রবিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভাষাশহীদদের স্মরণ

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৯ 

news-image

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করল জাতি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে দেশের সব প্রান্তের প্রতিটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। অগণিত বাহারি ফুলের ডালায় অপরূপ শোভা ধারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিশাল চত্বর। শহীদ মিনারে ফূল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গান, কবিতা আবৃত্তি, দোয়া, সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠানসহ গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দিনব্যাপী চলে আরো নানা আয়োজন। বাংলাদেশের সাথে সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাত ১২টা ১টি মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিবর্গ ও দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুনরায় পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেয়র সাঈদ খোকন এবং এরপর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ বেদীতে।
জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর শহীদ বেদীতে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর অ্যাটার্নি জেনারেল, আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, ভাষাসৈনিকরা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা, বিদেশী সংস্থার প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সাথে ছিলেন।
সেক্টর কমান্ডাররা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো: আক্তারুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় শহীদ মিনার চত্বর। রাত ১২টা বাজার আগে থেকেই শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। একুশের প্রথম প্রহরের আনুষ্ঠানিকতার পর ভোর রাত থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে মানুষের ঢল নামে। এ সময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ লাগিয়ে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিÑআমি কি ভুলিতে পারি’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। ভোরের সূর্য ওঠার পর বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার। বিকেল পর্যন্ত চলতে থাকে জনতার জোয়ার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র, যুব, শ্রমিক, কৃষক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় মানুষের মেলায়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার এলাকার বিশাল চত্বর। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা সব বয়সী মানুষের পোশাক, পরিচ্ছদ এবং শরীরে ছিল একুশের ছাপ। শিশু কিশোর, তরুণ-তরুণীদের গালে, বাহুতে একুশের আল্পনা যেমন ছিল তেমনি বয়স্কদের পোশাক পছন্দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে একুশের শোকের ছাপ। সাদা কালো ম্যাচ করা পোশাক পরিধানের সাথে সাথে অনেকের মাথায় ছিল একুশের স্লোগান লেখা ফিতা। অনেকের বুকে ছিল শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমাদের ছাত্র-তরুণরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত করেছিল। তাদের সেই সংগ্রাম এবং ত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়ে আসছে একুশে ফেব্রুয়ারি।
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ঐতিহাসিক একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
শহীদ দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
এ উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে।
রাজধানী ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
সারা দেশে মাতৃভাষা দিবস পালিত
খুলনা ব্যুরো জানায়, দিবসটি উপলক্ষে খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারে খুলনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর কমান্ড, কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও কেএমপি কমিশনার, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, চেম্বার অব কমার্স, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খুলনা প্রেস ক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ভোর হতেই প্রভাত ফেরী সহযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, রাত ১২টা ১মিনিটে দিবসের প্রথম প্রহরে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের মানুষ। শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে একে একে জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান গণি পাটোয়ারীর নেতৃত্বে জেলা পরিষদ, নৌ-পুলিশ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা, পৌরসভা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বরগুনা সংবাদদাতা জানান, বরগুনায় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।
সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রভাত ফেরী শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। প্রভাত ফেরীতে জেলা প্রসাশক মো: কবির মাহমুদসহ প্রসাশন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বৃহস্পতিবার দিবসের প্রথম প্রহরে ভিসি ভবন থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ সময় বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান, প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, প্রোভিসি অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো: জাকারিয়া ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এম এ বারীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর ওই সময়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন রাবি প্রেস ক্লাব, রাবি ছাত্রলীগ ও হলের নেতাকর্মীরা।
সিলেট ব্যুরো জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, একুশ আমাদের অহঙ্কার, গৌরব, জাতিসত্তা ও প্রেরণার উৎস। তাদের দেখানো পথ ধরেই পরবর্তীতে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও অঙ্গীকারে দানা বেঁধেছিল। সে স্বপ্নই স্বাধীনতা সংগ্রাম, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আমাদের পথ দেখিয়েছে, এখনো দেখায়।
জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খানের নেতৃত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মহসীন সরকার, জাপা নেতা লোকমান পাটোয়ারী, জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন সরকারসহ নেতৃবৃন্দ।
ইবি সংবাদদাতা জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১.৪৫ টায় প্রশাসন ভবন চত্বর হতে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে এক শোক র‌্যালি বের করা হয়। রাত ১২.০১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভিসি, প্রোভিসিসহ শিক্ষকবৃন্দ।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামে দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেনÑ জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রেস ক্লাবসহ সরকারি ও বেসরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে মহান ভাষা দিবসে নিহত শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সব শেষে দেশের মঙ্গল ও সম্মৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত করা হয়।
মাগুরা সংবাদদাতা জানান, মাগুরায় সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট চত্বর থেকে প্রভাত ফেরী শুরু হয়। র‌্যালিটি সারা শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে পৌঁছে শেষ হয়। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, জেলা প্রশাসক আলী আকবর, পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজয়ানসহ জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ র‌্যালিতে অংশ নেন।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় : ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে তিনি শহীদদের স্মরণে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ভিসি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার বীজ বপন হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন : ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ফাতেহা পাঠ, কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, নওগাঁয় দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেনÑ নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, দিবসটি উপলক্ষে দিনের প্রথম প্রহরে শরীয়তপুরবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, রাত ১২.০১ মিনিটে নেত্রকোনা শহীদ মিনারে আলো প্রজলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভসূচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজসহ শিশু সংগঠন শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে টাউনহল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হাসান মাহমুদ, রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূইয়া, জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আ’লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বগুড়া অফিস জানায়, নানা আয়োজনে বগুড়ায় যথাযথ মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে এবং সকালে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, হাইওয়ে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স, আনসার ভিডিপি, পিবিআই, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সদর উপজেলা আ’লীগ, জেলা জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ সংগঠন, বগুড়া পৌরসভা, জেলা বিএনপি, বগুড়া প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রংপুর অফিস জানায়, প্রথম প্রহরে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরসহ আশপাশে সড়কে নামে মানুষের ঢল। রাত ১২টা এক মিনিট থেকে ভাষা সৈনিক পরিবার, সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মুহম্মদ জয়নুল বারী, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনসহ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করেন।