রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

রাজধানীসহ সারা দেশে পবিত্র আশুরা উদযাপন

পোস্ট হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৮ 

news-image

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাজিয়া মিছিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শোকাবহ আশুরা পালিত হয়েছে।

হিজরী ৬১ সালের ১০ মোহাররম  কারবালার মরুপ্রান্তরে ইয়াজিদি বাহিনীর হাতে শাহাদতবরণ করেন হজরত হোসেইন(আ.) এবং তাঁর ৭২ জন সাথী। উন্মত্ত ইয়াজিদ বাহিনী সেদিন হজরত হোসেইন-এর  তাবুতে হামলা করে  অসহায় নারী ও শিশুদেরও হত্যা করে এবং চরম হিংসায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় তাবুগুলি।

কারবালার সে শোকাবহ ঘটনার স্মরণে  বৃহস্পতিবার থেকে  তাজিয়া প্রস্তুতি মিছিল,  কাসিদা  ও  ধর্মীয়  অনুষ্ঠানে  অংশ নেয় ধর্মপ্রাণ মানুষেরা।

বাংলাদেশে  শুক্রবাররাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে  সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় তাজিয়া মিছিল। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে  একইসঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশীবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও তাজিয়া  মিছিল বের হয়। কারবালার শোকের নানা প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয় তাজিয়া মিছিল । মিছিলে বুক চাপড়ে, ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম করে শোক প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা। বেলা একটায় ঝিগাতলা মোড়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে  প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শোক মিছিল।

এদিকে শুক্রবার জুমা’র দিন হবার কারণে দেশের সকল মসজিদে বিশেষ করে কারবালার শহীদদের জন্য এবং সাধারণভাবে  মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান

আশুরা উপলক্ষে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা প্রসংগে হেসেনী দালান ইমামবাড়া’র পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং মুখপাত্র সাইয়েদ বাকের রেজা রেডিও তেহরানকে বলেন বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন হয়েছে। আজকের তাজিয়া  মিছিলে শিয়া ও সুন্নি  সম্প্রদায়ের মুসলমানগণ ছাড়াও অনেক হিন্দু  ধর্মাবলম্বী  মানুষও অংশ নিয়ে  এটিকে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিছিলে পরিণত করেছেন।

তিনি জানান তাজিয়া মিছিল শেষ করে  আসরের নামাজের পর “ফাকা শিকানী” (সারাদিনের অনাহার শেষে খাদ্য  গ্রহণ)  এবং সন্ধ্যায় শাম-এ গরীবা (অসহায়দের রজনী)  পালনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী সমাপ্ত হয় ।

তারপর এশার নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদ ও ইমামবাড়ায় নফল ইবাদত-বন্দেগি  এবং জিকির-আজগার এর  মধ্য দিয়ে রাত্রী যাপন করেন।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সাইয়েদ বাকের রেজা রেডিও তেহরানকে বলেন, মুসলিম বিশ্ব এ দিবসটিকে অন্যায়, অসত্য ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে ন্যায্য লড়াইয়ের শপথ পুনর্ব্যক্ত করে থাকে।

এদিকে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ  বিভিন্ন জেলায় তাজিয়া মিছিলসহ  যথাযথ  ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে  মহান আশুরা  পালিত হয়েছে।

রাজশাহীতে হজরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা মসজিদে বাদ জুম্মা মুসলিম উম্মার সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং খিচুড়ি বিতরণ করা হয়। দরগা মসজিদে আশুরার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে।

তাছাড়া বাদ মাগরিব নগরের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

খুলনায় তাজিয়া শোক মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তৃতা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী।

তাছাড়া, প্রতিবারের মতো মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানি ট্রাস্ট আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।