রবিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

যুবকরাই হচ্ছে দেশের সমস্যাবলির সামাধান

পোস্ট হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০১৮ 

ইসলামি বিপ্লবী গণবাহিনীর উদ্দেশে ভাষণে রাহ্বার
যুবকরাই হচ্ছে দেশের সমস্যাবলির সামাধান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বলেন, ইনশাআল্লাহ্, ইরানি জনগণ নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দিয়ে আমেরিকার গালে আরেকটি চপেটাঘাত হানবেন। তিনি গত ৪ অক্টোবর (২০১৮) ইসলামি বিপ্লবের গণবাহিনী (বাসীজ্)-এর সদস্যদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে এ মন্তব্য করেন।
তেহরানের আযাদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাসিজের এ জমকালো সমাবেশে প্রদত্ত এ ভাষণে ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার প্রথমে যুব সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরেন; তিনি বলেন, যুবকরাই হচ্ছে দেশের সমস্যাবলির সমাধান। এরপর তিনি চলমান সংবেদনশীল পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করেন।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, আমেরিকানরা হৈচৈ ও চিৎকার করে এবং হাল্কা কথাবার্তা বলে ও ভিত্তিহীন ধারণা প্রকাশের মাধ্যমে স্বীয় শক্তি ও ক্ষমতা সম্পর্কে এবং ইরানের অবস্থা সম্পর্কে প্রকৃত অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বিশাল যুব শক্তি সহ মহান ইরানি জনগণ জানেন যে, ইনশাআল্লাহ্, তাঁরা দুশমনের সর্বশেষ অপকৌশল অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ করে দিয়ে আমেরিকার গালে আরেকটি চপেটাঘাত হানবেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের লক্ষ লক্ষ বাসীজ সদস্যের মধ্য থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা লক্ষাধিক দর্শক-শ্রোতা ধারণক্ষমতার অধিকারী আযাদী স্টেডিয়াম পরিপূর্ণকারী এ সমাবেশের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণের শুরুর দিকে ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার কারবালার ঘটনাকে অমর করে রাখার ক্ষেত্রে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মহান ভগ্নি হযরত যায়নাব (সালামুল্লাহি আলাইহা) ও পুত্র হযরত ইমাম যায়নুল্ আবেদীন (আ.)-এর জ্যোতির্ময় ও গৌরবময় ভূমিকার কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন এবং অচিরেই যে কারবালার ঘটনার চল্লিশতম স্মরণ দিবস (র্আবা‘ঈনে হুসাইনী) পালিত হতে যাচ্ছে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণ, ইরাকি জনগণ ও আরো অনেক দেশের মুসলিম জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতি বছর কারবালার যে গৌরবময় ঘটনার চল্লিশতম স্মরণ দিবস পালিত হয়ে থাকে তা একটি অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- আল্লাহ্ তা‘আলার অনুগ্রহে ও ইসলামি জাহানের বিরাট প্রয়োজনের এ মুহূর্তে তা যথাযথ রূপ লাভ করেছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর ভাষণে বিশ^ভূক ও বলদর্পী আমেরিকার সরকারি কর্মকর্তাদের হৈচৈ ও চিৎকার, ঈমানদার যুব সমাজের শক্তির প্রদর্শনী, বিভিন্ন অঙ্গনে এ যুবকদের উপর্যুপরি বিজয়, একই সাথে অর্থনৈতিক সমস্যাবলি ও জনগণের বিরাট অংশের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়া এবং এ ব্যাপারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ববর্গের সংবেদনশীলতা ও এ সব সমস্যার দ্রুত সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে তাঁদের ব্যাপক প্রচেষ্টাকে দেশের সংবেদনশীল পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক বলে অভিহিত করেন ও এ সব দিকের ওপর আলোকপাত করেন ।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইরানের বিরাটত্ব ও মহানত্ব, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিমত্তা ও ইরানি জাতির অপরাজেয়তাকে তিনটি অনস্বীকার্য বাস্তবতা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এগুলো কোনো আত্মগৌরবের স্তুতি নয়, বরং এগুলো হচ্ছে এমন সব বাস্তবতা দুশমনরা কামনা করে ইরানি জনগণ যেন এগুলো জানতে না পারেন বা এ ব্যাপারে উদাসীন থাকেন যাতে তাঁরা দেশের পরিস্থিতি ও নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার কবলে নিক্ষিপ্ত হন।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার এ তিনটি বাস্তবতার ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে ইরানের বিরাটত্ব ও মহানত্বকে একটি ঐতিহাসিক সত্য বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পূর্ববর্তী দুই শতাব্দী কালের (অর্থাৎ কাজার বংশের শাসনামলের মাঝামাঝি সময় হতে শুরু করে পাহ্লাভী রাজবংশের পতনকাল পর্যন্ত) ব্যতিক্রম বাদে আমাদের প্রিয় দেশ ইরান বিভিন্ন দিক থেকে মুসলিম জাতি সমূহের শীর্ষে ছিল, এমনকি বিভিন্ন সময় বিশে^র সমস্ত জাতির শীর্ষে ছিল।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা বলেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিমত্তা প্রমাণের জন্য ব্রিটেন ও আমেরিকার যুলুম মূলক আধিপত্য থেকে ইরানের মুক্তিলাভই যথেষ্ট। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক ও উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতান্ত্রিক শাসনের কবল থেকে ইরানি জাতির মুক্তিলাভ বিগত চল্লিশ বছর যাবত সমস্ত ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় রুখে দাঁড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ও বিশ^ অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান বৃদ্ধি- এগুলো হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিমত্তার অন্যান্য দৃষ্টান্ত।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইরানের ইসলামি সরকার আট বছরব্যাপী চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে বিশাল রণাঙ্গনে দুশমনদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয় এবং দেশের ভূখ-ের অখ-তা রক্ষা করতে সক্ষম হয়, আর এভাবে বিগত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম বারের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যে, ইরান সরকার হানাদার দুশমনদেরকে আমাদের প্রিয় স্বদেশের ভূখ- থেকে কোনো অংশকে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ দেবে না বা ইরানের বুকে দুশমনদের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানি জাতিকে ছোট ও তুচ্ছ করার অনুমতি দেবে না।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইরানি জাতির অপরাজেয়তা ইসলামের বরকতে সম্ভব হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ মহান জাতির অপরাজেয়তা ইসলামি বিপ্লবের বিজয়, চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে পবিত্র প্রতিরক্ষা এবং বিগত চল্লিশ বছর যাবত বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। কারণ, এ জাতি দুশমনের ষড়যন্ত্র সমূহ ও বিভিন্ন পদক্ষেপের মোকাবিলায় কখনোই দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করে নি এবং পশ্চাদপসরণ করে নি।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে ‘দম্ভ ও অহঙ্কার’কে বিজয়ের জন্য ‘মহামারী’তুল্য বলে অভিহিত করেন এবং তিনি অহঙ্কারী হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমরা যদি অহঙ্কারী হই তাহলে তা আমাদেরকে আমলহীনতা, উদ্ভাবনীহীনতা ও পরিকল্পনা বিহীনতার দিকে টেনে নিয়ে যাবে এবং তাহলে তা দুশমনের বিজয়ের কারণ হবে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমরা এখনো পথের শুরুর দিকে আছি, সুতরাং আমাদেরকে পথের সাথে পরিচিতি, চেষ্টা-সাধনা, সাহসিকতা, সুষ্ঠু চিন্তা-ভাবনা ও উপায়-উপকরণের সঠিক ব্যবহার সহকারে পথচলা অব্যাগত রাখতে হবে এবং ইরানি জাতি ও ইসলামি বিপ্লবের অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হতে হবে। তিনি বিগত চার দশক কালের বিবর্তনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের যুব সমাজ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার ওপর আলোকপাত করেন এবং বলেন, প্রিয় যুবকরা! তোমরা জেনে রেখ যে, তোমরা হচ্ছ এ মহান জাতির বিরাট অগ্রযাত্রায় একটি তীরের জন্য তার তীক্ষè ফলা সমতুল্য; তোমাদেরকে পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত বৃদ্ধরা যদি ক্লান্ত-শ্রান্ত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও অকর্মণ্য হয়ে না পড়েন তো তাঁরা তোমাদেরকে সঠিক পথনির্দেশ প্রদান করতে সক্ষম হবেন, কিন্তু ট্রেনযাত্রাতুল্য এ অভিযাত্রায় তোমরা হচ্ছ ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ইঞ্জিন সমতুল্য।
ইরানি যুব সমাজ ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পূর্বে খোদাদ্রোহী শক্তি (ত্বাগূত্)-এর বিরুদ্ধে জিহাদে এবং বিপ্লবের বিজয়কালে ও বিপ্লবের বিজয় পরবর্তী প্রথম দিককার কয়েক বছরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে জিহাদে যে ভূমিকা পালন করে এবং দেশ গড়ার জিহাদে, (ইরানি বর্ষপঞ্জির) ১৩৬০-এর দশকের (১৯৮১-১৯৯০) প্রথম দিককার কয়েক বছরে মুনাফিকদের ও বিশ^াসঘাতক দেশদ্রোহীদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিহাদে ও শত্রুর চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের পুরো সময়ে, যুদ্ধোত্তর কালে যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সবকিছুর পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টায়, সত্তরের দশকে (১৯৯১-২০০০) দুশমনদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক জিহাদে ও আশির দশকের (২০০১-২০১০) শুরুর দিককার বিজ্ঞানের উৎকর্ষের জিহাদে ও উল্লম্ফন মূলক প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ করে যে বিরাট খেদমত আঞ্জাম দিয়েছে তার উল্লেখ করে হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী আরো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিহাদের ক্ষেত্রেও ইরানি যুব সমাজ অগ্রগামী ছিল। বর্তমানেও যুবকরা মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সহকারে ও কর্তব্যবোধ সহকারে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাবলির সমাধানের লক্ষ্যে চৈন্তিক জিহাদে ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের জিহাদে পরিপক্ব ও সমাধান মূলক বিভিন্ন প্রস্তাব প্রদান করছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে যুব সমাজের হাজার হাজার সমাজ কল্যাণ মূলক গ্রুপের পক্ষ থেকে দেশের জন্য, বিশেষ করে সমাজের দুর্বল শ্রেণির লোকদের জন্য যে সীমাহীন খেদমত আঞ্জাম দেয়া হচ্ছে তাকে এ জাতির জন্য এক বিরাট পুঁজি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটা আমাদেরকে উন্নততর ভবিষ্যতের সুসংবাদ দিচ্ছে। তিনি যুবসমাজকে দেশের মালিক বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, কতক লোক ধারণা করছে যে, আমি কতক যুবকের বিভ্রান্ত ও পথচ্যুত হওয়া সম্পর্কে অবগত নই। কিন্তু এ ধরনের যুবকরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। আর আমি যে যুব সমাজের প্রশংসা করছি তা এ জাতীয় সমস্যাবলি সম্পর্কে যথেষ্ট জেনেশুনেই করছি।
যুবসমাজ যে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণকারী এ বিষয়টির প্রতি যারা দৃষ্টি দেয় না বা গুরুত্ব দেয় না তাদের সমালোচনা করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা বলেন, এ ধরনের লোকেরা এমন ভাব দেখায় যে, যুব সমাজ যেন দেশের জন্য সমস্যা অথবা তারা যুবকদেরকে দেশের জন্য সমস্যায় পরিণত করতে চায়। কিন্তু আমি দৃঢ়তার সাথে বিশ^াস করি যে, যুবকরা হচ্ছে দেশের সমস্যাবলির সমাধান, দেশের জন্য সমস্যা নয়।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত আছে। তবে এ পথে অনেক বাধা-বিঘœ আছে এবং অনেক চড়াই-উৎরাই আছে- যেগুলো অবশ্যই অতিক্রম করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অভিযাত্রা অব্যাহত রাখা ও সে পথের ওপর থেকে বাধা-বিঘœ অপসারণের জন্য কতগুলো পূর্বশর্ত আছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রথম পূর্বশর্ত হচ্ছে ‘দুশমনের অস্তিত্ব ও উপস্থিতি বুঝতে পারা ও অনুভব করা’। কারণ, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত দুশমনের অস্তিত্ব অনুভব না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের হেফাযতের জন্য পরিখা খনন করে না এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে না।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, অবশ্য নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে প্রদর্শনকারী আরামপ্রিয় লোকেরা ও মুনাফিকরা- যারা মূলগতভাবেই আমেরিকাকে দুশমন বলে মনে করে না এবং ইরানের সমস্যাবলির সমাধানের জন্য দেশের সরকার ও জনগণের জন্য আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের প্রেসক্রিপশন লিখছে, তারা যদি আমেরিকার এজেন্ট না-ও হয়ে থাকে তো অন্তত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ময়দানের লোক নয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বিদ্যমান বাধা-বিঘœ ও চড়াই-উৎরাইসমূহ অতিক্রমের দ্বিতীয় পূর্বশর্ত হিসেবে ‘আত্মবিশ^াস ও রুখে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়ের’ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নিষ্প্রাণ, ভীরু, হতাশ, আলসে, সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী ও স্বার্থপর লোকেরা যদি অন্যদের জন্য বাধা হয়ে না-ও দাঁড়ায়, তো তারা এ ময়দানে অন্য কোনো যোগ্যতার পরিচয় প্রদান করতেই সক্ষম নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবশ্য ইসলামি বিপ্লবের বিজয় পূর্ববর্তী আন্দোলনের যুগে ও বিগত চল্লিশ বছরের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে কখনোই ইরানের যুব সমাজ ঐ ধরনের মহামারীতে আক্রান্ত হয় নি, বরং সব সময়ই তারা দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ও কাপুরুষতা থেকে মুক্ত ছিল এবং আত্মবিশ^াস ও সাহসিকতার অধিকারী ছিল।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ‘দুশমনের হুমকি সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা ও রণাঙ্গন সম্পর্কে সঠিক পরিচিতির অধিকারী হওয়া’কে বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য তৃতীয় পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথম রণাঙ্গন হচ্ছে ‘ইসলাম ও ইসলামি ঈমান’-এর রণাঙ্গন। কারণ, আমেরিকা ইসলাম ও ইসলামি বিপ্লবের কাছ থেকে চপেটাঘাত খেয়েছে এবং তারা যেখানে ইরানের সমস্ত কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করত সেখানে ইসলামি বিপ্লব ইরানের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করে দিয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, কিছুসংখ্যক লোক এই বলে বকবক করে যে, আমেরিকার দোষ প্রচার করা উচিত নয় যাতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে দুশমনী না করে। অথচ প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তারা কেবল ইরানি জনগণের ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে দুশমনী করে না, বরং প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তারা স্বয়ং ইসলাম ও ইসলামি বিপ্লবের বিরোধী। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বুকে একটি বিরাট ও বিপ্লবী ইসলামি শক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর কারণে তারা মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা ইরানের শক্তির উপাদানগুলোকে ধ্বংস করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, বলদর্পী শক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামি ইরানের শক্তিমত্তার উপাদানগুলোর ওপর আঘাত হানা। তিনি বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সুদৃঢ়তা, জাতীয় নিরাপত্তা ও ঐক্য, ইসলামি বিপ্লবের মূলনীতিমালা ও ভিত্তিসমূহের ওপর অটল থাকা, বৈজ্ঞানিক উন্নতির পথে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, বৈপ্লবিক ও ইসলামি সংস্কৃতির বিস্তার সাধন ও তাকে গভীরতরকরণ, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষত ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উপস্থিতি- এগুলো হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তিমত্তার উপাদান এবং দুশমন ইরানের শক্তিমত্তার এ উপাদানগুলোর ওপর আঘাত হানতে চায়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘ইরানের ও বিশে^র বাস্তবতা সমূহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা এবং ভ্রান্ত চিত্রায়ণের দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়া’ বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য আরেকটি পূর্বশর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা ইরানি জাতির অকল্যাণ কামনা করে ও এ জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে তারা গণমাধ্যমসমূহ, বিশেষ করে নব-উদ্ভূত গণমাধ্যমসমূহ ব্যবহার করে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে এবং সেই সাথে তাদের নিজেদের সম্পর্কে ভ্রান্ত চিত্র তৈরি করার এবং ইরানি জনমতকে প্রকৃত বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার বলেন, দুশমনরা যেসব ভ্রান্ত চিত্র তৈরি করছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমেরিকাকে শক্তিশালী অবস্থানের অধিকারী হিসেবে তুলে ধরা। তিনি বলেন, আমেরিকানরা ‘শক্ত অস্ত্রশস্ত্রের’ অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, তারা আদৌ শক্তিশালী অবস্থানে নেই। কারণ, বৈশি^ক অঙ্গনে মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রকৃত ও ভাগ্য নির্ধারণী শক্তি হচ্ছে ‘নরম অস্ত্রশস্ত্রের শক্তি’ অর্থাৎ যুক্তি, প্রমাণ উপস্থাপন ও নতুন কথা- যে ক্ষেত্রে আমেরিকা খুবই দুর্বল এবং যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনে অক্ষমতার কারণে আমেরিকা বলদর্পিতার ভাষায় কথা বলছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা আমেরিকার ‘লিব্যারেল ডেমোক্রাসি’র কলঙ্কিত হয়ে পড়া ও বিশ^ব্যাপী এর সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই আমেরিকা তার পারমাণবিক শক্তি, উন্নত প্রযুক্তি ও প্রচুর আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও অনেক অঞ্চলেই, যেমন : ইরাকে, সিরিয়ায়, পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে পরাজয় বরণ করেছে এবং আমেরিকার জন্য আরো অনেক পরাজয় অপেক্ষা করছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার দুশমনদের দ্বারা ইরান সম্পর্কে প্রতারণামূলক ও অবাস্তব চিত্র তৈরি করার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ইসলামি ইরান সম্পর্কে বিভিন্ন ভ্রান্ত চিত্র তৈরি করার মাধ্যমে বিশ^বাসীকে ও ইরানি জনগণকে তাদের ভ্রান্ত মতামত বিশ^াস করাবার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাবলির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকানরা ইরানের এ সব সমস্যার ওপরে ভরসা করে তাদের স্বল্প মগযবিশিষ্ট ও প্রজ্ঞাবিহীন মাথায় বিভিন্ন ধরনের কল্পনা লালন করছে। এ কারণেই সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইউরোপের কয়েক জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে বলেন : ‘আপনারা যদি আর দুই-তিন মাস অপেক্ষ করেন তাহলে দেখবেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খেল খতম।’ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন : ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খেল খতম।’ হ্যা, (ফারসি প্রবাদ বাক্যে যেমন বলা হয়েছে 🙂 ‘উট স্বপ্নে দেখে তুলার বীচি।’ (!)
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ কল্পনা লোকদেরকে চল্লিশ বছর আগেকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যখন আমেরিকানরা ও ইরানের ভিতরকার তাদের সেবাদাসরা পরস্পরকে ছয় মাসের মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের আগাম সুসংবাদ দিচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থার বয়স চার দশক হয়ে গিয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ‘বেচারা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের’ এ সুখ কল্পনাকে ইসলামি বিপ্লব, ইরানি জাতি এবং ইরানি জনগণের ঈমানী ও বৈপ্লবিক চেতনা সম্পর্কে ধারণা না থাকার ফল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্লেষণ বিগত চল্লিশ বছর যাবত আমেরিকানদের বিভ্রান্তির কারণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা যে ইরানি জাতির দুশমনদেরকে অজ্ঞ ও নির্বোধ বানিয়েছেন, এ জন্য অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, অবশ্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা ও ত্রুটি রয়েছে, যেমন : অর্থনীতির তেলনির্ভরতা এবং সমাজে সাশ্রয়ী হবার সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও অপচয়ের অস্তিত্ব। তবে প্রকৃত ত্রুটি ও দুর্বলতা হচ্ছে অচলাবস্থায় উপনীত হওয়া, কিন্তু দেশে অচলাবস্থার কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, কতিপয় লোক যুবকদের মাথায় এ ধারণা প্রবেশ করানোর জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে যে, দুশমনের কাছে আশ্রয় নেয়া ছাড়া সমাধানের আর কোনো পথই খোলা নেই। আসলে দুশমন ইরানি জাতিকে এ উপসংহারে উপনীত হবার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে যে, ইরান অচলাবস্থার শিকার হয়েছে এবং ইরানের জন্য আমেরিকার সামনে নতজানু হওয়া ও আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথই খোলা নেই।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি, ইরানের অভ্যন্তরে যারা দুশমনদের পছন্দনীয় ও কাম্য এ চিন্তার বিস্তার ঘটাচ্ছে কার্যত তারা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে বিশ^াসঘাতকতা করে চলেছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার জোর দিয়ে বলেন, কিন্তু এটা কখনোই ঘটবে না; আল্লাহ্ তা‘আলার মদদের ওপর ভরসা রেখে এবং জনগণকে ও যুবসমাজকে সাথে নিয়ে আমরা যতক্ষণ প্রাণ আছে ততক্ষণ সর্বশক্তিতে চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে ইরানে এ ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হতে না পারে।
তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইরানি জাতির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে যথাযথ পরিচিতির অধিকারী হওয়া ও সঠিক চিত্র তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিশে^র অনেক বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নীতিনির্ধারক এবং ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাবিদ দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত বিভিন্ন চাপের মোকাবিলা করে স্বীয় অবস্থানে অটলভাবে টিকে থাকা এবং একই সাথে উন্নয়ন ও অগ্রগতির অধিকারী হওয়া ও একটি প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হবার কারণে ইরানি জাতির প্রশংসা করছেন।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত দিক থেকে, জনশক্তির বিচারে এবং ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠস্থ প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ইরানের অমিত সম্ভাবনাকে আরেকটি বাস্তবতা বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমরা এ সব সম্ভাবনাকে এখনো যথাযথভাবে কাজে লাগাই নি। দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আমার সব সময়ের জন্য পরামর্শ এই যে, আপনারা দেশের সম্ভাবনাসমূহকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করুন ও কাজে লাগান।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ঈমানদার যুবসমাজকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরাজমান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশের প্রকৃত চিত্র হচ্ছে এই ঈমানদার যুব সমাজ- যারা প্রতিরক্ষা, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গন সহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন অঙ্গনে স্বীয় শক্তি-সামর্থ্যরে ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে এই যে, দুশমনের জন্য ইরানের ইসলামি হুকূমাতের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ ব্যতীত আর কোনো পথই খোলা নেই। কিন্তু এ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চেয়ে অধিকতর ভঙ্গুর। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম এবং আল্লাহ্ তা‘আলার কুদরতের ওপর ভরসা রেখে আমরা নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করে দেব। আর নিষেধাজ্ঞার ব্যর্থতা মানে আমেরিকার পরাজয় এবং এ পরাজয়ের ফলে আমেরিকা ইরানি জাতির কাছ থেকে আরো একটি চপেটাঘাত খাবে।
ইরানের বিশাল গণবাহিনী (বাসীজ) যে আরো কতক জাতির জন্য অনুসরণীয় আদর্শে পরিণত হয়েছে হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী এ বিষয়টিকে ইসলামি ইরানের আরেকটি বাস্তবতা বলে উল্লেখ করে বলেন, বাসীজ হচ্ছে আমাদের দেশের প্রকৃত চিত্রের আরেকটি দৃষ্টিগ্রাহ্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ- যে শক্তি কেবল যে দুশমনের হুমকির মোকাবিলায় পশ্চাদপসরণ করে না শুধু তা-ই নয়; বরং এর ফলে তার ঈমান অধিকতর বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই দুশমন ও তার এজেন্টরা বাসীজের বিরুদ্ধে খুবই বিরোধিতা করে চলেছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী তাঁর ভাষণে দেশ গড়ার জিহাদের গ্রুপসমূহ, দেশ গড়ার বাসীজের গ্রুপসমূহ, ‘আলোর পথের পথিকদের শিবির’সমূহ, গণমিছিলসমূহ, মসজিদসমূহে এ‘তেকাফ্, হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত স্মরণে শোকানুষ্ঠানসমূহ ইত্যাদি সহ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রকৃত চিত্রের আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল দিককে ইরানে বিদ্যমান অন্যান্য বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানি জাতির সাথে সঠিকভাবে পরিচিত হতে হলে এসব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি বলেন, বাসীজ, দেশ গড়ার জিহাদ সংশ্লিষ্ট গ্রুপসমূহ ও ‘আলোর পথের পথিকদের কাফেলা’সমূহের সাথে সহযোগিতা করা ও তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান সরকারের প্রশাসনযন্ত্রের সকল অংশের দায়িত্ব।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের গণবাহিনী (বাসীজ)-এর সদস্যদের এ বিশাল সমাবেশে প্রদত্ত তাঁর এ ভাষণের শেষ পর্যায়ে জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য দুশমনদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সমতুল্য; এ অস্ত্র যদি দুশমনের হাতে থাকে তাহলে তা এতই বিপজ্জনক যে, তাকে সশস্ত্র যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের সাথে তুলনা করা চলে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুশমন ইরানি জাতির জনমতকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল জগতের ব্যবহার করে চলেছে। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের গণসংযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন বৈঠকে যেমন স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, আপনারা এ বিষয়টির প্রতি সঠিকভাবে মনোযোগ দিন এবং গুরুত্ব সহকারে এ বিষয়ে স্বীয় দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করুন যাতে এমন যেন না হয় যে, দুশমন ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সহজে রাসায়নিক অস্ত্রতুল্য এ অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার তাঁর ভাষণের এ শেষ পর্যায়ে ঐক্য, দৃঢ় প্রত্যয় ও শক্তি অনুভবকরণের অপরিহার্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, যুবসমাজ হচ্ছে ইরানের সমস্যাবলির সমাধান এবং তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা তাদের প্রিয় ইরানকে গৌরবের শিখরে উপনীত করবে। তিনি বলেন, গোটা জাতিকে বিশেষ করে ঈমানদার যুবসমাজকে ময়দানের মধ্যখানে উপস্থিত থেকে অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে, দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে অভিন্নকণ্ঠ হয়ে এবং জনগণ ও কর্মকর্তাদেরকে অভিন্নহৃদয় হয়ে দুশনের কাছে শক্তির বাণী পৌঁছে দিতে হবে। কারণ, ইরানি জনগণের কথা, আচরণ, জীবনযাত্রা ও মনমানসের কারণে দুশমন যদি নিজেকে শক্তিমত্তার অধিকারী একটি জনসমষ্টির মুখোমুখি দেখতে না পায় তাহলে সে ধৃষ্ট ও দুঃসাহসী হয়ে উঠবে।
হযরত আয়াতুল্লাহ্ খামেনেয়ী দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইরানের বাস্তবতা এটাই প্রদর্শন করছে যে, এ দেশের যুব প্রজন্ম সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা কিছুতেই হীনতা, নীচতা ও অপদস্থ হওয়াকে মেনে নেবে না। বিজাতীয় শক্তিসমূহের ও দুশমনদের পিছন পিছন চলবে না এবং তাদের প্রিয় ইরানকে সম্মান ও গৌরবের চূড়ায় উপনীত করবেই এবং আল্লাহ্ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহে তাদের মধ্যে এ জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি-সামর্থ্য ও দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবের রাহ্বার তেহরানের আযাদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সারা ইরান থেকে আগত নির্বাচিত লক্ষাধিক বাসীজ সদস্যের এ বিরাট সমাবেশ সম্পর্কে বলেন, এ সমাবেশ (ইরানি বর্ষপঞ্জির) ১৩৬০-এর দশকের (১৯৮১-১৯৯০) মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত বাসীজ সমাবেশের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, সেবারের সে বিশাল বাসীজ সমাবেশ দেশের জন্য একটি বিরাট আন্দোলন ও বিজয়ে পরিণত হয়েছিল; প্রিয় যুবকরা! তোমরাও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ময়দানসমূহে কর্মতৎপরতা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তৎপরতা, কর্ম সংস্থান তৈরিকরণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক-সামষ্টিক প্রচেষ্টা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অন্যান্য তৎপরতার মাধ্যমে সফল ও বিজয়ী হবে, ইনশাআল্লাহ্।
ফারসি থেকে অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী