মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

রুদাকি ও তাঁর কাব্য ভাবনা

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ১০, ২০১৬ 

ড. মোঃ মুহসীন উদ্দীন মিয়া*

ফারসি সাহিত্যাকাশে যে কয়েকজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক স্বীয় কর্মদক্ষতা ও কাব্য-সাধনার গুণে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন তাঁদের অন্যতম হলেন অন্ধ কবি রুদাকি। হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতকের সন্ধিক্ষণ ও দশম শতাব্দীর সামানী যুগের বহুল আলোচিত রুদাকিকে বলা হয় ‘ফারসি কবিতার জনক’ ও ‘প্রথম শ্রেষ্ঠ কবি’। তাঁর কাব্যগুণে মুগ্ধ হয়ে সামানী শাসক নাসর বিন আহমাদ (৯১৪-৯৪৩) তাঁকে সভাকবি নিয়োগ করেন এবং কাব্যক্ষেত্রে অসাধারণ পা-িত্যের কারণে তাঁকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন।
পরিচিতি : ফারসি সাহিত্যের প্রাচীনতম ইতিহাস গ্রন্থ সেমনানী রচিত ‘এনসাব’ এর ভাষ্যমতে তাঁর পুরো নাম আবু আবদুল্লাহ জাফর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাকীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আদাম, যিনি রুদাকি নামে সর্বাধিক পরিচিতি পান। রুদাকি নামটি তৎকালীন সমরকন্দের রুদাক অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত। সেময়ানী বলেন, রুদাক কেন্দ্রভূমির নাম ছিল بنج বানোজ। রুদাকি সমরকন্দের পাহাড়ঘেরা রুদাক অঞ্চলের বানোজ বা বান্জ নামক নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। বানোজ শব্দটি মূলত ‘পানোজদেহ’ শব্দের বিকৃত রূপÑ যা আজো বোখারার সমরকন্দে স্বনামে বহাল আছে।১
তাঁর জন্ম সন ও তারিখ স্পষ্ট নয়, তবে হিজরি ৩য় শতকে মধ্যভাগে যে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। কেননা, বিভিন্ন ‘তাযকিরা’ গ্রন্থে তাঁর মৃত্যুসাল ৩২৯ বলে উল্লেখ রয়েছে, আরো বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘ ৭০ বৎসর জীবিত ছিলেন। যেমন তিনি লিখেন-
من موی خویش را نه از آن می کنم سیاه
تا باز نوجوان شوم ونو کنم گناه
چون جامها بوقت مصیبت کنند
من موی از مصیبت پیوی کنم سیاه২
অর্থ : আমার শুভ্র চুলকে কালো করার অর্থ এই নয় যে, আমি যৌবনে ফিরে গুনাহে লিপ্ত হব; বরং এ রং শোক প্রকাশের কালো পোশাকের ন্যায় বার্ধক্যে শোক প্রকাশের নামান্তর।
এ কারণেই তাঁর মৃত্যুসাল অনুপাত হিসাব করলে তাঁর জন্মসাল হয় হিজরি ৩য় শতকের মধ্যভাগ। তাই সম্ভবত তিনি হিজরি ২৫০ সাল থেকে ২৬০ মোতাবেক ৮৬০ হতে ৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের ভেতর জন্ম নিয়ে থাকবেন।৩ ইরানের চিকিৎসাশাস্ত্রের পুবোধা মুহাম্মাদ বিন জাকারিয়া রাযী, সামানীয় ওস্তাদ অভিধায় ভূষিত বিখ্যাত দার্শনিক আবু নাসর ফারাবিও এ সময়েই জন্ম নিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ বিন তাবারি তখন ৩৪ বছর বয়সী ছিলেন এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থরাজি সংকলনে ব্যস্ত ছিলেন।৪
রুদাকির কবিতায় উল্লিখিত সূত্র, সমসাময়িক এবং পরবর্তী কবি-সাহিত্যিক লেখকগণের বর্ণনা মতে, জন্মস্থান রুদাক অঞ্চলের নামানুসারেই উপাধি হিসেবে তিনি রুদাকি নামটি গ্রহণ করেছেন। তবে কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে রুদাকি শব্দটি رود نیک ‘পবিত্র নদী’ হতে উদ্ভূত বলে উল্লেখ করা হলেও এর পক্ষে তেমন কোন জোড়ালো সমর্থন মেলেনি। আবার দৌলত শাহ সমরকান্দির মতে তিনি ‘রুদ’ নামক বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন বলে রুদাকি নামে পরিচিতি পান। এ মতের খ-নে যাবিহুল্লাহু সাফা বলেন, রুদ হতে রুদাকি হয় না; বরং রুদী হওয়ারই কথা।
তবে সেমনানী رسمنانی ‘এনসাব’ নামক গ্রন্থে বলিষ্ঠতার সাথে উল্লেখ করেছেন, রুদাকি নামটি বোখারা ও সমরকন্দের রুদাক গ্রামের নাম থেকেই উদ্ভূত। কেননা, আবু আবদুল্লাহ বানোজ গ্রামের রুদাক এলাকার লোক ছিলেন এবং আঞ্চলিকভাবে সাক্ষ্য হিসেবে তিনি এ কবিতা নামটি গ্রহণ করেছেন।৫
শৈশব ও যৌবনকাল : তাঁর জীবন ও প্রাথমিক শিক্ষা লাভ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে মুহাম্মাদ উফিতার ‘লোবাবুল আলবাব’ গ্রন্থে তাঁর মেধা ও মনন সম্পর্কে চমৎকার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, রুদাকি এতটাই ধীশক্তির অধিকারী ছিলেন যে, মাত্র আট বৎসর বয়সে পবিত্র কুরআন হেফ্য করেন। একই সাথে ইল্মে কিরআত তথা কুরআন পাঠ পদ্ধতি (তাজবীদ বিদ্যা)ও আয়ত্ব করেন। এ সময় থেকেই তিনি কাব্যচর্চা করতেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি এতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
অসমর্থিত কয়েকটি সূত্রমতে তিনি শৈশবে সমরকন্দের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তাঁর কবিতা প্রমাণ করে তিনি শিক্ষিত কবি ছিলেন। ফারসি শব্দ চয়নে তিনি এতটাই পারঙ্গম ছিলেন যে, এখনো প্রায় প্রতিটি অভিধান গ্রন্থে কবিতার নমুনা হিসেবে তাঁর কবিতার উদ্ধৃতি থাকে। সাধারণ মানুষও তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করত এবং তাঁকে উস্তাদ বা শিক্ষক বলে সম্বোধন করত।
যৌবনে রুদাকি ছিলেন সুগায়ক, বেহালাবাদক। বেহালা সংযোগে তিনি কবিতা গাইতেন চমৎকার। তৎকালীন শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ আবুল আমাক বাখতিয়ারীর কাছ থেকে সংগীতে দীক্ষা নিয়ে গুরু কর্তৃক প্রশংসিত হন। তাঁর সংগীত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে উস্তাদ বাখতিয়ারী শেষ জীবনে তাঁর চাঙ্গ (বেহালার মতো বাদ্যযন্ত্রবিশেষ) রুদাকিকে দান করে সম্মানিত করেন।৬
তিনি কবিতাও লিখতেন অসাধারণ। ছন্দবদ্ধ কবিতার পঙ্ক্তিমালার সাথে সুরঝংকারের ঐকতান, হিজরি চতুর্থ-পঞ্চম শতক ও ইরানে ইসলাম আগমনের পূর্বের দিনগুলোতে মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সুরের মূর্ছনাবিহীন কবিতা, আর কবিতা ছাড়া সুর যেন বড়ই বেমানান ছিল।
তখনকার দিনে তিনিই বড় মাপের কবি হিসেবে বিবেচিত হতেন যিনি কবিতার মাধ্যমে সুরের মায়াজাল সৃষ্টিতে পারঙ্গম হতেন। রুদাকি ছিলেন তেমনি একজন কবি যিনি (ক) সুর সৃষ্টি ও গান গাইতে পারতেন। (খ) যন্ত্র সংগীতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন (গ) কবিতা লিখতেন ও তাতে সুরারোপ করতেন (ঘ) সুকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। এ কারণেই তিনি হিজরি চতুর্থ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের শ্রেষ্ঠ কবির স্বীকৃতি পান। তাঁর পরে ফরুরুখি (৪২৯ হি.) শ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
সুরদানে অপারগ কবিগণ তাঁদের কবিতা কাক্সিক্ষত ব্যক্তিবর্গকে সুর সহযোগে শোনাতে রুদাকির দারস্থ হতেন। রুদাকি খুনইয়া গারগণের (বিশেষ গায়ক ও বাদক দলের) শীর্ষস্থানীয় ছিলেন বিধায় অল্প দিনে তাঁর সুখ্যাতি দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পরলে সামানী সম্রাট নাসর বিন আহমাদ (৩০১-৩৩১ হি., ৯১৪-৯৪৩ খ্রি.) তাঁকে শ্রেষ্ঠ সভাকবির মর্যাদা দান করেন।৭
সে সময়ে ফারসি গজলের সাথে সুরের মিশ্রণ ও জনপ্রিয় করতে রুদাকির কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। তাঁর গজলগুলো শুধু সুরের মায়াজালে আচ্ছন্নই ছিল না। ভাবার্থের বিচারেও ছিল মূল্যবান মুক্তোখ-ের মতো। তাঁর গজলের কয়েকটি পঙ্ক্তিÑ
زمانه پندی ازاد وارمرا- زمانه راچو نکو بنگری همه پند است
برو زنیک کسان گفت تاتوغم نخوری – بساکساکه روزتو آرزومنداست৮
অনুবাদ : সময় আমায় দিয়েছে ঢের শিক্ষা
কালের উপদেশে জীবন নিলো মোর দীক্ষা,
অপরের সুখে হয়ো না তুমি দুঃখী
তোমাতে আসিতে অনেকে হয় সুখী।
সামানী সম্রাট নাসর বিন আহমাদের দরবারে রুদাকির কবিতার প্রভাব ছিল অপরিসীম। সম্রাটকে হেরাত থেকে বোখারাতে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর গাওয়া ‘বোখারা’ নামক কবিতাটি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নিযামী আরুজী সমরকান্দি তাঁর ‘চাহার মাকালা’ গ্রন্থে এ ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনায় বলেন, সম্রাট নাসর বিন আহমাদের প্রচলিত নিয়ম ছিল তিনি সভাসদবর্গসহ শীত ঋতুতে বোখারায় এবং গ্রীষ্মকালে সমরকন্দে অবস্থান করতেন। কোন এক গ্রীষ্মে তিনি হেরাতে অবকাশ যাপনে গেলে প্রসিদ্ধ প্রমোদ বাগান বাদ-ই-গীসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে বাদশা বোখারায় আর না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধারে চার বছর সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন।
এতে সম্রাটের প্রত্যাবর্তন কামনায় অস্থির বোখারাবাসী নিরুপায় হয়ে রুদাকির শরণাপন্ন হন। রুদাকিও ‘বোখারা’ নামক কবিতা লিখে সুরারোপের মাধ্যমে সংগীতে রূপ দিয়ে কোন এক নির্মল সকালে বাদশার দরবারে গিয়ে চাঙ্গা নামক বাদ্যযন্ত্রের সহযোগে ‘ওশ্শাক’ রাগ সংগীতের সুরে গাইতে শুরু করেন। রুদাকির সুরের মূর্ছনায় সম্রাট এতটাই আচ্ছন্ন হন যে, সেই মুহূর্তে সভাসদবর্গসহ রাতের পোশাকেই বোখারা পানে যাত্রা করেন। বোখারার আকর্ষণ সম্রাটের ভিতর এতটাই তীব্র ছিল যে, কথিত আছে তিনি পায়ের মোজা পরতে ভুলে গিয়েছিলেন।’৯
কবিতার পঙ্ক্তি ছিল নিম্নরূপÑ
بوی جوی مولیان آیدهی – یاد یار مهربان آیدهی
ریگ آموی در رشتیهای او – زیر پایم پرتیان آید هم و….. الخ১০
মুলিয়া নদীর জলরাশির সুগন্ধ ভেসে আসছে
মহানুভব বন্ধুর স্মৃতিকথা থেকে থেকে মনে পড়ছে
ককেশাস নদীর কর্কষ বেলাভূমির বালুকারাশি
পদতলে মোর সুকোমল রেশমতুল্য অনুভূত হচ্ছে
বোখারা প্রশান্তির দেশ, শান্তিময়ই থাক চিরদিন
সম্রাট আসবে ফিরে এখানে অতিথি হয়ে ফের।
বোখারা আকাশ তুমি, সম্রাট সে আকাশের চাঁদ,
বোখারা তুমি বাগান, সম্রাট সে বাগানের সার্ভবৃক্ষ
বৃক্ষ বাগানে, চাঁদ আকাশের ফিরে আসছে আবার।
রুদাকি তাঁর সংগীত চর্চার কথা নিজেই বলেন এভাবেÑ
بحسن صوت چو بلبل مقید نظم
بجرم حسن چو یوسف اسیر زندنی
সুমিষ্ট সুরের কারণে বুলবুলির ন্যায় আমি খাঁচায় আছি।
যেমন ইউসুফ তাঁর সৌন্দর্যের অপরাধে কারারুদ্ধ ছিলেন।
অন্ধ কবি : ইংরেজ কবি হোমার, আরব কবি আবুল আলা আল-মাআরবি এবং ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর মিশরীয় প-িত ড. তহা হোসেনের মতো রুদাকিও ছিলেন জন্মান্ধ। হিজরি চতুর্থ শতকের ইরানের শ্রেষ্ঠ প-িত আবু হাইয়্যান তাওহীদী তাঁর ‘আল হাওযামিলু ওয়াশ্ শাওযামিল’ গ্রন্থে রুদাকিকে জন্মান্ধ উল্লেখ করেছেন।১১
বিশিষ্ট ঐতিহাসিক আবু মনসুর দাকিকি ও নাসের খসরু উপরিউক্ত মতকে সমর্থন করে যথাক্রমে বলেনÑ
(ক) استاد شهید زنده بایستی – وآن شاعر تیره چشم روشن بین
تا شاه مرا مدیح گفتندی – با الفاظ خوش زمعلنی رنگین
(دقیقی)
শহীদ ওস্তাদ সেই দৃষ্টিহীন আলোকদ্রষ্টা কবি যদি আজও বেঁচে থাকতেন
তবে সুন্দরতম শব্দ চয়নে ও রঙিন অর্থায়নে আমাদের বাদশাহের প্রশংসা বর্ণনা করতেন।
(খ) ১২اشعار زهد وپند بسی گفتست آن تیره چشم شاعر روشن بین (ناصرخسرو)
আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী সেই অন্ধ কবি
বহু তপসীসুলভ ও উপদেশপূর্ণ কাব্য রচনা করেছেন।
এছাড়াও রুদাকির সমসাময়িক কয়েক জন কবি-সাহিত্যিক, যেমন আবু যারা মামারী জুনজানী বলেন, একবার খোরাসানের আমির তাঁর কবিতা রুদাকির মতো হয়েছে বললে জবাবে তিনি বলেছিলেনÑ
اگر به دولت با رودکی نمی مانم – عجب مکن سخن ز رودکی نه کم دانم
اگر به کوری چشم او بیافت گیتی را- ز بهر گیتی من کور بود نتوانستم১৩
প্রাচুর্যের ক্ষেত্রে যদিও রুদাকির সমকক্ষ নই, কিন্তু অবাক হবেন না
বক্তব্য প্রকাশে রুদাকির চাইতে কোন অংশে কম যাই না,
যদিও তাঁর অন্ধচোখ সমগ্র পৃথিবী অর্জন করেছে,
কিন্তু অর্জনের ক্ষেত্রে অন্ধত্ব (অপারগতা) আমি সফলতা পাইনি।
উপরিউক্ত তিনটি বেইতে ‘আলোকিত দৃষ্টির অন্ধ কবি’ বলতে সকলেই রুদাকিকে বুঝিয়েছেন।
তবে রুদাকি গবেষকগণের অপর একটি অংশে মনে করেন তিনি জন্মান্ধ ছিলেন না; বরং জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কোন কারণে অন্ধ হয়েছিলেন। এ মতের ধারকগণের অন্যতম ছিলেন ওস্তাদ সাঈদ নাফিসি, বাদিউজ্জামান ফরুজানফার।১৪
তাঁরা তাঁর কবিতায় ব্যবহৃত উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প ও ইঙ্গিতধর্মী বক্তব্যকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, চাক্ষুস দর্শন ভিন্ন কারো দ্বারাই কবিতায় এ ধরনের বিষয়াবলির ব্যবহার সম্ভব নয়।
রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ গবেষক অধ্যাপক গ্রাসিমভের গবেষণাকর্মও শেষোক্ত মতকে সমর্থন করে। ১৯৭০ সালে গ্রাসিমভ রুদাকির কবর খুঁড়ে মাথায় খুলি ও হাড় উত্তোলন করে পরীক্ষার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, রুদাকি ৮০ বছর জীবন পেয়েছিলেন এবং জন্মান্ধ ছিলেন না; বরং শেষ জীবনে এসে অন্ধ হয়েছিলেন। তাঁর শরীরের কিছু কিছু হাড় ভাঙা ছিল।১৫
সাহিত্য সাধনা : কবিতার সকল শাখায় রুদাকির বিচরণ ছিল অত্যন্ত সাবলীল। কাসিদা (স্বার্থপ্রণোদিত প্রশংসাগীতি), রুবায়ী (চতুষ্পদী কবিতা), মাসনভী (দ্বিপদী কবিতা), কেত্য়া (পদ্যাংশ) এবং গজল (প্রেমগীতি) লিখে তিনি স্বনামধন্য হন। ফারসি ভাষায় গজলকে তিনি ভিন্ন মাত্রা দান করেন। উনসুরীর মতো বিখ্যাত কবিও তাঁর গজলের প্রশংসায় বলেন,
غزل رودکی وار نیکو بود – غزلهاد من رودکی وار نیست
اگر چه بکوشم به باریک وهم – بدین پرده اندر مرا بار نیست১৬
অতি উন্নত ছিল রুদাকির গজলÑ আমার গজল রুদাকির মতো নয়।
যত চেষ্টা করি না কেন ভাবার্থের গভীরতা আনয়নের জন্যÑ তথাপি এ আবরণ আমার নিকট উন্মোচিত হবার নয়।
তবে কাসিদা রচনায় তাঁর কৃতিত্ব ছিল অতুলনীয় এবং সকল কবির অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি দৃষ্টিহীন হলেও দিনের পর দিন স্বরচিত কবিতা জনসম্মুখে মুখস্থ আওরাতেন। গবেষকগণের মতে তাঁর কাসিদা, মাসনভী, খ-কবিতা, গীতিকবিতা ইত্যাদির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লক্ষের মতো। কবিতার এ সংখ্যা কল্পকথা মনে হলেও তিনি যে স্পেনীয় কবি লোপেদ্য ভেগার মতো কয়েক লক্ষ কবিতা রচনা করেছিলেন তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কেননা, হিজরি ৬ষ্ঠ শতকের বিখ্যাত সাহিত্যগবেষক ও কবি রাশিদী সমরকন্দি যথার্থই বলেছেনÑ
گرسری یابد به عالم کس به نیکو شاعری – رودکی را بر سر آن شاعران زیبد سری
شعر او را بر شمردم سیزده ره صدهزار – هم فزون آید اگر چو نانکه باید بشمری১৭
কাব্যজগতের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে যদি কেউ সমাসীন হয়ে থাকেন
রুদাকির নামটিই সর্বাগ্রে খুঁজে পাবেন।
তাঁর কবিতার সংখ্যা গণনা করেছি তেরবার শত হাজার
আপনি গণনা করলেও পাবেন এর চাইতে বেশি আবার।
সকল গবেষক ও জীবনীকার এর ব্যাখ্যায় বলেনÑ ‘শত হাজার ১৩ বার গুণেছি’ অর্থাৎ যার সংখ্যা দাঁড়ায় এক মিলিয়ন ও তিন শত হাজার বেইত। মুহাম্মাদ উফি বলেন, রুদাকির কবিতা শত খ-ে সংকলন হয়েছিল।১৮ হামদুল্লাহ মাসতুফীও তাঁর কবিতার সংখ্যা ৭ লক্ষ বলে উল্লেখ করেছেন।১৯ কবিতার এ সংখ্যা অকল্পনীয় মনে হলেও অসম্ভব নয়। কেননা, তাঁর কয়েকটি কাসিদা, মাসনভী ও কালিলা-দিমনা গ্রন্থের অনুবাদকৃত বেইতের সংখ্যাটি ছিল দশ হাজার। এছাড়াও তাঁর অসংখ্য কাসিদা, মাসনভী, গজল, কেতয়া ও অন্যান্য কবিতা তো ছিলই।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো বর্তমানে এই কবিতা সম্ভারের অতি অল্প সংখ্যক (মাত্র এক হাজার বেইত) অবশিষ্ট রয়েছে। বিশিষ্ট রুদাকি-গবেষক সাঈদ নাফিসি তাঁর সকল কবিতা সংগ্রহ করে তিন খ-ে সংকলন করে ‘আহভাল ওয়া আশয়ারে রুদাকি’ নামে ১৩১৯ ইরানী বর্ষে প্রকাশ করেন।২০
রাশিদী, নিযামী আরুযী, হামদুল্লাহ মাসতুফীর মতে হিজরি ৬ষ্ঠ শতক থেকে ৮ম শতকের ভেতর তাঁর এ কবিতাসম্ভার কালের অতলে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়।২১
কাব্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য : প্রচলিত ও সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার। বিষয় বিন্যাস, বাক্য সংযোজন, উপমা-উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির সৌন্দর্য বর্ণনা, মানবস্বভাব-প্রকৃতি ও আবেগানুভূতি ফুটিয়ে তোলা এবং চিন্তা-দর্শনের সফল প্রয়োগে তাঁর কবিতা সুধী সমাজে সমাদৃত হয়। কবিতা রচনায় রুদাকি ‘সাক্কে খোরাসানী’ বা ‘খোরাসানী কাব্যশৈলী’র অনুসরণ করেছেন। তাঁর রচনাপদ্ধতিই খোরাসানী কাব্যশৈলীর সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা হিসেবে গণ্য করা হয়। বলা হয়ে থাকে, তাঁর রচনাসম্ভার খোরাসানী কাব্যশৈলীর সমৃদ্ধকরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
রুদাকিই প্রথম আরবির অনুকরণে ফারসি সাহিত্যে قصیده কাসিদার (প্রশাস্তিমূলক কবিতা) প্রচলন করে কাসিদাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে নতুন আঙ্গিক দান করেন। যেমন কাসিদার শুরুতেই مطلع (ঙঢ়বহরহম াবৎংব) বা প্রারম্ভিকা দিয়ে সূচনা করেন। এরপরে তাশবিব تشبیب আনেন যেখানে প্রকৃতি, বসন্ত, মিলন ও বিচ্ছেদ, আনন্দমুখরতা, যৌবনের গুণগান ও প্রেমিক-প্রেমিকার অবস্থা বর্ণনা করা হয়। এরপরে আসে مدیحه বা ঊপড়সরধংঃরপ াবৎংব যেখানে প্রশংসিত ব্যক্তির গুণ-মহানুভবতা, ন্যায়পরায়ণতা, সাহসিকতা, বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়। এরপরেই আসে নিজের প্রয়োজন বর্ণনা বা احسن طلب (জবয়ঁবংঃ, ঈষধরস), পরিশেষে নিজের ভণিতানাম ব্যবহারে মাধ্যমে শেষ করার পদ্ধতি مقطع বা (ঈষড়ংরহম াবৎংব) ব্যবহার হয়। এতদভিন্ন তিনি প্রেম ও প্রেয়সীর বন্দনায় গজল রচনার বিশেষ ধারার প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীকালে শেখ সাদী ও হাফিজের রচনায় পরিদৃষ্ট হয়।
রুদাকির কবিতায় তাঁর নিজস্ব চিন্তা-চেতনাও ফুটে উঠেছে। তিনিই প্রথম ফারসি কবিতায় দার্শনিক অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। যেমন তাঁর বিখ্যাত কাসিদা نونیه নূনিয়েতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করে বলেনÑ
گرتو فصیحی همه مناقب او گویی – ورتو دبیری همه مدایح او خوان
ورتو حکیمی و راه حکمت جویی – اینک سقراط وهم فلاطون یونان
ورتو فقیهی وه سوی سرع گرایی – شافعی اینک وبوحنیفه وسفیان২২
যদি হও বাগ্মী তুমি কাক্সিক্ষত পুরুষের কর গুণ বর্ণনা
যদি দাবির (সচিব) হতে চাও তুমি গাও আমীরের প্রশংসাগীতি,
যদি হতে চাও প্রজ্ঞাবান কাক্সিক্ষত জ্ঞানের পথিক
হও তার গ্রীক প-িত সক্রেটিস বা অ্যারিস্টটলের মতো,
আর যদি হও আইনবেত্তা ফকীহ্, শরীয়তের নীতিমালার পথে হাঁট
তবে অবশ্যই তুমি শাফেয়ী, আবু হানিফা এবং সুফিয়ানের মতো হও।
রুদাকির বাকি কবিতামালা পর্যালোচনা করলে তাঁর দর্শনের বিভিন্ন দিক আমরা দেখতে পাই। যেমন خردگرائی জধঃরড়হধঃরংস বা যুক্তিবাদ, علم گرائی ঝপরবহঃরংস বা প্রজ্ঞাবাদ, بی اعتنایی جهان وعشق لزت جوئی ঊঢ়বপঁৎবধহরংস ইন্দ্রিয় সুখানুভূতি বা ভোগবাদ, اندیشه سعادت চবষরপরঃড়ষড়মবব বা সুখবাদ।২৩
خردگرائی বা যুক্তিবাদ : রুদাকি ছিলেন যুক্তিবাদের প্রবজ্ঞা। আবেগের চেয়ে জীবনের সকল ক্ষেত্রে তিনি যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর আচরিত সেই আদর্শ তাঁর কবিতার ছত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে ভঙ্গুর জীবনের চিরন্তন সত্যকে মেনে নিয়ে উপদেশ দিয়ে তিনি বলেনÑ
این جهان پاک خواب کردار است – آن شناسد که دلش بیدار است
نیکی او بجایگاه بدیست – شادی او بجای تیمارست২৪
এই পৃথিবী এক স্বপ্নলোক ভিন্ন কিছু নয়,
সেজন জানে তা হৃদয় যার সদা জাগ্রত রয়।
মন্দ লোকও হেথা কল্যাণকর্মে ব্রতী হবে
হতাশাগ্রস্তগণও সেথায় আনন্দে মেতে রবে।
রুদাকি ছিলেন ইন্দ্রিয় সুখানুভূতি বা ভোগবাদে বিশ্বাসী। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াত অযথা সময় ব্যয় না করে ইন্দ্রিয় সুখ ভোগে ব্যস্ত থাকার কথা বলেছেনÑ
شاد زی باسیاه جشمان شاد – که جهان نیست جزفسانه وبار
زآمد شادمان نباید بود – وزگزشته نکرد باید یاد২৫
সদানন্দে রত রও কালো চোখের হুরীদের সাথে সর্বক্ষণ
কেননা, কল্পলোকের এই দুনিয়া টিকবে না বেশিক্ষণ
ক্ষণিকের এই সুখানুভূতি থাকবে না চিরন্তন,
অযথা তাই অতীত গ্লানিকে খুঁজো না নিরন্তর।
তিনি নিজের প্রাপ্তিযোগে যেন কেউ অপরকে ভুলে না যায়, ক্ষণস্থায়ী সুখানুভূতিতে বঞ্চিতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যাতে কেউ পিছু না হটে সে শুভ কামনায় বলেনÑ
نیک بخت آن کسی که داد وبخورد – شوربخت آن که نخورد ونداد২৬
সৌভাগ্যবান সেই যে নিজের তৃপ্ত হলে অপরকেও সুযোগ দিল
হতভাগা সেজন যে নিজে ভোগ করল না অপরকেও দিল না।
রুদাকি নিজ ভাগ্য বিনির্মাণে প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশেষ গুণাবলি অর্জনের পক্ষপাতি। এক্ষেত্রে চারটি বিশেষ গুণকে সৌভাগ্যের আকড় মনে করে বলেনÑ
چهار چیز مرآ زاده رازغم بخرد – تن درست وخوئی نیک ونام نیک وفردا
هرآنکه ایزدش این چهار روزی کرد – سرد که شاید زید جاویدان وغم نخور-
মহান হতে হলে প্রত্যেকের চারটি গুণ থাকা অবশ্যক,
সুস্থ শরীর, সুস্থ চিন্তা, জ্ঞানান্বেষণ এবং খ্যাতির প্রত্যাশা,
এই চার গুণের অধিকারীর কোন চিন্তা নেই।
রুদাকির মতে মানুষ পৃথিবীতে খালি হাতে আসে আবার শূন্য হাতেই ফিরে যায়। তাই পার্থিব এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে নিজ দায়িত্ববোধের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং জনকল্যাণকর কার্যাবলি পরিচালনা করা একান্ত কাম্য।
তিনি বলেনÑ
مهتران جهان همه مردند – مرگ را سرفروهمی گردند
زیر خاک اندون شدند آنان – که همه گوشکها بر آورند
از هزارا هزار نعمت و ناز – نه به آخر به جزکفن مردند২৭
মৃত্যুস্বাদ চেখেছেন জগতের মহাপ্রাণ আছে যত
স্বাগত জানিয়েছে, মরণ তাঁদের হৃদয়ে দিয়ে বড় ক্ষত
মাটি হয়েছে আসল ঠিকানা মুছে রঙিন পরিচয়
নাজ-নেয়ামতের মহা সমুদ্রে তাঁরা, যদিও ডুবে রয়।
মরণে তাদের কাফন খ-ই পথের সঙ্গী হয়।
পরিশেষে বলা যায়, রুদাকি তাঁর সমসাময়িক কালের সকল কবি-সাহিত্যিকের নিকট যুগের শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে বিবেচিত হয়েছেন, পরবর্তীকালে ফারসি সাহিত্যের প্রথিতযশা কবিগণ, যেমন- দাকিকি, কাসায়ি, ফেরদৌসী, ফররুখি, উনসুরী রাশিদি সমরকন্দি, নেযামি আরুযি ও অন্য কবি-সাহিত্যিকগণ তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন এবং তাঁকে ‘কবিগুরু’, ‘কবিসম্রাট’ বিভিন্ন অভিধায় সম্বোধন করেন। ফারসি সাহিত্যের এই কৃতিমান পুরুষ সেময়ানীর বর্ণনায় ২২৯ হিজরিতে এ ধরাধাম ত্যাগ করেন এবং নিজ জন্মভূমি বানোজে সমাহিত হন।
*অধ্যাপক ফারসি ভাষা সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্র
১. যাবিহুল্লাহ সাফা, তারিখে আদাবিয়াতে ইরান, পৃ. ১০০
২. মির্জা মাকবুল বেগ বাদাখশানী, তারিখে আদাবিয়াতে ইরান, পৃ. ৮১
৩. আল্লামা জালাল উদ্দিন হুমায়ী, তারিখে মোখতাছারে ইরান, পৃ. ৭৩
৪. জাফর শায়ার, হাসান আবভারী, খোযিদে আশয়ারে রুদাকি, পৃ. ৭৩
৫. আল্লামা জালাল উদ্দিন হুমায়ী, তারিখে মোখতাসার ইরান, পৃ. ৭৩
৬. হাসান আনুশে, দানেশনামে আদাবে ফারসি, ১ম ও ২য় খ-; ওযারাতে ফারহাঙ্গ ও এরশাদে ইসলামী, তেহরান, পৃ. ৪৬
৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৬১
৮. ড. খলিল খাতিব রাহবার, ‘রুদাকি’, সফি আলী শাহ প্রকাশনী, তেহরান, পৃ. ৫
৯. হরেন্দ্র চন্দ্রপাল, পারস্য সাহিত্যের ইতিহাস
১০. আব্দুস সাত্তার, ফারসি সাহিত্যের কালক্রম, পৃ. ৬
১১. আবুল আলা আল মাআরবি, আওয়ামিলুশ্ শাওয়ামিল, কায়রো প্রকাশনী, ১৯৫১, পৃ. ৮০
১২. মোঃ উফি, লোবালুল আলবাব, ২য় খ-, পৃ. ৬
১৩. প্রাগুক্ত
১৪. আহভাল ও আসারে রুদাকি, ২য় খ-, পৃ. ৫৫৪
১৫. মিরজায়েফ, আঃ গনি, আবু আব্দুল্লাহ রুদাকি, তাজিকিস্তান, ১৯৫৮, পৃ. ২২২
১৬. ড. জাফর শোয়ার, ড. হাসান আনভারী, গোযিদেহ আশাআ’রে রুদাকি, আমির কাবির, তেহরান, ১৩৮৭, পৃ. ২০৬
১৭. লোবাবুল আলবাব, ২য় খ-, পৃ. ৭
১৮. লোবাবুল আলবাব, ২য় খ-, পৃ. ৭
১৯. সাঈদ নাফিসি, আহভাল ওয়া আশয়ারে রুদাকি, ২য় খ-, পৃ. ৫৭৪
২০. প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৭৪, মিটায়েভ, পৃ. ২৩০
২১. প্রাগুক্ত ও যাবিহুল্লাহ সাফা, তারিখে আদাবিয়াতে ইরান, ১ম খ-, পৃ. ৩৭৮
২২. আহভাল ও আসারে রুদাকি, ১৫ পাঠ, ২১-২৩ নং পঙ্ক্তি
২৩. ড. জাফর শায়ার, ড. হাসান আনওয়ারী, গোযিদেহ আ’শয়ারে রুদাকি, আমীর কাবির প্রকাশনী, তেহরান, ১৩৮৭, ইরানী সাল, পৃ. ২৬
২৪. বাহাউদ্দিন খুররমশাহী, দারদে জাভেদানেসী, ১৫ অধ্যায়, পঙ্ক্তি নং ২৫, ২৮
২৫. ড. জাফর শোয়ার, ড. হাসান আনভারী, গোযিদেহ আশাআ’রে রুদাকি, আমীর কাবির, তেহরান, ১৩৮৭, পৃ. ২৮
২৬. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮
২৭. প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮