বুধবার, ১৯শে জুন, ২০১৯ ইং, ৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

English

মহাকাশ গবেষণা

পোস্ট হয়েছে: জুন ৮, ২০১৬ 

মহাকাশ গবেষণা একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র যার আওতায় বৈজ্ঞানিক, বাণিজ্যিক, শিল্প এবং সামরিক গবেষণা পরিচালিত হয়। ইরানের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রম বেশ কিছু বেসামরিক ও সামরিক প্রকল্প সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাফল্যজনক অধ্যায় অতিক্রম করছে। বর্তমানে এ মহাকাশ শিল্প সামনের বছরগুলোতে জ্যামিতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য তৈরি। ইরানে কিছু মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পর অর্জিত সাফল্য নিয়ে বিদ্যমান নিবন্ধে আলোচনা করা হচ্ছে।

আলবোর্জ মহাকাশ কেন্দ্র
আলবুর্জ মহাকাশ কেন্দ্র ৪২ হেক্টর বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। উপগ্রহ ডাটা সরাসরি আহরণের জন্য ইরানে ১৯৭৪ সালে একটি কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং আমেরিকা ও কানাডার সহায়তায় ১৯৭৬ সালে এটি উপগ্রহ তথ্য অনুসন্ধান এবং আহরণ উপযোগী হয়ে উঠে।
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের সমসাময়িক সময়ে পূর্ণাঙ্গ তিন সেট ল্যান্ডসেট ইনফরমেশন ইরানের হস্তগত হয়। ইরানে ইসলামী বিপ্লবের সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্র এ খাতে সহায়তা থেকে হাত গুটিয়ে নেয়।

মাহদাস্ত মহাকাশ কেন্দ্র
চতুর্থ উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হওয়ার পর মাহদাস্ত গবেষণা কেন্দ্রকে নতুন করে উপগ্রহ তথ্য অনুসন্ধান এবং আহরণ উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এ কেন্দ্রে যে সমস্ত উপগ্রহ তথ্য আহরণ কেন্দ্র রয়েছে তা হলো ঞঊজজঅ, গঙউওঝ, ঘঙঅঅ/ঐজচঞ এবং ঋণ২ঈ. এ কেন্দ্রে প্রতিদিন স্যাটেলাইট ইমেজ আহরণ করা হচ্ছে এবং আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

মহাকাশ গবেষণায় ইরানের কিছু সাফল্য
সিনা-১ স্যাটেলাইট
সর্বপ্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশ যান সিনা-১ স্যাটেলাইট ২০০৫ সালের ২৮ অক্টোবর রাশিয়ার কসমস-৩এম উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইসলামী ইরানের নিজস্ব কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। কক্ষপথে এ উপগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে ইরান মহাকাশ গবেষণা ক্লাবের সদস্য হিসেবে পরিগণিত হয়।

সাফির-ই-উমিদ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপক যান
ইসলামী ইরান মহাকাশ গবেষণায় স্বয়ম্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সাফির-ই-উমিদ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপক যান তৈরি করে। এ উৎক্ষেপকের মাধ্যমে ৫০ কেজি ওজনের বস্তু খাড়াভাবে ৩০০-৪৫০ কিলোমিটার উর্ধ্বের কক্ষপথে উৎক্ষেপণ সম্ভব।

উমিদ স্যাটেলাইট
স¤পূর্ণ নিজস্ব নকশা এবং যন্ত্রাংশের মাধ্যমে তৈরি ইরানের প্রথম স্যাটেলাইট হলো উমিদ। ইসলামী বিপ্লবের ৩০তম বার্ষিকীর কাছাকাছি সময়ে ২০০৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এটি কক্ষপথে স্থাপিত হয়। ২৭ কেজি ওজনের এ স্যাটেলাইটটি টেলিযোগাযোগ স্যাটেলাইট যেটি তথ্যাদি টঐঋ ব্যান্ডে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। এটি মোট ৫০ দিন কার্যক্ষম ছিল।
রাশাদ স্যাটেলাইট
রাশাদ স্যাটেলাইট ইরানের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট যা সাফির বি ক্যারিয়ার রকেটের মাধ্যমে ২০১১ সালের ৬ জুলাই কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। ১৫.৩ কেজি ওজনের তিন সপ্তাহের আয়ুস্কালস¤পন্ন এ স্যাটেলাইটটি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করতে এবং ১৫০মিটার রেসুলিউশনের ইমেজ পাঠাতে সক্ষম ছিল।

নাভিদ স্যাটেলাইট
ইরানের তৈরি তৃতীয় স্যাটেলাইট নাভিদ একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি স্যাটেলাইট যা ইরানের বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ১ম স্যাটেলাইট যা ২০১২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এ স্যাটেলাইটের উদ্দেশ্য ছিল ভূপৃষ্ঠের ৭৫০মিটার রেসুলিউশনের একক ব্যান্ডের ইমেজ পাঠানো।

পিশগাম মহাকাশ যান
পিশগাম ইসলামী ইরানের প্রথম মহাকাশ যান যা তিন বছর বয়সী একটি পুরুষ বানরকে নিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষপথ পরিভ্রমণ শেষে আবার ভূপৃষ্ঠে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়। এ মহাকাশ যানে বানরের বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশ এবং মহাকাশ যাত্রায় ধকল সহ্য করার মতো উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল।
অনুবাদ: কৃষিবিদ ড. মো. আলতাফ হোসেন