বৃহস্পতিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশী সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ৬, ২০১৭ 

মিয়ানমার থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত আজ মুসলমানেরা হত্যাকাণ্ডের শিকার : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, আজকের দিনে মুসলিম বিশ্ব যে মহা বিপদের মোকাবেলা করছে তার থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হচ্ছে ঐক্য।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত আজ মুসলমানরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে কেউ মারা যাচ্ছে বোকো হারামের হাতে, কেউ উগ্র বৌদ্ধদের হাতে।
সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং ইসলামি লক্ষ্যের দিকে এগুতে পরি তাহলে ক্ষতিকর সাম্রাজ্যবাদী ও ইহুদিবাদী শক্তি বিভিন্ন দেশকে তাদের কব্জায় রাখতে পারবে না।’
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬ তেহরানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলনে অংশ নেয়া রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিয়া ইসলামের ব্রিটিশ ভার্সন এবং সুন্নি ইসলামের মার্কিন ভার্সন তৈরি করে মুসলমানদের একে অপরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এ দুটি হচ্ছে একই ছুরির দুই ধার।
সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেন, ‘বিভক্ত কর ও শাসন কর’-ব্রিটিশ এই নীতি ইসলামের শত্রুরা মারাত্মকভাবে অনুসরণ করে চলেছে। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও মুসলিম ঐক্য একইভাবে জরুরি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বক্তব্য স¤পর্কে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এই ব্রিটিশ সরকার বিগত ২০০ বছর আমাদের অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য খুবই জঘন্য ও নোংরা নীতি অনুসরণ করে চলেছে। ব্রিটিশ সরকার ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক এসব দেশকে বিভক্ত করেছে এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এখন বলছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি।’

শত্রুরা ইরানের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায় : সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁর দেশের কিশোর ও তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে শত্রুরা ইরানের ওপর অথনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাতে চায়।
তিনি আরো বলেছেন, আজকের কিশোররাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। কাজেই তাদেরকে শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার যোগ্যতা অর্জন করার পাশাপাশি সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান ফরজ হওয়া উপলক্ষে প্রায় দুই হাজার কিশোর গত ১৪ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের সমাবেশে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান।
ইরানে শিশুদের ‘বালেগপ্রাপ্তি’ বা ইসলামি বিধিবিধান পালনের মতো পূর্ণ বয়সে উপনীত হওয়ার সময়টিতে নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি স্কুলে প্রতি বছর এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বালেগপ্রাপ্তদের জানিয়ে দেয়া হয় আজ থেকে তাদেরকে নামায ও রোযার মতো প্রতিটি ইসলামি ফরয দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও প্রতি বছর এরকম একদল কিশোরের সমাবেশে ভাষণ দিয়ে তাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্তব্য স¤পর্কে সচেতন করে তোলেন।
সর্বোচ্চ নেতা ধর্মীয় বিধিবিধান পালনে উপযুক্ত হওয়ায় কিশোরদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এজন্য তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, মহান স্রষ্টার সঙ্গে গভীর স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো মানুষ ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে না। এ স¤পর্ক ছিন্ন হওয়ার কারণে আজ পশ্চিমা সমাজে নৈতিক স্খলন চরম আকার ধারণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ঊর্ধ্বে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে- প্রেসিডেন্ট রুহানি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি মন্ত্রণালয়সমূহ, সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থাসমূহ ও স্থানীয় সরকারসমূহের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে সভায় তাঁদের দায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, তদারকি সংস্থাসমূহের দায়িত্ব কেবল তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক পুঁজি পুনর্গঠন ও জনগণের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ইসলামি ন্যায়নীতির আলোকে ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বিচার বিভাগের প্রশংসা করে বলেন, বিচার বিভাগের সততা ও ন্যায়বিচারের কারণে এ বিভাগের প্রতি জনগণের পরিপূর্ণ আস্থা থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি কতক লোকের দ্বারা আইন লঙ্ঘনের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আইন লঙ্ঘনের তুলনায় একটি গোষ্ঠী কর্তৃক আইন লঙ্ঘন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ড. রুহানি সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও তদারকের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রে এ বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বের অধিকারী।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে তার সামাজিক পুঁজি এবং শক্তির উৎস হচ্ছে জনগণের শক্তি। তিনি বলেন, এমন কতক বিশাল বাজেটের প্রকল্প রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে জনগণের যে কোনো প্রশ্নের জবাব দেয়া জরুরি। অন্যথায় জনগণের আস্থা ও সামাজিক পুঁজি নস্যাৎ হয়ে যাবে।
তিনি তত্ত্বাবধান ও তদারকির প্রক্রিয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশ প্রদান করেন। তত্ত্বাবধান ও তদারকির দায়িত্বে নিয়েজিত বিভিন্ন সংস্থা থাকা সত্ত্বেও ইতিপূর্বে যেসব আর্থিক অনিয়ম হয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, এতদসংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরের আগে সে সম্পর্কে গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃকও তদন্ত হতে হবে যাতে তদন্ত রিপোর্ট পুরোপুরি স্বচ্ছতার অধিকারী হয়।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক আইন অমান্য করার তুলনায় কোনো গোষ্ঠী কর্তৃক আইন অমান্য করা অধিকতর গুরুতরÑ এ বিষয়টি জনগণের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা অপরিহার্য। তিনি বলেন, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে সেসবে প্রদত্ত সুপারিশ আইন সংস্কারে ও তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহায়ক হয়। তিনি বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়টির প্রতি যতখানি দৃষ্টি দিতে হবে তার চেয়েও বেশি দৃষ্টি দিতে হবে অনিয়মের পেছনে নিহিত মূল কারণের প্রতিÑ যাতে আইনের ও তার প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা সম্ভব হয়।
কোনো অপরাধ সম্পর্কে তদন্তের পরে ঐ ধরনের অপরাধের পেছনে নিহিত কারণ ও তা প্রতিরোধের পন্থা নির্দেশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি যাতে ঐ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হতে না পারে। আর অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগের এমন পদক্ষেপ নেয়া উচিত যার ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি প্রতিহত হয়। তিনি বলেন, সুবিচারের স্থান ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে।
তিনি কতক প্রচারমাধ্যম কর্তৃক মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে মিথ্যা অভিযোগ প্রচারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কেন তারা এ ধরনের কর্মনীতি অনুসরণ করছে? তিনি বলেন, সমাজে যখন কিছুসংখ্যক লোক পাপাচার ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সুখী হয় তখন স্বভাবতঃই সে সমাজের নৈতিক মানের অবনতি ঘটে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি তদন্তকারী সংস্থা ও ব্যক্তির কাজের ওপর গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি জনগণের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ের দোষ ধরা পড়লে তা প্রকাশ করা কিছুতেই উচিত হবে না।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও নৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের ঐক্যের স্বার্থে কোনো রকম বৈষম্য ব্যতিরেকেই দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অপরিহার্য। জনগণের অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিটি আইন অমান্যকারী ব্যক্তির সাথে সমানভাবে আচরণ করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি সরকারি সংস্থাসমূহের কাজকর্মের ওপর জনগণের দৃষ্টি রাখার ওপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জনগণকে আরো বেশি দৃষ্টি রাখতে হবে, আরো বেশি তত্ত্বাবধান করতে হবে। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে জনগণের তত্ত্বাবধানই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি মতপার্থক্য পরিহারের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আসুন, আমরা পরস্পরের হাতে হাত রেখে জনগণের সমস্যাবলির সমাধানের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই।
ড. রুহানি তাঁর ভাষণের শেষে সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, জনগণের অধিকারকে সমুন্নত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, নাগরিক অধিকার ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল এই যে, জনগণ যেন রাষ্ট্র ব্যবস্থার সকল শাখা ও সকল সংস্থার কাছ থেকে তাদের সংশ্লিষ্ট অধিকার দাবি করতে পারে এবং আদায় করতে সক্ষম হয়।

মন্ত্রী সভার বৈঠকে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. হাসান রুহানি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ঊর্ধ্বে সকলের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর (২০১৬) তাঁর সরকারের বিগত সময়কার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে প্রদত্ত ভাষণে এ বিষয়টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের বিগত সময়কার সফল কার্যক্রম, বিশেষত এ ক্ষেত্রে সাধিত সংস্কারের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয় এবং সেই সাথে এ ক্ষেত্রে বিরাজমান চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে তা মোকাবিলার সম্ভাব্য পন্থাসমূহ সুপারিশ করা হয়।

তেহরানে ইসলামি ঐক্য সম্মেলনের বিবৃতি প্রকাশ : ‘নয়া মুসলিম সভ্যতা’ গড়ে তোলার অঙ্গিকার
তেহরানে অনুষ্ঠিত ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ৩০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিবৃতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আরো সতর্কতা এবং মুসলিম ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলন শেষ হয়।
২৭টি ধারায় প্রণীত ওই বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোর সর্বশেষ অবস্থা খতিয়ে দেখা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ রোধে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের ওপর। এছাড়া, তাকফিরি সন্ত্রাসীদের অপরাধযজ্ঞ মোকাবেলায় মুসলিম ঐক্য জোরদার করার উপায় খুঁজে বের করার বিষয়টি তিনদিনের এই আলোচনায় বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। তাকফিরি চিন্তাভাবনা ও তার কুফল এবং নয়া মুসলিম সভ্যতা গড়ে তুলতে মুসলিম উম্মাহর লক্ষ্য বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ইসলামি ঐক্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা মুসলিম ঐক্য ধ্বংস এবং মুসলমানদের বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া ও রক্তপাত ঘটানোর পেছনে উগ্র তাকফিরিদের ভূমিকার বিষয়টি আরো ভালোভাবে পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তাঁদের মতে, উগ্র তাকফিরি চিন্তা-চেতনা মুসলিম ঐক্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এ অবস্থায় যারা ঐক্যে বিশ্বাসী তাদের উচিত হবে তাকফিরিদের মোকাবেলার বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া।
আন্তর্জাতিক মুসলিম ঐক্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা তাঁদের বিবৃতিতে মুসলিম উম্মাহকে পিছিয়ে রাখা ও দুর্বল করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করা এবং তাদের মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহর সতর্কতা ও জাগরণের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া, বিবৃতিতে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেদেশের জনগণের বিজয়কেও শুভেচ্ছা জানিয়ে ওই দেশ দুটিতে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তাঁরা ইয়েমেনে গণহত্যা বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ শাহরুখির ইন্তিকালে সর্বোচ্চ নেতার শোকবার্তা
গত ২৯ নভেম্বর ২০১৬ বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ শাহরুখি খোররাম আবাদির ইন্তিকালে ওই শোকবার্তায় সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী। সর্বোচ্চ নেতার শোকবার্তা এখানে তুলে ধরা হলো:
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য এবং প্রয়াত ইমামের (খোমেইনীর) ছাত্র ও কয়েকটি দেশে তাঁর প্রতিনিধি, সক্রিয় আলেম মরহুম ও মাগফুর (ক্ষমাপ্রাপ্ত) হুজ্জাতুল ইসলাম আলহাজ সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নাকি শাহরুখিরÑআল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোকÑইন্তিকালে তাঁর পরিবার ও শুভাকাক্সিক্ষ এবং খোররাম আবাদের বিপ্লবী জনতার প্রতি সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর জন্য মাগফিরাত ও রহমত কামনা করি। মহান এ সাইয়্যেদ তাঁর নি®পাপ [ইমামগণ] পূর্বপুরুষদের সাথে হাশরে উত্তোলিত হবেন, ইনশা আল্লাহ।
সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী
৯ আযার, ১৩৯৫
(২৯ নভেম্বর, ২০১৬)
উল্লেখ্য, ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি, ইসলামি ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ও মজলিশে শুরায়ে ইসলামির সাবেক সদস্য আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সদস্য আয়াতুল্লাহ শাহরুখি খোররাম আবাদি গত ২৭ নভেম্বর ইরানের কোম শহরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আয়াতুল্লাহ ওয়ায়েযযাদেহ খোরাসানীর ইন্তেকাল
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট আলেম ও গবেষক হযরত আয়াতুল্লাহ ওয়ায়েযযাদেহ খোরাসানী গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তিনি মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মুসলিম মাযহাবসমূহের মাঝে ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টিকারী বিশ্ব সংস্থার সর্ব প্রথম মহাসচিব ছিলেন তিনি।
হযরত আয়াতুল্লাহ ওয়ায়েযযাদেহ খোরাসানী ১৩০৪ ফারসি সনে ইরানের মাশহাদ নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইরাকের নাজাফ ও ইরানের কোম নগরস্থ ধর্মতত্ত্বের সর্বোচ্চ শিক্ষালয় থেকে ধর্মতত্ত্বের ওপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেইনী, হযরত আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ হুসাইন বুরুজের্দী এবং হযরত আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ হোসাইন তাবাতাবায়ির সান্নিধ্যে ধর্মতত্ত্বের ওপর গভীর গবেষণা করেন।
মরহুম আয়াতুল্লাহ ওয়ায়েযযাদেহ খোরাসানীকে ১৯ ডিসেম্বর ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে আহলে বাইত (আ.)-এর অষ্টম নক্ষত্র ইমাম রেযা (আ.)-এর পবিত্র মাযারের সান্নিধ্যে দাফন করা হয়।

ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে: ইউকিয়া আমানো
তেহরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু ইস্যুতে গত বছর ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতার সব ধারা ইরান পুরোপুরি মেনে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র প্রধান ইউকিয়া আমানো।
গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তেহরানে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। আইএইএ’র প্রধান আমানো বলেন, ইরান পরমাণু সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
পরমাণু সমঝোতার কারিগরি দিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। গত জানুয়ারি থেকে পরমাণু সমঝোতা পত্র বা জেসিপিওএ বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর থেকে এ সংস্থাটি বার বার বলে আসছে যে, ইরান এ চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলছে। ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রধান সালেহির আমন্ত্রণে একদিনের সফরে তেহরানে আসা আমানো আরো বলেন, পরমাণু সমঝোতা ধারা যেভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি। বৈঠকে হেভি ওয়াটার, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ইরানে ইউরোনিয়ামের মজুদের পরিমাণ, পরমাণু শক্তির গবেষণা এবং উন্নয়নের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালেহি।

নিষেধাজ্ঞা নবায়ন : ৬ জাতিগোষ্ঠীর বৈঠক ডাকার আহ্বান জানালো ইরান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আরো ১০ বছরের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নবায়নের সব ব্যবস্থা পাকা করার পর তেহরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনির কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
জারিফ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নবায়নের উদ্যোগ নিয়ে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে যৌথ কমিশনের বৈঠকে বসা দরকার।
গত ১ ডিসেম্বর মার্কিন সিনেট ৯৯-০ ভোটে ইরানের বিরুদ্ধে আরো ১০ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করতে একটি বিল পাস করেছে এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যদিও তাতে সই করেন নি, তবে নাকচও করেন নি। ফলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হবে।
এ প্রসঙ্গে জাওয়াদ জারিফ বলেন, সব পক্ষকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে আমেরিকা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এখন সে প্রতিশ্রুতি পালন করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ কারণে নতুন করে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর যৌথ কমিশনের বৈঠক ডাকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে তিনি মোগেরিনির প্রতি আহ্বান জানান। মোগেরিনি হচ্ছেন ছয় জাতিগোষ্ঠীর পক্ষের প্রধান আলোচক।

তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূত হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানালো ইরান
তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের হত্যাকা-কে ‘বর্বরোচিত’ বলে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ বলেন, এই অপরাধী পদক্ষেপ প্রমাণ করে উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আইন বা রীতিনীতিকে তোয়াক্কা করে না।
সোমবার শেষ বেলায় তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় একটি চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কার্লভকে প্রকাশ্যে উপস্থিত দর্শকদের সামনে গুলি করে হত্যা করে এক যুবক। পরে ঘাতক ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়।
এ স¤পর্কে কাসেমি আরো বলেন, জঙ্গিরা এ ধরনের নির্মম হত্যাকা- চালিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত বাধিয়ে দেয় এবং অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। তিনি সন্ত্রাসবাদকে বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে ‘অশুভ ও জঘন্য’ বিষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে এবং এখানে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করা যাবে না।
সন্ত্রাসবাদ সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বের সব দেশের পাশে থাকবে বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য সকল ধর্মের প্রতি ইরানের আহ্বান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামের জন্য সকল ধর্মের অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ইরান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনাব বাহ্রাম ক্বাসেমী কায়রোর খ্রিস্টান গির্জায় সংঘটিত সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঐক্যের এ আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মিসরের সরকারি টেলিভিশন প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কায়রোর কপটিক খ্রিস্টানদের প্রধান ক্যাথেড্রালের নিকটস্থ গির্জার অভ্যন্তরে পরিচালিত সন্ত্রাসী বোমা হামলার ফলে সেখানে প্রার্থনারত নিরীহ খ্রিস্টানদের মধ্য থেকে ২৫ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
জনাব বাহ্রাম ক্বাসেমী তাঁর এ বিবৃতিতে বলেন, ধর্মীয় কেন্দ্র ও পবিত্র স্থানসমূহকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ন্যায় জঘন্য কাজ সমস্ত ধর্মেরই শিক্ষার বিরোধী। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের লক্ষ্যে সকল ধর্মের অনুসারিগণের ও সকল দেশের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মিসরীয় সরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় যে, সেন্ট্ পিটার্স চার্চে পরিচালিত উক্ত সন্ত্রাসী হামলায় আরো ৪৯ জন লোক আহত হয়েছেন।

পর্যটকদের জন্য ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাধিক নিরাপদ দেশ : ডব্লিউসিও
বিশ্ব নগর সংস্থা (ডব্লিউসিও)-এর প্রেসিডেন্ট ইয়ং হুন্কক্ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান হচ্ছে পর্যটকদের জন্য সর্বাধিক নিরাপদ দেশ। তিনি গত পয়লা নভেম্বর (২০১৬) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেমনান শহরের সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বীয় শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী, জনগণ ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি পর্যটকদের জন্য সর্বাধিক নিরাপদ দেশে পরিণত হয়েছে।
মি. হুন্কক্ আরো বলেন, আগামী ২০১৯ সালে সিল্ক রোডে অবস্থিত নগরী সমূহের মেয়রদের সম্মেলনের ভেন্যু নির্বাচনের জন্য যেসব শহরের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সেমনান নগরী সেসবের অন্যতম।

পঞ্চম বার্তা সংস্থা বিশ্ব সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আযারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ৫ম বার্তা সংস্থা বিশ্ব সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে।
গত ১৬ নভেম্বর (২০১৬) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বাকুতে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বার্তা সংস্থাসমূহের সংস্থা (ওআনা)-এর ১৬তম সাধারণ অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়। আযারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইল্হাম্ ‘আলীয়েভ্ উভয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উক্ত দুই কর্মসূচির পাশাপাশি একই দিনে বাকুতে কাউন্সিল অব্ সিআইএস্ নিউজ এজেন্সিজ-এর প্রধানদের ২২তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে মেহ্র্ নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) ও ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সী (র্ইনা) এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
এবার অনুষ্ঠিত ৫ম বার্তা সংস্থা বিশ্ব সম্মেলনের স্লোগান ছিল ‘বার্তা সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জসমূহ’। এ সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনের শিরোনাম সমূহের মধ্যে ছিল ‘সংবাদ গ্রহণের ভবিষ্যৎ’, ‘বার্তা সংস্থা : নতুন প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগসমূহ’, ‘বার্তা সংস্থার সংস্কার’, ‘মাল্টি-মিডিয়ার জন্য সাংবাদিক প্রশিক্ষণ’, ‘সাংবাদিকদের মিশনের সুরক্ষা, স্বাধীনতা, সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ, নিরাপত্তা ও সংঘাতের ক্ষেত্র সমূহ’।
উক্ত সম্মেলনে এ ছাড়াও এমন কতক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয় সাংবাদিকগণ যেগুলোর মুখোমুখী হয়ে থাকেন। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে বার্তা সংস্থাসমূহ ও বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্লাটফর্মের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার ধরনসমূহ।

স্লোভেনিয়ার মহিলা চ্যারিটি বাজারে ইরানের অংশগ্রহণ
সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশ স্লোভেনিয়ায় অনুষ্ঠিত ২৩তম সিলা অ্যানুয়্যাল্ ইন্টারন্যাশন্যাল চ্যারিটি বাজারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি সহকারে অংশগ্রহণ করে। গত ৪ ডিসেম্বর (২০১৬) এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
স্লোভেনিয়ান ইন্টারন্যাশন্যাল লেইডিজ্ অ্যাসোসিয়েশন (সিলা) কর্তৃক আয়োজিত ও সেখানকার গ্র্যান্ড্ হোটেল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে ইরান ছাড়াও বিশ্বের আরো বারোটি দেশ তাদের পণ্য পরিবেশন সহ অংশগ্রহণ করে।
স্লোভেনিয়াস্থ বিদেশি সমিতি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিনিধিগণ এবং সেখানে অবস্থিত বিশ্বের ৩২টি দেশের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিনিধি এ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, সভ্যতা ও রীতিনীতি তুলে ধরার লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এ প্রদর্শনীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এবং এতে ইরানের বেশ কিছু ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক পণ্য ও হস্তশিল্প উপস্থাপন করে। এগুলো দর্শকদের কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক প্রশংসা লাভ করে।
এ প্রদর্শনীতে স্বাগতিক দেশ স্লোভেনিয়ার পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ছাড়াও আরো যেসব দেশের স্টল ছিল সেসব দেশ হচ্ছে : পাকিস্তান, হাঙ্গেরী, পোল্যান্ড্, গ্রীস, নেদারল্যান্ড্স্, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কেনিয়া ও ইতালি। প্রতিটি দেশের স্টলেই স্ব স্ব দেশের সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উপস্থাপন করা হয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবার দ্বিতীয় বারের মতো সিলা চ্যারিটি বাজারে অংশগ্রহণ করলো।
উল্লেখ্য, সিলা চ্যারিটি বাজার থেকে অর্জিত আয় স্থানীয় পাঁচটি চ্যারিটি অর্গানাইজেশনকে দান করা হয়। এ চ্যারিটি অর্গানাইজেশনগুলো সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের সাহায্য করে থাকে। সিলা ও আইডব্লিউসিএল্ বাজার বিগত দুই দশকে স্লোভেনিয়ার বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিকে দশ লাখ ইউরোরও বেশি পরিমাণ অর্থ দান করেছে।

ইরান ও জাপানের মধ্যে প্রেট্রো-রসায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত
সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও জাপানের মধ্যে বিভিন্ন পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে৩২ কোটি ডলার ব্যয়সাপেক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইরানের পার্সিয়ান্ গাল্ফ্ পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ্ কোম্পানি (পিজিপিআইসি) ও জাপানের জেনারেল ট্র্রেডিং ফার্ম আইটিওসিএইচ্ইউ-এর দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার এ চুক্তিতে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি সম্পাদন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইটিওসিএইচ্ইউ-এর প্রতিনিধি ইরান ও জাপানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রেট্রো-রসায়ন সামগ্রীর জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বাজার। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের বিভিন্ন সামগ্রীÑউদাহরণস্বরূপ, পলিথাইলিনÑবাজারজাতকরণের জন্য ইরান ও জাপানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের প্রেট্রো-রসায়ন বিভাগের কর্মকর্তাগণ জানান যে, প্রেট্রো-রসায়ন ক্ষেত্রে ইসলামি ইরানের সাথে যে কেবল জাপানের সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা নয়, বরং জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, নের্দাল্যান্ড্স্, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি এবং জাপানেরও আরো অনেক কোম্পানি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিভিন্ন পেট্রো-রসায়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য স্বীয় প্রস্তুতির আভাস দিয়েছে।

ইরান ও আর্মেনিয়ার বিদ্যুৎ বিনিময় সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তুতি
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া বিদ্যুৎ বিনিময়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। ইরান সরকারের জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী জনাব হামীদ চিত্চিয়ান্ বলেন, দুই দেশ পারস্পরিক বিদ্যুৎ বিনিময়ের সক্ষমতা চার গুণ বৃদ্ধি করর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
জনাব হামীদ চিত্চিয়ান্ ইরান-আর্মেনিয়া যৌথ কমিশনের ১৪তম বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদান করেন এবং এরপর সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য প্রকাশ করেন। এ অনুষ্ঠানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা ছাড়াও আর্মেনিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী আশোত্ মানুকিয়ান্ অংশগ্রহণ করেন।
জনাব হামীদ চিত্চিয়ান্ জানান যে, ইরান ও আর্মেনিয়া পারস্পরিক বিদ্যুৎ বিনিময়ের পরিমাণ বর্তমান তিনশ’ মেগাওয়াট থেকে বৃদ্ধি করে ১২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করবে। তিনি আরো জানান, উভয় পক্ষ অদূর ভবিষ্যতে গ্যাস স্থানান্তর সম্পর্কেও আলোচনা করেছে।
জবান হামীদ চিত্চিয়ান্ উক্ত বৈঠকে আর্মেনিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশেরই পারস্পরিক সর্বাত্মক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে।
১৫. ইরানি চলচ্চিত্র ‘যেন্দেগী ভা ইয়াক্ রুয্’ টাউস্ এক্রান্স্-এর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেছে
সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত ২২তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব টাউস্ এক্রান্স্-এ ইরানি চলচ্চিত্র ‘যেন্দেগী ভা ইয়াক্ রুয্’ (জীবন ও এক দিন) শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। সাঈদ্ রোস্তামী পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি উক্ত উৎসবে ৩০ হাজার দর্শকের সামনে প্রদর্শিত হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে অনুষ্ঠিত ফাজ্র্ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ফ্রান্স, ডেন্মার্ক, আর্জেন্টিনা ও হংকং-এর বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সাথে প্রতিযোগিতায় যেন্দেগী ভা ইয়াক্ রুয্’ চলচ্চিত্র বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করে। এ চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখানো হয় যে, একটি পরিবার একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, কিন্তু কতগুলো ঘটনার ফলে তাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে ও উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, জেনেভা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব টাউস্ এক্রান্স্ হচ্ছে এমন একটি উৎসব যেখানে চলচ্চিত্র জগতের সকল প্রজন্মের ও পর্যায়ের নির্মাতাদের মিলন ঘটে এবং এখানে উদ্যাপনী ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেতনা গড়ে তোলা হয়। এতে চলচ্চিত্রসমূহ পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে অংশগ্রহণ করেÑ যার মধ্য দিয়ে নতুন নতুন প্রতিভার উদ্ঘাটন করা হয় এবং এর ফলে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাগণ অগ্রগতির অধিকারী হন।

কেরালার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১৩টি ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শন
ভারতের কেরালায় অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (আইএফএফকে) ১৩টি ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। গত ৯ থেকে ১৬ ডিসেম্বর (২০১৬) এ চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
ভারত সরকারের আইন, সংস্কৃতি ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, কতক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বহু ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পীর পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত চলচ্চিত্র শিল্পীদের উপস্থিতিতে ভারতের কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমিতে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের প্রথম দিনে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক নাভীদ মাহ্মূদী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রাফ্তান্’ (যাওয়া) প্রদর্শিত হয়। এ চলচ্চিত্রে বিদেশে গমনের পর এক ইরানি দম্পতির পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা চিত্রিত করা হয়েছে।
এছাড়াও এ চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বৈশ্বিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে ইরানি পরিচালক রেযা মীর কারীমী পরিচালিত ‘দোর্খ্তা’ (কন্যা), নাভীদ দানেশ্ পরিচালিত ‘ডুয়েট্’, ইবরাহীম ইবরাহীমীয়ান পরিচালিত ‘অদাত্ নেমিকোনিম্’ (আমরা অভ্যস্ত হব না), বেহ্নাম্ বেহ্যাদ্ পরিচালিত ‘ভরুনেগী’ (উল্টে যাওয়া), র্মাজান্ আশ্রাফীযাদে পরিচালিত ‘অব্জী’ (আপু), আসর্গা র্ফাহাদ্ পরিচালিত ‘ফোরুশান্দে’ (বিক্রেতা) ও বাব্রাক্ আনোয়ার পরিচালিত ‘যিরে সইয়ে’ (ছায়ার নিচে) প্রদর্শিত হয়।
এ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্রাভিনেত্রী বরন কাওছারী জুরি বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

বাগদাদের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্র ‘বডিগার্ড’-এর প্রথম পুরস্কার লাভ
সম্প্রতি বাগদাদে অনুষ্ঠিত ৮ম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক ইবরাহীম হাতামীকিয়া পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বডিগার্ড’ প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর (২০১৬) অনুষ্ঠিত এ চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশ ইরাকের বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বশীল ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববর্গ ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড্স্ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাগদাদস্থ দূতাবাসের প্রতিনিধিবর্গের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক সংস্থা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণকারী ইরাকি ও বিদেশি চলচ্চিত্র সমূহের মান বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক জুরির বিচারে ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক ইবরাহীম হাতামীকিয়া পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বডিগার্ড’ পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্র সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
উল্লেখ্য, ‘বডিগার্ড’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হবার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক ফাজ্র্ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম বারের মতো প্রদর্শন করা হয়। এ চলচ্চিত্রে এমন একজন মধ্য বয়স্ক লোকের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে যে ব্যক্তি উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ববর্গের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। গল্পে দেখানো হয় যে, একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরকপূর্ণ একটি জ্যাকেট পরিধান করে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্টের দিকে এগিয়ে গেলে সে ঝামেলায় পড়ে যায়।
উক্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন পারভীয পারাস্তুরী, বাবাক্ হামীদীয়ান, মেরিলা যারেঈ, মাহ্মূদ আযীয, আমীর অগ¦ায়ী, র্ফাহাদ ক্বায়েমীয়ান ও কামরান নাজাফীযাদে।
উল্লেখ্য, বাগদাদ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সর্ব প্রথম ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ইরাকে নিবন্ধিত স্বাধীন বেসরকারি সংস্থা ইরাকি অ্যাসোসিয়েশন র্ফ কালচার অ্যান্ড্ সিনেমা ডেভেলপমেন্ট্ প্রতি বছর এ উৎসবের আয়োজন করে থাকে।

বেলজিয়ামের থ্রি-ডি স্টেরিও মিডিয়া ফেস্টিভালে ইরানি চলচ্চিত্র ‘যান্জল্ র্দা আরূসী’ প্রদর্শন
সম্প্রতি বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত অষ্টম থ্রি-ডি স্টেরিও মিডিয়া ফেস্টিভালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘যান্জল্ র্দা আরূসী’ (বিবাহ অনুষ্ঠানে হাঙ্গামা) প্রদর্শিত হয়। গত ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর (২০১৭) এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই দ্বিতীয় বারের মতো বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত থ্রি-ডি স্টেরিও মিডিয়া ফেস্টিভালের প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণ করল।
সাইয়্যেদ রেযা খাতীবী পরিচালিত ও ফারাবী সিনেম্যাটিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্মিত ‘যান্জল্ র্দা আরূসী’ চলচ্চিত্রের গল্পে দেখানো হয় যে, একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদেরকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না, বরং তাদেরকে বাগানের শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি কুটিরে পাঠানো হয়। কিন্তু এ বিবাহ অনুষ্ঠান চলাকালে উক্ত শিশু-কিশোররা বুঝতে পারে যে, উক্ত বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজকরা আসলে মাদক দ্রব্য চোরাচালানীর সাথে জড়িত। তখন তারা উক্ত বিবাহ অনুষ্ঠান রূপ নাটক বানচাল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মাত্র অল্প কয়েকটি জায়গায় থ্রি-ডি স্টেরিও মিডিয়া স্বীকৃতির অধিকারীÑ যেসব জায়গায় থ্রি-ডি বিশেষজ্ঞগণ বৈঠকে মিলিত হবার, মতামত বিনিময়ের, প্রকল্প গ্রহণের ও চুক্তি সম্পাদনের অনুমতি পেয়েছেন।
বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত অষ্টম থ্রি-ডি স্টেরিও মিডিয়া ফেস্টিভাল ছিল বিশ্বব্যাপী থ্রি-ডি গবেষণা ও চর্চা এগিয়ে নেয়ার এবং এ ব্যাপারে থ্রি-ডি গোষ্ঠীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ পর্যন্ত সর্বোত্তম ও সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ উৎসবÑ যাতে দৃঢ়তা সহকারে যে কোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাবার চেতনা প্রতিফলিত হয়।

ইরানি ফটোগ্রাফি শিল্পীর সেরা প্যারালিম্পিক ফটোগ্রাফি পুরস্কার লাভ
ইরানি ফটোগ্রাফি শিল্পী আবুল্ ফায্ল্ আমানুল্লাহ্ এশিয়ান্ প্যারালিম্পিক কমিটি (এপিসি) কর্তৃক ‘সর্বোত্তম ফটোগ্রাফি’ বিভাগের পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গত পয়লা ডিসেম্বর (২০১৬) থাইল্যা-ের রাজধানী ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত এপিসি-র অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়াও এ অনুষ্ঠানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সিটিং ভলিবল্ ন্যাশন্যাল স্কোয়াড্ বেস্ট্ এশিয়ান্ টীম্ র্পাফর্ম্যান্স্ পুরস্কার লাভ করে।
উল্লেখ্য, জনাব আবুল্ ফায্ল্ আমানুল্লাহ্ হচ্ছেন এ পর্যন্ত উক্ত পুরস্কার লাভকারী প্রথম ইরানি ফটোগ্রাফি শিল্পী। তিনি তাঁর তোলা যে ফটোর জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন তাতে রিও-তে অনুষ্ঠিত ‘প্যারালিম্পিক ফুটবল ৫-এ-সাইড্Ñ ২০১৬’র ইরান-ব্রাজিল ম্যাচের একটি অনবদ্য দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন। তাঁর তোলা এ ফটোগ্রাফটি উক্ত পুরস্কার লাভের জন্য এশিয়ান্ প্যারালিম্পিক কমিটি (এপিসি)-র অপর ৪৪ সদস্যের ফটোর সাথে প্রতিযোগিতার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ‘দ্য এশিয়ান্ প্যারালিম্পিক্ অর্র্ডা’ হচ্ছে এশিয়ান্ প্যারালিম্পিক কমিটি কর্তৃক দেয় সর্বোচ্চ পুরস্কারÑ যা এমন এক ব্যক্তিকে বা ব্যক্তিবর্গকে প্রদান করা হয় যিনি বা যাঁরা স্বীয় কাজের মাধ্যমে এপিসি-র আদর্শকে সর্বোত্তমভাবে তুলে ধরেন বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন অথবা এপিসি-র লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পথে অসাধারণ ও সুদীর্ঘকালীন খেদমত আঞ্জাম দেন।

ইরান ন্যাশন্যাল বীচ্ সর্কা টীমের বিশ্বের মধ্যে ৫ম স্থান লাভ
বীচ্ সর্কা ওয়ার্ল্ডওয়াইড্ (বিএস্ডব্লিউডব্লিউ) ও ফেডারেশন অব্ ইন্টারন্যাশন্যাল ফুটবল্ অ্যাসোসিয়েশনস (ফিফা)-এর পক্ষ থেকে নতুন যৌথ র‌্যাঙ্কিং-এ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যাশন্যাল বীচ্ সর্কা টীমকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্যের কারণে বিশ্বের মধ্যে ৫ম স্থান প্রদান করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমীরাত (ইউইএ)-এর দুবাই-এ অনুষ্ঠিত বীচ সর্কা ইন্টারন্যাশন্যাল্ কাপ প্রতিযোগিতায় সুইজারল্যান্ড, তাহিতি, জাপান, স্পেন ও ওমানকে পিছনে ফেলে ইরানি টীম্ ১৭৮৫ পয়েন্ট লাভ করে পঞ্চম স্থান অধিকার করে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে পর্তুগীজ টীমÑ যে মোট ৩৫০০ পয়েন্ট অর্জন করেছে। এর পরে রাশিয়ান, ব্রাজিলিয়ান ও ইতালিয়ান টীম যথাক্রমে ৩২০৪, ২৫২৫ ও ২১৪৩ পয়েন্ট লাভ করে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করে।
সুইজারল্যান্ড, তাহিতি, জাপান, স্পেন ও ওমান যথাক্রমে ১৬৯১, ১৬৫৯, ১২৬৭, ১১৫৪ ও ১০৩৭ পয়েন্ট লাভ করে বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান লাভ করে।

এইউটি কাপ ২০১৬-তে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
তেহরানের আমীর কাবীর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউটি) কর্তৃক আয়োজিত ৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক রোবোটিক কাপ্ টুর্নামেন্ট (এইউটি কাপ ২০১৬) এবং প্রথম হিউম্যানয়েড্ অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে।
গত ১ থেকে ৫ ডিসেম্বর (২০১৬) এ প্রতিযোগিতা দু’টি অনুষ্ঠিত হয় এবং ৬ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ প্রতিযোগিতা দু’টিতে ৮০টি ইরানি ও ৬৫টি বিদেশি টীম অংশগ্রহগণ করে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বাইরের যেসব দেশের টীম এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হয় সে দেশগুলো হচ্ছে কানাডা, জার্মানি, আফগানিস্তান, লেবানন, ইরাক ও সিরিয়া। ইরানি ও বিদেশি মিলিয়ে এ ১৪৫টি টীম্ ৮টি প্রধান ইভেন্টে ও জুনিয়র লীগে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে; জুনিয়র লীগের ইভেন্ট্গুলোর মধ্যে ছিল এম্এডব্লিউ রোবোট, ট্রান্স্পোর্র্টা, ডিমাইর্না রোবোট্, হিউম্যানয়েড্ রোবোট্ অলিম্পিক্স্ ও ‘ওয়ার্ক’।
এ প্রতিযোগিতায় অ্যাড্ভান্স্ড্ ট্রান্স্পোর্র্টা লীগে স্বাধীন টীম্ আল্ট্রা বট্, ইরানের ভারামীনের ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইরানের ইসলাম্শাহ্র্স্থ ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের র্আমেনা ট্রান্স্পোর্র্টা যথাক্রমে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান লাভ করে।
‘ট্রান্স্পোর্র্টা-এ নন্-ইরানীয়ান্ জুনিয়র লীগ্’-এ যেসব টীম্ প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান লাভ করে সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে র্টবো (ইরাক), অরিয়ানা রোবোট্ (ইরাক) ও র্আমেনা জুনিয়র।
এতে এমএভি রোবোট্স্ প্রতিযোগিতায় নেইশাহ্র্-এর ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের খাইয়াম্ টীম্, ইসলামশাহ্র্-এর ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিআইএমএজি ও খোমেইন্শাহ্র্-এর ইসলামি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের র্পাসিস্ যথাক্রমে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান লাভ করে।
উল্লেখ্য, এই প্রথম বারের মতো হিউম্যানরয়েড্ অলিম্পিক্স্ বিভিন্ন লীগে অনুষ্ঠিত হয়; এ সব লীগের মধ্যে ছিল : ফুটবল, ভারোত্তোলন, বাস্কেট বল, শুটিং, জিম্ন্যাস্টিক্স্, রাগ্বী, ট্র্যাক্, ফিল্ড্, কারাতে ইত্যাদি।
এ প্রতিযোগিতায় আমীর কাবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এইউটিম্যান্ এন্এও রাগ্বী, ভারোত্তোলন ও শট্পুট্-এ তিনটি স্বর্ণপদক এবং এছাড়াও কারাতে ও স্প্রিন্টিং-এ দু’টি রৌপ্যপদক জয় করে প্রথম স্থান অধিকার করে। অন্যদিকে আমীর কাবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এইউটিম্যান্ কিড্ কারাতে, জিম্ন্যাস্টিক্স্ ও শুটিং-এ তিনটি স্বর্ণপদক এবং রেস্ ও স্প্রিন্টিং-এ দু’টি রৌপ্যপদক জয় করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।
এ প্রতিযোগিতায় স্প্রিন্টিং-এ একটি স্বর্ণপদক, রাগ্বী, রিলিফ্ রেস্ ও ভারোত্তোলনে তিনিট রৌপ্যপদক এবং কারাতে ও শট্ পুট্-এ দু’টি ব্রোঞ্জপদক জয় করে রোবোমেক্ তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
প্রতিযোগিতার জুরি প্যানেলের বিচারে তাইওয়ানের তাইপে সুর্পা হিউম্যানয়েড্ রোবোট্ অলিম্পিক্স্-এ প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী মূলক কর্মতৎপরতার জন্য সর্বশীর্ষ টীম্ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশন্যাল ফেডারেশন্ অব্ রোবোটিক্স্ ফেইরা (এফ্আইর্আএ)-এর সহযোগিতায় পর পর দ্বিতীয় বারের মতো এইউটিকাপ্ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানসহ ১০টি এশীয়, ১৫টি ইউরোপীয়, ৩টি আফ্রিকান ও ৬টি আমেরিকান দেশ ইন্টারন্যাশন্যাল ফেডারেশন্ অব্ রোবোটিক্স্ ফেইরা (এফ্আইর্আএ)-এর সদস্য পদের অধিকারী।

ইরানি বিজ্ঞানীর ব্রেকথ্রো ফাউন্ডেশন রেগুলার প্রাইয্ লাভ
বস্তুবিজ্ঞানে ও গণিত শাস্ত্রে বিশেষ অবদান রাখার কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী জনাব কম্রন্ ওয়াফা অপর দু’জন বিজ্ঞানীর সাথে যৌথভাবে ব্রেক্থ্রো ফাউন্ডেশন প্রাইয্ লাভ করেছেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বার্তা সংস্থা (র্ইনা) নিউ ইয়র্ক টাইম্স্-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, স্ট্রিং থিওরির ক্ষেত্রে বিরাট ধরনের অগ্রগতি সাধনের কারণে তিনজন তাত্ত্বিক বিজ্ঞানীকে যৌথভাবে ব্রেকথ্রো ফাউন্ডেশন পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্ট্রিং থিওরি এখন পর্যন্ত পরিপূর্ণ ও অকাট্য রূপে প্রমাণিত হয় নি। এ থিওরি পুরোপুরি ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলে এর সাহায্যে ব্লাক্হোলসহ এ বিশ্বলোকের সকল কিছু সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়।
আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ইরানি বিজ্ঞানী কম্রন্ ওয়াফার সাথে অপর যে দু’জন বিজ্ঞানীকে ব্রেক্থ্রো ফাউন্ডেশন পুরস্কারের জন্য যৌথভাবে মনোনীত করা হয়েছে তাঁরা হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর একজন বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু স্ট্রোমিঙ্গার এবং সান্তা র্বাবারা-স্থ ইউনিভার্সিটি অব্ ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাভ্লি ইনস্টিটিউট্ র্ফ থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স্-এ কর্মরত বিজ্ঞানী জোসেফ্ পোল্চিন্স্কি।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স্ উল্লেখ করে যে, স্ট্রিং থিওরি অনুযায়ী প্রকৃতিতে নিহিত সমস্ত শক্তি ও বস্তুকণা অনেক অতি ক্ষুদ্র ও সদাকম্পমান সুতা সদৃশ উপাদান দ্বারা গঠিত।
নিউ ইয়র্ক টাইম্স্ আরো জানায়, ইরানি বিজ্ঞানী ওয়াফা বিগত ত্রিশ বছরেরও বেশিকাল যাবত আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান গবেষণা ও শিক্ষকতায় কর্মরত আছেন।
উল্লেখ্য, পুরস্কার হিসেবে দেয় অর্থের অঙ্কের বিবেচনায় ব্রেক্থ্রো ফাউন্ডেশন্ প্রাইয্ হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ক সবচেয়ে বড় পুরস্কার। গত ৪ ডিসেম্বর (২০১৬) ব্রেক্থ্রো ফাউন্ডেশন পদার্থ বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য এক হাজারেরও বেশি সংখ্যক পদার্থ বিজ্ঞানী, জীব বিজ্ঞানী ও গণিতবিদকে তার এবারের বার্ষিক পুরস্কার প্রদান করেÑ যার মোট পরিমাণ ছিল আড়াই কোটি ডলার।
উল্লেখ্য, গুগ্ল্-এর সের্গেই ব্রিন্, ২৩ অ্যান্ড্মি-এর অ্যানি ওয্সিস্কি, আলীবাবা-র জ্যাক্ ম্যা, তাঁর স্ত্রী ক্যাথি ঝ্যাং, ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইউরি মির্ল্না, তাঁর স্ত্রী জুলিয়া মির্ল্না এবং ফেস্বুকের যুর্কাবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান্ ব্রেক্থ্রো ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।