রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

মহানবী (সা.)-এর সিরাতে বিশ্বশান্তি ও সুবিচার

পোস্ট হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০১৬ 

শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম লক্ষ্য। ইসলামের এ লক্ষ্য কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমস্ত মানুষই এ লক্ষ্যের আওতাধীন।
আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে যখন মহানবী (সা.)-এর জামাতা ও উওরাধিকারী হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) মালিক আশতারকে মিসরের গভর্নর নিয়োগ করেন তখন তাঁর কাছে শাসনব্যবস্থার মূলনীতিসমূহের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে একটি পত্র প্রেরণ করেন।
তখন মিসর ছিল ইসলামী খেলাফতের অন্তর্গত একটি প্রদেশ যেখানে বহু ধর্মের অনুসারী লোকেরা বসবাস করতো। ইমাম আলী (আ.) তাঁর এ পত্রে মালিক আশতারকে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করেন : ‘তোমার মনে জনগণের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা লালন করো আর তাদের প্রতি মমতা ও হৃদ্যতা পোষণ করো। হিংস্র পশুর মতো হয়ো না যে, তাদের ভক্ষণ করাকে গনীমত মনে করবে। কারণ, মানুষ দুই শ্রেণির : হয় তারা তোমার ঈমানী ভাই, না হয় তোমার সমপ্রজাতির (মানুষ)।’
মানুষ হিসেবে অমুসলমানদের প্রতি এ মমত্ববোধ ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশÑ যার বার্তা নিয়ে আসেন রাসূলুল্লাহ্ (সা.)। আর এজন্যই এ মহান ব্যক্তিত্ব ও তাঁর সহগামীদের সম্পর্কে জানার প্রয়োজন রয়েছে।
নবী-রাসূলগণের মিশন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেন; তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ হচ্ছেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। আর সকল নবী-রাসূলই মানবসমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা কোরআন মজীদে এরশাদ করেন :

‘নিঃসন্দেহে আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে গ্রন্থ ও ন্যায়দণ্ড (নিক্তি) অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ সুবিচার সহকারে দণ্ডায়মান থাকে।’ (সূরা আল্-হাদীদ : ২৫)
বস্তুত সকল মানুষই এ দুনিয়ায় শান্তি কামনা করে। কিন্তু শান্তি এমন নয় যে, তা শূন্যতা থেকে হঠাৎ আবির্ভূত হবে, বরং এটি ন্যায়বিচারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য অবশ্যই ন্যায়বিচার সমাজব্যবস্থার অংশ হতে হবে, নতুবা টেকসই শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, ন্যায়বিচার কী? ন্যায়বিচার হচ্ছে সবকিছুকে তার যথাযথ অবস্থানে স্থান দেয়া। যখন কেউ কোন কিছুকে তার যথাযথ স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও স্থান দেয় তখন সামাজিক সুস্থিতি ও শান্তির ব্যাঘাত ঘটে।
আর সামাজিক শান্তি নির্ভর করে ব্যক্তির আত্মিক প্রশান্তির ওপর। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এরশাদ করেন, সেই ব্যক্তিই ন্যায়বান যে তার রাগ ও ক্রোধকে আক্্ল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি আক্্ল প্রয়োগ করে অযাচিত ভাবাবেগ, লোভ, ক্রোধ ইত্যাদি দমন করাকে ‘বৃহত্তর জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
একবার মুসলিম সেনাবাহিনী সফল যুদ্ধ শেষে মদীনায় ফিরে এলে নবী করীম (সা.) তাঁদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘অভিনন্দন তাদের জন্য যারা একটি ছোট জিহাদ (জিহাদে আসগার) শেষে ফিরে এসেছে এবং এখনো বড় জিহাদ (জিহাদে আক্বার) বাকি রয়েছে।’ সৈন্যরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! কোন্টি বড় জিহাদ?’ তিনি বললেন, ‘আত্মার পরিশুদ্ধির জিহাদ।’
আত্মিক জিহাদ কোনো সহজ জিহাদ নয়, বরং এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে তার প্রচণ্ডতম ভাবাবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে আক্ল ও সচেতনতার দাবি মেনে জীবনযাপন করতে হয়। আর যারা নিজেদের আমিত্বকে বর্জন করতে পারে কেবল তারাই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
আল্লাহ্র রাসূল হিসেবে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় বিরাট ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি যুদ্ধের সময়ে অমুসলমান শত্রুদের সাথে কী রকম আচরণ করেছিলেন তার ওপর দৃষ্টিপাত করলেই তা সহজে বুঝা যাব। কারণ, বিরূপ পরিবেশেই কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রকৃত স্বভাব উন্মোচিত হয়।
নবী করীম (সা.) ও তাঁর অনুসারিগণ মক্কায় সমাজের নিপীড়িত সংখ্যালঘু শ্রেণিভুক্ত ছিলেন। নির্যাতন সীমা অতিক্রম করে গেলে তিনি মদীনায় হিজরত করেনÑ যার অধিকাংশ অধিবাসী এর আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। মদীনায় গমনের পর নবী করীম (সা.) লক্ষ্য করলেন যে, সেখানকার ইহুদি সম্প্রদায়ের ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ নেই। তাই তিনি তাদের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং তাদেরকে একটি পারস্পরিক সম্মতি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে আহ্বান জানালেন যাতে মদীনার প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় সমাজে তাদের অধিকার ও কর্তব্য স¤পর্কে নিশ্চিত থাকে। এ চুক্তির কয়েকটি অনুচ্ছেদ ছিল সংক্ষেপে এরূপ :
ইহুদিদের মধ্যে যেসব গোষ্ঠী এ চুক্তিতে আবদ্ধ থাকবে তারা যে কোনো প্রকার অপমান ও নিপীড়ন থেকে নিরাপদ থাকবে। সমাজে তারা যে কোন ভালো কাজ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে মুসলমানদের সমান ভাগীদার হবে। মদীনার ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় মুসলমানদের সাথে মিলে একটি একক জাতির অন্তর্ভুক্ত হবে। ইহুদিরা মুসলমানদের মতোই ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। ইহুদিদের মিত্ররাও ইহুদিদের মতোই নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। মদীনা শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে ইহুদিরা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়ে শত্রুকে প্রতিহত করবে। যারাই এ চুক্তি মেনে নেবে তাদের জন্য মদীনা পবিত্র গণ্য হবে। ইহুদি ও মুসলমানদের মিত্ররাও চুক্তির মূল সম্প্রদায়দ্বয়ের (ইহুদি ও মুসলমান) মতোই একইরূপ সম্মানিত গণ্য হবে।
মুসলমান ও ইহুদিদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ চুক্তি সংখ্যালঘুদের প্রতি তাঁর চরিত্রের ন্যায়-চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। আর তিনি যে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মদীনায় ইসলামের ভিত্তি গড়ে তোলেন নি; বরং ভিন্ন ধর্মানুসারীদের সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন এটি তারই প্রমাণ।
ইবরাহীমী ধর্মত্রয়ের মধ্যে একমাত্র ইসলামই অপর দুই ধর্ম তথা ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মকে ধর্মতত্ত্বীয় দৃষ্টিকোণ থেকে স্বীকৃতি দিয়েছিল (অর্থাৎ উক্ত ধর্মদ্বয়ের সম্মানিত চরিত্রসমূহ ইসলামেও সম্মানিত এবং একটা সময় ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্মদ্বয় যে হকের পথে ছিল তার স্বীকৃতি দেয়) এবং এ দুই সম্প্রদায়কে ‘আহ্লে কিতাব’ বা ঐশী গ্রন্থধারী হিসেবে আখ্যায়িত করে।
অমুসলিম আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সাথে আচরণ
প্রতিবেশীদেরকে ভালোবাসা এবং যতœ করার ইসলামী নির্দেশনা সব মতের, সকল প্রকার প্রতিবেশীর প্রতিই প্রযোজ্য। কোরআন মজীদে এরশাদ হয়েছে :

‘আর তোমরা আল্লাহরই ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকেই অংশীদার গণ্য করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, দরিদ্র, আত্মীয় প্রতিবেশী ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সহচর, অসহায় পথিক ও ক্রীতদাসদের সাথে সদাচরণ করো; নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক-অহঙ্কারীদেরকে ভালোবাসেন না।’ (সূরা আন্-নিসা : ৩৬)
এমনকি যদি কোন মুসলমানের পিতা-মাতা মূর্তিপূজক হয়, তবুও একত্ববাদের ধর্ম ইসলাম তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও দয়া প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন :

‘তারা (তোমার পিতা-মাতা) যদি আমার সাথে কোনো কিছুকে অংশীদার করার জন্য তোমাকে পীড়াপীড়ি করে অথচ সে সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান নেই (তুমি জান যে, তা ঠিক নয়), সে ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করো না এবং পার্থিব জীবনে তাদেরকে উত্তমভাবে সাহচর্য প্রদান করো…।’ (সূরা লুকমান : ১৫)
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর প্রতি ন্যায় ও শান্তির নীতি
ইসলাম তার অনুসারীদের প্রতি নির্দেশ দেয় যে, তারা যেন ন্যায়বিচার করে, এমনকি শত্রুদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রেও। এরশাদ হয়েছে :

‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর খাতিরে ন্যায়ের ভিত্তিতে সাক্ষ্যদানকারী হও এবং (সাবধান!) কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বৈরিতা যেন তোমাদেরকে কখনো সুবিচার না করার জন্য প্ররোচিত না করে; বরং সুবিচার করো, এটাই তাক্বওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক, কারণ, আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।’ (সূরা আল্-মায়েদা : ৮)
ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধটি ছিল অতীব তাৎপর্যপূর্ণ। এ যুদ্ধটি মুসলিম ও মক্কার মুশরিকদের মধ্যে হিজরি দ্বিতীয় সনে সংঘটিত হয়। অতি অল্প পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমানেরা মক্কার মুশরিকদের বিরুদ্ধে জয়ী হন এবং তাদের অনেককে আটক করা হয়।
সে সময় সকল জাতিগোষ্ঠীর রীতি ছিল আটককৃত যুদ্ধবন্দিদেরকে হত্যা করা কিংবা দাস হিসেবে ব্যবহার করা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা.) মুসলমানদেরকে যুদ্ধবন্দিদের সাথে মানবিক আচরণ করার জন্য নির্দেশ দিলেন। তাই মুসলমানরা যুদ্ধবন্দিদের নিরাপত্তা প্রদান করে মদীনায় নিয়ে এলেন এবং যে মুসলমান যাকে বন্দি করেছিলেন তাকে নিজের বাড়িতে সসম্মানে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।
পাশ্চাত্যের অন্যতম খ্যাতনামা মনীষী স্যার উইলিয়াম মূর-এর বর্ণনায় : “মুহাম্মাদের নির্দেশনা অনুসরণ করে… মদীনার জনগণ যুদ্ধবন্দিদেরকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে নেন। ‘মদীনার জনগণের ওপর আশীর্বাদ বর্ষিত হোক! তাঁরা আমাদেরকে তাঁদের বাহনগুলোতে সওয়ার করিয়েছিলেন যখন নিজেরা পায়ে হেঁটে চলেছিলেন, তাঁরা আমাদেরকে গমের রুটি খেতে দিয়েছিলেন যখন সেটির অপ্রতুলতা ছিল এবং আমাদেরকে খেজুরের মাধ্যমে পরিতৃপ্ত করেছিলেন’Ñ এভাবেই পরবর্তীকালে একজন যুদ্ধবন্দি মদীনাবাসী মুসলমানদেরকে স্মরণ করেন।”

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) যুদ্ধবন্দিদের সাথে যেরূপ আচরণ করেছিলেন তা ছিল নজিরবিহীন। তিনি দরিদ্র বন্দিদেরকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং ধনাঢ্য বন্দিদের নিকট থেকে সুনির্দিষ্ট মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদের ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারণ, কোরআন মজীদে বন্দিদেরকে মুক্তিপণ গ্রহণ করে বা না করে মুক্তি দেয়ার জন্য মুসলমানদেরকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে (সূরা মুহাম্মাদ : ৪)। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুক্তিপণ ছিল শিক্ষিত যুদ্ধবন্দিদের বেলায়; রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাদের সাথে এ মর্মে চুক্তি করেছিলেন যে, দশজন মুসলিম শিশুকে লিখতে-পড়তে শেখানোর বিনিময়ে একজন শিক্ষিত যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে।

মুসলমানদের জন্য যুদ্ধকালে রণাঙ্গন বহির্ভূত সাধারণ লোকদের, এমনকি পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারেও মহানবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যেমন :
-চুক্তি লঙ্ঘন করবে না।
-বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের হত্যা করবে না।
-গাছপালা ও বনজঙ্গল কাটবে না বা জলমগ্ন করবে না।
-খেজুর গাছ পুড়িয়ে ফেলা ও জলমগ্ন করা থেকে বিরত থাকবে।
-ফলবান গাছ কাটা থেকে বিরত থাকবে।
-বিধর্মীদের পানিতে বিষ প্রয়োগ করবে না
এ সবই চৌদ্দশ’ বছর আগের বিধান যখন ‘জেনেভা চুক্তি’র কোন অস্তিত্বই ছিল না।
সিআইএ নিয়ন্ত্রিত গুপ্ত কারাগারসমূহে ও আবূ গ¦ারীব কারাগারে নৃশংস নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথেই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, যুদ্ধবন্দিদের সাথে আচরণের যে শিক্ষা ও নজির রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর জীবন থেকে আমরা পেয়েছি সেটা, এমনকি একুশ শতকের মানদণ্ডেও অনেক বেশি মানবিক ও শ্রেয় বরং অতুলনীয়।
উপসংহার
‘সভ্যতাসমূহের মধ্যে সংলাপ’-এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে নবী-রাসূলগণের আদর্শ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করার পন্থা খুঁজে বের করা। তাই সকল ধরনের চরমপন্থীদেরকেই আমাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটের সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার পন্থা এটা নয় যে, আমরা ধর্মকে হালকাভাবে গ্রহণ করব; বরং আরো দৃঢ়ভাবে ধর্মকে গ্রহণ ও মূল্যায়ন করতে হবেÑ যাতে ধর্মে বর্ণিত মানুষের পারস্পরিক আচরণবিধিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়। মুসলমানদের উচিত রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর শিক্ষার দিকে প্রত্যাবর্তন করা আর খ্রিস্টানদের উচিত নবী হযরত ঈসা (আ.)-এর শিক্ষার দিকে প্রত্যাবর্তন করা; শুধু তখনই বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর আহ্লে বাইত্ (আ.) থেকে প্রাপ্ত একটি দো‘আর কথা আমরা স্মরণ করি যেখঅনে উচ্চারিত হয়েছেÑ ‘হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি, তোমার থেকেই শান্তি এবং তোমার কাছেই শান্তির প্রত্যাবর্তন।’
সূত্র: …………..
অনুবাদ : মাহদী মাহমুদ