সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ অপরিহার্য- বিশেষ সাক্ষাৎকারে

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮ 

সাক্ষাৎকার
শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ অপরিহার্য- বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রফেসর মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী
গত ১৩-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ইরানে আয়োজিত ‘এশিয়ান কালচারাল ডায়ালগ অন কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আ ন ম মেশকাত উদ্দিন, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর ড. শফিকুল আলম। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নিউজলেটারের পক্ষ থেকে প্রফেসর ড. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী ও প্রফেসর ড. শফিকুল আলম এর সাক্ষাৎকার পাঠকদের উদ্দেশে পত্রস্থ হলো:
প্রশ্ন ১ : অনুগ্রহ করে গত ১৩-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ইরানে আয়োজিত ‘এশিয়ান কালচারাল ডায়ালগ অন কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ব্যবস্থাপনা ও অর্জন সম্পর্কে কিছু বলুন।
প্রফেসর ড. মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী : গত ১৩-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ইরানে আয়োজিত ‘এশিয়ান কালচারাল ডায়ালগ অন কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো থেকে যাত্রা শুরু পর্যন্ত ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। অতঃপর তেহরান পৌঁছলে বিমান বন্দরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা আমাদের অভ্যর্থনা জানান। বিমান বন্দর থেকে তেহরান শহরের মাঝে ফাইভ স্টার মানের হোটেল লালেহ এ নিয়ে যায়। সেখানে প্রাতঃরাশ শেষ করে গুলিস্তান প্যালেস পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে ইরানের ঐতিহ্যবাহী দুপুরের ভোজ গ্রহণের জন্য ফেরদৌসী হোটেলের আন্ডার গ্রাউন্ডে একটি ডাইনিং এ গমন করি। যে ডাইনিং রুমে পারস্যের ঐতিহ্যবাহী গান পরিবেশনসহ খাদ্য গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুপুরের ভোজের পরে আমরা ইরানের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করে হোটেলে ফিরে রাত্রের খাবার গ্রহণ করে ঘুমিয়ে যাই। পরের দিন সকাল ৮টার মধ্যে সকালের নাস্তা সেরে আমরা ইরানের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করি। উক্ত অনুষ্ঠানে ইরানের ৩ জন মন্ত্রী, আফগানিস্তানের ১ জন মন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির দূত, তুরস্কের রাষ্ট্রপতির দূতসহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি বক্তৃতা করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকল বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদই শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সাংস্কৃতিক সংলাপের অপরিহার্যতা স্বীকার করে তাকে এগিয়ে নেয়ার পক্ষে মন্তব্য করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় সেখানে এশিয়ার ২১টি দেশের প্রতিনিধিত্বের সাথে দুপুরের খাবার গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে কয়েকটি টিভি চ্যানেল আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে শেষে আমরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যাই- Indian Subcontinent বিভাগের অংশগ্রহণকারীরা মাশহাদে চলে যান ও South East Asia বিভাগের অংশগ্রহণকারীরা তেহরানে থেকে যান। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা বেশি ভাগ্যবান। কারণ, মাশহাদ হচ্ছে Holy City। এখানে ইমাম রেযা (আ.)-এর মাযার রয়েছে। তাছাড়া আমাদের অনুষ্ঠান হয় ফেরদৌসী ইউনিভারসিটি অব মাশহাদে। বিকালে আমরা মহান এয়ার লাইন্স এর একটি বিমানে মাসহাদ চলে যাই। যতদিন মাশহাদে ছিলাম ততদিন আবান হোটেলে ছিলাম। আমাদের কার্যক্রম চলে ফেরদৌসী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাছাড়া ইমাম রেযা ও মহাকবি ফেরদৌসীর মাযার যিয়ারতের সুযোগ হয়েছে। তাঁদের ব্যবস্থাপনা ত্রুটিমুক্ত ছিল। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশ-বিদেশে বহু সম্মেলনে অংশগ্রহণের, প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং সেশন সভাপতির দায়িত্ব পালনের। ইরানের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের ব্যবস্থাপনায় আমরা সকলে অভিভূত।
প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম : ইরানে আয়োজিত গত ১৩-১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ তেহরান ও ফেরদৌসি ইউনিভার্সিটি, মাশহাদ-এ অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান কালচারাল ডায়ালগ অন কালচারাল ডাইভারসিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। আমাকে উক্ত সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সম্মানিত আয়োজকম-লীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বিশেষ করে ইরানের আতিথেয়তার কথা ভুলবার নয় এবং তা প্রশংসার যোগ্য।
সম্মেলনে ২১টি দেশের প্রথিতযশা অধ্যাপক, শিক্ষক, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের স্কলার, উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের সামগ্রিক আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। যে লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, আমি মনে করি, তা যথার্থই সফল হয়েছে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ঐ সেমিনারে যে সকল মূল্যবান গবেষণা প্রবন্ধ পঠিত ও আলোচিত হয়েছে তার একটি প্রভাব সম্মেলন শেষে লক্ষ্য করা গেছে। সম্মিলিতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পরবর্তীকালে কার্যকর করা গেলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি সাংস্কৃৃতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রশ্ন ২ : এশিয়ান ডায়ালগ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে সংক্ষিপ্ত ইরান সফরে বর্তমান ইরান সম্পর্কে আপনার ধারণা তুলে ধরবেন কি?
প্রফেসর মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী : ইতিহাসে পারস্য অভিযান পড়েছি এবং পড়িয়েছি। পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার প্রেক্ষিতে বলছি, আজকের ইরান অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে, পৃথিবীতে একটি মাত্র মুসলিম দেশ যা সমগ্র বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হয়েছে। নারীরা সকল পেশায় দক্ষতার সাথে ও পর্দার সাথে কাজ করছে। যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই উন্নত। শিক্ষা ব্যবস্থা মানসম্পন্ন। অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত খুবই মজবুত। তাই একটি গোষ্ঠীর গাত্রদাহ।
প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম :এশিয়ান ডায়ালগ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে ইরান সফরে আমি দ্বিতীয় বারের মতো সুযোগ পেলাম। ইতঃপূর্বে ১৯৯৯ সালে মোল্লা সাদরা ওয়ার্ল্ড কনফারেন্সে যোগ দেবার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। একই সময়ে সিরাজ পরিভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। সেসময় যে ইরান আমি দেখেছি, এবার ১৮ বছর পরে আমি আরও অনেক বেশি উন্নত এক ইরানকে দেখে অভিভূত হয়েছি। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক বন্ধন ইত্যাদি উপলব্ধি করে আমি মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে তেহরানে স্থাপিত ১৪২ তলা ভবন ছিল অতি আকর্ষণীয়। তাছাড়া প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীসমূহ নিঃসন্দেহে অনবদ্য ও আকর্ষণীয়। আমার কাছে ইরানকে আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশসমূহের মতো সমৃদ্ধশালী উল্লেখযোগ্য একটি দেশ মনে হয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় দিক থেকে ইরান অনেক অগ্রগামী এবং অনুসরণীয়।
প্রশ্ন ৩ : বহিঃবিশ্বে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডায়ালগ এর পরিবেশ সৃষ্টিতে ইরানের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টা ও উপস্থাপনা সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাই।
প্রফেসর মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী : ইরানের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় এশিয়ার ২১টা দেশ হতে প্রায় শতাধিক নেতৃস্থানীয় অধ্যাপক ইরানের সাংস্কৃতিক সংলাপে অংশগ্রহণ করেছেন এটি নিঃসন্দেহে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি বুদ্ধিজীবীদের আস্থাজ্ঞাপন।
উন্নত মানের অনুবাদ পদ্ধতি ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় সীমানা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। মারইয়াম নামে একজন গাইড আমাকে সবসময় সহায়তা করেছেন। এত সুন্দর অনুবাদ ব্যবস্থাপনা আমি খুব কম দেশে দেখেছি।
বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানগর্ভ উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহ খুবই মানসম্পন্ন বলে মনে হয়েছে। ইরানের জ্ঞানচর্চার মান সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করেই সিনিয়র অধ্যাপকবৃন্দ এ ধরনের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরিম-লে ডায়ালগ এর পরিবেশ সৃষ্টিতে ইরানি নেতৃত্বের যোগ্যতা, আন্তরিকতা, দক্ষতা, সততা সকলের নিকট প্রশংসিত হয়েছে।
প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম : আমি মনে করি বহিঃবিশ্বে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডায়ালগ এর পরিবেশ সৃষ্টিতে ইরানের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টা ও উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমি আশা করব ইরান এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ইরান ব্যতীত এশিয়ার অপর কোন দেশ এর নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে এই মুহূর্তে আমি বিশ্বাস করতে চাই না। বরং এই ব্যাপারে ইরানের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। সম্মেলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নির্মোহ ও ঐকান্তিক পরিশ্রম সম্মেলনকে সার্থক করেছে। পরবর্তী সম্মেলনগুলোতেও ইরানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৪ : ইরান ও বাংলাদেশের মাঝে সাংস্কৃতিক মিল বা অভিন্নতা সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন।
প্রফেসর মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী : ফারসি এদেশে (১২০০-১৮৩৭ খ্রি) ছয়শ’ বছরের বেশি রাজকীয় ভাষা ছিল। তাই বাংলা ভাষায় ৮০০০ এর অধিক ফারসি শব্দ রয়েছে যা ভাষায় ক্ষেত্রে এ অসাধারণ মিল বলে গণ্য করা যেতে পারে।
আমাদের দেশে সাদী, রুমী, হাফিজের প্রভাব অকল্পনীয়। কবি সাদীকে সাধারণ লোক শেখ সাদী (রহ.) বলে এবং মহানবী (সা.)-এর শানে তাঁর প্রণীত দরুদ সমগ্র দেশে পঠিত হয়। চট্টগ্রামে আল্লামা রুমী সোসাইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। হাফিজের সাথে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের সম্পর্ক ইতিহাস স্বীকৃত। ফেরদৌসী প্রণীত ‘শাহনামা’ এক মহাকাব্য যা বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়ে বাংলা একাডেমী হতে প্রকাশিত হয়েছে। ইরান-বাংলাদেশ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ক এ ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে গেলে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে সমস্যা হয়। কিন্তু সার্বক্ষণিক হালাল খাদ্য পাপ্তিতে ইরানে কোন সমস্যা নেই।
প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম : ইরান ও বাংলাদেশের মাঝে অনেকাংশে সাংস্কৃতিক মিল বা অভিন্নতা বিদ্যমান। তন্মধ্যে পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে এরূপ বন্ধন জীবনের সুখান্বেষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইরানি সমাজেও তাই লক্ষ্য করলাম। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন মানুষের মাঝে সাম্য, ঐক্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধ স্থাপনে সমভাবে সহায়ক হাতিয়ার। আমার কাছে সার্বিক দিক থেকে ইরানকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও শান্তির দেশ মনে হয়েছে।
প্রশ্ন ৫ : ইরানের সাহিত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে শান্তিপ্রত্যাশী অন্যান্য জনগোষ্ঠী কিভাবে উপকৃত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
প্রফেসর মুহিবুল্লাহ সিদ্দিকী : ফারসি সাহিত্যের আরও বেশি অনুবাদ এবং আরো বেশি সাংস্কৃতিক সংলাপ এর মাধ্যমে জাতিতে জাতিতে, গোত্রে-গোত্রে, রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে পরস্পরকে জানার মাধ্যমে আজকের বিশ্বের শান্তি প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী উপকৃত হতে পারে। সঠিক জ্ঞান মহাজ্ঞানীর নিকট সংরক্ষিত।
প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম : ইরানের সাহিত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির উত্তরাধিকার থেকে শান্তিপ্রত্যাশী অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশ বিশেষত উপকৃত হয়েছে। বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় চিন্তা-চেতনায় সুফি-দর্শন ও অন্যান্য মরমি-দর্শনের প্রভাব লক্ষণীয়। পারস্য সাহিত্যে সুফিবাদ শ্রেষ্ঠ স¤পদ। ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, শেখ সাদী, জামী, রূমী- সকলেই এ সত্যের পথিক, সাধক, ভাবুক এবং সুফিবাদের প্রত্যক্ষ অনুশীলনকারী। বাংলাদেশে সুফি-প্রভাব আগমন ঘটে দ্বাদশ শতাব্দীতে। সুফিদের প্রচার কেন্দ্র হিসাবে বরেন্দ্র্র, রাঢ়, বঙ্গ ও চট্টলা খ্যাত। বাংলাদেশের প্রাচীন ভাবধারা পরিবর্তনের মূলে সুফি-প্রভাবই প্রধান। ঐ সকল সুফি বাংলাদেশে সে সময়ে না এলে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার এখানে ঘটত না। তাই বাংলাদেশে পারস্যের তথা ইরানের সাহিত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রভাব লক্ষণীয়। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান রচনার ক্ষেত্রে পারস্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এ প্রসঙ্গে নজরুলের গান ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের যাদু এনেছি, ইরান-তুরান পার হয়ে আমি তোমার দেশে এসেছি’ এদেশে ইরান-সংস্কৃতির প্রভাব নির্দেশ করে।