মঙ্গলবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় জাতীয় কবি নজরুলকে স্মরণ

পোস্ট হয়েছে: আগস্ট ২৮, ২০১৮ 

news-image

বাঙালি জাতির অনন্ত প্রেরণার উৎস জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলার মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষ এই বিদ্রোহী কবি। মানুষের দুঃখ-বেদনা দূর করতে, সংগ্রামী চেতনার মশাল জ্বালিয়ে রাখতে তিনি সার্বক্ষণিক প্রেরণা হয়ে আছেন বাঙালির হৃদয়ে। প্রয়াণবার্ষিকীতে প্রেম ও দ্রোহের এই কবিকে গতকাল সোমবার স্মরণ করা হয়েছে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।

প্রয়াণবার্ষিকীতে জাতীয় কবির সমাধি ভরে যায় ফুলে ফুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিস্থলে সোমবার সকালেই উপস্থিত হয় তাঁর পরিবারের সদস্য, ভক্ত-অনুরাগী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। প্রথমেই কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় কবি পরিবারের সদস্যরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি প্রমুখ।

কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, নজরুল ইনস্টিটিউট, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, কপিরাইট অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

কবির নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের জীবনদর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক। আমরা সবাই মানুষ—এটাই ছিল তাঁর আদর্শ।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজও নজরুল জীবনী ও রচনাবলি ইংরেজিতে প্রকাশ করা হলো না এবং বিশ্বের দরবারে তাঁকে সেভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁকে শুধু বাংলার মধ্যে বেঁধে রাখলে চলবে না। বিশ্বের দরবারে তাঁকে পৌঁছে দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষকে আমরা উৎপাটিত করব দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। জাতীয় কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে এটাই আমাদের অঙ্গীকার, প্রত্যয়, শপথ।’

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সমাধি প্রাঙ্গণে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নজরুল গবেষক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী, সংগীত বিভাগের চেয়ারপারসন টুম্পা সমদ্দার প্রমুখ।

রফিকুল ইসলাম বলেন, কবির সমাধিকে যেন স্মৃতিসৌধ করে ফেলা না হয়। এটা সমাধিই থাকবে। কবির বিভিন্ন কবিতায় অনেক গাছ ও ফুলের নাম রয়েছে। সেসব ফুলের গাছ সমাধি প্রাঙ্গণে লাগানোর জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল, ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

নজরুল পুরস্কার পেলেন দুই গুণী : নজরুল ইনস্টিটিউট প্রবর্তিত ‘নজরুল পুরস্কার-২০১৭’ পেলেন খায়রুল আনাম শাকিল ও অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী। নজরুল প্রয়াণবার্ষিকীতে গতকাল বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবির নাতনি খিলখিল কাজী। স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা।

পদক প্রদান ও আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুলের গান পরিবেশন করেন ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান, ছন্দা চক্রবর্তী, নার্গিস পারভীন বনি, লুত্ফুন্নাহার পাখি, গোলজার হোসেন ও সুদাম কুমার বিশ্বাস। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে নজরুল ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণার্থী ও আজনবী সংগীত একাডেমির শিল্পীরা। একক কণ্ঠে আবৃত্তি করেন নায়লা তারান্নুম কাকলী। কবির পত্র পাঠ করেন স্নিগ্ধা বাউল।

শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবসে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশু একাডেমির শিশু শিল্পীরা গেয়ে শোনায় দুটি গান। শিল্পকলা একাডেমির শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রশিক্ষণার্থীরা গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে। একক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, গার্গী ঘোষ, সুমাইয়া বিনতে আলম ও রাইয়ান বিনতে হাবিব। একক আবৃত্তি করেন মাহিদুল ইসলাম মাহি।