রবিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

রাহবারের খোলা চিঠি সম্পর্কে বিশ্লেষকদের অভিমত

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ৮, ২০১৬ 

পাশ্চাত্যে যায়নবাদী পুতুলদের সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করবে : ক্যালেব মপিন
আমেরিকার অন্যতম রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার ক্যালেব মপিন বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী পশ্চিমা যুবসমাজের উদ্দেশে যে খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন তা পাশ্চাত্য জগতে যায়নবাদীদের সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরি করবে।
এ প্রসঙ্গে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে ক্যালেব মপিন পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে সত্য কথা বলে না। তিনি বলেন, এ কারণে ইরানী নেতা যথোপযুক্ত সময়ে পাশ্চাত্য যুবসমাজের উদ্দেশে তাঁর খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। এর ফলে আশা করা যায় যে, যায়নবাদের হাতের পুতুল যেসব লোক পাশ্চাত্যে তৎপরতা চালাচ্ছে তাদের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে।
পশ্চিমা যুব সমাজের উদ্দেশে লেখা ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান রাহ্বারের খোলা চিঠি প্রসঙ্গে ক্যালেব মপিন বার্তাসংস্থা ফার্স্ নিউজ এজেন্সির প্রতিনিধিকে যে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন তার পূর্ণ বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো :
প্রশ্ন : ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী পশ্চিমা যুবসমাজের উদ্দেশে লিখিত তাঁর এক খোলা চিঠিতে তাদেরকে ইসলাম ও এর শিক্ষা সম্পর্কে বিকৃত চিত্র ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত বিভ্রান্তিকর প্রচারাভিযান সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি যুবসমাজকে ইসলাম সম্পর্কে এর আদি ও প্রকৃত তথ্যসূত্র থেকে জানার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান সময়ে কী কারণে ইসলামী ইরানের নেতা এ ধরনের একটি খোলা চিঠি লিখতে আগ্রহী হয়েছেন বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যুবসমাজের উদ্দেশে এ ধরনের একটি খোলা চিঠি লিখেছেন জানতে পেরে আমি খুবই চমৎকৃত হয়েছি। এটি সুস্পষ্ট যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সীমান্তের বাইরে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি খুবই আগ্রহী এবং তিনি বিশ্বের ঘটনাবলি সম্পর্কে খুবই মনোযোগের সাথে খোঁজ-খবর রাখেন। তাঁর এ পত্র থেকে এ বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্ট যে, পশ্চিমা প্রচারমাধ্যমের প্রচারতৎপরতা ও তার পদ্ধতি এবং আমাদের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে তিনি পরিষ্কার ধারণা রাখেন। তিনি আরো আভাস দিয়েছেন যে, আমাদের ওপর তাঁর বিরাট আস্থা রয়েছে।
এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধাপরাধ আরোপ করে এসেছে। বস্তুত এ দেশের পূর্ববর্তী প্রজন্মের উঁচু জীবনযাত্রার মান রক্তের মূল্যে ক্রয় করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাতে নিজেকে বিশ্বের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় অবস্থানে ধরে রাখতে পারে সে লক্ষ্যে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য স্থানে বহু মিলিয়ন মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়। এসব যুদ্ধ যেসব কারণে অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছিল তার অন্যতম হচ্ছে এখানকার জনগণের একটি বিরাট অংশের পরোক্ষ সমর্থন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ মর্মে আস্থা পোষণ করেন যে, নতুন প্রজন্ম তাদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় অনেক ভালো করতে সক্ষম হবে। আমরা আশা করতে পারি যে, তারা প্রকৃতই সত্য ও সুবিচারের সপক্ষে দ-ায়মান হবে এবং প্রতারণার জাল ছিন্ন করবে ও বিশ্বকে পরিবর্তিত করবে। এ গ্রহের অপর পৃষ্ঠের একজন নেতা আমার ও আমার বন্ধুদের ওপর এ ধরনের আস্থা রাখেন দেখে আমি খুবই আপ্লুত হয়েছি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ঠিক তা-ই করার জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসলেই, বিস্তারিত অনুসন্ধান না চালিয়ে কোনো কিছু সম্বন্ধে কী বিশ্বাস করতে হবে সে সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি বিরাট ভুল কাজ। বস্তুত কোনোরূপ আবেগ, গুজব বা অন্ধ বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে কোনো বিষয়ে কোনো অভিমতে উপনীত হওয়া উচিত নয়; বরং প্রকৃত ঘটনাবলির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
আমি ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানি না। প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান হিসেবে জন্মগ্রহণকারী একজন লোক হিসেবে যীশূ খ্রিস্ট [হযরত ‘ঈসা (আ.)] ও তাঁর শিক্ষার প্রতি আমার বিরাট শ্রদ্ধা আছে। আমি ২০১৪ সালে ইরান সফরের পূর্ব পর্যন্ত আমার কাছে এটা অজানা ছিল যে, ইসলামেরও যীশূ খ্রিস্টের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তাহলে আমার শিক্ষকগণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ কেন আমাকে এ ব্যাপারে অবগত করেন নি? কেনই বা আমাদের প্রচারমাধ্যম এ ব্যাপারে কোনো আভাস দেয় নি?
আমি এ ব্যাপারে আস্থা পোষণ করি যে, ইসলাম সম্বন্ধে এমন অনেক কিছু জানার আছে যা আমাকে বিস্মিত করবে। তাই প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য আমি স্বয়ং ইসলাম সম্বন্ধে অনুসন্ধান চালাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রশ্ন : প্রতীয়মান হয় যে, পশ্চিমা সরকারগুলো বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে পাশ্চাত্যে ইসলাম ও কোরআনকে কোণঠাসা করার এবং এরপর ইসলাম-ভীতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সেখানকার প্রচারমাধ্যমের মূল ধারা-যা প্রধানত যায়নবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত-ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা মিথ্যা ধারণা প্রচার করে চলেছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
উত্তর : পাশ্চাত্য জগতে যুবসমাজকে ইসলাম সম্পর্কে অনুসন্ধানে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। কোনো যুবক যদি ইসলামের ব্যাপারে আগ্রহ প্রদর্শন করে এবং এ সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে থাকে তাহলে তার বন্ধুরা বলাবলি করবে : ‘সে কি সন্ত্রাসবাদী হতে যাচ্ছে?’ ছাত্ররা ইসলাম সম্বন্ধে অনুসন্ধান ও গবেষণা করলে সে সম্পর্কে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয়।
আমি ওহিও-র ন্যায় ছোট শহরে বড় হয়েছি। সেখানে আমাকে শিক্ষা দেয়া হয় যে, ইসলাম হচ্ছে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী ধর্ম’। আমাকে শিক্ষা দেয়া হয় যে, আমেরিকার ৯-১১-র ঘটনায় যে আক্রমণ সংঘটিত হয় তা হয়েছিল ‘আমাদের স্বাধীনতাকে ঘৃণাকারী মুসলমানদের’ দ্বারা। ইরাক যুদ্ধের সময় আমাদের শহরের যুবকরা কেবল এ কারণে সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের জন্য নাম লেখায় যে, তারা ‘কিছু মুসলমানকে হত্যা করতে চাচ্ছিল’।
আমেরিকার কোটি কোটি লোক, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ও মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের লোকেরা কখনোই কোনো মুসলমানের সাক্ষাৎ পায় নি এবং নিঃসন্দেহে ইসলাম সম্বন্ধে তাদের কোনোই ধারণা নেই। ইসলাম সম্পর্কে তারা কেবল তা-ই জানে যায়নবাদী প্রচারমাধ্যম যা প্রচার করেছে। অবশ্য শহরগুলোতে সহিষ্ণুতা ও জ্ঞানের মাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি, কিন্তু তা সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে না।
২০০৪ সালে যখন ইরাকের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো হয় তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক লোক মনে করত যে, ওসামা বিন্ লাদেন ও সাদ্দাম হোসেন পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অন্য অনেকে মনে করত যে, ইরান ও সউদি আরব পরস্পরের মিত্র।
মার্কিন প্রচারমাধ্যম মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের সংক্ষেপণ করছে এবং মুসলমানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ও সেখানকার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশের মধ্যকার পার্থক্যকে লুকানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা তাকফিরিদের ও ওয়াহাবিদের সম্পর্কে কোনো কথা বলে না; তারা কেবল ‘মুসলমানদের’ সম্পর্কে কথা বলে এবং তাদেরকে কেবল একটিমাত্র সহিংস চরমপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে।
তারা তাদের এ উপস্থাপনার দ্বারা ইসরাঈলের সেবা করে যাচ্ছে। এ হচ্ছে যায়নবাদী উপস্থাপনা- যা ইসরাঈলকে ভয়ঙ্কর চরমপন্থীদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে থাকা একটি মযলুম রাষ্ট্র হিসেবে প্রদর্শন করছে- যার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য- সহায়তা ও সুরক্ষার খুবই প্রয়োজন বলে তুলে ধরা হচ্ছে।
অবশ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর খোলা চিঠিতে ঠিকই বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুবপ্রজন্মের মধ্যে এর বাইরে দৃষ্টিপাত করার ক্ষমতা আছে। কেউ যদি প্রকৃত বিষয়ে জানতে চায় তাহলে তথ্যপ্রযুক্তি তার জন্য তা খুবই সহজ করে দিয়েছে।
ইতিপূর্বে যে ‘অকুপাই ওয়াল্ স্ট্রিট্’ আন্দোলন ও ‘ব্লাক লাইভ্স্ ম্যার্টা’ নামে আন্দোলন হয় তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার যুবসমাজের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রমাণ বহন করে।
আমাদের প্রজন্ম পুরোপুরি অসুখী এবং আমাদের এ অসন্তোষের দ্বারাই আমরা এর জবাব সন্ধানের দিকে পরিচালিত হচ্ছি। এর মানে হচ্ছে, আমাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত সত্য জানতে হবে; শুধু ইসলাম সম্পর্কে নয়; বরং যায়নবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এবং যেসব শক্তি ইসলামকে দানবরূপে উপস্থাপন করছে তাদের সম্পর্কেও জানতে হবে।
বস্তুত অসত্য কেবল সাময়িকভাবেই টিকে থাকতে পারে। আর শেষ পর্যন্ত সত্যের আগমন ঘটে, আর যখন তার আগমন ঘটে তখন মিথ্যার ওপরে প্রতিষ্ঠিত সব কিছুই ধসে পড়তে বাধ্য।

যায়নবাদের দ্বারা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সৃষ্ট ফাটল ইরানী নেতার খোলা চিঠির দ্বারা মেরামত হবে : মার্ক গ্লেন
মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভাষ্যকার মার্ক গ্লেন বলেন যে, যেহেতু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী এ ব্যাপারে ভালোভাবেই অবহিত আছেন যে, সংঘবদ্ধ যায়নবাদী শক্তি যুবপ্রজন্মকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে গভীর বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেহেতু তিনি তাঁর খোলা চিঠিতে পশ্চিমা যুবসমাজকে সরাসরি সম্বোধন করে কথা বলেছেন।
বার্তা সংস্থা ফার্স্ নিউজ এজেন্সিকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে মার্ক গ্লেন বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসলামের যে প্রাথমিক ও মূল তথ্যসূত্র থেকে অর্থাৎ কোরআন থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে বলেছেন, একজন আমেরিকান খ্রিস্টান হিসেবে সে সূত্র থেকে ইসলামকে জেনে এবং আমার কাছে এর শিক্ষাসমূহের সৌন্দর্য খুবই ভালো লাগায় পাশ্চাত্য যুবসমাজের উদ্দেশে তাঁর এ ধরনের আবেদনে আমি খুবই আপ্লুত হয়েছি।
মার্ক গ্লেনের সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো :
প্রশ্ন : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী তাঁর এক খোলা চিঠিতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার যুবসমাজের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন। অন্লাইনে প্রকাশিত ও টুইটারে শেয়ারকৃত তাঁর এ পত্রে তিনি পশ্চিমা যুবপ্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধসমূহ সম্বন্ধে ইসলামের প্রাথমিক ও মূল তথ্যসূত্র থেকে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা চালানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে পূর্ব প্রতিষ্ঠিত ধারণা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
উত্তর : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসলামের যে প্রাথমিক ও মূল তথ্যসূত্র থেকে অর্থাৎ কোরআন থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানতে বলেছেন একজন আমেরিকান খ্রিস্টান হিসেবে সে সূত্র থেকে ইসলামকে জেনে এবং আমার কাছে এর শিক্ষাসমূহের সৌন্দর্য খুবই ভালো লাগায় পাশ্চাত্য যুবসমাজের উদ্দেশে তাঁর এ ধরনের আবেদনে আমি খুবই আপ্লুত হয়েছি। অবশ্য বেশির ভাগ লোকই ধারণা করবে যে, তিনি কেবল ব্যক্তিগত কারণে অর্থাৎ ইসলামী বিশ্বাসের প্রতি সমর্থন দানের লক্ষ্যে এটা করে থাকবেন। কিন্তু আমি যা বুঝতে পারছি তা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তিনি স্বয়ং যুবসমাজের কল্যাণের লক্ষ্যেই এটা করেছেন। তিনি যথার্থভাবেই এবং নির্ভুলভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে, সঙ্ঘবদ্ধ যায়নবাদী শক্তি ইসলামকে কলঙ্কিত ও অবমাননা করার লক্ষ্যে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারাভিযান চালাচ্ছে তার ভোগান্তি যুবসমাজকেই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় পোহাতে হবে। কারণ, ইসরাঈল ও তার জনগণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে খ্রিস্টান পাশ্চাত্য ও ইসলামী মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যে যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছে- যা কখনো শেষ হবার নয়- তার ফলে উপর্যুপরি অনেকগুলো যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা যুবসমাজকে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তাদের রক্ত ও অর্থের অপচয় ঘটবে; বরং তাদের অস্তিত্বই হুমকির সম্মুখীন হবে।
অধিকন্তু, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যথার্থভাবেই ও নির্ভুলভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে, যে কোনো সমাজের শক্তির মূল কেন্দ্রই হচ্ছে তার যুবসমাজ এবং এক সময় তারাই তাদের বড়দের কাছ থেকে তাদের দেশের শাসনক্ষমতা গ্রহণ করবে। এ কারণে তিনি যে কোনো দায়িত্বশীল মুরুব্বির ন্যায় তাদের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন এবং তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাদের সাথে মিথ্যা বলা হচ্ছে এবং তার পিছনে এমন কারণ নিহিত রয়েছে যা তাদের জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে- তাদের স্বার্থ ও তাদের ভবিষ্যতকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করবে।
বস্তুত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কেবল ইসলামী জাহানের পক্ষ থেকে ভূমিকা পালন করছেন না; বরং তিনি গোটা বিশ্বের পক্ষ থেকে ভূমিকা পালন করছেন- সঙ্ঘবদ্ধ যায়নবাদী শক্তি নিজের স্বার্থে যা করে যাচ্ছে তাতে যদি তারা সফল হয় তাহলে গোটা বিশ্বই ধ্বংসের কবলে নিক্ষিপ্ত হবে।
প্রশ্ন : কুখ্যাত ফরাসি সাময়িকী ‘শার্লি হেবডো’ তার বিগত ১৪ জানুয়ারি সংখ্যায় ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি অবমাননাকর একটি কার্টুন প্রকাশ করে। আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীরা প্যারিসে ‘শার্লি হেবডো’র অফিসে হামলা চালালে এবং এতে কয়েক জন লোক নিহত হলে এ কার্টুনটি প্রকাশ করা হয়। এ সাময়িকীটি বিশ্বের ১৬টি ভাষায় প্রকাশিত হয় এবং প্রায় তিরিশ লক্ষ কপি মুদ্রিত হয়। বিশ্বের মুসলিম নেতৃবৃন্দ এ সাময়িকীটির প্রকাশনার নিন্দা করেছেন এবং এ কার্টুনটি প্রকাশের কাজকে নির্জলা উস্কানি ও যুদ্ধসুলভ কাজ বলে অভিহিত করেছেন। প্যারিসে শার্লি হেব্ডো-র অফিসে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা ও সাময়িকীটি কর্তৃক অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ইরানী সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক তাঁর খোলা চিঠি প্রকাশের জন্য এ সময়টিকে বেছে নেয়ার বিষয়টিকে আপনি কোন্ দৃষ্টিতে দেখছেন?
উত্তর : আমি একজন খ্রিস্টান এবং আমি যাঁদেরকে নবী ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে জানি কুখ্যাত শার্লি হেব্ডো প্রকাশনা তাঁদের ওপরেও কলঙ্ক লেপন করেছে, সে হিসেবে আমিও সেই সব ইসলামী নেতার সাথে মতৈক্য পোষণ করতে বাধ্য যাঁরা ঐ প্রকাশনাটিকে একটি উস্কানি ও ‘যুদ্ধসুলভ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এ সাময়িকীটি এবং এটির ধর্মের প্রতি অবমাননাকর ইসলামবিরোধী ও খ্রিস্টধর্মবিরোধী কর্মকা- সমাজের উন্নয়ন ও সচেতনতা সৃষ্টিতে রত উচ্চতর চিন্তাধারার অধিকারী পাঠকদের অন্তরকে আহত করেছে। শুধু তা-ই নয়; বরং এ সাময়িকীটি যা কিছু পবিত্র তার ওপরেই স্বীয় নোংরামি ছড়িয়ে দিয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি এ প্রকাশনাটিকে সঙ্ঘবদ্ধ যায়নবাদী শক্তির গোটা ষড়যন্ত্রের একটি সংবেদনশীল শাখা হিসেবে মনে করি। এর পিছনে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইতিমধ্যেই তারা অসদুদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামী জাহান ও খ্রিস্টান বিশ্বের উভয়ের গায়ে যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে- যা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, তাতে আরো জ্বালানি যোগ করা।
গোটা যায়নবাদী পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে যে ইহুদিবাদ তা কোনো ‘বাঁচ ও বাঁচতে দাও’ নীতিতে বিশ্বাসী মতাদর্শ নয়; বরং এটি হচ্ছে এমন একটি মতাদর্শ যার লক্ষ্য হচ্ছে- নিঃসন্দেহে ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম সহ- তার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য সমস্ত মতাদর্শকে অবমাননা করা ও শেষ পর্যন্ত উৎখাত করা। এ দু’টি শক্তির বিরুদ্ধে প্রথাগত প্রকাশ্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার পরিবর্তে যায়নবাদী শক্তি যা করছে তা হচ্ছে, তারা এ দু’টি ধর্ম ও সংস্কৃতিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য করছে। তারা আশা করছে যে, এর ফলে এ উভয় শক্তিই পরস্পরকে ধ্বংস করে ফেলবে যার পরিণতিতে একমাত্র ইহুদিবাদ ও ইহুদি সরকারই টিকে থাকবে।
এ ক্ষেত্রে শার্লি হেব্ডো খ্রিস্টান পাশ্চাত্য ও ইসলামী মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে উত্তেজনা জিইয়ে রাখার ক্ষেত্রে পুরোপুরিভাবে (যায়নবাদীদের) হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : জাভাদ আরাব শীরাযী