বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

সংবাদ বিচিত্রা (বিদেশি সংবাদ)

পোস্ট হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৬ 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পরামর্শ দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত ৩ জুলাই ২০১৬ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের এক সমাবেশে ছাত্রদের নানা সমস্যা এবং বর্তমান আর্থ-রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। তিনি ঈমান ও পবিত্র কুরআনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানি জাতির সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা যখন থেকে স্বাধীনতা ও উন্নতির পথে যাত্রা শুরু করেছি তখন থেকেই এ সংগ্রাম শুরু হয়েছে। কারণ, আমাদের এ সংগ্রাম বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বার্থকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে শত্রুদের চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা স¤পর্কে বলেন, ইসলামি বিপ্লবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে শত্রুদের ষড়যন্ত্র আরো জটিল হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত ইরানি জাতি শত্রুদের আগ্রাসী ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে ততদিন পর্যন্ত লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ের অবসান ঘটানোর ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, শত্রুদের দাবি অনুযায়ী হয় ইরানকে তার অর্জিত শক্তি সামর্থ্যকে ত্যাগ করে প্রতিরোধের পথ থেকে সরে আসতে হবে অথবা শুধু নামে মাত্র ইরানে এমন এক ইসলামি সরকার থাকবে যার কোনো সত্যিকারের ইসলামি পরিচিতি থাকবে না। তবেই শত্রুরা খুশি থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শত্রুদের এ ধরণের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রয়োজন নিজস্ব শক্তি ও কঠিন ঈমান। শত্রুরা অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে শুরু করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন অর্থনৈতিক ভিত্তিগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো। আর এ ক্ষেত্রে যুবকরা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যদি চোখ খোলা রাখা না হয় তাহলে সরলমনা ছাত্ররা শত্রু ও বন্ধু চিনতে ভুল করবে কিংবা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে ভুল করে বসতে পারে।
হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ছাত্ররাই শত্রুদের টার্গেট এ কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য শত্রুরা বিপুল অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি বিষাক্ত প্রচারণা যুদ্ধে নেমেছে যাতে ইরানের শক্তি-সামর্থ্যকে আড়াল করার পাশাপাশি দেশটির জনগণ ও যুব সমাজের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করা যায়। তিনি অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ইরানের জনগণের ওপর পাহলাভি রাজবংশের স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেয়া, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনপ্রিয় সরকারের পতন ঘটানো, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা
করা, অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া ও সাদ্দামের প্রতি পাশ্চাত্যের সমর্থন, ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করা, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি প্রভৃতি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইযানের ত্রিপক্ষীয় সম্মেলন
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইরানের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান অন্যতম দিক। এরই ভিত্তিতে ইরান সবার সঙ্গে সুস¤পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে কোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। গত ৮ আগস্ট ২০১৬ আজারবাইযানের রাজধানী বাকুতে ইরান, আজারবাইজান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলন অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স¤পর্ক উন্নয়নের যে কোনো উদ্যোগকে ইরান শুধু যে স্বাগত জানায় তাই নয়, জাতিগুলোর অধিকার রক্ষা এবং বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য তেহরান বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সহিংসতামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলা, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবেলা এবং জাতিগুলোর মানবিয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য ইরান জাতিসংঘে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আজারবাইযানে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সম্মেলনে দেয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের পক্ষে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা এবং বিরাজমান সুযোগ-সুবিধাগুলো ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সব দেশের জনগণের উন্নয়ন, সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও শান্তির জন্য প্রয়োজন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার পার¯পরিক সহযোগিতা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাকু সম্মেলন বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সঙ্গে এ অঞ্চলের সব দেশের ভাগ্য ও উন্নয়ন জড়িত। প্রথমত, এই সম্মেলন আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদীর্ঘকাল ধরে যা কিনা বহুপক্ষীয় স¤পর্ক উন্নয়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। যেমন ইরান ও আজারবাইযানের মধ্যে রেল যোগাযোগ, উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে পণ্য পরিবহন করিডোর, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সমঝোতার কথা উল্লেখ করা যায়। তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, নানা ক্ষেত্রে এই তিন দেশের সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এমন সময় বাকু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিস্তার, মাদকের ছড়াছড়ি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ কারণে কোনো দেশের একার পক্ষে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
ইরান কাজেকর্মে এটা প্রমাণ করেছে, দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় স¤পর্কের মাধ্যমে তারা প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে আর্থ-রাজনৈতিক স¤পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যেখানে সম্মিলিত প্রচেষ্টার দরকার সেখানেই ইরান তার আন্তরিকতা দেখিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরমাণু সংকট থেকে শুরু করে সিরিয়া সংকট পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ইরান রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক স¤পর্ক ও সহযোগিতা বজায় রেখেছে। বাকু সম্মেলন ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের সুযোগ এনে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, রাশিয়া ও আজারবাইযানের প্রেসিডেন্টদের বৈঠক এ তিন দেশের মধ্যে আর্থ-রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স¤পর্ক বিস্তারে বিরাট ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিরাজমান আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত স¤পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ও ভ¬াদিমির পুতিন। গত ৮ আগস্ট রাতে আজারবাইযানের রাজধানী বাকুতে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও রুহানির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় এবং সেখানে তারা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পশ্চিম আফ্রিকা সফর
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব মাহ্মূদ্ জাভাদ যারীফ্-এর নেতৃত্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৩৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল গত ২৪ থেকে ২৯ জুলাই (২০১৬) পশ্চিম আফ্রিকার চারটি দেশ সফর করেন। এ সফরকালে প্রতিনিধিদলটি নাইজেরিয়া, ঘানা, গিনি ও মালী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় মিলিত হন। সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি গত ২৯ জুলাই তেহরানে প্রত্যাবর্তন করেন।
পশ্চিম আফ্রিকা সফরকারী ৩৮ সদস্য বিশিষ্ট ইরানি প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইরানি ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিত্ববর্গ। তাঁরা তাঁদের সফরের প্রথম ধাপে গত ২৪ জুলাই নাইজেরিয়ার রাজধানী আবূজায় পৌঁছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব জাভাদ যারীফ্ তাঁর নাইজেরিয়ায় অবস্থানকালে নাইজেরিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব মুহাম্মাদ বুহারীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
জনাব জাভাদ যারীফ্ তাঁর পশ্চিম আফ্রিকা সফরের দ্বিতীয় ধাপে গত ২৬ জুলাই ঘানার রাজধানী আক্রা-য় উপনীত হন। সেখানে তিনি ঘানার বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশেষত ঘানা পার্লামেন্টের স্পিকার জনাব এডওয়ার্ড ডোয় আদ্জাহো ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব হান্না তেত্তেহ্র সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনায় মিলিত হন। এছাড়া তিনি ঘানার প্রেসিডেন্ট জন দ্রামানী মাহামা-র সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
আক্রা-য় অবস্থানকালে জনাব জাভাদ যারীফ্ ‘ইরান-ঘানা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতায় তিনি ইরান ও ঘানার মধ্যকার সম্পর্কের ওপর খুবই গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ইরান ও ঘানা দু’টি উন্নয়নশীল দেশ এবং উভয় দেশই দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
পরদিন ২৭ জুলাই জনাব জাভাদ যারীফের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলটি গিনি-র রাজধানী কোনাক্রি পৌঁছেন। সেখানে অবস্থানকালে জনাব জাভাদ যারীফ্ গিনির প্রেসিডেন্ট আল্ফা কোন্ডে, প্রধানমন্ত্রী মামাদী ইউলা, জাতীয় পরিষদের স্পিকার ক্লাউডে কোরি কন্ডিয়ানো ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাকালে ট্রাওরে-র সাথে সাক্ষাৎ ও উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন।
একদিন পর এ সফরের শেষ ধাপে জনাব জাভাদ যারীফ্ গত ২৮ জুলাই মালীর রাজধানী বামাকো-য় উপনীত হন। সেখানে তিনি দেশটির বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন এবং বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিবো কেইতা ও মালীর জাতীয় পার্লামেন্টের স্পীকার ইস্সাকা সিদিবে-র সাথে সাক্ষাৎ করেন।

পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্টদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী গত ৪ আগস্ট ২০১৬ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ঢাকা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন বিকাশে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
ভ্রাতৃপ্রতিম দুই রাষ্ট্রের স¤পর্ক আগামী দিনে আরো জোরদার হবে বলে বৈঠকে দু’পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বৈঠকে মুসলিম দেশগুলোতে বিরাজমান অনৈক্য, গোষ্ঠীগত সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রাষ্ট্রদূত ইরানের তাবরিজে আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ‘১ংঃ অংরধ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ উরধষড়মঁব গরহরংঃবৎরধষ গববঃরহম ড়হ ঞড়ঁৎরংস’ এ বাংলাদেশের মন্ত্রীর সফরসূচির বিষয়ে আলোচনা করেন।
ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে ধর্মীয় মিল ছাড়াও রয়েছে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, অভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য যা দু’দেশের মধ্যে নতুন নতুন যোগাযোগের ক্ষেত্র উন্মোচন করতে পারে। মুসলিম দেশগুলোতে হালাল ট্যুরিজমের যে ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দু’দেশ লাভবান হতে পারে। দু’দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে প্যাকেজ ট্যুর এবং অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইরানের জাতীয় গ্রন্থাগার কোরআন মজীদের দু’টি বিরল হস্তলিখিত কপি লাভ করেছে
জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কন্সুলেট্ জেনারেল মিউনিখ পুলিশের কাছ থেকে কোরআন মজীদের দু’টি বিরল হস্তলিখিত কপি গ্রহণ করেছে। একটি ব্যক্তিগত ইরানি সংগ্রহশালা থেকে হারিয়ে যাওয়া এবং মিউনিখ পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত এক উদ্ধার অভিয়ানের ফলে উদ্ধারকৃত কোরআন মজীদের এ বিরল কপি দু’টি গত ২৩ জুলাই (২০১৬) এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে মিউনিখস্থ ইরানি কন্সুলেট জেনারেলকে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সাল থেকে মিউনিখে বসবাসকারী জনৈক ইরানি নাগরিক গৌরবময় প্রাচীন ইরানি সভ্যতার নিদর্শনবাহী ইরানি পা-ুলিপি খুবই পছন্দ করতেন এবং এ ধরনের অনেক পা-ুলিপি সংগ্রহ করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি তাঁর সংগ্রহসমূহ তাঁর উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে যান। তাঁর উত্তরাধিকারীরা দেখতে পান যে, এর কিছু সংখ্যক সংগ্রহ হারিয়ে গিয়েছে। তখন তাঁরা এ বিষয়ে একজন বেসরকারি গোয়েন্দার সাথে আলাপ করেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধানের দায়িত্ব প্রদান করেন। তখন উক্ত বেসরকারি গোয়েন্দা ও পরে ব্যাভেরিয়ান্ পুলিশের জনৈক ক্রিমিন্যাল্ ইনভেস্টিগেশন অফিসার উক্ত সংগ্রহের মরহূম মালিকের জনৈক বিশ্বস্ত লোককে এ ব্যাপারে সন্দেহ করেন এবং দেখতে পান যে, ঐ ব্যক্তিই সংগ্রাহকের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারসমূহ সরিয়ে ফেলেছে।
ব্যাভেরিয়ান পুলিশ ২০১১ সালে ঐ সন্দেহভাজন ব্যক্তির গৃহে অনুসন্ধান চালায়। তখন তাঁরা ঐ গৃহ থেকে ১৭৪টি প্রাচীন দ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হনÑ ঐ সময় যেগুলোর মূল্য ছিল মোটামুটি ৩০ লক্ষ ইউরোর মতো।
মরহূম সংগ্রাহকের কৃত অসিয়তনামায় দেখা যায় যে, তিনি কোরআন মজীদের উক্ত প্রাচীন হস্তলিখিত কপি দু’টি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় গ্রন্থাগারে দান করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে মিউনিখের পুলিশ কর্তৃপক্ষ কোরআন মজীদের এ কপি দু’টি ইরানের জাতীয় গ্রন্থাগারে পৌঁছে দেয়ার জন্য মিউনিখস্থ ইরানি কন্স্যুলেট জেনারেলে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি কোরআন মজীদের উক্ত কপি দু’িট মিউনিখস্থ ইরানি কন্স্যুর্লা জেনারেল জনাব আবদুল্লাহ্ নিকুনামের কাছে হাস্তান্তর করেন।
কোরআন মজীদের এ বিরল হস্তলিখিত কপি দু’টি উদ্ধার ও ইরানের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কারণে কন্স্যুর্লা জেনারেল জনাব আবদুল্লাহ্ নিকুনাম ব্যাভেরিয়ান রাজ্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইরান ও আযারবাইজানের মধ্যে মহাশূন্য ও উপগ্রহ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশ আযারবাইজান পরস্পর মহাশূন্য ব্যবহার ও কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির ৮ই আগস্ট (২০১৬) আযারবাইজানে রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি পর্বে ইসলামি ইরানের আইসিটি বিষয়ক মন্ত্রী ও ইরান-আযারবাইজান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব মাহ্মূদ ওয়ায়েযী গত ৩রা আগস্ট আযারবাইজানের রাজধানী বাকু সফরকালে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
এ সফর কালে জনাব ওয়ায়েযী তাঁর আযারবাইজানী সমপক্ষ জনাব রামিন নামিগোগ্লূর সাথে আলোচনায় মিলিত হন। এ বৈঠকে উভয় পক্ষ দু’দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুুক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে জনাব ওয়ায়েযী বলেন, দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক মোবাইল ফোন যোগাযোগকারীদের যোগাযোগ ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার রুটসমূহের যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং দু’দেশের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে ফ্রিকোয়েন্সী স্পেকট্রাম স্থাপনের ক্ষেত্রে যে যৌথ সমন্বয় রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ খুবই সন্তোষজনক।
এছাড়া তিনি মহাশূন্য ও কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের ক্ষেত্রে আযারবাইজানের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করার জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন যে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ উপকরণ ও যন্ত্রপাতি এবং সফ্ট্ওয়্যার উৎপাদনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য যথাযথ ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে।
এ বৈঠকে উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ও কমিউনিটিসমূহে, যেমন : ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিসি) ও ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ)-এ দু’দেশের মধ্যে অধিকতর ঘনিষ্ঠ সহযোািগতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাপান ইরানে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপমন্ত্রী জনাব আর্মী হোসেইন্ যামানীনীয়া জানান যে, জাপান ইরানি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, এ বিনিয়োগ খুব শীগগীরই কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, জাপান বিশেষভাবে ইরানের তেল শিল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তিনি আরো বলেন, জাপান সব সময়ই ইরানের জন্য একটি ভালো বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পরবর্তী সময়ে জাপান ইরানি অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য পরিকল্পনা করেছে।
জনাব আর্মী হোসেইন্ যামানীনীয়া আরো বলেন, জাপানিরা ইরানের তেল শিল্পের বিভিন্ন দিকে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে। এসব দিকের মধ্যে রয়েছে পেট্রো-কেমিক্যাল, শোধনাগার ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। তিনি আরো জানান যে, জাপান বর্তমানে ইরানে বিনিয়োগের লক্ষ্যে তেল শিল্পের বিভিন্ন দিকের বাজারের অবস্থা পর্যালোচনা করছে।
উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবার আগে জাপান ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতাদের অন্যতম। তখন জাপান প্রতিদিন ইরান থেকে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করত। যদিও জাপান প্রধানত লাইট অয়েল ও গ্যাস কন্ডেন্সেট্ ক্রয়ে আগ্রহী, তথাপি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর ইরান থেকে জাপানের তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব হেরিটেজ সাইটের তালিকায় ক্বেশ্ম্ জিও-পার্কের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ক্বেশ্ম দ্বীপের জিও-পার্ককে তার বিশ্ব হেরিটেজ সাইটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ক্বেশ্ম্ দ্বীপ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সহায়ক ডকুমেন্ট হিসেবে দাখিলকৃত ক্রেডেন্সিয়াল্স্ পরীক্ষা করে দেখার লক্ষ্যে ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ চলতি আগস্ট মাসে এ দ্বীপে সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
ক্বেশ্ম্ জিও-পার্কের প্রধানের সিনিয়র অ্যাডভাইজার জনাব আলীরেযা আমরী কাযেমী বার্তা সংস্থা মেহ্র নিউজ-এর স্থানীয় সংবাদ প্রতিনিধিকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে জানান যে, ইউনেস্কোর যে সব কর্মকর্তা এখানে আসবেন তাঁরা এ দ্বীপের বিভিন্ন ম্যাটারিয়াল এভিডেন্স্ পর্যালোচনা করবেন। তিনি বলেন, ইউনেস্কো কর্মকর্তাগণ এখানে অবস্থানকালে ক্বেশ্ম্ দ্বীপের জিও-পার্ককে ইউনেস্কোর বিশ্ব হেরিটেজ সাইটে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর ডকুমেন্টেশেনের কাজ আঞ্জাম দেবেন। এরপর আগামী অক্টোবরে (২০১৬) ব্রিটেনে ইউনেস্কোর উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল জিও-পার্ক বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ক্বেশ্ম্ দ্বীপের জিও-পার্ককে উক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ইন্দোনেশিয়া ইরানের সাথে স্বীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার আশা করছে
ইন্দোনেশিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে স্বীয় বাণিজ্যের পরিমাণ চলতি বছরে ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি পরিমাণে উন্নীত করার আশা করছে। গত ৪ আগস্ট (২০১৬) ‘ইরান চেম্বার অব্ কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইন্স্ অ্যান্ড্ এগ্রিকালচার’ (আইসিসিআইএমএ)-এর সদস্য জনাব জামাল রায্যাক্বী ও ইরানে নিয়োজিত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জনাব অক্ট্যাভিয়ানো আলীমুদ্দীনের পারস্পরিক সাক্ষাতে ইন্দোনেশীয় রাষ্ট্রদূত এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সাক্ষাতের পর জনাব রায্যাক্বী ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনাকালে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রশস্ততর করা প্রয়োজন তার মধ্যে প্রযুক্তি অন্যতম। তিনি ইরানি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ইরানের জন্য তেল রফতানিকারক দেশসমূহের সংস্থা (ওপেক)-এর সদস্য দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন এবং দু’দেশের মধ্যকার বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলারেরও বেশিতে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
জনাব রায্যাক্বী বলেন, যেহেতু ইন্দোনেশিয়া হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ, সেহেতু ইন্দোনেশিয়ার এনার্জি খাতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও প্রকৌশলী সেবা রফতানি করার ক্ষেত্র অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
জনাব রায্যাক্বী জানান যে, তাঁর সাথে বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জনাব অক্ট্যাভিয়ানো আলীমুদ্দীন দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং বলেছেন যে, তাঁর দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে খেজুর আমদানি করতে আগ্রহী।
জনাব অক্ট্যাভিয়ানো আলীমুদ্দীন এ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ায় মেরিন সামগ্রী উৎপাদন, উষ্ণ ম-লীয় ফল উৎপাদন ও টেক্স্টাইল্ সামগ্রী উৎপাদনের যে বিরাট সামর্থ্য ও সম্ভাবনা আছে তার সাথে পরিচিত হবার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগকারী বিনিময়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট ফিরোজা পাথরের খনি ইরানের নিশাবুরে
ফিরোজা পাথর বেশ মূল্যবান একটি পাথর। বলা হয়ে থাকে, খ্রিস্ট জন্মের ৩৪০০ বছর আগে মিশরের ফেরআউন সীনা মরু প্রান্তরের খনি থেকে ফিরোজা পাথর উত্তোলন করে এবং সাজসজ্জার অলঙ্কার হিসেবে এসব পাথর ব্যবহার করে।
ইরানে সাসানী যুগে ফিরোজা পাথর উত্তোলন এবং তা অলঙ্কারে ব্যবহার করার উপযোগী করার প্রচলন গড়ে ওঠে। তখন আংটিতে এবং বাদশাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজস অলঙ্করণের কাজেই এই পাথর ব্যবহার করা হতো।
খনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সর্বোৎকৃষ্ট ফিরোজা পাথর হলো- ইরানের নিশাবুরী ফিরোজা পাথর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিশাবুরের ফিরোজা পাথর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ফিরোজা পাথর হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পাথর এত বেশি রপ্তানি হয়েছে এবং হচ্ছে যে, নিশাবুর আর ফিরোজা যেন সমার্থক হয়ে পড়েছে।
ফিরোজা পাথর অবশ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাওয়া যায়। নিউ মেক্সিকো, নেভাদা, কলোরাডো, তিব্বত, চিলি এবং সীনা উপদ্বীপ প্রভৃতি জায়গায় ফিরোজা পাথর পাওয়া যায়।
নিশাবুরের ফিরোজা পাথরের খনিটি নিশাবুর থেকে ৫৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে উঁচু। ফিরোজা পাথরের খনিটিতে খনন করতে করতে যে বিশাল গুহার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে, বহুকাল আগে থেকেই এ খনি থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ চলে আসছে।
ইরানের নিশাবুরে প্রাপ্ত ফিরোজা পাথরের চমৎকার রং, এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর খনির প্রাচীনত্বের কারণে এই পণ্যটি কোনো রকম প্রচার বা বিজ্ঞাপন ছাড়াই বিশ্বের বাজারগুলোতে সমাদৃত হয়েছে।
প্রাচীনকালে নিশাবুরের ফিরোজা পাথরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল ভারত এবং চীন। ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরানি ফিরোজা পাথরের প্রাচীন ক্রেতা ছিল। তুরস্ক হয়ে ইরানি ফিরোজা পাথর ইউরোপের বাজারে যেত।

ইরানের নৌবাহিনী স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সক্ষম
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর অধিনায়ক রিয়ার এডমিরাল হাবীবুল্লাহ্ সাইয়ারী বলেন, ইরানের নৌবাহিনী অত্যন্ত সুদক্ষ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বাহিনী যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের সাহায্যে স্বীয় সকল প্রয়োজন পূরণ করে থাকে।
রিয়ার এডমিরাল সাইয়ারী গত ৩রা আগস্ট (২০১৬) ইরানের নৌবাহিনী ও ইরানিয়ান একাডেমিক সেন্টার ফর এডুকেশন, কালচার অ্যান্ড রিসার্চ (এসিইসিআর)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় এ কথা বলেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ইরানের নৌবাহিনী যথোপযুক্ত উপায়-উপকরণসহ বৈশ্বিক জলসীমায় স্বীয় শক্তিশালী উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম।
রিয়ার এডমিরাল সাইয়ারী ইরানী নৌবাহিনীর ফ্যাসিলিটিজ-এর সর্বশেষ প্রযুক্তিতে করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই দেশের একাডেমিক ও শিল্প কেন্দ্রসমূহের সক্ষমতা সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ধারণা লাভের লক্ষ্যে নৌবাহিনী কর্তৃক দেশের বৈজ্ঞানিক ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে।
রিয়ার এডমিরাল সাইয়ারী এ প্রসঙ্গে রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ীর বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যমান স্থাপনাসমূহের উৎপাদন ও কার্যক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, রাহ্বারের নির্দেশনা অনুসরণে আমরা দেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণের সাথে মত বিনিময় করে এবং বেশ কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

ইরানের মাশ্হাদ্ ও লালেজিনের মণিমুক্তা ও মৃৎপাত্রের জন্য বৈশ্বিক খ্যাতির অধিকারী শহরের স্বীকৃতি
ওয়ার্লড্ ক্রাফ্ট্স্ কাউন্সিলের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল শাখা (ডব্লিউসিসি-এপির্আ)-এর জুরি প্যানেল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শহর মাশ্হাদ্ ও লালেজিন্- কে যথাক্রমে মণিমুক্তা ও মৃৎপাত্রের জন্য বৈশ্বিক খ্যাতির শহর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, হস্তশিল্প ও পর্যটন বিষয়ক সংস্থার উপপ্রধান জনাব বাহ্মান নাম্ওয়ার মোত্বলাক্ব গত ৯ জুলাই (২০১৬) এ খবর জানান।
জনাব নাম্ওয়ার মোত্বলাক্ব বলেন, ওয়ার্লড্ ক্রাফ্ট্স্ কাউন্সিলের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল শাখা (ডব্লিউসিসি-এপির্আ)-এর জুরি প্যানেল্ গত এপ্রিল মাসে (২০১৬) মাশ্হাদ্ ও লালেজিন্ সফর করেন এবং এ সফরের পর তাঁরা উক্ত কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পেশ করেন। তিনি আরো বলেন, ওয়ার্লড্ ক্রাফ্ট্স্ কাউন্সিলের ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধানগণ এ বিষয়ে তাঁদের চূড়ান্ত মতামত ঘোষণা করার পর ডব্লিউসিসি-এপির্আ-এর প্রেসিডেন্ট জনাব ক্বাযা হিজ্জাভী ক্বাদ্দূমী উক্ত শহর দু’টি সম্বন্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
জনাব বাহ্মান নাম্ওয়ার মোত্বলাক্ব বলেন, মাশ্হাদ্ ও লালেজিন্ শহরের এ বৈশ্বিক স্বীকৃতি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে হস্তশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবে এবং সেই সাথে দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিকাশেও সহায়তা করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসে (২০১৬) একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উক্ত শহর দু’টির এ বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদ্যাপন করার কথা।
জনাব বাহ্মান নাম্ওয়ার মোত্বলাক্ব বলেন, মাশ্হাদ্ ও লালেজিন্ শহরের এ বৈশ্বিক স্বীকৃতির ফলে এ ক্ষেত্রে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ভারত ও চীনকে ছাড়িয়ে গিয়ে এ ধরনের সর্বাধিক সংখ্যক শহরের অধিকারী দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হলো। কারণ, ইতিপূর্বে ২০১৫ সালেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইস্ফাহান্ ও তাব্রীয্ শহর হস্তশিল্প ও হাতে-বোনা কার্পেটের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক খ্যাতির অধিকারী শহর হিসেবে ওয়ার্লড্ ক্রাফ্ট্স্ কাউন্সিলের স্বীকৃতি লাভ করে।

রাশিয়া রিমোট সেন্সিং কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের ক্ষেত্রে ইরানকে সহযোগিতা দেবে
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব মাহ্মূদ্ ওয়ায়েযী জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে; এ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া ইরানের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেবে।
জনাব ওয়ায়েযী ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ব্যাপারে আলোচনা করার লক্ষ্যে সম্প্রতি মস্কো সফর শেষে তেহরানে প্রত্যাবর্তনের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি জানান যে, তাঁর এ সফরে যেসব বিষয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে তার অন্যতম হচ্ছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট নামে যে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাশিয়া সংশ্লিষ্ট ইরানি শিল্পপ্রকল্পসমূহের সাথে কাজ করবেÑ এ মর্মে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এ প্রকল্পটি জটিল ধরনের তাই এর কাজ শেষ করতে দুই বছর সময় লাগবে।
রাশিয়ান সার্চ ইঞ্জিন ইয়ান্দেক্স প্রসঙ্গে জনাব ওয়ায়েযী বলেন যে, ইরান বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগতম জানিয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ান কর্মকর্তাগণ ইরানে তাদের সার্চ ইঞ্জিনকে অ্যাকটিভ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ সার্চ ইঞ্জিনটি কোনো সীমাবদ্ধতার মুখোমুখী হবে না। প্রাথমিক কাজ ও কতক প্রযুক্তিগত কাজ সমাপ্ত হবার পর সার্চ ইঞ্জিনটি ইরানে তার কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, সমস্ত সার্চ ইঞ্জিনেরই বাজারে প্রবেশের জন্য তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত এবং জনগণকে সেগুলোর মধ্য থেকে স্বাধীনভাবে যে কোনোটি কাজে লাগাবার জন্য সুযোগ দিতে হবে।

ইরানে পঙ্গুদের চিকিৎসায় সহায়ক যন্ত্র আবিষ্কার
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিজ্ঞানী জাভাদ আলভানী এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা শারীরিকভাবে পঙ্গু লোকদের সুস্থকরণে সহায়ক হবে।
জনাব আল্ভানী বার্তা সংস্থা মেহ্র্ নিউজকে বলেন, যাঁরা পার্কিন্সন্স রোগে ভুগছেন, বা স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পেয়েছেন অথবা মাল্টিপ্ল্ সেলেরোসিস্-এ ভুগছেন তাঁদের জন্য ‘স্পোার্টস্ থেরাপি ডিভাইস’ নামক এ যন্ত্রটি উপকারে আসবে। তিনি বলেন, এছাড়া এ যন্ত্রটি একটি পরিবারের সকল সদস্যের জন্য স্পোর্টিং উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
এ যন্ত্রটি যেমন বাড়িতে ব্যবহার করা যাবে, তেমনি এটি ফিজিওথেরাপি ক্লিনিকেও ব্যবহার করা যাবে। জনাব আল্ভানী জানান, স্পোর্ট্স্ থেরাপি ডিভাইসটিতে একটি বহুমুখী ব্যবহারোপযোগী বেড্ রয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট রোগীদের নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণাদি রয়েছে, তেমনি এটি রোগীদের হাত, পা, পিঠের নি¤œাংশ ও হাঁটুর পেশীকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। একই সাথে এটিতে সার্কুলেটরি ও ডাইজেস্টিভ্ সিস্টেমও রয়েছে।
জনাব আল্ভানী আরো বলেন, স্পোর্ট্স্ থেরাপি ডিভাইস রোগীদেরকে তাদের হাত ব্যবহার করতে সহায়তা করে এবং তাদেরকে তাদের পায়ের পেশী শক্তিশালী করার জন্য ব্যায়ামেও সহায়তা করে।
তিনি আরো বলেন, ডিভাইসটি ব্যয়বহুল নয় এবং এটিকে সকল বয়সের লোকের ব্যবহারের উপযোগী করার লক্ষ্যে কাক্সিক্ষত পরিমাপে সমন্বিত করা যাবে। অন্যদিকে কেবল একটি সুনির্দিষ্ট বয়সের উপযোগী করে এটির একটি বৈদেশিক ভার্সনের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে।
ইরানে ন্যাশনাল ব্রেন্ ম্যাপিং ল্যাবরেটরি উদ্বোধন
গত পয়লা আগস্ট (২০১৬) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ও তেহরান প্রদেশের গভর্নরের উপস্থিতিতে ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের টেক্নোলোজিক্যাল ফ্যাকাল্টি ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ব্রেন্ ম্যাপিং ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, এ ল্যাবরেটরিটি কগ্নিশন্ স্টাডিজ-এর লক্ষ্যে মস্তিষ্কের ইমেজিং ও স্টিমুলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে। এটি ডাটা প্রসেসিং, ইমেজ ও সিগন্যালের জন্য এবং সেই সাথে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি অ্যান্ড কগ্নিটিভ্ ইভ্যালুয়েশন ল্যাবরেটরিজ্-এর ক্ষেত্রে অ্যাড্ভান্স্ড্ ফির্চাস্ দ্বারা সুসজ্জিত।
উল্লেখ্য, এ ল্যাবরেটরিটিতে বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের মধ্যে রয়েছে একটি এমআরএল ম্যাগ্নেটিং ব্রেন্ স্টিমুলেশন, ফাংশনাল্ ইন্ফ্রারেড্ স্পেক্ট্রোস্কোপি, ম্যাগ্নেটোএন্সেফালোগ্রাফি, ইমেজ্ প্রসেসিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস্ ও ব্রেন্ স্টিমুলেশন্ উইথ্ আল্ট্রাসাউন্ড্।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল্ ব্রেন্ ম্যাপিং ল্যাবরেটরি হচ্ছে বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি সংস্থা- যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করে থাকে এবং দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ই এটি থেকে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ ও এখানে কাজ করতে পারে।

ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি অর্থনীতি চার বছরে বিশ গুণ বেড়েছে
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যানোটেকনোলজি ইনিশিয়েটিভ্ কাউন্সিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত চার বছরে দেশের ন্যানো প্রযুক্তি অর্থনীতি বিশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ভাইস প্রেসিডেন্ট সোরেনা সাত্তারী গত ৩১ জুলাই এ কথা বলেন।
সোরেনা সাত্তারী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার নানাবিধ অসুবিধা সত্ত্বেও গত চার বছরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ন্যানো প্রযুক্তি অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রতি বছর শতকরা ১২০ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তিনি আরো বলেন যে, ইরানি কোম্পানিগুলো কর্তৃক বিক্রয়কৃত ন্যানো প্রযুক্তি সামগ্রীর মূল্য ২০১১ সালে যেখানে ৫৪ লক্ষ ডলার ছিল সেখানে ২০১৫ সালে ১০ কোটি ডলারের ওপরে ন্যানো প্রযুক্তি সামগ্রী বিক্রি হয়।
ভাইস প্রেসিডেন্ট সোরেনা সাত্তারীর বক্তব্য অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি অর্থনীতির মোট পরিমাণ নির্ধারণে দেশের ন্যানো উৎপাদনের মোট মূল্যকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছেÑ যার প্রধান খাত হচ্ছে ন্যানো বস্তু ও ন্যানো প্রসেস।
ভাইস প্রেসিডেন্ট সাত্তারী আরো জানান যে, ২০১৫ সালে দেশের মোট ন্যানো সামগ্রী উৎপাদনের শতকরা ৩৫ ভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট শতকরা ৬৫ ভাগ সামগ্রী দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। তিনি এ শিল্পের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রসমূহের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে ১৫৭টি কোম্পানি কর্তৃক উৎপাদিত ৩৩০টিরও অধিক ন্যানো সামগ্রী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে টেক্সটাইল শিল্প, পলিমার ও কম্পোজিট্স্, স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, নির্মাণ শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প ইত্যাদি।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ১৫টি বিজ্ঞান সংক্রান্ত সামগ্রী উৎপাদন কোম্পানি তাদের উৎপাদিত সামগ্রী ইরাক, উযবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিশ্বের ২০টি দেশে রপ্তানি করেছে।

রেডিও-ড্রাগ-এর ডেলিভারি উন্নয়নে ইরানি গবেষকগণের সাফল্য
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নিউক্লিয়ার সায়েন্স্ অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (এনএসটিআরআই)-এ কর্মরত গবেষকগণ বিভিন্ন ধরনের ন্যানোস্ট্রার্ক্চাড্ উপাদান ব্যবহার করে ক্যান্সার নিরোধক রেডিও-ড্রাগ-এর ডেলিভারি উন্নয়নে সফল হয়েছেন।
ইরান ন্যানোটেক্নোলজি ইনিশিয়েটিভ কাউন্সিল (আইএনআইসি)-র বক্তব্য অনুযায়ী এ গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্সারের ডায়োগ্নসিস ও নিরাময় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ন্যানোস্ট্রার্ক্চাড্ উপাদান ব্যবহার করে ক্যান্সার-টিউমারে রেডিও ড্রাগসমূহের ডেলিভারি পর্যালোচনা করা। এ গবেষণার ফলাফল অনেক বেশি দক্ষতার সাথে কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাহায্য করতে সক্ষম হবে। ন্যানোড্রাগকে স্থিতিশীল করার এবং একে ক্যান্সারের টিউমারে বয়ে নিয়ে যাবার জন্য এতে পোরাস (ঢ়ড়ৎড়ঁং) সিলিকা ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পোরাস্ সিলিকার সুনির্দিষ্ট এরিয়া এবং এর ন্যানোস্কেল্ড্ র্পো (ঢ়ড়ৎবং) অত্যন্ত বেশি (যরময), এ কারণে তা ড্রাগ স্টাবিলাইজেশনের কার্যকরতা বৃদ্ধি করে থাকে। এর ফলে অধিকতর কার্যকরভাবে ড্রাগ ডেলিভারি প্রক্রিয়া আঞ্জাম দেয়া সম্ভব হয়।
টিউমারে এমসিএম-৪১ ন্যানোপোরাস্ সিলিকার ওপর জটিল স্থিতিশীল অ্যাকুমুলেশন, কুইক রিপেলিং, কপার-৬৪-এর স্বল্পকালীন টিকে থাকা এবং রোগীদের জন্য লোয়ার রেডিয়েশন পর্যবেক্ষণ করা হয়Ñ যা এই রেডিও ড্রাগকে ইমেজিং-এর জন্য ও পিইটি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য ব্যবহার্য একটি যথাযথ অপশনে পরিণত করেছে।
এ গবেষণার ফলাফল অঢ়ঢ়ষরবফ জধফরধঃরড়হ ধহফ ওংড়ঃড়ঢ়বং-এ (াড়ষ. ১১২, ২০১৬, ঢ়ঢ়. ১৩-১৯)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বহুজাতিক প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় ইরানি ছাত্রের পুরস্কার লাভ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘বহু জাতি, এক বিশ্ব’ (‘গধহু খধহমঁধমবং, ঙহব ডড়ৎষফ’) শীর্ষক বহুজাতিক প্রবন্ধ লিখন প্রতিযোগিতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একজন পিএইচডি ছাত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। ইরানি ছাত্র পুইয়া নাদেরী ছিলেন এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৬০ জন ছাত্র-ছাত্রীর অন্যতম।
উল্লেখ্য, এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের রচনায় বৈশ্বিক নাগরিকতা, সাংস্কৃতিক সমঝোতা ও বহুভাষিক সক্ষমতা কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। ইএল্এস্ এডুকেশনাল সার্ভিসেস ও ইউনাইটেড নেশন্স্ একাডেমিক্ ইম্প্যাক্ট (ইউএন্এআই) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তিন হাজার ছয়শ’ প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করে।
এ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষিত হওয়ার পর পুইয়া নাদেরী সহ ৬০ জন বিজয়ীকে নিউ ইয়র্কের হেম্প্স্টিড্স্থ হফ্স্ট্রা ইউনিভার্সিটির ‘ওয়ান্ ওয়ার্ল্ড্ বৈশ্বিক যুব ফোরাম’ (ঙহব ডড়ৎষফ এষড়নধষ ণড়ঁঃয ঋড়ৎঁস)-এ অংশগ্রহণের জন্য দাওআত করা হয়।
দাওআতপ্রাপ্ত উক্ত ৬০ জন মেহমানের নিউ ইয়র্ক সফরের সমস্ত ব্যয় উক্ত ফোরাম বহন করছে। তাঁদের জন্য নিউ ইয়র্ক সিটির গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানসমূহ দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও তাঁদেরকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা করার সুযোগ দেয়া হবে। এ মেধাবী ছাত্রগণ তাঁদের বক্তৃতায় ‘জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক এজেন্ডা ২০৩০’ (টহরঃবফ ঘধঃরড়হং ২০৩০ অমবহফধ ভড়ৎ ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ) সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে স্বীয় অ্যাকশন্ প্লান্ উপস্থাপন করবেন।
উল্লেখ্য, ‘বহু জাতি, এক বিশ্ব’ প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশ থেকে নয় হাজারেরও বেশি প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত ছিল এই যে, প্রতিযোগীর প্রবন্ধের ভাষা হবে জাতিসংঘের ছয়টি অফিসিয়াল ভাষার মধ্য থেকে স্বীয় দেশের এক নম্বর ভাষা ও তার প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম ভাষাÑ এ দু’টি ভাষা Ñ ব্যতীত অন্য যে কোনো ভাষা। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হচ্ছে : ইংরেজি, আরবি, চীনা, ফরাসি, রাশিয়ান্ ও স্প্যানিশ।
এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অন্যতম ইরানি পিএইচডি ছাত্র পুইয়া নাদেরীর জন্ম ইরানের ঐতিহাসিক গরুত্বপূর্ণ নগরী ইস্ফাহানে এবং তিনি সেখানেই বড় হন। তিনি ফ্রান্স থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি ফ্রান্সের অ্যামিয়েন্স্-এ অবস্থিত পির্কাদি জুলে র্ভেন্ বিশ্ববিদ্যালয়ে [টহরাবৎংরঃল্ক ফব চরপধৎফরব ঔঁষবং ঠবৎহব (টচঔঠ)] পিএইচডি-র জন্য অধ্যয়নরত আছেন।

বিশ্ব তরুণ দাবা অলিম্পিয়াডে ইরানের শিরোপা জয়
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় দাবা টীম ‘২০১৬ ওয়ার্ল্ড্স্ অনুর্ধ¦ ১৬ চেস অলিম্পিয়াড’-এ তাদের রোমানিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীদেরকে ফাইনাল রাউন্ডে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো বৈশ্বিক শিরোপা জয় করেছে।
ইরানের জাতীয় দাবা টীম তাদের রোমানিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ১.৫ পয়েন্টের মোকাবিলায় ২.৫ পয়েন্ট লাভ করে শিরোপা অর্জন করলো। সেøাভাকিয়ার পোর্পাদ্-এ গত ২১ থেকে ৩০ জুলাই এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে ২৬১ জন দাবা খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।
এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ইরানী টীমের সদস্যগণ ছিলেন : আলীরেযা ফীরুয্যা, অরাশ্ তাহ্বায্ ও র্পাহাম্ মাক্বছূদ্লূ। আলীরেযা ফীরুয্যা ও অরাশ্ তাহ্বায্ উভয়ই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে র্পাহাম্ মাক্বছূদ্লূ ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা টাই হয়ে সমাপ্ত হয়।
ফেডারেশন্ ইার্ন্টান্যাসিওনেল্ দেস্ এচেস্ (এফ্আইডিই)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্ট ৯ রাউন্ড সুইস্ সিস্টেম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে টীমসমূহের মধ্যকার প্রতিটি ম্যাচ ৪ বোর্ডের ওপর অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইরানের দু’টি স্বর্ণপদক লাভ
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (ওচযঙ ২০১৬)-এ অংশগ্রহণ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ছাত্ররা দু’টি স্বর্ণপদক লাভ করে।
উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ইরানি টীমের অন্তর্ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ছিল : আমীর হোসেইন্ ইস্তিরী, মোহাম্মাদ মাহ্দী সাব্বাক্বী নাদুশান্, সাইয়্যেদ মোহাম্মাদ হোসেইন্ শারীফী কেলাহ্রূদী, আমীন মোর্হারামীর্পূ ও আমীর রেযা নেগারী। এদের মধ্যে আমীর হোসেইন্ ইস্তিরী ও মোহাম্মাদ মাহ্দী সাব্বাক্বী নাদুশান্ Ñ এদের প্রত্যেকে আলাদাভাবে Ñ স্বর্ণপদক জয় করে এবং শারীফী কেলাহ্রূদী রৌপ্যপদক লাভ করে। এছাড়া আমীন মোর্হারামীর্পূ ও আমীর রেযা নেগারী আলাদাভাবে ব্রোঞ্জপদক লাভ করে।
উল্লেখ্য, এ প্রতিযোগিতায় চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়া যথক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে আয়োজিত এ ৪৭তম আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড গত ১১ থেকে ১৭ জুলাই (২০১৬) অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।

আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ইরানি টীমের ৪টি পদক লাভ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তরুণ জীববিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইবিও)-এর ২৭তম রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে একটি রৌপ্যপদক ও তিনটি ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছেন। গত ১৭ থেকে ২৪ জুলাই (২০১৬) এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ইরানি টীমের সদস্যদের মধ্যে জনাব কিয়ান্ নিযামী রৌপ্যপদক জয় করেন এবং জনাব মোহাম্মাদ সাদেকী ও জনাবা মাহ্দীয়াহ্ হামেদী ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত ২৬তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইরানি টীম একটি স্বর্ণপদক ও একটি ব্রোঞ্জপদক জয় করে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল।
উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য ২৯তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (আইবিও) একটি বার্ষিক প্রতিযোগিতাÑ যাতে সারা বিশ্বের সব দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে জীববিজ্ঞানের জ্ঞানে তাদের পারদর্শিতা ও উদ্ভাবনী শক্তি প্রদর্শন করেন। এ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ১৯ বছর বয়স্ক স্কুল ছাত্র-ছাত্রিগণ অংশগ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবার আগে প্রত্যেক দেশে জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে প্রথম থেকে চতুর্থ স্থানের অধিকারীকে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হয়।

বিশ্বসেরা ফ্রিস্টাইল কুস্তিগীরের তালিকায় ইরানের রাহীমী ও হাদী
গত জুলাই মাসে (২০১৬) ইউডব্লিউডব্লিউ প্রি-অলিম্পিক ফ্রিস্টাইল্ র‌্যাঙ্কিং এ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ফ্রিস্টাইর্লা হাসান্ রাহীমী ও র্পাভীয্ হাদী দুই ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে যথাক্রমে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ অ্যাথ্লেট্ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
২৬ বছর বয়স্ক ইরানি ফ্রিস্টাইল্ কুস্তির্গী হাসান্ রাহীমী ৫৭ কেজি ওজনের শ্রেণিতে জর্জিয়ার ভøাদিমির খিন্চেগাশ্ভিলী-র পরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। অন্যদিকে ইরানের র্পাভীয্ হাদী ১২৫ কেজি ওজন বিভাগে সর্বসাম্প্রতিক বৈশ্বিক র‌্যাঙ্ক্ংি-এ প্রথম স্থান অধিকারকারী জর্জিয়ার জেনো পেত্রিয়াশ্ভিলী ও দ্বিতীয় স্থান দখলকারী রাশিয়ার বিলীয়াল্ মাখোভ্-এর পরে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।

এশীয় জুনিয়র ওয়াটার পোলো চ্যাম্পিয়নশীপে ইরানের তৃতীয় স্থান অধিকার
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫ম এশীয় জুনিয়র ওয়াটার পোলো চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জুনিয়র ওয়াটার পেলো টীম ৫ম স্থান অধিকার করেছে। ইরানি টীম এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বে ৯ পয়েন্টের মোকাবিলায় ১৫ পয়েন্ট পেয়ে উযবেকিস্তানের টীমকে পরাজিত করে এ বিজয় অর্জন করে। ফলে ইরানি টীম এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিজয়ী হিসেবে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। উল্লেখ্য, এ প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে জাপান ও চীন।
৫ম এশীয় জুনিয়র ওয়াটার পোলো চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা গত ২১ জুলাই (২০১৬) শুরু হয় এবং ২৭ জুলাই সমাপ্ত হয়।

আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে ইরানের ষষ্ঠ স্থান অধিকার
জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। উল্লেখ্য, এ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে ইরানি তরুণ রসায়নবিদগণ দু’টি স্বর্ণ পদক ও দু’টি রৌপ্যপদক লাভ করেছে।
গত ২৩শে জুলাই থেকে ১লা আগস্ট (২০১৬) পর্যন্ত তিবিলিসে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের পাঁচ মহাদেশের ৬৭টি দেশ থেকে তরুণ রসায়নবিদগণ অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ইরানের আমীর আলী কারীমী ও পেইমন্ র্মীক্বাদেরী স্বর্ণপদক এবং ঈমান মাম্বারী ওসগুয়েঈ ও যাহ্রা কাযেমী রৌপ্যপদক লাভ করেন।
এ প্রতিযোগিতায় চীন, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া ও তাইওয়ান যথাক্রমে প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অধিকার করে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আযারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিল।

তেহরানে আইএস্এফ্সি এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে
তেহরানে চলতি ২০১৬ সালের আইএস্এফ্সি এশিয়ান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। গত ৬ই আগস্ট (২০১৬) ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মাউন্টেনীয়ারিং ও স্পোর্টস ক্লাইম্বিং ফেডারেশনের প্রধান জনাব রেযা যরেঈ এ খবর প্রকাশ করেন।
জনাব রেযা যরেঈ জানান যে, এ পর্যন্ত জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর আগামী ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তেহরানে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে স্বীয় প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, এ প্রতিযোগিতায় মোটামুটি ১৫টির মতো টীম অংশগ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, এ প্রতিযোগিতা যাতে অত্যন্ত উচ্চ মানসম্পন্ন হয় সে লক্ষ্যে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
এছাড়া ঐ সময় চীনে অনুষ্ঠানরত ‘এশিয়ান্ চ্যাম্পিয়নশীফ দুয়ুন’ সম্পর্কে জনাব রেযা যরেঈ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চীনের দুয়ুনে অনুষ্ঠানরত এ ইভেন্টে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দল আশাব্যঞ্জক ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরো জানান যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পর্বতারোহী দল অচিরেই জর্জিয়ার গিরিশৃঙ্গসমূহে আরোহণের জন্য বর্তমানে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

ইরানি বাস্কেটবল খেলোয়াড়গণ পুনরায় ‘এশিয়ান অনুর্ধ¦ ১৮’ খেতাব অর্জন করেছেন
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তরুণ বাস্কেটবল খেলোয়াড়গণ ‘২০১৬ ফিবা (এফআইবিএ) এশিয়া অনুর্ধ¦ ১৮ শিরোপা’ প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে পুনরায় ‘এশিয়া অনুর্ধ¦ ১৮’ খেতাব অর্জন করেছেন। ইরানি খেলোয়াড়গণ এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে ৬৫ পয়েন্টের মোকাবিলায় ৭১ পয়েন্ট লাভ করে জাপানকে পরাজিত করে এ শিরোপা জয় করেন।
এ প্রতিযোগিতায় ইরানের পক্ষে মেহেরান রেযায়ী ১৮ পয়েন্ট ও মোহাম্মাদ জা‘ফারী ১৬ পয়েন্ট লাভ করেন। এছাড়া আমীর হোসেইন রেযায়ীফার ১০ পয়েন্ট অর্জন করেন। আর তাঁরা ১২টি রিবাউন্ড লাভ করেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০০৮ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রথম বারের মতো ‘এশিয়া ইউ ১৮’ খেতাব অর্জন করে। এই নিয়ে ইরান তিন বার এ খেতাব লাভ করলো।
১৯৯০ সালের পর থেকে এ প্রতিযোগিতায় জাপান এবার প্রথম বারের মতো ফাইনালে উন্নীত হয়, কিন্তু দ্বিতীয় বার শিরোপা অর্জনে ব্যর্থ হয়। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের পর এবার জাপান দ্বিতীয় বারের মতো রানার্স-আপ অবস্থান লাভ করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ৬৩ পয়েন্টের মোকাবিলায় ৮৬ পয়েন্ট লাভ করে তৃতীয় স্থান দখল করেছে।