মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

শৃঙ্খলিত ঈদ : মুক্তি অন্বেষা

পোস্ট হয়েছে: জুলাই ১৭, ২০১৮ 

শৃঙ্খলিত ঈদ : মুক্তি অন্বেষা
আবদুল মুকীত চৌধুরী
১.
ঈদের স্বপ্ন দেখে দেখে কাল পেরিয়ে জীবনভর
দর্শন সে মেলেনি তার, পাইনি আজো তার খবর।
বুকে বুকে সুখ বিলানোর সুবর্ণ এ সময়কাল–
এখনো তো পোহায় নি রাত, নড়েনি সে হাওয়ায় পাল।
সারা বিশ্বে কোলাকুলির দৃশ্য মোহন অবশ্যই;
কিন্তু কবি, তোমার বুকে আগুন জ্বালা–ফুটছে খই!
অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং নেই যে বাসস্থান,
তাদের জন্য কতোটুকুন হলো বলো সে সংস্থান ?
ভাসছে দেশ এবং বিদেশ–দেশে দেশে বুলির রোল!
কপচে যে পার বেলা সবার, এ বঞ্চনার হিসাব খোল্।
ঈদের রাতে নিঁদ নামেনি নিত্ উপবাস অশ্রুময়,
তাদের জন্য এলো ক’জন? ভালবাসার সেই অভয়।
ঈদের খুশি সবার হবে জনকয়েকে বন্দী না,
কোন কালে ভুলে-ভালে এ অসাম্যে সন্ধি না।
২.
বুক মিলানো, সুখ বিলানো, আরো কথা আছে এই
বিশ্ব জুড়ে মাথা খুঁড়ে বিপন্নরা, খবর নেই।
দেশে দেশে শৃঙ্খলিত, নিপীড়িত মানুষ জন
আল্লাহ্ নামের মাশুল দিতে বিভীষিকায় কাল যাপন!
ঈদের কোন রাত সেখানে আনেনি সে খুশির বান,
ঈদের খুশি বিসর্জনেও পায় না রেহাই জান ও মান!
আমরা কিন্তু কী নির্বিকার! চামড়া পুরু, আছি বেশ।
আক্রান্ত, নিপীড়িত, নেই তো তাদের চিন্তা লেশ!
শয়ে শয়ে বোমার ঘায়ে লক্ষ কোটির জীবন যায়,
অজ্ঞ মুসলমানকে দেখে একবিংশের হাসি পায়,
বিশ্ব হাসে, ভিরমি খায়!
রক্ত এবং অশ্রুতে আজ বন্যা দেখো অনেক দেশ,
ঈদের রাতের আনন্দ কই ? মুক্তিই তো নিরুদ্দেশ!
ঈদ আসে না সে আঙিনায়, তাদের মানা খুশির গান,
তাদের চোখে অশ্রুমালা–নামলো বুকে দুখের বান।
লক্ষ কোটি আঁকড়ে মাটি ঈদের রাতে কাল কাটায়,
তাদের আপন লক্ষ স্বজন নিহত আহত হায়!
মানুষ নামের পশুর ভয়ে ঈদ আনন্দ কুঁকড়ে হায়
দেখো কেমন ঝুলে আছে খাঁচার পাখি বারান্দায়!
কোলাকুলি দূরের কথা, আতঙ্কে রাত সারা হয়,
আরাকানের বিষণ্ণ রাত শৃঙ্খলে সে কারা হয়।
৩.
বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষ কাঁদে, ঈদ কোথায় ?
ভিন্ন দৃশ্য দেশে দেশে–ঈদের খুশি উপচে যায়!
বঞ্চনা ও নিপীড়নে গোটা বিশ্ব অশ্রুময়;
এ দুই পশুর হনন ঈদের পূর্বশর্ত গায় সময়।
দেখো দেখো দৃশ্য করুণ–বিশ্বে স্বজন হনন কাল;
কিন্তু খুশির নেই হেরফের, আনন্দ সে কী উত্তাল!
জিজ্ঞাসাটা : আমরা কি সেই স্বর্ণযুগের সুসন্তান ?
যাদের কন্ঠে মানব জাতির কল্যাণী সে অভয় গান
মুক্ত করতে অতলান্তিক ঊর্মিমালা পেরিয়ে, সেই
মুসলমানের দেখা পাবার স্বপ্ন মরে অঙ্কুরেই ?
অন্তরে সে বার্তাবিহীন, নেই ভাবান্তর, কাল কাটাই
আমরা নাকি এ বিশ্বটার পাল্টেছিলাম চেহারাটাই!
এখন ফতুর এবং আতুর চিন্তা-মনন ভ্রষ্টকাল,
যেমন খুশি সাজার আপোষ-গা বাঁচানোর হাওয়ায় পাল!
ভিন্ন গোষ্ঠী সদস্যরা মুখ টিপে আর অবাক হয়,
ফেটে পড়ে জিজ্ঞাসে কেউ : এরা কি সেই তারা নয় ?
আগ্রাসী মুখ টিপে হাসে, এমন জাতি নেই কোথাও ;
সুতরাং সব পশু বেরোও, এক এক করে এদের খাও।
প্রতিরোধের ধার ধারে না–সেঁকে কাবাব বানাও তাই,
কী সুবর্ণ সুযোগ, দেখো, ঈপ্সিত সংহতি নাই।
৪.
আয় তো মুক্তিকামী তরুণ, শোন্ বিশ্বে কান্না রোল,
রক্তাশ্রুর বিভীষিকায় কোথায় বিশ্বে সে নজরুল ?
শপথ হবে : ঈদের খুশী ছড়িয়ে দিতে জান কবুল,
বঞ্চিত ও নিপীড়িতের মুক্তিভোরের শ্লোগান তোল্।
অস্তিত্বের এ সংগ্রামে নিবেদিত তরুণ চাই,
শৃঙ্খলিতের মুক্তি দেয়ার বিকল্প যে কিচ্ছু নাই।

কাক্সিক্ষত সেই নাবিক এলেই
আমিন আল আসাদ

[কবি ফররুখ আহমদ মানবতার মুক্তির জন্য একজন সঠিক নেতা তালাশ করে গেছেন আজীবন। তিনি তাঁর বিভিন্ন কবিতায় কখনো সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরী, নাবিক, মাঝি, হাতেম তাঈ ইত্যাদি রূপকার্থে যেসব মুক্তিদাতা নেতা অন্বেষণ করে গেছেন ইসলাম ও মানবতার মুক্তির জন্য ও সত্যিকার ইনসাফ ও ন্যয়ের সুবাতাস বইয়ে দেয়ার জন্য, তিনি ইমাম মাহদী (আ.) ছাড়া আর কেউ নন। কারণ, গোটা দুনিয়া এখন একজন ত্রাণকর্তার জন্য অপেক্ষায় আছে। আর কে না জানে একমাত্র ইমাম মাহদী (আ.) ছাড়া বিরাজমান পৃথিবীতে সম্পূর্ণ শান্তি-শৃঙ্খলা আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না। একমাত্র তাঁর সুশাসনই পৃথিবী দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে কবি ফররুখ আহমদকে বলা হয় ‘ইসলামি রেনেসাঁর কবি’। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য নিম্নের কবিতাটি পেশ করা হলো। ]

দুয়ারে সাপের গর্জন থামে নি তো
আঁধার সাগরে ডুবছে আলোর রেখা
ম্লান পাণ্ডুর হয়ে গেছে সব সম্ভাবনার রঙ
মুখ থুবড়ে পরে আজো পচা বিবেকের লাশ
মতভেদের সীমান্তে মরে মাঝি-মাল্লার দল
রাত্রি গভীরে শত্রুরা বোনে যত ভেজালের বীজ
চোরা পাহাড়ে চৌচির হয় আস্থার পাটাতন
স্বজাতির সব নাবিক আজ ভুল পথে ধরে হাল
দিব্যি আয়েশে শ্রান্তির ঘুমে ছাড়ে সুখ-নিঃশ্বাস
জেহাদের মাঝে খোঁজে না তো ওরা পরম জিন্দেগানী
নিশ্ছিদ্র সীসার প্রাচীর আজ ক্ষতবিক্ষত
সোনালি যুগের নাবিকের মতো হয় না আত্মীয়তা
কমে না তো ঋণ উচ্ছৃঙ্খল রাত্রির, বাড়ে দেনা
আদর্শ স্রােতে ধৌত করেও রক্তধারার পাপ-
ঘোচে না এবং সরে না আঁধার মনের পঙ্কিলতা
চায়ের টেবিলে বেড়ে গেছে আজ স্বার্থের সংলাপ
সার্বিয় রোদ ইহুদি দাপট গ্রাস করে মরুভূমি
তবুও আমরা স্বপ্ন দেখছি, দেখছি হেরার রাজতোরণ
তবুও আমরা বসে আছি সেই নাবিকের পথ চেয়ে
কাঙ্ক্ষিত সেই নাবিক এলেই দূর হবে সব ক্লেদ
উঠবে জেগে হাসনাহেনা গোলাপের সংবেদ।।