সোমবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৮ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

English

যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সারা দেশে ঈদ উদযাপিত

পোস্ট হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৭ 

news-image

যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাব গম্ভীর পরিবেশে ও ব্যাপক উৎসব উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশে মুসলিম উম্মাহর বড় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর মুসলিম সম্প্রদায় তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছেন। এদিন ধর্মপ্রাণ মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় দেশের সব ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের বৃহত্তম দুটি জামাত দিনাজপুর জেলা শহর ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যান্য বারের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায়। এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একমাত্র জামাতটি সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, রাজনীতিক, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদগাহে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এলাকার সাধারণ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। এছাড়া ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর ৯৩টি ওয়ার্ডে চার শতাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও গণভবনে প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রকাশ করে বিশেষ ঈদসংখ্যা। ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এদিকে ঈদের দিন বনানী-ঢাকা গেট থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের চাঁদপুর, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, মৌলভীবাজার ও মুন্সীগঞ্জ জেলার শতাধিক গ্রামে রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।