সোমবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

রাজধানীতে বিশ্ব কুদস দিবস উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

পোস্ট হয়েছে: জুন ৮, ২০১৮ 

news-image

আন্তর্জাতিক আল-কুদ্স দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে ‘আল-কুদ্স ও ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাঈলী দখলদারিত্বের ৭০ বছর: মুসলিম উম্মাহ্র দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য প্রফেসর আ ন ম মেশকাত উদ্দিন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মাসিক মদিনার সম্পাদক মাওলানা আহমাদ বদরুদ্দিন এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আফতাব হোসেন নাকাভী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক অধ্যক্ষ শওকাত হোসেন।স্বাগত বক্তব্য রাখেন আল-কুদ্স কমিটি বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জনাব এ.কে.এম. বদরুদ্দোজা। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ও আল কুদ্স কমিটি বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রফেসর ড. শাহ কাউছার মুস্তফা আবুলউলায়ী।

সেমিনারে বক্তরা বলেন, ফিলিস্তিন সমস্যার শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও তাদের সহযোগিরা কখনো সরাসরি, কখনো জাতিসংঘের মাধ্যমে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘শান্তি শান্তি খেলা খেলেছে। চক্রান্তকারী ইহুদিরা নতুন নতুন নীল নকশা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাই আজ সময় এসেছে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। বিশ্বের সকল মানবতাবাদী মানুষকে এ সংগ্রামে সর্বাত্মক সমর্থন জানাতে হবে। বক্তরা বলেন, বেলফোর ঘোষণা অনুযায়ী একটি কৃত্রিম রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের সূচনা করে মুসলমানদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু মুসলিম দেশের আচরণ ইসরাইলকে সফল হতে সাহায্য করছে। মুসলমানদের এক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে ভুলে গেলে চলবে না। বরং এ অবস্থায় মুসলিম উম্মার দায়িত্ব আরো অনেক বেড়ে গেছে।

বক্তরা আরো বলেন, ফিলিস্তিনের ইস্যূ কেবল মুসলমানদের ইস্যু নয়, এটি একটি মানবতাবাদী ইস্যু। ফিলিস্তিন সমস্যা ইহুদীদের সাথে মুসলমানদের সমস্যা নয়। ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পূর্বে ফিলিস্তিনে মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টানরা একত্রে শান্তিতে বসবাস করছিল। যখন ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিন দখল করে তখনই ফিলিস্তিন সমস্যা তৈরি হয়। ইসরাইল ফিলিস্তিন ইস্যুকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করতে চায় । এ কারণেই ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেইনী এটিকে বিশ্ব মুসলিমের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে আল কুদস মুক্তির লক্ষ্যে রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস ঘোষণা করেন।

সেমিনারের পূর্বে বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।