সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

শিশুদের কান্না থামাবে আকুপাংচার!

পোস্ট হয়েছে: জানুয়ারি ১৯, ২০১৭ 

news-image

সুইডেনের একদল গবেষক বলছেন, পেটের ব্যথায় শিশুরা কাঁদে আর তার এ কষ্ট দূর করবে আকুপাংচার। তাই বলে শিশুর কোমল শরীরে অসংখ্য আকুপাংচার পদ্ধতিতে সুঁই ফুটিয়ে এধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির কড়া সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক মহল। গবেষণায় দুই থেকে আট সপ্তাহের দেড়’শ বাচ্চার ওপর আকুপাংচার পদ্ধাতি প্রয়োগ করে লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদ ভাল ফলাফল পেয়েছেন।

শিশুদের ৩৮৮বার আকুপাংচার করা হয়। ২’শ বারে কেউ কাঁদেনি। ১৫৭ বারে বাচ্চার ১ মিনিটের বেশি সময় কেঁদেছে। ৩১ বারে এক মিনিটের বেশি সময় কেঁদেছে। ১৫টির ক্ষেত্রে এক ফোঁটা রক্ত বের হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, নীতিগতভাবে শিশুদের আকুপাংচার করা যেতে পারে। তবে বাচ্চাদের শরীরের কোন কোন অংশে আকুপাংচার করা হয়েছে তা বলা হয়নি।

আকুপাংচার ইন মেডিসিন জার্নালে এ সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে সব বাচ্চাকে আকুপাংচার করা হয়েছে আর যাদের করা হয়নি তাদের মধ্যে কান্না প্রশমনে বিরাট পার্থক্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরও সমালোচকরা বলছেন, এধরনের চিকিৎসা আক্রমণকর, বেদনাদায়ক এবং এর সফলতা নিয়ে এখনো বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে।

অন্তত ৫টি পরিবারের একটি পরিবারের শিশু পেটের ব্যথায় কান্নাকাটি করে এবং দিনে ৩ ঘন্টা সময় পর্যন্ত বা সপ্তাহে ৩ দিনের সমান সময় বাচ্চারা কাঁদে। এর কারণ পরিস্কার না হলেও হজমে গোলমাল, বদ্ধ বায়ু বা গরুর দুধে অসহিষ্ণুতার কারণে শিশুরা কাঁদে। গবেষণার জন্যে ৪৯টি করে শিশুদের তিনভাগে ভাগ করা হয়। একএকবার প্রতিটি শিশুকে ৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড আকুপাংচার করা হয়। একভাগ শিশুকে আকুপাংচার করা হয়নি।

ফলাফল হচ্ছে যাদের আকুপাংচার করা হয়েছে তারা অনেক কম কান্নাকাটি করেছে, এমনকি হৈ চৈ করেছে আগের চেয়ে বেশি। তাই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে সব বাচ্চা দিনে তিন ঘন্টার বেশি কাঁদে তাদের আকুপাংচার করা যেতে পারে। কিন্তু এধরনের গবেষণার ফলকে উদ্ভট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ফার্মালোজি অধ্যাপক ডেভিড কলকুহউন। ইউনিভার্সিটি অব এক্সটারের অধ্যাপক এডজার্ড আরনেস্ট বলছেন, একটু অতিরিক্ত যত্ন করলেই শিশুরা কান্না ভুলে যাবে।

ব্রিটিশ মেডিকেল আকুপাংচার সোসাইটি বলছে, এধরনের পদ্ধতি পেশীর ব্যথা ও বমি বমি ভাব দূর করতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেকে মনে করেন রোগির মন রক্ষার জন্যে এধরনের চৈনিক পদ্ধতির চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং রোগি মনে করে এটা কাজও করে। জাতিসংঘের গবেষণা সংস্থা বলছে এ নিয়ে কমবেশি গ্রহণযোগ্য বিতর্ক তো রয়েছেই। সূত্র: দি লোকাল