সোমবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

রাজধানীতে বিদেশিদের নিয়ে একুশের বিশেষ আয়োজন

পোস্ট হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭ 

news-image

রক্তস্নাত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। একইসঙ্গে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষার জন্য বুকের রক্ত ঝরানো দিনটিতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে ভাষা শহীদদের। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও একাডেমির নন্দন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। এতে নানা দেশের নানা ভাষায় গান পরিবেশন ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে ভিনদেশিরা শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিপরীত প্রান্তে গগন শিরিষে তলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশিরা নিজ নিজ ভাষায় গান ও কবিতা আবৃত্তি করেন।বিদেশিদের মধ্যে গান পরিবেশন করেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেল, ভারতের সন্তোষ কুমার মিশ্র, ফ্রান্সের ভিনসেন্ট মিয়ের, ভুটানের কারমাসহ আরো অনেকে।আর কবিতা আবৃত্তি করেন- ঢাকাস্থ ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. দরুনগারিয়ন। তিনি ইরানের মহাকবি হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসির মহাকাব্য শাহনামা থেকে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে আরো যেসব বিদেশি কবিতা পাঠে অংশ নেন তাদের মধ্যে রয়েছে, স্পেনের আমপারো পোর্তো, চীনের ঝাও জিং ও ওয়াং কুইঙ্গলিন, কোরিয়ার মৌসুল পার্ক প্রমুখ। সমবেত পরিবেশনায় অংশ নেয় ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে ১০টি পরিবেশনায় অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্তে ইরান, ভারত, চীন, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া স্পেন, রাশিয়া, ইতালি. কোরিয়া, ফ্রান্স ও তুরস্কের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাদের সন্তানরা। ভিনদেশিদের মুখে গান ছাড়াও বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন শিল্পী এ আয়োজনে অংশ নেন। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় ঢাকা সাংস্কৃতিক দল।

সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে দুই দিনের অনুষ্ঠানমালার শেষ দিন। জাতীয় সঙ্গীতের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে বিশেষ দিক ছিল ঢাকা সাংস্কৃতিক দলের ৮ জন শিল্পীর দলগত পরিবেশনায় ৮টি দেশের গান।

২০ মিনিটের এই পরিবেশনায় শিল্পীরা শোনান ভারত, চীন, ভুটান, ব্রাজিল, ইতালি, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়ার লোকজ, রোমাঞ্চ ও দেশের গান। দলগত পরিবেশনার সমাপ্তি হয় বিশ্বের সকল ভাষাভাষীদের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ‘আমরা করব জয়’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে। উপভোগ্যময় এই দলগত পরিবেশনায় অংশ নেন—তালবিদা আলী মীম, এমএ মোমেন, সোহানূর রহমান সোহান, আবুদুল্লাহেল রাফি, ইয়াসমিন আলী, রুখসানা আক্তার রূপসা, সুচিত্রা সূত্রধর ও অনন্য অধিকারী। এখানকার অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারত, চীন, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া স্পেন, রাশিয়া, ইতালি, কোরিয়া, ফ্রান্স ও তুরস্কের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাদের সন্তানরা বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আহসানুল হাদি।