মঙ্গলবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

শিশুর মানস গঠনে পরিবারের ভূমিকা

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ২২, ২০১৪ 

news-image

নৈতিক শিক্ষা

নৈতিক শিক্ষার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শিশুদের জীবনের প্রথম দিকের বছরগুলোতে নিম্নলিখিত পন্থাসমূহ অবলম্বন করা যেতে পারে। ভালো কাজের জন্য শিশুর প্রশংসা করা, প্রশংসনীয় আচরণের জন্য তাকে পুরস্কার বা উপহার দেয়া, খারাপ কাজের প্রতি অপছন্দের ভাব প্রকাশ করা ইত্যাদি।

অন্যান্য পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে উপকারী ও শিক্ষামূলক গল্প (যা শিশুদের মধ্যে অসাধারণ গঠনমূলক প্রভাব ফেলবে) পাঠ করা বা বলা এবং অন্যদের ভালো কাজের প্রশংসা করা ও তাদের মন্দ কাজের সমালোচনা করা। এই ধরনের প্রশিক্ষণকালে পিতামাতাকে কখনো কখনো তাদের শিশুর ভুল উপেক্ষা করে যেতে হবে, যাতে দুঃসাহসী না হয়ে যায় সেজন্য মাঝে মধ্যে তিরস্কার করতে হবে। তবে তা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে তার মন্দ কাজের কথা ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখাতে হবে এবং কখনো কখনো তাকে সতর্ক করে দিতে হবে।

ইসলামী সমাজব্যবস্থায় গৌরব এই বাস্তবতার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, অতি শুরু থেকেই মহান মানবীয় শক্তিকে ব্যবহার করতে হবে এবং যে কোন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ও বিশুদ্ধ পদ্ধতি, প্রতিটি বক্তব্য ও কাজকে উৎসাহিত করতে এবং সমর্থন যোগাতে হবে।

পিতামাতা তাদের ছেলেমেয়েদের যৌন আবেগ-অনুভূতির ব্যাপারে উদাসীন থাকতে পারেন না। এই বিষয়ে তাদের পূর্ব পরিকল্পিত মনোভাব থাকে না। যৌন বিষয়ে নীতিকথার দ্বারা তাদের পরিচালিত করা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন ও স্পর্শকাতর ব্যাপার। এ বিষয়ে সামান্যতম ভুল বা অবহেলা ছেলেমেয়েদের দুর্নীতি ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বয়ঃপ্রাপ্তির আগে যৌন আবেগ-অনুভূতির আবির্ভাব লক্ষ্যগোচর হয় না, কিন্তু শিশুকাল থেকেই সব মানুষের মধ্যে এর অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে এবং বিভিন্নরূপে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যদিও শৈশবকালে এই প্রবৃত্তি পুরাপুরিভাবেই সক্রিয় থাকে। বয়ঃপ্রাপ্তির আগে তারা জন্মদান কিংবা দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে এই প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য প্রস্তুত হয় না। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বয়ঃপ্রাপ্তির আগে ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই প্রবৃত্তিকে অবদমিত করে রাখেন। সুতরাং পিতামাতার উচিত ছেলেমেয়েদের মধ্যে উত্তেজনার ভাব জাগাতে পারে এরকম কাজ করা থেকে সত্যিকারভাবেই বিরত রাখা। তাদের উচিত এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করা যার ফলশ্রুতিতে ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই সহজাত প্রবৃত্তির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে।

ইসলাম সঠিক সময়ের পূর্বে যৌন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার বিরোধী। ইসলামের দাবি হচ্ছে, পিতামাতা তাদের সন্তানদের শিক্ষার এমন একটা ভিত গড়ে তুলবেন যার ওপর ভিত্তি করে এই লক্ষ্য অর্জিত হয়। এজন্য এই নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা উচিত। পিতামাতার উচিত অন্যদের সঙ্গে তাদের সন্তানদের সম্পর্ক, তাদের ঘুম, বিশ্রাম, গোসল, স্বাস্থ্য এবং শারীরিক ও মানসিক পরিচ্ছন্নতার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান এবং তাদের একজন পিতা বা মাতা হিসাবে দায়িত্ব পালন ও দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত  করে তোলা পিতামাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এসব ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের অবহিত করতে পিতামাতা বিভিন্ন সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন এবং লাগানো উচিত। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ছেলেমেয়েরা যৌন বিষয়সহ সকল ক্ষেত্রে জানার ব্যাপারে উৎসুক হয়ে ওঠে। সুতরাং তারা গুপ্ত বিষয়সম্পর্কে জানতে এবং এ ব্যাপারে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে। যদি পিতামাতা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেন তাহলে তারা অন্যদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অবহিত হবে। এর ফলে তারা বিপদের দিকে পরিচালিত হতে পারে। পিতামাতার উচিত ছেলেমেয়েদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব তাদের প্রশ্নের কাঠামোর মধ্যেই শিশুসুলভ পন্থায় দেয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা, এর বেশি নয়। পারিবারিক পরিবেশের বাইরেও, যেমন সাহচর্য, সামাজিক পরিবেশ, পঠনীয় বিষয়, শ্রুত কথোপকথন ইত্যাদি বিষয়ও ছেলেমেয়েদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। পিতামাতাকে এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে সঙ্গ বা সাহচর্য তাদের মধ্যে দুর্নীতি আনয়ন করতে না পারে।

(নিউজলেটার, অক্টোবর ১৯৯১)