মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

রুহানির ভারত সফর: নয়াদিল্লি-তেহরান সম্পর্কে নয়া অধ্যায়ের সূচনা

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮ 

news-image

ইরানের প্রেসিডেন্ট গত বৃহস্পতিবার তিন দিনের জন্য ভারত সফরে গেছেন। তার এ সফরকালে দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে এ চুক্তি সই হওয়া থেকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তেহরান ও নয়াদিল্লির আগ্রহের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত দ্রুত উন্নয়নশীল একটি দেশ এবং উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য অন্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধ পরিকর। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নওজার শাফেয়ি বলেছেন, “দ্রুত বিকাশমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতের অবস্থান চতুর্থ। বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় ভারতের নাম রয়েছে।”

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাবলী গত কয়েক বছরে ভারত ও ইরানের সম্পর্কে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে দেশ দু’টি পারস্পরিক সহযোগিতাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় এগিয়ে নিতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান থেকে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ভারতে গ্যাস সরবরাহের যে পরিকল্পনা রয়েছে তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ‘শান্তির পাইপ লাইন’ নামে পরিচিত ওই গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পথে প্রধান দু’টি সমস্যা রয়েছে। এক পাকিস্তান অন্যটি আমেরিকা। কিন্তু ভারত চায় নিশ্চিত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা যেখানে কোনো হুমকি থাকবে না।

অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে ভারতের প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন। অন্যদিকে নিজের পণ্য রপ্তানির জন্য উত্তর ও দক্ষিণের করিডোর ব্যবহার করা ভারতের জন্য জরুরি। অর্থনৈতিক বিষয় ছাড়াও ফার্সি ভাষার সঙ্গেও ভারতের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাই দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাষাও সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের বিকল্প পরিকল্পনাও রয়েছে। তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপনের যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন এতো সহজ হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা বাধা হয়ে আছে। এ ছাড়া, মধ্যএশিয়ায় উগ্রবাদ সমস্যা আরেকটি বাধা। কিন্তু সেই তুলনায় জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ইরান হচ্ছে নির্ভরযোগ্য দেশ এবং ভারতসহ এ অঞ্চলের সব দেশই এ থেকে লাভবান হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিষয় ছাড়াও উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায়ও ইরানের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এদিক থেকেও ইরান হচ্ছে ভারতের জন্য নির্ভরযোগ্য দেশ। ইরানের চ’বাহার সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারত যে পুঁজি বিনিয়োগ করেছে তা থেকেও দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, কখনো কখনো ভারত ও ইরানকে আলাদা মনে হয় কিন্তু দু’দেশের ভাগ্য একসুতায় গাঁথা। ফলে দু’দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য। – পার্সটুডে|