বুধবার, ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

যায়নবাদীদের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার সময় এসেছে

পোস্ট হয়েছে: জুন ২২, ২০১৬ 

– হোসাইন মূসাভীয়ান
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলোর সাথে আলোচনাকারী ইরানী টীমের অন্যতম সাবেক সদস্য ও জার্মানিতে নিয়োজিত সাবেক ইরানী রাষ্ট্রদূত বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সাইয়্যেদ হোসাইন মূসাভীয়ান বলেন, ৬ জাতি ও ইরানের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সমঝোতার বিরুদ্ধে যায়নবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরব যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে তার মূল কারণ এই যে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না, বরং তারা ইরান ও আমেরিকার সম্পর্কের উন্নয়নে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, এবার বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর জন্য ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার ও সে সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনা করার সময় এসেছে।
বার্তা সংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে ইরান ও বৃহৎ শক্তিবর্গের মধ্যকার আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানী টীমের সাবেক সদস্য হিসেবে বিশেষ অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং বর্তমানে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির উড্র উইলসন স্কুলে অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ স্কলার হিসেবে কর্মরত জনাব মূসাভীয়ানের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে ও তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশ করে। এ সবকিছুতে তিনি উপরিউক্ত মতামত প্রকাশ করেন। যেসব প্রচারমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচার করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টিভি-চ্যানেল ‘ডেমোক্র্যাসি নাউ’ ও সিএনএন টেলিভিশন। এছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ জনাব মূসাভীয়ানের লিখিত একটি কৌশলগত প্রবন্ধ প্রকাশ করে। এসব সাক্ষাৎকার ও উক্ত প্রবন্ধে তিনি ৬ জাতি ও ইরানের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সমঝোতাকে ইরান ও বিশ্বের বৃহৎ শক্তিবর্গ উভয় পক্ষের জন্যই একটি বিরাট অর্জন বলে অভিহিত করেন এবং অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ইসরাইল ও সৌদি আরবের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং তাদের উদ্বেগের মূল কারণ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন। তিনি আরো বলেন, ইরান ও বৃহৎ শক্তিবর্গের মধ্যে যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সকল দেশ যদি নিজেদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরো বলেন, এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্যার তো সমাধান হলো, এবার বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর উচিত ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের প্রতি দৃষ্টি দেয়া ও সে সম্পর্কে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি বলেন, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ একগুঁয়েমি না করলে দশ বছর আগেই এ সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো।
যায়নবাদী সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে তদন্তের সময় এসেছে
জনাব হোসাইন মূসাভীয়ান সিএনএন টেলিভিশনকে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানের পর এবার যায়নবাদী ইসরাইল সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার সময় এসেছে এবং বিশ্বের বৃহৎ শক্তিবর্গের উচিত এ সম্পর্কে তদন্ত করা।
জনাব মূসাভীয়ানকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি যখন আলোচক কর্মকর্তা ছিলেন এবং ড. হাসান রুহানি আলোচক টীমের প্রধান ছিলেন তখনকার অবস্থা ও বর্তমান সমঝোতার মধ্যে পার্থক্য কী? জবাবে তিনি বলেন, এবারে সমঝোতার যে মূলনীতিমালা ও কাঠামোতে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়েছে তা হুবহু তা-ই ২০০৫ সালে আমরা যা ইউরোপের তিনটি দেশের সাথে আমাদের দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনাকালে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা তখন ইউরোপীয়দেরকে বলেছিলাম যে, আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতাকে গ্রহণ করে নিতে প্রস্তুত আছি; ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে অস্ত্র তৈরির দিকে মোড় নেবে না তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আস্থা সৃষ্টিকারী সমস্ত পদক্ষেপ মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, ঐ সময় ইউরোপের সংশ্লিষ্ট তিনটি দেশ সমঝোতার জন্য প্রস্তুত হয়েছিল, কিন্তু এ ব্যাপারে তারা আমেরিকাকে রাযি করাতে পারে নি। কারণ, আমেরিকা জেদ ধরে বসেছিল যে, ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের কাজ মোটেই আঞ্জাম দিতে পারবে না।
জনাব মূসাভীয়ান বলেন, কিন্তু আমেরিকার এ অবস্থান গ্রহণ ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, উক্ত চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহের জন্য পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও হেভি ওয়াটারের অধিকারী হওয়াসহ শান্তিপূর্ণ লক্ষ্যে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারী হওয়ার অধিকার রয়েছে। এ কারণেই এনপিটি-তে স্বাক্ষরকারী বেশ কিছু সংখ্যক দেশ এ ধরনের প্রযুক্তির অধিকারী ছিল। তিনি বলেন, দশ বছর আগে আমরা এ ব্যাপারে যে সমঝোতায় উপনীত হয়েছিলাম তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশের নীতির কারণে তা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল। কারণ, তিনি ইরানের পারমাণবিক সৃমদ্ধকরণের বিরোধিতা করেন। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এ সমঝোতার কাজটি আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ, তিনি ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ও হেভিওয়াটারের অধিকারী হওয়ার অধিকার মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে মনে রাখতে হবে যে, ওবামার রেড লাইন্ ‘ইরানকে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত রাখা’ ছিল না, বরং ছিল ‘পারমাণবিক বোমা’। আর এ কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ উদ্যোগকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাহ্বার ও প্রেসিডেন্ট স্বাগত জানান। কারণ, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবার চেষ্টা করে নি।
জনাব মূসাভীয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠিত সমঝোতা প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর জন্য দু’টি বড় ধরনের সাফল্য নিয়ে এসেছে। প্রথমটি হচ্ছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাকে এবং আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতাধীনে সর্বাধিক পরিদর্শনের বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং দ্বিতীয়টি এই যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে অস্ত্র উৎপাদনের দিকে মোড় নেবে না এটা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুরূপভাবে ইরানও দু’টি বড় ধরনের অর্জনের অধিকারী হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলো ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের ও হেভি ওয়াটারের অধিকারী থাকার অধিকার মেনে নিয়েছে। দ্বিতীয় অর্জনটি এই যে, ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।
জনাব মূসাভীয়ানকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমানে সৌদি আরব ও ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অনেক দেশই এ ব্যাপারে ক্রুদ্ধ হয়েছে; আপনার মতে, এ সমস্যার সমাধানের জন্য ইরান কী করতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, সৌদি আরব ও যায়নবাদী সরকারের ন্যায় দেশ ও সরকারগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নয়, বরং তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উন্নয়ন। তিনি বলেন, যারা এ সমঝোতার বিরোধী তাদের সকলের উদ্দেশে আমার বক্তব্য হচ্ছে এই যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সকল দেশই যদি ইরানের সাথে প্রতিষ্ঠিত ১৫৯ পৃষ্ঠার এ সমঝোতাটি বাস্তবায়ন করে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্তকরণের আকাক্সক্ষা বাস্তবে রূপায়িত হবে।
জনাব মূসাভীয়ান বলেন, কিন্তু নেতানিয়াহুর অন্য একটি সমস্যা হচ্ছে এই যে, তার প্রত্যাশা ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্যাটি বৈশ্বিক শক্তিসমূহের কর্মসূচির মধ্যে আগের মতোই থেকে যাবে যাতে আগের মতোই বিশ্ব জনমত আসল বিষয়টি সম্পর্কে অর্থাৎ যায়নবাদী সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পর্কে উদাসীন থাকে। তিনি বলেন, যায়নবাদী সরকার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের একমাত্র সরকার যার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আর এখন যেহেতু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধান হয়ে গিয়েছে সেহেতু এখন বৈশ্বিক শক্তিসমূহের উচিত যায়নবাদী সরকারের পারমাণবিক বোমাগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেয়া।
ভিয়েনার সমঝোতায় উভয় পক্ষই জিতেছে Ñ যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ
আমেরিক্যান টিভি চ্যানেল ‘ডেমোক্রাসি নাউ’-কে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ হোসাইন মূসাভীয়ান বলেন, ৬ জাতি ও ইরানের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ভিয়েনা সমঝোতায় উভয় পক্ষই জিতেছেÑ যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
জনাব মূসাভীয়ানকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি মনে করেন যে, ভিয়েনা সমেঝোতা শান্তি অভিমুখী পথ? জবাবে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, এ সমঝোতার পথ শান্তি অভিমুখী। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই যে, ওবামা যেমন বলেছেন, সমঝোতা এমন একটি যুদ্ধকে প্রতিহত করবে যে যুদ্ধ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে। জনাব মূসাভীয়ান আরো বলেন, পাশ্চাত্যের দাবি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সামরিকায়নের যেসব সম্ভাব্য পথ রয়েছে, এ সমঝোতা তার সবগুলো পথকেই রুদ্ধ করে দেবে।
এ প্রসঙ্গে জনাব মূসাভীয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবার চেষ্টা করে নি এবং এ কারণে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বহাল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো গ্যারান্টি প্রদানে প্রস্তুত। তিনি ভিয়েনা সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের পক্ষ থেকে গৃহীত আস্থা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার এবং পাশ্চাত্যের দাবিকৃত উদ্বেগসমূহের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে সম্ভব সমস্ত পদক্ষেপই গ্রহণ করেছে। বস্তুত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিশ্বের বুকে স্বচ্ছতম পারমাণবিক কর্মসূচি।
জনাব মূসাভীয়ান আরো বলেন, সমঝোতায় ইরানের রেড লাইনও অনুসরণ করা হয়েছে। ইরানের দাবি ছিল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী তার বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি; আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না। ভিয়েনা সমঝোতায় ইরান তার এ অধিকার লাভ করেছে। তিনি বলেন, আমাদের আরেকটি রেড লাইন ছিল নিষেধাজ্ঞাসমূহের অবসান এবং আমরা তা অর্জন করেছি। এ কারণে ভিয়েনার সমঝোতা হচ্ছে উভয় পক্ষের জিতে যাওয়ার সমঝোতা।
জনাব মূসাভীয়ান বলেন, আমি মনে করি এ সমঝোতা প্রকৃতই একটি অনুকরণীয় আদর্শ হতে পারে। এ সমঝোতা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অতিক্রম করে আরো বেশি উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। কারণ, বৈশ্বিক শক্তিগুলো ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যারা এ সমঝোতার বিরোধিতা করছে তারা যদি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরানের অনুকরণীয় আদর্শকে কাজে লাগায় তাহলে কেবল এ পথেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
জনাব মূসাভীয়ান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্প্রসারিত করেছে। তিনি বলেন, এ থেকে পাশ্চাত্য বুঝতে পারে যে, নিষেধাজ্ঞা বিপরীত ফল দিয়েছে। আর এ বিষয়টি ছিল আলোচনা সফল হওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, আলোচনায় ইরান সব সময়ই স্থির ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করেছে, কিন্তু অতীতে আমেরিকা সব সময়ই ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি স্থগিত করার দাবি করেছে। তবে পাশ্চাত্যজগৎ নিষেধাজ্ঞার বিপরীত ফল বুঝতে পারায় এবং তার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ব্যাপারে আমেরিকা তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় এবার আলোচনা সফল হয়েছে।
মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান দলীয় কতক সদস্যসহ ভিয়েনা সমঝোতার সমালোচকগণ, বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসে ইরান বিরোধীদের নেতা সিনেটর লিন্ড্সে গ্রাহাম্ যে দাবি করেছেন যে, ইরান সন্ত্রাসবাদকে সাহায্য করে এবং এ সমঝোতার ফলে ইরানের আর্থিক সামর্থ্য বেড়ে যাবে বিধায় ইরানের পক্ষে সন্ত্রাসবাদের জন্য আরো বেশি অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে, তাঁদের এ ধরনের দাবির জবাবে জনাব মূসাভীয়ান বলেন, এ ধরনের দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের দাবির উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিগত পাঁচ দশকে ইসরাইল তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ছয় বার সামরিক হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব বিগত পাঁচ বছরে তার প্রতিবেশী দেশ বাহরাইন ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে দুই বার সামরিক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকাও বিগত ১৫ বছরে আফগানিস্তান ও ইরাকে হামলা চালিয়েছে। আর এ সব হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল পুরোপুরি স্থিতিহীন হয়ে পড়েছে; কতক দেশ ধসে পড়েছে ও কতক দেশ ধসে পড়ার দোরগোড়ায় এসে উপনীত হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদীরা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ ইরানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
ভিয়েনা সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের ও বৃহৎ শক্তিবর্গের শক্তির অপচয় রোধ করবে
সাইয়্যেদ হোসাইন মূসাভীয়ান ডেইলি টেলিগ্রাফের ১৬ই জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলেন, ভিয়েনা সমঝোতা আমেরিকার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে তার যেসব মিত্র দেশ তার ঘাড়ে চেপে বসে আছে তাদের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্তির এবং ইরানের সাথে মুখোমুখি অবস্থার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিধানে ও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করার সুযোগ এনে দেবে, আর সেই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের ও বৃহৎ শক্তিবর্গের শক্তির অপচয় রোধ করবে। বার্তা সংস্থা আযাদ্ নিউজ এজেন্সী (আনা) পরিবেশিত ফারসি অনুবাদের ভিত্তিতে জনাব মূসাভীয়ানের প্রবন্ধের বাংলা অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হলো :
ইরান ও ৫+১ গোষ্ঠী কাঠামোর আওতাধীন বৈশ্বিক শক্তিবর্গের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সমঝোতা ব্যাপক ফলাফল নিয়ে আসবে। আমরা যদি বলি যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে, বরং সমগ্র বিশ্বে, এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনো হবে না তাহলে তা মোটেই অতিশয়োক্তি হবে না। কারণ, এ ক্ষেত্রে এমন একটি সমস্যা সম্পর্কে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভবপর হয়েছে যা আমাদের যুগের সর্বাধিক শ্বাসরুদ্ধকর সঙ্কটসমূহের অন্যতমে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। বস্তুত এ সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিজয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকই যেমন উল্লেখ করেছেন, এ সমঝোতা ওবামার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের একটি প্রধান অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে। এর কারণ কেবল এ নয় যে, প্রতিষ্ঠিত সমঝোতাটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং কেবল এ-ও নয় যে, এর ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সঙ্কটের সমাধান হয়েছে। যদিও এটা স্বীয় যথাস্থানে একটি বিরাট সাফল্য ও অর্জন, তবে (ওবামার উত্তরাধিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার জন্য) এর চেয়েও বড় কারণ এই যে, এ সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার সামনে একটি নতুন দিকনির্দেশনার দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
এ সমঝোতা আমেরিকাকে যা দিয়েছে তা হচ্ছে এমন একটি নির্বাচন ক্ষমতা যা এর আগে কখনোই এ দেশটির সামনে ছিল না। আর তা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আমেরিকার যে মিত্ররা বহু দশক যাবৎ তার কলার চেপে ধরে বসে ছিল (তথা ঘাড়ে চেপে বসে ছিল) তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে পুরোপুরি মুক্তি লাভ করার সুযোগ। এ সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির জন্য দরজা খুলে দিয়েছে যে কাঠামোর আওতায় আমেরিকা ও ইরান পারস্পরিক স্বার্থকে এগিয়ে নেয়ার জন্যÑপরস্পরের মোকাবিলার জন্য নয়Ñপরস্পর সহযোগিতা করতে সক্ষম হবে। সর্বাধিক সম্ভাবনা এই যে, এ ধরনের সহযোগিতা একটি স্থিতিশীল, শান্তি ও স্বস্তিপূর্ণ এবং সফল মধ্যপ্রাচ্য তৈরি করবেÑ যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ও বৈশ্বিক শক্তিসমূহের শক্তির অপচয় রোধ করবে।
দীর্ঘদিন যাবৎ মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে আমেরিকা যে সর্বাত্মক কৌশলগত নীতি অনুসরণ করে এসেছে তার ভিত্তিকে সংক্ষেপে ‘নিরাপত্তার বিনিময়ে তেল’ শিরোনামে উল্লেখ করা যেতে পারে। আমেরিকার এ নীতি আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে তেল সরবরাহ লাভের নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে বিশ্বের সর্বাধিক স্বৈরতান্ত্রিক কয়েকটি সরকারের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য করে। আমেরিকার সাবেক নীতিনির্ধারকদের একজন আমাকে বলেছিলেন : ‘আমরা কেবল মুখেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আসছি, কিন্তু কার্যত বিগত কয়েক দশক যাবৎ মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমাদের বিশ্বাসে ও ধর্মে পরিণত হয়ে আছে।’
আমেরিকার এ ধরনের নীতির ফল হয়েছে এই যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ এবং সেই সাথে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা সন্দেহাতীতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কেবল বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগই ছড়িয়ে পড়ে নি এবং একই কারণে আমেরিকা কেবল একটি ব্যাপক বিস্তৃত রেষারেষি ও বিরাট ব্যয়ের মুখোমুখি এসেই দাঁড়ায় নি, বরং এর চেয়েও অধিকতর মন্দ ব্যাপার হলো এই যে, এ রেষারেষির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা উস্কানিদাতা হিসেবে একটি প্রধান ও মৌলিক ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু এ সমস্যার সমাধানের জন্য এ পর্যন্ত তারা আমেরিকাকে উল্লেখ করার মতো কোনো সাহায্য করে নি।
প্রকৃতই পরিস্থিতি এই যে, যদিও এ সব সরকার তাদের নিরাপত্তার এক শক্তিশালী অংশীদার আমেরিকার কাছ থেকে অনেক স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে তবে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসবাদের বিলোপের লক্ষ্যে প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে খুবই অনুল্লেখযোগ্য সহায়তা দিচ্ছেÑ যার পরিমাণকে শূন্য বললেও অত্যুক্তি হবে না।
সারা দুনিয়া যেমন প্রত্যক্ষ করছে, তথাকথিত ইসলামী হুকুমতের (আইএস্) সদস্যরা লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন ও এমনকি জর্দানে পর্যন্ত উপস্থিতির অধিকারী হয়েছে, কিন্তু এদের হুমকির সমাধানের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা উল্লেখ করার মতো কোনো সাহায্যই করে নি। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ প্রসঙ্গে বলেন : ‘আমাদের আঞ্চলিক মিত্ররা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। যে কেউই আসাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে চায় তাকেই এরা কোটি কোটি ডলার অর্থ ও হাজার হাজার টন অস্ত্র দিয়েছে, অথচ যাদেরকে এভাবে অর্থ ও অস্ত্র দেয়া হয়েছে এমন অনেক লোক এখন আন্-নুসরা ফ্রন্ট ও আল-ক্বায়েদা গঠন করেছে অথবা তারা হচ্ছে সেই বাহিনীর অংশবিশেষ যার লোকেরা সারা দুনিয়া থেকে এসে মধ্যপ্রাচ্যে সমবেত হয়েছে।’
বস্তুত আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যস্থ মিত্রদের সাথে তার সম্পর্ক একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং ক্ল্যাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হয় যে, এটি একটি নৈতিক বিপদে পর্যবসিত হয়েছে। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা ঐ অঞ্চলে যে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক ও উস্কানিমূলক পদক্ষেপেই ভূমিকা পালন করে থাকে এবং তারা এ সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছে যে, তাদের যে কোনো পরাজয়ের ও যে কোনো ভ্রান্ত পদক্ষেপের ব্যয়ই আমেরিকা বহন করবে। এ ব্যাপারে ইয়েমেন পরিস্থিতি হচ্ছে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত। কারণ, ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীনে যে হামলা অব্যাহত রয়েছে তা সমগ্র আরব উপদ্বীপে আল্-ক্বায়েদার শক্তির ব্যাপক বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। প্রকৃত ব্যাপার যা দৃষ্টিতে আসে তা থেকে সুস্পষ্ট যে, এ ব্যাপারে সৌদি আরবের কর্তাব্যক্তিদের সামান্যতম উদ্বেগও নেই। কারণ, তাঁরা জানেন যে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকা, তাঁদের জন্য সৃষ্ট এ উদ্বেগের মূলোৎপাটন করবে।
‘আরব বসন্ত’ প্রমাণ করেছে যে, দুর্নীতিপরায়ণ, স্বৈরাচারী ও দুর্বীনিত সরকারগুলোর পতন হতে বাধ্য এবং আমেরিকা এ গতিধারা রোধ করতে বা পথচ্যুত করতে সক্ষম হবে না। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার এই যে, এ সমস্যাটির মোকাবিলার ক্ষেত্রে এসব আরব হুকুমত ও সরকারের শত্রুতামূলক ও বিদ্বেষপরায়ণ নীতির পরিণামে একদিকে বিভিন্ন চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উদ্ভব ও অন্যদিকে স্বৈরতন্ত্র তীব্রতর হয়ে ওঠা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই যেমন বার বার উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সরকারগুলো যদি তাদের সমাজের উপেক্ষিত জনগণের প্রয়োজন পূরণের প্রতি দৃষ্টি না দেয় এবং আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় জবাবদিহিতার পরিচয় না দেয় তাহলে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা থেকেই যাবে।
এটি একটি পরিহাসের ব্যাপার এবং চমকপ্রদ ব্যাপারও বটে যে, আজকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আমেরিকার সবচেয়ে বড় বিরোধী দেশটি অর্থাৎ ইরান প্রকৃতপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যস্থ অনেক মার্কিন মিত্রের তুলনায়ই অধিকতর স্থিতিশীল, অধিকতর শক্তিশালী ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং ইরান ও আমেরিকার মধ্যে অনেক বেশি মাত্রায় দীর্ঘ মেয়াদি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ইরান হচ্ছে অগ্রবর্তী শক্তিসমূহের অন্যতম। এ ক্ষেত্রে সে চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের নাম আইএস্ হোক বা আন্-নুসরা হোক, বা আল্-ক্বায়েদা-ই হোক তাতে কোনোই পার্থক্য নেই। অন্যদিকে ইরান ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, সে এ সমস্যার মোকাবিলার লক্ষ্যে স্বীয় সেনাবাহিনী ব্যবহার করাসহ সর্বশক্তি নিয়োগ করতে এবং এ যুদ্ধে জয়লাভ করতে আগ্রহী। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিকে একটি সঙ্কট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল এবং সম্ভবত কিছুসংখ্যক লোক তা বিশ্বাস করে থাকবে, কিন্তু তার বিপরীতে ইরান সব সময়ই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করার মূল প্রবক্তা এবং বিগত বিশ বছর যাবৎ ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনাকে সমর্থন করে আসছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত সমঝোতায় ইরান যে অঙ্গীকার করেছে তাতেও এ বিষয়টি প্রমাণ করেছে এবং তাকে সুদৃঢ় করেছে। বস্তুত পারস্য উপসাগরের বুকে নিরাপদে হাইড্রো-কার্বন উপাদান অতিক্রমের বিষয়টির নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তা আমেরিকার ন্যায় ইরানের জন্যও অনেক সুবিধা নিয়ে আসবে। অন্যদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক মার্কিন মিত্রের সামর্থ্যহীনতার বিপরীতে ইরান এ উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণের অধিকারী।

ফারসি থেকে অনুবাদ : নূর হোসেন মজিদী