মঙ্গলবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

শিল্পের ছোঁয়ায় গুঠিয়া মসজিদ

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ৯, ২০১৫ 

news-image

আনন্দ, ভালোলাগা আর রূপময় স্বপ্নীল পৃথিবীতে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যেতে মন ছুটে চলে অজানা কোনো সৌন্দর্যের হাতছানি পাহাড়, নদী, সাগর ও অরণ্যে। মাঝে মাঝে বড় একঘেয়ে মনে হয়। মন চায় কোনো শিল্পের কারুকার্যে মন রাঙাতে। আর সে মনের খোরাক জোগাতেই দূর থেকে দূরে ছুটে চলা। সে চলার পথের একটি জায়গা বরিশাল জেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন।

5শিল্পের ছোঁয়ায় তৈরি করা হয়েছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স। স্থানীয় লোকদের কাছে এটি পরিচিত গুঠিয়া মসজিদ নামে। বরিশাল মহানগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বানারীপাড়া সড়ক সংলগ্ন উজিরপুর উপজেলায় এই গুঠিয়া গ্রামের অবস্থান।

অপূর্ব সুন্দর এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ও রূপকার এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। তার একক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের অন্যতম সেরা স্থাপত্য শৈলীর নয়নাভিরাম এই স্থাপনা। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর স্থাপিত এই মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মানে ব্যায় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।এটি নির্মাণে প্রায় দুই লাখ শ্রমিকের সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর।গুঠিয়া ইউনিয়নের প্রায় সব মসজিদের সম্মানিত ইমামদের উপস্থিতিতে ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। আর ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর আলহাজ হযরত মওলানা শাহ্ মোহাম্মাদ মোহেববুল্লাহ্ (পীর ছাহেব ছারছীনা দরবার শরীফ) জামে মসজিদটি শুভ উদ্বোধন করেন।

25506মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলে ডান পাশে রয়েছে একটি পুকুর, পুকুরটির চারপাশ নানান রঙের ফুল ও গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য পুকুর পাড়ের রাস্তা পাকা করে দেয়া হয়েছে। মোজাইক দিয়ে তৈরি শান বাঁধানো ঘাটের বাদাম গাছের নিচে বসে বাতাসের শীতল ছায়ায় শরীর জুড়িয়ে নিতে পারেন মুসল্লিরা। ঘাটের ঠিক উল্টোদিকে মসজিদের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে দুটি ফোয়ারা। রাতে আলোর ঝলকানিতে ফোয়ারাগুলো আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে।

মসজিদটির তিন পাশে খনন করা হয়েছে কৃত্রিম খাল। মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিন-চারটি মসজিদের আদলে, তবে হুবহু একই রকম নয়। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু তার কয়েকজন স্থপতি বন্ধুকে নিয়ে যান শারজাহ, দুবাই, তুরস্ক, মদিনা শরীফ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। স্থপতিরা বিদেশী বিভিন্ন স্থাপত্য মসজিদের আদলে গুঠিয়ায় মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদের সামনের পুকুরটি এমনভাবে খনন করা হয়েছে যাতে পানিতে মসজিদটির পুরো প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

41691২০টি গম্বুজের স্থাপত্যকলায় সাজানো হয়েছে বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স। মাঝখানের কেন্দ্রীয় গম্বুজের চারপাশে বৃত্তাকারে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে পবিত্র আয়াতুল কুরসি। গোটা মসজিদের ভেতরের চারপাশ জুড়ে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে লেখা হয়েছে সুরা আর রহমান। ভেতরের চারকোনের চার গম্বুজের নিচে, প্রবেশ তোরণের সামনে এবং ভেতরের দর্শনীয় কয়েকটি স্পটে শোভা পাচ্ছে আল কুরআনের বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি। এসব সুদৃশ্য ক্যালিগ্রফি এবং আলপনা করা হয়েছে বর্ণিল কাচ, মূল্যবান মার্বেল পাথর, গ্রানাইট ও সিরামিক দিয়ে। ভেতরের নয়টি গম্বুজে বিশালাকৃতির নয়টি অত্যাধুনিক ও মূল্যবান ঝাড়বাতি বসানো হয়েছে।

মসজিদটির মিনারের দৈর্ঘ্য ১৮৩ ফুট। মসজিদটির মেঝেতে বসানো হয়েছে ভারত থেকে আনা সাদা মার্বেল পাথরের টাইলস। মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রায় ২ হাজার মুসল্লি একসাথে নামায আদায় করতে পারেন।মুসুল্লিদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে বিদেশ থেকে আনা অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম।

মসজিদের উত্তরপাশে দুইতলা বিশিষ্ট ভবনে রয়েছে কমপ্লেক্সের অফিস, খতিব ও মুয়াজ্জিনের কোয়ার্টার, এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসা।

মসজিদটির পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আড়াই একর জায়গায় রয়েছে কবরস্থান। পুরো কমপ্লেক্সের আঙিনা জুড়েই রয়েছে ফুলের বাগান, গাড়ি পার্কিং ও হেলিপ্যাড। নিরাপত্তার জন্য কমপ্লেক্সের তিনদিকে মনোরম লেক তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া কাঁটাতারের বেস্টনিতো আছেই।

বিদ্যুৎ লাইনের পাশাপাশি রয়েছে ১৫০/১৫ কেভিএ শক্তিসম্পন্ন নিজস্ব দুটি জেনারেটর। যার কারণে মসজিদটি রাতে অনেক বেশি নয়নাভিরাম মনে হয়। কারণ এর ভেতরে-বাইরে এমনভাবে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যা দর্শকদের নিয়ে যায় অপার্থিব জগতে। যা দেখে মনে পড়বে মহান স্রষ্টা আল্লাহর কথা, আপনা থেকেই মাথা নুয়ে আসতে চাইবে মহান প্রভুর দিকে।

মসজিদটি উদ্বোধনের পর থেকেই অগণিত দর্শনার্থীরা ভিড় জমান এর আঙিনায়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, যায়যায় দিন, নয়া দিগন্ত ।