সোমবার, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

যেসব মুসলিম মনীষী বদলে দিয়েছেন পৃথিবী

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ২২, ২০১৮ 

বই পরিচিতি
যেসব মুসলিম মনীষী বদলে দিয়েছেন পৃথিবী
রচনা : মুনীর তৌসিফ
প্রকাশক : সাঈদ বারী
সূচীপত্র, ৩৮/২ ক বাংলাবাজার, ঢাকা
প্রচ্ছদ : সাঈদ বারী
স্বত্ব : গ্রন্থকার
প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
মূল্য : ১৫০ টাকা।
কবি বলেন, ‘দেখ একবার ইতিহাস খুলি/কত উচ্চে তোরা অধিষ্ঠিত ছিলি।’ সত্যি তাই, সারা দুনিয়ায় জ্ঞান-গরীমায়, সৌর্যে, বীরত্বে একদিন মুসলমানরাই সেরা ছিল। অর্ধ পৃথিবী ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের শাসনব্যবস্থা। কিন্তু সেটা কিভাবে? শুধু তলোয়ারের জোরে আর বাহুবলে? তা কি করে হয়? তলোয়ারের জোরে, হত্যার ভয় দেখিয়ে, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে কিছুুদিন দুর্বল করে রাখা যায়। মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। মানুষকে প্রভাবিত করা যায় না। যদি তাই হতো তবে হালাকু, তাতার চেঙ্গিস, মঙ্গোলরা ইতিহাসে সুখ্যাত হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু তারা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে অত্যাচারী হিসেবে, মানবতার বন্ধু হিসেবে নয়। আজকের দুনিয়ায়ও যারা মানুষ হত্যা করে, বোমাবাজি করে, আত্মঘাতী হামলা করে, বলপ্রয়োগে কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বল প্রয়োগে কোন আদর্শকে নির্মূল করতে চায় তারাও অত্যাচারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি প্রকৃত মুসলমানরা দুুনিয়ার যে স্থানেই গিয়েছে সেখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও মানবতা-মহানুভবতার আলো সাথে করে নিয়ে গেছে ও তা দিয়ে বিশ্বমানবতাকে আলোকিত করেছে। তাদের তলোয়ার মাঝে-মাঝে যদিও উত্তোলিত হয়েছে তবে তা অত্যাচার করতে নয়, অত্যাচারীকে প্রতিহত করতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের মুসলিম সমাজের অনেকেই আজকে জানে না জ্ঞান- বিজ্ঞানে মুসলমানদের বিরাট অবদানের কথা। সেজন্য তারা হীনমন্যতায় ভোগে এই ভেবে যে, এই বিশ্বসভ্যতা নির্মাণে বোধ হয় মুসলমানদের কোন ভূমিকাই নেই। অপরদিকে এটাও দুঃখের বিষয়, একদা জ্ঞান-বিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ জাতি আজ জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ছেড়ে দিয়েছে। আরেক কবি তাই দুঃখ করে তাঁর কবিতায় বলেছেন, ‘জ্ঞানের বিজয় চাইতে হলে মনের বিজয় চাই/জ্ঞান যেখানে বোবা বধির হৃদয় সেথা নাই//আমরা যে ভাই জ্ঞানের কাঙ্গাল তাই এতো দুঃখ/ঘরে বাইরে তাইতো মোদের সমান দুর্ভিক্ষ’। অথচ একদা মুসলমানরা ছিল আধুনিক রসায়ন, বীজগণিত, আধুনিক সার্জারি, ফলিত প্রকৌশলী, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, সৌরবিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞান, জ্যামিতি, চক্ষুবিজ্ঞান, ত্রিকোণমিতির জনক। শত শত ওষধি গাছের আবিষ্কারক, গণিতের শূন্যের আবিষ্কারক, চিকিৎসাক্ষেত্রে এনেসথেশিয়ার আবিষ্কারক। কবিতা, সাহিত্য, শিল্প, ভাস্কর্য, আঁকিবুকি, নির্মাণশৈলীতেও তারা রেখেছিল বিরাট অবদান। অবদান ছিল তাদের ধর্ম-দর্শনে, আধ্যাত্মিকতায় বা সুফিজমে অর্থাৎ আত্মোন্নয়নে। এই সব মহান জ্ঞানীগুণীর প্রতিনিধিত্বশীল প্রভাবের কারণেই ইসলাম সম্পর্কে মনোযোগী হয় বিশ্বের মানুষ। দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে। সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে যে এতো মুসলমান তা জ্ঞানী, গুণী, সুফি, দরবেশ, অলি-আল্লাহদের কারণেই। সেজন্যই বলা হয় ‘অসিতে (তলোয়ার) নয়, মসিতে (কলম) বিজয়।’
মুুসলমানরা যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সেরা ছিল তা পৃথিবীর ইতিহাস পাঠ ছাড়াও কিছু কিছু ঘটনা দ্বারাও প্রমাণ মেলে। মূর্খ ডাকু হালাকু খানরা বাগদাদ ধ্বংস করে যখন বড় বড় লাইব্রেরির লক্ষ লক্ষ বই ফেলে দিয়েছিল টাইগ্রিস নদীতে তখন দীর্ঘদিন টাইগ্রিস নদীতে কালিগোরা জল প্রবাহিত হচ্ছিলে। এতেই অনুমান করা যায় বইয়ের সংখ্যা কত ছিল!
জ্ঞান-বিজ্ঞান হচ্ছে মুসলমানদের হারানো সম্পদ। তা যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকেই কুড়িয়ে নিতে হবে। মহামনীষীদের জীবনের গল্প কোন রূপকথা নয়। বাস্তবতাযুক্ত সত্য ঘটনা। মহামানবদের জীবনী শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাদের জীবনের উজ্জল দিকগুলো শিশু-কিশোরদের চিন্তা চেতনাকেও উজ্জ্বল করে।
লেখক মুনীর তৌসিফ রচিত আলোচ্য বইটিতে মুসলিম জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, কবি, সুফি, দার্শনিকদের মোট চব্বিশজনের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশিত হয়েছে। বইটির প্রকাশক জনাব সাইদ বারীও সৃজনশীল মানুষ। বইটির প্রচ্ছদ পরিকল্পনাটিও তাঁরই। বইটি শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী পাঠকেরই ভালো লাগবে আশা করি।
□ আমিন আল আসাদ