রফতানির পরিমাণ পাঁচ কোটি ২০ লাখ টনে দাঁড়াবার কথা যার মূল্য হচ্ছে ৮৫০ কোটি ডলার।

ইরানি গবেষকগণের অ্যান্টি-ক্যার্ন্সা ড্রাগ উৎপাদন
ইরানি গবেষকগণ ল্যাবরেটরি সিন্থেসিস্-কে উচ্চতর মাত্রায় অপটিমাইজেশন ও অ্যাকটিভ্ ইনগ্রেডিয়েন্ট দ্বারা শিল্পোৎপাদন মাত্রায় অ্যান্টি-ক্যান্সার ড্রাগ উৎপাদনে সফলতার অধিকারী হয়েছেন।
এতদসংক্রান্ত গবেষণার প্রকল্প নির্বাহী ৩০তম আন্তর্জাতিক খারিয্মী পুরস্কার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী ড. খাশিয়ার কারীমীয়ান্ বার্তা সংস্থা মেহ্র্ নিউজ্কে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ইন্টারন্যাশন্যাল্ কমিশন্ অব্ হারমোনাইযেশন্ (আইসিএইচ) অনুযায়ী ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাকটিভ্ ইনগ্রেডিয়েন্টস্ উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত মান বজায় রেখে ‘সিন্থেসিস্ অব্ অ্যান্টি-ক্যান্সার ফার্মাসিউটিক্যাল্ অ্যাকটিভ্ ইনগ্রেডিয়েন্টস্’ প্রকল্পের কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়াও আমরা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী তিনটি ভ্যালিডেশন প্যাকেজ উৎপাদন করেছি এবং আইসিএইচ-এর বিধিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে এ তিনটি পণ্যের প্রতিটির জন্য মেডিক্যাল রেকর্ড (ড্রাগ্ মাস্টার ফাইল্ -ডিএমএফ্) সংরক্ষণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা ভারতে অ্যান্টি-ক্যার্ন্সা ফার্মাসিউটিক্যাল্ অ্যাকটিভ্ ইন্গ্রেডিয়েন্টস্ রফতানির জন্য ঐ দেশটির সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।

কৌশলগত নয়া ড্রোন ও প্রশিক্ষণ বিমান প্রদর্শন
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৫ এপ্রিল নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রশিক্ষণ বিমান ‘কাওসার’ এবং কৌশলগত ড্রোন ‘মোহাজের-৬’ এই প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাফল্য সংক্রান্ত একটি প্রদর্শনীতে এটি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতে ইরানের আরও কিছু সাফল্যও এ প্রদর্শনীতে শোভা পায়।
তেহরানে ইরানিয়ান হেলিকপ্টার সাপোর্ট অ্যান্ড রিনিউয়াল বা আইএইচএসআরসি এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
এতে ‘মোহাজের-৬’ নামের কৌশলগত ড্রোন, ‘নাসির’ নামের জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান থেকে বিমানে নিক্ষেপযোগ্য ‘ফাকুর’ ক্ষেপণাস্ত্রও এই প্রথমবারের মতো প্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহ্কান বলেন, ‘কাওসার’ এবং ‘কাহ্হার এফ-৩১৩’ জঙ্গি বিমান তৈরির মাধ্যমে ইরান ভারী বিমান তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, নিজস্ব প্রযুক্তিতে জেট বিমানের ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন তিনি।

ইরানের খারাজে টিউলিপ উৎসব
ইরানের খারাজের চামরান পার্কে চলছে টিউলিপ উৎসব। ১৫ এপ্রিল এ উৎসব শুরুর পর শত শত মানুষকে তা বিমোহিত করছে। ৩৮টি ভিন্ন রংয়ের ৩ লাখ ২০ হাজার টিউলিপ প্রস্ফুটিত হয়ে আছে এ উৎসবে। এবার এধরনের উৎসব ৫ম বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল স্থায়ী ছিল এ উৎসব।

ইরানে ধূলিঝড়ে প্রাচীন শহরের উন্মোচন
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কেরমান প্রদেশের ফারাজে শক্তিশালী এক ধূলিঝড়ে প্রাচীন এক শহরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রবল ধূলিঝড়ে বালু উড়ে যাওয়ার পর মাটির নিচে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে। অন্তত ৫ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে সেখানে ঐতিহাসিক স্থাপনার অস্তিত্ব মিলেছে।
গত ৫ এপ্রিল খবর অনলাইন ফারাজের গভর্নর গোলামরেজা নেজাত-খালেকির বরাত দিয়ে জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। প্রতœতত্ত্ববিদরা সেখানে গিয়ে মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে তাঁরা জানতে পারবেন মাটির নিচে লুপ্ত ওই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর বয়স কত।
এমনিতেই ইরানের কেরমান প্রদেশে অনেক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের স্থান হিসেবে এক ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন বাজার, মসজিদ, শহর, সরাইখানা দেখতে কেরমানে পর্যটকরা সারাবছরই গমন করে থাকেন।

ইরানের কৌতুক অভিনেতা আরেফ লোরেস্তানি আর নেই
ইরানের কৌতুক অভিনেতা আরেফ লোরেস্তানি মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। গত দুই দশক ধরে তিনি তার অভিনয়ের জন্যে দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিলেন।
১৯৯৮ সালে লোরেস্তানি ‘মিসসেলেনিয়া ৭৭’ নাটকে অভিনয় শুরু করেন। ওই নাটকে একজন দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ কর্মকর্তার অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলেন। এরপর ‘বিটার কফি’ নাটকে অভিনয় করে তিনি নন্দিত হন। এরপর ‘দি ম্যারেজ সাপার’, ‘ইকুয়েশন’, ‘সিলেকশন’ ও ‘মানি অ্যান্ড নেদা’ নাটকে অভিনয় তাকে দ্রুত সফলতা এনে দেয়।