বুধবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

English

মহাকবি ফেরদৌসি ও তাঁর প্রজ্ঞা

পোস্ট হয়েছে: মার্চ ১২, ২০১৬ 

news-image

ড. তারিক সিরাজী: প্রাচ্যের ‘হোমার’ খ্যাত ফারসি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি আবুল কাসেম ফেরদৌসি ছিলেন ইরানের প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবগাথার সার্থক রূপকার। যে কারণে তাঁর জীবনকাহিনী রূপকথার ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিখ্যাত বীরত্বগাথা শাহনামা রচনার মাধ্যমে তিনি ইরানিদের জাতিসত্তা ও ফারসি ভাষার মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যকে সংরক্ষণ করেছেন। তাঁর এ কালোত্তীর্ণ বীরত্বগাথা শাহনামা গ্রন্থটি পৃথিবীর প্রসিদ্ধ ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে এবং অসংখ্য সাহিত্যামোদীর মনের খোরাক যুগিয়েছে।

আবুল কাসেম ফেরদৌসি ৯৪০ খ্রিস্টাব্দে খোরাসানের তুস নগরীর অন্তর্গত তাবরানের বায নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আর্থিক অবস্থা যাই ছিল না কেনো বস্তুত ত্রিশ বছর ধরে শাহনামা রচনার কারণে তাঁর ধনসম্পদ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বার্ধক্যে এসে তিনি দরিদ্র হয়ে পড়েন। আর এ ত্রিশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি গোটা পারস্যকে পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনি নিজেই বলেন:

بسي رنج بردم در اين سال سي عجم زنده كردم بدين پارسي

আমি বহু কষ্ট ভোগ করেছি এই দীর্ঘ ত্রিশটি বছর ধরে

আর এ পারসির (ফারসি) মাধ্যমে পারস্যকে জীবন্ত করেছি।

6-1024x682কবি ফেরদৌসির গুরুত্ব ও আবেদন কেবল তাঁর ভাষার লালিত্য, মাধুর্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বীরদের কাহিনী বর্ণনার মধ্যেই নিহিত নয়, বরং তাঁর জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় চেতনার মাঝেও বিদ্যমান। তাঁর রচিত শাহনামা গ্রন্থের পরতে পরতে গল্পের কাহিনীগুলো এমনিভাবে বিধৃত রয়েছে যে প্রতিটি চরিত্রই যেন একেক জন পর্যবেক্ষক হিসাবে কাজ করছে। যে কারণে এ মহাকাব্য সাহিত্যের একটি উচ্চমার্গে পৌঁছেছে। তিনি প্রচলিত সাহিত্যরীতির বিপরীতে অন্তর্নিহিত বর্ণনার দিকে অগ্রসর হয়েছেন আর এটি ছিল তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবিত শৈলী। এ ধরনের সাহিত্যশৈলী ফারসি সাহিত্যে বিরল। তিনি তাঁর শাহনামা কাব্যগ্রন্থকে ধ্বনি, শব্দ চয়ন, এমনকি ব্যাকরণসহ সকল স্তরে একটি সুশৃঙ্খল গঠন কাঠামোর মাধ্যমে বিন্যস্ত করেছেন। যার ফলে এটি ভাষাতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেও সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত অবস্থানে রয়েছে।

প্রাচীনকালে তথা শাহনামার রচয়িতা আবুল কাসেম ফেরদৌসির যুগে আনুষ্ঠানিকভাবে গল্প বলা ও শোনার একটা প্রচলন ছিল। কারণ, সে সময় বেশিরভাগ লোকই পড়তে ও লিখতে জানতো না। এ ধরনের গল্প পাঠের আসরে পরিবেশন করা হতো ধর্মীয় ও পৌরাণিক কাহিনী। পুরাণপাঠের এ কাজটিকে বলা হয় নাক্কালি আর যিনি কাহিনীগুলো পাঠ করে শোনান বা উপস্থাপন করেন তাঁকে বলা হয় নাক্কাল বা পুরাণপাঠকারী। তাঁর হাতে থাকত একটি লাঠি যা দিয়ে তিনি চরিত্র চিত্রায়ণ করতেন। বলা যায় ঠিক আমাদের দেশের পুথি পাঠের ন্যায়। পুরাণপাঠকারীর অথবা গল্প বলার কাজটিকে সহজতর ও প্রাণবন্ত করার লক্ষ্যেই ফেরদৌসি সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় পৌরাণিক কাহিনীগুলো রচনা করে তা শাহানামা কাব্যগ্রন্থে তুলে ধরেছেন।

আমরা জানি যে, পৌরাণিক কাহিনীগুলোর বিশ্লেষণ, মহান বীর যোদ্ধাদের গুণ, বৈশিষ্ট্য ও কীর্তি বর্ণনা এবং বিভিন্ন জাতির ভাগ্য নির্মাণে সংঘটিত যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস তুলে ধরাই হলো মহাকাব্যের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। পাশাপাশি সমকালীন রাজনৈতিক ও আত্মউদ্দীপক বিষয়গুলোও এতে অনুরণিত হয়ে থাকে। এছাড়া ফেলা আসা অতীত যুগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, একটি জাতি প্রতিষ্ঠার ঘটনা ও নিজের প্রসিদ্ধ বীরত্বগাথা মাহাকাব্যে বিধৃত থাকে। মহাকাব্যের রচয়িতাগণ এ ধরনের সাহিত্যকর্মে নিজ জাতি ও মানব সভ্যতার আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকেন এবং তাঁদের ভিতরের রহস্যকে নিজদের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে উন্মোচিত করেন। তাঁরা মনে করেন জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বীরত্ব জানার মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয় লাভ করা যায় এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জাতীয় আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় উজ্জীবিত হওয়া যায়। মহাকাব্যে বিধৃত বীরদের কাহিনী থেকে শিক্ষা নিয়ে অত্যাচার ও নীপিড়নের বিরুদ্ধে জাতি ও দেশকে ধ্বংস থেকে রক্ষার উপায় ও অবলম্বন অন্বেষণ করা যায়।

বিশ্বে যে কয়টি নির্ভরযোগ্য মহাকাব্য রয়েছে সেগুলোর মূল বক্তব্য ও বিষয় অনেকটা একই বলে প্রতিভাত হয়। সমৃদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মহাকাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. গিলগামেশ (এরষমধসবংয) : এটি প্রায় খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার সালে ব্যাবিলনীয় ভাষায় রচিত হয়েছে এবং যার বিষয়বস্তু ছিল বীরদের জন্য এমন এক মৃতসঞ্জীবনী উদ্ভিদ অন্বেষণ এবং পরাজিত সৈনিকদের কাহিনী বর্ণনা করা। ২. ইলিয়াড (ওষরধফ): এটি খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতকের মধ্যভাগে হোমার কর্তৃক গ্রিক ভাষায় রচিত হয়েছেÑ যার বিষয়বস্তু ছিল ট্রয় নগরীর দশ বছরব্যাপী যুদ্ধকাহিনী। ৩. ইনেইড (অবহবরফ): এটি ভার্জিল কর্তৃক ল্যাটিন ভাষায় রচিত মহাকাব্য। এটি রচনা করতে ভার্জিলের খ্রিস্টর্পূব ২৯ থেকে ১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এ মহাকাব্যের বিষয়বস্তু ছিল ট্রয় নগরীর ধ্বংস এবং রোম জাতির প্রতিষ্ঠার পর বন্ধুদের সাথে ইনের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত বর্ননা করা। এছাড়া এতে উল্লেখ রয়েছে শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রতীক হিসাবে খ্যাত ট্রয়ের জনগণ এবং শক্তিমত্তার প্রতীক হিসাবে প্রসিদ্ধ ল্যাটিন জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়াবলি। ৪. মহাভারত (গধযধনযধৎধঃধ) খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে। ৫. রামায়ণ (জধসধুধহধ): খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অথবা চতুর্থ খ্রিস্টাব্দে বাল্মীকি কর্তৃক রামচন্দ্রের জীবনকাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে। ৬. ফেরদৌসির শাহনামা হিজরি চতুর্থ শতকে ফারসি ভাষায় রচিত হয়েছে।

ফেরদৌসি ৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে শাহনামা রচনা শুরু করেন এবং ১০১০ খ্রিস্টাব্দে ৭৫ বছর বয়সে তা সমাপ্ত করেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফেরদৌসির শাহনামায় যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হচ্ছে, বীরদের মানসিকতা, প্রচেষ্টা, জ্ঞান ও বিদ্যা, খোদার আনুগত্য, ন্যায়পরায়ণতা, রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। এতে শিক্ষণীয় অনেক বিষয়ের উল্লেখের পাশাপাশি রয়েছে বিশ্বদর্শন।

হিজরি ষষ্ঠ শতকে শাহনামা মূলত দু’টি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। একটি জর্জিয়ান ভাষায় আর অপরটি হয়েছিল আরবি ভাষায়। কিন্তু পরিতাপের সাথে বলতে হয় যে, উভয়টিই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রথম আরবি ভাষায় শাহনামা অনুবাদ করেন আসিরুল মামালিক নিশাবুরিÑ যিনি হিজরি পঞ্চম শতকের শেষভাগে এবং ষষ্ঠ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

কাওয়াম উদ্দিন ফাতেহ বিন আলি বিন মুহাম্মাদ বুন্দারি ই¯পাহানি কর্তৃক আরবি ভাষায় অনূদিত কপিটিই হচ্ছে শাহনামার সবচেয়ে পুরাতন অনূদিত কপি যা এখনো সংরক্ষিত আছে। অনুবাদক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক তথ্যগুলোই তুলে ধরেছেন এবং বর্ণনাধর্মী বিষয়গুলো পরিহার করেছেন।

১০৩০ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় যে ভাষায় শাহনামা অনূদিত হয়েছিল তা ছিল ওসমানি তুর্কি ভাষায়। শাহানামা কাব্যগ্রন্থটি ২৭টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। যেমন, আরবি, জার্মানি, উর্দু, ইংরেজি, বাংলা, ইতালি, পশতু, তুর্কি, রুশ, জাপানি, হিন্দি, কুর্দি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য যে, শাহানামার প্রথম অনুবাদটি সুলতান ঈসা বিন মুলকে কামেল আবু বকর এর নির্দেশে বুন্দারি সম্পন্ন করেছেন যা ছিল ইতিহাসনির্ভর। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই যে, জার্মানি ভাষায় যখন শাহানামা অনূদিত হয় তখন চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আবার মনিরউদ্দিন ইউসুফ ১৯৭১ সালে বাংলা ভাষায় যখন শাহনামা অনুবাদ করছিলেন তখন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। মহাকাব্য শাহনামা অনুবাদের এ প্রেক্ষাপট পর্যালোচনার দাবি রাখে। তাই বলা যায় যে, মনিরউদ্দিন ইউসুফ বাংলা ভাষায় শাহনামা শীর্ষক মহাকাব্য অনুবাদের মধ্য দিয়ে মূলত কবি ফেরদৌসির আত্মরহস্য উদ্ঘাটন করতে চেয়েছেন।

ফেরদৌসি তাঁর শাহানামা কাব্যগ্রন্থে প্রাচীন পারস্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য বর্ণনার মাধ্যমে চরিত্র গঠন, বীরত্ব, পা-িত্য, বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। জ্ঞানের যে বিশাল শক্তি রয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন:

توانا بود هر که دانا بود ز دانش دل پير برنا بود

যে জ্ঞানী সেই শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান,

আর জ্ঞানসমৃদ্ধ বৃদ্ধের হৃদয় চির যৌবন থাকে।

ফেরদৌসি শাহনামা রচনা করে ফারসি ভাষাকে নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে রক্ষা করেন। এ গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রতিরোধের মানসিকতা, খোদার আনুগত্য, স্বদেশপ্রেম ও স্বাধীনতার শিক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু শাহনামার বড় পরিচয় হচ্ছে ফারসি ভাষার অস্তিত্বের সনদ হিসাবে।

ফেরদৌসি শাহনামা কাব্যগ্রন্থে যুদ্ধ ও বীরত্বপূর্ণ কাহিনী বর্ণনার পাশাপাশি তথ্যপূর্ণ উপদেশাদি ও নৈতিক কর্তব্যাদি সম্পর্কে বক্তব্য দিতেও সচেষ্ট ছিলেন। শাহনামায় বিধৃত এমনি উপদেশ সম্পর্কিত কয়েকটি পঙ্ক্তি নিচে তুলে ধরা হলো:

بيا تا جهان را به بد نسپريم به کوشش، همه دست نيکي بريم

نماند همي نيک و بد پايدار همان بِه، که نيکي بود يادگار

نه گنج و نه ديهيم و کاخ بلند نخواهد بدن مر ترا سودمند

فريدون فرخ فرشته نبود ز مُشک و ز عنبر سرشته نبود

بِه داد و دهش يافت اين نيکويي تو داد و دهش کن فريدون تويي

এসো, এ পৃথিবীকে আমরা যেন অকল্যাণের দিকে ঠেলে না দেই,

প্রচেষ্টার মাধ্যমে একে সামগ্রিক কল্যাণে পরিণত করব।

ভালো-মন্দ কিছুই স্থায়ী রবে না,

তবে কল্যাণকর স্মৃতি ধরে রাখাই উত্তম।

সুউচ্চ প্রাসাদ, ধন-সম্পদ, ঐশ্বর্য

তোমার কোনো কল্যাণেই আসবে না।

ফরিদুন কোনো ফেরেশতা ছিল না,

কিংবা কোনো মৃগনাভি বা কস্তুরি দ্বারাও সৃষ্ট নয় সে।

সেতো ন্যায়পরায়ণতা ও বদান্যতা দিয়ে এ মহত্ত্বের অধিকারী হয়েছে,

তুমিও ন্যায়পরায়ণতা ও বদান্যতা অর্জন কর, তবেই তুমি ফরিদুন হবে।

শাহনামা কাব্যগ্রন্থে ফেরদৌসির জ্ঞানের গভীরতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন এ ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে মনুষত্বই শ্রেষ্ঠ আর জ্ঞান ছাড়া সে মনুষত্ব অজির্ত হয় না। সৎ ও সততার দ্বারাই কেবল সকলের মাঝে সাম্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। কবি বলেন:

دگر گفت روشن روان آن کسي که کوتاه گويد به معني بسي

چو گفتار بيهوده بسيار گشت سخنگوي در مردمي خوار گشت

هنر جوي و تيمار بيشي مخور که گيتي سپنج است و ما برگذر

ز دانش چو جان ترا مايه نيست بِه از خاموشي هيچ پيرايه نيست

 

সে (বুজুর্গ মেহের নুশিরওয়ানকে) বলল: সে-ই আলোকিত আত্মার অধিকারী

যে সংক্ষেপে অধিক অর্থপূর্ণ কথা বলে।

যদি বক্তব্য হয়ে ওঠে অনর্থক

তবে লোকদের কাছে বক্তা তুচ্ছে পরিণত হয়।

জ্ঞান অন্বেষণ করো আর দুঃখকে প্রশ্রয় দিও না

এ পৃথিবী ক্ষণিকের, আমাদের চলে যেতেই হবে।

যদি জ্ঞানসমৃদ্ধ আত্মা তোমার নাই বা থাকে

তবে মৌনতা ছাড়া তোমার আর কোনো ভূষণ নেই।

মোট কথা, গোটা শাহনামাই চিত্রকল্পে ভরপুর। যুদ্ধ-বিগ্রহের চিত্র এবং এর চরিত্রগুলো এতোটাই প্রাণবন্তভাবে এ গ্রন্থে অনুরণিত হয়েছে যে, পাঠক সহসাই তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

ফেরদৌসির শাহনামা কাব্যগ্রন্থ ও এতে বর্ণিত কাহিনীগুলো যুগ যুগ ধরে কাব্যরসিকদের হৃদয় ও মননে এমনি জায়গা করে নিয়েছে যে তা অম্লান হয়ে থাকবে, কখনোই বিনষ্ট হবে না।

 

তথ্যসূত্র:

১. আহমাদ তামীমদারী (২০০৭ খ্রি.): ফার্সী সাহিত্যের ইতিহাস, আলহুদা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা, ইরান।

২. হরেন্দ্র চন্দ্র পাল (১৩৬০ বঙ্গাব্দ): পারস্য সাহিত্যের ইতিহাস, প্রকাশক অজিত চন্দ্র ঘোষ, শ্রী জগদীশ প্রেস, কলকাতা।

৩. আবুল কাসেম ফেরদৌসি (১৩৭৪ সৌরবর্ষ): শাহনামেয়ে ফেরদৌসি, এনতেশারাতে তুস, তেহরান, ইরান।

৪. আবুল কাসেম ফেরদৌসি, শাহনামেয়ে ফেরদৌসি, এনতেশারাতে ফ্রাঙ্কলিন, ইরান।

৫. সাদেক রেযা যাদে শাফাক (১৩৫২ সৌরবর্ষ): তারিখে আদাবিয়্যাতে ইরান, এনতেশারাতে দানেশগাহে পাহলাভি, ইরান।

৬. নিউজ লেটার (ঢাকাস্থ ইরানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুখপত্র), ৩য় সংখ্যা, মে-জুন, ২০১৩।